সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
২৩ চৈত্র ১৪৩২

ভেড়ামারায় তুলা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

*বীজ বপনের ৬ মাস পর সংগ্রহ করা যায় তুলা *এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪৭ হেক্টর জমি
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ১৭:২৭

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৪৭ হেক্টর জমিতে তুলা চাষ করা হয়েছে। এ অঞ্চলে দিন দিন তুলা চাষ অনেকটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তুলা গাছে ব্যাপক ফলন দেখে বোঝা যাচ্ছে খরচের তুলনায় এবার কৃষকের কয়েকগুণ বেশি মুনাফা হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে কম খরচে বেশি মুনাফার কারণে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তুলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

ভেড়ামারা কটন ইউনিট কর্মকর্তা মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, হোয়াইট হোল্ড-১, হোয়াইট গোল্ড-২, রুপালী-১, ডিএম-৪, সিবি-১ হাইব্রিড ও বিটি কটন, উফশী জাতের তুলা চাষ করা হয়েছে। উচ্চফলনশীল তুলার এ জাতগুলো প্রতি বিঘায় ১৬-২০ মণ হারে ফলন হয়।

এ উপজেলায় চলতি বছরে ১৪৭ হেক্টর জমিতে তুলার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি সহযোগিতায় বিভিন্ন প্রদর্শনী ও কৃষকের নিজ অর্থায়নে চাষ করা হয়েছে। ভালো ফলন ও ন্যায্য দাম পাওয়ায় আগামীতে চাষির সংখ্যা অনেক বাড়বে বলে আশা করছেন তুলা উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাসহ স্থানীয় কৃষকরা। তুলা গ্রীষ্মকালীন ফসল। মে মাসের শেষ ভাগ থেকে শুরু করে জুনের প্রথমাংশ পর্যন্ত জমিতে তুলা বীজবপন করতে হয়। বীজ বপনের ৬ মাস পর তুলা সংগ্রহ করা যায়। তুলা চাষ ছড়িয়ে দিতে তুলা উন্নয়ন বোর্ড ও বিভিন্ন প্রকল্প কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে সরকার।

ভেড়ামারা উপজেলায় কম পুঁজিতে নামমাত্র শ্রমে ও সরকারি সহযোগিতায় তুলা চাষের পরিমাণ ও চাষির সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। তাদের উৎপাদিত তুলা সরাসরি তুলা উন্নয়ন বোর্ড ন্যায্য দামে কিনে নেয়। ফলে কৃষকরা অন্য ফসলের তুলনায় তুলাতে অধিক লাভবান হচ্ছেন। সরকারি সহায়তায় কৃষকরা সিবি-১২ এবং হাইব্রিড প্রজাতির রুপালি-১ জাতের তুলার চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হওয়াতে এ বছর কৃষকের আগ্রহ দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তবে কিছু কিছু খেতে এসিট, জেসিট, আমেরিকান বোলওয়ার্ম, স্পটেট বোলওয়ার্ম ও আঁচা পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছিল। এতে তুলা চাষিরা কীটনাশকের বদলে ফেরোম্যান ফাঁদ ও পার্চিং পদ্ধতিতে বেশ উপকার পেয়েছেন। কৃষকেরা গত বছর বীজ তুলার দাম পেয়েছিল মণ প্রতি ৪ হাজার টাকা, প্রতি কেজি ১শত টাকা। কৃষকদের তুলা চাষে সরকার বিনামূল্যে সার, বীজ, কীটনাশক, প্রশিক্ষণ ভাতা, প্রদান করে থাকেন। এর মধ্যে তুলা প্রদর্শনীসহ প্রণোদনাও দিয়ে আসছে।

হাসান আলি নামে একজন কৃষক জানান, বর্তমানে তুলা চাষ করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। তিনি তার ৪ বিঘা জমি বন্ধক নিয়ে তুলা চাষ করেছেন। তার আশা এ বছর তিনি ভালো মুনাফা পাবেন। তুলা চাষে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ালে অনেক অনুর্বর, নিস্ফলা বা অনাবাদি জমিতে তুলা চাষ করে অনেকের ভাগ্য পরিবর্তন করা সম্ভব।

মসলেম উদ্দিন জানান, নিস্ফলা জমিতে তুলা চাষ করায় একদিকে যেমন জমির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষকরা বেশ টাকা পাচ্ছেন, তাদের পরিবারে আসছে স্বচ্ছলতা। তাই অনেকে ধান ও গমসহ বিভিন্ন আবাদ ছেড়ে তুলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

তুলা চাষিরা জানান, রুপালী-১, হোয়াইট গোল্ড-১, হোয়াইট গোল্ড-২, ইস্পাহানি শুভ্র-৩, লালতীর ডিএম-৪, সিবি-১, উফশী, বিটি তুলা জাতের তুলা প্রতি বিঘাতে বীজসহ উৎপাদন হয় ১৫ মণ থেকে ২০ মণ করে। যার বর্তমান বাজার মূল্য কমপক্ষে ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা। এমন অনুর্বর জমিতে অন্য কোনো ফসলে এই লাভ পাওয়া কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। আবার একই জমিতে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাক-সবজি ও মসলা জাতীয় ফসল চাষ করেও বাড়তি আয় করা যায় বলে অনেক চাষি তুলা চাষের দিকে মনোনিবেশ করছেন। স্বল্পপুঁজি ও স্বল্প পরিশ্রমে তুলা চাষে অনায়াসে লাখপতি বনে যাওয়া যায় বলে অনেক কৃষকের সাথে আলাপকালে তারা জানিয়েছেন।

