বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

চাল ও ডিজেলের শুল্ক কমল

চাল-ডিজেল।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে অবশেষে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য চাল ও জ্বালানির শুল্ক কমিয়েছে। আমদানি করা চালের সমুদয় শুল্ক প্রত্যাহার এবং রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ডিজেলের আগাম কর ৫ শতাংশ প্রত্যাহার এবং আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। গতকাল রোববার রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ দুটি পণ্যের শুল্কহার হ্রাস ও প্রত্যাহার করেছে এবং এদিন থেকে তা কার্যকর করেছে।

এর আগে আমদানি করা চালের শুল্ক ছিল ২৫ শতাংশ এবং সঙ্গে রেগুলেটরি ডিউটি ২৫ শতাংশ। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এখন চালের শুল্ক থাকবে মাত্র ৫ শতাংশ। আর ডিজেল আমদানিতে মোট শুল্ক-কর ছিল ৩৪ শতাংশ। এখন ১০ শতাংশ কমানো হলো। ফলে ডিজেলের শুল্ক থাকল ২৪ শতাংশ।

এনবিআর বলেছে, দেশের বৃহৎ স্বার্থে জনকল্যাণে চাল ও ডিজেলের শুল্ক-করহার কমানো হলো। এর ফলে চালের দাম কমে আসবে এবং ভোক্তা কম দামে চাল কিনে খেতে পারবে। তবে ডিজেলের শুল্ক কমানোর ফলে এর দাম কমানো হবে কিনা সে বিষয়ে সরকার এখনো পরিষ্কার কিছু বলেনি। সরকারের নীতিনির্ধারক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ডিজেলের দাম কমাতে পারে। শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

চালের মৌসুমে কিছুতেই এর দাম কমছে না। কোনো কারণ ছাড়াই এর দাম হু হু করে বাড়ছে। এতে করে নির্ধারিত ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্ট বেড়ে গেছে। সরকার বেসরকারি খাতে চাল আমদানি বাড়িয়ে এর সরবরাহ বাড়াতে চায়। সে জন্য শুল্কহার ব্যাপক কমানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুন চালের শুল্ক কমিয়ে ছিল সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৬ আগস্ট সরকার সব ধরনের জ্বালানি পণ্যের দাম ৪২ থেকে সর্বোচ্চ ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে।

মূলত, ভর্তুকির চাপ কমাতে এ খাতে ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধি করা হয়। জ্বালানি একটি স্পর্শকাতর পণ্য। এ কারণে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে অর্থনীতিতে। এরই মধ্যে বাজারে সবকিছুর দাম বেড়েছে। এটি আগামীতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।

এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি পণ্যের শুল্ক কমানো হলো। আশার আলো হচ্ছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি পণ্যের দাম কিছুটা কমে আসছে। এসব বিবেচনায় ধারণা করা হচ্ছে, দেশের ভেতরে জ্বালানি পণ্যের দাম কমাতে যাচ্ছে সরকার।


রপ্তানি আয়ে ডলারের দর আরও ১ টাকা বাড়ল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:০৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ডলারসংকট নিরসনে রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দাম আরও ১ টাকা বাড়িয়ে দিয়েছে ব্যাংকগুলো। বুধবার থেকেই নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রপ্তানি আয়ে ডলারের দাম বেড়ে হয়েছে ১০৩ টাকা। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা।

গত মঙ্গলবার রাতে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম দৈনিক বাংলাকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাফেদা-এবিবির সভায় রপ্তানি বিল নগদায়ন ১০৩ টাকা করা হয়েছে। এটি বুধবার থেকেই কার্যকর হয়েছে। আগে রপ্তানি বিল ছিল ১০২ টাকা। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা কাছাকাছি নিয়ে আসা হবে। সেজন্যই রপ্তানি বিলে আরও এক টাকা বাড়ানো হয়েছে।’

এর আগে গত ২ জানুয়ারি রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়েছিল।

রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারের দর বাড়ানো হলেও প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম আগের মতো ১০৭ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি বিল ও রেমিট্যান্সের দর গড় করে ১ টাকা স্প্রেড করে আমদানি বিল পরিশোধ করা হবে।

বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম জানান, মঙ্গলবারের সভায় রেমিট্যান্সের নির্ধারিত দর ১০৭ টাকার বেশি না দেয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এর আগেও বেশ কয়েক বার এবিবি-বাফেদার পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক ১০৭ টাকার বেশি দিতে পারবে না। এই ১০৭ টাকার সঙ্গে সরকার ঘোষিত আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চের পর থেকে দেশে ডলারসংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

কিন্তু তাতে সংকট আরও প্রকট হয়। পরে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেয়া হয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এরপর দুই সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ শুরু করেন।


রিজার্ভ থেকে ডলার  বিক্রি ১০১ টাকায়

মার্কিন ডলার
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:১৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির দর আরও ১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার থেকে ১০১ টাকা দরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করা হয়েছে। এতদিন প্রতি ডলারের জন্য ১০০ টাকা নেয়া হতো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে প্রতি ডলার ১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছিল। বুধবার থেকে তা ১ টাকা বাড়িয়ে ১০১ টাকা করা হয়েছে।

এদিন রিজার্ভ থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার বিক্রি করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তবে সব ব্যাংক এই দরে ডলার পাচ্ছে না। সরকারের প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অন্য ব্যাংকগুলোকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার থেকে ডলার কিনে আমদানি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।

বুধবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৫ টাকা ৩৫ পয়সা, সর্বনিম্ন ১০৩ টাকা ৪১ পয়সা। সব ব্যাংকের চাহিদা অনুযায়ী ডলার বিক্রি করলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সঞ্চিত রিজার্ভ আরও কমে যাবে। সে জন্য সরকারের প্রয়োজনেই শুধু রিজার্ভ থেকে ডলার ছাড়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি বাজারের সঙ্গে অ্যাডজাস্টমেন্ট করা হচ্ছে। বর্তমানে আন্তব্যাংক লেনদেনের গড় দরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট সমানে নিয়ে আসবে। সে জন্য এই দর বাড়ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট আন্তব্যাংকের সঙ্গে এক দরে নিয়ে এলে সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য ভালো হবে। সেই চেষ্টাই আসলে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।’

