বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৭ ফাল্গুন ১৪৩২

যশোরে ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে হচ্ছে ড্রাগন চাষ

শার্শায় কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষে বেড়েছে তিনগুণ ফলন
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:৪০

রাতের আঁধারেও যেন দিনের আলো। এ রকম এক কৃত্তিম আলোয় যশোরের শার্শার বেনাপোলে চাষ হচ্ছে ড্রাগন। দিন বাড়াতে কৃত্রিম আলো, অমৌসুমে তিনগুণ হচ্ছে ফলন। ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে কৃষকের ফিরেছে নতুন দিগন্ত। লাভবান হচ্ছে চাষি বাড়ছে চাষ। কৃষি প্রধান উপজেলা যশোরের শার্শা। এ উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন মাঠে আধুনিক ইনডোর লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। ড্রাগন খেত দেখতে আসছে অনেকে। বাড়ছে কর্মসংস্থান। শীতের সময়ে বাড়ে কুয়াশা। অনেক সময দিনভর থাকে অন্ধকার। এ সময়ে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে ড্রাগনের ফলন বাড়িয়েছেন প্রায় তিনগুণ। উদ্ভাবনী উদ্যোগ শার্শার কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দশ বিঘা জমিতে ৭০ লাখ টাকা খরচে বছরে ৪০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা যায়। প্রতি মাসে খরচ হয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। দশ বছর ধরে হারবেষ্ট করা যায় ড্রাগনের। তাইতো সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে চাষে। কৃত্রিম আলোক রস্মিতে ড্রাগন গাছে ফুল ধরতে সহায়ক হচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে চোখ ধাধানো এক নান্দনিক দৃশ্য।

বাগানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। শীতের আমেজেও গাছগুলো ফুল দিতে শুরু করে। আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগন বাগান এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রই নয়, দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছ আর মাথার ওপরে এলইডির আলোর ঝলকানি মাঠজুড়ে তৈরি করে এক নান্দনিক দৃশ্য। অনেক দর্শনার্থীর মতে, এই দৃশ্য ইউরোপের উন্নত শহর কিংবা বিদেশের উন্নত কৃষি খামার। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থী।

কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বেনাপোল সরবাঙহুদা এলাকায় লতা সাহেব নামে একজন ব্যবসায়ী ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং করে ড্রাগন চাষ করছেন। গরমের ফল হলেও শীতের সময় গাছে ফলন আনতেই লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। অসময়ে ফলন ও ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন এ বাগান থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন মহেশপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ থেকে ব্যাপারীরা বেনাপোলের এই ড্রাগন নিতে আসেন। এ বাগান থেকে ব্যাপারীরা প্রতি কেজি ড্রাগন ৩০০ টাকা দরে তারা কিনে নিয়ে যান এখান থেকে। বর্তমান সময়ে তিনি প্রতিদিন এ বাগান থেকে ৭৫ হাজার টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে মৌসুম আসলে এর দ্বিগুণ টাকার বিক্রি হবে বলে তারা বলছেন।

ড্রাগন চাষি আবেদুর রহমান বলেন, ‘লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ড্রাগন চাষে ভরা মৌসুমে যে দাম পাওয়া যায়, অমৌসুমে ফলন ধরাতে পারলে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভে বিক্রি করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘লতা সাহেব আমার মামা হন তিনি এই ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। আমি সেটা তার দেখাশোনা করি । এ বাগান করতে মোট ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অমৌসুমে লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা এ বাগান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাচ্ছি। যার বাজার মূল্য ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। মৌসুম আসলে অর্থাৎ গরম আসলে এর ফলন আরও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে তখন অনেক টাকার ফল প্রতিদিন বিক্রি হবে। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখন আমরা সফলতার মুখ দেখছি। এই এলাকার অনেককেই এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করার কথা বলে থাকি। আমাদের বাগান ছাড়াও এ উপজেলার আরও অনেক জায়গায় এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।’

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক এলাকায় লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। লাইটিং পদ্ধতিতে অর্থাৎ অমৌসুমে উৎপাদিত ফলগুলো সাধারণত দাম বেশি থাকে এ জন্য কৃষকরা বর্তমান ড্রাগন চাষে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।


পাবনায় পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বীজ ও সার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ তুলে দেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর।

বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনাল্ট চাকমা বলেন, ‘সরকার কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উপকরণ পৌছে দিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। কৃষকরা যেন সঠিক পদ্ধতিতে এই বীজ বপন করে লাভবান হতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত কৃষকদের প্রত্যেককে নির্দিষ্ট পরিমাণ উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজ, ডিএপি সার, এমওপি সার এবং বালাইনাশকসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।


টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী চান্দিনার কৃষক শহিদুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পানিপড়া গ্রামে টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক শহিদুল ইসলামসহ এলাকার একাধিক কৃষক। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে শীতকালীন টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও জমিতে পাইকারি বিক্রি মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকদের আনন্দ কিছুটা ম্লান।

সরেজমিনে পানিপড়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ধানক্ষেত জুড়ে টমেটো ক্ষেত থেকে নারীরা ব্যস্তভাবে টমেটো সংগ্রহ করছেন। স্বল্প মজুরিতে তারা টমেটো পেড়ে বস্তাবন্দি করে পাইকারদের কাছে সরবরাহ করছেন।