তুলা চাষ বৃদ্ধির মাধ্যমে ভেড়ামারা উপজেলার কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন, এমনটাই কৃষি সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।


গারো পাহাড়ে কৃষি বিপ্লব: আধুনিক চাষাবাদে ভাগ্য বদল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে এক বিশাল কৃষি সাম্রাজ্য গড়ে ওঠেছে। উপজেলার গোমড়া, হলদিগ্রাম ও সন্ধাকুড়া অঞ্চলে মাইলের পর মাইল এলাকাজুড়ে এখন দেখা যায় সবুজের সমারোহ। পাহাড়ের ঢালু আর উর্বর মাটিতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত হচ্ছে কাঁকরোল, ঝিঙা, ধুনদল, চালকুমড়া ও বেগুনসহ নান শাক-সবজি। এই অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা এখন পুরোপুরি কৃষিনির্ভর হয়ে পড়েছে, ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই কৃষকরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন মাঠের পরিচর্যায়। সন্ধাকুড়া ও গোমড়া, হলদিগ্রাম এলাকার প্রতিটি পরিবারই মাচা পদ্ধতিতে সবজি চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন। কৃষি উদ্যোক্তা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের গোমড়া, সন্ধাকুড়া ও হলদিগ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সাথে জড়িত। কৃষিপণ্য চাষ করে আমরা বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে বেশ লাভবান। তবে আমাদের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হলো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। অনেক সময় বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে খামার গড়ার পর হঠাৎ ঝড়, অতিবৃষ্টি বা বন্যায় ফসল নষ্ট হয়ে গেলে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। সেই মুহূর্তে সরকার যদি সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করত, তবে আমরা দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারতাম।’

পাহাড়ি এলাকার এই কৃষি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিরলস কাজ করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের ফলে ফলনও হচ্ছে অভাবনীয়।

ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, গারো পাহাড়-সংলগ্ন এই অঞ্চলটি কৃষির জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কৃষকদের ফলন বৃদ্ধিতে আমি নিজে এবং আমার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে পরামর্শ ও তথ্য প্রদান করছি। সরকারি বিভিন্ন কৃষি প্রণোদনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আমরা সর্বদা কৃষকদের পাশে আছি।

বর্তমানে এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চলটি দেশের প্রধান কৃষি হাবে পরিণত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গারো পাহাড়ের এই কৃষি বিপ্লব কেবল ঝিনাইগাতী নয়, বরং গোটা শেরপুর জেলার সমৃদ্ধির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।


গারো পাহাড়ের পাদদেশে আনোয়ারের কৃষি বিপ্লব, আধুনিক চাষাবাদে নতুন দিগন্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত গোমরা গ্রাম। একসময় যে মাটিকে কৃষির জন্য চ্যালেঞ্জিং মনে করা হতো, আজ সেখানেই এক অভাবনীয় কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা ও সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেন। মরুভূমির ফল ‘সাম্মাম’ থেকে শুরু করে শত শত সফেদা, লিচু ও বিভিন্ন জাতের সবজির বাণিজ্যিক চাষে তার এই সাফল্য এখন পুরো জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আনোয়ার হোসেনের এই যাত্রার শুরুটা ছিল অনেকটা কৌতূহল আর সাহসের মিশেলে। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো নিজের পৈতৃক জমিতে ইউটিউব দেখে প্রথমবারের মতো চাষ শুরু করেন মরুর ফল সাম্মাম। প্রথমবারেই আশাতীত সাফল্য পাওয়ায় তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। বর্তমানে তার বাগানে থোকায় থোকায় ঝুলছে সফেদা, পেয়ারা ও লেবু। এ ছাড়া বিস্তৃত এলাকাজুড়ে চাষ হচ্ছে কাঁকরোল, কলা ও প্রচুর পরিমাণ পুষ্টিগুণ সম্পন্ন সজনে ডাটা। তার এই বাগান এখন এলাকার জন্য একটি সবজি ও ফলের ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে।

নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে আনোয়ার হোসেনের নিষ্ঠা নজর কেড়েছে সবার। তিনি তার বাগানে কোনো ধরনের ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার করেন না। এর পরিবর্তে তিনি পরিবেশবান্ধব ‘সেক্স ফেরোমন ফাঁদ’ ব্যবহার করে ক্ষতিকারক মাছি পোকা দমন করছেন। আনোয়ার বলেন, ‘বাণিজ্যিক লাভের চেয়েও আমার মূল লক্ষ্য হলো মানুষের কাছে বিষমুক্ত ও নিরাপদ ফসল পৌঁছে দেওয়া। আমি চাই কৃষকরা যেন সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহী হয়। সরকারিভাবে উন্নত প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা পেলে এই গারো পাহাড়ের প্রতিটি ইঞ্চি জমিকে সম্পদে পরিণত করা সম্ভব।’

