English ভিডিও গ্যালারি ফটো গ্যালারি ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১ ২ বৈশাখ ১৪২৮
ই-পেপার বৃহস্পতিবার ১৫ এপ্রিল ২০২১
 / রাজনীতি / ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব
ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব
একাট্টা শীর্ষ নেতারা
বিশেষ সংবাদদাতা :
প্রকাশ: রোববার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১০:৩৪ এএম আপডেট: ২৮.০২.২০২১ ১০:৪০ এএম | অনলাইন সংস্করণ

ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব

ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব

আবার নতুন করে সংকটে পড়েছে গণফোরাম। দলটির শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ একাট্টা হয়ে এবার সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন গণফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বের প্রতি। তাকে বাদ দিয়েই নতুন করে দলটিকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। 

শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে গণফোরামের নেতাদের একটি পক্ষের বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন দলটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু। এই সভা থেকে ড. কামাল হোসেনকে গণফোরামের সভাপতির পদ থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২৮ ও ২৯ মে ঢাকায় দু’দিনব্যাপী গণফোরামের কাউন্সিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। বর্ধিত সভায় ২১ সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটি, গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে আহ্বায়ক করে ১০১ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং মোস্তফা মোহসীন মন্টুকে আহ্বায়ক করে ২০১ সদস্যের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিল প্রস্তুতি কমিটিও গঠন করা হয়।

এর আগে বর্ধিত সভায় দলটির সাবেক নির্বাহী কমিটির সদস্য মহসিন রশিদ ড. কামাল হোসেনকে গণফোরামের সভাপতি পদ থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, দলের মধ্যে আজ অনেক বিভাজন চলছে। এই বিভাজন বন্ধ করতে ব্যর্থ হলে সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দেওয়া উচিত। কমিটির সাবেক সদস্য সাত্তার পাঠানও একই প্রস্তাব করেন। পরে জেলা পর্যায়ের কয়েকজন নেতাও এই প্রস্তাব সমর্থন করে বক্তব্য দেন। 

বর্ধিত সভা শেষে দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যকর্মীদের এক প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, গণফোরামের আগামী কাউন্সিলে কাউন্সিলররা সিদ্ধান্ত নেবেন ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি হিসেবে রাখা হবে কি না।  তিনি বলেন, আগামী ২৮ ও ২৯ মে ঢাকায় দু’দিনব্যাপী কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এখানেই পরবর্তী নেতৃত্ব ঠিক করা হবে।
 
সভাপতির পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে অপসারণ প্রসঙ্গে মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, গণফোরাম গণতান্ত্রিক দল। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গণতন্ত্র আনতে হলে দলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হয়। ড. কামাল হোসেনকে সভাপতি বানিয়েছিলেন কাউন্সিলররা। আগামী কাউন্সিলে তারাই (কাউন্সিলর) সিদ্ধান্ত নেবেন দলটির পরবর্তী সভাপতি কে হবেন।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, দেশে আজ আইনের শাসন নেই, সাংবিধানিক শাসন নেই। যে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, আজ সে বৈষম্যের কশাঘাতে মানুষ দিশেহারা। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যত দুঃশাসন হচ্ছে, আইয়ুব খানের আমলেও এত দুঃশাসন হয়নি। দেশ আজ গভীর সংকটে নিমজ্জিত। নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সর্বক্ষেত্রে, স্বৈরতান্ত্রিক কালো থাবায় সবকিছু থমকে গেছে। সর্বস্তরে চলছে দুঃশাসন।

অধ্যাপক আবু সাইয়িদ বলেন, যদিও সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলছে। কিন্তু চেতনা বাস্তবায়নে সরকার অনেক দূর সরে গেছে। এ সরকার জনগণের সরকার নয়। এ সরকার অবৈধ সরকার। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করছে।মোস্তফা মহসিন মন্টু বর্তমান সরকারের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, আমরা এই সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি। সরকারের পদত্যাগ এবং নতুন নির্বাচন দাবি করছি। সরকারবিরোধী আন্দোলন দানা বাঁধতে শুরু করেছে। নতুন নির্বাচন না দিলে স্বৈরাচারী এ সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।

বর্ধিত সভায় মাঠের নেতারা যা বললেন,

সভাপতি পদ থেকে ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়ে গণফোরাম এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে বর্ধিত সভায় উপস্থিত জেলা পর্যায়ের নেতারা বলেন, ড. কামাল হোসেনকে রাখলে গণফোরাম কখনোই তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। উনি বঙ্গবন্ধুর সহচর ছিলেন ঠিকই, মেধার কারণে বঙ্গবন্ধু তাকে সঙ্গে নিয়েছিলেন। আসলে উনি এখন জিরো। অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, ড. কামাল হোসেন পলিটিশিয়ান নয়। তাকে নিয়ে রাজনীতি হবে না। তিনি একটা জিরো পারসন। তিনি ক্ষমতার লোভে রাজনীতি করেন। 

