শনিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৫
১৪ ভাদ্র ১৪৩২

ডলারসংকট সহজে কাটবে না

আপডেটেড
১৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:২৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ১৪ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:২৩

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক এবং দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, অর্থনীতির প্রধান সমস্যা হচ্ছে রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট এবং ডলারসংকট। ডলারসংকটের কারণে রিজার্ভের পতন হচ্ছে। ডলারের যে সংকট চলছে, এটা সহজে যাবে না। ২০২৩ সালজুড়ে ডলারসংকট থাকতে পারে। এটা সহজে দূর হবে না।

দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আহসান মনসুর। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

আহসান এইচ মনসুর

দুই বছরের বেশি সময়ের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় কেমন চলছে দেশের অর্থনীতি। ২০২২ কেমন গেল? ২০২৩ সাল কেমন যাবে?

২০২২ সাল অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে পৃথিবীর কোনো দেশের জন্যই ভালো ছিল না। পৃথিবীর পরিস্থিতি ছিল টালমাটাল। বাংলাদেশ এটা থেকে দূরে থাকতে পারেনি। বিশ্বায়নের যুগে এককভাবে থাকা সম্ভব না। আমরাও থাকতে পারি না। আমাদের দেশের সঙ্গে সারা বিশ্বের মিল আছে। সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে; আমাদের এখানেও বেড়েছিল। এখনো বেশি আছে। ব্যালেন্স অব পেমেন্টে (বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য) বড় ঘাটতি আছে। এটাও পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আছে। বিশ্বের সব পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়াতে আমরা একটি বড় ধাক্কা খেয়েছি। তেল, চাল, ডালসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়েছে। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়েছে। জাহাজের ভাড়া বেড়ে গেছে।

সব মিলিয়ে আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্টে ঘাটতি হওয়াতে আমরা একটা ধাক্কা খেলাম। সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিল এক্সচেঞ্জ রেটে (টাকা-ডলারের বিনিময় হার)। আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটে হঠাৎ করে বড় পতন হলো। যদি ভারতের মতো আস্তে আস্তে পতন হতো, তাহলে এটিকে আমরা সহনীয়ভাবে বহন করতে পারতাম। যেহেতু একবারে বোঝাটা পড়েছে, আমাদের পিঠটা ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছে। মোদ্দাকথা, ইতিমধ্যে ডলারের বিপরীতে আমাদের টাকার ২৫ শতাংশ ডি ভ্যালুয়েশন (অবমূল্যায়ন) হয়েছে; আরও কিছু হতে পারে বলা যায় না। এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যায় না। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্ববাজারে ডলারের মূ্ল্যের যে বড় উল্লম্ফন সেটা। দুটো মিলিয়ে শকটা বড় আকারের ছিল। ব্যালেন্স অব পেমেন্টেও ছিল, মূল্যস্ফীতিতেও ছিল। আর সেজন্য আমাদের জনজীবন বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই দুই-আড়াই বছরে মানুষ খুবই কষ্ট পেয়েছে; এখনো কষ্ট পাচ্ছে। আরও কতদিন এই কষ্ট করে চলতে হবে, কেউ কিছু বলতে পারছে না।

অন্যদিকে সরকারের যে বাজেট ব্যবস্থাপনা সেখানে সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকার বাজেটে কাটছাঁট করছে। এর পরেও কাজ হচ্ছে না। বাজেটে ভর্তুকি ছিল ৮০ হাজার কোটি টাকা। সেটি বেড়ে এখন হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এটি অকল্পনীয় একটি বোঝা। এতবড় ঘাটতি অনেক কঠিন! সরকার না পারছে বহন করতে, না পারছে জনগণের ওপর ফেলতে। এর ফলে বাজেট ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হচ্ছে। অর্থনীতিতে সমস্যা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ২০২২ সালে সরকার ভালো0 অবস্থায় ছিল না। জনগণ ভালো অবস্থায় ছিল না। বিশ্বের কেউ ভালো অবস্থায় ছিল না।

এতো সব সমস্যার মধ্যে স্বপ্নের পদ্মা সেতু ও বহুল প্রতীক্ষিত মেট্রোরেল চালু হয়েছে। এই দুটি বড় প্রকল্প দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন?

এই দুটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত প্রকল্প। পদ্মা সেতু অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। তবে মেট্রোরেল তো আর সঙ্গে সঙ্গে কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না। এটার প্রভাব বোঝা যাবে ২ বছর পরে পুরোপুরি শেষ হলে। তবে বাংলাদেশে একটি আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থা হলো। বাংলাদেশও যে পারে, তার প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। এ কথা ঠিক যে, ২০২২ সালটা খুবই কঠিন বছর ছিল, সংকটের বছর ছিল, চাপের বছর ছিল। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে কেটেছে। একটার পর একটা বিপদ এসেছে। এ সব সামাল দিতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখনো খেতে হচ্ছে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে, এখনো নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্ব পরিস্থিতি অনুকূলে আসছে না।

এত কিছুর মধ্যেও পদ্মা সেতু ও মেট্রোরেল দেশের মানুষকে আশা জাগিয়েছে। যার ইতিবাচক ফল মানুষ পাচ্ছে। সরকারও সাহস পেয়েছে। মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হলে এই আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার পুরোপুরি সুফল পাবে মানুষ। তবে এখানেই থেমে থাকলে চলবে না, সমস্যা থাকবে, সংকট থাকবে, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বলছে, ২০২৩ সালটা আরও কঠিন যাবে। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশে মন্দাও দেখা দিতে পারে। এর মধ্যেও আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে হবে। যেসব বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কাজ আমরা শুরু করেছিলাম, অনেকটি শেষের দিকে- সেগুলো দ্রুত শেষ করে উৎপাদনে যেতে হবে। শুধু রাজধানীর ভেতরে নয়, আশপাশের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে মেট্রোরেল করতে হবে। এই যে শুরু হয়েছে, এটা অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলেই আমরা ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়ন এবং ২০৪১ সালে উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের যে স্বপ্ন দেখছি, তা পূরণ করতে পারব।

দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো এখন কী অবস্থায় আছে?

আমাদের অর্থনীতির প্রধান হচ্ছে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ম্যানেজমেন্ট এবং ডলারসংকট। ডলারসংকটের কারণে রিজার্ভটার পতন হচ্ছে। কয়েক দিন আগে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ আরও কমে ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। ডলারের যে সংকট চলছে, এটা সহজে যে যাবে তা আমার মনে হয় না। ২০২৩ সালজুড়েও ডলারসংকট থাকতে পারে। এটা সহজে দূর হবে না।

