English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০ ৮ কার্তিক ১৪২৭
ই-পেপার শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০
 / ভ্রমণ / পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার
পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার
প্রকাশ: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০, ৯:১৯ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার

পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার

তার মতো তিনিই। কোটি প্রাণের প্রতিধ্বনি বাজে একটি প্রাণে। বলা যায়, বৃত্তের বাইরে তিনি একজন। শান্তির ললিত বাণী নিয়ে উত্তর থেকে দক্ষিণে আর পূর্ব থেকে পশ্চিমে- কোথায় তিনি নেই। লাল-সবুজের পতাকা নিয়ে পৃথিবী মাড়িয়ে এখনো তিনি চলছেন দুর্দান্ত এক যাত্রায়। বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে একজন স্বতন্ত্র নারীর পৃথিবী দেখার এমন নেশা মানুষের ভাবনা ছেদ করে দেয়। দিনে রাতে পৃথিবী নিয়ে তাবৎ জ্ঞানের এক শক্তিমান লাইব্রেরি হয়ে উঠেছেন তিনি। নিমেষেই বলে দেন পৃথিবীর আদ্যপান্ত। এ যেন  আরেক পৃথিবী। তার নাম নাজমুন নাহার। আমাদের নাজমুন নাহার। বাংলাদেশের গৌরোজ্জ্বল আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের রচয়িতা। ১৪০টি দেশ ভ্রমণ করে ইতিহাসের অবিস্মরণীয় এক মাইলফলক এঁকেছেন তিনি। ওইসব দেশেই পতপত করে উড়িয়েছেন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা। তার বিশ্ব জয়ের এই বর্ণিল ভ্রমণ নিয়ে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক বাংলার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার বারী পিন্টু- 
কেমন আছেন? 
ভালো আছি।
‘দেখব এবার জগৎটাকে’ কথাটির পূর্ণরূপ দিয়েছেন আপনি। শুনতে কেমন অনুভূতি হয়? 
আমার স্বপ্নের সেরাপ্রাপ্তি, পৃথিবীতে দেখার অনুভূতি সত্যি অসাধারণ। আমাদের জীবনটা একটা জার্নি। আমরা জার্নি করার জন্য পৃথিবীতে এসেছি। আর আমি পৃথিবীকে দেখার জন্য জার্নি করছি- এটা আমার চরম প্রাপ্তি।
কোথা থেকে শুরু করেছেন আর কত দেশ ঘুরেছেন?
২০০০ সালে ইন্ডিয়া থেকে শুরু হয়েছিল। এখন পর্যন্ত ঘুরেছি ১৪০ দেশ।

শিক্ষা জীবন কোথায় কেটেছে? 
উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করি সুইডেনের লুন্ড ইউনিভার্সিটি থেকে এবং একজন গবেষক হিসেবে বর্তমানে কাজ করছি। বাংলাদেশের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন। 
এখন কোথায় আছেন আর কী করছেন? 
বর্তমানে সুইডেনে আছি। পরবর্তী অভিযাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছি।  
কেন দুর্দান্ত বিশ্ব ভ্রমণের এমন আগ্রহ?
অদেখাকে দেখা আর অজানাকে জানার মধ্যে শিখতে পারার আনন্দ অনেক। বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা পুরো পৃথিবীতে বহন করার স্বপ্নতাড়না থেকে দুর্দান্ত বিশ্ব ভ্রমণের আগ্রহ। এছাড়া মানুষের স্বপ্নজয়ের শক্তির বহিঃপ্রকাশ। স্বপ্নের কোনো জেন্ডার-ডিফারেন্স নেই। নারী-পুরুষ যে কোনো কেউ স্বপ্ন দেখতে পারেন। মানুষ যে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে একা, সেটি আমার এই দুর্দান্ত ভ্রমণের মাধ্যমে প্রমাণ করেছি। 
পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার

পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার

দেশের পতাকা বহন করে আপনি কেমন বার্তা দিতে চান?
আমি লাল-সবুজের পতাকাতলে জন্ম নিলেও পুরো পৃথিবী একটি পরিবারের মতো। আমরা পুরো পৃথিবীর মানব জাতি একই আকাশের নিচে বসবাস করছি। আমাদের ধর্ম-বর্ণ ভিন্ন হলেও আমরা একই মানুষ। আমাদের সবাইকে পৃথিবীর সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। ‘এক পৃথিবী, এক পরিবার’- এই স্লোগানের সঙ্গে বাংলাদেশের পতাকাকে আমি বহন করছি।  বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীতে অনেকেই চেনে না। আমি পৃথিবীকে বলতে চাই, আমার বিশ্ব ভ্রমণের মাধ্যমে আমাদের ছোট্ট-সুন্দর দেশটির কথা, আমাদের বাঙালি সংস্কৃতি কৃষ্টি ও সুন্দর প্রকৃতির কথা পৌঁছে দিতে চাই পৃথিবীর প্রতিটি দেশে। লাল-সবুজের পতাকা বহনের মাধ্যমে বাংলাদেশর কথা পৌঁছে দিতে চাই পৃথিবীজুড়ে। যখন আমি বিশ্ব ভ্রমণের রেকর্ড সৃষ্টি করব, তখন বাংলাদেশর নাম উচ্চারিত হবে। 
দেশে দেশে মুঠো মুঠো লাল-সবুজ ছড়িয়ে এসে সার্থকতা কোথায় খোঁজেন?
১৪০ দেশে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে পা রেখেছি। বাংলাদেশের পতাকার মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের দর্শনীয় স্থানগুলোকে তুলে ধরেছি! বাংলাদেশের গৌরবের কথা ছড়িয়ে দিয়েছে পৃথিবীর পথে পথে। এটা আমার কাছে অনেক বড় আনন্দের। এটা আমার অর্জন, ১৭ কোটি মানুষের পতাকাকে আমি পৌঁছে দিতে চলছি পৃথিবীর প্রতিটি দেশে। তা এখন পর্যন্ত বিরল রেকর্ড। পৃথিবীতে কোনো নারী এখন পর্যন্ত তা করতে পারেনি, নিজ দেশের পতাকাকে পৌঁছে দেওয়ার যা আমি করেছি। 
স্বতন্ত্র নারী হয়ে এত দেশ ভ্রমণ করেছেন। প্রাণশক্তিটা কোথায় পান?
আমার ভাবনার মধ্যেই সব শক্তি নিহিত। এ পৃথিবীকে দেখার জন্য আমার স্বপ্নই ছিল একমাত্র সম্বল। তারপর ধীরে ধীরে আমি স্বপ্ন আর ভাবনার শক্তিকে নিয়ে বাঁধার দেওয়ালগুলোকে ভেঙ্গেছি এক এক করে। বড় করে ভাবতে শিখিয়েছি নিজের স্বপ্নকে। আমি নিজেকে এখন পৃথিবীর মতো করে ভাবতে পারি। এই ভাবনাগুলো আমাকে শ্রেষ্ঠ সুখ দেয়। পারবোনা এই শব্দটিকে আমি কবর দিয়েছি। সব হবে, সব পারবো এমন পজেটিভ চিন্তা আমাকে ধাবিত করেছে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর পথে পথে। কিছুটা পথ পার হওয়ার পর আমি দেখলাম, ‘কোনো ভাবনা গভীরভাবে ভালোবাসলে তা ফুল হয়ে ফুটে।’ আমি ধীরে ধীরে আমার ভাবনার গভীরে হারাতে থাকলাম, আমি সুন্দর করে ভাবতে ভাবতে অনেক ট্রেজার পেতে থাকলাম। আমি বুঝতে পেরেছি আমি এই পৃথিবীকে খুব গভীরভাবে ভালোবেসেছি। ' তারপর শুরু হলো আমার স্বপ্নের অভিযাত্রা। পৃথিবীর প্রতিটি দেশে আমি লাল সবুজের পতাকা নিয়ে বাংলাদেশের চিহ্ন এঁকে দিতে পারব। আমার ভেতর এই উন্মাদনা আমাকে তাড়িত করেছে ভীষণভাবে। সুন্দর সুন্দর ভাবনাগুলো আমাকে অনেক সুন্দর সুন্দর পথে নিয়ে গেছে। যখনই হেরেছি আবার তখনই উঠে দাঁড়িয়েছি।  আমার প্রতিদিনের উত্তেজনা এবং কৌতূহল বাড়তে থাকলো  নতুন পরিবেশে বসবাস করার জন্য। নিজের দেশের বাইরে প্রথম যাত্রার পর আমি দেখতে পেয়েছি আমার জীবনযাত্রাই একমাত্র জীবনযাপন নয়। বিভিন্ন সংস্কৃতি, মূল্যবোধ আর এই অপরূপ পৃথিবীতে কত কি অপূর্ব জিনিস রয়েছে তা আমি না দেখলে বুঝতে পারতাম না, জানতে পারতাম না! আমি ধীরে ধীরে পৃথিবী দেখতে দেখতে আমার মনের ভেতরে শক্তি সঞ্চয় করতে পেরেছি। 
অচেনা শহরে নিশ্চয় প্রাণ বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কাও থাকে। তবুও থামেননি কেন?
সময় ও জীবন থেমে থাকার নয়। তাই আমিও থামিনি। মৃত্যু যখন আসবে তখন যেকোনো স্থানে তা হবে। আমি কখনো চার দেয়ালের মধ্যে আবদ্ধ থেকে মরতে চাইনা। বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা হাতে পথে যেতে যেতে যদি কখনো আমার প্রস্থান হয় তখন অন্তত আমি প্রস্থানের সময় আমি ভাবব, চার দেয়ালের মাঝে খেতে হয় আমার প্রস্থান হয়নি আমি বীরের মতো লাল-সবুজের পতাকা হাতে প্রস্থান নিয়েছি। এখানে আমার শান্তি যে প্রাণ বিপন্ন রেখেও আমি পৃথিবীর পথে পথে পৃথিবীকে জয় করতে করতে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে পৌছে দিচ্ছি পৃথিবীর প্রতিটি দেশে। এখানে আমার দেশাত্মবোধ। এখানে আমার জাগরণের উচ্ছ্বাস। 
পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার

পৃথিবীর এক জ্বলন্ত ইতিহাস নাজমুন নাহার

এমন কোনো স্মৃতিতে এখনো কেঁপে ওঠেন? 
দুঃসাহসিক অভিযাত্রায় অভিজ্ঞতার ঝুলি কম নয়। মধ্যরাতে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে আটকা পড়েছি। সাহারা মরুভূমিতে মরুঝড়ের মধ্যে পড়েছি, রক্তাক্ত হয়েছি। পোকা মাকড়ের কামড় খেয়েছি। অন্ধকারে অচেনা শহরে, আফ্রিকার জংলী শহরে পথ হারিয়েছি। তিনমাস আফ্রিকাতে আলু খেয়ে ছিলাম। কখনো না খেয়ে থেকেছি। কখনো কাঠ, কখনো পাথরের ওপর ঘুমিয়েছি। কখনো আদিবাসীদের সঙ্গে মাটির ঘরে ঘুমিয়েছি। কখনো রাতের অন্ধকারে বর্ডার ক্রস করতে না পেরে অপরিচিত পরিবারের সঙ্গে থাকতে হয়েছে। ১৪ হাজার ২০০ ফুট উচ্চতায় পেরুর রেইনবো মাউনটেইনে অভিযাত্রায় আন্টিচুডের সমস্যার কারণে মৃত্যুর কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম। মৃত্যুকে জয় করে সেই পর্বতশৃঙ্গে উঠতে সক্ষম হয়েছি। সমুদ্রের তলদেশে স্কুবা ডাইভিং-এর সময় পাইপ লিক হয়ে লবণাক্ত পানি খেয়েও বেঁচে ফিরেছি। পশ্চিম আফ্রিকার গিনি কোনাক্রিতে ম্যানগ্রোভ জঙ্গলে ৩টার সময় আটকা পড়েছিলাম। ওই সময় ২৬ ঘণ্টা অনাহারে থেকেছি। আদিবাসীদের সঙ্গে কাটানো সেই লোমহর্ষক ঘটনা মনে পড়লে আজও শিহরে উঠি। কিরগিস্তানের আলা আরচা পর্বত আরোহন করে নামার সময় পড়ে গিয়ে ছোট্ট একটি বুনো গাছের সঙ্গে ঝুলে ছিলাম। পড়ে গেলে হয়তো সেদিনই মৃত্যু হতো। গাছে ঝুলে থাকা আমাকে আয়মেরিক ও জুলিয়ান নামক দুই অভিযাত্রী বাঁচিয়েছিলেন। কখনো ৪৮ ডিগ্রি তাপমাত্রায় পুড়েছি। পশ্চিম আফ্রিকার পথে পথে আমাকে অনেক কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু সবই মানসিক শক্তি দিয়ে মোকাবিলা করেছি। সিয়েরালিওন থেকে লাইবেরিয়া যাওয়ার পথে ১১টি ভয়ঙ্কর কূপ পার হতে হয়েছিল। শুধু তাই নয়, রাস্তা কোথায় ভয়ঙ্কর উঁচু, খাঁড়া, কোথাও পিচ্ছিল। কোথাও রাস্তায় পড়ে থাকা গাছের ডাল সরিয়ে চলতে হয়েছিল। বিশ্ব মানচিত্রের সবচেয়ে কঠিন পথ পাড়ি দিয়েছি মৌরিতানিয়ায়। সেখানে সাহারার তপ্ত মরুঝড়ে আক্রান্ত হয়ে ধারালো বালির আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছি। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট বেরিয়ার রিফ আর হোয়াইট হেভেন বিচে যাওয়ার জন্য সেইলিং বোটে ছিলাম। সানডে প্যাসেজ পার হওয়ার সময় উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে আমাদের সেইলিং বোট ভাসছিল। জীবনের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সমুদ্র যাত্রা ছিল সেটি। বোটটি সমান্তরালে ছিল না। বাতাসে পাল উড়ছে, বোটের একপাশ ছুঁয়ে আছে পানির সঙ্গে আরেক পাশ উঠে গেছে অনেক উপরে। সেপাশে আমরা যাত্রীরা লোহার রোড ধরে ছিলাম। বারবার টের পাচ্ছিলাম যদি কোনোভাবে হাতটা রড থেকে ছুঁটে যায় তো পানির মধ্যে পড়ে যাবো। এমন আরও অনেক অভিজ্ঞতায় ঠাঁসা আমার জীবন।
পথের বিস্মৃতি নিমেষেই ভুলে যান এমন কোনো দৃশ্য বলবেন কি?
পথের ক্লান্তি শেষে যখন দেশে ফিরে মাকে জড়িয়ে ধরি, তখন সব কষ্ট নিমেষেই ভুলে যাই। 
অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতির দেখা কি পেয়েছেন এবং কোথায়?
পুরো পৃথিবীটাই অনিন্দ্যসুন্দর। পৃথিবীর মধ্যেই অনেক সুন্দর প্রকৃতি রয়েছে। 
এত দেশ, এত মানুষ। কিন্তু আপনাকে আনমনা করে শুধু কারা?
পাহাড়ের উপর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অধিবাসীদের কঠিন জীবনযাত্রা দেখে আমি আমাদের জীবনের সাথে আনমনা হয়ে তুলনা করি আমরা কত ভালো আছি, তাদের বেঁচে থাকার কষ্ট আমাকে অনেক ভাবিয়ে তোলে। নিজেকে আমি শুদ্ধ করি, আমি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখি প্রতিদিন।
এখনো কোন স্মৃতি হাতড়ে বেড়ান?
আমি যখন চোখ বন্ধ করি তখন পুরো পৃথিবীর স্মৃতি আমার চোখের সামনে ভেসে আসে। পুরো পৃথিবীতে আমি এক মিনিটে ঘুরে আসতে পারি।
বিশ্বভুবন দেখার নেশা কি এখনো কাটেনি?
এই পুরো পৃথিবী দেখার নেশা আমার এখনো কাটেনি। পৃথিবীকে যত দেখি, তত আমার ভালো লাগে। পৃথিবীর সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক হয়ে গেছে, পৃথিবী কি আমি অনেক ভালোবাসি।