মহসিন রশিদ বলেন, ড. কামাল হোসেন এবং ড. রেজা কিবরিয়া দুজনেই মিথ্যাবাদী। দলীয় এমপি মোকাব্বির খান হঠাৎ করে এমপি হয়েছেন। কীভাবে এমপি হয়েছেন, দেশবাসী সবাই জানে। ড. কামাল হোসেনকে বাদ দিয়েই গণফোরামকে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, গত নির্বাচনের আগে জাতীয় ঐক্য ফোরাম গঠন করা হলো। কী উদ্দেশ্য নিয়ে ড. কামাল হোসেন জাতীয় ঐক্য ফোরাম গঠন করলেন তা বোধগম্য নয়। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে কারা যোগ দিলেন? জামায়াতের লোকজন। আর ড. কামাল হোসেন তাদের নিয়ে সুস্থ রাজনীতি এবং স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়ন করতে চাইলেন। আমি প্রস্তাব করছি তাকে গণফোরাম থেকে বাদ দিয়ে দল সামনের দিকে চলুন।

সভায় বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগের পক্ষে মির্জা হাসান, ময়মনসিংহের অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও ঢাকা বিভাগের বিশ্বজিৎ গাঙ্গুলি, ঠাকুরগাওয়ের অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন, জাফর সাদেক, রাজবাড়ী জেলা সাধারণ সম্পাদক ওয়াজি উল্লাহ, কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম পর্বত। বিশ্বজিৎ গ্যাঙ্গুলি বলেন, ড. কামাল হোসেনকে অদৃশ্য একটি সুতা টেনে ধরেছে। ফলে গণফোরাম পেছনের দিকে ছুটছে। সামনে আর এগুতে পারেনি। তাই সময় এসেছে সুতা কেটে দেওয়ার। সুতাটি কেটে দিন গণফেরাম সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

অ্যাডভোকেট হাফিজ উদ্দিন বলেন, ২০০৮ সালে গণফোরাম ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। ড. কামাল হোসেন সুযোগ কাজে লাগাননি। কেন লাগাননি সে বিষয়টি আজও জানা হলো না। জানা গেল না। তিনি বলেন, গণফোরাম আজ মৃতপ্রায়। তাকে মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে টেনে তুলতে হবে। তা না হলে রাজনীতি থেকে গণফোরাম একেবারে ছিটকে পড়বে।




সর্বশেষ খবর
লকডাউন নয় ক্র্যাকডাউনে নেমেছে সরকার: ফখরুল
দুই দশক পর আফগানিস্তান ছাড়ছে ন্যাটো বাহিনী
ট্রিলিয়ন ডলারে বেড়েছে অনলাইন কেনাকাটা
ঈদের আগেই ৫০ লাখ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিবে সরকার
নিরপরাধ শিশুর চোখে গুলি করল ইসরাইলি সেনা
সেলফি তুলতেও বের হচ্ছে মানুষ!
শ্মশান ও কবরস্থানে ভিড়, মৃতদেহ নিয়ে চিন্তিত স্বজনেরা
সর্বাধিক পঠিত
সোনারগাঁওয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ৪টি ঘর পুড়ে ছাই
সম্মিলিত শক্তি দিয়ে প্রতিহত করতে হবে করোনা: কাদের
কাদের মির্জারকে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম
করোনায় মারা গেছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু
‘সর্বাত্মক লকডাউন’র শুরুতেই ৯৬ জনের মৃত্যুর রেকর্ড
অপ্রয়োজনে কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না: আইজিপি
এবারও বিচিত্ররকম খাবারের রেসিপি নিয়ে আসছেন কেকা ফেরদৌসি
আরও দেখুন...


Copyright © 1962-2019
All rights reserved
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]
Website: http://www.dainikbangla.com.bd, Developed by i2soft
সম্পাদক, প্রকাশক ও মুদ্রাকর: মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জিটু
সম্পাদকীয় ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : রেড ক্রিসেন্ট বোরাক টাওয়ার, লেভেল-৫, ইস্কাটন গার্ডেন রোড, রমনা, ঢাকা-১০০০।
ফোনঃ +৮৮-০২-, ৫৫১৩৮৫০১, ৫৫১৩৮৫০২, ৫৫১৩৮৫০৩, ফ্যাক্সঃ +৮৮-০২-৫৫১৩৮৫০৪, ই-মেইল : [email protected], [email protected], [email protected]