English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০ ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্ট ২০২০
 / লাইফস্টাইল / পুষ্টিকর খাবারেই এ্যান্টিবডি হয় না
ইন্টারভিউ
পুষ্টিকর খাবারেই এ্যান্টিবডি হয় না
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০, ৭:০০ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পুষ্টিকর খাবারেই এ্যান্টিবডি হয় না

পুষ্টিকর খাবারেই এ্যান্টিবডি হয় না

কোভিড ১৯ প্রতিরোধে মানুষের জীবনচক্র এবং স্বাস্থ্যের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন দেশের প্রখ্যাত ডায়েট এন্ড নিউট্রেশন কনসালটেন্ট ও ইজি ডায়েট বিডি লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এন্ড  কনসালটেন্ট,  আয়শা সিদ্দিকা। স্বাক্ষাতকার নিয়েছেন অামাদের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার বারী পিন্টু- 

> মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর উপায় কি? 
আয়েশা সিদ্দিকা- এটা সংক্ষেপে বলার কোন উপায় নেই। সারা বিশ্বে, পরিবার বা আমাদের সমাজে বিভিন্ন বয়সের মানুষ আছে। তাদের শরীরের স্বক্ষমতা ভিন্ন ভিন্ন ধরনের। সে অনুযায়ী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরী করতে হবে। আমাদের শারীরিক কর্ম বা ব্যয়াম না থাকা এবং বাচ্চারা কম্পিউটার ও মোবাইল গেম বা বিভিন্ন ডিভাইস নিয়ে বসে থাকার কারনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কনে যাচ্ছে। বৃদ্ধ, তরুন, টিনএজ সব বয়সের মানুষের শারীরিক একটিভিটি থাকতে হবে। এ লকডাউনে পরিবারের কাজগুলো ভাগ করে নিলেও সারাদিনে ত্রিশ মিনিট একটিভ থাকা যায়। 

> কখন বুঝবো এখন বাড়াতে হবে? 
আয়েশা সিদ্দিকা- 
৫০ বছর বয়সের মানুষ যদি মনে করে এখন আমার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবো। এখন তার যদি আগ থেকে না থাকে তাহলে তার জন্য কঠিন হবে। তখন চিন্তা করতে হবে তার অন্য কোন ক্ষেত্রে ঘাটতি আছে কি না বা কোথায় সংকট  আছে। ডায়াবেটিক, লিভার, কিডনি সমস্যা অথবা ক্যান্সারের মতো কোন রোগ আছে কি না? যেগুলো সয়ংক্রিয়ভাবেই আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ড্যামেজ করে দেয়। একজন ডায়াবেটিকস রোগি কখনো খাদ্য অভ্যাসের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে পারবে না। সুগার কন্ট্রোল এবং হাটাঁর মাধামে তাকে তা কন্ট্রোলে আনতে হবে। যাদের ডায়াবেটিক, লিভারের মতো রোগে ভুগছে তাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা দূর্বল হওয়ার কারনেই তারা এগুলোতে ভুগছে। 

> একটি উদাহরণ যদি দিতেন, যেমন গর্ভবতী মহিলা? 
তিনি যদি এখন সঠিক উপায়ে চলেন তাহলে তার বাচ্চার জন্য সুফল বয়ে আনবে। গর্ভবতী মা এই সময় হরমোন পরিবর্তন বা নানাবিধ কারনে দূর্বল থাকে। তাদের এসময় নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস তাকে আক্রমণ করতে পারে। আর টিনএজ যারা এই সময়ে তাদের গ্রোথ হরমোন খুবই একটিভ থাকে। ঠিক এই সময়ে তারা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে নিতে হবে। তাদের ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ডি যুক্ত খাবার তাদের খাদ্য তালিকায় যোগ করতে হবে। লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে তারা পরিপূর্ণতা আনতে হবে। 

> তাহলে কি খেতে হবে বা পুষ্টিকর বলতে কি বোঝায়? 
পুষ্টিকর বলতে অনেকেই শুধু ভিটামিন সি কে বোঝায় আসলে কিন্তু তা নয়। প্রধানত ভালো মানের প্রোটিন এন্টিবডি তৈরী করে। 
আসলে আমরা এখানেই ভুল করি। পুষ্টিকর বলতে আমরা ফল বুঝি। কিন্তু ফল হলো একটা ভাগ। যেমন আপনি সকালে নাস্তা খেলেন ১১ টায়। এই সময়ের মধ্যে আপনার দুটো মিল হওয়ার কথা। খাবারটাকে ঠিক সময়ে খেতে হবে, বয়স ও ওজন অনুযায়ী খাবার মেপে খেতে হবে। ঠিকমতো পানি খেতে হবে যেনো শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় অংশ,  পদার্থ বের হয়ে যেতে পারে।  

