মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

রাঙ্গামাটিতে বীজ উৎপাদন ও আধুনিক চাষাবাদ কৌশল বিষয়ক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড
৩ মার্চ, ২০২৬ ২১:৩৭
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত
রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৩ মার্চ, ২০২৬ ২১:৩৬

রাঙ্গামাটি অঞ্চলে বিনা উদ্ভাবিত প্রতিকূলতা সহনশীল বিভিন্ন ফসলের জাতসমূহের পরিচিতি, বীজ উৎপাদন ও আধুনিক চাষাবাদ কৌশল শীর্ষক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে খাগড়াছড়ির সাতভাইয়া পাড়া অবস্থিত বিনা উপকেন্দ্রের প্রশিক্ষণ কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মোঃ হাসানুজ্জামান, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান, কৃষি প্রকৌশল বিভাগ এবং প্রকল্প পরিচালক, “পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযোজন” প্রকল্প, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), ময়মনসিংহ।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) খাগড়াছড়ি উপকেন্দ্রের আয়োজনে এবং “পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলে অভিযোজন” প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর উপপরিচালক নাছির উদ্দিন চৌধুরী।

এসময় বক্তব্য রাখেন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ মুশফিকুর রহমান, কৃষিতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ হাবিবুর রহমান এবং খাগড়াছড়ি বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিগ্যান গুপ্তসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

কর্মশালায় প্রতিকূলতা সহনশীল নতুন জাতের ফসল চাষাবাদ সম্প্রসারণ, মানসম্মত বীজ উৎপাদন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


জীবননগরে সুলভমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জীবননগরে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রির কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২ মার্চ) বেলা ২ টায় জীবননগর বাসস্ট্যান্ডে মুক্ত মঞ্চের নিকট এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল।

উদ্বোধনের সময় তিনি বলেন, পবিত্র মাহে রমজান মাস উপলক্ষে জীবননগর উপজেলায় আজ আমরা সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য বিক্রির কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে যাচ্ছি। মাহে রমজান মাস আসলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। এজন্য সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে সুলভ মূল্যে কৃষি পণ্য পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি আরও বলেন, সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে এনে আমরা ক্রেতাদের কাছে বিক্রি শুরু করেছি। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সুলভ মূল্যে কিনতে পেরে সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, জীবননগর কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার, সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা পাভেল রানা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাহ আলম, আলমগীর হোসেন, আব্দুল আজিজ, মোর্শেদ বিল্লাহ, মাহবুব বিন সাদিক, শিমুল পারভেজ, ইয়াছিন আলী, রাজিব হাসান, রাকিব হোসেন, নুরুজ্জামান প্রমুখ।


জয়পুরহাটে এবারও আলুর দামে ধস, দুশ্চিন্তায় চাষিরা

আলু তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। শনিবার সকালে কালাই উপজেলার তিশরাপাড়ার মাঠ থেকে তোলা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

আলু উৎপাদনে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাট। গতবছরের ন্যায় এবারও আলু চাষ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। মাঠে আলুর ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় আর্থিক লোকসান গুনছেন তারা। বিক্রির সময় কৃষকরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা। ফলে উত্তরের শস্য ভাণ্ডার এ জেলায় বাম্পার ফলন হলেও কৃষকরা হাসিমুখে ফসল ঘরে তুলতে পারছেন না। উৎপাদন খরচ তুলতে পারাই দূরের কথা, পানির দরে আলু বিক্রি করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।

কৃষকরা জানান, সব জিনিসের দাম বাড়ে আর আমাদের আলুর দাম কমে। অথচ আলু উৎপাদনের ওপরে অনেকটা নির্ভরশীল এ জেলার মানুষ। যদি জয়পুরহাটের আলু বিদেশে রপ্তানি করা যায়, তাহলে আলুর দাম ভালো পাওয়া যাবে। এছাড়া এই জেলায় আলু নির্ভর শিল্প কল কারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হলে আলু নিয়ে আর ঝামেলা হবে না। এজন্য এমপি ও মন্ত্রীদের সদিচ্ছা প্রয়োজন।

সরজমিনে দেখা গেছে, জয়পুরহাটের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে আলু তোলার ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। মাটির বুক চিরে বের হচ্ছে গোল আকৃতির এই সবজি। কিন্তু কৃষকের চোখে মুখে আনন্দের বদলে বিষণ্নতার ছাপ। বাজারের বর্তমান চিত্র তাদের সব স্বপ্ন ফিকে করে দিয়েছে। অনেকে আলু বিক্রি না করে রাস্তার পাশে আলু স্তুপ করে রাখছে।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার সোটাহার ধারকী গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, গত বছর লাভের আশায় ৫০০ বস্তা আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। প্রতিবস্তা ১২০০ টাকায় রাখলেও উত্তোলনের সময় সবখরচ বাবদ প্রতিবস্তায় মাত্র ৫০টাকা পেয়েছি। সেই ক্ষতি পোষাতে এবারও ১০ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছিলাম। কিন্তু এবারও লাভ হলো না। প্রতি বিঘায় ৩৫-৪০ হাজার টাকা খরচ হলেও বিক্রি করেছি ২০-২২ হাজার টাকায়। এতে প্রতি বিঘায় ১৫-১৮ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।