জমির মালিক প্রবীণ কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর তিনি চার একর জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সমপরিমাণ টমেটো বিক্রি হয়েছে, ফলে মূলধন প্রায় উঠে এসেছে। তিনি জানান, একই জমির একটি অংশে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ হয়েছে, যেখানে এখন ফুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রমজানের পর বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, পানিপড়া এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। ক্ষেতজুড়ে কাঁচা-পাকা টমেটোর সমারোহ চোখে পড়ার মতো। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় কৃষিবিদ মো. হোসেন জানান, এ এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে তরমুজ, শসা ও টমেটোর চাষ হয়ে আসছে। তিনি নিজেও পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। টমেটো চাষের মাধ্যমে অনেক কৃষকের জীবনমান উন্নত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকে টমেটো সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

টমেটো চাষি রাকিব মিয়া জানান, এ বছর চার কিয়ার জমিতে টমেটো চাষে তার প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন এবং আরও চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন। তার মতে, পুরো এলাকা মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার টমেটো বিক্রি হবে।

ক্ষেতগুলোতে বহু মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন নারী শ্রমিক কাজ করেন, যারা দৈনিক ২০০ টাকা করে মজুরি পান, যা তাদের পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।

কৃষক শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, মাঠে পাইকারি বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৩–১৪ টাকায়, অথচ শহরের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছে—এটা কতটা ন্যায্য?

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। দাউদকান্দি, চান্দিনা, মুরাদনগর, বরুড়া ও সদর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, ন্যায্য মূল্য ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পানিপড়ার টমেটো দেশজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।


গুরুদাসপুরে মাসে কোটি টাকার মধু উৎপাদন বেকার যুবকদের আশার আলো 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুরে বেকারত্ব ঘোচাতে বাণিজ্যিক মৌচাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বল্প পুজি, কমঝুকি ও বেশি লাভে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে খামারের সংখ্যা।

সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা ক্ষেতের পাশে কিংবা বড়ই, লিচু বাগানে পেতে রাখা বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে স্বাবলম্বি হচ্ছেন বেকার যুবকরা। এ অঞ্চলে উৎপাদিত মধুর স্বাদ, গন্ধ, রঙ ও গুণগতমান ভালো থাকায় রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন জেলা এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও।

উপজেলা কুষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গুরুদাসপুরে ৫০ জন খামারি ভ্রাম্যমাণ মৌচাষে এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন। যা গত বছরের চেয়ে ৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌমাছিগুলো সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, বড়ই, লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করে। সেখান থেকে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে মৌচাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এতে একদিকে বেকারত্ব ঘুচিয়ে খামারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে পরাগায়নের ফলে ফল ও ফসলের উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ছে। যা অবদান রাখছে কৃষি অর্থনীতিতেও। মৌখামার ঘিরে অন্তত ২শ পরিবারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বেকার যুবক কর্মসংস্থানে এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

সূত্র আরো জানায়, প্রাকৃতিক ফুল থেকে মধু সংগ্রহের মৌসুম ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। হিসাবমতে ৪ মাসে এ উপজেলায় ৭৮. ৪ মে.টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত মধুর বাজার দর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার উপরে।

নাটোর জেলা মৌচাষি কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন জানান,জেলায় ৭৫ জন খামারির মধ্যে ৫০ জনই গুরুদাসপুরের বাসিন্দা। উপজেলার এসব খামারে প্রায় ৭ হাজারের মতো মৌবাক্স রয়েছে। প্রতি বাক্সে সপ্তাহে গড়ে ৬০০ গ্রাম মধু সংগৃহীত হয়ে থাকে। সে হিসাবে ৭ হাজার বাক্স থেকে সপ্তাহে ৪ হাজার ৯০০ কেজি মধু সংগৃহীত হচ্ছে। মাসে যার পরিমান ১৯ হাজার ৬০০ লিটার। উৎপাদিত এ মধু ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হিসাব মতে সংগৃহীত এসব মধু প্রতিমাসে বিক্রি হচ্ছে প্রায় কোটি টাকায়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধ শত শত মৌবাক্স পেতে রেখেছেন মৌ চাষিরা। মৌমাছির দল ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে লোহা ও কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি বক্সে তা জমা করছে। বাক্সে বিশেষ কৌশলে রানী মৌমাছিকে আটকে রাখা হলে শ্রমিক মাছিগুলো রানীকে অনুসরণ করে বক্সে সমবেত হয়। প্রতিটি মৌবাক্সে ছয় থেকে আটটি ফ্রেমের সঙ্গে মধু সঞ্চয় করে। পরে মৌবাক্স বের করে।

যন্ত্রের সাহায্যে ঘুরিয়ে বিশেষ কৌশলে খাঁটিমধু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত এসব মধু খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করা হয়।

উপজেলার হামলাইকোল গ্রামের মৌচাষি সৌরভ কুমার জানান, তিনি শরিষা ক্ষেতের পাশে ১০০টি বাক্স বসিয়েছেন। প্রতিবাক্স থেকে সপ্তাহে গড়ে ৬৫০ গ্রাম মধু সংগৃহীত হয়। ১০০টি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ৬৫ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। প্রতি কেজি মধুর বর্তমান বাজার দর ৪৫০ টাকা। সে হিসাবে সপ্তাহে তার আয় ৩০ হাজার টাকা। মাসে আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শ্রমিকের পারিশ্রমিক, জায়গা ভাড়া,বাক্স তৈরি ও আনুসাঙ্গিক খরচ মাসে ২০ হাজার টাকা। মাসিক নিট আয় লাখ টাকা।

