English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯ ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ২১ নভেম্বর ২০১৯
 / সারাদেশ /  গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আলোকের ঝর্ণাধারা
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট আলোকের ঝর্ণাধারা
প্রকাশ: শনিবার, ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১:২৮ পিএম আপডেট: ০৯.১১.২০১৯ ১:৩০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট
আলোকের ঝর্ণাধারানিজস্ব প্রতিবেদক: নোয়াখালী জেলার অন্যতম একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন ‘গান্ধী আশ্রম’। জেলা সদর মাইজদী কোর্ট থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার উত্তরে সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশে এর অবস্থান। তৎকালীন জমিদার প্রয়াত ব্যারিস্টার হেমন্ত কুমার ঘোষের বাড়িতে এই গান্ধী আশ্রম স্থাপিত হয়। বর্তমানে গান্ধী আশ্রম নোয়াখালীর একটি সেবামূলক সংগঠন হিসেবে দেশব্যাপী খ্যাতি লাভ করেছে।

গান্ধী আশ্রমে গান্ধীজির নামে একটি জাদুঘরও আছে। ‘অহিংস’ সমাজ প্রতিষ্ঠায় গান্ধীর কর্মময় জীবনকে সাধারণ মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন দুর্লভ ছবি, বই ও জিনিসপত্র নিয়ে ২০০০ সালের ২ অক্টোবর গান্ধী আশ্রমের মূল ভবনে প্রতিষ্ঠা করা হয় গান্ধী স্মৃতি জাদুঘর। প্রতিদিন (সোম থেকে শনিবার) সারাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শণার্থীরা এখানে আসেন অসাম্প্রদায়িক ও অহিংস সমাজ গঠনে মহাত্মা গান্ধীর ভ‚মিকার নানা দিক দেখতে।

জাদুঘরে সংরক্ষিত গান্ধীর কর্মময় জীবনের কিছু কথা ও ছবি যে কারো চিন্তার জগতকে নাড়া দেবে। জাদুঘরে প্রবেশ করতেই মহাত্মা গান্ধীর বিশাল আব মূর্তি সবার নজর কাড়ে। গান্ধীজির শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৩০টি ছবি শোভা পাচ্ছে এ জাদুঘরে। ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে স্বদেশি আন্দোলনের সময় বিলাতি পোশাক বর্জনের ডাক দিয়ে গান্ধী যে চরকায় সুতা কাটতেন, জাদুঘরে সংরক্ষিত সেই চরকা এখনো মানুষের চিন্তাকে নাড়া দেয়।
ব্যতিক্রমধর্মী এ প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়, ১৯৪৬ সালের শেষভাগে সারা ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়ে। তখন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার প্রভাব এসে পড়ে নোয়াখালীতে।

বিশেষ করে লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানায় সাম্প্রদায়িকতার তাণ্ডবলীলা দেখা দেয়। মশালের আগুনে পুড়ে যায় বহু সাজানো সংসার, সবুজ মাটি লাল হয়ে যায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার রক্তের প্লাবনে। শান্তি মিশনের অগ্রদূত হয়ে নোয়াখালীতে ছুটে আসেন অসহযোগ ও অহিংস আন্দোলনের পুরোধা মহাত্মা গান্ধী।

১৯৪৬ সালের ৭ নভেম্বর চৌমুহনী রেলস্টেশনে প্রথম মহাত্মাগান্ধী নোয়াখালীর মাটিতে পদার্পণ করেন। তৎকালীন এমএলএ শ্রী হারান ঘোষ চৌধুরীর উদ্যোগে নোয়াখালীর প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত হয় চৌমুহনীতে। মহাত্মা গান্ধী সে জনসভায় প্রথম বক্তৃতা করেন। তারপর জনসভা করেন দত্তপাড়া গ্রামে। ধারাবাহিকভাবে চলে তার পরিক্রমা। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে ১৯৪৭ সালের ২৯ জানুয়ারি তিনি জয়াগ গ্রামে এসে পৌঁছান।

সেদিনই নোয়াখালী জেলার প্রথম ব্যারিস্টার জয়াগ গ্রামের কৃতী সন্তান হেমন্ত কুমার ঘোষ তার সব সম্পত্তি গান্ধীজির আদর্শ প্রচারে স্মৃতি সংর¶ণের তাগিদে একটি ট্রাস্টের জন্য দান করেন এবং গান্ধীজির নামে একটি আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। এটি পরিচালনার ভার দেয়া হয় গান্ধীজির স্নেহভাজন, জনসেবা ব্রতী, চিরকুমার শ্রীযুক্ত চারু চৌধুরী মহাশয়ের ওপর। ট্রাস্টটি প্রথমে আম্বিকা কালিগঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট হিসেবে নিবন্ধিত হলেও ১৯৭৫ সালে এটির নাম পরিবর্তিত হয়ে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টে পরিণত হয়।

ঝর্ণাধারা চৌধুরী
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের আরেক মানবতাবাদী উজ্জ্বল মুখ ঝর্ণাধারা চৌধুরী। নীরবে-নিভৃতে নিরলসভাবে কাজ করা প্রচারবিমুখ ঝর্ণাধারা চৌধুরী নারী সমাজের প্রেরণার উৎস। তিনি দেশের নারীসমাজ, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে, যারা অবহেলিত, সুযোগ ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে নীরবে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে গেছেন।

প্রচারবিমুখ নির্যাতিত, নিপীড়িত মানুষকে পথ দেখানো এই মানুষটি লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর চণ্ডীপুর ইউনিয়নের কালুপুর গ্রামে ১৯৩৮ সালের ১৫ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী রায়পুর জমিদার বাড়ির সেরেস্তায় কাজ করতেন। মা আশালতা চৌধুরী ছিলেন গৃহিণী। ১৯৫৪ সালে তার বাবা মারা যাওায়ার পর ১৯৫৬ সালে গান্ধীর প্রতিষ্ঠিত অম্বিকা কালিগঙ্গা চ্যারিটেবল ট্রাস্টে (গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টে) যোগ দেন। সমাজসেবার পাশাপাশি তিনি তার পড়ালেখাও চালিয়ে নিতে থাকেন। তিনি চট্টগ্রামের খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ঢাকা কলেজ থেকে স্নাতক পাস করেন।
ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর দীর্ঘ জীবন সংগ্রামের কাহিনি ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি ১৯৪৬ সালে দাঙ্গার বীভৎস রূপ দেখেছিলেন। তখন থেকেই সমাজকর্মী হওয়ার ইচ্ছা জেগেছিল তার মনে। ১৯৬০ সালে নিজ বাড়ি ত্যাগ করে স্বেচ্ছায় বিক্রমপুর জেলার বাউতভোগ গ্রামে ঢাকেশ্বরী কটন মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সর্বশ্রী সুনীল বসু ও চারু চৌধুরীর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ‘অম্বর চরকা’ প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন এবং সুতাকাটা, মৌমাছি পালনের প্রশিক্ষণ নেন। ঝর্ণাধারা চৌধুরী ১৯৬০ সালে চট্টগ্রামের উপক‚লীয় অঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া সামুদ্রিক সাইক্লোনে আহত নিঃস্ব গৃহহীন মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের কল্যাণের জন্য প্রতিষ্ঠিত প্রবর্তক সংঘের স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরম মমতায় আপনজনের মতো দীর্ঘদিন এই অসহায় মানুষের জন্য সেবা ও ত্রাণকাজ চালান। এরপর তিনি প্রবর্তক সংঘের বিদ্যাপীঠের চরকা ও মৌমাছি পালন কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশি¶ক পদে যোগ দেন। উদ্দেশ্য ছিল অনাদৃত, প্রায় বিস্মৃত কুটিরশিল্পকে জাগিয়ে তোলা, এই শিল্পকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে যাওয়া। সুযোগবঞ্চিত অসহায় মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো মুক্তির পথের সন্ধান দেওয়া। এটাই ছিল তার জীবনের ব্রত।

