English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯ ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ই-পেপার শুক্রবার ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯
 / রাজনীতি /  বাগযুদ্ধে রাজনৈতিক উত্তাপ
বাগযুদ্ধে রাজনৈতিক উত্তাপ
বিশেষ প্রতিবেদক:
প্রকাশ: সোমবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৯, ৯:৪৮ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

বাগযুদ্ধে রাজনৈতিক উত্তাপ

বাগযুদ্ধে রাজনৈতিক উত্তাপ

হঠাৎ করেই রাজনীতির মাঠে উত্তাপ ছড়িয়েছে। গত কয়েকদিন থেকেই দুই দলের নেতারা পরস্পরকে হুঁশিয়ারী দিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে আসছেন। বিশেষ করে, কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন ইস্যূতে দুই দলের নেতারা বাগযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছেন। শুক্রবার বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ বলেছেন, আগামী ৫ই ডিসেম্বর সর্বোচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন না হলে সরকার পতনের এক দফার আন্দোলন শুরু হবে। তিনি বলেন, জামিন না হলে বুঝবো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারনেই এটি হচ্ছে না। এর জবাবে আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি সরকার পতনের ছক কষছে। আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য হলে সমুচিত জবাব দেয়া হবে।

জানা যায়, আগামী ৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগে দলটির কারাবন্দি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ দিনটিকে কেন্দ্র করেই বর্তমানে রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপি নেতারা তৃণমূলের চাপ এবং জামিন ইস্যূতে ঘরোয়া সভা সমাবেশ থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। এর প্রাথমিক রূপ হিসেবেই বিএনপি গত ২৪ নভেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করে। সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আগামী দিনে বিএনপি সভা-সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতির জন্য বসে থাকবে না। কারণ সভা-সমাবেশ সংবিধানস্বীকৃত অধিকার।’

এরপরই সোমবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘অনুমতি ছাড়া বিএনপির রাজপথে কর্মসূচি পালনের সক্ষমতা নেই, সাহস নেই’। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পর মঙ্গলবার দুপুরে হাইকোর্টের সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করে বিএনপি। এসময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ধারণা করা হচ্ছে, পাল্টা জবাব দিতেই মঙ্গলবার হঠাৎ হাইকোর্টের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বিএনপি সমর্থক ‘রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের’ নেতাকর্মীরা। এই ঘটনায় ওইদিন রাতেই শাহবাগ থানায় ১৫-২০ জনের নাম উল্লেখসহ ৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এ মামলার আসামি করা হয়েছে বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে। গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজকে। পরে তারা আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।

এছাড়া বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন হুঁশিয়ারির ভাষায় বলেছেন, ‘আগামী ৫ই ডিসেম্বর বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওইদিন যদি বেগম জিয়ার জামিন না হয় তাহলে আমরা বুঝতে পারবো, সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপে এটি হচ্ছে না। আর ওইদিন জামিন না হলে দেশনেত্রীর মুক্তির এক দফা দাবিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল লাগাতার সরকার পতনের আন্দোলনে যাবে।’ জাতীয় প্রেসক্লাবে ঢাকাস্থ ভোলা মনপুরা চরফ্যাশন জাতীয়তাবাদী ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন। এ সময় খন্দকার মোশাররফ আরো বলেন, আমাদের উচ্চতর আদালত আপিল বিভাগ আর চিকিৎসা বিজ্ঞানের সবচাইতে বড় প্র্রতিষ্ঠান বিএসএমএমইউ। যদি আমরা সুবিচার না পাই, যদি আমরা সুচিকিৎসা না পাই তাহলে আমাদের বিকল্প পথ নাই এই সরকারের পতন ঘটানো ছাড়া।

বিএনপি সূত্র থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ  নির্বাচনের বর্ষপূর্তির মাস ঘিরে রাজপথের কঠোর আন্দোলন কর্মসূচির ছক ধরে এগুচ্ছে দলটি। ৫ ডিসেম্বর কারাবন্দি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের রায়ের দিন হাই কোর্ট এলাকায় শান্তিপূর্ণ শোডাউন করার চিন্তাাভাবনাও করছেন নীতিনির্ধারকরা। তবে জামিন হলে বিএনপি শোডাউন থেকে সরে আসবে। না হলে ঢাকাসহ সারা দেশে একযোগে কর্মসূচি পালনের জন্য রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিতে তৃণমূলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির এমন তৎপরতায় বসে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলটি মনে করে, বিএনপির হঠাৎ হাইকোর্ট এলাকায় অবরোধ করা ইঙ্গিতপূর্ণ। সামনে মুজিববর্ষ ২০২০-২১ উদযাপন করা হবে তাই এসময় দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হোক তা সরকার চায় না।

এবিষয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য হলে সমুচিৎ জবাব দেয়া হবে। শক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বারবার বলেছি উনি আদালতের রায়ে দন্ডিত, সে কারণে জেলে। আপনারা আইনি লড়াই করে তাকে মুক্ত করুন। এতে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। কিন্তু বিএনপি আদালত মানে না, আইনের শাসন মানে না, বিচার মানে না। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য আদালতের উপর চাপ দিতে সেখানে ভাংচুর করেছে। পুলিশের উপর হামলা করেছে। আদালত প্রাঙ্গণকে রণাঙ্গনে পরিণত করেছে। আপনারা যদি মনে করেন সহিংসতা সৃষ্টি করে, দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করবেন, তাহলে আপনারা বোকার স্বর্গে আছেন। দলের নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে তিনি বলেন, সবাই প্রস্তুুত হয়ে যান, এখনও ষড়যন্ত্র চলছে, এখনও চক্রান্ত চলছে। এই চক্রান্ত রুখতে হবে।’




সর্বশেষ খবর
বালিশ দুর্নীতি : ১৩ প্রকৌশলীকে গ্রেপ্তার করেছে দুদক
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন খারিজ
‘একজন অফিসার চাইলে জেলা-উপজেলার চেহারা বদলে দিতে পারেন’: প্রধানমন্ত্রী
কেরানীগঞ্জে অগ্নিকাণ্ড: নিহত বেড়ে ১৩
তৃতীয় টার্মিনাল: সেবা পাবে আরও ১২ মিলিয়ন যাত্রী
তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সকলকে দায়িত্বশীল হতে হবে: স্পিকার
বিধ্বংসী শ্রমিক শাকিব !
সর্বাধিক পঠিত
অতীতে কোনও সরকার এতো নির্যাতন করেনি: ফখরুল
বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষা বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন : প্রধানমন্ত্রী
চালু হচ্ছে ঢাকা-সিকিম সরাসরি বাস সার্ভিস
বাকি জীবনটা ইবাদত বন্দেগি করেই কাটাতে চাই: পপি
আগামীকাল শাহজালালে ২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে ফ্লাইট
সৎ সাহস থাকলে প্রমাণ নিয়ে সামনে বসুন
আগামীকাল বসবে পদ্মা সেতুর ১৮তম স্প্যান
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]