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আনোয়ারের এই উদ্যোগকে অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় বলে অভিহিত করেছেন। ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন জানান, আনোয়ার প্রমাণ করেছেন আধুনিক কৃষিতে মেধা ও শ্রম দিলে পাহাড়ের মাটিতেও সোনা ফলানো সম্ভব। তার চাষাবাদ দেখে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক এখন কৃষির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং কৃষি বিভাগ থেকে তাদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল আমীন এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন এক চমকপ্রদ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। গারো পাহাড়ের পতিত জমিতে তার এই সফলতা কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে এবং তার মতো সৃজনশীল কৃষকদের যাবতীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’ আনোয়ারের এই কৃষি বিপ্লব শুধু শেরপুর নয়, বরং সারাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা।


ভাঙ্গুড়ায় ইরি-বোরো জমির আগাছা পরিষ্কারে ব্যস্ত চাষিরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি 

পাবনার ভাঙ্গুড়াতে ইরি-বোরো জমির আগাছা অপসারণে ব্যস্ত চাষিরা। উপজেলার সব মাঠেই এমন চিত্র চোখে পড়ছে। নারী-পুরুষ শ্রমিকরা সমানতালে ধানক্ষেতে জন্মানো আগাছা পরিস্কারের কাজ করছেন। আবহাওয়া এখন পর্যন্ত অনুকূলে থাকায় সবুজ ধান গাছে মাঠে মাঠে ছেয়ে গেছে।

উপজেলার বড়পুকুরিয়া মাঠে ওই এলাকার কৃষক নুর‌ইসলাম হোসেন কয়েকজন নারী-পুরুষ শ্রমিকসহ নিজেও তার ধানের জমি থেকে আগাছা পরিস্কার করছেন। কৃষক নুর ইসলাম বলেন, চলতি বছর সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে ইরির আবাদ করেছি। ধানগাছও বেশ ভালো হয়েছে। ধানের জমিতে ছোট ছোট আগাছা জন্মেছে। সেগুলো তুলে ফেলছি। একই সঙ্গে ধান গাছের গোড়ার মাটি একটু আলগা করে দিচ্ছি। এতে ধানের গাছগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলেও জানান তিনি।

উপজেলা খানমরিচ ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষক শাহিদুল বলেন, প্রতিবছরই আমি ৩০ বিঘা জমিতে ইরি চাষ করি। এবছরও করেছি। আমার জমির ধানের গাছগুলো খুব ভালো হয়েছে। তবে গাছের গোড়ায় ছোট ছোট বিভিন্ন ধরনের আগাছা জন্মেছে। কয়েক দিন যাবৎ শ্রমিক দ্বারা আগাছাগুলো অপসারণ করে নিচ্ছি। সীমান্ত এলাকা উপজেলার দুধবাড়িয়া গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজুর রহমান একই উক্তি প্রকাশ করেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান বলেন, উপজেলায় চলতি বছর প্রায় ৭০৫০ হাজার হে. জমিতে ইরি-বোরো চাষ করেছেন কৃষকেরা। আগাছা পরিস্কারের সাথে সাথে ধান গাছের গোড়ার মাটিও নাড়াচারা হয় এতে ধান গাছ মাটি থেকে অক্সিজেন আরো সহজেই পাবে তাতে গাছ দ্রুত বাড়বে বলেও জানান তিনি।


শরনখোলায় কুল চাষে কৃষকের ভাগ্যবদল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরনখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার দক্ষিণ বাদাল গ্রামে কুল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে কয়েকটি পরিবার। স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা এসব কুল বাগান তাদের ভাগ্য বদলে দিয়েছে।

দক্ষিণ বাদাল গ্রামের কৃষক সরোয়ার হাওলাদার (৫০) জানান, তার বাগানে মোট ৬৯২টি কুল গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বড় সুন্দরী ৭৬টি, আপেল কুল ৮টি এবং বাকিগুলো বাউকুল জাতের। এ বছর তিনি কুল বিক্রি করে প্রায় ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আয় করেছেন। স্থানীয় বাজারে তিনি প্রতি কেজি কুল ৬০ টাকা দরে বিক্রি করছেন।

সরোয়ার হাওলাদার বলেন, তার তিন ছেলে, সহধর্মিণী এবং তিনি নিজে মিলে বাগানের পরিচর্যা করেন। পরিবারের সদস্যদের শ্রমে খরচ কমে এবং গাছের যত্নও ভালোভাবে করা সম্ভব হয়।

তিনি আরও জানান, স্থানীয় তাফালবাড়ি বাজারে কুল বিক্রির পাশাপাশি জেলার বাইরে মঠবাড়িয়ার সাফা, তুষখালী, মাছুয়া ও মঠবাড়িয়া বাজারে বেশি কুল বিক্রি হয়। বাইরে বিক্রি করতে কিছু অতিরিক্ত খরচ হলেও সেখানে লাভ তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়।

স্থানীয়রা জানান, দক্ষিণ বাদাল এলাকায় বর্তমানে প্রায় ৭ থেকে ৮টি পরিবার বাণিজ্যিকভাবে কুল চাষ করছেন। সঠিক পরিচর্যা ও ভালো বাজার পাওয়ায় এই চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কুল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যা থাকলে কুল চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক একটি সম্ভাবনাময় ফসল হতে পারে।


হাজার কোটি টাকার সেচ ক্যানেল, তবু পানি পাচ্ছে না কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল ও ক্যানেল নির্মাণ ও সংস্কার করা হলেও পানির অভাবে তা এখন প্রায় নামসর্বস্ব প্রকল্পে পরিণত হয়েছে। তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় অবকাঠামো থাকলেও সেচ ক্যানেলে পানি পৌঁছাচ্ছে না। ফলে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক এখন বিকল্প সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর হয়ে বাড়তি খরচে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

