English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার সোমবার ১ মার্চ ২০২১ ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১ মার্চ ২০২১
 / সারাদেশ / নারিকেলবাড়িয়ায় খেজুর গাছের সমারোহ
নারিকেলবাড়িয়ায় খেজুর গাছের সমারোহ
ঝালকাঠি সংবাদদাতা:
প্রকাশ: রোববার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৩৮ এএম | অনলাইন সংস্করণ

নারিকেলবাড়িয়ায় খেজুর গাছের সমারোহ

নারিকেলবাড়িয়ায় খেজুর গাছের সমারোহ

ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় ইউনিয়নের প্রত্যন্ত একটি জনপদের নাম নারিকেলবাড়িয়া। এই নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে নারিকেল গাছের পাশাপাশি খেজুর গাছও রয়েছে অনেক। গ্রাম বাংলার মেঠো পথ দিয়ে হাঁটার সময় দেখা যায় দুপাশে সারিবদ্ধ খেজুর গাছ। পরিকল্পিতভাবে খেজুর চারা রোপণ করা না হলেও প্রাকৃতিকভাবেই কোনো পরিচর্যা ছাড়াই গাছগুলোর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা।

ঝালকাঠিতে শীতের শুরুতেই খেজুরের মিষ্টি রস সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। শীতের তীব্রতা শুরু না হলেও পুরোদমে আয়োজন শুরু হয়ে গেছে। তবে ইটভাটায় খেজুর গাছ ব্যবহার এবং নতুন করে রোপণ না করায় দিন দিন ঝালকাঠিতে হারিয়ে যেতে বসেছে খেজুর গাছের পরিমাণ।


জেলার রাজাপুর কাঁঠালিয়া খেজুর রস ও গুড়ের জন্য একসময় বিখ্যাত ছিল। তবে সময় পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই দিন। কয়েক বছর আগেও উপজেলাগুলোতে বিভিন্ন এলাকার বেশিরভাগ বাড়িতে, খেতের আইলের পাশে কিংবা রাস্তার দুই পাশে অসংখ্য খেজুর গাছ ছিল। কোনো পরিচর্যা ছাড়াই অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠে এইসব খেজুর গাছগুলো।

প্রতিটি পরিবারের চাহিদা পূরণ করে অতিরিক্ত রস দিয়ে তৈরি করা হতো সুস্বাদু গুড়। অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় এলাকার চাহিদা পূরণ করে বাড়তি গুড় সরবরাহ করা হতো দেশের বিভিন্ন স্থানে। বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তাঘাটের পাশে আর আগের মতো খেজুর গাছের দেখা মেলে না।

একসময় শীত মৌসুমে খেজুর গাছের রস সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন অনেকে। স্থানীয় ভাষায় এ মৌসুমি পেশাজীবীকে বলা হয় শিয়ালী। শেয়ালের সঙ্গে খেজুরের রসের নানা লোককথা বা গল্প থেকে গাছিদের স্থানীয় ভাষায় নামকরণ হয় শিয়ালী। বর্তমানে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বেশিরভাগ গাছিরা তাদের পূর্ব পুরুষদের পেশা ছেড়েছেন। তবে হাতেগোনা কয়েকজন এখনো ধরে রেখেছেন পেশা।

জেলার কচুয়া গ্রামের গাছি হারুন অর রশিদ বলেন, ‘বাঙালিরা মৌসুমভিত্তিক কিছু খাবারের প্রতি আকৃষ্ট। খেজুর গাছের রসের প্রতি আমাদের দুর্বলতা এখনো আছে। আমার বাবার পেশা ছিল এই খেঁজুর গাছের রস সংগ্রহ করা। বাবার মারা যাওয়ার পর তিনি পেশাটি ধরে রেখেছিলেন। কিন্তু দিন দিন খেজুর গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পেশাটি বর্তমানে ছেড়ে অন্য পেশায় যোগ দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় দেখছি না।’


দক্ষিণ চেচঁরী গ্রামের গাছি কামাল হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘আমরা খেজুর গাছের কথা ভুলে গেছি। আমাদের উচিত অন্যান্য বৃক্ষ রোপণের পাশাপাশি খেজুর গাছ রোপণ করা। নতুবা আগামী প্রজন্মের কাছে খেঁজুর গাছ অচেনা গাছে পরিণত হবে।’

রাজাপুরের নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন গাছি জানান, শীত শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রথমে গাছ পরিষ্কার করতে হয়। এরপর গাছ কেটে মিষ্টি রস সংগ্রহ করা হয়। এখন তারা গাছ পরিষ্কার ও কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

কাঁঠালিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘বর্তমানে বসতবাড়ি কিংবা খেত-খামারের পাশে এমনকি রাস্তাঘাটের পাশে আর আগের মতো খেজুর গাছের দেখা মেলে না। আমাদের অসচেতনতার কারণে আজ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে পরিবেশবান্ধব গুরুত্বপূর্ণ এই খেজুর গাছ। খেজুর গাছের এই সংকট নিরসনে আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বেশি বেশি করে সাধ্যমতো খেজুর গাছ রোপণ করতে হবে।’ এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

খেজুর গাছের এ সংকট সত্ত্বেও ঝালকাঠি জেলায় এখনো যেসব গাছ অবশিষ্ট আছে তা কেটে রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন গাছিরা। সকালের মিষ্টি রোদে রসের আয়োজন আর কেনাবেচা শুরু হয়ে গেছে এখনই। তবে আরও কিছুদিন পর শীতের এ রস উৎসব শুরু হবে পুরোদমে।




সর্বশেষ খবর
মুক্তি পাচ্ছে নায়িকা দীঘির প্রথম সিনেমা
এডিপির আকার কমছে ৩.৬৬ শতাংশ, চূড়ান্ত মঙ্গলবার
চীন-যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈরথে ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হয়ে উঠছে দ. পূর্ব এশিয়া
হত্যার পর মরদেহে আগুন
অবৈধ পন্থায় ভর্তি : ঢাবির ১২ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার
শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার ৭ বছরের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী
সর্বাধিক পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে সাংবাদিক পরিবারের উপর হামলা, গ্রেফতার-২
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা তহবিল পাস: লাভবান হবেন ১০ লাখ বাংলাদেশি
আগামীতে ইউপি নির্বাচনে আর অংশ নেবে না বিএনপি : ফখরুল
জিয়াকে জাতির পিতা বলায় তারেকের বিরুদ্ধে মামলা
প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষ : সাংবাদিকসহ আহত ৩৫
ছেলে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে কেন, প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর
আশুলিয়ায় গোরস্থান থেকে ১৬ কঙ্কাল চুরি
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]