জেলা মৌচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, বছরের চার মাস মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। অবশিষ্ট সময় মাছিগুলোকে বাঁচাতে চিনির তরল খাওয়াতে হয়। এ বছর সরিষা মৌসুমে উৎপাদন কম। মৌচাষিরা ব্যাংক-এনজিও থেকে ঋন নিয়ে এ পেশায় কোনমতে টিকে আছে। সরকারি সহযোগীতার দাবি জানান তিনি।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৫০ জন প্রশিক্ষিত মৌচাষি বানিজ্যিক মধু উৎপাদন পেশায় জড়িত। অল্প পুঁজি,ঝুকি কম ও লাভজনক হওয়ার কারনে বেকার যুবকরা বানিজ্যিক মৌচাষে ঝুকছে এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রতি বছরই মৌচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তাদের প্রশিক্ষন, পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।


সূর্যমুখীর হাসিতে বদলে যাচ্ছে মাঠ প্রণোদনার বীজে স্বপ্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাতে এবার সূর্যমুখী চাষ যেন হয়ে উঠেছে আলোচিত সাফল্যের গল্প। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট ১০৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করে আশাতীত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নএ পাঁচজন কৃষক প্রত্যেকে ১ কেজি করে উন্নত জাতের সূর্যমুখী বীজ নিয়ে মোট ২ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমি প্রস্তুত ভালো হওয়ায় মাঠজুড়ে এখন হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সূর্যমুখীর বাগান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুল যেন কেশবপুরের কৃষিজমিকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যের উদ্যানে। চারদিকে সবুজ গাছ আর হলুদ ফুলের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে অপরূপ দৃশ্য। আকর্ষণীয় এই ফুলের মাঠ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। অনেকে আবার স্মৃতি ধরে রাখতে সূর্যমুখীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

কৃষকের মুখে আশার কথা কৃষক ইব্রাহিম স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চাকরি করার পাশাপাশি কৃষিকাজে যুক্ত আছেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার আওতায় পাওয়া ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ দিয়ে বাড়ির পাশে ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার আমাকে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। এখন আমার জমির প্রায় সব গাছে ফুল ফুটেছে। বাজারদর ভালো থাকলে এ ফসল থেকে ভালো লাভ হবে।

আরেক কৃষক সুমন জোয়ারদার জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি কিন্তু সূর্যমুখী করিনি। এবার উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। এক একটি ফুলের ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হবে বলে ধারণা করছি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।

মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার তদারকি মজিদপুর ইউনিয়ন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম জানান, আমি সবসময় কৃষকদের নতুন নতুন লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এ বছর আমার কর্মএলাকায় পাঁচজন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন। নিয়মিত তাদের মাঠ পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো এই ফসলের বাজারে চাহিদা ও মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা যেন লাভবান হন এবং ভবিষ্যতে নিজেরাই বীজ কিনে আবাদে আগ্রহী হন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে দেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী একটি স্বল্প মেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বাজারে এর দামও কৃষকের অনুকূলে থাকছে। চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক সূর্যমুখী চাষে যুক্ত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের হাসি আর কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্ন সব মিলিয়ে কেশবপুরে সূর্যমুখী চাষ এখন শুধু একটি ফসল নয়, হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষির নতুন সম্ভাবনার নাম।


গোয়ালন্দে পেঁয়াজের বীজ চাষ করে কৃষক হুমায়নের বাজিমাত, আয় হতে পারে ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) সংবাদদাতা

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলায় কালো সোনাখ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হুমায়নের বাজিমাত। পেঁয়াজের বীজ চাষেই ১০/১২ লক্ষাধিক টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে হুমায়নের। হুমায়ন কৃষিতে বারবার পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন সফল কৃষক। হুমায়নের দেখাদেখিতে ‘কালো সোনা’ খ্যাত পেঁয়াজের বীজ চাষ করে লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন উপজেলার অনেক চাষিরা। গত কয়েক বছরে পার্শ্ববর্তী জেলা ফরিদপুরসহ অন্যান্য জেলায় ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় এবারও বীজ চাষে আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের।

কৃষি বিভাগ বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে এ উপজেলায় ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজ বপন করা হয়েছে। এসব বীজ উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায় রপ্তানি করা সম্ভব হবে। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় ‌উপজেলায় প্রতি বছরই বাড়ছে পেঁয়াজ বীজের উৎপাদন। দাম বেশি হওয়ায় এ বীজকে কৃষকেরা তুলনা করছেন সোনার সঙ্গে।

গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ৮ নং ওয়ার্ড তোরাপ শেখের পাড়া বাসিন্দা কৃষি উদ্যেক্তা হুমায়ন আহমেদ বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে আমি এ বছর ৬শ গ্রাম দানা বাইরে থেকে আমদানি করে ৪৪ শতাংশ জমিতে ৪শ কেজি বুশরা জাতের গুটি পেঁয়াজ লাগিয়েছি। আশা করছে এই ক্ষেত থেকে ২০০ থেকে ২১০ কেজি বীজ সংগ্রহ করতে পারব। যার বাজার মূল্য কমপক্ষে ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর এই বীজ সংরক্ষণ করে প্যাকেট জাত করে বিক্রি করলে কেজি প্রতি ৮ হাজার টাকা দামে ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করা সম্ভব হবে। সেক্ষেত্রে আড়াই লাখ টাকা খরচ বাবদ ১৩/১৪ লাখ টাকা লাভ করবো বলে আশা করছি।

