English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার শুক্রবার ২৯ মে ২০২০ ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৯ মে ২০২০
 / জাতীয় / এখনো হুমায়ূন আহমেদ
এখনো হুমায়ূন আহমেদ
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ: বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৩:০৯ পিএম আপডেট: ২৭.০২.২০২০ ৩:৩১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

এখনো হুমায়ূন আহমেদ

এখনো হুমায়ূন আহমেদ

হুমায়ূন আহমেদ নেই। কিন্তু বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলায় তিনি এখনও আছেন। তার প্রয়াণের সাত বছর পরও আছেন প্রবলভাবেই। গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনের পাঠক সমাগম ও বই বিক্রির দৃশ্য দেখে এমনটাই মনে হলো। শুধু অন্যপ্রকাশের নয়, কিংবদন্তি এই লেখকের গল্প, উপন্যাস যেসব প্রকাশনী প্রকাশ করেছেন- সর্বত্র একই বাস্তবতার দেখা মিলেছে। কাকলী, অন্বেষা, সময়, পার্লসহ সবাই বলেছেন, মেলায় এখনো হুমায়ূন আহমেদকেন্দ্রিক। কিন্তু কেন এই অবস্থা, তা জানার চেষ্টা করেছেন এই প্রতিবেদক। এ প্রসঙ্গে বলার আগে পাঠকদের জানিয়ে দেন সেদিনের গ্রন্থমেলার অন্যান্য দিকও। 

এদিন টিএসসির প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করতেই হিমেল হাওয়া খানিকটা মৃদুভাবেই পরশ দিয়ে যায়। ঝিরঝিরে প্রকৃতির মনভোলানো নাচন তখনো পুরো মেলাজুড়ে। দৃষ্টি যতদূর যায় হেয়ালি প্রাণের চতুরতা, ততই প্রকট হয়ে ধরা দেয়। কারো হাতের শক্ত বাঁধনে প্রিয়জন, কেউ আবার হাঁটছে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, প্রাণে প্রাণ মিলিয়ে। শিশুদের হৈ-হুল্লোড়ও কম যায় না। মেলাজুড়ে তাদের চড়–ইভাতি নিমেষেই যে কারোই মন ভালো করে দেবে। রঙিন সাজে দৃষ্টিনন্দন সারি সারি বইয়ের সাজ বাড়তি আনন্দ জোগায়। 

এমন দৃশ্য দেখেই কবি হুমায়ুন কবির লিখেছিলেন, ‘মেলায় ঢুকে অবাক আমি কোথায় এলাম আজ/হাজার বইয়ের দোকান দেখে চক্ষু চড়কগাছ।’ 

এমন চঞ্চল চোখের দেখা পেতেও বেগ পেতে হয়নি। কলি প্রকাশনীর সামনেই কয়েকজোড়া তরুণ-তরুণী সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার ও ভৌতিক গল্পের বই নেড়েচেড়ে দেখছেন। পাঠক রুবাইয়াত নাজনীন দেখছেন তূর্য শাকিলের থ্রিলার জার্নি ইন ডার্ক আইল্যান্ড। আরেকজনের হাতে দিপু মাহমুদের সায়েন্স ফিকশন ‘হারাকিরি’। এনায়েত রসুলের রহস্যময় ডাইনোসর বইটি নিয়ে পাঠকের আগ্রহ বেশ। তবে সাংবাদিক রনক ইকরামের লেখা ‘এলিয়েন কি সত্যি আছে?’ বইটি নিয়ে পাঠকের বেশ আগ্রহ দেখা গেছে। কথা হয় কলি প্রকাশনীর এস এম মহিউদ্দিন কলির সঙ্গে। তিনি জানান, ‘একুশে ফেব্রুয়ারি পর কিছুটা থমকে গেছে পরিবেশ। শহরের তীব্র যনজটের কারণেও মেলায় দর্শনার্থীদের দ্রুত মেলা ত্যাগ করার একটা প্রবণতা আছে। আবার পরিধি বড় হওয়ার কারণে পাঠক বা দর্শনার্থীদের এলোমেলো পদচারণায় তারা খানিকবাদেই হাঁপিয়ে উঠছে। এটিও বই বিক্রিতে বড় প্রতিবন্ধকতা।’ 

এখনো হুমায়ূন আহমেদ

এখনো হুমায়ূন আহমেদ

কথা প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন কলি জানান, ‘পার্শ্ববর্তী দেশসহ কয়েকটি দেশে এখনো বই প্রকাশের ক্ষেত্রে কাগজে ভর্তুকির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সরকার এখনো আমাদের প্রকাশনাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করেনি। এবারের গ্রন্থমেলায় তিনি প্রকাশ করেছেন ৫২টি বই। এর মধ্যে অর্ধেকই শিশুতোষ। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আছে চারটি বই। এর মধ্যে সায়েন্স ফিকশন ২টি, থ্রিলার গল্প (অনুবাদ) ৫টি, ভৌতিক ৭টি। 