নজরুল ইসলামের মতো জেলার অন্যান্য কৃষকরাও দিশেহারা। আগামীতে আলু উৎপাদনে না যাওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন তারা। একই গ্রামের আরেক কৃষক উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গতবছর আলু চাষ করে লোকসান হওয়ার পর এবার লাভের আশায় ১২ বিঘা জমিতে আলু রোপণ করেছিলাম। লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তোলা যাচ্ছে না। এখন আলু উৎপাদন করে দুশ্চিন্তায় দিন পার করছি।

কালাই উপজেলার তিশরাপাড়া গ্রামের আব্দুল লতিফ বাবু বলেন, আলুর বাজার এমন খারাপ যে অনেক ব্যবসায়ী আলু কিনেও সময়মতো টাকা দিচ্ছেন না। আলুর দাম কম হওয়ায় ও বাজার দর কমে যাওয়ায় অনেক লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কালাই উপজেলার মাদাই গ্রামের আরেক কৃষক মফছের আলী বলেন, আলুর যে বর্তমান দাম এ দামে কৃষক আলু হিমাগারে রাখবে না। আবার হিমাগার ভাড়া বেড়ে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, বস্তার দাম বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা। আমাদের আর বাঁচার উপায় নেই। সব জিনিসের দাম বাড়ে আর আমাদের আলুর দাম কমে।

আলু ব্যবসায়ী মইনুল হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই এবার আলুর দাম কম। এখন আলু প্রকারভেদে প্রতিমণ স্টিক ৩৫০ টাকা, ১২-১৩ জাতের আলু ৩০০ টাকা এবং গ্র্যানুলা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় জয়পুরহাটে এ বছর ৩৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে, যা থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হবে। আলুর ব্যাপক ফলন হলেও দাম নিয়ে কৃষকরা হতাশ। যদি আলু ভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন করা যায়, চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং সরকারের জন্যও বড় পরিমাণ রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে।

জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, এই অঞ্চলের কৃষকরা আলুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। আলুর উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও বাজারদর কম থাকায় প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আলুর বিকল্প ব্যবহার-যেমন প্রক্রিয়াজাতকরণ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহার বাড়ানো গেলে চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পায়। সেজন্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে এবং দ্রুত কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।


নবীনগরে ‘সানসাইন’ আলু চাষে সাফল্য, ফলন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিএডিসি আলু-১ বা ‘সানসাইন’ আলু উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। এ আলুর আকর্ষণীয় রং, সমান আকার এবং উচ্চ ফলনের কারণে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগরের বিটঘর, পৌরসভা, ইব্রাহিমপুর ও নাটঘর ইউনিয়নে মোট ৫টি প্রদর্শনী প্লটে প্রায় ৫ বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু চাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হলেও নতুন এ জাতের ফলন পার্থক্য বিশ্লেষণের জন্য আলাদাভাবে ৫ বিঘা জমিতে প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। এতে অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি উৎপাদন পাওয়া গেছে।

প্রদর্শনী প্লটে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে এবং শতাংশপ্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মণ। স্বল্প মেয়াদি এ জাতের আলু গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই উত্তোলনযোগ্য হওয়ায় কৃষকরা কম সময়ে উৎপাদন করে দ্রুত বাজারজাত করতে পারছেন।

সানসাইন জাতের আলুর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে উজ্জ্বল হলুদাভ রং, মসৃণ চামড়া এবং প্রায় সমান ও মাঝারি আকার। একই সাইজের আলু হওয়ায় বাজারজাতকরণ সহজ হয়। পাশাপাশি যেকোনো আবহাওয়ায় উপযোগী হওয়া এবং ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৪-৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণযোগ্য হওয়ায় এটি কৃষকদের কাছে লাভজনক জাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের নূরজাহানপুর ব্লকের কৃষক আমির হোসেন বলেন, “আগে ডায়মন্ড জাতের আলু চাষ করতাম। এবার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে সানসাইন জাতের আলু আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে এর চাহিদাও ভালো থাকবে বলে আশা করছি।”

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজা বেগম জানান, “উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় এক বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু আবাদ করেছি। ৩৩ শতকে প্রায় ১০০ মনের বেশি আলু উৎপাদন হয়েছে। স্বল্প সময়ে বেশি ফলন পাওয়ায় এ জাতটি বেশ লাভজনক মনে হয়েছে।”

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন একটি স্বল্প মেয়াদি উচ্চফলনশীল সুপার ভ্যারাইটি। গড়ে ৬৫-৭০ দিনে ফসল উত্তোলন করা যায় এবং শতাংশপ্রতি গড় ফলন ৩ মনেরও বেশি। ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় আগামী বছর এ জাতের আবাদ আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

কৃষি বিভাগ জানায়, নভেম্বর মাস (মধ্য কার্তিক থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ) এ জাতের বীজ রোপণের উপযুক্ত সময়। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ২০০-২১০ কেজি বীজ আলু প্রয়োজন হয়। বীজ রোপণের আগে শোধন ও অঙ্কুরিত বীজ ব্যবহার করলে ফলন আরও বৃদ্ধি পায়।

কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, উন্নত জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে এ ধরনের প্রদর্শনী কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।


কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা

* মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় বাড়ছে চাষাবাদ * চলতি মৌসুমে জেলায় সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে ১৪৭ হেক্টর জমিতে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