কতগুলো বিষয় আছে, যেগুলো ২০২৩ সালজুড়েই থাকবে। এগুলো সহজে যাবে না। যেমন ব্যক্তি খাতে যে ১৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ আছে, সেটা তো আমরা শোধ করতে পারিনি। সেটাকে আমরা সামনের দিকে ঠেলে দিয়েছি। আমরা এক বছর পিছিয়ে দিয়েছি। অনেক এলসি (ঋণপত্র) ডেফার করা হয়েছে, সেগুলোকে সামনে আমাদের পে-করতে হবে। সামনের দিকে আমাদের পেমেন্টের ঝামেলাটা রয়ে গেল, শেষ হলো না। এই ডলারের টানাপোড়েন চলবে। যতদিন পর্যন্ত না আমাদের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান দুই সূচক রপ্তানি আয় বাড়ে ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স না বাড়বে, ততদিন এই টানাপোড়েন চলবে। রেমিট্যান্সের ব্যাপারে একটু হতাশা আছে। প্রচুর লোক বিদেশ গিয়েছে। সেই দেশগুলোর কিন্তু এখন রমরমা অবস্থা। তেলের বাজার গরম। তাদের গরম অবস্থা। গত বছর বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১১ লাখ লোক কাজের জন্য বিভিন্ন দেশে গিয়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী কিন্তু আমরা রেমিট্যান্সের প্রত্যাশিত প্রবাহটা পাচ্ছি না। আমরা দেখছি, সৌদি আরব থেকে রেমিট্যান্সের প্রবাহটা বাড়েনি; উল্টো কমে গেছে। রেমিট্যান্স বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এই বৈপরীত্য কেন? আমরা মনে করছি, অর্থ পাচারের কারণে সৌদি আরবের টাকা চলে যাচ্ছে। সে কারণে মধ্যপ্রাচ্যের টাকা আমরা পাচ্ছি না। আর যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য থেকে টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে আসে। এখানে হুন্ডিটা থাকে না। এ ক্ষেত্রে আমরা পুরো ডলারটা পাচ্ছি; আমাদের দেশি ভাইরা যে টাকাটা পাঠাচ্ছেন। আর মধ্যপ্রাচ্যের ডলারটা পাচ্ছি না। টাকাটা তাদের পরিবারের কাছে চলে আসছে ঠিক; কিন্তু ডলারটা হারিয়ে যাচ্ছে, আমাদের সেন্ট্রাল ব্যাংকের কাছে আসছে না।

দ্বিতীয় যে জিনিসটা আমাদের ভাবতে হবে রাজস্বের ক্ষেত্রে আমাদের একটি সমস্যা চলছে। গত বছরও ছিল, এ বছরও থাকবে। কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আদায় হবে না। ২০২২ সালে কর জিডিপি রেশিও আরও কমেছে। আগে সাড়ে আটের মধ্যে ছিল। কিন্তু সেটা কমে কোথায় দাঁড়াবে আমরা জানি না। তবে এটা সাড়ে আটের নিচে হবে। এটা খুব দুঃখজনক। এটা আমাদের ব্যর্থতা। সরকারের সক্ষমতা থাকছে না। সরকার দেশের বাইরে থেকে, দেশ থেকে ঋণ করছে। আরেকটা বিষয় না বললেই নয়, ব্যাংকিং খাতে আমরা ভালোর দিকে যেতে পারিনি। দিন যত যাচ্ছে, ব্যাংক খাতের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। খেলাপি ঋণ বেড়েই চলেছে। ২০২২ সালে আমরা এখানে বিশাল কিছু কেলেঙ্কারি দেখলাম। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের টাকা সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলেছে। কারণ এখানে অনেক ব্যাংকের মালিকানা একই ব্যাংকে আছে। আর ইসলামী ব্যাংক হচ্ছে, ব্যক্তি খাতের ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যাংক। সেই ব্যাংকটার অবস্থা এখন খুবই খারাপ; পর্যদস্ত অবস্থা। তাদের এখন ৮ শতাংশ সুদে টাকা ধার নিতে হচ্ছে। এটা তো চিন্তা করা যায় না। অন্যান্য ব্যাংকের তুলনায় অনেক বেশি দিচ্ছে। তার মানে কী? যারা বেশি দেয় তাদের দুরবস্থার কারণেই বেশি দিতে হয়। তারা বাধ্য দিতে। এই ব্যাংকটার অবস্থা খারাপ। আমরা আশঙ্কা করছি এই ব্যাংকটির অবস্থা খারাপ কিন্তু কতখানি খারাপ সেটা বোঝা যাচ্ছে না।

সরকার কিছু বলছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে না। কিন্তু গুজব বেড়ে যাচ্ছে। ফলে তাদের তারল্যসংকটও বেড়ে যাচ্ছে। আরও কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা খারাপ। ২০২২ সালে ব্যাংকিং খাত নিয়ে একটি আস্থাহীনতা ছিল। ব্যাংকের ডিপোজিটের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে নিচে নেমে এসেছে, ৮ শতাংশের কাছাকাছি। এ রকম দেশে ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হওয়ার কথা; আমরা সেটা স্বাভাবিক পাচ্ছি না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে ব্যাংকিং খাতে নিয়মিত খেলাপি ঋণের পরিমাণ এখন ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। অবলোপন বা রাইট অব এবং মামলার কারণে আটকে থাকা খেলাপি ঋণ যোগ করলে মোট অঙ্ক আড়াই লাখ কোটি টাক ছাড়িয়ে যাবে। তাহলে ২০২২ সালই কি ব্যাংকিং খাত বেশি খারাপ গেল?

ব্যাংকিং খাত ধারাবাহিকভাবেই খারাপ যাচ্ছিল। আমরা অনেকেই উদ্বিগ্ন। আমরা আশা করেছিলাম যে একটি ব্যাংকিং কমিশন হবে। সরকারও বলেছিল। সরকার সে কাজটি করেনি। যে স্কামগুলো (ঋণ অনিয়ন বা কেলেঙ্কারি) হলো, সেগুলোর একটিরও বিচার হয়নি। ইসলামী ব্যাংকগুলোর ব্যাপারে যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলোর কিন্তু কোনো উত্তর সরকারের কাছ থেকে আমরা পাইনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। তারা আশ্বস্ত করছে না। সরকার বলুক যে তারা ভালো আছে। সেটাও বলছে না। আবার খারাপ আছে, সেটাও বলছে না। আমরা শুনতে চাই, দেশবাসী শুনতে চায়, কিন্তু সরকার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছুই বলছে না। আমি এখানে একটি দ্বিধা দেখছি, একটি শঙ্কা দেখছি। এখানে ট্রান্সপারেন্সি বাড়াতে হবে।

একটি গ্রুপের হাতে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা। সেই ব্যাংকগুলোর অবস্থাই এখন খারাপের দিকে যাচ্ছে। এটাকে আপনি কীভাবে দেখছেন?

এখানে দুটো বিষয় আছে। একটি হচ্ছে একজনের হাতে কয়েকটি ব্যাংকের মালিকানা। শেয়ারহোল্ডাররা একটি ব্যাংকের শেয়ারে থাকবে। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে যে তারা কন্ট্রোলিং শেয়ারে থাকছে। এর ফলে ঝুঁকি একটু বেশি। এখানে যেহেতু একজন মালিক যদি একটি ব্যাংকের কিছু হয়, তাহলে অন্য ব্যাংকগুলোও সমস্যায় পড়ে যাবে। আস্থার যখন সংকট হয়, তখন সবাইকেই আস্থার সংকেটর মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। এখান থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত।

দ্বিতীয় বিষয় হচ্ছে ঋণের কনসেনট্রেশন। কিছু ব্যক্তি বা পরিবার হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ নিচ্ছে। তারা আইন মেনে যদি নেন, সেটা এক কথা; কিন্তু নিজের ব্যাংক থেকে যদি ঋণ নেন নামে এবং বেনামে, সেটা কিন্তু আরেকটি সমস্যা। এ বিষয়ে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক সুস্পষ্টভাবে কিছু করছে না। এ বিষয়ে আমাদের জানার অধিকার আছে, দেশের মানুষের জানার অধিকার আছে। কিন্তু আমরা কিছুই জানছি না। এসব কারণে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। এসব কারণে আস্থাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে।

আপনি অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলো নিয়ে বলছিলেন। তাতে হতাশার দিকই বেশি উঠে এসেছে। কিন্তু রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে কিন্তু আশার আলো দেখা যাচ্ছে। সবাইকে অবাক করে দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে চমকের পর চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। নভেম্বরের পর ডিসেম্বরেও পণ্য রপ্তানি থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। আগামী দিনগুলো কেমন যাবে?