আন্তব্যাংক ও গ্রাহক পর্যায়ে সব ব্যাংকেই বর্তমানে ভাসমান বিনিময় দর অনুসরণ করছে। তবে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত আলাদা দর অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাকে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সেলিং রেট’। এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করত, সেটিকে ‘ইন্টার ব্যাংক এক্সচেঞ্জ রেট’ বা আন্তব্যাংক লেনদেন হার নামে অভিহিত করা হতো।

এদিকে রিজার্ভ থেকে প্রায় প্রতিদিনই ডলার বিক্রির ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ আরও কমেছে। বুধবার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার।

২০২১ সালের আগস্টে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছিল। এর পর থেকেই রিজার্ভ কমছে।

আহসান মনসুর বলেন, ‘এই যে এখন যে রিজার্ভ কমছে, তাতে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি একটি অন্যতম কারণ।’


ছয় মাসে কমপ্লায়েন্স না হলে বন্ধ হবে ২১৩ কারখানা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:০১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারখানা কমপ্লায়েন্স না হলে অর্থাৎ নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যর্থ হলে ২১৩টি কারখানাকে বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকার। পরিদর্শনে আশানারূপ নম্বর না পাওয়ায় ১৭টি কারখানাকে তিন মাস এবং ২০৬টি কারখানাকে ছয় মাস সময় বেঁধে দিয়েছে সরকার। এই সময়ের মধ্যে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের সংশোধন করতে না পারলে এগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমানের সভাপতিত্বে ‘কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনারোধ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির’ দ্বিতীয় সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম ছাড়াও কমিটির অন্য সদস্যরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘২০১১ সালের নভেম্বর থেকে গত বছরের মার্চ পর্যন্ত সারা দেশের পাঁচ হাজার ২০৬টি কারখানা পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখানে আমাদের স্কোরিং অনুযায়ী ১৭টি কারখানা ২৫ নম্বরের কম পেয়েছে; এদের আমরা নোটিশ দিয়ে দিচ্ছি, তিন মাসের মধ্যে তাদের কমপ্লায়েন্স হতে হবে। যদি তারা তা না পারে তবে তাদের কারখানা বন্ধ করে দেয়া হবে। ২০৬টি কারখানা ৫০ নম্বরের কম পেয়েছে, এদের নোটিশ দিয়ে ছয় মাস সময় দেয়া হবে। এর মধ্যে এগুলো কমপ্লায়েন্স না হতে পারলে বন্ধ হয়ে যাবে। সব কারখানাকেই নোটিশ দেয়া হচ্ছে, সবাইকে এক বছরের মধ্যে কমপ্লায়েন্স হতে হবে।

‘১৭টি কারখানা এতই ঝুঁকিপূর্ণ যে তাদের তিন মাসের বেশি সময় দেয়া হলে আরেকটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। কোনো অঘটন যাতে না ঘটে এজন্য তাদের তিন মাস সময় দেয়া হবে। এমন একটা পর্যায়ে চলে আসো, আবার পরিদর্শন হবে। শতভাগ না হোক, একটা পর্যায়ে আসুক। এটাও না করতে পারলে বন্ধ করে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’

সারা দেশে ৬০ হাজার কলকারাখানা আছে জানিয়ে সালমান রহমান বলেন, ‘এর মধ্যে ৫ হাজার ২০৬টি পরিদর্শন করেছি, এরপর আরও ১০ হাজার করব। পরিদর্শন প্রতিবেদন কারখানাগুলোকে জানিয়ে দিয়ে র‌্যানডম পরিদর্শন করা হবে। ১৭টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে, যদি তাদের বন্ধ করতে হয় তবে অন্যদের কাছে একটি বার্তা যাবে। বাকি ১০ হাজার কারখানা পরিদর্শনে কিছু পেলে তাদের ঠিক করার সময় দেয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠিক করতে না পারলে বন্ধ করে দেয়া হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের অধীনে যে কয়টি প্রতিষ্ঠান পড়বে আমরা সেগুলোকে আলাদাভাবে তদারকি করব। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছেও পরিদর্শনের প্রতিবেদনের আলোকে তালিকা চলে যাবে। তখন বিভিন্ন বডি তাদের পরীক্ষা করবে। আমরাও কারেকটিভ অ্যাকশন প্ল্যান দেব, তাদের ডাকব, সময় দেব। এর মধ্যে তারা সংশোধন হতে না পারলে ট্রেড লাইসেন্স বাতিল করে দেব।’

সালমান রহমান জানান, ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি আইন ২০২০ সালে সংসদে পাস হলেও ওই আইনের অধীনে নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়নি। ফলে জাতীয় কমিটি ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটির কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দিয়েছে। এই অথরিটি চালু হলে আইন অনুযায়ী কলকারখানা পরিদর্শনের দায়িত্ব তাদেরই ওপর বর্তাবে। রাজউকের মতো কর্তৃপক্ষগুলো এই অথরিটির অধীন চলে আসবে।’

সালমান রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি না থাকায় প্রধানমন্ত্রী কলকারখানা, শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে (বিডা) কলকারখানা পরিদর্শনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি করে বিডা কারখানগুলো পরিদর্শন করেছে। এডহক ভিত্তিতে এটা করা হয়েছে, এটিকে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে। এ জন্য আমরা মনে করি কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করতে হবে।’


রেমিট্যান্সে ফের উল্লম্ফন, পাঁচ মাসে সর্বোচ্চ এল জানুয়ারিতে

দৈনিক বাংলা গ্রাফ
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২১:২০
আবদুর রহিম হারমাছি

আইএমএফের ঋণ অনুমোদনের পর রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স প্রবাহেও সুখবর এসেছে। ফের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকে।

নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ১৯৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত পাঁচ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গত বছরের জানুয়ারির চেয়ে বেশি এসেছে প্রায় ১৫ শতাংশ। আর আগের মাস ডিসেম্বরের চেয়ে ১৫ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সে প্রতি ডলারের জন্য ১০৭ টাকা দিচ্ছে ব্যাংকগুলো। এ হিসাবে টাকার অঙ্কে জানুয়ারিতে ২১ হাজার কোটি টাকা দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী সোয়া কোটি প্রবাসী। প্রতিদিন পাঠিয়েছেন ৬৮০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক বুধবার রেমিট্যান্স প্রবাহের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, সব মিলিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) ১ হাজার ২৪৫ কোটি ২১ লাখ (১২.১৬ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই সাত মাসে ১ হাজার ১৯৪ কোটি ৪০ লাখ (১১.৯৪ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন তারা।

গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরের মতো নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতেও রেমিট্যান্স বেড়েছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে প্রবাসীরা ১৭০ কোটি (১.৭০ বিলিয়ন) ডলার দেশে পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল চার মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সেপ্টেম্বরে এসেছিল ১৫৪ কোটি ডলার। অক্টোবর ও নভেম্বরে এসেছিল যথাক্রমে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ও ১৫৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে অবশ্য ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছিল।

জানুয়ারিতে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ২৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। বিশেষায়িত কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৪ কোটি ২২ লাখ ডলার। ৪২টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ১৬৫ কোটি ৩৭ লাখ ডলার। আর ৯টি বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৭০ লাখ ৮০ লাখ ডলার।

ক্যালেন্ডার বছরের হিসাবে ২০২২ সালে ২ হাজার ১২৮ কোটি ৫৪ লাখ (২১.২৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছিল, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। ২০২১ সালে ২ হাজার ২০৭ কোটি ২৫ লাখ (২২.০৭ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

মার্চের শেষ দিকে রমজান মাস শুরু হবে। রোজা ও ঈদ সামনে রেখে রেমিট্যান্সপ্রবাহ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারক, ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেছেন, ‘ব্যাংকের চেয়ে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় এবং বেশি টাকা পাওয়ায় মাঝে কয়েক মাস প্রবাসীরা অবৈধ হুন্ডির মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠানোয় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স কমে গিয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক হুন্ডির বিরুদ্ধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়তে শুরু করেছে।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা বাধা-বিপত্তির মধ্যেও জনশক্তি রপ্তানিতে রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) ২০২২ সালের জনশক্তি রপ্তানির তথ্য প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যায়, গত বছরে সব মিলিয়ে ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩ জন লোক কাজের জন্য বিভিন্ন দেশে গেছেন। এর আগে কোনো বছরে এত লোক কাজের সন্ধানে বিদেশে যাননি।

জনশক্তি রপ্তানিতে এই উল্লম্ফনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি আবুল বাশার। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই যে আমরা সাড়ে ১১ লাখ লোককে বিদেশে পাঠালাম, এটি একটি বিশাল বড় ঘটনা। এর ফলেই কয়েক মাস ধরে রেমিট্যান্স ফের বাড়তে শুরু করেছে। আরও বাড়ত যদি অবৈধ হুন্ডি বন্ধ করা যেত। করোনা মহামারির কারণে সবকিছু বন্ধ থাকায় বিশ্বব্যাপী অবৈধ হুন্ডি কর্মকাণ্ড বন্ধ ছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর থেকেই ফের হুন্ডি কর্মকাণ্ড চালু হয়েছে। ডলারের বাজারের অস্থিরতার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তা আরও বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘২০২২ সালে যারা বিভিন্ন দেশে গেছেন, তারা বেশিরভাগ এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছেন। বেতন পাচ্ছেন; দেশে পরিবার-পরিজনের কাছে টাকা পাঠাচ্ছেন। সে হিসাবে রেমিট্যান্সের পরিমাণ অনেক বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু সেটি হচ্ছে না। এটি একটি উদ্বেগের বিষয়।’

আবুল বাশার বলেন, ‘এখানে প্রবাসী ভাইবোনদের কোনো দোষ আমি দেখি না। তারা প্রতি ডলারে ২-৩ টাকা বেশি পাচ্ছেন বলেই ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা না পাঠিয়ে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক হুন্ডি বন্ধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না। হুন্ডি বন্ধে সরকারের কাছে আমার একটি প্রস্তাব আছে। ব্যাংকিং চ্যানেলে বা বৈধ পথে টাকা পাঠালে সরকার এখন যে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দিচ্ছে। তা বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করলে হুন্ডি বন্ধ হবে বলে আমি মনে করি।’

তবে ভিন্ন কথা বলেছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রণোদনা দিয়ে রেমিট্যান্সের ইতিবাচক ধারা কখনোই ধরে রাখা যাবে না। হুন্ডি বন্ধ করতেই তো সরকার প্রথমে ২ শতাংশ, পরে তা আরও বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করেছে। কিন্তু হুন্ডি তো বন্ধ হচ্ছে না; উল্টো আরও বাড়ছে। এখানে যে কাজটি করতে হবে, তা হলো ডলারের বাজারকে স্থিতিশীল করতে হবে। কার্ব মার্কেট ও ব্যাংকের ডলারের দামের পার্থক্য কমিয়ে আনতে হবে। যতদিন এই পার্থক্য বেশি থাকবে, ততদিন হুন্ডি বন্ধ হবে না।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ডলারের দর এখন ১১১ থেকে ১১২ টাকা। ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে ১০৭ টাকা পাওয়া যায়। তার সঙ্গে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হয়ে পাওয়া যায় ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। আর হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠালে, যার নামে পাঠান তিনি ১১২ টাকা পর্যন্ত পাচ্ছেন। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে হুন্ডির মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর পরিমাণ বেড়ে গেছে।’

বিএমইটির তথ্যে দেখা যায়, ২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ জন কাজের সন্ধানে বিভিন্ন দেশে গিয়েছিলেন। তার আগের বছর ২০২০ সালে করোনার কারণে এই সংখ্যা ছিল একেবারেই কম; ২ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ জন।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ২১ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল দেশে, যা ছিল আগের বছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

অর্থনীতিতে চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার ঋণ চেয়েছিল, আইএমএফ তার চেয়েও ২০ কোটি ডলার বেশি অর্থাৎ ৪৭০ কোটি (৪.৭০ বিলিয়ন) ডলার দেবে। গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তরে এই ঋণ অনুমোদন করেছে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ। প্রথম কিস্তির ঋণ যেকোনো মুহূর্তে জমা হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার ভাণ্ডারে, বেড়ে যাবে রিজার্ভ।


ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রথম নারী ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিনিয়া

ইউনিলিভারের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিনিয়া হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:০৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ইউনিলিভার বাংলাদেশ-এর নতুন ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জিনিয়া হক। বুধবার থেকে এ নিয়োগ কার্যকর হয়েছে। জিনিয়া হক ইউনিলিভার বাংলাদেশের প্রথম নারী ফাইন্যান্স ডিরেক্টর।