সরেজমিনে গঙ্গাচড়ার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তা নদীর বুকজুড়ে এখন বালুর স্তূপ। বর্ষা মৌসুমে যেখানে পানিপ্রবাহ কয়েক লাখ কিউসেক ছাড়িয়ে যায়, সেখানে শুষ্ক মৌসুমে তা নেমে আসে কয়েক হাজার কিউসেকে। অনেক সময় প্রবাহ আরও কমে যাওয়ায় সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

তিস্তা ব্যারেজ থেকে পরিচালিত সেচ প্রকল্পের প্রধান ও শাখা খালগুলো রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন উপজেলায় বিস্তৃত। এর একটি বড় অংশ গঙ্গাচড়া উপজেলাজুড়ে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে খাল সম্প্রসারণ ও সংস্কারের কাজ চললেও মূল উৎস নদীতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন না।

গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল এলাকার কৃষক নূরুল হুদা বলেন, তিস্তার পানি পেলে বিঘা প্রতি সেচ খরচ হতো ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এখন শ্যালো মেশিন দিয়ে ডিজেল পুড়িয়ে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে।

আলমবিদিতর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ক্যানেল তৈরি হয়েছে, গেট হয়েছে, সবকিছুই আছে। কিন্তু পানি নেই। প্রতি বছর ক্যানেল কাটে, সংস্কার করে কিন্তু আমরা কোনোদিন ঠিকমতো পানি পাই না।

আরেক কৃষক এসোব আলী বলেন, তিস্তা ক্যানেলে পানি পেয়ে চাষাবাদ করার স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিকল্প সেচে দ্বিগুণ খরচ হচ্ছে। এতে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে পড়ছি।

তিস্তা নদী রক্ষা কমিটির (বাপা) সভাপতি ফরিদুল ইসলাম ফরিদ বলেন, উজানে ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফলে তিস্তা সেচ প্রকল্পের ক্যানেলগুলোতে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, বর্তমানে বোরো মৌসুম চলছে। বোরো ধান চাষের জন্য নিয়মিত সেচ পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেচ ক্যানেলে পানি না থাকায় আমরা আমাদের চাষাবাদ পরিকল্পনা অনুযায়ী সেচ দিতে পারছি না। এতে আমাদের খরচ বাড়ছে এবং ফসলের ফলন অনিশ্চিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীতে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ না থাকায় সেচ ক্যানেলে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। উজানে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।

এদিকে কৃষকরা বলছেন, তিস্তার পানি না এলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ক্যানেল তাদের কোনো কাজে আসছে না। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে উত্তরের কৃষি ব্যবস্থা আরও বড় সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


‘কম খরচ, ভালো দাম’ গমচাষে আগ্রহ বেড়েছে পঞ্চগড়ে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

গতবারের চেয়ে এ বছরে ১ হাজার হেক্টর জমিতে গম চাষ বেশি হচ্ছে পঞ্চগড় সদর উপজেলায়। গত মৌসুমে গম চাষ হয়েছে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে। এ বছরে তা বেড়ে ৫ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হচ্ছে। গম চাষিরা জানান, মাঠে বোরো আবাদে প্রচুর পানি থাকায় গম আবাদে অসুবিধা হয়। এজন্য গম চাষ কম হয়। এবার আলুর চাষ কিছুটা কম হওয়ায় চলতি মৌসুমে গম চাষের জমির পরিমাণ বেড়েছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার গ্রামের কৃষক সজীব আহম্মেদ, বাবু, হাসান, আতোয়ার, উপজেলার মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ধানের জমির মাঝে গম আবাদে অসুবিধা হয়। তাই উঁচু জমিতে প্রতি বছরই আমরা গম আবাদ করি।

সেচসহ অন্য উৎপাদন খরচ কম, তুলনামূলক রোগবালাইও কম এবং গম তুলে সরাসরি অন্য যেকোনো ফসল চাষ করা যায়। ফলে গম আবাদে তাদের আগ্রহ বাড়ছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী জানান, মাটি বেলে ও দো-আঁশ হওয়ায় গম চাষের জন্য বেশ উপযোগী। অন্য ফসলের তুলনায় গম চাষে খরচ কম ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকদের গম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

চলতি মৌসুমে গম চাষ সফল করতে মাঠ পর্যায়ে সদর উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


পাট বীজে নতুন স্বপ্ন: এক উদ্যোক্তার হাত ধরে বদলে গেছে গ্রামের চিত্র

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত এক গ্রামের নাম মদন। একসময় সাধারণ কৃষিপ্রধান গ্রাম হিসেবে পরিচিত হলেও এখন অনেকেই এটিকে চেনেন ‘পাটবীজ গ্রাম’ হিসেবে। উদ্যোক্তা আবু হানিফের হাত ধরে এখানে তৈরি হয়েছে শত শত নতুন উদ্যোক্তা। পাটবীজ উৎপাদনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন কৃষকেরা, তৈরি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থান। আগে কাজের খোঁজে বাইরে যেতে হলেও এখন গ্রামেই মিলছে নিয়মিত আয়।

একসময় এই গ্রামে পাট চাষ হলেও মানসম্মত বীজের অভাবে কৃষকেরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পেতেন না। রোগবালাই ও কম উৎপাদনে হতাশ ছিলেন অনেকে। এখন সেই চিত্র বদলে গেছে। পাটবীজকে ঘিরে নতুন স্বপ্ন দেখছে পুরো এলাকা। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় উদ্যোক্তা আবু হানিফ।

গবেষণালব্ধ বীজ নিয়ে কাজ শুরু করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় তিনি গড়ে তুলেছেন সফল বীজ উৎপাদন ব্যবস্থা। তার উৎপাদিত এইচসি-৯৫ জাতের বীজ ব্যবহার করে কৃষকেরা বিঘাপ্রতি পাচ্ছেন প্রায় ১৬ মণ পর্যন্ত পাট। যেখানে প্রচলিত আমদানিকৃত ভারতীয় জাতের বীজে ফলন হয় ১০ থেকে ১২ মণ।

আবু হানিফ জানান, শৈশব থেকেই তিনি পূর্বপুরুষদের কৃষিকাজ দেখে বড় হয়েছেন। তাদের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে পাটের আবাদ হতো। কিন্তু রোগবালাই ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সেই পাটের অনেকটাই নষ্ট হয়ে যেত। প্রত্যাশিত ফলনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক উৎপাদন পেতেন তারা।

পড়াশোনা শেষ করে কৃষিকাজেই মনোযোগ দেন আবু হানিফ। পাটের ফলন বাড়ানোর উপায় খুঁজতে তিনি যোগাযোগ করেন পাট গবেষকদের সঙ্গে। সেখান থেকেই শুরু হয় তার পাটবীজ উৎপাদনের যাত্রা। প্রথম বছরে উৎপাদিত বীজের অর্ধেক নিজের কাছে রেখে বাকিটা স্থানীয় কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দ্রুত আস্থা তৈরি হয়। পরে অন্য কৃষকেরাও তার বীজ ব্যবহার শুরু করেন।

আবু হানিফ বলেন, ‘সরকার প্রতি বছর চার হাজার টনের বেশি পাটবীজ আমদানি করে। দেশের বড় একটি অংশ এখনও আমদানিনির্ভর। এইচসি-৯৫ জাতটি যদি সরকারি উদ্যোগে সম্প্রসারণ করা যায়, তাহলে আমদানিনির্ভরতা কমবে এবং উৎপাদন বাড়বে।’

মদন গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সুকায়েত বলেন, আগে বীজ আনতে বা বিক্রি করতে দূরে যেতে হতো। এখন পাইকাররা সরাসরি গ্রামে এসে বীজ কিনে নিয়ে যান। তিনি বলেন, ‘কেনাফ পাটের বীজ চাষ ধানের চেয়ে বেশি লাভজনক। এতে সেচ, সার ও শ্রমিক কম লাগে, বাজারেও ভালো চাহিদা রয়েছে।’

একই গ্রামের কৃষক ওমর সিদ্দিক বলেন, কেনাফ পাটের বীজের বাজারে ভালো চাহিদা থাকায় উৎপাদনের পর বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। পাশাপাশি পাট চাষে জমির উর্বরতাও বাড়ে, যা পরবর্তী ফসলের জন্য উপকার বয়ে আনে।

তিনি জানান, আবু হানিফের পরামর্শে প্রথমে ৫০ শতাংশ জমিতে পাট আবাদ করেছিলেন। ভালো ফলন ও লাভ দেখে এবার তিনি ছয় একর জমিতে পাট চাষ করেছেন। আবু হানিফের সফলতা দেখে এলাকায় দুই থেকে আড়াইশ নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে বলেও জানান তিনি।

আবু হানিফের খামারে নিয়মিত কাজ করেন মো. রতন মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগে কাজের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেতে হতো। এখন কেনাফ পাটবীজ চাষের কারণে গ্রামেই কর্মসংস্থান হয়েছে।’

পাশের খয়রত গ্রামের কৃষক শাহ আলম জানান, কেনাফ পাটের নিচের অংশ ভালো জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, ফলে কৃষকেরা বাড়তি সুবিধাও পান।

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট, কিশোরগঞ্জের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, আবু হানিফের উৎপাদিত বীজের গুণগত মান ভালো। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকেরা তার কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করছেন। তার মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তাও তৈরি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আবু হানিফের গ্রামটিকে এখন অনেকে পাটবীজ গ্রাম হিসেবে চেনে। তার হাত ধরে দুই শতাধিক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। কিশোরগঞ্জকে যদি পাটবীজ উৎপাদনের হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তাহলে এটি সারাদেশে বিশেষ পরিচিতি পাবে।’


মৌরি চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কেশবপুরের কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে মৌরি চাষে লোকসান হওয়ায় এ আবাদে এলাকার কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। গত বছর সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ হয়েছিল। তবে এবার সেটা কমে ৩০ বিঘায় এসে দাঁড়িয়েছে। এ চাষে লাভের চেয়ে লোকসানের শঙ্কা থাকায় প্রতিবছর আবাদ কমে যাচ্ছে এবং চাষিরা মৌরি আবাদ থেকে সরে আসছেন বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। মৌরি দেখতে অনেকটাই জিরার মতো। অবসরে মুখশুদ্ধি হিসেবে বা পান খাওয়ার সময় মৌরি খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে হোটেল বা রেস্টুরেন্টে খাবারের পর মৌরি খেতে দেওয়া হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কেশবপুরে মাত্র ৩০ বিঘা জমিতে মৌরির আবাদ হয়েছে। গত বছর সাড়ে ৩৭ বিঘা জমিতে মৌরি চাষ করেছিলেন কৃষকরা। সে কারণে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল সাড়ে ৩৭ বিঘা। কিন্তু চলতি বছর এ উপজেলায় সাড়ে ৭ বিঘা জমিতে মৌরি চাষ কম হয়েছে। উপজেলার গৌরীঘোনা, মঙ্গলকোট ও মজিদপুর এলাকার কৃষকরা এ চাষ করেছেন। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে অল্প চাষ হয়েছে। কৃষকরা অন্য ফসলে লাভবান হওয়ায় মৌরি আবাদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

উপজেলার মজিদপুর এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, কয়েক বছর আগেও এখানে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে মৌরির আবাদ হত। ইউনিয়নটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ভদ্রা নদীর তীরে বীজ ছিটিয়ে দিলেই এর ব্যাপক ফলন পাওয়া যেত। ধীরে ধীরে এখানেও মৌরি আবাদ কমে গেছে বলে কৃষক আবদুল লতিফ জানান। গৌরিঘোনা এলাকায় গেলে একই কথা বলেছেন কৃষকরা।

উপজেলার পাঁচপোতা গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম বলেন, গতবছর তিনি ২ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছিলেন। এবারও তিনি ২ বিঘা জমিতে মৌরি আবাদ করেছেন। কিন্তু ঠিকমত বৃষ্টি না হওয়ায় খেতে গাছের সংখ্যা কম হয়ে গেছে। যে কারণে ফলন কম পাবেন বলে ধারণা করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম বলেন, এলাকার কৃষকেরা অন্যান্য ফসলসহ মৌরি চাষ করে লাভবান হয়। কিন্তু বাজার দর ভালো না এবং অন্যান্য ফসলে অতিরিক্ত লাভবান হওয়ায় এ বছর মৌরি আবাদ কম করেছেন কৃষকেরা।

উপজেলার কাস্তা গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘বছর তিনেক আগে সর্বশেষ প্রায় এক বিঘা জমিতে মৌরি চাষ করেছিলাম। জমি প্রস্তুত, রোপণ, সার, কিটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে লোকসান হওয়ায় এ চাষ ছেড়ে দিয়েছি। খরচের তুলনায় বাজারমূল্যে কম পাওয়ায় আমার মতো অনেকেই এ আবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ওই জমিতে অন্য ফসল আবাদ করে এখন বেশ লাভবান হচ্ছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এলাকার কৃষকরা অন্যান্য ফসলসহ সবজি চাষ করে ব্যাপক লাভবান হওয়ায় মৌরি চাষ বন্ধ করে দিয়েছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর মৌরি আবাদ কম হয়েছে।


কৃষিমন্ত্রীর হাতে আঙুর তুলে দিলেন কৃষি উদ্যোক্তা রুহুল আমিন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের সফল কৃষি উদ্যোক্তা মো. রুহুল আমিন তার খামারে উৎপাদিত দুই প্রজাতির সীডলেস আঙুর উপহার দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদকে। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সচিবালয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে তিনি নিজ বাগানের আঙুর মন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, দেশে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের বিস্তৃত সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে জলবায়ু উপযোগী উন্নত জাতের ফল উৎপাদনে উদ্যোক্তাদের অগ্রগতি কৃষিখাতে নতুন দৃষ্টান্ত। তিনি রুহুল আমিনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে উচ্চমূল্যের ফল চাষে সরকার প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও নীতিগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, রুহুল আমিন এক যুগেরও বেশি সময় ধরে জীবননগরে তার প্রতিষ্ঠিত ‘রুহুল এগ্রো লিমিটেড’ ও ‘গ্রীণ প্লানেট এগ্রো’ খামারে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন জাতের আঙুরের পরীক্ষামূলক চাষ চালিয়ে আসছেন। দীর্ঘ গবেষণা, জাত নির্বাচন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় আবহাওয়ায় সাফল্যের সঙ্গে বীজবিহীন আঙুর উৎপাদনে সক্ষম হন।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে আঙ্গুরের অধিকাংশ চাহিদা আমদানিনির্ভর। স্থানীয়ভাবে মানসম্মত আঙুর উৎপাদন বাড়লে আমদানি ব্যয় কমবে এবং কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে।

রুহুল আমিন বলেন, ‘সঠিক প্রযুক্তি ও বাজারসংযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশেই বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের আঙুর উৎপাদন দ্রুত সম্প্রসারণ সম্ভব।’ বৃহৎ পরিসরে চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও তার রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাসুদুর রহমান জানায়, চুয়াডাঙ্গার অনুকূল আবহাওয়া উচ্চমূল্যের ফল চাষে এ অঞ্চলের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উদ্যোক্তাদের এ উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন আশা জাগাচ্ছে।


কিশোরগঞ্জে হিমাগারে বীজ আলু সংরক্ষণে কৃষকের বিড়ম্বনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি

লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় এবার হিমাগারেও আলু সংরক্ষণ নিয়েও নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে আলু চাষিদের। ট্রাক লোড আনলোডের শ্রমিক কম থাকার কারণে দীর্ঘ অপেক্ষার পরও হিমাগারে আলু রাখতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা। তবে হিমাগার কর্তপক্ষ বলছে এ উপজেলায় মাত্র একটি হিমাগার এ হিমাগারে ধারণক্ষমতার চেয়ে ১০ গুন বেশি আলু উৎপাদন হওয়ায় চাষীরা আলু দ্রুত সংরক্ষণের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। আর এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় চলতি বছর ৬ হাজার ৪শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২শ হেক্টর জমিতে বেশি আলু চাষ হয়েছে। এছাড়া এ বছর আবহাওয়া ভাল থাকায় উৎপাদন হয়েছে বেশি। ৬ হাজার ৬শ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিকটন আলু উৎপাদন হয়েছে। কিন্তু কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মাত্র একটি হিমাগার যার ধারনক্ষমতা মাত্র ১০ হাজার মেট্রিক টন।

গত শনিবার ও রোববার নিতাই ইউনিয়নের মুক্তা হিমাগারে গিয়ে দেখা যায়, হিমাগারের সামনে শতাধিক আলু বোঝাই ট্রলি, মাহিন্দ্র ট্রাক্টর, ভ্যান, পিকাপসহ অসখ্যা আলু বোঝাই গাড়ি হিমাগারের ভিতরে ও রাস্তার উপরে ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া হিমাগারের শেটে হাজার হাজার বস্তা আলু পড়ে রয়েছে। হিমাগারের শ্রমিকরা আলুর বস্তা সংরক্ষণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অনেক কৃষক আলুর উপরে শুয়ে পড়েছে। হিমাগারে আলু সংরক্ষনের জন্য নিয়ে আসা আলু চাষী মোকছেদুল ইসলাম, মোন্নাফ আলী, নিজাম উদ্দিন, আনোয়ার মিয়াসহ অনেক কৃষক বলেন, আমরা আলু নিয়ে এসেছি তিনদিন হয়ে গেছে।

রোজা ধরে অনেক কষ্ট করেও হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করতে পারছিনা।

নিতাই ইউনিয়নের আলু চাষী শফিয়ার রহমান বলেন, আমি ৮ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি, প্রতি বিঘায় ৫৫ থেকে ৬০ কেজির ৩৫ থেকে ৪০ বস্তা করে ফলন হয়েছে। আমার ৮ বিঘা জমির মোট ৩১১ বস্তা আলু হয়েছে। মোটা আলু বিক্রি করতে চাইলে ব্যবসায়ীরা ৫ টাকা কেজি দর করেছে। তাই বিক্রি না করে সব আলু হিমাগারে এনেছি কিন্তু গত ৫ দিন থেকে আলু বাহিরে পরে রয়েছে।

বাহাগিলি ইউনিয়নের চাষী আব্দুল আজিজ বলেন, আমি ৬০ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছি। আলু বিক্রি করতে গেলে প্রতি কেজি দাম বলে ৫ থেকে ৬ টাকা। আবার আলু হিমাগারে সংরক্ষন করতে হলে প্রতিপিচ বস্তা নতুন ১১০ টাকা ও পুরাতন ৭০ পিচ কিনতে হচ্ছে। সবমিলে আলু গঁলার ফাঁসে পরিণত হয়েছে। হিমাগারে জায়গা পেতে অগ্রিম টাকা দিতে হচ্ছে।

মুক্তা হিমাগারের ম্যানেজার হামিদুল ইসলাম বলেন, হিমাগারে আলু সংরক্ষনের ক্ষেত্রে কৃষকের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। কারন হিসাবে তিনি বলেন, সব কৃষক একসাথে আলু নিয়ে আসছে সংরক্ষনের জন্য। গাড়িচালকরা অপেক্ষা না করে শেটে আলু রেখে চলে যাচ্ছে। কিন্তু কৃষকরা আলু ভিতরে না যাওয়া পর্যন্ত বাড়ি যেতে চায়না। হিমাগারের শেটে কত আলু পরে আছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, অলরেডি হিমাগারের ভিতরে ৭০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষন করা হয়েছে। বাইরে রয়েছে ত্রিশ হাজার বস্তা। শ্রমিক সংকট রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন শ্রমিকের কোনো সংকট নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান হাকিম বলেন, এ বছর রেকর্ড পরিমান আলু চাষাবাদ হয়েছে। বাম্পার ফলনেও কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছিল্ধসঢ়; । কিন্তু আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ার কারনে দাম কম। ফলে কৃষকরা আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষন করছে। এ উপজেলায় মাত্র একটি হিমাগার । যার ধারনক্ষমতা মাত্র ১০ হাজার মেট্রিকটন। মুক্তা হিমাগারে আলু সংরক্ষনের জন্য কৃষকরা বিড়ম্বনায় পড়েছে জানালে তিনি বলেন, কৃষকরা যাতে হয়রানী না হয় এ বিষয়ে আমি মুক্তা হিমাগারের মালিকের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করব।


রাঙ্গামাটিতে বীজ উৎপাদন ও আধুনিক চাষাবাদ কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ২১:৩৭
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

রাঙ্গামাটি অঞ্চলে বিনা উদ্ভাবিত প্রতিকূলতা সহনশীল বিভিন্ন ফসলের জাতসমূহের পরিচিতি, বীজ উৎপাদন ও আধুনিক চাষাবাদ কৌশল শীর্ষক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে খাগড়াছড়ির সাতভাইয়া পাড়া অবস্থিত বিনা উপকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ হাসানুজ্জামান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান, কৃষি প্রকৌশল বিভাগ এবং প্রকল্প পরিচালক, “পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযোজন” প্রকল্প, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), ময়মনসিংহ।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) খাগড়াছড়ি উপকেন্দ্রের আয়োজনে এবং “পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযোজন” প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর উপপরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

এসময় বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ মুশফিকুর রহমান, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ হাবিবুর রহমান এবং খাগড়াছড়ি বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিগ্যান গুপ্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

কর্মশালায় প্রতিকূলতা সহনশীল নতুন জাতের ফসল চাষাবাদ সম্প্রসারণ, মানসম্মত বীজ উৎপাদন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


জীবননগরে সুলভমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জীবননগরে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ২ টায় জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে মুক্ত মঞ্চের নিকট এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে জীবননগর উপজেলায় আজ আমরা সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছি। মাহে রমজান মাস আসলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এজন্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এনে আমরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি শুরু করেছি। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুলভ মূল্যে কিনতে পেরে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাভেল রানা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম, আলমগীর হোসেন, আব্দুল আজিজ, মোর্শেদ বিল্লাহ, মাহবুব বিন সাদিক, শিমুল পারভেজ, ইয়াছিন আলী, রাজিব হাসান, রাকিব হোসেন, নুরুজ্জামান প্রমুখ।


জয়পুরহাটে এবারও আলুর দামে ধস, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। শনিবার সকালে কালাই উপজেলার তিশরাপাড়ার মাঠ থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাট। গতবছরের ন্যায় এবারও আলু চাষ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় আর্থিক লোকসান গুনছেন তারা। বিক্রির সময় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। ফলে উত্তরের শস্য ভাণ্ডার এ জেলায় বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। উৎপাদন খরচ তুলতে পারাই দূরের কথা, পানির দরে আলু বিক্রি করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষকরা জানান, সব জিনিসের দাম বাড়ে আর আমাদের আলুর দাম কমে। অথচ আলু উৎপাদনের ওপরে অনেকটা নির্ভরশীল এ জেলার মানুষ। যদি জয়পুরহাটের আলু বিদেশে রপ্তানি করা যায়, তাহলে আলুর দাম ভালো পাওয়া যাবে। এছাড়া এই জেলায় আলু নির্ভর শিল্প কল কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হলে আলু নিয়ে আর ঝামেলা হবে না। এজন্য এমপি ও মন্ত্রীদের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

সরজমিনে দেখা গেছে, জয়পুরহাটের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে আলু তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাটির বুক চিরে বের হচ্ছে গোল আকৃতির এই সবজি। কিন্তু কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের বদলে বিষণ্নতার ছাপ। বাজারের বর্তমান চিত্র তাদের সব স্বপ্ন ফিকে করে দিয়েছে। অনেকে আলু বিক্রি না করে রাস্তার পাশে আলু স্তুপ করে রাখছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার সোটাহার ধারকী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর লাভের আশায় ৫০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। প্রতিবস্তা ১২০০ টাকায় রাখলেও উত্তোলনের সময় সবখরচ বাবদ প্রতিবস্তায় মাত্র ৫০টাকা পেয়েছি। সেই ক্ষতি পোষাতে এবারও ১০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছিলাম। কিন্তু এবারও লাভ হলো না। প্রতি বিঘায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করেছি ২০-২২ হাজার টাকায়। এতে প্রতি বিঘায় ১৫-১৮ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

নজরুল ইসলামের মতো জেলার অন্যান্য কৃষকরাও দিশেহারা। আগামীতে আলু উৎপাদনে না যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন তারা। একই গ্রামের আরেক কৃষক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গতবছর আলু চাষ করে লোকসান হওয়ার পর এবার লাভের আশায় ১২ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছিলাম। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলা যাচ্ছে না। এখন আলু উৎপাদন করে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি।

কালাই উপজেলার তিশরাপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বাবু বলেন, আলুর বাজার এমন খারাপ যে অনেক ব্যবসায়ী আলু কিনেও সময়মতো টাকা দিচ্ছেন না। আলুর দাম কম হওয়ায় ও বাজার দর কমে যাওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কালাই উপজেলার মাদাই গ্রামের আরেক কৃষক মফছের আলী বলেন, আলুর যে বর্তমান দাম এ দামে কৃষক আলু হিমাগারে রাখবে না। আবার হিমাগার ভাড়া বেড়ে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, বস্তার দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। আমাদের আর বাঁচার উপায় নেই। সব জিনিসের দাম বাড়ে আর আমাদের আলুর দাম কমে।

আলু ব্যবসায়ী মইনুল হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই এবার আলুর দাম কম। এখন আলু প্রকারভেদে প্রতিমণ স্টিক ৩৫০ টাকা, ১২-১৩ জাতের আলু ৩০০ টাকা এবং গ্র্যানুলা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জয়পুরহাটে এ বছর ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে। আলুর ব্যাপক ফলন হলেও দাম নিয়ে কৃষকরা হতাশ। যদি আলু ভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন করা যায়, চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সরকারের জন্যও বড় পরিমাণ রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।

জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা আলুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। আলুর উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারদর কম থাকায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আলুর বিকল্প ব্যবহার-যেমন প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহার বাড়ানো গেলে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পায়। সেজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।


banner close