সরেজমিনে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তোরাপ শেখের পাড়া গ্রামের ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, সাদা রঙের ফুলে ছেয়ে গেছে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত। মাঠজুড়ে বাতাসে দোল খাচ্ছে সাদা রঙের পেঁয়াজ ফুল। সাদা ফুলের মধ্যেই রয়েছে কালো সোনা। আর কৃত্রিমভাবে পেঁয়াজের ফুলে পরাগায়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক হুমায়ন আহম্মেদ। তিনি তার ক্ষেতে পেঁয়াজের ফুল যাতে করে নষ্ট বা বাতাসের কারণে ভেঙ্গে না যায় সেজন্য তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে বীজের ক্ষেতে মাঝ বরাবর জাল বেঁধে দিয়েছেন। তার আধুনিক পদ্ধতি ইতোমধ্যে অনেক কৃষকের দৃষ্টি কেড়েছে এবং তাদের মধ্যে পেঁয়াজ বীজে বপনের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

দেবগ্রাম এলাকার কিছু মাঠে দেখা যায়, সাদা রঙের ফুলে ছেয়ে গেছে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেত। এসব ক্ষেত করে শুধু কৃষকেরাই লাভবান হননি বরং স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান এর সৃষ্টি হয়েছে। পেঁয়াজ ক্ষেতে দৈনিক ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মজুরিতে কাজ করেন স্থানীয় যুবকেরা। উপার্জিত অর্থ দিয়ে পরিবারকে সহায়তা করছেন যুবকেরা। মাঠে ঘুরে দেখা যায়, সকাল হলেই এসব বীজ ক্ষেতের পরিচর্যায় জন্য সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ সেচ দেয়, আবার কেউ পোকা দমনের কীটনাশক স্প্রে নিয়ে এবং কেউ হাতের আলতো ছোঁয়ায় পরাগায়ন করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

সাধারণত নভেম্বর মাস বীজতলায় বা জমিতে পেঁয়াজ বীজ বপনের সময়। বীজ পরিপক্ব হতে সময় লাগে ১৩০ থেকে ১৫০ দিন। পরাগায়ন না হলে পেঁয়াজ ফুলে পরিপক্বতা আসে না। আর এসব ফুলে পরাগায়নের প্রধান মাধ্যম হলো মৌমাছি। পোকার আক্রমণ থেকে ফসল বাঁচাতে কৃষকেরা ক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করেন। কিন্তু সেই কীটনাশকে মারা পড়ছে উপকারী পোকা ও মৌমাছি। এ কারণে পেঁয়াজ বীজের ক্ষেতে দিন দিন মৌমাছির আনাগোনা কমে যাচ্ছে। তাই হাতের স্পর্শে কৃত্রিমভাবে পরাগায়নের চেষ্টা চলছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, পেঁয়াজের বীজের চাহিদা সারা বাংলাদেশেই বাড়ছে। গোয়ালন্দে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য যে সকল কৃষকেরা আছেন প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বীজ উৎপাদন করছেন। এ বছর বীজ উৎপাদনের জন্য পরিবেশ অনুকূলে থাকায় মানসম্মত বীজ উৎপাদন করতে পারবে বলে আশাকরি। পুরো উপজেলা জুড়ে প্রায় ৭ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ বীজের আবাদ হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গ্রীষ্মকালীন সময়ে পেঁয়াজের যে ঘাটতি রয়েছে সে ঘাটতি পূরণে কৃষকদের এখনি পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে হবে। আমরাও এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।


চরাঞ্চলে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

চরাঞ্চলের জমি থেকে মিষ্টি আলু তোলা ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ছবিটি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার চর ধারাবর্ষা গ্রাম থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি

মিষ্টি আলুর জন্য পরিচিত জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। ক্ষেত থেকে আলু তোলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। এ বছর আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় মিষ্টি আলুর বাম্পার ফলন হওয়ার পাশাপাশি বাজার দর ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে তৃপ্তির হাসি। কিন্তু মৌসুমের শেষ ভাগে বাজারদর কমে যাওয়ার অভিযোগ একাধিক চাষির। দেশে মিষ্টি আলু অবহেলিত ফসল হলেও প্রতিবছরই এ এলাকায় বড় পরিসরে আবাদ করা হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধারাবর্ষা, বড়বাড়ীয়া, কৈজুরী, কান্দারপাড়া, সৈয়দপুর, বয়সিংহ, ভাটারা, মোহনগঞ্জ, কাশারীপাড়া, পাখাডুবী, ফুলবাড়িয়া, পারপাড়া, গোপীনাথপুর, কৃষ্ণপুর, চর হরিপুর, আওনা, পোগলদিঘা, সহ বিভিন্ন এলাকার চরাঞ্চলে মিষ্টি আলুর চাষ করে কৃষকেরা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল জুড়ে মিষ্টি আলুর সবুজ পাতায় ছেয়ে আছে মাঠ। কৃষকেরা সারিবদ্ধ ভাবে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে মাটি আগলা করছে। আর পেছনে নারী শ্রমিকেরা আলু কুড়িয়ে গামলায় করে নিয়ে স্তুপ করে রাখছে। এসব মিষ্টি আলু চরাঞ্চলে ঘুরে মাঠ থেকেই মেপে বস্তাবন্দি করে কৃষকের থেকে সরাসরি কিনে নিচ্ছে পাইকাররা। পরে এসব মিষ্টি আলু ট্রাকে করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে যায় পাইকাররা। আবার কৃষকেরা নিজের চাষের খরচ কিছুটা বাঁচাতে মিষ্টি আলুর গাছ ও লতা গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে তুলে নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে।