এর আগে জিনিয়া হক বিউটি অ্যান্ড ওয়েলবিং অ্যান্ড পার্সোনাল কেয়ার বিজনেস বিভাগের ফাইন্যান্স ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। করপোরেট ইন্ডাস্ট্রিতে তার ২২ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০১৯ সালে তিনি ইউনিলিভারে যোগ দেন এবং গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন (জিএসকে)-এর ঐতিহাসিক একীভূতকরণে নেতৃত্ব দেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটে ফাইন্যান্স বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন জিনিয়া। তিনি দ্য চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস (সিআইএমএ) ইউকে-এর একজন ফেলো সার্টিফাইড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউনট্যান্ট (এফসিএমএ)। তিনি ইনস্টিটিউট অব ইন্টারনাল অডিটরস বাংলাদেশ এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টস অব বাংলাদেশেরও সদস্য।


পুঁজিবাজারের ৫ কোটি টাকা নেবে আল-মদিনা ফার্মা

আল- মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:২৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পুঁজিবাজারের স্বল্প মূলধনি প্ল্যাটফর্ম বা এসএমই মার্কেটে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ৫ কোটি টাকা তুলে নেবে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। বুধবার ৮৪৫তম সভায় কোয়ালিফাইড ইনভেস্টরস অফার (কিআইও) অনুমোদন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এসএমই খাতে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের মূলধন উত্তোলনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ১০ টাকা মূল্যে ৫০ লাখ শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে ৫ কোটি টাকা মূলধন উত্তোলন করবে। পুঁজিবাজার থেকে উত্তোলিত অর্থ বিদ্যমান ব্যবসা প্রসার, ঋণ পরিশোধ এবং ইস্যু ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করবে আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালস।

আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, সর্বশেষ হিসাব বছরে (৩০ জুন, ২০২২) কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৩০ পয়সা। আর পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ার প্রতি নীট সম্পদ মূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ৬৫ পয়সায়।

বিএসইসির শর্ত অনুযায়ী, লেনদেন শুরুর পর থেকে তিন বছর কোম্পানিটি কোনো বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে পারবে না। প্রাইম ব্যাংক ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিটির ইস্যু ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে।


পুঁজিবাজারে দরপতনেও বাড়ল সূচক ও লেনদেন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৪৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

টানা তিন কর্মদিবস পতনের পর বুধবার উত্থানে কিছুটা সরল পুঁজিবাজারের মেঘ। তবে সূচক ও লেনদেন বাড়লেও দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৩ গুণের বেশি। তার চেয়েও বেশি ছিল ফ্লোর প্রাইসে লেনদেনের সংখ্যা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজও ৬২টি কোম্পানির কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি। লেনদেন হওয়া ৩৩০টির মধ্যে দর বেড়েছে ৪০টির, বিপরীতে কমেছে ১২৬টির।

কয়েক দিন থেকে দেখা গেছে, প্রতিদিনই কিছু শেয়ার ফ্লোর প্রাইস থেকে বের হয়ে এসেছে। কিন্তু মঙ্গলবার ফের ফ্লোরে ঢুকেছে ৩টি কোম্পানি।

আগের দিন ৯টি কোম্পানির ফ্লোর থেকে বেরিয়ে অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয় ১৬১টির। আজ অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয় ১৬৪টির।

দরপতন বেশি হলেও সেগুলো সূচকে খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে দিন শেষে সূচক বেড়েছে ১০ পয়েন্ট। সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে।

সর্বোচ্চ দরপতন হওয়া প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সও ১ পয়েন্ট সূচক কমাতে পারেনি। কোম্পানিটির ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ দরপতনে সূচক কমেছে মাত্র শূন্য দশমিক ৫৩ পয়েন্ট।

এ ছাড়াও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ব্যাংক, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ওয়ান ব্যাংক, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স ও উত্তরা ব্যাংক সবচেয়ে বেশি সূচক কমিয়েছে। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমাতে পেরেছে ২ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি দরবৃদ্ধি পাওয়া জেনেক্স ইনফোসিস সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ৯০ পয়েন্ট। এ ছাড়া ওরিয়ন ফার্মা ১ দশমিক ৯৪ পয়েন্ট, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ১ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট ও সি-পার্ল ১ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে।

আর কোনো কোম্পানি সূচকে ১ পয়েন্ট যোগ করতে পারেনি। এ ছাড়াও সূচক বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে শাইনপুকুর সিরামিকস, এডিএন টেলিকম, আমরা নেটওয়ার্কস, বসুন্ধরা পেপার, আইটি কনসালট্যান্টস ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১১ দশমিক ৬৫ পয়েন্ট।

সূচকের সঙ্গে সামান্য বেড়েছে লেনদেন। হাতবদল হয়েছে হয়েছে ৫৮০ কোটি ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৭ কোটি ৫৮ লাখ ২৩ হাজার টাকা বেশি। মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৫৭৩ কোটি ৯ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

২০২০ সালে করোনা মহামারির পরে গত ডিসেম্বরে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়। খরার মধ্যে বাজার সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, চলতি বছরের শুরু থেকে বাজার ভালো হবে। এরপর ৪ জানুয়ারি বাজার সংশ্লিষ্টদের ডেকে বৈঠক করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সেখানে বলা হয়, ফ্লোর প্রাইস ওঠানো হবে না। বাজার ভালো করতে সব পক্ষকে নামতে হবে।

এরপর কিছুটা বাড়তে বাড়তে ১৮ জানুয়ারি হাজার কোটি ছুঁইছুঁই হয় লেনদেন। তবে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণার পর সেটি আবার ছোটে উল্টো পথে। পরের ১০ কর্মদিবসের ৮ দিনই লেনদেন হয়েছে ৫ শ থেকে ৬ শ কোটির ঘরে।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাজারের যে কয়েকটি ইনডিকেটর, সেসব তো ভালোই দেখা যাচ্ছে। যে লেনদেন ২ শ কোটি টাকার ঘরে নেমে এসেছিল, তা এখন ৫ শ থেকে ৬ শ কোটি টাকার ঘরে চলে এসেছে। আবার এক সময় আড়াই শর বেশি কোম্পানি ফ্লোরে লেনদেন হচ্ছিল। সেখান থেকে ১০০টির বেশি কোম্পানি বেরিয়ে এসেছে। সিঙ্গেল পার্টির এক্সপোজার থেকে ডেট ইনস্ট্রুমেন্ট যা আছে, সেগুলো এক্সপোজারের বাইরে রাখার জন্য গভর্নর প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন। সেটার একটা ড্রাফট ক্যাবিনেটে পাঠানো হয়েছে। সম্ভবত সেটা অনুমোদন হয়ে গেছে বা হয়ে যাবে। এটা হয়ে গেলে আরও কয়েক হাজার কোটি টাকা বাজারে আসার সুযোগ তৈরি হয়ে যাবে।’


