English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার রোববার ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার রোববার ৮ ডিসেম্বর ২০১৯
 / অর্থনীতি /  পোষাক খাতের রুগ্নদশা !
পোষাক খাতের রুগ্নদশা !
১০ মাসে ৬০ পোশাক কারখানা বন্ধ, বেকারত্বের সংখ্যাও দীর্ঘ হচ্ছে
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০১৯, ৪:৫৬ পিএম আপডেট: ২৭.১১.২০১৯ ৫:০৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পোষাক খাতের রুগ্নদশা !

পোষাক খাতের রুগ্নদশা !

দেশের পোশাক শিল্প ক্রমশ খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করেছে। একের পর এক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক চালিকা শক্তির গুরুত্বপূর্ণ এই পোশাক শিল্পখাত। এ বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর-এ ১০ মাসে বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় ৬০টিরও অধিক পোশাক কারখানা। এর সাথে জড়িত প্রায় ৩০ হাজারের অধিক শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে। চাকরি হারানো সব শ্রমিকই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে এক অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এছাড়াও প্রতি বছরই জ্যামিতিক হারে কমছে পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধি। এটিও পোশাক খাতের জন্য চরম হতাশাজনক বলছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, , ২০০৯-১০ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে রফতানি প্রবৃদ্ধি ৯৬ শতাংশ বা ১২ বিলিয়ন ডলার। ২০১৪-১৫ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩৪ শতাংশ বা ৮.৬ বিলিয়ন ডলার।  নানাবিধ সমস্যার কারণে পোশাক খাতে প্রতিনিয়ত এই প্রবৃদ্ধি কমছে। তথ্য মতে, বিগত পাঁচ বছরে (২০১৪-২০১৮) যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ৭.৪ শতাংশ ও ইউরোপের বাজারে ৩.৬৪ শতাংশ পোশাকের দরপতন হয়েছে। সর্বশেষ অক্টোবরে পোশাকের সব আইটেমে মূল্যহ্রাস পেয়েছে। প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অনেক কম। দেখা যায়, ভিয়েতনামের জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় প্রবৃদ্ধি ১০.৫৪ শতাংশ, ভারতের জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় প্রবৃদ্ধি ২.২৫ শতাংশ, পাকিস্তানের জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় প্রবৃদ্ধি ৪.৭৪ শতাংশ আর বাংলাদেশের-০.৩৩ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ ও চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা প্রধান ৩০টি পোশাক পণ্যের মধ্যে বাংলাদেশের ১৬টি প্রধান পোশাক পণ্য রয়েছে। এই ১৬টি পণ্যে বিগত ৫ বছরে দেশের রফতানি হ্রাস পেয়েছে ১২ শতাংশ, যেখানে ভিয়েতনামের রফতানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭ শতাংশ। পোষাক খাতের এমন বিপর্যয়ের আরেকটি কারণ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া । ২০১৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চার বছরে উৎপাদন খরচ বেড়েছে ৩০.১ শতাংশ।
এ অবস্থায় গার্মেন্টস শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাদি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে বসে পোশাক শিল্পের ব্যবসায়ীরা। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা পণ্য রফতানিতে ক্লিয়ারেন্স, জাহাজীকরণ, ব্যাংক লোনে উচ্চসুদসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসময় ব্যবসায়ীরা ডলারের মূল্য পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান। কর আদায়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। আয়করের পরিধি বাড়ানোর সুপারিশ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, ‘যাদের সক্ষমতা রয়েছে, তাদের কাছ থেকে ট্যাক্স আদায়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিলে যারা নিয়মিত ট্যাক্স দিচ্ছেন তাদের উপর চাপও কমবে। এ সময় বৈঠকে উপস্থিত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দাবীগুলোর  সাথে একমত পোষণ করেন এবং অর্থসচিব বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যাংক ঋণ ও সুদের বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেন। আর ট্যাক্সের বাড়তি চাপ কমাতে এ খাতে ট্যাক্স কিছুটা কমানোর কথা জানান এনবিআরের চেয়ারম্যান।
এছাড়া পোষাকখাতকে সুদৃঢ় করতে সরকারের কাছে কিছু প্রস্তাবনা তুলে ধরেন বিজিএমইএ। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- স্থানীয় পর্যায়ে  পোশাক রফতানি মূল্য সংযোজনের উপর (রফতানি মূল্যের ২৫ শতাংশ) ডলার প্রতি অতিরিক্ত ৫ টাকা বিনিময় হার প্রদান। এ বাবদ প্রয়োজনীও বরাদ্দের পরিমাণ প্রায় ৪৬০০ কোটি টাকা। কোন প্রকার শর্ত বিহীন সকল পোশাক রফতানিকারকদের জন্য এক শতাংশ বিশেষ নগদ সহায়তা প্রদান। ০.২৫ শতাংশ হারে হ্রাসকৃত উৎসে কর ১ জুলাই ২০১৯ থেকে কার্যকর করা।
কারখানা বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি শহীদুল্লাহ আজিম বলেন, ‘কারখানা বন্ধ হওয়ার অনেক গুলো কারণ আছে। তার মধ্যে, রানা প্লাজা ধসের প্রভাবে ক্রয় আদেশ কমে যাওয়া। এছাড়া ‘অ্যাকর্ড অ্যালায়েন্সের’ কারখানা পরিদর্শন, শেয়ার্ড বিল্ডিং কারখানা থাকার কারণে ক্রেতারা অর্ডার না দেওয়া, ন্যুনতম মজুরি বৃদ্ধির কারণে মালিকরা কারখানা চালাতে না পারা’।
অন্যদিকে, পোষাক শিল্পের এমন রুগ্ণদশায় বিপাকে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজারের মতো পোষাক শ্রমিক। বেকার হয়ে যাওয়ায় তাদের ব্যক্তি এবং পারিবারিক জীবনে নেমে এসেছে চরম হতাশা। স্ত্রী-সন্তানসহ পরিবার নিয়ে এক রকম মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। নতুন করে পোষাক কারখানা সৃষ্টি না হওয়ার ফলে তাদের কর্মসংস্থানেরও কোন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে দেশে বেকারত্বের সংখ্যাও ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।  
বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) একই বার্তা দিচ্ছে।  বিজিএমইএর পরিসংখ্যান বলছে, ‘চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত (১০ মাস) আর্থিক সমস্যার কারণে ৬০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চাকরি হারিয়েছেন ২৯ হাজার ৫৯৪ জন শ্রমিক। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ)  সভাপতি রুবানা হক এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে রুবানা হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আর্থিক সমস্যার কারণে চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের ৬০ পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ২৯ হাজারের বেশি শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন



সর্বশেষ খবর
চট্টগ্রামের শাহ আমানতে ২০টি স্বর্ণের বারসহ যাত্রী আটক
আ.লীগের সম্মেলন: ৫০ হাজার মানুষের খাবারের ব্যবস্থা
আগামীকাল কেন্দ্রীয় ১৪ দলের সভা
‘রোবট সেনা’ নামাচ্ছে ভারত!
আসছে দীপিকার ‘ছপাক’-এর ট্রেলার
স্থগিতই থাকবে নওশাবার মামলা
আলফাডাঙ্গায় ডোবায় নবজাতকের লাশ
সর্বাধিক পঠিত
ডিএপি সারে প্রতি কেজিতে দাম কমল ৯ টাকা: কৃষিমন্ত্রী
আজ থেকে শুরু রেলওয়ে সেবা সপ্তাহ
দুর্নীতি মামলা: এস কে সিনহার বিরুদ্ধে চার্জশিটের অনুমোদন
ফকিরাপুলে আবাসিক হোটেলে যুবকের ঝুলন্ত লাশ
খালেদা নিশ্চিতভাবেই জামিনের হকদার: রিজভী
আগামীকাল আসছে ২৫০০ টন পেঁয়াজ
আগামী শুক্রবার আ.লীগের দফতর উপ-কমিটির সভা
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]