শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

খুলনায় টানা বর্ষণে বোরো ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৬ মে, ২০২৬ ২২:৫০

গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে বোরো ধানসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বোরো ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সুযোগে কৃষি শ্রমিকরা দৈনিক মজুরি বাড়িয়েছে। মজুরি হিসেবে শ্রমের দাম হাকাচ্ছেন ১,৩০০ টাকা। যা দেড় মণ নতুন বোরো ধানের মূল্যের সমান।

এপ্রিলে খুলনার আকাশে হঠাৎ বৃষ্টি। মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনেও তা থেমে থাকেনি। অতিবৃষ্টির পাকা ধান ঘরে তোলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে জেলার রূপসা, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলার প্রায় তিন হাজার কৃষক। ধান গোলায় ওঠানোর আগেই অতিবৃষ্টি লোকসানের মুখে দাঁড় করিয়েছে খুলনার প্রান্তিক কৃষকদের।

রোবো ধান কৃষকের গোলায় ওঠার মুহূর্তে প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিবৃষ্টির কবলে পড়ে। এপ্রিল এবং মে মাসের প্রথমার্ধের বৃষ্টিতে খুলনার চাষির বোরো ধান ও শীতকালীন শাক-সবজির ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিতে খুলনা জেলার ৮৭৩ হেক্টর জমির ধান ও সবজি ক্ষেত ডুবেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে- রূপসা, দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া। বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ। মৌসুমের শুরুতে বীজতলা, রোপণ ও এপ্রিল-মে’তে কৃষি শ্রমিকের মজুরি বাড়ে। ধান কাটা মৌসুমে দৈনিক একজন কৃষি শ্রমিকের মজুরি ছিল ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা। জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও তেরখাদায় ১,২০০ থেকে ১,৩০০ টাকা দিয়ে দৈনিক সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শ্রমঘণ্টা কিনতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। নয় বছরের মধ্যে এপ্রিলে এবারে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। গেল মাসে জেলায় গড়ে ৩৩ দশমিক ৭০ মিলিমিটার, ১ মে ১৯ মিলিমিটার, ৩ মে ১০ মিলিমিটার, ৪ মে ৪ মিলিমিটার ও ৫ মে ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

জেলায় এবারের বোরো মৌসুমে ৬৬ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। ৬৫ হাজার ৭৭৮ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি আবাদি এলাকা ডুমুরিয়া ও পাইকগাছা উপজেলা।

এ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, কেজিপ্রতি উৎপাদন খরচ গতবারের চেয়ে দু’টাকা করে বেড়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ের মহূর্তে সারের সংকট দেখা দেয়। তারপরও জেলায় হেক্টর প্রতি ৪ দশমিক ৭৪ মেট্রিক টন চাল উৎপাদনের কথা তুলে ধরেন কৃষি সম্প্রসারণের অতিরিক্ত উপপরিচালক সুবীর কুমার বিশ্বাস।

এ কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, ‘উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কৃষকরা হীরা-১, হীরা-২, হীরা-১৯, সুবর্ণ-৩, ছক্কা ও সিনজেনটা-১২০৩ জাতের হাইব্রিড বোরো বীজ রোপণ করে।’

এ দপ্তরের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে বোরো ছাড়াও গ্রীষ্মকালীন সবজি, তরমুজ, ভুট্টা, মুগ ও তিলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মে মাসের প্রথম দু’দিনে অতিবৃষ্টিতে ধান ক্ষেতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

ডুমুরিয়ার শিংয়ের বিল, সাহাপুর ও মধুগ্রাম, রূপসা উপজেলার বিল জাবুসায়, দাকোপ, পাইকগাছা ও ডুমুরিয়ায় ৭৭০ হেক্টর জমির বোরো ক্ষেত বৃষ্টিতে ভিজেছে।

রূপসা উপজেলার বাগামারা গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম, মো. ওমর আলী শেখ ও আলেমান শেখর অতিবৃষ্টিতে বিল জাবুসায় বোরো ক্ষেত তলিয়ে যায়।