আইএমএফের ঋণ ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে: ডিসিসিআই

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার
আপডেটেড ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:২৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সুবিধা অনুমোদন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি ব্যারিস্টার মো. সামীর সাত্তার। তিনি বলেন, ‘এই ঋণ বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার ঘাটতি কমাতে সাহায্য করবে। আইএমএফের ঋণ প্রাপ্তির অর্থনৈতিক সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ।’

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিসিসিআইয়ের সভাপতি এসব কথা বলেন।

সামীর সাত্তার বলেন, ‘আইএমএফ বাংলাদেশকে ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ও পলিসি সংস্কারের শর্তারোপ করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হল-আর্থিক খাত, নীতি কাঠামো, জ্বালানি খাত, সরকারি অর্থব্যবস্থা, স্থানীয় রাজস্ব বৃদ্ধি, জলবায়ু স্থিতিশীল করতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি। এই ঋণ সুবিধা বাংলাদেশকে বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।’

আইএমএফের ঋণ ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দেবে উল্লেখ করে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এই ঋণ প্রাপ্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়বে, যা আমাদের অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে। এমনকি সরকার আমদানির ক্ষেত্রে এলসি খোলার কঠোর শর্তাবলী প্রত্যাহারের বিষয়ে বিবেচনা করার সুযোগ পাবে। আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিবেচনায় ঋণটি অবশ্যই ব্যবসায়িকদের জন্য স্বস্তি দেবে।’

আইএমএফর ঋণ প্রাপ্তিতে সরকার ইতোমধ্যে কিছু সংস্কার অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন করেছে উল্লেখ করে সামীর সাত্তার বলেন, ‘আর্থিক খাতকে শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত মুদ্রানীতিতে ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সুশাসন নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের সুদ হারের সীমা শিথিল করা হয়েছে। সম্প্রতি নতুন আয়কর আইন মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে যার অন্যতম লক্ষ্য হলো করজাল বাড়ানো, যাতে করে দেশীয় রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি করা যায়।’

সামীর সাত্তারের প্রত্যাশা, সরকার সব খাতে সুশাসন নিশ্চিত করবে এবং তা বজায় রাখবে। তিনি সরকারকে এই ঋণের যে কোনো শর্ত সম্পর্কে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান, যেন বাংলাদেশ আইএমএফ নির্ধারিত শর্তগুলো প্রতিপালনে এগিয়ে থাকতে পারে।


স্বর্ণ মেলায় অংশ নিচ্ছে ৫০ প্রতিষ্ঠান, থাকছে র‌্যাফেল ড্র

স্বর্ণ মেলা উপলক্ষে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলন করে বাজুস। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৯:২৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) উদ্যোগে ঢাকায় দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে ‘বাজুস ফেয়ার-২০২৩’। তিন দিনব্যাপী এই মেলা শুরু হবে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি। ঐতিহ্যবাহী ৫০টি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান এই মেলায় অংশগ্রহণ নেবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর পান্থপথে বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে মেলা উপল‌ক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বাজু‌সের পক্ষ থে‌কে বিস্তারিত জানা‌নো হয়।

এবারের স্বর্ণ মেলা রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরার (আইসিসিবি) ৪ নম্বর নবরাত্রি হ‌লে অনুষ্ঠিত হবে। মেলায় থাকবে সোনার অলঙ্কারের ৮টি প্যাভিলিয়ন, ১২টি মিনি প্যাভিলিয়ন ও ৩০টি স্টল।

৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই মেলা চল‌বে ১১ ফেব্রুয়া‌রি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মেলা।

বাজুস মেলায় প্রবেশে টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ১০০ টাকা। ৫ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের টিকিট লাগবে না। ক্রেতাদের জন্য ব্যবস্থা করা হয়েছে র‌্যাফেল ড্রয়ের। ক্রেতারা যে প্রতিষ্ঠানের অলঙ্কার কিনবেন, সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই র‍্যাফেল ড্রয়ের কুপন সংগ্রহ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আশা করা হয়, এবারের মেলা দেশীয় জুয়েলারি শিল্পকে সমৃদ্ধশালী করার পাশাপাশি বিশ্ববাজারে একটি নতুন অবস্থান তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। পরিচিতি বাড়বে দেশের স্বর্ণ শিল্পীদের হাতে গড়া নিত্যনতুন আধুনিক ডিজাইনের অলঙ্কারের।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাজুস সহ-সভাপতি ও বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্সের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন, বাজুসের উপদেষ্টা রুহুল আমিন রাসেল, জায়া গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডের চেয়ারম্যান উত্তম বণিক, বৈশাখী জুয়েলার্সের ভাইস চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র দে প্রমুখ।


পুঁজিবাজারে হ্যাট্রিক পতন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তৃতীয় দিনের মতো মূল্যসূচকের পতনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো লেনদেন।

মঙ্গলবার ডিএসইতে দরপতন হলেও বেশিরভাগ কোম্পানির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে কমেছে টাকার অংকে লেনদেনের পরিমাণ। দেশের অপর পুঁজিবাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে মঙ্গলবার ৫৭৩ কোটি ৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ৬৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা বেশি। গতকাল ডিএসইতে ৫০৯ কোটি ৪৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ১১ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৬৭ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরীয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩৬৬ পয়েন্টে এবং ডিএস৩০ সূচক ৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২১৯ পয়েন্টে।

ডিএসইতে ৩২৭টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৩১টির, কমেছে ১৩৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৬১টির।

অপর বাজার চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিচ সূচক সিএএসপিআই ১৯ পয়েন্ট কমেছে। লেনদেন হয়েছে ১২ কোটি ১১ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিষয়:

আইএমএফ থেকে যা চেয়েছিল, পাচ্ছে তারও বেশি

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১২
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

