English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০ ৫ মাঘ ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২০
 / জাতীয় /  কথায় কথায় ধর্মঘট
কথায় কথায় ধর্মঘট
বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রকাশ: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ১:৫১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

কথায় কথায় ধর্মঘট

কথায় কথায় ধর্মঘট

হঠাৎ করেই একের পর এক ধর্মঘটে বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের জীবন। বিভিন্ন দাবী দাওয়া নিয়ে নানান ব্যানারে যখন তখন এসব ধর্মঘটের ডাক দেয়া হচ্ছে। নতুন সড়ক আইনের প্রতিবাদে পরিবহন ধর্মঘটের রেশ না কাটতেই ডাক দেয়া হয়েছিল নৌযান ধর্মঘটের। এছাড়াও নজীরবিহীনভাবে ক্রিড়াঙ্গনেও পালিত হয়েছে ধর্মঘট। বর্তমানে তেল-মালিক শ্রমিকরাও ধর্মঘটে নেমেছে। এসব ধর্মঘটের কবলে পড়ে ব্যহত হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবযাত্রা। পাশাপাশি বিপর্যয় নেমে আসছে দেশের অর্থনীতিতে।

অক্টোবরে হঠাৎ করেই ধর্মঘটে বসে পড়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। গত ২১ অক্টোবরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষ জানিয়ে সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম বয়কটের ঘোষণা দেয় দেশের শীর্ষ ক্রিকেটাররা। মিরপুরে একাডেমি মাঠে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে দাবি তুলে ধরেছেন সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিক রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদসহ তারকা ক্রিকেটাররা। দেশের ক্রিকেট ঠিক পথে নেই দাবী করে তারা মোট ১১ দফা দাবি পেশ করেন। একই সাথে দাবি না মানা পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট খেলা, ক্যাম্প ও অনুশীলন থেকে বিরত থাকার ঘোষনা দেয় জাতীয় ক্রিকেটাররা। এই ঘটনায় দেশ বিদেশে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ধর্মঘটের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা তুঙ্গে উঠে। এরপর সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে হস্তক্ষেপে সমাধান আসে। বিসিবি ক্রিকেটারদের সাথে আলোচনা করে দাবী দাওয়া মেনে নেয়ার পর ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

এরপর আসে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘট। গত বছর ঢাকার দুই কলেজ শিক্ষার্থী সড়কে বাস চাপায় প্রাণ হারানোর পর শিক্ষার্থীদের ব্যাপক আন্দোলনের মুখে ১৯ সেপ্টেম্বর সড়ক পরিবহন আইন পাস করে সরকার। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে গত ১ নভেম্বর এ আইনটি কার্যকর হয়। আইনটিকে চ্যালেঞ্জ করে  নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনের দাবিতে হঠাৎ করে ১৮ নভেম্বর ধর্মঘটে যান পরিবহন মালিক-শ্রমিকর। নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংস্কারের দাবিতে অঘোষিতভাবেই ধর্মঘট ও কর্মবিরতি পালন করে বাস চালকরা। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে যাত্রীরা। হঠাৎ করেই কোন ঘোষণা ছাড়া এমন ধর্মঘটের ফলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এ সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারেন। এটাকে ধর্মঘট নয় ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ বলা যেতে পারে। বাসচালক নেতারা কোনো নির্দেশনা মানতে চাইছেন না।’ পরিবহন খাতের শীর্ষ নেতা হয়ে তার এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হন সাধারণ মানুষ। আচমকা এ ধর্মঘটের জন্য পরিবহন নেতা শাহজাহান খানকেই দায়ী করেন বিভিন্ন মহল। সড়ক পরিবহন ধর্মঘটের মধ্যেই সারাদেশে ট্রাক ধর্মঘটেরও ডাক দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান পণ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্যপরিষদ নতুন আইন স্থগিত রাখাসহ নয় দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের এ কর্মবিরতির ডাক দেয়। এতে করে সারাদেশে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হয় এবং ক্ষতিগ্রস্থ হয় কাচাঁ পণ্য সামগ্রী। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর নানা লুকোচুরি ঘটনার মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করা এই পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

ধর্মঘটের ধারাবাহিকতায় গত ২৯ নভেম্বর যোগ হয় নদীপথ। নৌযানশ্রমিকদের বেতন-ভাতা বাড়ানোসহ ১১ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে সারা দেশে নৌযান ধর্মঘট (কর্মবিরতি) চলে। বাংলাদেশ নৌযানশ্রমিক ফেডারেশনের ডাকে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। যাত্রীবাহী নৌচলাচল বন্ধ থাকায় দিনভর দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ধর্মঘট আহ্বানের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মাথায় গতকাল রাত ১১টায় তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু এর আগেই ক্ষতি হয়ে যায় সাধারণ মানুষের। দেখা যায়, গতকাল থেকে বরিশাল নদী বন্দর থেকে কোনো যাত্রীবাহী নৌযান ছেড়ে যায়নি। নদী বেষ্টিত দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মূলত লঞ্চের উপর নির্ভরশীল। ফলে লঞ্চ ধর্মঘটে তারা চরম বিপাকে পড়েছেন। 

সর্বশেষ গত শনিবার থেকে শুরু হয়েছে তেল-শ্রমিকদের কর্মবিরতি। তেল বিক্রির কমিশন বৃদ্ধি, পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন জমির ইজারা বাতিলসহ ১৫ দফা দাবিতে দেশের তিন বিভাগের সব পেট্রলপাম্পে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে এসব বিভাগের সব পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল বিক্রি, ডিপো থেকে উত্তোলন এবং পরিবহন বন্ধ রয়েছে। খুলনা রাজশাহীতে শ্রমিকরা পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা তিনটি তেল ডিপোর তেল উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ রেখে কর্মসূচি পালন করছে। ফলে খুলনাসহ ১৫ জেলায় তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ধর্মঘটের ফলে তেল উত্তোলন করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা। বিভিন্ন যানবাহনের চালক ও মালিকেরা বিপাকে পড়েছেন। ডিজেল না পেয়ে কৃষকেরাও জমিতে সেচ দিতে পারছেন না। এতে কৃষি কর্মকর্তারা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, বছরের শেষদিনগুলোতে আরো কয়েকটি ধর্মঘটের কবলে পড়তে পারে দেশ। আচমকা প্রতিটি ধর্মঘটেই সাধারণ মানুষকে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে। ফলে ধর্মঘটের এমন আচমকা চেহারায় মানুষ বিরক্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা চাকুরীজীবি মোহাম্মদ মোস্তফা হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘হঠাৎ হঠাৎ ধর্মঘটের ফলে আমাদের চরম দূর্ভোগের মুখে পড়তে হয়। কথায় কথায় ধর্মঘট না দিয়ে আগেই যদি সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বৈঠক করে সমাধানের পথ খোঁজা হয় তাহলে হয়তোবা ধর্মঘটের দিকে যেতো হতো না।’  




সর্বশেষ খবর
হোয়াটসঅ্যাপে বিজ্ঞাপন দেবে না ফেসবুক
প্যান্ট না পরেই প্রিয়াঙ্কা-নিকের নাচ ! ( ভিডিও)
ইরানে আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ নিষিদ্ধ!
সিসিমপুরের নতুন সিজন শুরু
পর্ন সাইটে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন মেগান মার্কেল!
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে বিশ্বের সবচেয়ে খাটো মানুষের মৃত্যু
৩০০ পাউন্ড ওজনের আইএস নেতা আটক!
সর্বাধিক পঠিত
বিজ্ঞানীদের গোবর নিয়ে গবেষণার অনুরোধ বিজেপি মন্ত্রীর!
দেশের সব কোচিং সেন্টার এক মাস বন্ধের নির্দেশ
সৎ ও যোগ্য পাত্র পেলে ২০২০ সালেই বিয়ে: পপি
প্রাথমিকে আর শিক্ষার্থী বহিষ্কার নয় : হাইকোর্ট
ক্ষমা চাইলেন দেব!
মাফিয়া কুইন লুকে আলিয়া!
ভোট ৩০ জানুয়ারিই হবে: কাদের
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]