English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০ ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
ই-পেপার রোববার ২৯ নভেম্বর ২০২০
 / অর্থনীতি / খামারিদের কাছে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদ বাড়ছে
খামারিদের কাছে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদ বাড়ছে
আমিনুল ইসলাম :
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০, ১০:৫৩ এএম | অনলাইন সংস্করণ

খামারিদের কাছে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদ বাড়ছে

খামারিদের কাছে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদ বাড়ছে

বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পালন করা সহজ এবং মৃত্যুহার কম হওয়ায় খামারিদের কাছে চাহিদা বাড়ছে। তবে শুধু ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতই নয়, বাণিজ্যিক উৎপাদনের কারণে দেশে অন্যান্য প্রায় সব জাতের ছাগলেরই উৎপাদন বেড়েছে। 

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নূরে হাছনি দিশা জানান, সাস্প্রতিক বছরগুলোয় দেখা যাচ্ছে গবাদিপশু পালনের উৎসাহী হচ্ছেন দেশের অনেক উদ্যোক্তা। তাদের মধ্যে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চাহিদা অনেক। এক দশক আগেও দেশে দেড় কোটির মত ছাগল উৎপাদন হতো। এই মুহূর্তে দেশে প্রায় ৫০ হাজারের মতো ছাগলের খামার রয়েছে।

উল্লেখ্য, পৃথিবীতে এই মুহূর্তে প্রাকৃতিক এবং কৃত্রিম উপায়ে মডিফায়েড মিলে প্রায় ৩০০ মতো জাতের ছাগল আছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের স্থানীয় জাতের কালো ছাগল বা ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলকে অন্যতম সেরা জাতের ছাগল বলা হয়। 

গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ স্বীকৃতি এসেছে জাতিসঙ্ঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও'র মত সংস্থার  কাছ থেকে।  ২০০৭ সালে এফএও বিশ্বের ১০০টি জাতের ছাগলের ওপরে গবেষণা চালিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গলকে বিশ্বের অন্যতম সেরা জাত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল দেখতে কেমন, বৈশিষ্ট্য কী?

পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ রকমের ছাগলের জাত আছে, কিন্তু আকার, আয়তন এবং বৈশিষ্ট্যভেদে এরা একে অপরের থেকে আলাদা হয়। ২০১৮ সালে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জেনোম সিকোয়েন্সিং বা পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল।

সেই দলের সদস্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিম্যাল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক এমএএম ইয়াহিয়া খন্দকার বলেছেন, এই ছাগলের গায়ের রং মূলত কুচকুচে কালো। এটি আকারে বেঁটে কিন্তু শরীরের কাঠামো শক্তপোক্ত ও পেশীবহুল। এর গায়ের লোম খাটো এবং শিং ছোট হয়।

একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছাগল বা পাঠার ওজন হয় ২২ থেকে ৩০ কেজি, ছাগীর ওজন ২০ থেকে ২৫ কেজি হয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল ১৪ মাসে দুইবার বাচ্চা দেয়, প্রতি বারে অন্তত দুইটি, সর্বোচ্চ ৫টি পর্যন্ত বাচ্চা দিতে পারে একবারে। এই ছাগল দুধ কম দেয়। বাংলাদেশ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খন্ড, আসাম এবং উত্তর উড়িষ্যায় ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল পাওয়া যায়। এছাড়া মধ্য ও পশ্চিম আফ্রিকাতেও পাওয়া যায় এই জাতের ছাগল। ব্ল্যাকবেঙ্গল ছাগল পরিষ্কার, শুষ্ক এবং উঁচু জায়গায় থাকতে পছন্দ করে।

অধ্যাপক এমএএম ইয়াহিয়া বলেন, ‘বহু বছর ধরে এ অঞ্চলে আবাস হবার কারণে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের জিনগত বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে গেছে, যে কারণে মূলত বাংলাদেশেই তাদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।’

বাংলাদেশের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা এবং ঝিনাইদহ জেলায় ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল নামটি এলো কোথা থেকে ?

ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট জাতের এ ছাগলটি বাংলাদেশের একেবারে নিজস্ব প্রজাতি। গবেষক ও সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এ অঞ্চলে পশুপালনের একেবারে শুরুর সময় থেকে এ জাতের ছাগল এখানে ছিল। তবে স্থানীয়ভাবে এগুলো দেশি কালো ছাগল বলে পরিচিত ছিল। কিন্তু যখন থেকে পশু পালন গবেষকরা এই প্রাণী নিয়ে গবেষণা শুরু করেন, তখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট' এই নামটি আসে। পরে যখন আন্তর্জাতিক গবেষণার বিষয় হয়ে ওঠে বাংলাদেশের এই নিজস্ব প্রজাতি, তখন থেকে একে এই নামেই ডাকা শুরু হয়।

কেন ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল অনন্য?

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা নূরে হাছনি দিশা বলেছেন, মূলত মাংস ও চামড়ার জন্য ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বিখ্যাত। মাংস ও চামড়ার গুণগতমানের জন্য এ জাতের ছাগলকে উৎকৃষ্ট মানের বলা হয়। এছাড়া এটি পালন সহজ এবং পালন করার জন্য বড় কোনো জায়গার দরকার হয় না।’ সংখ্যার দিক থেকে ছাগল উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ এবং ছাগলের গোশত উৎপাদনে পঞ্চম।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এমএএম ইয়াহিয়া বলেছেন, ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি। এছাড়া এ জাতের ছাগলের মধ্যে মৃত্যুহার অনেক কম এবং ছাগলের বাচ্চার মৃত্যু হারও কম, যেটি এই জাতের ছাগলের সংখ্যা বৃদ্ধি ও জনপ্রিয়তার আরেকটি বড় কারণ।’ 

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর গড়ে ২ কোটি ২০ লাখ ছাগল উৎপাদন হয়, যার ৯৫ শতাংশই ব্ল্যাক বেঙ্গল। এর মধ্যে বড় অংশটি বাংলাদেশের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদের সময় জবাই করা হয়। কোরবানির ঈদের সময় দেশে যত গরু জবাই হয়, তার দেড়গুন ছাগল জবাই হয়। গত পাঁচ বছরে দেশে ছাগল আমদানি করতে হয়নি। ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়াও বিশ্বে প্রসিদ্ধ। আন্তর্জাতিক বাজারে ছাগলের চামড়াকে ‘গোটস্কিন’ ও ‘কিডস্কিন’ উভয় নামে ডাকা হয়। বø্যাক বেঙ্গল ছাগলের চামড়া ‘কুষ্টিয়া গ্রেড’ নামে পরিচিত বিশ্ব বাজারে এবং এর কদর আছে।

ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের বৃদ্ধিতে বাধা ?

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের জিনের গুনাগুণ, বিশেষ করে প্রজনন ক্ষমতার গুণগত মান হ্রাস পেয়েছে বলে বলছিলেন অধ্যাপক এমএএম ইয়াহিয়া। তিনি বলেন, ‘এর বড় কারণটি হচ্ছে দেশে এই জাতের পাঠার সংখ্যা অনেক কমে গেছে। গায়ে দুর্গন্ধ হয় হয় বলে লোকে পাঁঠা পালন করতে চায় না। ফলে পাঠা হিসেবে ছাগলের জন্ম হলেও সেগুলোকে খাসি করে দেয়া হয়। তাছাড়া বাংলাদেশে পাঠার মাংসের চাহিদাও নেই, যে কারণে পাঠার সংখ্যা কম। বৈজ্ঞানিক গবেষণায় আমরা দেখেছি, একই পাঠা যদি একই পরিবারের কয়েক প্রজন্মের ছাগীর প্রজননের একমাত্র উৎস হয়, অর্থাৎ আন্তঃপ্রজনন হতে থাকে, তাহলে তার জিনের বৈশিষ্ট্যের মান আগের মত থাকবে না।’ এই মুহূর্তে দেশে গড়ে ১৬২টি ছাগীর প্রজনন হয় একটি পাঠা দিয়ে। তিনি কৃত্রিম প্রজননকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়াকে এর সামধান মনে করেন।

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট ২০০০ সালের দিকে কৃত্রিম প্রজননের ওপর গবেষণা শুরু করে। এখান থেকে গবেষণাগারে উৎপাদিত উন্নত জাতের পাঠা খামারিদের মধ্যে দেয়া হয়। তবে সে সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।




সর্বশেষ খবর
বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর নির্মাণকাজের উদ্বোধন
উত্তরায় ৪৩৫৭ ইয়াবাসহ ৩ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
দিনের তাপমাত্রা বাড়তে পারে, কমবে রাতে
শেষটাও ভালোবাসার সাথে শেষ হতে পারে : শবনম ফারিয়া
এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১১৩৪
‘নতুন বছরের মাঝামাঝি ১০টি টিকা চলে আসবে’
অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণ
সর্বাধিক পঠিত
এক কাতলের দাম ২০ হাজার ২৫০ টাকা
বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে রাতভর ধর্ষণ
একত্রে থাকার শর্তে একদিনেই ৪৭ দম্পতির মামলা নিষ্পত্তি
ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘নিভার’
ভিপি নুরসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ১৭ ডিসেম্বর
উইঘুর মুসলিমরা ‘নিপীড়িত’ বললেন পোপ, চীন বলল ‘ভিত্তিহীন’
আলিয়াকে ছেড়ে অন্য নারীর সঙ্গে ছুটি কাটাচ্ছেন রণবীর!
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], editorda[email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]