বৈশ্বিক কারণে অর্থনীতিতে চাপ সামলাতে বিশ্ব আর্থিক খাতের অন্যতম প্রধান মোড়ল সংস্থা আইএমএফের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে পরিমাণ ঋণ চেয়েছিল, সংস্থাটি তার চেয়েও বেশি ঋণ দিচ্ছে। সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ৪৫০ কোটি (৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন) ডলার চেয়েছিল তবে আইএমএম তার চেয়ে ২০ কোটি ডলার বেশি অর্থাৎ ৪৭০ কোটি (৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন) ডলার দেবে।

গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফের সদর দপ্তরে সংকটকালে বাংলাদেশের বহুল প্রত্যাশিত এই ঋণের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সংস্থাটির নির্বাহী পর্ষদ। মঙ্গলবার দুপুরে আইএমএফের ওয়েবসাইটে এই ঋণ অনুমোদনের বিষয়টি এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।

৪২ মাসের চুক্তিতে সরকারের নেয়া ‘অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচিতে’ সহায়তা হিসেবে আইএমএফের এক্সটেন্ডেড ক্রেডিট ফ্যাসিলিটি (ইসিএফ) এবং এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি (ইএফএফ) থেকে ৩৩০ কোটি (৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন) ডলার ঋণ পাবে বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার তাৎক্ষণিকভাবে ছাড় করা হবে বলে বিবৃতিতে জানিয়েছে আইএমএফ।

এ ছাড়া আইএমএফের নবগঠিত রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় বাংলাদেশ পাবে ১৪০ কোটি (১ দশমিক ৪ বিলিয়ন) ডলার। বাংলাদেশই প্রথম এশীয় দেশ, যারা এই তহবিল থেকে ঋণ পাচ্ছে।

এই দুই তহবিল থেকে মোট ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ২ দশমিক ২ শতাংশ সুদে নেয়া এই ঋণ আসবে সাত কিস্তিতে। শেষ কিস্তি আসবে ২০২৬ সালে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রাসংকটে পড়া বাংলাদেশ রিজার্ভ বাড়াতে এমন অর্থের প্রত্যাশায় ছিল।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণ বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার যে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়নেও সহায়তা করবে এই ঋণ।

আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সরকারকে তার উচ্চাভিলাষী সংস্কার কার্যক্রমের গতি বাড়াতে হবে। ২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশ হতে গেলে মানবসম্পদ ও অবকাঠামো খাতে আরও বিপুল বিনিয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও তা জরুরি। তারা বলেছে, বাংলাদেশ সরকার এসব চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল এবং একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও বাংলাদেশ অবগত।’

অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ বলেন, ‘রাজস্ব খাতে সংস্কার করলে বাংলাদেশ সামাজিক খাত, উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ব্যয় বৃদ্ধি করতে পারবে। তবে সে জন্য কর নীতি ও রাজস্ব প্রশাসন- উভয় খাতেই হাত দিতে হবে। রাজস্ব সংস্কার হলে সরকারি অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে। এতে সরকারের ব্যয় সক্ষমতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে এবং শাসনব্যবস্থাও উন্নত হবে।’

আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আরও বলেন, ‘আর্থিক খাতের দুর্বলতা কমলে, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা উন্নত করা হলে ও পুঁজিবাজারের উন্নতি করা গেলে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করা সম্ভব হবে।’

এ ছাড়া প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা বৃদ্ধি করতে কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন বলে মনে করেন আইএমএফের ডিএমডি। সে জন্য দরকার, বাণিজ্য ও প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির সহায়ক পরিবেশ তৈরি, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শাসনব্যবস্থার উন্নয়ন।

৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ পেতে ও চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকার কয়েক মাস ধরেই সংস্কার কর্মসূচি পরিচালনা করছে। চলতি জানুয়ারিতে যখন আইএমএফের ডিএমডি বাংলাদেশ সফরে আসেন, তখন এসব সংস্কারে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। মৌলিক এসব সংস্কার কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিও আইএমএফের ডিএমডি গুরুত্বারোপ করেন তখন।

সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক কী সংস্কারে হাত দিয়েছে, যাতে আইএমএফ সমর্থন করছে- আইএমএফের ডিএমডির ঢাকা সফরের সময় এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জানা যায়, ভর্তুকি কমাতে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এরপর গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়। রিজার্ভের গণনাপদ্ধতি আইএমএফের চাওয়া অনুযায়ী করা হচ্ছে এবং জ্বালানি তেলের দাম মাসে মাসে সমন্বয় করার ঘোষণাও দিয়েছে সরকার।

আইএমএফও তাদের বিবৃতিতে বলেছে, করোনা মহামারির ধাক্কা সামলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল বাংলাদেশ, কিন্তু যুদ্ধের কারণে তা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তাতে বৈদেশিক বাণিজ্যে চলতি হিসাব ভারসাম্যে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে, টাকার মান কমে গেছে এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে টান পড়েছে। সাম্প্রতিক এই অর্থনৈতিক জটিলতাগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ একগুচ্ছ সমন্বিত পদক্ষেপ নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকার মনে করে, প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরি করতে হলে তাৎক্ষণিক এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার পাশাপাশি, দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত সমস্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিগুলোকেও আমলে নিতে হবে।’

বাংলাদেশকে ঋণ দিতে গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছায় আইএমএফ। সেই ঋণচুক্তির শর্তসহ খুঁটিনাটি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ার মধ্যেই বাংলাদেশ সফর করেন আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ।

এরপর বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় ওঠে এবং অনুমোদন পায়।

বিষয়:

বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদন দিল আইএমএফ

আইএমএফ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:১৯
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশের জন্য মোট ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণের অনুমোদনের কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। বাংলাদেশ সময় সোমবার দিবাগত রাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আইএমএফের নির্বাহী বোর্ডের সভায় এ ঋণের অনুমোদন দেয়া হয়। সংস্থাটির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আইএমএফ জানায়, বর্ধিত ঋণ সহায়তা (ইসিএফ) এবং বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) থেকে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন (৩৩০ কোটি) মার্কিন ডলার এবং রেজিলিয়্যান্স অ্যান্ড সাসটেইনিবিলিটি ফ্যাসিলিটির (আরএসএফ) আওতায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন (১৪০ কোটি) মার্কিন ডলার পাবে বাংলাদেশ।

আইএমএফ বলছে, বাংলাদেশ এশিয়ার প্রথম দেশ, যারা আরএসএফের অধীনে অর্থায়ন পাচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আগামী ৪২ মাস ধরে মোট সাত কিস্তিতে এই ঋণ দেয়া হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে বৈদেশিক মুদ্রাসংকট চলছে, এই ঋণ সেটা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে বলে কর্মকর্তারা আশা করছেন।

