English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার সোমবার ১ মার্চ ২০২১ ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭
ই-পেপার সোমবার ১ মার্চ ২০২১
 / সারাদেশ / সোনাইমুড়ীতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি’
পৌরসভা নির্বাচন ২০২১
সোনাইমুড়ীতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি’
আনোয়ার বারী পিন্টু
প্রকাশ: শনিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ৮:৩৭ পিএম আপডেট: ২০.০২.২০২১ ৯:০৪ পিএম | অনলাইন সংস্করণ

সোনাইমুড়ীতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি’

সোনাইমুড়ীতে ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার জরুরি’

১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল ভালোবাসার দিন। দেখা যায়, সোনাইমুড়ীর কুয়াশায় ঘেরা সকাল ছিল একদল ভাড়াটিয়া অস্ত্রবাজদের দখলে। তারা ১০টার আগেই কৌশল্লারবাগ, শিমুলিয়া, পাপুয়া কেন্দ্র দখল করে নির্ধারণ করে ফেলে সোনাইমুড়ীর পৌরমেয়র কে হবেন?  বাকী সারাদিন নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৌড়ঝাঁপ ছিল অনর্থক বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ভাড়াটিয়া বাহিনী। বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এরা এসেছে বড় ভাইদের ওপর সওয়ার হয়ে। কেউ আগের রাতে কেউ খুব ভোরে পৌর এলাকায় প্রবেশ করেছে। পৌর এলাকার পাশ্ববর্তি ইউনিয়নগুলো থেকে প্রায় দুই শতাধিক উঠতি বয়সী তরুন বিভিন্ন কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছিল। সবচেয়ে বেশী তান্ডব চালিয়েছে কৌশল্লারবাগ, শিমুলিয়া, পাপুয়া, বাট্রা, কাঁঠালী, চন্দ্রপুর, দুশ্চিমপুর-নাওতলা কেন্দ্রে। বাট্রা কেন্দ্রে মুখে মুখোশ পরে গুলি ছুড়েছে তারা। প্রতিটি কেন্দ্রেই  ককটেল বিস্পোরণ, ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে জোরপূর্বক সিল মারা হয়েছে। বাট্রা কেন্দ্রের পেছন সড়কে বাঁশ গাছের আড়াল থেকে বেরিয়ে মুখোশপড়া অর্ধশতাধিক সন্ত্রাসী পিস্তল আর সোলেমানী তলোয়ার নিয়ে হামলে পড়েছে। এ ঘটনায় একজন গুলিবিদ্ধসহ কমপক্ষে ৫ জন আহত হয়েছেন। আরো কয়েকটি এলাকায় জনরোষের শিকার হয়ে প্রায় বিশজন ভাড়াটিয়া আহত হওয়ার খবর এসেছে। এছাড়া কাঁঠালি কেন্দ্রে ব্যালট ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় পুলিশের বেধড়ক লাঠি পেটার শিকার হয়েছে। সহিংসতার ফলে বেলা একটায় ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠালিয়া মোহাম্মাদিয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়।

শুধু ভানুয়াই কেন্দ্রে মজিবুর রহমান রতন ও আলমগীর হোসেন সিম্পু ক্যামেরার সামনে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে জোরালো এবং সাহসী বক্তব্য রেখেছেন। বাকী আট কেন্দ্রে কথা বলার মতো বিএনপির কোন নেতাই ছিল না। ১৩ ফেব্রুয়ারি ভোটের আগের রাত দশটায় কৌশল্লারবাগ, শিমুলিয়া কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট বসানোর জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। এমন খবরে খুবই স্পষ্ট হয়ে যায় সকাল কেমন হবে। বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী আরও অনেক আগ থেকেই ধরে নিয়েছে এবার মেয়র পদটি আওয়ামীলীগ কব্জায় নিবে। তবে নির্বাচনে বিএনপির নেতাদের অবস্থানকে ‘বসে বসে ল্যাজ নাড়ানো’র মতোই মনে করেন বিশ্লেষকরা।

ফলাফলে দেখা যায়, নির্বাচনে নুরুল হক চৌধুরী ৯ হাজার ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ২৫ হাজার ভোটের মধ্যে মাত্র ৯ হাজার ভোটের জন্য এতো অস্ত্র, এতো শক্তি দেখানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ। এছাড়া সাংবাদিক এবি ছিদ্দিককে রক্তাক্ত করার  ঘটনায় মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে।
এ নির্বাচনে দূর্বিত্তদের নিশানা থেকে রেহাই পাননি সোনাইমুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মমিনুল ইসলাম বাকের। নাওতলা এলাকায় পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মোহাম্মদ মোতাহের হোসেন রনি তার ভাই মনিরুল ইসলাম মনু ও পলাশের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল তার বাড়িতে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এসব বিষয়ে কথা হলে মমিনুল ইসলাম বাকের বলেন, ‘রনি, মনু ও পলাশের নেতৃত্বে গত রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আমার বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর কেন্দ্র আহ্বায়ক ছিল আমার বড় ছেলে আরিফুর রহমান সুজন। সুজনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই তারা আমার বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। কিন্তু স্থানীয়দের বাধার মুখে তারা তা করতে পারেনি।’