এটা খুশির খবর যে দুই-আড়াই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে যাওয়া বিশ্ব অর্থনীতিতেও রপ্তানি আয়ের ইতিবাচক ধারা আমরা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। ২০২১-২২ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫২ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলার আয় হয়েছিল। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকেই এসেছিল ৪২ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। শতাংশ হিসাবে মোট রপ্তানির ৮২ শতাংশই এসেছিল পোশাক খাত থেকে। আর চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ২৭ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে বেড়েছে ১০ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এই ছয় মাসে মোট রপ্তানির ৮৪ শতাংশের বেশি এসেছে পোশাক থেকে।

বিস্ময়কর হলো, এই কঠিন বিশ্ব পরিস্থিতিতে শেষ দুই মাসে অর্থাৎ নভেম্বর-ডিসেম্বর দুই মাসেই ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি আয় দেশে এসেছে। নভেম্বরে এসেছে ৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। আর ডিসেম্বরে এসেছে আরও বেশি ৫ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে এর আগে কখনোই কোনো একক মাসে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসেনি। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, নানা বাধা-বিপত্তি ও চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বিদায়ী ২০২২ সালে রপ্তানি ভালো হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে।

নভেম্বরে আমাদের রপ্তানি আয়ে রেকর্ড হয়। ডিসেম্বরে সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড হয়। গত বছর (২০২২ সাল) তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে ৪৫ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার, যেটা আগের বছর ছিল ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। ১০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি বেড়েছে এক বছরে। এর কারণ আমরা করোনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য অনেক কাজ করেছি; বিভিন্ন বাজারে গিয়েছি। আমাদের বড় বাজারগুলোতে গিয়েছি। এমার্জিং মার্কেটেও গিয়েছি।

তবে এখানে ধোঁয়াশা আছে। রপ্তানির যে চাহিদা সেটা কিন্তু বাড়ছে না ব্যাপকভাবে। একই সময় আমাদের পণ্যের, বিশেষ করে তৈরি পোশাকের চাহিদা কিন্তু বাড়ছে না। আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেই হোক বা কোভিডের কারণে চীন থেকে অনেকে সরে আসছেন, অনেক বায়ার বাংলাদেশে আসছেন। সে কারণে আমাদের রপ্তানি হয়তো কিছুটা বাড়ছে। যতদিন পর্যন্ত এই ডাইভারশন থাকবে, আমাদের বাজার ভালো থাকবে। আমার মনে হয়, আমাদের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়বে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে যে কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে আমাদের পোশাকের প্রধান বাজার আমেরিকা ও ইউরোপে মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। ওই সব দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। পরিস্থিতি যদি আরও খারাপের দিকে যায়, তাহলে কিন্তু এখনকার রমরমা অবস্থা থাকবে না।

মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে ব্যাংকঋণের সুদের হার বাড়ানোর কথা বলছেন অর্থনীতিবিদরা। তিন মাস ধরে নানা যুক্তি উপস্থাপন করে আপনি ঋণের সুদের হার বাড়ানোর কথা বলছেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। এ বিষয়টি নিয়ে কিছু বলবেন?

আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি, আর দেরি না করে ব্যাংকঋণের সুদের হার এখনই বাড়ানো উচিত। বাজারব্যবস্থায় কোনো কিছুর মূল্য বেঁধে রাখা ঠিক না। সেটা তেলের মূল্য হোক, চালের মূল্য হোক বা সুদের হার হোক। কোনোটা ধরে রাখা সার্বিকভাবে ভালো না। নয়-ছয় সুদের হার পরিবর্তন না করে আমরা কী ধরনের রিস্কের মধ্যে পড়ছি। আমাদের দুভাবে দেখতে হবে- একটি হচ্ছে আমাদের কী ঝুঁকি আসবে। আমরা যদি ‍সুদের হারটাকে একটু বাড়াতাম। তাহলে কিন্তু আমাদের এক্সচেঞ্জ রেটের ওপর আমাদের চাপটা কমে আসত। সেটা কিন্তু আমরা করছি না। এখন কিন্তু এক্সচেঞ্জ রেটের ওপরে আমাদের চাপটা কমে আসত। এক্সচেঞ্জ রেটগুলো একীভূত করা হয়নি। বাজারে ডলারের যে সংকট সেটা কিন্তু চলছে। এই সংকট কাটছে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই সমস্যায়। ব্যাংকগুলো মার্কেট থেকে ডলার কিনছে বেশি দামে। সুদের হার যদি বাড়ানো যেত, তাহলে রিটার্ন অন টাকা বাড়ানো যেত। তাহলে সমস্যা কমত।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ। এখন তা অনেক কমে গেছে। কেন কমছে?

আমি দেখি যে বাংলাদেশের স্বাভাবিক যে লেভেলটা ছিল, সেটা ছিল ৭ থেকে ৮ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছর বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ অনেক বেশি হয়েছিল। বিদেশিরা স্বাস্থ্য খাত উন্নত করতে আমাদের সাহায্য করেছে। এ কারণে গত বছর ২০২০-২১ অর্থবছরে আমাদের ঋণের অর্থপ্রবাহ ছিল ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি, সেটা কিন্তু এ বছর হবে না। এ বছর আমরা হয়তো আবার ৮ বিলিয়নে ফেরত চলে আসব। সরকার যেটা চাচ্ছে কিছু বাজেট সাপোর্ট দিয়ে এটাকে ১০ বিলিয়নের কাছাকাছি নিয়ে আসতে। আইএমএফ থেকে কিছু পাবে। আর বাজেট সহায়তা হিসেবে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য দাতা সংস্থার কাছ থেকে- সবকিছু মিলিয়ে যদি এটা ১০-১১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে আসা যায়, সেটা খুবই ভালো হবে; এই সংকটকালে কম সুদের ঋণ কাজে লাগবে।


নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

আপডেটেড ২৮ আগস্ট, ২০২৫ ২৩:২৫
এম এস ডালিম, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বাজেট উপস্থাপন করেন প্রশাসক এএইচএম কামরুজ্জামান।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত বাজেটে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে সমপরিমাণ আয় দেখানো হলেও ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৭৮ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ১৩৮ টাকা। এতে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ ২১ হাজার ১৯ টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক কামরুজ্জামান বলেন, ‘নগরবাসীর মানসম্মত নাগরিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে, বাস্তবতার নিরিক্ষে আয়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জন্য ৭৭৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার ১৫৮ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হলো।

উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পের আওতায় ২০ কিলোমিটার সঞ্চালন পাইপলাইন, ৩০০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৩৫ হাজার হোল্ডিংয়ে স্মার্ট মিটারসহ পানি সরবরাহ সংযোগ, ৩৫ কিলোমিটার ড্রেন, এবং পাঁচ হেক্টর জমিতে পার্ক, খেলার মাঠ ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি খাল, পুকুর পুনরুদ্ধারে বাজেটে আলাদা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জালকুড়িতে স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড নির্মাণ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া কদমরসুল অঞ্চলে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে ইতিমধ্যে ২৩৪ কোটি টাকা জমা দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নকর্মীদের জন্য ঋষিপাড়া ও ইসদাইরে ৩৬৯টি ফ্ল্যাটও নির্মিত হয়েছে।’

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে নগরবাসীকে সচেতন থাকতে অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চালালেও বাসা-বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখা নাগরিকদের দায়িত্ব। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে ৩৪টি স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প স্থাপন, চারটি কবর সংরক্ষণসহ নানা উন্নয়ন কাজ চলছে। একইসঙ্গে সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ভাতা, ক্ষুদ্রঋণ ও টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়ন এবং পরিকল্পিত শহর গঠনের লক্ষ্যে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণ–পুনঃনির্মাণ, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা–সংস্কৃতি, ক্রীড়া, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিধন, পরিবেশ সংরক্ষণ, যানজট নিরসন, সড়কবাতির উন্নয়ন ও কমিউনিটি সেন্টার নির্মাণসহ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতকরণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের সচিব নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল আজিজ। এছাড়া বাজেট অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিকগণ, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ছাড়াল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবার ৩১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। গতকাল বুধবার দিন শেষে গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ বিলিয়ন ৩৩ লাখ ডলার। একসঙ্গে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম–৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬ বিলিয়ন ৩১ লাখ ডলার। গত রোববার গ্রস রিজার্ভ ৩০ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন এবং বিপিএম৬ অনুযায়ী, ২৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার ছিল।

গত জুলাইর প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ২০২ কোটি ডলার পরিশোধ করে বাংলাদেশ। এর পর গ্রস রিজার্ভ কমে ২৯ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। আর বিপিএম৬ অনুযায়ী নেমে আসে ২৪ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে।

রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধি, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ঋণের কারণে গত জুন শেষে বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার হয়। গত ২৮ মাসের মধ্যে যা ছিল সর্বোচ্চ।

এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালের মার্চের শুরুতে রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল। গত জুন শেষে বিপিএম৬ অনুযায়ী রিজার্ভ উঠে ২৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৩ সালের জুন থেকে আইএমএফের শর্ত মেনে বিপিএম৬ অনুযায়ী হিসাব প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই সময় রিজার্ভ ছিল ২৪ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার।

দেশের ইতিহাসে ২০২১ সালের আগস্টে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে। সেখান থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে গত জুলাই শেষে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। সরকার পতনের পর থেকে অর্থ পাচারে কঠোর নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন কারণে ডলার প্রবাহ বেড়েছে। হুন্ডি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী আয় প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন ডলার দেশে এসেছে। চলতি অর্থবছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ৪১২ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় যা ১৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি।


তিন বছরে দেশে দারিদ্র্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ শতাংশ

পিপিআরসির প্রতিবেদন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন বছরের ব্যবধানে দেশে দারিদ্র্য বেড়েছে ১০ শতাংশের মতো। দেশে এখন দারিদ্র্যের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ শতাংশ। ২০২২ সালে এই হার ছিল ১৮ দশমিক ৭। এর বাইরে ১৮ শতাংশ পরিবার দারিদ্র্য সীমায় নেমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। যেকোনো সময় দারিদ্র্য সীমায় নেমে যেতে পারে তারা।

গতকাল সোমবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার–পিপিআরসির এক গবেষণায় দারিদ্র্য বৃদ্ধির এই চিত্র ওঠে এসেছে।

‘ইকনোমিক ডায়নামিকস অ্যান্ড মুড অ্যাট হাউজহোল্ড লেবেল ইন মিড ২০২৫’ শিরোনামের এই গবেষণা ফলাফল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকাশ করা হয়। সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান গবেষণার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

গত ৮ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়ে সারা দেশের ৮ হাজার ৬৭টি পরিবারের ৩৩ হাজার ২০৭ জন ব্যক্তির মতামতের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়।

পিপিআরসি বলেছে, দেশের এখন তিন ধরনের সংকটের প্রভাব চলমান আছে। এগুলো হলো- কোভিড (২০২০-২০২২), মূল্যস্ফীতি ও রাজনৈতিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

গত বছরের ৫ আগষ্টের পর থেকে আর্থ–সামাজিক পরিবর্তন প্রসঙ্গে পিপিআরসি প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টের পর ঘুষ কমেছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া উত্তর দাতাদের মধ্যে গত বছরের আগস্ট মাসের আগে ৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ সেবা নিতে ঘুষ দিয়েছেন। আগস্ট মাসের পর এই হার ৩ দশমিক ৬৯–এ নেমে এসেছে। এখনো সবচেয়ে বেশি ঘুষ দেওয়া হয়েছে সরকারি অফিসে। এর পরে পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের বেশি ঘুষ দিয়েছে মানুষ। এছাড়া পরিবারেরর আয়ের ৫৫ শতাংশ চলে যায় খাদ্য পণ্য কেনার পেছনে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিম্ন ও মধ্যম শ্রেণির মানুষের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। তারা সংসার চালাচ্ছেন ধার-দেনা করে। তবে উচ্চবৃত্তের আয়ের চেয়ে ব্যয় কম। এছাড়া বেড়েছে বৈষম্য, হয়রানি। গত সরকারের আমলেও ঘুষ দিতে হতো, এখনো দিতে হয়। তবে সার্বিকভাবে ঘুষ দেওয়া কিছুটা কমলেও বর্তমানে কোনো কাজ করতে গিয়ে ঝামেলা এড়াতে বেশি ঘুষ দিচ্ছে মানুষ। আওয়ামী লীগের সময়ে যেটি ছিল ২১.৫১ শতাংশ, সেটি এখন বেড়ে হয়েছে ৩০.৭৯ শতাংশ।

অনুষ্ঠানে ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্র গড়তে মানুষের জীবন যাত্রার অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে বিবেচনা থেকেই নীতি পদক্ষেপ নিতে হবে সরকারকে। প্রায়ই বিভিন্ন আলোচনায় অর্থনৈতিক ক্ষতির কথা বলা হয়। তবে জনগণের হয়রানির কথা বলা হয় না। অথচ হয়রানরির কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি কমে যায়। এ পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতির পরিকল্পনায় জনমুখী দৃষ্টি থাকা খুবই জরুরি।

তিনি আরও বলেন, শুধু জিডিপির ওপর আলোচনাটা সীমাবদ্ধ না রেখে সমতা, ন্যায়বিচার, বৈষম্যহীনতা ও নাগরিকের কল্যাণ নিয়ে আলোচনা বাড়াতে হবে। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও বেস্টিক অর্থনীতির তুলনায় সামষ্টিক অর্থনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।


বাংলাদেশ–চীন কৃষি পণ্য বাণিজ্যিকীকরণ সহযোগিতা বিষয়ক  দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সচিবালয় প্রতিবেদক

কৃষি মন্ত্রণালয় ও চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস (GACC)-এর মধ্যে কৃষি পণ্য বাণিজ্যিকীকরণ সহযোগিতা বিষয়ক একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন কৃষি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল(অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং চীনা প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস (GACC)-এর ভাইস মিনিস্টার ওয়াং লিং জুন।

বৈঠকে কৃষি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়। রপ্তানি ও আমদানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, অগ্রাধিকারভিত্তিক পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, কাস্টমস ও কোয়ারেন্টাইন সহযোগিতা জোরদার করে উদ্ভিদ স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রশিক্ষণ, জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ গবেষণার মাধ্যমে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতধর্মী সহযোগিতার কাঠামো গড়ে তোলার ওপর আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বাংলাদেশের আমের জন্য চীনের বাজার উন্মুক্ত করার সাম্প্রতিক অনুমোদনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে দুই দেশ দ্রুত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাত সহজীকরণ, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি সহযোগিতা জোরদার, পরিদর্শন ও পরীক্ষাগারের ফলাফলের পারস্পরিক স্বীকৃতি বিবেচনা, ডিজিটাল অনুসন্ধান ও ঝুঁকিভিত্তিক ছাড়পত্র ব্যবস্থার প্রচলন এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী। পাশাপাশি কাঁঠাল, পেয়ারা, আলু এবং সুগন্ধি চালের পরীক্ষামূলক চালান পাঠানোর সম্ভাবনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনা বন্ধুত্বপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই পক্ষ বাংলাদেশ-চীনের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও ক্রমবর্ধমান অংশীদারিত্ব পুনর্ব্যক্ত করে এবং কৃষি বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।


রপ্তানি ও আয় বেড়েছে হিলি বন্দরে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে দেশীয় পণ্যের রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ও বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের ৩০ জুন থেকে ভারতে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি শুরু হয়েছে।

শনিবার হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার এএসএম আকরম সম্রাট বলেন, চলতি অর্থবছরে জুন থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে এ বন্দর দিয়ে দুই হাজার ৯১ টন পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। ভারতে রপ্তানি করা পণ্য থেকে ১৭ লাখ ১০ হাজার ৫০০ ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ সরকার যা বাংলা টাকায় প্রায় ২০ কোটি। খবর বাসস।

তিনি বলেন, এই স্থলবন্দর দিয়ে বিগত কয়েক বছর তেমন কোনো পণ্য ভারতে রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমানে দেশীয় পণ্যের চাহিদা থাকায় ভারতে পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। হিলি স্থলবন্দর আমদানি নির্ভর হলেও, এখানে দিন দিন বাড়ছে রপ্তানির পরিমাণ। এই বন্দর দিয়ে যে পরিমাণ পণ্য ভারতে রপ্তানি করা হচ্ছে তার বিপরিতে প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্য ভারত থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে।

ভারতের আমদানিকারকরা হিলি বন্দর দিয়ে রাইস ব্রান (তুষের তেল), টোস্ট বিস্কুট, ম্যাংগো জুস, ঝুট কাপড়, নুডুলসসহ বিভিন্ন ধরনের বেকারি পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন।

হিলি স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান জানান, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে রপ্তানি খাতে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার আয়। সরকারের আয়ের পাশাপাশি এই বন্দরে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন অনেক শ্রমিক।

তবে ভারতের অভ্যন্তরে কিছু সমস্যা সমাধান করা গেলে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করেন বন্দরের ব্যবসায়ীরা।

হিলি স্থলবন্দর কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দীন বলেন, এ বন্দর দিয়ে দীর্ঘদিন রপ্তানি বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ভারতে বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। কাস্টমস বিভাগের পক্ষ থেকে দেশীয় পণ্য রপ্তানিতে আমদানিকারকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।


বেপজায় ১ কোটি ২ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে চীনা প্রতিষ্ঠান

কর্মসংস্থান হবে ১৯৩৯ জনের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চীনা মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ডুনিয়ন তাইয়াং শেং সুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেড ১ কোটি ২ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলে একটি ফুটওয়্যার কারখানা স্থাপন করবে।

এ লক্ষ্যে রোববার ঢাকাস্থ বেপজা নির্বাহী দপ্তরে চীনা প্রতিষ্ঠানটির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)।

বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. আশরাফুল কবীর এবং ডুনিয়ন তাইয়াং শেং স্যুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইয়ে ইয়ারি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চীনা কোম্পানিটি স্পোর্টস স্যুজসহ বিভিন্ন ধরনের বার্ষিক ২১ লাখ জোড়া জুতা, স্যান্ডেল, হাই হিল, বুট তৈরি করবে। যার ফলে ১ হাজার ৯৩৯ জন বাংলাদেশি নাগরিকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলকে বেছে নেওয়ায় বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান ডুনিয়ন তাইয়াং শেং স্যুজকে ধন্যবাদ জানান এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ প্রদানে বেপজার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এমনভাবে কারখানার ডিজাইন করতে হবে যেন ভবিষ্যতে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়। এছাড়াও তিনি কারখানা প্রাঙ্গণে পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেমন ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা প্রভৃতি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (অর্থ) আ ন ম ফয়জুল হক, নির্বাহী পরিচালক (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন, এবং নির্বাহী পরিচালক (জনসংযোগ) এ.এস.এম. আনোয়ার পারভেজসহ ডুনিয়ন তাইয়াং শেং স্যুজ (বিডি) কোম্পানি লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে: ড. মঞ্জুর হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন বলেছেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি কিছুটা হলেও স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে এবং স্বস্তির বিষয় হচ্ছে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের উন্নীত হয়েছে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বেশ কমেছে, তবে চালের মূল্য ক্রমাগত বাড়ছে, তাই এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলে মূল্যস্ফীতি আরও কমতে পারে।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বিদ্যমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মঞ্জুর হোসেন বলেন, মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ যেন হ্রাস না হয়ে সেদিকে বেশি নজর দিতে হবে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমেছে, এমতাবস্থায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, সরকার এলডিসি উত্তরণের বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে, তবে আমাদেরকে সামগ্রিক প্রস্তুতির বিষয়ের উপর নজর দিতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতি খাদের কিনারা থেকে উঠে এসেছে, এমতাবস্থায় সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির টেকসই রূপান্তরের উপর বেশ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বিশেষ করে ব্যাংক খাতকে ঢেলে সাজানোর আহ্বান জানান তিনি।

শুধু ঋণের সুদ হার বেশি থাকা, নাকি বাণিজ্যিক সহায়ক পরিবেশ অনুপস্থিতির কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না, সেটি খতিয়ে দেখার উপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সেমিনারে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক পারস্পরিক শুল্কারোপসহ বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস, শিল্প খাতে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তা, নানাবিধ দুর্নীতি প্রভৃতি কারণে বেসরকারি খাতের অগ্রগতি তেমন আশাব্যঞ্জক নয় এবং এ অবস্থার আলোকে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণে নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্নের লক্ষ্যে আরো কিছুদিন সময় প্রয়োজন।

সেমিনারের মূল প্রবন্ধে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জানুয়ারি-জুন সময়কালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রানীতি, মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ, বৈদেশিক বিনিয়োগ, কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত, সিএমএসএমই, তথ্যপ্রযুক্তি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ, লজিস্টিক অবকাঠামো, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আর্থিক খাতের উপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন।

তিনি বলেন, শুল্ক ও বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা উল্লেখজনক হারে বৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে পড়েছে এবং ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার ২.৩ শতাংশে নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এর কারণে গত বছরের তুলনায় বেশির ভাগ দেশের অর্থনীতি আরও বেশি মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে, ডিসিসিআই কমপক্ষে ৩ বছর এলডিসি উত্তরণ স্থগিত করার প্রয়োজন বলে মনে করে, যাতে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বৃদ্ধি, একটি শক্তিশালী ট্রানজিশন কৌশল বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালাগুলো হালনাগাদ সম্ভব হয়।