ইলাইপুর গ্রামের কৃষক মো. ইব্রহিম হোসেন বলেন, ‘এ বছর অতিবৃষ্টির কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।’


নির্বাচিত

শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন শিক্ষকের সাফল্যের নতুন গল্প

আপডেটেড ৯ জুন, ২০২৬ ১৩:১২
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

সাধারণত আঙুর চাষের কথা উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বিদেশের বিস্তীর্ণ বাগান কিংবা দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল। তবে সেই প্রচলিত ধারণা বদলে দিয়েছেন নাটোরের এক কৃষিপ্রেমী শিক্ষক। শখের বসে শুরু করা আঙুর চাষই এখন তাঁর সাফল্যের নতুন গল্প। ইউটিউব দেখে শেখা সেই উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে সম্ভাবনাময় বাণিজ্যিক বাগানে।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষিপ্রেমী শিক্ষক আব্দুল আজিজ ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহী। এর আগে তিনি পটল, ড্রাগন ফল, আপেল কুল ও ভারতীয় কুল চাষে সাফল্য পেয়েছেন। এবার নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুর চাষ নিয়ে।

মাত্র নয় মাস আগে বাড়ির পাশের প্রায় এক বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন তিনি। ইউটিউব থেকে চাষাবাদের কৌশল শিখে ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে তিনি সফলতা অর্জন করেছেন।

বর্তমানে তাঁর বাগানে পাঁচ জাতের আঙুরের চাষ হচ্ছে। বাইকোনুর, সামার রয়্যাল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। প্রতিটি গাছেই ঝুলছে থোকায় থোকায় ফল।

আব্দুল আজিজ জানান, প্রথমদিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র চারটি বাইকোনুর জাতের চারা রোপণ করেছিলেন। সঠিক পরিচর্যার ফলে একটি গাছ থেকেই ৭ থেকে ৮ কেজি পর্যন্ত আঙুর উৎপাদন হয়। সেই সাফল্যই তাঁকে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষে উৎসাহিত করে।

তিনি বলেন, “শুরুতে এটি ছিল শুধুই একটি শখ। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও সফলভাবে আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার পরিস্থিতি ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।”

শিক্ষক আজিজের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই তাঁর বাগানে ভিড় করছেন স্থানীয় কৃষক ও উৎসুক মানুষজন। অনেকেই তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।

স্থানীয়দের মতে, এভাবে আঙুর চাষের বিস্তার ঘটলে একসময় নাটোরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাতেও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বাগান পরিদর্শনে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, “ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে এত আঙুর ফলতে দেখে ভালো লাগছে। আমরাও বাড়িতে আঙুর চাষের কথা ভাবছি।”

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করা সম্ভব। বিশেষ করে বাইকোনুর ও ডিক্সন জাতের আঙুরের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, “গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাইকোনুর, সামার রয়্যাল, ডিক্সন, গ্রিন লং ও ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের ফলন ছিল আশাব্যঞ্জক। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দেশের মাটিতেও যে সফলভাবে আঙুর উৎপাদন সম্ভব, তার একটি উদাহরণ বাহাদুরপুর গ্রামের শিক্ষক আব্দুল আজিজ। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।”

শুধু শখ নয়, ইচ্ছাশক্তি, পরিকল্পনা ও পরিশ্রম থাকলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়। শিক্ষক আব্দুল আজিজের আঙুর বাগান সেই বাস্তবতারই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর হাত ধরে সিংড়ায় তৈরি হচ্ছে আঙুর চাষের নতুন সম্ভাবনা, যা ভবিষ্যতে দেশের ফল উৎপাদন খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।


নির্বাচিত

বীজ কোম্পানির চটকদার বিজ্ঞাপন: ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগে পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোগতার মাথায় হাত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

১৮০ বিঘা জমিতে ফল নেই একটিও হাইব্রিড ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করে কোটি টাকার ক্ষতির মূখে পড়েছেন পঞ্চগড়ের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ।