এ ঘটনায় থানা মামলা হয়েছে বলে দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেন সোনাইমুড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। এছাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মাইন উদ্দিনের বাড়িতেও হামলা ও গুলি বর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।  
নির্বাচন পরবর্তি পরিবেশ শান্ত আছে বলে মনে করেন সোনাইমুড়ী উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান। অস্ত্রের মহড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দৈনিক বাংলাকে জানান, ‘নিজের আধিপত্য বজায় রাখতে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটেছে তবে অস্ত্রের কোন অস্তিত্ব এখানে নেই  ’

একই বিষয়ে কথা হলে সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাব সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, ‘ নির্বাচন মোটামুটি সুষ্ঠ হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শক্তিশালী অবস্থানে ছিল। আমরা নতুন মেয়রকে স্বাগত জানাই। তবে নাওতলা গ্রামে অস্ত্রের মহড়া আছে সবচেয়ে বেশী। এই এলাকায় অভিযান পরিচালনা জরুরী হয়ে পড়েছে।’

ভোট পরিবর্তি বিশ্লেষণ নিয়ে রামপুর এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম জানান, ‘টানা ১৩ বছরের ‘ব্যর্থতার’ পরও মেয়র মানিক কি করে ৪ হাজার ভোট পান? আওয়ামীলীগ নেতা কর্মীদের মতে তিনি যদি এতোটাই ‘ব্যর্থ’ হন এবং নুরুল হক চৌধুরীর বিপুল জনপ্রিয়তা থেকে থাকে তাহলে বড়জোর আড়াইশ থেকে তিনশ ভোট পেতে পারতো মানিক। তবে কেন ৪ হাজার ভোট পেলেন তিনি!  নাকি এই চার হাজার ভোটও যারা কেন্দ্র দখল করেছে তারাই মেরেছে? এই কথাই যদি সত্যি হয় তবে বলতে হবে নির্বাচনে তামাশার নামে রাষ্ট্র এবং জনঅর্থের বড় বেশী ক্ষতি করে দিলো।  মেয়র মানিক দমবন্ধ এই পরিবেশেও সত্যিই ৪ হাজার ভোট পেয়ে থাকেন তাহলে দমখোলা পরিবেশে তিনি কত ভোট পেতে পারতেন। ’

পাপুয়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের সাথে কথা হলে বলেন, ‘নতুন মেয়র ভিপি নুরুল হক চৌধুরী একজন স্বজ্জন ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। তবে এই রক্তঝরা নির্বাচনে দেখে সাধারণ মানুষ হতবাক হয়েছে। নতুন মেয়র নিজ হাতে পোষ্টার অপসারণ করতে দেখে আমরা আনন্দিত। কিন্তু নির্বাচনে যে অবৈধ অস্ত্র দেখা গেছে, সেগুলো অপসারণ করবে কে?  সেই উদ্যেগ এখন জরুরী।’                             




সর্বশেষ খবর
গভীর রাতে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানকে বাড়িকে ঢুকে হত্যা
পোশাক খাতে ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে গেল বাংলাদেশ
নিখোঁজের ৬ দিন পর পুকুরে মিললো রিকশাচালকের লাশ
১৩ উইকেট নিয়ে তানভীর যা বললেন
গরু-ছাগল আর ছেলে-মেয়ে নিয়ে খুপরি ঘরেই বসবাস মাছুমার
কাচঁপুর ইউনিয়নে নতুন ভোটারদের স্মার্ট কার্ড বিতরণ
বিএনপির ৪৭ নেতাকর্মীর নামে মামলা
সর্বাধিক পঠিত
সখীপুরে আম ও লিচুর মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত
স্বর্ণের দামে বড় পতন, ৮ মাসে সর্বনিম্ন
বিয়ে পর বিয়ে এবং তালাক দেয়াই তার কাজ
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা তহবিল পাস: লাভবান হবেন ১০ লাখ বাংলাদেশি
আগামীতে ইউপি নির্বাচনে আর অংশ নেবে না বিএনপি : ফখরুল
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ছাত্র ফেডারেশনের ‘বৃদ্ধাঙ্গুলি’
প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশ-ছাত্রদল সংঘর্ষ : সাংবাদিকসহ আহত ৩৫
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : mdainikb[email protected], [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]