দিগন্তজুড়ে সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহ। বাতাসে দুলছে সূর্যমুখী ফুল, সূর্যের গতিপথ অনুসরণ করে মুখ তুলে আছে সারি সারি গাছ। এমন নয়নজুড়ানো দৃশ্য এখন মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায়। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় জেলায় দিন দিন বাড়ছে সূর্যমুখী চাষ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আকবরপুর এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সংলগ্ন মাঠজুড়ে ফুটেছে সূর্যমুখীর হলুদ ফুল। একই চিত্র জেলার বড়লেখা, জুড়ী ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর এবং ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকায়। প্রতিদিন আশপাশের এলাকা থেকে সৌন্দর্যপিয়াসুরা দল বেঁধে আসছেন সূর্যমুখীর বাগান দেখতে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১৪৭ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে জুড়ী উপজেলায়। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এসব ক্ষেত থেকে সহস্রাধিক মণ বীজ পাওয়া যেতে পারে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, অল্প সময় ও কম পুঁজিতে ভালো ফলন পাওয়ায় সূর্যমুখী এখন জেলার সম্ভাবনাময় তেল ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলার লাহারপুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম (মিন্টু মিয়া) দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবার ১৫ শতক জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি। কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার সহায়তা পেয়েছি। এখন পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বাম্পার ফলন হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে বীজ সংগ্রহ করে বিক্রি করব। বাজারদর ভালো থাকলে লাভবান হবো।’

একই উপজেলার ভূনবীর ইউনিয়নের পশ্চিম লইয়ারকুল এলাকার কৃষক মো. খলিল মিয়া জানান, তিনি সাত শতক জমিতে সূর্যমুখী আবাদ করেছেন। এতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আশা করছেন, দুই থেকে তিন মণ বীজ সংগ্রহ করতে পারবেন।

কৃষি বিভাগ জানায়, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় এক কেজি বীজ প্রয়োজন হয়। দেড় ফুট দূরত্বে বপন করতে হয় এবং সারি থেকে সারির দূরত্বও রাখতে হয় দেড় ফুট। গড়ে প্রতি বিঘায় ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ উৎপাদন সম্ভব। কৃষিবিদদের মতে, সূর্যমুখী একবর্ষী উদ্ভিদ; গাছ প্রায় তিন মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে এবং ফুলের ব্যাস ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। সূর্যের দিকে মুখ ঘোরানোর বৈশিষ্ট্য থেকেই এর নাম সূর্যমুখী। এর বীজ থেকে উৎপাদিত তেল বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ভোজ্যতেল।

পুষ্টিবিদদের মতে, সূর্যমুখী তেলে কোলেস্টেরল কম এবং এতে ভিটামিন এ, ডি ও ই রয়েছে। হৃদরোগীদের জন্যও এটি উপকারী। ফলে দেশে ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জেলা সদরের আকবরপুরে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট–এ উদ্ভাবিত বারী-৩ জাতের সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, এ জাতের গাছ তুলনামূলক খাটো হলেও ফুল বড় এবং কাণ্ড শক্ত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না। ঝড়-বৃষ্টিতেও ক্ষতির আশঙ্কা কম। উৎপাদনও অন্যান্য জাতের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৪৯৪ শতক জমিতে সূর্যমুখীর আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। ভালো ফলনের আশা করছেন তারা।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, প্রণোদনা কর্মসূচির ফলে পতিত ও একফসলি জমি আবাদে আসছে। সূর্যমুখী চাষে কৃষকদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অধিকাংশ বাগানে ইতোমধ্যে ফুল ফুটেছে, যা ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, ১৯৭৫ সাল থেকে দেশে সূর্যমুখী তেল ফসল হিসেবে চাষ হয়ে আসছে। বর্তমানে রাজশাহী, যশোর, কুষ্টিয়া, নাটোর, পাবনা, দিনাজপুর, গাজীপুর, টাঙ্গাইল, শ্রীমঙ্গল ও মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলায় এর আবাদ বিস্তৃত হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মৌলভীবাজারের মাঠে সূর্যমুখীর হাসি শুধু প্রকৃতিকে লাবণ্যময় করছে না, কৃষকের ঘরেও নিয়ে আসছে সম্ভাবনার আলো। কম খরচে বেশি লাভের এ ফসল আগামী দিনে জেলার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করব।


রমজানে ভালো দামে হাসি ফুটেছে দেবিদ্বারের খিরা চাষিদের মুখে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

দেবিদ্বার উপজেলার কুরুইন ও মাসিকারা গ্রামে চলতি মৌসুমে কয়েক একর জমিতে খিরার বাম্পার ফলন হয়েছে। মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় খুশি এখানকার চাষিরা। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ বছর উপজেলাজুড়ে খিরা চাষের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলনামূলক কম বিনিয়োগে খিরা চাষে লাভের পরিমাণ প্রায় চারগুণের বেশি। ফলে নতুন করে অনেক কৃষক খিরা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। দেবিদ্বারের পাশাপাশি চান্দিনা উপজেলা, দাউদকান্দি উপজেলা, বুড়িচং উপজেলা, বরুড়া উপজেলা, মুরাদনগর উপজেলা ও কুমিল্লা সদর উপজেলা এলাকাতেও খিরা চাষে যুক্ত হয়েছেন অনেকে।

দেবিদ্বারের কুরুইন পূর্বপাড়ার হানিফ মিয়া জানান, শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস করে ৩০ শতক জমিতে খিরা চাষ করেন তিনি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রায় চারগুণ লাভ হয়েছে তার।