বিভিন্ন গ্রামের মিষ্টি আলু চাষি আলা উদ্দিন, আব্দুস সামাদ, মোজাম্মেল হক বলেন, চরাঞ্চলের পতিত জমিতে বিশেষ করে নদীর ধারের জমি গুলোতে মিষ্টি আলু চাষ করা হয়। উপশী হাইব্রিড জাতের মিষ্টি আলু চারা রোপণের ৯০ দিনের মধ্যেই তোলা যায়। প্রতিবিঘা জমিতে একশো মণের উপর মিষ্টি আলু হয়। বিঘাপ্রতি জমিতে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন ও দাম ভালো হলে বিঘাপ্রতি ৮০-৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। অন্য কোন ফসল করে এতো লাভ হয় না।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ অণুপ সিংহ বলেন, এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন চরাঞ্চলে এ বছর ৬৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি আলুর চাষ করা হয়েছে। ফলনে খরচ কম হওয়ায় ও দামে অধিক লাভজনক হওয়ায় পতিত জমিগুলোতে মিষ্টি আলু চাষে ঝুকছে চরাঞ্চলের কৃষকেরা। মিষ্টি আলু চাষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের পরামর্শ ও সহায়তা করা হয়।


কেশবপুরে গাছে গাছে আমের মুকুলের সুবাসিত ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে গাছে গাছে ফুটেছে আমের মুকুল ছড়াচ্ছে পাগল করা সুবাসিত ঘ্রাণ। পল্লীকবি উদ্দিনের ভাষায় আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই' কবিতার পঙূক্তিগুলো বাস্তব রুপ পেতে বাকি রয়েছে আর মাত্র কয়েক মাস। তবে সুখের ঘ্রাণ বইতে শুরু করেছে। গাছে গাছে ফুটছে আমের মুকুল। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মুকুলের পাগল করা ঘ্রান। দেখা গেছে আমের মুকুলে তাই এখন মৌমাছির গুজ্ঞন। মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ যেন জাদুর মত কাছে টানছে তাদের। গাছের প্রতিটি শাখা-প্রশাখায় তাই চলছে তাই চলছে ভ্রমের সুর ব্যজ্ঞনা। শীতের স্নিগ্ধতার মধ্যে ছড়াচ্ছে সোনালী মুকুল। বছর ঘুরে আবারও তাই ব্যাকুল হয়ে উঠছে আম প্রেমীদের মন। এবার সময় এর আগে সোনালী মুকুলে ভরে গেছে কেশবপুর অঞ্চলের আম বাগান। মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়েছে আমের শাখা। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে সোনালী স্বপ্নে ভাসছেন আম চাষিরা। বাগানের সারি সারি গাছে ঝুলছে আমের মুকুল ।

সুরভিত মুকুলের গন্ধ পাল্টিয়ে দিয়েছে এ অঞ্চলের বাতাস। তাই দক্ষিণা বাতাসে দোল খাচ্ছে আম চাষির স্বপ্ন। আশার আলো জ্বালিয়েছে আম বাগানের মালিক ও ব্যবসায়ীদের মন। সরজমিনে কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, গাছে গাছে নানা ফুলের সঙ্গে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ আকাশে বাতাসে মৌ মৌ গন্ধে মাতোয়ারার করে তুলেছে।

থোকায় থোকায় হলুদ রংঙের মুকুল ও গুটি আম দেখে ইতিমধ্যে ব্যবসায়ীরা বাগানে দরদাম হাঁকাচ্ছে। আর বাগানের মালিকরা আমের ভালো ফলন পেতে ছত্রাক নাশক প্রয়োগ সহ বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ততার সময় পার করছেন। এদিকে আম চাষিরা খুশি হলেও কৃষি কর্মকর্তা বলেন শীত বিদাই নেওয়ার আগেই আমের মুকুল আশা ভালো নয়। কেশবপুরে প্রধান প্রধান আমের আবাদ হচ্ছে আমরুপালি ,ফজলি, মল্লিকা, ল্যাংড়া, হিমসাগর হাড়িভাঙ্গা, গোপালভোগ, বারি ১০, বেনারসি, সিতাভোগ, ও রসে ভরা বোম্বাই। এরমধ্যে হিমসাগর ফজলি ল্যাংড়া আম্রপালির চাহিদা বেশি।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলায় চলতি বছরে আম চাষ হয়েছে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে মজিদপুর, সাগরদাঁড়ি, পাঁজিয়া, মঙ্গলকটে, সুফলাকাটি, ত্রিমাহিনী ও কেশবপুর সদর ইউনিয়নে বেশি আমের বাগান রয়েছে।

কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের আম চাষি আব্দুল বারী গাজী বলেন, এবছর আমার আম বাগানে পচুর পরিমাণে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত মুকুলে কোন রোগ আক্রমণ করিনি। যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না আসে তাহলে আশা করছি প্রতিটি আম গাছেই পর্যাপ্ত পরিমাণে আম ধরবে। উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের আম বাগানের মালিক আব্দুর জলিল সরদার বলেন, বাগানের অধিকাংশ গাছে এরই মধ্যে মুকুলে ছেয়ে গেছে।