আইএমএফ জানায়, বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা রক্ষা, সামাজিক ও উন্নয়নমূলক ব্যয়ে সক্ষমতা তৈরিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার করা, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা, নীতি কাঠামো আধুনিক করে তোলা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার কাজে এই ঋণ সাহায্য করবে।

এর আগে সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে এক বিবৃতিতে আইএমএফের ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে জানান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে সেসময় ঋণের পরিমাণ ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলার বলে জানা গিয়েছিল।

বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘আমরা অবশ্যই আইএমএফের প্রতি এই ঋণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। বিশেষ করে আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ এবং মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দসহ যে দলটি এই ঋণের বিষয়ে বাংলাদেশ সফর করেছিলেন, তাদের প্রতি জানাই ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার এবং অর্থ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ফাতিমা ইয়াসমিনসহ অর্থ মন্ত্রণালায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা যারা এই ঋণ প্রোগ্রাম নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের প্রতিও রইল আমার কৃতজ্ঞতা।’

আরও পড়ুন: বহুল প্রতিক্ষিত ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ ‘অনুমোদন দিল’ আইএমএফ

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেছিলেন যে আইএমএফ হয়তো বা এই ঋণ দেবে না। তারা ভেবেছিল আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক এলাকাগুলো দুর্বল তাই আইএমএফ এ ঋণ প্রদান থেকে বিরত থাকবে। এ ঋণ অনুমোদনের মাধ্যমে এটাও প্রমাণিত হলো যে, আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির মৌলিক এলাকাগুলো শক্ত ভিতের ওপরে দাঁড়িয়ে আছে এবং অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো।

গত বছরের ২৪ জুলাই ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে চিঠি দেয় বাংলাদেশ সরকার। এতে পরিমাণের কথা উল্লেখ ছিল না। পরে ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণ সহায়তার কথা উল্লেখ করেন।

গত ৯ নভেম্বর আইএমএফ বাংলাদেশকে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়ে সম্মতি জানায়। তবে সেটি ছিল কর্মকর্তা পর্যায়ের ঐকমত্য।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে যাওয়া অ্যান্তইনেত মনসিও সায়েহ আগেই জানিয়েছিলেন বাংলাদেশের ঋণ আবেদন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্বাহী পর্ষদের ৩০ জানুয়ারির সভায় অনুমোদিত হতে পারে।


বিডার ১১০ সংস্কার বাস্তবায়নে ধীরগতি

আপডেটেড ৩১ জানুয়ারি, ২০২৩ ১৫:২৪
ফারহান ফেরদৌস

দেশে ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে গত বছরের জুনে তিন বছরের মধ্যে ১১০টি সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিডা। প্রথম বছরে ৫০টি এবং পরের দুই বছরে ৬০টি সংস্কার বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু আট মাস পার হয়ে গেলেও একটি সংস্কার প্রস্তাবও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। কয়েকটির কাজ শুরু হয়েছে মাত্র।

দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে কেন দেরি হচ্ছে- এ প্রশ্নের উত্তরে বিডার নির্বাহী পরিচালক মহসিনা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকার নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। যে ১১০টি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল, সেটি সে উদ্যোগের একটি অংশ। কিন্তু সরকারি কাজের পদ্ধতির কারণে এই সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।’

দেশের বেসরকারি খাতকে বেগবান করতে এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারীকরণ কমিশনকে একীভূত করে গঠন করা হয় বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)। বিডার প্রধান কাজ হচ্ছে দেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা।

আর ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতেই ১১০টি সংস্কার তিন বছরের মধ্যে বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছিল সংস্থাটি। কিন্তু আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পিছিয়ে যাচ্ছে সেই কাজ।

১১০টি সংস্কার পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিডার ইনভেস্টমেন্ট এনভায়রনমেন্ট সার্ভিস উইংয়ের মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায় দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সংস্কারগুলো এখনো পরিকল্পনা পর্যায়ে আছে। এটা পাবলিক ডকুমেন্ট না। তাই সব বলা যাচ্ছে না। যেমন- আমরা বলেছি বাংলাদেশে যেকোনো কমার্শিয়াল ডিসপিউট ৫০০ দিনের মধ্যে শেষ করতেই হবে। এ ছাড়া নিবন্ধিত কোম্পানির ট্রেড লাইসেন্স ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে; আর ন্যূনতম ৫ বছরের জন্য দিতে হবে, এক বছরের জন্য না। তার পর কমার্শিয়াল ক্ষেত্রে ইউটিলিটির জন্য আমরা একটি সময় বেঁধে দিয়েছি। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ২১ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে। নির্মাণ পরিকল্পনা ২৭ দিনের মধ্যে রাজউক বা অন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে অনুমোদন দিতে হবে। অন্যান্য ইউটিলিটি সেবাও যাতে দ্রুততর সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হয়- সেসব নিয়েই ১১০টি সংস্কার।’

বিডার নির্বাহী পরিচালক মহসিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘আসলে আমাদের কাজগুলো শুরু করতে দেরি হয়ে গেছে। গত জুলাইয়ে শুরু করলে আমরা মাঝপথে থাকতাম। এখন জানুয়ারি মাস ওয়ার্কিং গ্রুপ বসবে। তারা শুরু করতে পারেনি। আসলে ৩ বছর যেটা বলেছে, প্রথম বছরে হয়তো আমরা লক্ষ্য থেকে পিছিয়ে থাকব। কিন্তু আমরা পরের দুই বছরে ভালোভাবে কাজ করে পুষিয়ে দেয়ার চেষ্টা করব। আমাদের শুরু করতে দেরি হয়ে গেছে। লক্ষ্য আছে, দেখি কতটা পারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিডার বেশ ‍কিছু পরিবর্তন হয়েছে। আগের চেয়ারম্যান চলে গেছেন। নতুন চেয়ারম্যান এসেছেন। আমাদের কাজে কেউ কোনো বাধা দিচ্ছেন না। সবাই আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন। সবাই এটা করতে ইচ্ছুক। আমাদের পদ্ধতিগত কিছু ব্যাপার আছে। সরকারি কাজে অনুমতির কিছু বিষয় আছে। এগুলো আসতে একটু সময় লেগে যাচ্ছে। সে জন্য আমাদের শুরুটা করতে দেরি হয়ে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা খুব জোরেশোরে এই কাজগুলো করব। ওয়ার্কিং কমিটি কাজ করছে। ১১০টি সংস্কারের অনেকগুলোই কিন্তু চলমান। আমরা আশা করি আমাদের এগুলো হয়ে যাবে।’