অন্যদিকে মাসিকারা পশ্চিমপাড়ার তরুণ কৃষক আরিফুল ইসলাম বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে উচ্চশিক্ষায় এগোতে না পারলেও কৃষিকাজেই তিনি ভবিষ্যৎ দেখছেন। আলু, বাঙ্গি, ভুট্টা ও ধানের পাশাপাশি এবার ২২ শতক জমিতে খিরা চাষ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার টাকা এবং ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার টাকার খিরা বিক্রি করেছেন। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে আরও দুই দফায় খিরা বিক্রির আশা করছেন তিনি।

কৃষি অফিসের সহযোগিতা প্রসঙ্গে আরিফুল জানান, কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পাননি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে আরও বেশি মানুষ কৃষিকাজে উৎসাহিত হতেন।

গ্রামের নজরুল ও সহিদসহ আরও কয়েকজন কৃষক জানান, বাজারে খিরার চাহিদা বেশি থাকায় পাইকাররা সরাসরি মাঠে এসে খিরা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে পরিবহন ঝামেলা কমেছে এবং ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এবার ব্যাপকভাবে খিরার চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এলাহাবাদ, মোহনপুর ও দীঘিরপাড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি ফলন হয়েছে। এসব এলাকায় তৃপ্তি, সুফলা, শতাব্দী-১ ও শতাব্দী-২ জাতের খিরা বেশি চাষ করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারমূল্য ভালো থাকায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। কৃষিবিদ হোসেন বলেন, ‘এবার খিরার বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে উচ্চমূল্য পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হয়েছেন।’


নওগাঁয় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

মুকুলের রঙে-গন্ধে ভরে ওঠেছে নওগাঁর আমবাগান। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা হলুদাভ মুকুল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সাজ। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো বেশি। তাই ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন জেলার আমচাষিরা। ধানের পরেই নওগাঁর কৃষকদের আস্থার প্রধান ফসল এখন আম।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। গত বছর ছিল ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর। তখন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার টন; কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন নেমে আসে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টনে।

এবার কৃষি বিভাগ ৪ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয়; এ দুই উপজেলাতেই প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমিজুড়ে রয়েছে আমবাগান।

জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি গাছে ঝুলে আছে মুকুলের থোকা। বড় ও মাঝারি গাছগুলোতে মুকুলের আধিক্য বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুধু বাগানেই নয়, বসতভিটা কিংবা রাস্তার পাশের গাছেও মুকুলের সমারোহ চোখে পড়ে। সম্ভাবনাময় ফলনের আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা।

আমচাষিদের ভাষ্য, গত বছর শীতের দীর্ঘস্থায়িত্ব ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রচুর মুকুল ও ছোট গুটি ঝরে পড়ে, ফলে ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়। তবে এ বছর শীতের তীব্রতা কম এবং কুয়াশাও তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছে গাছে মুকুল ভালো এসেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। যদিও বালাইনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান চাষিরা।

সাপাহার উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সোহেল রানা বলেন, ‘গতবার তার বাগানের মাত্র অর্ধেকের মতো গাছে মুকুল এসেছিল।’ এবার প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে, বাকি গাছেও শিগগিরই আসবে বলে আশা করছেন তিনি। বর্তমানে রোদের তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় ছত্রাকের আক্রমণও কম।

পত্নীতলা উপজেলার চাষি রায়হান হোসেন জানান, গত বছর দেরিতে মুকুল এসেছিল এবং অনেক গাছে মার্চের মাঝামাঝি সময়েও মুকুল ধরেছিল। কিন্তু এবার সময়মতো মুকুল আসায় তিনি ভালো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পোরশা উপজেলার লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘মুকুল আসার পর থেকেই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্প্রে ও পরিচর্যা করা হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হয়।’

আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলমের মতে, এ বছর প্রায় সব বাগানেই মুকুলের অবস্থা সন্তোষজনক। তবে সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বাড়ায় বাগান পরিচর্যার ব্যয়ও বেড়েছে।

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মুকুল ধরার সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কুয়াশার প্রকোপ কম থাকায় এখন পর্যন্ত ঝরে পড়ার ঘটনা কম। তবে ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার সমন্বয়ে নওগাঁর আমবাগানগুলোতে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠেছে। কৃষকের প্রত্যাশা, প্রকৃতি সহায় থাকলে এ মৌসুমে ঘরে ওঠবে সোনালি সাফল্য।


পঞ্চগড়ে কৃষি উপকরণ ও ব্রি নিড়ানি যন্ত্র বিতরণে কৃষকদের মাঝে উচ্ছ্বাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি) প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের তত্ত্বাবধানে কৃষকপর্যায়ে ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত ধান জাতের প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কৃষি উপকরণ ও যন্ত্র বিতরণ করা হয়েছে।