এবার কুয়াশা কম থাকায় মুকুল ভালোভাবে পস্ফুটিত হয়েছে। গত বছর তিন বিঘা জমিতে আমের বাগান ছিল। এ বছর পাঁচ বিঘা জমিতে বাগান আছে। এলাকাতে ফসলি চাষের জমি রেখে অনেকেই আম বাগান করেছে। এবার আম গাছে খুব একটা কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হবে না। তবে ছত্রাক জনিত রোগে আমের মুকুলের গুটি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাহলে বাগানে দুই দফা ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে হবে। বগা গ্রামের আম বাগানের মালিক মনোতোষ বলেন, আম চাষে সহজেই লাভবান হওয়া যায় । যার কারনে অনেকেই এ পেশায় এগিয়ে আসছেন। আমের ফলন পেতে আমরা কৃষকরা বিভিন্ন সংগঠন থেকে পরামর্শ নিচ্ছি। আশা করা যায় গত বছরের থেকে এবছর আমের উৎপাদন বেশি হবে। আমি গত বছর এক বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছিলাম। যা বিক্রি করেছিলাম ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ বছর দেড় বিঘা জমিতে আমের চাষ করেছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আম গাছে মুকুল আসার আগে পোকা দমনের জন্য চাষীদের ছত্রাক নাশক স্প্রে করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ উপজেলার অধিকাংশ আম গাছে মুকুল ভালভাবে প্রস্ফুটিত হয়েছে। এছাড়া কানে প্রাকৃতিক দুর্যগে না হলে গত বছরের তুলনায় এবার আমের উৎপাদন বেশি হবে।


নবীনগরে জনপ্রিয় হচ্ছে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে শীত মৌসুমে মাঠজুড়ে নানা ধরনের শাক-সবজির সমারোহ দেখা যায়। বাঁধাকপি, ফুলকপি, লাউ ও কুমড়ার সঙ্গে এবার নতুন করে কৃষক ও ভোক্তাদের নজর কেড়েছে বিদেশি সবজি স্কোয়াশ। দেখতে শসার মতো হলেও আকারে বড় এই সবজিটি পুষ্টিগুণ, স্বাদ ও লাভজনক উৎপাদনের কারণে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্কোয়াশ একটি উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন ও দ্রুত ফলনশীল সবজি। এক বিঘা জমিতে স্কোয়াশ চাষে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা, আর বাজারজাত করে লাভ হতে পারে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত। লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় দিন দিন এই সবজির চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর জমিতে স্কোয়াশের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বড়িকান্দি ইউনিয়নের নুরজাহানপুর ব্লকের ধরাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক কুদ্দুস মিয়া স্কোয়াশ চাষে সাফল্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কুদ্দুস মিয়া জানান, বীজ বপনের মাত্র ৪০ দিনের মধ্যেই তিনি প্রথম দফায় স্কোয়াশ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, স্কোয়াশ চাষে খরচ কম, রোগবালাইও তুলনামূলকভাবে কম। অল্প সময়েই ফলন পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি স্কোয়াশ ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তার এই সাফল্য দেখে আশপাশের কৃষকরাও স্কোয়াশ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বিষয়ে বড়িকান্দি ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইন বলেন, সঠিক পদ্ধতিতে চাষ করলে স্কোয়াশে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মাঠ পর্যায়ে আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

অন্যদিকে নবীনগর পৌরসভার আলমনগর গ্রামের মুর্শেদা বেগম প্রায় ৩০ শতাংশ জমিতে স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছেন। তিনি বলেন, কম সময়ে ফলন পাওয়া যায় বলে আমি আশাবাদী। এতে পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, স্কোয়াশ একটি দ্রুত ফলনশীল ও উচ্চমূল্যের সবজি। নবীনগরের মাটি ও আবহাওয়া এ ফসল চাষের জন্য খুবই উপযোগী। জমির আইল, বসতবাড়ির আশপাশ কিংবা পতিত জায়গায় স্কোয়াশ চাষ করেও কৃষকরা সহজেই অতিরিক্ত আয় করতে পারেন। স্কোয়াশ চাষে এ ধরনের সাফল্য নবীনগরের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


জীবননগরে ভুট্টা চাষে ভাগ্য বদল, গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে ভুট্টা চাষ করে অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে গেছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

একসময় এই অঞ্চলের কৃষিকাজ শুধু ইরি-বোরো ধান, আমন ধান এবং কিছু চিরাচরিত শাকসবজির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক পদ্ধতিতে ভুট্টা চাষ করে কৃষকরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করছেন।

ভুট্টা চাষের এই সাফল্য কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে এবং এটি এখন তাদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চলতি মৌসুমে জীবননগর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ আশা করছে, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ভুট্টার বাম্পার ফলন হবে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জীবননগর উপজেলায় ৫ হাজার ৩১৯ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, ভুট্টা চাষে খরচ বাদে প্রতি বিঘা জমিতে ২৫-৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে। বছরে দুবার ভুট্টা চাষ করা যায়। নভেম্বর-ডিসেম্বর এবং মে-জুন ভুট্টা চাষের জন্য উপযুক্ত সময়। শীতকালে ফলন বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই সময়ে বেশি চাষাবাদ করেন।