দেশে ব্যবসার পরিবেশ ব্যবসায়ীবান্ধব না হওয়ার কারণে প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। ২০২০ সালের হিসাবে দেখা যায় বাংলাদেশ ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ পেয়েছে। কিন্তু একই বছরে ভিয়েতনাম পেয়েছে ১৭ বিলিয়ন ডলার বিদেশি বিনিয়োগ।

দেশে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা এবারও দুর্নীতিকেই প্রধান বাধা হিসেবে দেখছেন বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এর আগে সর্বশেষ ২০২১ সালের জরিপেও ব্যবসায়ীদের সিংহভাগই ব্যবসা করার ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।

গত রোববার নতুন জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে সিপিডি জানায়, জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবসায়ী দুর্নীতিকে তাদের ব্যবসার প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখেছেন। কোন কোন জায়গায় দুর্নীতি হচ্ছে, সেটিও জরিপে উঠে এসেছে। ৭৫ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হয়ে থাকে। ৫৪ শতাংশ বলছেন লাইসেন্স নেয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতি; গ্যাস, বিদ্যুৎ নেয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা বলছেন ৪৯ শতাংশ এবং ৪৮ শতাংশ ব্যবসায়ী বলেছেন কর দেয়ার ক্ষেত্রে দুর্নীতির কথা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) ও পলিসি এক্সচেঞ্জ প্রকাশিত বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স ২০২২ সূচক প্রকাশ করেছে। এই সূচক নির্ধারণে ১০টি বিষয়কে আমলে নেয়া হয়েছে। ২০২১ সালের তুলনায় এই ১০টির মধ্যে ছয়টি বিষয়ে উন্নতি করেছে। আর চারটি বিষয়ে খারাপ করেছে। বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স-২০২২ হয়েছে ৬১ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট। আগের বছর এই সূচক ছিল ৬১ দশমিক শূন্য ১ পয়েন্ট। অর্থাৎ আগের চেয়ে দশমিক ৯৪ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে এই উন্নতি খুবই নগণ্য বলেছে এমসিসিআই। সূচক যত বেশি হয়, ব্যবসায় পরিবেশ তত ভালো।

এতে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ব্যবসা শুরু সূচক আগের তুলনায় ২ দশমিক ৭২ পয়েন্ট ভালো করেছে। আগেরবার এই সূচক ছিল ৬৮ দশমিক ৯১ পয়েন্ট। এবার হয়েছে ৭০ দশমিক ৭৮ পয়েন্ট। করোনা মহামারির কারণে সরাসরি সরকারি অফিসে না গিয়ে ই-মেইলে কাজ সারা গেছে, তাই এই উন্নতি।

ব্যবসার জমি প্রাপ্তির সূচকে এবার খারাপ হয়েছে। আগেরবার ছিল ৫৮ দশমিক ৯০, এবার হয়েছে ৫৩ দশমিক শূন্য ৭ পয়েন্ট। জমি নিবন্ধনে খরচ এবং হয়রানি বেড়েছে, তাই এই সূচক খারাপ হয়েছে। তথ্যপ্রাপ্তি সূচক এবার আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। ইউটিউব সোশ্যাল মিডিয়ার কল্যাণে এ ক্ষেত্রে ভালো করেছে বাংলাদেশ।

পদ্মা সেতুর কারণে এবার অবকাঠামো খাতে ভালো করেছে। ব্যবসা পরিবেশ সূচকে এর প্রভাব ভালো। শ্রমিকের ব্যবস্থাপনা সূচকেও এবার ভালো করেছে, অনলাইনে প্রশিক্ষণ সহজ হওয়ায় এই উন্নয়ন ঘটেছে। বাণিজ্য সহজ হয়েছে আগের তুলনায়। তাই এই সূচকেও ভালো করেছে বাংলাদেশ। আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত কিছু খরচ কমে আসার কারণে এই সূচকে উন্নতি হয়েছে।

কর প্রদান সূচকে আগের তুলনায় অনেক খারাপ করেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন হারের ভ্যাটের পাশাপাশি বাড়তি করের বোঝা চাপিয়ে দেয়ায় এই সূচক অনেক অবনতি হয়েছে। তবে নতুন প্রযুক্তি অভিযোজনে সূচকে ভালো করেছে। ইন্টারনেটের গতি বাড়ায় মূলত এই উন্নতি হয়েছে।

বাংলাদেশ সবচেয়ে খারাপ করেছে ব্যবসায়ীদের অর্থপ্রাপ্তি সূচকে। সুদের হার ৬ এবং ৯ শতাংশ বেঁধে দেয়ায় ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য টাকা পাওয়া প্রায় অসম্ভব ছিল বলে বাংলাদেশ বিজনেস ক্লাইমেট ইনডেক্স-২০২২ সূচকে বলা হয়েছে।

অগ্রগতি দেখতে সার্ভে করবে বিডা

বিডার ইনভেস্টমেন্ট এনভায়রনমেন্টে সার্ভিস উইংয়ের মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা রায় দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দেশের ব্যবসা পরিবেশ সহজ করতে আমরা একটি সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করি। ২০২২ সালের ১৬ জুন একটি ওয়ার্কশপ করি। সেখানে ১১০টি সংস্কার প্রস্তাব আমরা রেডি করেছি। আমরা ১ বছরে ৫০টি সংস্কার করব। পরের দুই বছরে আরো ৬০টি সংস্কার করব। ৩ বছরে মোট ১১০টি সংস্কার করব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে সংস্কারগুলো করব, করার পরে একটি থার্ড পার্টি দিয়ে সার্ভে করাব। সার্ভেটা হবে বিশ্বব্যাংকের ফরমেটেই। তারা প্রথমে দেখবে সংস্কারগুলো হয়েছে কিনা। তারপর তারা বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের কাছে বিষয়গুলো কনফার্ম করবে। সংস্কারগুলো হয়েছে কিনা? এগুলো তারা পাচ্ছে কিনা? সব মিলিয়ে তারা একটি সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করবে।’


banner close