এ সময় অংশগ্রহণকারী কৃষকদের মাঝে প্রয়োজনীয় সার, কীটনাশক, আগাছানাশক ও সাইনবোর্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসেবে বিতরণ করা হয় সহজে চালনাযোগ্য ব্রি নিড়ানি যন্ত্র, যার মাধ্যমে সারির মাঝের আগাছা দ্রুত ও কার্যকরভাবে দমন করা সম্ভব। সংশ্লিষ্টরা জানান, এ যন্ত্র ব্যবহারে রাসায়নিক আগাছানাশকের ব্যবহার কমবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে এবং মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষিত থাকবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের প্রধান ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা, ব্রির রাইস ফার্মিং ডিভিশনের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন পায়েল, এলএসটিডি প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিফা তানজিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পঞ্চগড় সদরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা হরি নারায়ণ রায় উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে কৃষকদের মাঝে ব্রি উদ্ভাবিত উন্নত মানের বীজ সরবরাহ করা হয়। কৃষকরা জানান, বীজের অঙ্কুরোদগম হার অত্যন্ত সন্তোষজনক ছিল এবং রোপিত চারার বৃদ্ধি ভালো। নতুন জাত ও যন্ত্র একসাথে ব্যবহারের সুযোগ পেয়ে কৃষকরা ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। তারা আশা করেন, চলতি মৌসুমে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক এবং ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, পঞ্চগড়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তাদের মতে, গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি সরাসরি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ কৃষকদের আস্থা ও সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিমত, গবেষণা, যান্ত্রিকীকরণ ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ে পঞ্চগড়ে কৃষির টেকসই উন্নয়নে এলএসটিডি প্রকল্প একটি সময়োপযোগী ও দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


সারিয়াকান্দিতে ‘সুপার ফুড কিনোয়া’ চাষে সফল সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পরীক্ষামূলকভাবে আমেরিকান সুপার ফুড কিনোয়া চাষে সফল হয়েছেন একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। নিজে খাওয়ার জন্য চাষ করলেও বাজারে উচ্চ মূল্য থাকায় আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার স্বপ্ন তার। এটি সাধারণত বোরো ধান এবং আমন ধানের মাঝামাঝি সময়ে জমি যখন পতিত হয়ে থাকে, ঠিক সেই সময়ে জমি অলস না রেখে তাতে কিনোয়া চাষ করে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই ফসল সংগ্রহ করা যায়। এতে খুবই লাভ হয়। উপজেলার মাটিতে প্রথমবারের মতো কিনোয়া চাষে সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার পৌর এলাকার দেলুয়াবাড়ী গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ছেলে আব্দুল হান্নান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজের গ্রামের বাড়িতেই অবস্থান করছেন। বয়সের ভারে শরীরে নানা ধরনের রোগ বাসা বেঁধেছে। ভাত খাওয়ার পরিবর্তে তিনি আমেরিকান সুপার ফুড কিনোয়া খাওয়া শুরু করেন। যা ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপসহ বেশকিছু রোগ নির্মূলে বেশ উপকারী। যা তিনি ঢাকার বিভিন্ন সুপারসপ থেকে অতি উচ্চমূল্যে সংগ্রহ করতেন। যা প্রতি কেজি তিনি ৮০০ টাকা থেকে শুরু করে ১,৫০০ টাকা পর্যন্ত কিনে আনতেন। এত বেশি মূল্যে ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে তিনি কিনোয়া চাষের স্বপ্ন দেখেন। পরে ইউটিউব ঘেটে তিনি এর চাষপদ্ধতি জেনে, তার বাড়ির পাশে ১২ শতাংশ জমিতে কিনোয়া চাষ করেন। পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করলেও এটি চাষে তিনি সফল হয়েছেন। গত দুমাস আগে বপন করা কিনোয়ার গাছগুলো বেশ বড় হয়েছে এবং এর বীজ পরিপক্ব হয়েছে। তাই পরিপক্ব কিনোয়া তিনি এখন তার জমি থেকে উত্তোলন করা শুরু করেছেন। তিনি আশা করছেন তার ১২ শতাংশ জমিতে প্রায় ৭০ কেজির মতো কিনোয়ার উৎপাদন হবে। যার বাজার মূল্য ১ হাজার টাকা করে কেজি হলেও ৭০ হাজার টাকা। তিনি জানান, ভালো কিনোয়ার ফলন হলে প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ৮ মণ কিনোয়া উৎপন্ন হওয়া সম্ভব। আমেরিকাসহ বেশকিছু দেশের মানুষ কিনোয়া খেতে খুবই অভ্যস্ত। এটা তাদের দেশে প্রচুর পরিমাণে উৎপাদন হয়। যা বাংলাদেশ আমদানি করে ঢাকাসহ বিভিন্ন সুপারসপে বেশ উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। সাধারণত যাদের ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপসহ নানা ধরনের রোগে ভোগেন বা যাদের জন্য ভাত খাওয়া নিষেধ রয়েছে তারা নিঃসন্দেহে কিনোয়া খেতে পারে। এটা এসব রোগীদের জন্য খুবই উপযোগী।

তিনি বলেন, ‘এ বছর খাওয়ার জন্য মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ করেছিলেন।’ মাত্র ১২ শতাংশ জমিতে ভালো লাভ পেয়ে আগামীতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করার পরিকল্পনা করছেন তিনি। তার চাষ দেখে এবং বাজারে ভালো দামের কথা শোনে অনেকেই তার নিকট থেকে কিনোয়ার বীজ চেয়েছেন। তারাও আগামী বছর চাষ করবেন।

একই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, ‘হান্নান ভাইয়ের কিনোয়া চাষ তার খুবই ভালো লেগেছে। বাজারে যেহেতু প্রতি মণ কিনোয়া ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে, তাই আগামীও বছর তিনিও বেশকিছু জমিতে কিনোয়ার আবাদ করবেন।