> মনের পুষ্টির কোন বিষয় আছে কি না?  
আমরা যে মোবাইল চালাই, ফেইসবুকে দু এক ঘন্টা ব্যায় করি। টিভি দেখি ভালো সংবাদে খুশি হই। খারাপ খবরে বিষন্ন হই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও দেহের স্বক্ষমতা আপ ডাউন করে। এ সংক্রান্ত একটি আলাদা হরমোনও আমাদের মধ্যে কাজ করছে।  আমার মূল কথাই হচ্ছে শুধু খাবারের মাধ্যমে পুষ্ট হওয়া বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো যাবে না। নেগেটিভ খবরগুলো সাধ্যমতো এড়িয়ে যেতো হবে। এটিই আমি বলতে চেয়েছি। 

> পুষ্টির সাথে কি ঘুমের কোন সম্পর্ক আছে? 
লকডাউনে ঘুম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মানুষ চিন্তায় এখন ঘুমাতে পারছে না। এটি খুব ক্ষতিকর। ৮ ঘন্টা ঘুমের ব্যবস্থা করতে হবে। ঘুম না হলে আপনার অটোমেটিকলি অর্গানগুলো লিকড হয়ে যাবে। কিডনি, লিভার এগুলো ঘুমে ভালো কাজ করে।  দেহের স্বক্ষমতা নষ্ট করে দেবে। 

> দিনের বেলায় ঘুমের প্রয়োজনীয়তা আছে? 
রাতে ঘুম হলে দিনে আর লাগে না। যদি রাতে ঘুম কম হয় তবে দিনের বেলায় ৩০/৪৫ মিনিট ঘুমিয়ে নিতে হবে। যারা বাহিরে কাজ করেন এবং গৃহিণী তারা দুপুরের খাবারের এক দুই ঘন্টা পরে সংক্ষিপ্ত একটা সময় নিতে হবে। যারা কর্পোরেট কাজ করেন তাদের একটু ব্রেক নিতে বলা হয়। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এখন এটি অ্যাপ্লাই হচ্ছে। এটি আপলেভেলে বলা হচ্ছে এবং অলরেডি ভিয়েতনামে করা হচ্ছে। দুপুরের ঘুমটা দুই তিন ঘন্টা হবে না। অনেকেই লম্বা সময় ঘুমায় তা হবে না। আবার গর্ভবতী মাকে ঘন্টা পরপর পনের মিনিটের বিশ্রাম নিতে হবে। বাচ্চাকে দুধ খাওয়ানো মাকেও দুধ খাওয়ানোর পর বিশ্রাম নিতে হবে। এসবের কারনেও আমাদের ব্রেকডাউন হচ্ছে। সবার আগে আমাদের মানষিক স্বাস্থ্য ঠিক করতে হবে। শরীরে পুষ্টির ঘাটতি এর অন্যতম কারণ। 

> এক্ষেত্রে পরিবারের ভূমিকা কেমন হওয়া উচিত? 
নেগেটিভ খবর সাধ্যমতো নিতে হবে। প্রত্যেকেই জানে পরিবারের কে কতটা সহ্য করার ক্ষমতা রাখে। এজন্য পরিবারে স্বামী স্ত্রী বা অন্যরা সহনশীল ভূমিকা রাখতে হবে। এককথায় আমাদের সহ্য ক্ষমতা অনুযায়ী প্রত্যেকেই সহনশীল আচরণ করতে হবে। 

> প্রফুল্লতা বা আনন্দে থাকাটাও সুষ্ঠুতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ? 
জি, জি। আমি যদি আমার কথা বলি তাহলে আমি প্রার্থনায় আনন্দ পাই। আমার মনে হয় আমি স্রষ্ট্রার খুব কাছে আছি তিনি আমার সব কথা শুনছেন। 
আমি কিছু একটা পাবো। কেউ গান শুনে হারায়, কেউ কবিতা গল্পে, কেউ আড্ডা দিতে পছন্দ করি। আবার এখন কেউ চাইলে ভিডিও বার্তা দিতে পারে। এছাড়া পরিবারের সাথে আমরা যোগাযোগ রাখি। কিন্তু এক সাথে বসে খাওয়া হয় না। সংযোগ কম আমাদের। বাবা মায়ের বাসাতেও যাওয়া হয় না। এক কথায় মা বাবার সাথে সংযোগ বাড়াতে হবে। খাবার নিয়ে যাবো। এক সাথে বসে পুরনো স্মৃতি মন্তন করবো তখন খুব আনন্দ লাগবে। আপনি দেখবেন ফেইসবুকে আপনার খবর নেয়া, দোয়া করা সবই করবে কিন্তু তিনদিন ম্যাসেঞ্জার বন্ধ করে দেন তখন কেউ খবরও নিবে না। এটা এক ধরনের রোগ। 
লকডাউনে মনের খোরাক মেটাতে ভিডিওতে কথা বা গ্রুপ চ্যাটিংয়ে থাকবো। এটা অনেক মানষিক স্বস্তি এনে দেবে। নিজের প্রফুল্লতা আসবে।  মানুষ মারা যাবে এ সব সংবাদে যেনো দূর্বলতা না আসে। প্রয়োজনে নেগেটিভ খবর এড়িয়ে যেতে হবে। এছাড়া কোভিড ১৯ রিকভারির হারটাই বেশী। আমাদের খাদ্য অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে গেছে। মানুষ এখন বুঝতে পারে যে ভিটামিম সি, ডি নিতে হবে, ঘুম যেতে হবে, শারীরিক একটিভিটি বাড়াতে হবে। এভাবে কোভিড ১৯ আক্রান্তের হারটা কমে যাবে। 