তারা আরও জানান, একই জমিতে ধান চাষ করে গড়ে ২৫-৩০ মণ ফলন পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অন্যদিকে, ভুট্টা চাষ করে ৪০-৪৫ মণ ফলন পাওয়া যায়, যার বাজারমূল্য কমপক্ষে ৫০ হাজার টাকা। এই কারণেই কৃষকরা ধানের চাষ কমিয়ে ভুট্টার দিকে ঝুঁকছেন। গত বছর ভুট্টার ভালো দাম পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা উচ্চ ফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের ভুট্টা চাষি আবদার হোসেন জানান, ২০ বছর আগে তিনি প্রথম এই এলাকায় ভুট্টা চাষ শুরু করেন। প্রথম বছর এক বিঘা জমিতে ৩ হাজার টাকা খরচ করে উৎপাদিত ভুট্টা প্রায় ১৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে লাভ বেশি হওয়ায় তিনি পরের বছর জমির পরিমাণ আরও বাড়ান। এ বছর তিনি ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন এবং আশা করছেন উৎপাদিত ভুট্টা প্রায় ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, কার্তিকের শেষে জমি ভালোভাবে তৈরি করে সার প্রয়োগের মাধ্যমে ভুট্টা চাষের উপযোগী করা হয়। বীজ বপনের ১০-১৫ দিনের মধ্যে চারা গজায় এবং ৬ মাসের মধ্যে ভুট্টা সংগ্রহ করা যায়। প্রতি বিঘা জমিতে ৪০-৪৫ মণ ভুট্টা উৎপাদিত হয়। জমি তৈরি থেকে ভুট্টা সংগ্রহ পর্যন্ত প্রতি বিঘা জমিতে ১৫-২০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং উৎপাদিত ভুট্টা ৪৫-৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। এতে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়।

একতারপুর গ্রামের ভুট্টা চাষি আমিনুল ইসলাম বলেন, ভুট্টা চাষে লাভ বেশি ও নিরাপদ। প্রতি বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ভুট্টা ভালো হলে ৪০-৪৫ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়। দেশি জাতের তুলনায় হাইব্রিড ভুট্টায় সার, কীটনাশক ও সেচের খরচ কম, তাই কৃষকরা হাইব্রিড ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী। ভুট্টা গাছ ও মাড়াইয়ের পর অবশিষ্ট অংশ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

খয়েরহুদা গ্রামের কৃষক ইউনুস আলী জানান, অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি গত বছর ভুট্টা চাষ করে ভালো দাম পাওয়ায় এ বছর তিনি ভুট্টার চাষ বাড়িয়েছেন। ভুট্টার দাম ভালো থাকলে এ বছরও লাভবান হবেন বলে তিনি আশা করছেন।

উথলী গ্রামের ভুট্টা চাষি সামাদুল হক জানান, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করে সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এ বছর তিনি সাড়ে ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন এবং বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেনের মতে, ভুট্টা এই উপজেলার প্রধান অর্থকরী ফসল। এই উপজেলার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য খুবই উপযুক্ত এবং কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত পরামর্শ দেওয়ায় এখানে রেকর্ড পরিমাণ ভুট্টা চাষ হয়েছে।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে আশা করা যায়। তবে কৃষকরা যদি ভুট্টা সংরক্ষণ করতে পারতেন, তাহলে তারা আরও বেশি লাভবান হতেন। কৃষি বিভাগ থেকে আধুনিক জাতের ও উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার চাষ বাড়ানোর জন্য কৃষকদের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে ভুট্টার চাষ আরও বাড়বে বলে আশা করা যায়।


শরণখোলায় কলাই চাষ: কম খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে খেসারি (কলাই) চাষ করা হয়েছে। কম খরচে ভালো ফলনের সম্ভাবনায় এ ডাল ফসলে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নে খেসারির আবাদ বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

চালরায়েন্দা গ্রামের কৃষক জাকির জমাদ্দার বলেন, খেসারি চাষে খরচ ও যত্ন তুলনামূলক কম লাগে। ফলন ভালো হলে লাভের আশা করছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, খেসারি মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ডাল হিসেবে পরিচিত। কৃষি বিভাগ কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ফলন হলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে বাজারে সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


সারিয়াকান্দি ও সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে সরিষা চাষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। এদিকে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বিনা চাষে করা সরিষার আবাদে লাভবান হওয়ায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের। বিনা চাষ পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে ও অল্প সময়ের ব্যবধানে ভালো ফলন পাওয়ায় ঝুঁকছেন বলে তথ্যসূত্রে উলেখ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিস্তারিত;

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি জানান : দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় দিন দিন বাড়ছে সরিষার আবাদ। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ তেমন না থাকায় কৃষকদের প্রত্যাশা—এবার হবে বাম্পার ফলন। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এ বছর সাতকানিয়ায় ২শ ৭৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছে, যা গত মৌসুমের তুলনায় ৯ হেক্টর বেশি।

পশ্চিম বাজালিয়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডে সরেজমিনে দেখা যায়—চারদিক জুড়ে হলুদের সমারোহ। আমন ধান আগাম ঘরে ওঠায় পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকরা সরিষা আবাদ করেছেন। ফলে একই জমিতে আমন–সরিষা–বোরো—তিন দফা ফসল ঘরে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পশ্চিম বাজালিয়ার কৃষক নারায়ণ বলেন, “সরিষা চাষে রোপণ থেকে বাড়তি খরচ নেই, সেচও লাগে না। শুধু সার দিলেই চলে। কৃষি অফিস উন্নত বীজ ও সার দিয়ে সহায়তা করেছে—লাভ নিশ্চিত।” তিনি জানান, সরিষার গাছ জ্বালানি হিসেবেও কাজে আসে, আর সরিষা ওঠার পর একই জমিতে বোরো ধান রোপণ করায় সারের খরচও কমে।

একই এলাকার চাষি কাঞ্চন দে বলেন, ‘কৃষি কর্মকর্তাদের সহায়তায় ১২ শতক জমিতে সরিষা চাষ করেছি। সরকার থেকে ২৫ কেজি সার ও ১ কেজি উন্নত বীজ পেয়েছি। ফলন ভালো—কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তুলব।’

