English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ১৭ ফাল্গুন ১৪২৬
ই-পেপার শনিবার ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০
 / রাজনীতি / সরকার টপ টু বটম লুটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত : রিজভী
সরকার টপ টু বটম লুটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ১:৪২ পিএম আপডেট: ১১.০২.২০২০ ১:৫২ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সরকার টপ টু বটম লুটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত : রিজভী

সরকার টপ টু বটম লুটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত : রিজভী

সরকারের টপ টু বটম লুটের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, চারদিকে লুটপাটের মহামারী চলছে। সরকারের লোকজন যে যেভাবে পারছে বেপরোয়াভাবে লুটে নিচ্ছে জনগণের অর্থ সম্পদ। দেশের মানুষ ফৌত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের লুটপাটের বড় খাত কেবল শেয়ার বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাংকগুলো একটির পর একটি দেউলিয়া করার পর এখন জনগণের পকেট কাটতে সরকার একটির পর একটি নতুন ব্যাংক অনুমোদন দিচ্ছে। ব্যাংকে ব্যাংকে সয়লাব এখন দেশ।

আজ (১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০) মঙ্গলবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, রোববারও আওয়ামী লীগের এক নেতার নামে অনুমোদন দেয়া হয়েছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল নামে একটি ব্যাংকের। এই ব্যাংকগুলো করা হচ্ছে জনগণের পকেট কাটার জন্য। একদিকে যেমন ঋণ নিয়ে চলছে সরকার, পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্বশাসিত এবং সেক্টর কর্পোরেশনের উদ্বৃত্ত অর্থ তুলে নিয়ে যাচ্ছে সরকার জোর করে। এর পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যাংক নিয়ে নতুন খেলা। অর্থ সম্পদ গচ্ছিত রাখার ব্যাংক এখন রীতিমত আতংকে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে নতুন করে আইন বানানো হচ্ছে-কোনো ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেলে আমানতকারীর যত আমানতই থাকুক না কেনো,  বীমার টাকা দেয়া হবেমাত্র ১ লাখ টাকা।

আপনারা জানেন, রাজনৈতিক স্টান্ডবাজি করতে গিয়ে এই নিশিরাতের লুটেরা সরকার যে বিশাল বাজেট তৈরী করেছিল, তার জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারছে না। আমদানি-রফতানি মুখ থুবড়ে পড়েছে, রাজস্ব আয় কম হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র থেকে আয় চলে এসেছে নগণ্য পর্যায়ে, ফলে সরকার চলছে ব্যাংক থেকে টাকা ধার করে। এবছর বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। অথচ অর্থবছরের ছয় মাসের মধ্যেই সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়েছে ৫১ হাজার ৭৪১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৩৭৮ কোটি টাকা বেশি ঋণ নিয়ে ফেলেছে সরকার। বাকী ৬ মাসে কি অবস্থা হবে তা সহজেই অনুমেয়। ১০ বছরে ব্যাংকের কাছে সরকারের নিট ঋণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। এই টাকা আর পরিশোধ করবে না সরকার।

তিনি বলেন, একদিকে ক্ষমতাসীন দলের ব্যবসায়ীরা উপর মহলের সহযোগিতায় ব্যাংক খুলে বসে আছে-জনগণ টাকা জমা দিলে সেগুলো মেরে খাচ্ছে সরকার এবং ব্যাংকের মালিকরা। আর ব্যাংক বন্ধ করে দিলে গ্রাহকের শত কোটি টাকার ব্যালেন্স থাকলেও তাকে বীমার ১ লাখ টাকা দিয়ে বিদায় করে দেয়া হবে! কি ভয়ংকর অবস্থা! এটাতো রীতিমত রাক্ষসরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে দেশকে। ফলে জনগণের মধ্যে এখন এমন ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে যে, নতুন এবং সন্দেহজনক ব্যাংক থেকে তারা আমানত তুলে ফেলতে শুরু করেছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, একদিকে যেমন ঋণ নিয়ে চলছে সরকার, পাশাপাশি বিভিন্ন স্বায়ত্বশাসিত এবং সেক্টর কর্পোরেশনের উদ্বৃত্ত অর্থ তুলে নিয়ে যাচ্ছে সরকার জোর করে। এর সাথে শুরু হয়েছে ব্যাংক নিয়ে নতুন খেলা। প্রথমত, জনগণের টাকা আমানত তুলে সেই অর্থ থেকে ব্যাংকের মালিকরা ঋণ হিসাবে টাকা নিয়ে আর শোধ করে না, অথবা খেলাপী ঋণ করে মেরে দেয় টাকা। এরূপ ২ লাখ কোটি টাকার ঋণ নিয়ে বসে আছে ব্যাংকের পরিচালকরা। ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকার খেলাপী ঋণের হিসাব সংসদে দিলেও বাস্তবে খেলাপী ঋণ এর দ্বিগুণ। এর উপর নতুন করে লুটপাট করতে আরও তিনটি ব্যাংকের অনুমতি দিচ্ছে সরকার, এর মধ্যে একটি দেয়া হয়ে গেছে। পাশাপাশি চারটি ব্যাংককে পুঁজিবাজারে নামানো হচ্ছে নতুন করে জনগণের পকেট কাটতে।