> এই সময়ে শিশুদের কিভাবে রাখবো, তাদের সুরক্ষা?  
আমাদের বাচ্চাদের জন্য আমরা বুয়া আয়া বা মাসি রাখতে চাই। আবার অনেকে আছে এক হাতে হ্যান্ডেল করে। নতুন বাচ্চাদের জন্য মা এবং বাচ্চাকে আলাদা রুমে রাখতে হবে। বাসার সবাইকে বাহির থেকে আসার পর কেয়ারফুল হতে হবে। এটাচ বাথ আছে এমন কক্ষে রাখতে হবে। অন্যরা বাহির থেকে এসে বাচ্চাকে আদর, বারবার টাচ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সবার কোলে কোলে ঘুরানো এটা বন্ধ করে দিতে হবে। আর ব্রেস্ট ফিডিং বাচ্চার রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর প্রধান খাবার। দুই বছর পর্যন্ত দুধ খাওয়ানো যাবে। আর চিনির ব্যবহার কমিয়ে দিতে হবে। চিনি ডিপ্রেশন বাড়ায়, চিনি বডিকে সংকুচিত করে। চিনি আমাদের বডিতে ক্যান্সার সেল বর্ধিত করতে শক্তি যোগায়। যত সাদা চিনি ততই আমাদের ব্রেন বাধাগ্রস্ত ব্রেন কাজ করে না। বসে বসে চানাচুর খাওয়া, ভাজা পোড়া এগুলো সবই কার্বোহাইড্রেট। মানষিক এবং শারীরিক দুটির জন্যই খারাপ। যত পারা যায় বাইরের খাবার গুলো বর্জন করতে হবে। ফ্রেশ খাবার গ্রহণ করতে হবে। 

> কোন খাবার গুলোর দিকে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে? 
গ্রীষ্মকালীন যেমন আম, কাঠাঁল, জাম, লিচু প্রতিদিন খেতে হবে। ভাতের পরিবর্তে একটা আম আপনাকে আরো বেশি এনার্জি দেবে। এগুলো মাইক্রো মিনারেল। যে কোন বডির জন্য মাইক্রো মিনারেল অধিক উপকারী। আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি, পটাশিয়াম এগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। 
বাচ্চাদের খাবারে মৌসুমি ফলগুলো রাখবেন। বিশেষ করে প্রোটিন। সস্তা প্রোটিনের মধ্যে ডিম, ডাল বাদাম যেনো বাচ্চাদের খাবারে থাকে। সামগ্রিকভাবে সবার খাবারে এগুলো সহজেই কালেক্ট করা যায়। মাছ মুরগী থেকেও আমি এগুলোকে সহজলভ্য হিসেবে গুরুত্ব দেবো। 

ধন্যবাদ 
আয়েশা সিদ্দিকা
জাপান বাংলাদেশ ফ্রেনডশীপ হাসপাতাল, ঢাকা।




সর্বশেষ খবর
বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২ কোটি ৮ লাখেরও বেশি
তীব্র হচ্ছে অ্যামাজনের দাবানল, সতর্কতা
ফের মা হচ্ছেন কারিনা!
কুড়িগ্রামে বাসচাপায় প্রাণ গেল প্রাইভেটকারের ৪ যাত্রীর
বিশ্বব্যাপী ১৬৫টি করোনার টিকার উন্নয়ন চলছে: হু
৭০ লাখ করোনার ভুয়া তথ্য মুছে ফেলেছে ফেসবুক
ডা. সাবরিনাসহ ৮ জনের চার্জ শুনানি আজ
সর্বাধিক পঠিত
অভিজ্ঞ নেতাদের চেয়েও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত মায়ের মাথা থেকেই আসত
সিনহা হত্যা: জামিন মিললো সিফাতের
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত হবেন আলাউদ্দিন আলী
অর্থ আত্মসাত মামলা: ৭ দিনের রিমান্ডে সাহেদ
সাবমেরিন ক্যাবলে জটিলতায় সারাদেশের ইন্টারনেটে ধীরগতি
বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ২ কোটি ছাড়াল
নাইজারে বন্দুকধারীর গুলিতে ছয় ফরাসি সহায়তাকর্মীসহ নিহত ৮
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]