১৭ বছর বয়সে তার বোনকে সঙ্গে নিয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য স্কুল পরিচালনা শুরু করেন। তারা দুই বোন সপ্তাহে দু’দিন উপোস করে অর্থ বাঁচিয়ে শিশুদের জন্য বই ও অন্যান্য সামগ্রী ক্রয় করতেন। কয়েক বছর পর স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায় এবং তখন ঝর্ণাধারা পুরোপুরি নিজেকে সমাজকর্মী হিসেবে নিয়োজিত করেন। এ সময় থেকে তিনি নোয়াখালী, কুমিল্লা, ঢাকা-চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকায় নানা সামাজিক কাজে যুক্ত হন। অন্য গান্ধী অনুসারীদের মতো তিনিও তার কাজে সম্পূর্ণ নিয়োজিত থাকার জন্য নিজ সংসারবিহীন একাকী জীবনযাপন করেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি উদ্বাস্তু শিশু শিবিরে কাজ করেন। স্বাধীনতার পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রবর্তক সংঘ, প্রবর্তক বিদ্যাপীঠ ও প্রবর্তক শিশু সদন পুনর্গঠনে পরিপূর্ণভাবে নিজেকে নিয়োগ করেন। ১৯৭৯ সালের সেপ্টেম্ব^র মাসে গান্ধী আশ্রমে যোগ দেন এবং গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের ¶তিগ্রস্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে শক্তিশালী ও ব্যাপকভাবে জনমুখী করার জন্য বাস্তব কর্মসূচি গ্রহণ করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেন। চতুর্থ বিশ্ব নারী সম্মেলনে যোগ দিয়ে দেশে ফিরে তিনি নতুন উদ্যমে গান্ধী আশ্রমে কুটিরশিল্প স্থাপন করে তার বিকাশ ও প্রসারের জন্য নিরলসভাবে কাজ করেন। ১৯৯০ সালে গান্ধী আশ্রমের প্রাণপুরুষ চারু চৌধুরীর মৃত্যুর পর ঝর্ণাধারা চৌধুরী সচিব পদের গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করে।

তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ পদকে ভ‚ষিত হওয়ার অনন্য গৌরবে অর্জন করেন।
মানবতার সেবার ব্রত হাতে নিয়ে চিরকুমারী আজীবন ছিলেন নিরামিশ ভোজী। গান্ধীবাদী চেতনায় মানুষ আর সমাজের সেবায় পুরো জীবন পার করে চিরদিনের মতো ২০১৯ সালের ২৭ জুন বিদায় নিলেন ঝর্ণাধারা চৌধুরী। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
গান্ধী আশ্রমের নির্বাহী কর্মকর্তা রাহা নবকুমার জানান, মানুষের সেবায় জীবন উৎসর্গ করা ঝর্ণাধারা চৌধুরী মরণোত্তর দেহ দান করে গেছেন। মৃত্যুর পরও তিনি মানুষের কল্যাণের জন্যই নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।



সর্বশেষ খবর
টেলিভিশন কর্মীদের চাকরির সুরক্ষায় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
আগামী ২৯ নভেম্বর থেকে ঢাকায় কোরিয়ান চলচ্চিত্র উৎসব
ঝটপট বানিয়ে ফেলুন গরম গরম খোলা জালি
আগামীকাল সকালে কলকাতায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
জেরুজালেমের আল রাসাসি মসজিদ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল
আরব আমিরাতে প্রবাসীদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আগামীকাল ঢাকা আসছেন বান কি মুন
সর্বাধিক পঠিত
নতুন সড়ক আইন নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নির্দেশ কাদেরের
ক্যাসিনোতে বুবলী!
বিয়ের সাজে টমেটোর গয়না!
আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি সৃজিত-মিথিলার বিয়ে
বাজারে আসছে পুরুষদের জন্য গর্ভনিরোধক ইনজেকশন!
আমি খেললে ব্রাজিল আরও পাঁচটা বিশ্বকাপ জিতে নিত :রোনালদো
ভাসমান ট্রেন আবিষ্কার বাংলাদেশি গবেষকের
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]