চমকানো কোনো ঘটনা বলবেন? 
অনেক চমকানো ঘটনা ঘটেছে। তার মধ্যে লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়া সমুদ্র সৈকতে যখন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করছিলাম তখন বাংলাদেশি এক ভাই আমাকে দেখে দৌড়ে এসেছিলেন। আমি খুব অবাক হয়ে দেখলাম তিনি পতাকার দিকে তাকিয়ে কাঁদতে থাকলেন এবং বললেন মুক্তিযুদ্ধের সময় তাদের পরিবারের অনেক লোকজন মারা গেছেন। আজকে এই দূর পরবাসে আপনি এসে এখানে পতাকা উত্তোলন করছেন দেখে আমার চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি। 
পরিবার বা সমাজের বাধা কীভাবে ভেঙে দিয়েছেন?
আমি খুব মুক্তমনা পরিবারে জন্ম নিয়েছি, সেটি আমার জীবনকে এগিয়ে নেয়ার জন্য একটা বড় সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। আমার বাবা ছিলেন আমার জীবনের একজন বড় উৎসাহ দাতা। আমার দাদা আরবের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছে হেঁটে, জাহাজে করে, ঘোড়ায় চড়ে।  তবে সমাজের অনেক বাঁধা ছিল। আমি আমার মনের সাহস, স্বপ্ন দিয়ে বাধাগুলোকে অতিক্রম করেছি। যার স্বপ্ন অনেক প্রখর তাকে কেউ বাঁধা দিয়ে রাখতে পারেনা, সে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছাবেই। আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁধা হচ্ছে মানসিক বাধা এ বাধা অতিক্রম করতে পারলেই মানুষ সব কিছু অর্জন করতে পারবে। 
আপনার প্রাপ্তি বা স্বীকৃতির কথা জানতে চাই।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পিস টর্চ বিয়ারা আওয়ার্ড। অনন্যা শীর্ষ দশ সম্মাননা, গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড, মিস আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড, জাম্বিয়া সরকারের গভর্নর হ্যারিয়েট কায়োনার কাছ থেকে ‘ফ্ল্যাগ গার্ল’ উপাধি, অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল সম্মাননা, জনটা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড, তিন বাংলা সম্মাননা, রেড ক্রিসেন্ট মোটিভেশনাল অ্যাওয়ার্ড, সফল নারী সম্মাননা, লক্ষ্মী তারুণ্য সম্মাননাসহ দেশে-বিদেশে মোট পঞ্চাশটির মতো সম্মাননা। এছাড়া, বিভিন্ন সময়ে শিরোনাম হয়েছি দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিখ্যাত গণমাধ্যমের। এগুলোও আমার কাছে এক একটি সম্মাননা।
আপনার স্বপ্নপূরণে সরকারের কি কিছু করার আছে? 
আমি এতদিন নিজের কষ্ট অর্জিত উপার্জন থেকে সব করেছি, ১৭ কোটি মানুষের পতাকা বহন করছি আমি সারা পৃথিবীতে। আমি অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছি একাই, আর অল্প পথ বাকি। আমার সে পথে যদি সরকার ভালোবেসে আমাকে এগিয়ে দেয়ার জন্য কিছু করতে চায়, সেটি অবশ্যই আমার জন্য সহায়ক হবে। 
দেশের পর্যটন উন্নত করতে আপনার পরামর্শ।
আমাদের বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদে ও ঐতিহ্যে ভরপুর একটি দেশ। বিদেশী পর্যটকদের কাছে আমাদের দেশকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য দর্শনীয় স্থানগুলোকে পরিচ্ছন্ন রাখা এবং নিরাপত্তা জোরদার করা, জনগণের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা যেন কোনোভাবেই পরিবেশকে নষ্ট না করে। শুধু তাই নয়, দেশের তরুণরা অনেক মেধাবী তাদেরকে নানাভাবে কাজে লাগিয়ে প্রতিটি জেলায় জেলায় বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান গড়ে তোলা।  
পৃথিবীর নানাপ্রান্তে ঘুরেছেন। সুন্দর মানুষের দেখা পেয়েছেন কি? 
পৃথিবীতে অনেক সুন্দর সুন্দর মানুষ দেখেছি। কেউ পাহাড়ের মত অপূর্ব সুন্দর কেউ সমুদ্রের মতো বিশাল হৃদয়ের অধিকারী। কিন্তু সেই দেখাটা শুধু ক্ষনিকের দেখা ছিল, আর কিছু নয়। সারা পৃথিবী ভ্রমণ করে তারা এক শহর থেকে আরেক শহরে এক দেশ থেকে আরেক দেশে যায়। তাদের ভালোবাসা হৃদয় সবকিছু থাকে শুধু পৃথিবী কে দেখার মাঝে। 
দেশে কবে ফিরবেন?
আগামী জানুয়ারিতেই আশা রাখি। 
ধন্যবাদ
আপনাকেও ধন্যবাদ। 

