English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০ ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭
ই-পেপার মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২০
 / ভ্রমণ / স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা
স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা
ভ্রমণ ডেস্ক :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২০, ১:২১ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

এ কে এম খাদেমুল বাসার 
যেদিন এমবিএতে পড়াশোনার জন্য বাসা থেকে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলাম সেদিনই বুঝেছি আমার জন্য নতুন কিছু অপেক্ষা করছে। আর অপেক্ষা কেনইবা করবেনা ? ভারতের শিমলায় এমবিএ ভর্তির আগে  বিদেশ ভ্রমণের আমার  কোন অভিজ্ঞতাই ছিলনা। তবে ,সেখানে যাবার আগেই ইন্টারনেট থেকে অনেক তথ্য জেনেছি। শিমলা ভারতের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন কেন্দ্রের একটি হওয়াতে আমিও অনেক বেশি এক্সাইটেড ছিলাম।

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

যেভাবে পৌঁছালাম : 
দুই বছর শিমলায় থাকতে হবে , বুঝতেই পারছেন লাগেজ ভর্তি করে অনেক জিনিসপত্র নিতে হয়েছে। তাই ফ্লাইটের পরিবর্তে বাসকেই প্রাধান্য দিয়েছিলাম। বাসে করেই বেনাপোল বর্ডার দিয়ে কোলকাতা গিয়েছিলাম। সেখান থেকে পরে ট্রেনে করে অমৃতসার, অমৃতসার থেকে বাসে করে সরাসরি শিমলা। বাস যখন চন্ডিগড় পার হয়ে শিমলার পথে এগোচ্ছিলো তখন থেকে রোমাঞ্চের শুরু। চারদিকে সুবিশাল পাহাড়, পাহাড়ের কোলঘেঁষে আকাঁবাকাঁ রাস্তা। কি যে ভালো লেগেছিলো ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। এতো সুন্দর অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে কখন যে গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম কিছুই বুঝতে পারলাম না। যেহেতু ওখানকার পরিবেশে আমি একেবারে নতুন , তাই কিছৃু দিক নির্দেশনার জন্য  গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ভার্সিটির এক ছোট ভাইকে বলে রেখেছিলাম।তার নির্দেশনা অনুযায়ী সোজা চলে যাই ভার্সিটিতে। 

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

এরপর ধীরে ধীরে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার শুরু।আসলে শিমলা এতোই সুন্দর যে, আপনি ৪/৫ দিনের জন্য গেলে অনেক কিছুই মিস হয়ে যেতে পারে।কারণ , এখানে  প্রতিটা দিনই  এক এক রকম  অনুভূতি সম্পন্ন । আপনি যদি সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রচন্ড  রোদ দেখেন, দুপুর গড়াতেই দেখবেন ঝুম বৃষ্টি।মুহূর্তের মধ্যেই প্রকৃতি তার রূপ বদলের খেলায় মেতে উঠে। এ রূপ বদলের খেলা এতোই বিমোহিত করে যে মুহূর্তেই আপনার অবুঝমনও কবি হতে চাইবে।

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

পৌঁছানোর পর যথারীতি ক্লাসে মনোযোগ দেই। কিন্তু আমার তো পাগল মন। ইন্টারনেটে শিমলার এতো এতো ভ্রমণকাহিনী পড়েছি। অথচ আমি দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাবার পরও কোথাও যেতে পারিনি বলে আক্ষেপ বাড়তে থাকে।এই সময়ের মধ্যে ভার্সিটিতে আমার বিভিন্ন দেশের  অনেক বন্ধু হয়ে যায়। এতোসব বন্ধুদের মধ্যে আমরা বাংলাদেশী ছিলাম মাত্র ৫ জন। পরে আমরা পঞ্চপান্ডব  পুরো ভার্সিটির মধ্যে আলাদা একটা জায়গা দখল করে ফেলি।
 
স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

যেহেতু বিশাল বিশাল পাহাড়। আর পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে  প্রতিদিন দীর্ঘ সময় হেঁটে আসা যা্ওয়া  করে ক্লাস করা আমাদের জন্য অনেক কঠিনতর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।তাই বন্ধুরা মিলে দুইটা মোটরসাইকেল কিনে ফেলি। এরপর থেকেই ভ্রমণের শুরু।

তারা মন্দির, শিমলা

তারা মন্দির, শিমলা

সপ্তাহে যে দুদিন ক্লাস ছুটি থাকতো সে দুদিন আমরা হারিয়ে যেতাম শিমলার অপার সৌন্দর্যে। কখনও শিমলার ঐতিহ্যবাহী মল রোডে, কখনও ভারতরে বিখ্যাত সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টসের’ শ্যুটিং স্পট খ্যাত ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ এডভান্স স্টাডিসে, কখনও আপেলের জন্য শিমলার বিখ্যাত কুফরি ভ্যালী, কখনো বা  তারা মন্দির, জাখু মন্দির, জুঙ্গা সহ আরো অনেক নাম না জানা জায়গায়।

 চার্চ,শিমলা

চার্চ,শিমলা

সময়ের সাথে সাথে শিমলার প্রকৃতির সাথে আমাদের সখ্যতা আরো গভীর হতে থাকে। এই প্রকৃতি আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। পাহাড়ি মানুষদের কষ্টকর ও নিয়মমাফিক জীবনযাত্রা দেখে উদ্বুদ্ধ হওয়া শিখিয়েছে।এই পাহাড়ি মানুষগুলো খুব ভোরে দিনের আলো ফোটার শুরু থেকেই নিজেদের কাজে নেমে পড়ে আবার দিনের আলোর শেষেই তারা তাদের নিজেদের নীড়ে ফিরে যায়। অনেকটা পাখিদের মতোই তাদের গোছানো জীবন। 

তবে মজার বিষয় হলো, আমাদের পঞ্চপান্ডবের মাথায় যখন যে ভূত চেপে  বসে আমরা তখন  তাই করি। আমাদের কাছে আছে সুনশান গভীর রাতে গভীর জঙ্গলে অ্যাডভেঞ্চারের জন্য হারিয়ে যাবার গল্পও। এমনও কত জোসনা রাতে পাহাড়ের নির্জন পিচঢালা পথে হেঁটেছি  আমরা  বলাই বাহুল্য। 

২০১৭ সাল থেকে ২০১৯ এই দুই বছরের সেশন  কিভাবে আর কতো দ্রুত  আমাদের জীবন থেকে চলে গিয়েছে তা আমরা  অনুধাবনই করতে পারি নি। 
 সময়ের স্রোতে ভেসে যেদিন কনভকেশনের গাউনটা পড়েছিলাম সেদিনই বুঝেছি সময় ফুরিয়ে এসেছে এবার যাবার পালা। নিজ দেশে ফিরেছি এক বছর পেরিয়ে গেলো তবু অক্ষত রয়েছে পাহাড়ের রানীর সাথে মিশে থাকা প্রতিটা মুহূর্ত ।

মল,শিমলা

মল,শিমলা

শিমলা ভ্রমনের উপযোগী সময় ও যেখানে থাকবেন: 
পর্যটকরা মার্চ-এপ্রিল আর নভেম্বর-ডিসেম্বরে সবচেয়ে বেশি শিমলায় গিয়ে থাকে। কারণ মার্চ-এপ্রিলে অন্যান্য জায়গার চেয়ে শিমলার আবহাওয়া অনেক ঠান্ডা থাকে। আর নভেম্বর-ডিসেম্বরে যায় তুষারপাত দেখার জন্য। শিমলায় এতো এতো ট্যুরিস্ট স্পট  রয়েছে ,যে কারণে একেই হিমাচল প্রদেশের রাজধানী বলা হয়ে থাকে। 

লোয়ার বাজার,শিমলা মল

লোয়ার বাজার,শিমলা মল

আর যারা ট্যুরিস্ট তারা পিক সিজনে আসলে হোটেল খরচ একটু বেশি দিতে হবে। তবে বাকিটা সময় আপনি আপনার সাধ্যের মধ্যেই হোটেলে থাকতে পারবেন। এখানে ফাইভ স্টার থেকে শুরু করে একদম রিজনেবল প্রাইসের হোটেলও রয়েছে। যেহেতু শিমলা হিমাচল প্রদেশের রাজধানী। তাই বেশিরভাগ ট্যুরিস্টরাই শিমলা মল রোডের আশেপাশেই থাকতে চায়। কারণ মল রোডের আশপাশ থেকেই যে বাস টার্মিনাল, টয় ট্রেন স্টেশন, ট্যুরিস্ট বাস বুকিং দেয়া সবই সহজসাধ্য হয়। 

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

স্মৃতিতে বিস্ময় হয়ে থাকুক শিমলা

অনেক স্মৃতি জমে গিয়েছে এই শহরকে ঘিরে। এই শহরের প্রতিটা পরতে পরতে আমাদের পঞ্চপান্ডবের কতো কতো স্মৃতি। এতোগুলো দিন পেরিয়ে যাবার পরও যখন এই শহর হৃদয়ে অক্ষত রয়েছে তখন স্মৃতিতে বিস্ময় হয়েই থাকুক প্রিয় শিমলা।




সর্বশেষ খবর
দেশের ১২ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস
বন্ধ হচ্ছে করোনা লাইভ বুলেটিন
অবশেষে লেবানন সরকারের পদত্যাগ
পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল
ট্রাম্পের ব্রিফিংকালে হোয়াইট হাউসের বাইরে গোলাগুলি
অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই : কাদের
দেশে করোনায় নতুন মৃত্যু ৩৯, আক্রান্ত ২৯০৭
সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে সোনার দাম
ফোনালাপে সিনহা হত্যা ঘটনা সাজানোর আলামত
অভিজ্ঞ নেতাদের চেয়েও উপযুক্ত সিদ্ধান্ত মায়ের মাথা থেকেই আসত
শাবি শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা
রোনালদোর জোড়া গোলেও শেষ আটে যেতে পারেনি জুভেন্টাস
'গুদামে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র মজুদ ছিল- এ খবর সঠিক নয়'
রিয়ালকে হারিয়ে শেষ আটে ম্যান সিটি
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]