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার মো. মনিরুজ্জামান জানান, চলতি মৌসুমে বারী সরিষা–১৮, বারী সরিষা–২০, বিনা সরিষা–৯ ও ১১—এই জাতগুলো চাষ হয়েছে। প্রণোদনা হিসেবে ৩শ ৭০ জন কৃষককে উন্নত বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘সরিষা খেতে মৌমাছি আসে—মধু চাষ করলে কৃষকের আয় বহুগুণ বাড়বে। আমরা মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি।’

কম খরচ, ভালো ফলন ও বহুমুখী সুবিধায় সাতকানিয়ায় সরিষা এখন কৃষকের লাভের ফসল। প্রতি বছরই বাড়ছে আবাদ—হলুদ মাঠের এই সাফল্যই জানান দিচ্ছে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার গল্প।

সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি জানান : জ্বালানি ও শ্রম সংকটের এই সময়ে বিনা চাষে সরিষা চাষ করে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দির প্রান্তিক

কৃষকেরা। স্বল্প খরচে ও অল্প সময়ের ব্যবধানে ভালো ফলন পাওয়ায় এই পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর এ উপজেলায় ৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছিল। এ বছর সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর। যার বিপরীতে ৩ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে উৎপন্ন হয়েছে। গত বছর উপজেলায় হেক্টর প্রতি ১.৬ মেট্রিক টন সরিষা উৎপাদন হয়েছিল।

কৃষি বিভাগ আরও জানান, ধান কাটার পর জমি চাষ না করেই অবশিষ্ট আর্দ্রতার ওপর ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে উন্নত জাতের সরিষা বীজ। এতে জমি প্রস্তুতির খরচ কমেছে, সেচের প্রয়োজন হয়নি বললেই চলে। ফলে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

উপজেলার নারচী ইউনিয়নের টিওর পাড়া গ্রামের কৃষক জুল্লু মিয়া (৫৫) বলেন, গত বছর ৩ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করে ১৮ মণ সরিষা পেয়েছিলেন। যা বাজারে ভালো দামে বিক্রি করে বেশ লাভবান হয়েছিলেন। এ বছরও ৪ বিঘা জমিতে সরিষার আবাদ করেছেন তিনি। আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো ফলন হয়েছে। সরিষাগুলো পরিপক্ব হওয়া শুরু করেছে। কয়েক দিনের মধ্যেই সরিষা জমি থেকে উত্তোলন করা শুরু করবেন। উপজেলার সর্ব দক্ষিণের ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোড়গাছা গ্রামের কামরুল ইসলাম নামের এক ব‍্যাংকার এ বছর পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে একই পদ্ধতিতে সরিষার আবাদ করেছিল। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী গত কয়েকবছর ধরেই কৃষকরা বিনা চাষে সরিষার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন। সরিষা থেকে একদিকে যেমন তৈল এবং খৈল পাওয়া যায়, অপরদিকে শুঁকনো উদ্ভিদ কৃষকরা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছেন। যা মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর খাবারসহ বিভিন্ন কাজেই ব্যবহার হয়।


শ্যামনগরে আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

শ্যামনগর কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপণ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সাতক্ষীরা জেলায় প্রায় প্রতিটি উপজেলায় কৃষকরা জমি প্রস্তুত, বীজতলা থেকে চারা উত্তোলন এবং মূল জমিতে রোপণের কাজ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে । শ্যামনগর উপজেলা কৃষি ফসলের জন্য উর্বর ও মাটি ভেজা হওয়ায়। চাষিদের ফসল ফলানো সহজ।

উপজেলার কৃষকরাই বর্তমানে আমন ধানের চারা রোপণের কাজে ব্যস্ত। মাটি উর্বর ও নদীবিধৌত অঞ্চল হওয়ায় এই জেলাগুলো ধান চাষের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী।

জমি তৈরি ও চারা রোপণ পদ্ধতি: আমন ধান রোপণের আগে কৃষকরা কয়েকটি ধাপে জমি প্রস্তুত করেন। কৃষকরা প্রথমে লাঙল বা ট্রাক্টর দিয়ে জমি চাষ করে আগাছা পরিষ্কার করা হয়। এর পর সমানভাবে সার (যেমন ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি) প্রয়োগ করা হয়।

পরে কাদা তৈরি করে মাটি সমান করা হয়, যাতে পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। বীজতলায় গজানো ২৫ থেকে ৩৫ দিন বয়সের চারাগুলো সারিবদ্ধভাবে মূল জমিতে রোপণ করা হয়। এতে ফসলের পরিচর্যা, আগাছা দমন এবং কীটনাশক প্রয়োগের সুবিধা হয়।

উর্বর মাটিতে অন্যান্য কৃষি ফসল: ময়মনসিংহ বিভাগের মাটি শুধু আমন ধান নয়, আরও অনেক ধরনের ফসল উৎপাদনের জন্য উপযোগী। এখানকার উর্বর মাটিতে যে প্রধান ফসলগুলো চাষ হয়।

যেসব ফসলগুলো চাষ হয়, উল্লেখ্য : আমনের পাশাপাশি বোরো ধানও এই অঞ্চলের প্রধান ফসল। পাট: এটি এখানকার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল।

আখ চাষেও এই অঞ্চলের বিশেষ সুনাম আছে। ভুট্টা এটিও বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাদ্যশস্য। বিভিন্ন ধরনের সবজি আলু, বেগুন, টমেটো, লাউ, শিম, বাঁধাকপি, ফুলকপি, মুলা ইত্যাদি সবজির ব্যাপক চাষ হয়। ডাল ও তেলবীজ: মসুর, সরিষা, তিল ইত্যাদিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চাষ করা হয়। এই অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন বাংলাদেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


banner close