তবে অন্যবারের মতো এবারও অন্যপ্রকাশ ঘিরে পাঠকদের ভিড় দেখা গেছে। এখানকার বিক্রয় কর্মীরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা জানান, এখনো হুমায়ূন আহমেদকে খোঁজেন পাঠক। তার বই বিক্রি হচ্ছে ঠিক আগের মতোই। তার শেষ উপন্যাস ‘দেয়াল’ নিয়ে পাঠকের প্রবল আগ্রহ। বিক্রি হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদ রচনাবলি-৫। এছাড়া বিংশ শতাব্দীর প্রথম পাঁচ দশকের ঐতিহাসিক পটভূমিতে লেখা বিশাল ক্যানভাসের ‘মধ্যাহ্ন অখণ্ড’ উপন্যাসটিও পাঠকের মন জয় করেছে। এর কাহিনি অগ্রসর হয় নানা সামাজিক ও ব্যক্তিজৈবনিক ঘটনার প্রে¶াপটে বিভিন্ন চরিত্রের মিথস্ক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর সৈয়দ শামসুল হকের ‘মার্জিনে মন্তব্য’ ও আব্দুশ শাকুরের ‘রবীন্দ্রজীবনের অনুজ্জ্বল অঞ্চল’ বইয়ের চাহিদা ভালোর দিকে। 

বইমেলা কেন হুমায়ূনকেন্দ্রিক তার উত্তরে সবার যুক্তি হলো, নতুন যারা লিখছেন, তারা প্রায় সবাই হুমায়ূন আহমেদের মতো করেই লিখছেন। তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় সাদাত হোসাইনের লেখালেখি নিয়েও এই অভিযোগ জারি আছে। ফলে পাঠকরা মনে করছেন নতুন কিছু যদি না মেলে, তাহলে হুমায়ূন আহমেদই ভালো। 

অন্যদিকে হুমায়ূনের সমসাময়িক যারা ছিলেন- ইমদাদুল হক মিলন, মইনুল আহসান, সাবের, আনিসুল হক, সুমন্ত আসলাম প্রমুখ লেখক তাদের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পারেননি। পাশাপাশি তারা নতুন-পুরনো সব পাঠকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ততটা সক্ষমতার পরিচয় দেননি। ফলে এখনো বাংলা একাডেমির গ্রন্থমেলা হুমায়ূনময়। জীবিত হুমায়ূনের চেয়ে মৃত হুমায়ূন যেন আরও শক্তিশালীরূপে আবির্ভূত হচ্ছেন প্রয়াণ-পরবর্তী এ বছরের গ্রন্থমেলায়। 

এখনো হুমায়ূন আহমেদ

এখনো হুমায়ূন আহমেদ

অন্যপ্রকাশ থেকে তথ্য কেন্দ্রের সামনে কথা হয় বই হাতে ছুটে চলা একজনের সঙ্গে। মেলায় কিছুটা বিড়ম্বনার কথা জানিয়ে তিনি জানান, ‘মেলার বিশালত্বের কারণে নির্দিষ্ট স্টলগুলো খুঁজে পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে নির্দেশনা দেয়া থাকলে এমনটি হতো না। দেখা গেছে, এতে অনেক সময় নষ্ট হচ্ছে। তাছাড়া ফিরে যাওয়ারও একটা তাড়া আছে। তার হাতে দীপু মাহমুদের লেখা ‘সমুদ্রে ভয়ঙ্কর’ ও এসএম মহিউদ্দিনের হরর সিরিজ-১ নিষিদ্ধ মধ্যরাত ও প্রেতের প্রতিহিংসা।

জানা যায়, এবারের বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমির সামনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গায় একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন হয়েছে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে৬৯৪টি ইউনিট দেয়া হয়েছে। মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

 




সর্বশেষ খবর
শিমুলিয়ায়-কাঠালবাড়ি নৌরুটে ঢাকামুখী হাজারো যাত্রীর ঢল
সোশ্যাল মিডিয়া বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের!
করোনায় বিশ্বে মৃত্যু ৩ লাখ ৫৭ হাজার
রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা ইউনিটে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু
করোনার মধ্যে বিশ্বকাপ আয়োজনের পথেই এগুচ্ছে আইসিসি!
কোহলিকে আনুশকার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পরামর্শ বিজেপি নেতার
বাড়ছেনা ছুটি ,তবে বন্ধ থাকবে গণপরিবহণ
সর্বাধিক পঠিত
করোনা সংকট: ১৫০টি অসহায় পরিবারের পাশে ওলসা
না ফেরার দেশে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর স্ত্রী
ঈদের নামাজ বাড়িতে পড়ার ঘোষণা দিলো সৌদি
চলতি মাসেই এসএসসির ফলপ্রকাশ, ঘোষণা হবে এইচএসসি পরীক্ষা সময়সূচি
সাত মাস আগে তৃতীয় বিয়ে করেছেন নোবেল!
আগামী ৩০ মে খুলছে বাণিজ্যিক বিতান ও মার্কেট
সারা দেশে ৩৬৩৩ জনের জামিন
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-৯৬৬৬৬৮৫, ৯৬৭৫৮৮৫, ৯৬৬৪৮৮২-৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৯৬১১৬০৪, হটলাইন : +৮৮০-১৯২৬৬৬৭০০২-৩, ই-মেইল : [email protected], [email protected]