 




সর্বশেষ খবর
একাকিত্ব কাটাতে ৯৫ বছরে বিয়ে, কনের ৮০
বরখাস্ত ইউপি চেয়ারম্যান ইনামুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা
চালকদের ডোপ টেস্ট করাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
রাশিয়া, ইরানের ওপর ভর করে জিততে চান ট্রাম্প
পিছিয়ে গেল প্রেসিডেন্টস কাপের ফাইনাল
ল্যাপটপ থেকে ভিডিও কল করা যাবে হোয়াটসঅ্যাপে!
সোশ্যাল মিডিয়ায় সাম্প্রদায়িক উসকানি, কঙ্গনাকে থানায় তলব
সর্বাধিক পঠিত
ছেলে বিএনপি করে শুনে মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না: ফখরুল
মালাইকাকে বিয়ের ইচ্ছা নেই, কিন্তু চাপ দেওয়া হচ্ছে অর্জুনকে !
মাধ্যমিকের বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না,অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমেই মূল্যায়ন: শিক্ষামন্ত্রী
ভাতিজিকে কুপ্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় মুখে গামছা বেঁধে চাচার ধর্ষণ!
দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে প্রথম স্ত্রীকে সিগারেটের ছ্যাঁকা
এবার আলুর দাম বাড়িয়েছে সরকার
একাকিত্ব কাটাতে ৯৫ বছরে বিয়ে, কনের ৮০
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]