বিদ্যমান অবস্থার আলোকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে ব্যাংক খাতে স্থিতিশীলতা আনা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত জ্ঞাপন করেন তিনি।

তাসকীন আহমেদ বলেন, এলডিসি উত্তরণে আমরা ভীত নই, তবে বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং আভ্যন্তরীণ আন্দোলন বিক্ষোভ এবং সর্বশেষ ট্রাম্প কর্তৃক পারস্পরিক শুল্ক আরোপের উদ্যোগ এ পরিস্থিতি আরো অসহনীয় করে তুলেছে। তাই আরো কিছুটা সময় পেলে আমরা নিজেদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারব এবং এ উদ্যোগে সরকারি-বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (গবেষণা), মুদ্রানীতি বিভাগ মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের, পরিচালক (এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট) নওশাদ মুস্তাফা এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মো. রাবিউল ইসলাম অংশগ্রহণ করেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস ও ব্যাংক-টু-ব্যাংক এলসি সুবিধার কারণে তৈরি পোষাক খাত আজকে এ পর্যায়ে এসেছে, তাই রপ্তানির সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতগুলোকে এ ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ সঞ্চয় ও কর আহরণ বাড়ানোর উপর বেশি মনোনিবেশ করতে হবে।

ড. মোস্তাফিজ আরো বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ অন্যান্য অবকাঠামোর উন্নয়ন হলেও যোগাযোগ সংযোগসহ অন্যান্য সেবা প্রাপ্তিতে বেশ পিছিয়ে রয়েছি, এটার উন্নয়ন জরুরি। তিনি আরো বলেন, এলডিসি পিছিয়ে নেওয়ার জন্য আবেদন করা যেতে পারে, তবে আমাদেরকে প্রস্তুতি ঘাটতি রাখা যাবে না, যেন ব্যবসা সহায়ক পরিবেশ উন্নয়নে ঘাটতি না পড়ে। উন্নত দেশগুলোতে এসএমইরাই হলো মূল চালিকাশক্তি, তাই এ খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমশক্তির তৈরিতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিআইডিএস’র মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা মন্দের ভালো। দুর্নীতি যে খুব একটা কমেছে তা বলা যাবে না, অর্থনীতিকে বাঁচাতে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং দুর্নীতির কারণে শুধু বদলি দিয়ে শাস্তি দিলে হবে না, মানুষের ভিতরকার পরিবর্তন প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক (মুদ্রানীতি বিভাগ) মাহমুদ সালাহউদ্দিন নাসের বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি এখন বেশ কঠোর বলে বেসরকারি খাতের অভিযোগ রয়েছে, তবে আমরা বেসরকারি খাতের সহনীয় পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছি।

তিনি বলেন, সামগ্রিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা না এলে ব্যবসা পরিচালনা, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও মুনাফা অর্জন সম্ভব নয়। মূল্যস্ফীতি হ্রাস পেলেই ঋণের সুদ হার হ্রাসের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও জ্বালানি স্বল্পতা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণেও বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আসছে না, শুধু উচ্চ সুদহার এককভাবে দায়ী নয়। এছাড়াও দেশের উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রবাহ নিশ্চিতের পাশাপাশি টেকসই উপায়ে ঋণ প্রবাহ বাড়ানোর উপর কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি অভিহিত করেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক (এসএমই ও স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট) নওশাদ মুস্তাফা বলেন, বর্তমান অবস্থায় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোসহ উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে নিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা চালু হলে ঋণ বিতরণের খরচ হ্রাস পাবে। ক্লাস্টার উন্নয়নের জন্য ঢাকা চেম্বারসহ অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠন এবং দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা দরকার, তবে অনেক সময় উন্নয়ন সহযোগীদের কঠোর নীতিমালা এসএমইদের ঋণ প্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। সেই সাথে এসএমইদের ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের উপর তিনি জোরারোপ করেন।

এডিবির দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের অর্থনৈতিক কর্মকর্তা মো. রাবিউল ইসলাম বলেন, আমাদের ট্রেড কানেক্টিভিটি বাড়ানো এবং রপ্তানি বাজারের সাথে এসএমইদের সংযোগ বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহন খরচ হ্রাসে গুরুত্ব দিতে হবে। সেই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক খাতে ম্যান মেইড ফাইবারের ব্যবহার বাড়ানো এবং চামড়া শিল্পে স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলাসহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

ঢাকা চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যসহ সরকারি-বেসরকারি খাতের আমন্ত্রিত অতিথিরা সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন।


বাণিজ্য উপদেষ্টা ও পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীর চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তারা চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

গত শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শনের পূর্বে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বাণিজ্য উপিদেষ্টা ও পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রীকে বন্দরের সার্বিক অবস্থা, কনটেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিং, শ্রম ব্যবস্থাপনা, বিদেশি বিনিয়োগ ও অটোমেশনসহ নানা বিষয়ে অবহিত করেন।

বন্দর চেয়ারম্যান তাদের সাম্প্রতিক অগ্রগতি তুলে ধরে জানান, গত বছর রেকর্ডসংখ্যক কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। জাহাজের ওয়েটিং টাইম শূন্য থেকে দুই দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি জাহাজের গড় অবস্থানকাল (টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম) কমে এসেছে এবং অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নতি ও অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, করাচি পোর্ট ট্রাস্টে হাচিসন পোর্ট গ্রুপ একটি কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করছে, আবুধাবি পোর্ট কর্তৃপক্ষ একটি বাল্ক টার্মিনাল চালাচ্ছে এবং পোর্ট কাশিমে ডিপি ওয়ার্ল্ড দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ-পাকিস্তান আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি, সরাসরি জাহাজ চলাচলসহ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আশ্বাস দেন।

এসময় অন্তর্বর্তী সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।

পরিদর্শনকালে পাকিস্তানি প্রতিনিধি দল বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তান দূতাবাসের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দূত জেইন আজিজ, বাণিজ্যিক সহযোগী ওয়াকাস ইয়াসিন, বাংলাদেশের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও অনুবিভাগ) ড. নাজনিন কাউসার চৌধুরী, বে টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক কমডোর মো. মাহফুজুর রহমানসহ বন্দরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


যুক্তরাষ্ট্রকে ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে ট্রাম্প-ইন্টেল চুক্তির ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে ব্যবসায় ১০ শতাংশ শেয়ার দিতে সম্মত হয়েছে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইনটেল। গত শুক্রবার ইন্টেল ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির ঘোষণা দেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি। বাইডেন প্রশাসনের সময় ঘোষিত বিশাল অঙ্কের অনুদানের বিনিময়ে ওয়াশিংটনের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপের পর এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সরকার ইনটেলের ৪৩৩.৩ মিলিয়ন সাধারণ শেয়ার পাবে, যা কোম্পানির ৯.৯ শতাংশ অংশীদারিত্বের সমান।

ইনটেল জানায়, এ বিনিয়োগের মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ৮.৯ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ৫.৭ বিলিয়ন ডলার আসবে বাইডেন আমলে পাস হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্ট’ থেকে ঘোষিত অনুদান থেকে। যা এখনো প্রদান করা হয়নি। বাকি ৩.২ বিলিয়ন ডলার আসবে ‘সিকিউর এনক্লেভ প্রোগ্রামের আওতায় প্রদত্ত পুরস্কার থেকে।

ইনটেল আরও জানায়, এই ৮.৯ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগের সঙ্গে কোম্পানি পূর্বে পাওয়া ২.২ বিলিয়ন ডলারের অনুদান যোগ হলে মোট অঙ্ক দাঁড়াবে ১১.১ বিলিয়ন ডলার।

ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ইন্টেলের ১০ শতাংশের পূর্ণ মালিক ও নিয়ন্ত্রণকারী। তিনি দাবি করেছেন যে ইন্টেলের সিইও লিপ-বু ট্যানের সঙ্গে আলোচনার পর দেশটি এই শেয়ারের জন্য কিছুই পরিশোধ করেনি।

ইন্টেল অবশ্য জানিয়েছে, সরকারের মালিকানা সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় হবে, তাদের কোনো বোর্ড প্রতিনিধি বা শাসন সংক্রান্ত অধিকার থাকবে না।

ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে পাওয়া তাদের জন্যও ভালো। আমি তাদের বলেছিলাম, আমার মনে হয় কোম্পানির ১০ শতাংশ আমাদের দেওয়া উচিত।

বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এক্সে বলেন, ‘এই ঐতিহাসিক চুক্তি যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাকটর খাতের নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করবে।’

ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ: সিলিকন ভ্যালির অন্যতম কোম্পানি ইনটেল এশীয় জায়ান্ট টিএসএমসি ও স্যামসাংয়ের কাছে প্রতিযোগিতায় অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে। বাইডেন আমলে পাস হওয়া ‘চিপস অ্যান্ড সায়েন্স অ্যাক্টের লক্ষ্য ছিল মার্কিন সেমিকন্ডাকটর শিল্পকে শক্তিশালী করা, যার আওতায় বিলিয়ন ডলারের অনুদান দেওয়া হয়।

তবে স্বাধীন প্রযুক্তি বিশ্লেষক রব এন্ডারলে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ইন্টেলের শেয়ার নেওয়া এক ধরনের বিপজ্জনক পদক্ষেপ, যা বেসরকারি ব্যবসাকে জাতীয়করণের পথে নিয়ে যেতে পারে।’

ওয়াশিংটনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেটো ইনস্টিটিউটের স্কট লিনসিকোমও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘প্রায় সবার জন্য খারাপ’। ইন্টেলের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের জন্যও ক্ষতিকর। কারণ, এখানে বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের চেয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বেশি পড়বে।

ইন্টেল সিইও লিপ-বু ট্যান এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রযুক্তি যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি নিশ্চিত করাই আমাদের অঙ্গীকার। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সাইট সম্প্রসারণে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ট্যানের পদত্যাগ দাবি করেছিলেন।

সম্প্রতি জাপানভিত্তিক সফটব্যাংক গ্রুপও ইন্টেলে ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে।


পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে কমিশন করা হবে: বাণিজ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০০:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক বাণিজ্য বাড়াতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, আমরা পাকিস্তান থেকে যাতে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে আমদানি করতে পারি সেজন্য এ কমিশন করা হবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বেশকিছু সমঝোতা স্বাক্ষর হবে বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষ খুব খোলামেলা আলোচনা করেছি। আমরা দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে একমত হয়েছি। খাদ্য ও কৃষি উন্নয়নে আমরা কাজ করতে চাই। কিছু কিছু মধ্যবর্তী পণ্য যৌথভাবে উৎপাদনে যেতে পারলে উভয় দেশ উপকৃত হবে। খাদ্য ও কৃষি পণ্যে জোর দেওয়া হয়েছে। আমাদের ফল আমদানি ও রপ্তানি নিয়ে কথা হয়েছে। আমরা আনারস রপ্তানির কথা বলেছি। স্থানীয়ভাবে চিনি উৎপাদনে পাকিস্তানের সাহায্য চেয়েছি। তারা সব বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এন্টি-ডাম্পিং বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর বাহিরেও আমাদের পাকিস্তান হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড আমদানির ওপর এন্টি-ডাম্পিং ট্যাক্স আরোপ করেছিল আমরা সেটা সরিয়ে নিতে অনুরোধ করেছি। তারা এটা রাখবে আশা করি। আমরা পাকিস্তান বাজারে ডিউটি ফ্রি ১ কোটি কেজি চা রপ্তানির কথা জানিয়েছি। পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী আরো তিনদিন থাকবেন, এটা নিয়ে আরো আলোচনা হবে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের বেশকিছু সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। এরমধ্যে জয়েন্ট ট্রেড কমিশন গঠন, কানেক্টিভিটি বৃদ্ধি। এই ট্রেড কমিশন বন্ধ ছিল না। সেখানে কিছু আলোচনা হতো।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই দেশের মধ্যে ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন করতে চাই। আমাদের দুই দেশে ব্যবসার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে।’

পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ালে ভারতের সঙ্গে আরো বৈরিতা বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার কাজ হচ্ছে বাণিজ্যে সক্ষমতা তৈরি করা। এ বিষয় নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে প্রশ্ন করুন। এটা আমার কনসার্ন নয়। আমরা দেশের স্বার্থে কাজ করছি। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য দেশের স্বার্থে অন্য যে যে দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়ানো প্রয়োজন হয় আমরা সেটা করব।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রশ্নের উত্তর দিতে বাধ্য নই। আমার কাছে সবার আগে দেশের স্বার্থ। দেশের স্বার্থে আমাদের যা যা করণীয় সেটা আমরা করব। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের যে পাওনা-দেনা ছিল সেটা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা বাণিজ্যের কোনো বিষয় না। আর এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘প্রায় দেড় দশক বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের বাণিজ্য ছিল না বললেই চলে। তারা আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহ দেখিয়েছে। আমরাও বাণিজ্য বাড়াতে অসুবিধা দেখি না। আমাদের উভয় দেশের স্বার্থ সমুন্নত রেখে এ বাণিজ্য বাড়ানো যায়। আমাদের উপদেষ্টা ধারণা দিয়েছেন পাকিস্থানে কি কি বিষয় রপ্তানি করতে পারে। আমরা পাকিস্তান থেকে বেশি আমদানি করি কিন্তু রপ্তানি করি কম। আমরা চাই এটা পরিবর্তন হোক। আমরাও যাতে বেশি রপ্তানি করতে পারি। এতে বাংলাদেশের জন্য লাভজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।’

বাংলাদেশ পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকছে কিনা এমন প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সবার দিকে ঝুঁকছি।, পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছি। ভারত থেকেও পেঁয়াজ আনছি। সর্বাগ্রে বাংলাদেশের স্বার্থ, যেখানে দেশের স্বার্থ আছে, সেখানেই ঝুঁকছি।’

বাণিজ্যসচিব মাহবুবর রহমান বলেন, ‘গত দেড় দশক পাকিস্তানের সঙ্গে বাণিজ্য তেমন ছিল না বললেই চলে। খাদ্য ও পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমরা নানা দেশ থেকে আমদানি করি, প্রতিযোগিতা দরে পাকিস্তান থেকে এসব পণ্য আনা গেলে সমস্যা নেই। একই সঙ্গে আমাদের রপ্তানি বাড়ানোর গুরুত্ব দিয়েছি। বর্তমানে পাকিস্তান থেকে ইম্পোর্ট করি বেশি, রপ্তানি কম করি। আমরা রপ্তানি বাড়াতে পারলে দেশের জন্য মঙ্গলজনক হবে। গত অর্থবছর পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আমদানি করেছে ৭৮৭ মিলিয়ন ডলার এবং পাকিস্তানে রপ্তানি করেছে ৭৮ মিলিয়ন ডলার।’

বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে এ বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্থানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, বাংলাদেশে পাকিস্থানের হাইকমিশনের রাজনৈতিক কাউন্সিলর কামরান ধাংগাল, বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক প্রতিনিধি জাইন আজিজ এবং বাণিজ্য সহকারী ওয়াকাস ইয়াসিন।


বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য বাড়াতে আগ্রহী পাকিস্তান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে সফররত পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান আজ রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) কার্যালয়ে চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের দিক দিয়ে দুদেশের মানুষের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। আর পাকিস্তানের টেক্সটাইল ও বিশেষ করে জুয়েলারি পণ্য এদেশের মানুষের মাঝে বেশ চাহিদা রয়েছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উন্নয়নে এফটিএ স্বাক্ষরের জন্য এদেশের বেসরকারি খাত সবসময়ই সরকারকে প্রস্তাব দিয়ে আসছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের এফটিএ স্বাক্ষর হলে দ্বিপাক্ষিক ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সম্প্রসারিত হবে।

তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যে সরাসরি বিমান ও কার্গো যোগাযোগ চালু হলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বৃদ্ধি পাবে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই রপ্তানির ক্ষেত্রে তৈরি পোষাক এবং টেক্সটাইল খাতের ওপর অধিক মাত্রায় নির্ভরশীল। দুদেশেরই রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ইউরোপের দেশগুলোসহ কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত পোশাকের নতুন ডিজাইনের মাধ্যমে পুনঃব্যবহারের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। যেখানে দুদেশের পোষাক খাতের উদ্যোক্তাদের মনোনিবেশ করা আবশ্যক। যার মাধ্যমে রপ্তানি বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ব আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে দুদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়াতে একযোগে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এছাড়াও সিমেন্ট, চিনি, পাদুকা ও চামড়া প্রভৃতি খাতে পাকিস্তান বেশ ভালো করছে এবং বাংলাদেশ চাইলে পাকিস্তান থেকে এ পণ্যগুলো আমদানি করতে পারে। পাশাপাশি ঔষধ খাতে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা পাকিস্তানের জন্য বেশ কার্যকর হবে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

তিনি আরও বলেন, দুদেশের কৃষি কাজ এবং পণ্যের উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তি ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি করা গেলে এখাতে বৈশ্বিক বিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।

জাম কামাল খান জানান, পাকিস্তানের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে শিগগিরই বাংলাদেশে ‘সিঙ্গেল কান্ট্রি এক্সিবিশন’-এর আয়োজন করা হবে। যার মাধ্যমে দুদেশের বেসরকারি খাতের সম্পর্ক আরও জোরাদারের সুযোগ তৈরি হবে।

এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, ডিসিসিআই জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নতুন ডিজিটাল ব্যাংক দেওয়ার উদ্যোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০

নতুন করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী ২৭ আগস্ট পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। এর আগে গত ১৩ আগস্টের এক সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হলেও ব্যাংকখাতের বর্তমান বাস্তবতায় কয়েকজন পরিচালক নতুন কোনো ব্যাংকের অনুমোদনের বিপক্ষে মত দেন।

২০২৩ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অনুমোদন পাওয়া নগদ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি এবং কড়ি ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি।

সূত্র জানায়, ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো বাংলাদেশে পুরোপুরি তৈরি হয়নি। একই সময়ে কয়েকটি প্রচলিত ব্যাংক আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। এসব কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনেকেই নতুন লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।

তবে পরিকল্পনা থেমে নেই। আগ্রহীদের কাছ থেকে নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদন চাওয়া হতে পারে শিগগির। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদন আহ্বান করে। তখন ৫২টি আবেদন জমা পড়ে। প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ৯টি প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিচালনা পর্ষদের সভায়।

এর মধ্যে নগদ ও কড়ি ছাড়াও স্মার্ট ডিজিটাল ব্যাংক, নর্থ ইস্ট ডিজিটাল ব্যাংক এবং জাপান-বাংলা ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট (এলওএল) দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিকাশ, ডিজি টেন এবং ডিজিটাল ব্যাংককে পৃথক লাইসেন্স না দিয়ে ডিজিটাল ব্যাংকিং উইং খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আবেদন বাতিল করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আগেরবার রাজনৈতিক বিবেচনায় যে প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, এবার তার চেয়ে অনেক স্বচ্ছ ও কঠোর মানদণ্ডে নতুন আবেদনগুলো যাচাই করা হবে।


সাড়ে ৭ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ

আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশের ব্যাংক খাতের দুর্দশাগ্রস্ত বা ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে ২ লাখ ৮১ হাজার কোটি টাকা। ২০২৩ সাল শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত ‘ফিন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৪’-এ এসব তথ্য ওঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের শেষে এ ধরনের ঋণের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার কোটি টাকা। ১ বছরে তা ৪৪.২১ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে, যা মোট বিতরণকৃত ঋণের প্রায় অর্ধেক। আইএমএফের সংজ্ঞা অনুযায়ী, খেলাপি, পুনঃতফসিল এবং অবলোপনকৃত (রাইট-অফ) ঋণকে সম্মিলিতভাবে ‘দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ’ হিসেবে গণ্য করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, ২০২৪ সালের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা, পুনঃতফসিলকৃত ঋণ ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৬৬১ কোটি টাকা এবং রাইট-অফ করা ঋণের পরিমাণ ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও তদবিরের মাধ্যমে দেওয়া ঋণ এখন খেলাপিতে রূপ নিচ্ছে। আগে এসব তথ্য গোপন থাকলেও এখন আইএমএফের চাপের মুখে বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিতভাবে এসব তথ্য প্রকাশ করছে।

প্রতিবেদনে আরও ওঠে এসেছে, ২০২৪ সালে দেশের ব্যাংক খাত চরম চাপের মুখে পড়ে, বিশেষ করে মূলধন পর্যাপ্ততার ক্ষেত্রে। সিআরএআর (ক্যাপিটাল টু রিস্ক-ওয়েইটেড অ্যাসেট রেসিও) মাত্র ৩.০৮ শতাংশে নেমে আসে, যেখানে তা কমপক্ষে ১০ শতাংশ থাকার কথা। সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, বিশেষায়িত ব্যাংক ও বেশকিছু ইসলামী ব্যাংক।

মূলধন অনুপাত ও লিভারেজ অনুপাত যথাক্রমে ০.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যা গোটা ব্যাংক খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব স্পষ্ট করে।

তবে ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতি এখনো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। অ্যাডভান্স-ডিপোজিট রেশিও (এডিআর) ৮১.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এখনো বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের আর্থিক খাত সামগ্রিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও খেলাপি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং সুশাসনের অভাব এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সময়োপযোগী নীতিমালা, কঠোর তদারকি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এই খাতকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।


banner close