সরকারের রাঘব বোয়ালদের জন্য লুটপাটের সব অর্গল উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, যে যেভাবে পারছে লুটে নিচ্ছে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকায় সম্পাদক নঈম নিজামের একটি নিবন্ধ পড়লাম। যেখানে লুটপাটের একটি লোমহর্ষক চিত্র তুলে ধরেছেন। একজন ব্যবসায়ী এমপি ২০ কোটি টাকার ঋণের জন্য কোন এক ব্যাংকে চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক করেন। এরপর একজন ব্যাংক কর্মকর্তা সেই এমপি’র নিকট উপস্থিত হয়ে তাকে ২০ কোটির বদলে ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করে। যদিও এমপি সাহেব বলেন, ২০ কোটির জন্য আমার কাগজপত্র প্রস্তুত আছে, কিন্তু ২০০ কোটি টাকা নেয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, আমরা সব ব্যবস্থা করে দিবো, শুধু আমাদের দশ শতাংশ টাকা দিলেই হবে। এই টাকা সরাসরি হংকংয়ে চলে যাবে। বন্ধুরা, এটি একটি ভয়ঙ্কর অর্থনৈতিক নৈরাজ্যেরই ছবি, যা বিদ্যমান চরম রাজনৈতিক অসুস্থতা থেকে উৎসারিত।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকারেরই কিছুদিন পূর্বের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছিলেন, দেশের অর্থনীতি আকারের তুলনায় বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশী। এরপরও রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংক অনুমোদনে সুপারিশ করতে বাধ্য হয়েছে। এভাবে নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ায় আমি ভেরি আনহ্যাপী।’ বন্ধুরা, আমার বক্তব্য হচ্ছে-তিনি আনহ্যাপী হলেও কার নির্দেশে ব্যাংক অনুমোদনের সুপারিশ করেছিলেন ? নিশ্চয়ই তাঁর চেয়েও শক্তিধর ব্যক্তি যাঁর নির্দেশ তাঁকে মানতে হয়।

ওবায়দুল কাদেরের সমালোচনা করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গতকাল সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন-জনগণের প্রতি আস্থা নেই বিএনপি’র। বিদেশীদের কাছে নালিশ করাই তাদের কাজ। সভা-সমাবেশ করে জনগণের কাছে বক্তব্য তুলে ধরতে পারে না। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনাদের দান-খয়রাতের গণতন্ত্রে জনগণকে কোথায় পাঠিয়েছেন তা কি আপনি জানেন ? জনগণের প্রতি যখন এতোই আপানদের আস্থা তাহলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দিয়ে নিশিরাতের নির্বাচন করছেন কেন ? আসলে জনগণ বলতে আপনি কি বোঝান তা কেউ বুঝতে পারে না। আপনি হয়তো অন্যদেশের জনগণের কথা বলছেন। তারা হয়তো আপনাদেরকে সমর্থন করে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ তো বন্দী, তা না হলে মধ্যরাতে নির্বাচন করবেন কেন ? তা না হলে চিটিং-ভোটিং মেশিন দিয়ে নির্বাচন করবেন কেন ? যা সারা দুনিয়া বাতিল করেছে। আসলে ওবায়দুল কাদেরের মতো আওয়ামী রাজন্যবর্গরা ক্ষমতার নেশায় সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে জালিয়াতির ভাইরাসে ভরিয়ে দিয়ে জনগণের কথা বলে জনগণকে বিদ্রুপ করে।

বইমেলা এখন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অধিবেশনে পরিণত হয়েছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, অমর ২১শে বইমেলাটি আগে ছিল সার্বজনীন। কিন্তু এখন বইমেলা আওয়ামী বইমেলায় পরিণত হয়েছে। বইমেলার সার্বজনীনতা হারিয়ে গেছে। বইমেলার সর্বজনগ্রাহ্য সম্ভ্রম ক্ষুন্ন করা হয়েছে। বইমেলার বিভিন্ন স্টল আওয়ামীকরণে সজ্জিত করা হয়েছে। বইমেলায় ঢুকলেই মনে হয়-এটি যেন আওয়ামী লীগের কোন কাউন্সিল অধিবেশন। একদলীয় দু:শাসনের দুরন্ত প্রভাব পড়েছে চলমান বইমেলায়।




সর্বশেষ খবর
লুকোচুরি গল্প
ভাইবোনের সম্পর্ক ছিল সালমানের সঙ্গে : শাবনূর
সাতপাঁকে বাঁধা পড়লেন সৌম্য
খালেদা জিয়ার জামিন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট
মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান থাকায় মোদিকে দাওয়াত
রাজধানীর আবাসিক হোটেলগুলোতে তৎপরতা বাড়ানো হবে
ফের বাড়ছে বিদ্যুতের দাম
সর্বাধিক পঠিত
মোরা রাম আর রহিম ভাই ভাই আর নই : মিমি
লুকোচুরি গল্প
মুজিব বর্ষে ​​​​​​​আসছে ২০০ টাকার নোট ও স্বর্ণ মুদ্রা
সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্রবন্দর না করার ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর
এখনো হুমায়ূন আহমেদ
দুইদিনের সফরে ভারত পৌঁছেছেন ট্রাম্প
সরকারের সায় রয়েছে বলেই পাপিয়ারা ধরা পড়ছে: ওবায়দুল কাদের
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]