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘এটি একটি লাভজনক ফসল এবং এ উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবারের মতো চাষ হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে এর আবাদ দিনদিন বৃদ্ধি পাবে।’


যশোরে ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে হচ্ছে ড্রাগন চাষ

শার্শায় কৃত্রিম আলোয় ড্রাগন চাষে বেড়েছে তিনগুণ ফলন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি

রাতের আঁধারেও যেন দিনের আলো। এ রকম এক কৃত্তিম আলোয় যশোরের শার্শার বেনাপোলে চাষ হচ্ছে ড্রাগন। দিন বাড়াতে কৃত্রিম আলো, অমৌসুমে তিনগুণ হচ্ছে ফলন। ‘লাইট ইনডোর্স’ পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষে কৃষকের ফিরেছে নতুন দিগন্ত। লাভবান হচ্ছে চাষি বাড়ছে চাষ। কৃষি প্রধান উপজেলা যশোরের শার্শা। এ উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন মাঠে আধুনিক ইনডোর লাইটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে অমৌসুমে ড্রাগন চাষে রীতিমতো বিপ্লব ঘটিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তারা। সৃষ্টি হয়েছে মনোরম পরিবেশ। ড্রাগন খেত দেখতে আসছে অনেকে। বাড়ছে কর্মসংস্থান। শীতের সময়ে বাড়ে কুয়াশা। অনেক সময দিনভর থাকে অন্ধকার। এ সময়ে কৃত্রিম আলো ব্যবহার করে ড্রাগনের ফলন বাড়িয়েছেন প্রায় তিনগুণ। উদ্ভাবনী উদ্যোগ শার্শার কৃষি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। দশ বিঘা জমিতে ৭০ লাখ টাকা খরচে বছরে ৪০ লাখ টাকার ফল বিক্রি করা যায়। প্রতি মাসে খরচ হয় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা। দশ বছর ধরে হারবেষ্ট করা যায় ড্রাগনের। তাইতো সফলতা পাচ্ছেন চাষিরা। লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে চাষে। কৃত্রিম আলোক রস্মিতে ড্রাগন গাছে ফুল ধরতে সহায়ক হচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে চোখ ধাধানো এক নান্দনিক দৃশ্য।

বাগানে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা ও শেষ রাত ৩টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত দুই দফায় এই কৃত্রিম আলো জ্বালিয়ে রাখা হয়। এতে গাছের সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া সচল থাকে। শীতের আমেজেও গাছগুলো ফুল দিতে শুরু করে। আলোকসজ্জায় সজ্জিত এই ড্রাগন বাগান এখন শুধু কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রই নয়, দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতেও পরিণত হয়েছে। সারিবদ্ধ ড্রাগন গাছ আর মাথার ওপরে এলইডির আলোর ঝলকানি মাঠজুড়ে তৈরি করে এক নান্দনিক দৃশ্য। অনেক দর্শনার্থীর মতে, এই দৃশ্য ইউরোপের উন্নত শহর কিংবা বিদেশের উন্নত কৃষি খামার। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় করছেন দর্শনার্থী।

কৃষক ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘আমাদের বেনাপোল সরবাঙহুদা এলাকায় লতা সাহেব নামে একজন ব্যবসায়ী ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং করে ড্রাগন চাষ করছেন। গরমের ফল হলেও শীতের সময় গাছে ফলন আনতেই লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। অসময়ে ফলন ও ভালো হচ্ছে। প্রতিদিন এ বাগান থেকে ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাওয়া যায়। প্রতিদিন মহেশপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ থেকে ব্যাপারীরা বেনাপোলের এই ড্রাগন নিতে আসেন। এ বাগান থেকে ব্যাপারীরা প্রতি কেজি ড্রাগন ৩০০ টাকা দরে তারা কিনে নিয়ে যান এখান থেকে। বর্তমান সময়ে তিনি প্রতিদিন এ বাগান থেকে ৭৫ হাজার টাকার ড্রাগন ফল বিক্রি হচ্ছে মৌসুম আসলে এর দ্বিগুণ টাকার বিক্রি হবে বলে তারা বলছেন।

ড্রাগন চাষি আবেদুর রহমান বলেন, ‘লাইটিং বা কৃত্রিম আলোর ড্রাগন চাষে ভরা মৌসুমে যে দাম পাওয়া যায়, অমৌসুমে ফলন ধরাতে পারলে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি লাভে বিক্রি করা সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘লতা সাহেব আমার মামা হন তিনি এই ১২ বিঘা জমিতে লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করছেন। আমি সেটা তার দেখাশোনা করি । এ বাগান করতে মোট ৭০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। অমৌসুমে লাইটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে আমরা এ বাগান থেকে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ কেজি ড্রাগন ফল পাচ্ছি। যার বাজার মূল্য ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকা। মৌসুম আসলে অর্থাৎ গরম আসলে এর ফলন আরও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে তখন অনেক টাকার ফল প্রতিদিন বিক্রি হবে। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এখন আমরা সফলতার মুখ দেখছি। এই এলাকার অনেককেই এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করার কথা বলে থাকি। আমাদের বাগান ছাড়াও এ উপজেলার আরও অনেক জায়গায় এই পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ হচ্ছে।’

শার্শা উপজেলা কৃষি অফিসার দীপক কুমার সাহা বলেন, ‘বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৮৫ হেক্টর জমিতে ড্রাগনের আবাদ হচ্ছে। অমৌসুমে উৎপাদিত ড্রাগনের বাজারমূল্য তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেক এলাকায় লাইটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন চাষ করতে দেখা যাচ্ছে। লাইটিং পদ্ধতিতে অর্থাৎ অমৌসুমে উৎপাদিত ফলগুলো সাধারণত দাম বেশি থাকে এ জন্য কৃষকরা বর্তমান ড্রাগন চাষে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।


পাবনায় পেঁয়াজ উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বীজ ও সার বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার বেড়া উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এই বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ তুলে দেন বেড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রুনাল্ট চাকমা। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর।

বিতরণকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুনাল্ট চাকমা বলেন, ‘সরকার কৃষকদের দোরগোড়ায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উপকরণ পৌছে দিচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ চাষের মাধ্যমে দেশের পেঁয়াজের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। কৃষকরা যেন সঠিক পদ্ধতিতে এই বীজ বপন করে লাভবান হতে পারেন, সেজন্য মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানাই।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুসরাত কবীর জানান, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় তালিকাভুক্ত কৃষকদের প্রত্যেককে নির্দিষ্ট পরিমাণ উন্নত জাতের পেঁয়াজ বীজ, ডিএপি সার, এমওপি সার এবং বালাইনাশকসহ আনুষঙ্গিক উপকরণ প্রদান করা হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই মৌসুমে পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপজেলা কৃষি অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা উপকারভোগী কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।


টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী চান্দিনার কৃষক শহিদুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার পানিপড়া গ্রামে টমেটো চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন কৃষক শহিদুল ইসলামসহ এলাকার একাধিক কৃষক। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে শীতকালীন টমেটোর বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও জমিতে পাইকারি বিক্রি মূল্য তুলনামূলক কম থাকায় কৃষকদের আনন্দ কিছুটা ম্লান।

সরেজমিনে পানিপড়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, ধানক্ষেত জুড়ে টমেটো ক্ষেত থেকে নারীরা ব্যস্তভাবে টমেটো সংগ্রহ করছেন। স্বল্প মজুরিতে তারা টমেটো পেড়ে বস্তাবন্দি করে পাইকারদের কাছে সরবরাহ করছেন।

জমির মালিক প্রবীণ কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, চলতি বছর তিনি চার একর জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় সমপরিমাণ টমেটো বিক্রি হয়েছে, ফলে মূলধন প্রায় উঠে এসেছে। তিনি জানান, একই জমির একটি অংশে গ্রীষ্মকালীন টমেটোর চাষ হয়েছে, যেখানে এখন ফুল আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রমজানের পর বাজারজাত করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, পানিপড়া এলাকায় প্রায় ১৫ একর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। ক্ষেতজুড়ে কাঁচা-পাকা টমেটোর সমারোহ চোখে পড়ার মতো। তবে কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত সহযোগিতা পেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হতো।

স্থানীয় কৃষিবিদ মো. হোসেন জানান, এ এলাকায় প্রায় ২০ বছর ধরে তরমুজ, শসা ও টমেটোর চাষ হয়ে আসছে। তিনি নিজেও পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করেছেন। টমেটো চাষের মাধ্যমে অনেক কৃষকের জীবনমান উন্নত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা সরাসরি মাঠ থেকে টমেটো সংগ্রহ করে নিয়ে যান।

টমেটো চাষি রাকিব মিয়া জানান, এ বছর চার কিয়ার জমিতে টমেটো চাষে তার প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে সাড়ে তিন লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন এবং আরও চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার বিক্রির আশা করছেন। তার মতে, পুরো এলাকা মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার টমেটো বিক্রি হবে।

ক্ষেতগুলোতে বহু মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ৩০ জন নারী শ্রমিক কাজ করেন, যারা দৈনিক ২০০ টাকা করে মজুরি পান, যা তাদের পরিবারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।

কৃষক শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, মাঠে পাইকারি বাজারে টমেটো বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ১৩–১৪ টাকায়, অথচ শহরের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬০ টাকায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, উৎপাদনকারী কৃষক ন্যায্য দাম না পেয়ে মধ্যস্বত্বভোগীরা বেশি লাভ করছে—এটা কতটা ন্যায্য?

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে টমেটো চাষ হয়েছে। দাউদকান্দি, চান্দিনা, মুরাদনগর, বরুড়া ও সদর উপজেলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে টমেটো আবাদ হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের আশা, ন্যায্য মূল্য ও সরকারি সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে পানিপড়ার টমেটো দেশজুড়ে আরও পরিচিতি পাবে।


গুরুদাসপুরে মাসে কোটি টাকার মধু উৎপাদন বেকার যুবকদের আশার আলো 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

চলনবিল অধ্যুষিত নাটোরের গুরুদাসপুরে বেকারত্ব ঘোচাতে বাণিজ্যিক মৌচাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্বল্প পুজি, কমঝুকি ও বেশি লাভে প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে খামারের সংখ্যা।

সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা ক্ষেতের পাশে কিংবা বড়ই, লিচু বাগানে পেতে রাখা বাক্স থেকে মধু সংগ্রহ করে স্বাবলম্বি হচ্ছেন বেকার যুবকরা। এ অঞ্চলে উৎপাদিত মধুর স্বাদ, গন্ধ, রঙ ও গুণগতমান ভালো থাকায় রপ্তানি হচ্ছে বিভিন্ন জেলা এমনকি আন্তর্জাতিক বাজারেও।

উপজেলা কুষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গুরুদাসপুরে ৫০ জন খামারি ভ্রাম্যমাণ মৌচাষে এ পেশায় যুক্ত রয়েছেন। যা গত বছরের চেয়ে ৮টি বৃদ্ধি পেয়েছে। মৌমাছিগুলো সরিষা, ধনিয়া, কালোজিরা, বড়ই, লিচু ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করে। সেখান থেকে মধু সংগ্রহ ও বিক্রি করে মৌচাষিরা লাভবান হচ্ছেন। এতে একদিকে বেকারত্ব ঘুচিয়ে খামারীরা স্বাবলম্বী হচ্ছেন অন্যদিকে পরাগায়নের ফলে ফল ও ফসলের উৎপাদন ২৫ শতাংশ বাড়ছে। যা অবদান রাখছে কৃষি অর্থনীতিতেও। মৌখামার ঘিরে অন্তত ২শ পরিবারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। অনেক বেকার যুবক কর্মসংস্থানে এ পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

সূত্র আরো জানায়, প্রাকৃতিক ফুল থেকে মধু সংগ্রহের মৌসুম ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত। হিসাবমতে ৪ মাসে এ উপজেলায় ৭৮. ৪ মে.টন মধু সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগৃহীত মধুর বাজার দর প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার উপরে।

নাটোর জেলা মৌচাষি কল্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন জানান,জেলায় ৭৫ জন খামারির মধ্যে ৫০ জনই গুরুদাসপুরের বাসিন্দা। উপজেলার এসব খামারে প্রায় ৭ হাজারের মতো মৌবাক্স রয়েছে। প্রতি বাক্সে সপ্তাহে গড়ে ৬০০ গ্রাম মধু সংগৃহীত হয়ে থাকে। সে হিসাবে ৭ হাজার বাক্স থেকে সপ্তাহে ৪ হাজার ৯০০ কেজি মধু সংগৃহীত হচ্ছে। মাসে যার পরিমান ১৯ হাজার ৬০০ লিটার। উৎপাদিত এ মধু ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হিসাব মতে সংগৃহীত এসব মধু প্রতিমাসে বিক্রি হচ্ছে প্রায় কোটি টাকায়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে চলনবিলের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, সরিষা খেতের পাশে সারিবদ্ধ শত শত মৌবাক্স পেতে রেখেছেন মৌ চাষিরা। মৌমাছির দল ফুলে ফুলে ঘুরে মধু সংগ্রহ করে লোহা ও কাঠ দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি বক্সে তা জমা করছে। বাক্সে বিশেষ কৌশলে রানী মৌমাছিকে আটকে রাখা হলে শ্রমিক মাছিগুলো রানীকে অনুসরণ করে বক্সে সমবেত হয়। প্রতিটি মৌবাক্সে ছয় থেকে আটটি ফ্রেমের সঙ্গে মধু সঞ্চয় করে। পরে মৌবাক্স বের করে।

যন্ত্রের সাহায্যে ঘুরিয়ে বিশেষ কৌশলে খাঁটিমধু সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত এসব মধু খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করা হয়।

উপজেলার হামলাইকোল গ্রামের মৌচাষি সৌরভ কুমার জানান, তিনি শরিষা ক্ষেতের পাশে ১০০টি বাক্স বসিয়েছেন। প্রতিবাক্স থেকে সপ্তাহে গড়ে ৬৫০ গ্রাম মধু সংগৃহীত হয়। ১০০টি বাক্স থেকে প্রতি সপ্তাহে ৬৫ কেজি মধু সংগ্রহ হয়। প্রতি কেজি মধুর বর্তমান বাজার দর ৪৫০ টাকা। সে হিসাবে সপ্তাহে তার আয় ৩০ হাজার টাকা। মাসে আয় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। শ্রমিকের পারিশ্রমিক, জায়গা ভাড়া,বাক্স তৈরি ও আনুসাঙ্গিক খরচ মাসে ২০ হাজার টাকা। মাসিক নিট আয় লাখ টাকা।

জেলা মৌচাষি কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন জানান, বছরের চার মাস মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। অবশিষ্ট সময় মাছিগুলোকে বাঁচাতে চিনির তরল খাওয়াতে হয়। এ বছর সরিষা মৌসুমে উৎপাদন কম। মৌচাষিরা ব্যাংক-এনজিও থেকে ঋন নিয়ে এ পেশায় কোনমতে টিকে আছে। সরকারি সহযোগীতার দাবি জানান তিনি।

গুরুদাসপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কেএম রাফিউল ইসলাম বলেন, উপজেলার ৫০ জন প্রশিক্ষিত মৌচাষি বানিজ্যিক মধু উৎপাদন পেশায় জড়িত। অল্প পুঁজি,ঝুকি কম ও লাভজনক হওয়ার কারনে বেকার যুবকরা বানিজ্যিক মৌচাষে ঝুকছে এবং স্বাবলম্বী হচ্ছেন। প্রতি বছরই মৌচাষির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তাদের প্রশিক্ষন, পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়ে থাকে।


banner close