ব্যাংকের ঋণ, দোকানে সার-কীটনাশক বাকিতে নিয়ে মানুষের ৬০ একর জমি চুক্তি নিয়ে হাইব্রিড জাতের মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছিলেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন। সঠিক পরিচর্যায় কুমড়ো গাছে ঢেকে যায় পুরো ক্ষেত। আসতে শুরু করে ফুল, কিন্তু ফল আসে না। মৌসূমে শেষের দিকে হলেও দেখা নেই কোন ফলের। ইতোমধ্যে সব মিলিয়ে তিনি খরচ করেছেন ৩৮-৪০ লাখ টাকা। বীজ কোম্পানীর কথামত ফলন হলে এসব জমি থেকে তিনি বর্তমান বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকার মিষ্টি কুমড়া বিক্রয় করতে পারতেন।

জেলা প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগে কৃষক সাজ্জাদ হোসেন জানান, পঞ্চগড় জেলার বোদার উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের সর্দারপাড়া ও পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের নলেহা গ্রামে বিভিন্ন লোকের কাছে ৬০ বিঘা জমি একর প্রতি ৬০ হাজার টাকা চুক্তিতে নিয়ে আলু চাষ করেন। কিন্তু আলুতে লোকসান হওয়ার পর সেই জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নেন।

বোদা বাজারের সার-বীজ কীটনাশক ব্যবসায়ী আরিফুল রমহান রাসেলের পরামর্শে আলমগীর সীড কোম্পানীর ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের মিষ্টি কুমড়ার বীজ সংগ্রহ করে জমিতে লাগান। কোম্পানী থেকে নিশ্চয়তা দিয়ে তাকে বলা হয়েছিল এই বীজের মান খুবই ভাল এবং প্রতি একরে ১৯-২০ মেট্রিক টন ফলন আসবে। তাদের কথামত নিয়মিত পরিচর্যা, সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করে গাছের চেহারা অনেক ভাল হলেও তিন মাসেও কোন ফল আসেনি। ইতোমধ্যে এই জমিতে তিনি প্রায় ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে ফেলেছেন। ভবিষ্যতে ফল আসারও কোন সম্ভাবনা দেখছেননা।

জমির মালিক সর্দারপাড়া গ্রামের কাব্য ভূষন বর্মন জানান, আমরা ছয় ভাই মিলে সাজ্জাদ ভাইকে ৬০ বিঘা জমি দিয়েছি। আলু করে তিনি অনেক টাকা লোকসান করেছেন। সেই জমিতে তিনি মিষ্টি কুমড়া করেছিলেন। জমিতে গাছ ভর্তি হলেও কোন ফল আসেনি। এটা বীজের সমস্যা । আমাদের জমির পাশে অন্য লোক মিষ্টি কুমড়া করেছে। তাদের জমি মিষ্টি কুমড়া দিয়ে ভর্তি। সাজ্জাদ ভাই আলু করে কিছু টাকা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন মিষ্টি কুমড়া বিক্রয় করে বাকি টাকা দিবেন। কিন্তু মিষ্টি কুমড়ার ফল না আসায় আমরাও আমাদের টাকা নিয়ে চিন্তিত আছি।

সার-বীজ কীটনাশক ব্যবসায়ী আরিফুল রহমান রাসেল জানান, আলমগীর সীডস কোম্পানি আমাকে জানিয়েছে তাদের বীজ ভালো হবে। একরে ১৯-২০ টন ফলন হবে। গত ২৬ জানুয়ারি কোম্পানিকে নগদ টাকা দিয়ে ১০ কেজি ৬শ গ্রাম বীজ নিয়ে আমি সাজ্জাদ ভাইকে দেই। কোম্পানির নির্দেশনা মেনে সব করি। কিন্তু জমিতে প্রচুর গাছ থাকলেও মিষ্টি কুমড়া একটিও হয়নি। আমি কোম্পানীকে বলেছিলাম আপনাদের বীজ নিয়ে সাজ্জাদ ভাইর প্রচুর টাকা ক্ষতি হয়েছে। তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কিন্তু এখন তারা নানাভাবে টালবাহানা করছে।

কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ভাই আমি পথে বসেছি। আমি এখন কি করব। আলমগীর সীড কোম্পানী আমাকে রাস্তায় নামিয়েছে। ঋণ আর ধারদেনা করে, জমির মালিকের টাকা আর হাল আল মজুরীর টাকা বাকি রেখে প্রায় ৪০ টাকা খরচ করেছি। এত টাকা আমি কিভাবে পরিশোধ করব। আমি আলমগীর সীড কোম্পানীর কাছে ক্ষতিপুরণ চাই। তারা আমাকে ক্ষতিপুরণ না দিলে আমি আদালতে যাব।

জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ শামীম বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার একটি অভিযোগ দিয়েছেন। যার অনুলিপি আমরা পেয়েছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ আমরা সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাই। তিনি আসলেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এ নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

নবীনগরে জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি ‘ওকিনাওয়া’ মিষ্টি আলু, সুপারফুড হিসেবে উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের বাড়ছে আগ্রহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরাঞ্চল ও অনাবাদি জমিতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে জাপানের বিখ্যাত ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু। তিন বছর ধরে পরীক্ষামূলক ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে চাষ শুরু হলেও চলতি মৌসুমে এ আলুর আবাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে। কৃষক, উদ্যোক্তা ও ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ায় এটি এখন সম্ভাবনাময় একটি ‘সুপারফুড’ ফসল হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার নাটঘর, নবীনগর পশ্চিম, সাতমোড়া, বড়িকান্দি ও বীরগাঁও ইউনিয়নের ২০ জন কৃষক ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু উৎপাদন করছেন। চলতি মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ কৃষকদের ভাষ্যমতে, প্রতি শতকে তিন মণেরও বেশি উৎপাদন মিলছে, যা স্থানীয় জাতের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেশি। আলুর আকারও বেশ বড় ও আকর্ষণীয়।

সিদ্ধ কিংবা পুড়িয়ে খাওয়ার পর এ আলুর ভেতরে দৃষ্টিনন্দন হলুদাভ রং দেখা যায়, যা ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে। স্বাদেও রয়েছে আলাদা মিষ্টতা ও নরম ভাব। কম পানিতে ধীরে ধীরে সিদ্ধ করলে এর স্বাদ আরও ভালো হয়। আবার সিদ্ধ বা পোড়ানো আলু কিছু সময় ফ্রিজে রেখে খেলে মিষ্টতার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায় বলে জানিয়েছেন ভোক্তারা।

পুষ্টিবিদদের মতে, মিষ্টি আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ওকিনাওয়া মিষ্টি আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীরাও পরিমিত পরিমাণে এটি খেতে পারেন। এতে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিক্যাল কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি উচ্চমাত্রার খাদ্যআঁশ হজমে সহায়তা করে, দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তির জন্যও উপকারী। স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট থাকায় এটি ধীরে ধীরে শক্তি জোগায় এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগতে দেয় না।

বড়িকান্দি ইউনিয়নের বড়িকান্দি গ্রামের কৃষক নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘গত বছর কৃষক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জাতের মিষ্টি আলু সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসাইনের মাধ্যমে কৃষি অফিস থেকে ভাইন সংগ্রহ করি। পরে প্রথমবারের মতো ২০ শতক জমিতে আবাদ করে প্রায় ৬৫ মণ আলু পেয়েছি।’

নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়নের দড়িলাপাং গ্রামের কৃষক কামাল মিয়া বলেন, ‘এই আলুর স্বাদ ও চাহিদা দুইটাই ভালো। বাজারেও ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। গত দুই বছর ধরে তিন বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলু আবাদ করছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ১২০ মণের মতো ফলন আসে। স্বল্প খরচে অধিক উৎপাদন হওয়ায় এটি আমাদের জন্য লাভজনক। তাই ভবিষ্যতে আরও বেশি জমিতে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, ‘ওকিনাওয়া জাতের মিষ্টি আলুর প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ফলন ও বাজারচাহিদা ভালো থাকায় আগামীতে এর আবাদ আরও বাড়বে। উদ্যোক্তা কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর জন্য ভাইন উৎপাদনে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী মৌসুমে ১০০ বিঘা জমিতে ওকিনাওয়া সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন বলেন, ‘দেশে এখনো মিষ্টি আলু সংরক্ষণের জন্য আধুনিক সুবিধা গড়ে ওঠেনি। গোল আলুর মতো সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও মিষ্টি আলুভিত্তিক এগ্রো-প্রসেসিং শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং ভোক্তারাও দীর্ঘ সময় বাজারে এ পুষ্টিকর খাদ্য সহজলভ্যভাবে কিনতে পারবেন।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় আলুর ‘সাথী ফসল’ মিষ্টি কুমড়া, বিষমুক্ত সবজিতে লাভবান কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুণ, কুমিল্লা (দক্ষিণ)

কুমিল্লার মাঠে মাঠে এখন আলুর পাশাপাশি শোভা পাচ্ছে মিষ্টি কুমড়া। জেলার বুড়িচং, চান্দিনা, দেবিদ্বার ও দাউদকান্দি উপজেলায় আলুর ‘সাথী ফসল’ হিসেবে মিষ্টি কুমড়ার ব্যাপক আবাদ হয়েছে। বাড়তি সার ও কীটনাশক ছাড়াই উৎপাদিত এই বিষমুক্ত সবজি চাষ করে এবার সাফল্যের মুখ দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

স্বল্প খরচে অধিক লাভ: কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে আলুর জমিতেই কোনো বাড়তি চাষাবাদ ছাড়াই কুমড়ার বীজ বপন করা হয়। খুব কম পরিচর্যায় মাত্র ৬০-৬৫ দিনের মধ্যেই এই ফসল বাজারজাত করা সম্ভব। এ বছর প্রতি হেক্টর জমিতে কুমড়া আবাদে খরচ হয়েছে প্রায় ৪০-৫০ হাজার টাকা। বিপরীতে, উৎপাদিত ফসল বিক্রি করে কৃষকরা আয় করছেন ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা। অর্থাৎ, মাত্র দুই মাসেই বিঘা প্রতি কয়েকগুণ মুনাফা অর্জন সম্ভব হচ্ছে।

বাজার পরিস্থিতি ও চাহিদা: দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির বাজার নিমসারসহ কংসনগর, চান্দিনা ও দাউদকান্দির হাটগুলোতে এখন মিষ্টি কুমড়ার ধুম। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এই কুমড়া ট্রাকযোগে চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে কাঁচা কুমড়া প্রতি কেজি ১০-১৫ টাকা এবং পাকা কুমড়া ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আকারভেদে প্রতি ‘লট’ বা ‘চুকতা’ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়।

চাষিদের অভিজ্ঞতা: বুড়িচংয়ের নিমসার বাজারের চাষি শাহিন ও সেলিম বলেন, ‘১ একর জমিতে কুমড়া চাষ করেছি। আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে এবার কিছু গাছ মারা গেছে, তাই ফলন গতবারের চেয়ে কিছুটা কম। তবে বর্তমানে প্রতি পিস কুমড়া ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি।’

ব্যবসায়ী জয়নাল বলেন, ‘কুমিল্লার মিষ্টি কুমড়ার মান ভালো হওয়ায় বাইরের জেলাগুলোতে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা এখান থেকে প্রতিদিন শত শত কুমড়া বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছি।’

কৃষি বিভাগের বক্তব্য: বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৫০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ হয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম হলেও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কয়েক হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। কৃষি বিভাগ থেকে মাঠ পর্যায়ে চাষিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

স্কুলশিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ, জীবননগরে এক জমিতে ড্রাগন-আঙুর চাষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের স্কুলশিক্ষক সুরুজ মণ্ডল একই জমিতে ড্রাগন ফল ও আঙুর চাষ করে সৃষ্টি করেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। সীমিত আবাদি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি নিচে ড্রাগন এবং উপরে ‘মাচা সিস্টেমে’ আঙুর চাষ করছেন, যা ইতোমধ্যে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে।

সুরুজ মণ্ডল জানান, বর্তমানে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় তিনি বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে এই যুগপৎ চাষ শুরু করেন। এতে একই জমি থেকে দ্বিগুণ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, পাশাপাশি সময় ও খরচ দুটোই সাশ্রয় হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তার বাগানে এখন আঙুর সংগ্রহ শুরু হয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ২০ থেকে ২৫ কেজি আঙুর পাওয়ার আশা করছেন তিনি। বর্তমানে ড্রাগন ফলের মৌসুম না থাকায় জমিটি ফাঁকা না রেখে সাথী ফসল হিসেবে আঙুর চাষ করছেন।

দুই বিঘা জমিতে এই ব্যতিক্রমী চাষাবাদ করছেন সুরুজ মণ্ডল। শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়েই তিনি বাগানের দেখভাল করেন। বর্তমানে তার মোট প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফলের বাগান রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, সুরুজ মণ্ডলের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠেছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিকল্পিত চাষাবাদ গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।


নির্বাচিত

নবীনগরে বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চলতি বোরো মৌসুমে মাঠজুড়ে সোনালি ধানের বাম্পার ফলন দেখা গেলেও উৎপাদন ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং টানা ভারী বৃষ্টিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। সেচ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের বাড়তি মজুরির কারণে লাভের হিসাব মিলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এর সঙ্গে প্রতিনিয়ত বৃষ্টিপাত ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলের ধান নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ১৮ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর ও বিলাঞ্চলে আবাদ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। এ অঞ্চলে আগাম জাতের ধানের মধ্যে জিরাশাইল, ব্রি-২৮, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ বেশি চাষ করা হয়েছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, বিগত কয়েক বছরে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেশি হওয়ায় কৃষকদের ব্রি-২৮ আবাদে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছিল। তুলনামূলকভাবে ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ রোগবালাই সহনশীল হওয়ায় এসব জাতের আবাদ বেড়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর হাওর ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর বিলে পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। তবে অনেক কৃষকই আশঙ্কা করছেন, বৃষ্টি ও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিচু এলাকার ধান ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, সরকারি ভাবে এবার নবীনগরে মোট ১ হাজার ৭৯২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় ২ শতাংশ। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৭৫ মণ ধান সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন। ইতোমধ্যে কৃষকের তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ বছর সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা, অর্থাৎ প্রতি মণ ধানের দাম ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি এড়াতে ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কাটার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে কৃষকদের অভিযোগ, উৎপাদন খরচ গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। ওয়ারুক গ্রামের কৃষক আব্দুল বাতেন বলেন,উৎপাদন খরচ যে হারে বেড়েছে, বাজারে সেই তুলনায় ধানের দাম না পেলে কৃষকের টিকে থাকা দায় হবে। ধান কাটতে এখন একজন শ্রমিককে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি দিতে হচ্ছে। কনিকাড়া গ্রামের কৃষক আমির হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর ধানের বাজারদর অনেক কম। সরকার ধানের দাম ১ হাজার ৪৪০ টাকা মণ নির্ধারণ করলেও উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ খুবই কম হবে।

নবীপুর গ্রামের কৃষক জালাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা কৃষক গায়ের ঘাম মাটিতে ফেলে ফসল উৎপাদন করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ করতে পারি না।

বাম্পার ফলনের আনন্দের মাঝেও তাই উৎপাদন খরচ, কম বাজারদর এবং প্রাকৃতিক ঝুঁকি নিয়ে নবীনগরের কৃষকদের মুখে এখন দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।


নির্বাচিত

জীবননগরে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা কৌশিকের সফলতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি