সাবান, টুথপেস্ট, কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্টসহ প্রাত্যহিক জীবনে ব্যবহার্য প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম চলে গেছে নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে। মধ্যবিত্ত পড়েছে বিপাকে। মাসের খরচে যুক্ত হয়েছে বাড়তি ব্যয়। বাড়েনি আয়।
গত এক বছরে প্রায় সব ধরনের প্রসাধন পণ্যের মূল্য ১০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়িয়েছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বছর, মাস এমনকি সপ্তাহের ব্যবধানেও এসব পণ্যের দাম বেড়েছে ক্ষেত্রবিশেষে ১০০ শতাংশেরও বেশি। বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশীয় কোম্পানিগুলোও পিছিয়ে নেই দাম বাড়ানোর এই প্রতিযোগিতায়। আর এ ক্ষেত্রে অজুহাত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। নিরুপায় হয়েই এসব পণ্য কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
রাজধানীর বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নিরুপায় হয়েই সাবান, ডিটারজেন্ট, শ্যাম্পু ও টুথপেস্ট কিনতে হচ্ছে। প্রত্যেকটা পণ্যের এত বেশি দাম বাড়ানো হয়েছে যে, আমার মতো মধ্যবিত্তদের এখন গলার কাঁটা হয়ে গেছে এগুলো। যেসব পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে তা প্রতিদিনই লাগে। সাবান ছাড়া কি গোসল করা সম্ভব? টুথপেস্ট ছাড়া কি দাঁত মাজা সম্ভব? অথচ এসব পণ্যের দাম আগের তুলনায় কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। কোম্পানিগুলো ভালো করেই জানে যতই দাম বাড়ুক সবাই কিনবেই।’
উদাহরণ দিয়ে রাজধানীর এই বাসিন্দা বলেন, ‘আগে যে লাইফবয় সাবান কিনেছি ৩২ টাকা, এখন সেটা ৫০ টাকা। এই যে ১৮ টাকা একটা সাবানে বাড়ানো হলো, সেই অনুযায়ী তো আমার বেতন বাড়েনি। তাহলে এই বাড়তি ব্যয় কীভাবে মেটাব?’
ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার রিকশাচালক সিরাজুদ্দিন হোসেন বলেন, ‘আগে টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজতাম কিন্তু এখন এত দাম বেড়েছে যে, ভ্যানে করে যে পাউডার বিক্রি করে সেগুলো ব্যবহার করতে হচ্ছে। এক সময় ৬০ টাকায় যে মশার কয়েল কিনতাম দুই দিন আগে সেটা ৯৫ টাকা দেখলাম।’
পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে জানতে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে প্রতিষ্ঠানটির একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পণ্য তৈরিতে কাঁচামালের ৮০ শতাংশের বেশি আমদানি করতে হয়। সরকারের শেয়ার আছে ইউনিলিভারে। গত দুই বছরে যেসব পণ্যের দাম বেড়েছে সেটা কৃত্রিমভাবে বাড়ানো হয়েছে না কি কস্ট বেইজড, তা আপনারাই যাচাই করে দেখবেন।’
বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানটির ওই পরিচালক আরও বলেন, ‘বিশ্ব বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়লে আমাদের ওপরও এর প্রভাব পড়ে। এ হিসাবে সব মিলিয়ে একটা পণ্যের দাম বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। কিন্তু আমরা সেই অনুযায়ী দাম বাড়াইনি, আমরা কিন্তু লোকসানেই আছি।’
দেশীয় প্রতিষ্ঠান স্কয়ার টয়লেট্রিজের হেড অব অপারেশন মালিক মোহাম্মদ সাঈদের সঙ্গে একবাধিকাবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ক্রেতাদের প্রতি পরামর্শ
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান ক্রেতাদের বহুজাতিক কোম্পানি ছেড়ে ছোট প্রতিষ্ঠানের পণ্য ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন।
দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘এসব পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় বাজারের চাহিদার ওপর। মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে সরকার কোনো পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দেয় না। তাই একটা কোম্পানি যদি দেখে উচ্চমূল্যেও তাদের পণ্য কেনার ক্রেতা আছে, তাহলে তো তারা দাম বাড়াবেই। দাম বাড়ালে যদি ক্রেতা সংকট তৈরি হতো তাহলে হয়তো তারা সেভাবে দাম বাড়াত না।’
বহুজাতিক কোম্পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও দাম বাড়ানোয় ক্রেতাদের করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দেশের সব প্রতিষ্ঠানই তো আর বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো দ্বিগুণ দাম বাড়ায়নি। এখনো এমন কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোর পণ্য অনেক কম দামে পাওয়া যায়। ক্রেতারা যেখানে কমে পাবে তাদের সেখানেই যাওয়া উচিত। তাহলে বড় কোম্পানি ছোট হবে, আর ছোট কোম্পানি বড় হবে।’
পণ্যমূল্য কমানোর পরামর্শ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যেহেতু সাবান, টুথপেস্ট ও অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রী তৈরিতে সব কাঁচামালই আমদানি করতে হয়, তাই এমন অসহনীয় দাম বাড়ানো হয়েছে।’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য বলেন, ‘ভালো মানের সাবান তৈরি করার জন্য অলিভ অয়েল প্রয়োজন হয়, আর অলিভ অয়েল আমদানি করতে হয় ব্রাজিল ও স্পেন থেকে। এ অবস্থায় লজিস্টিকস ও শিপিং কস্ট যে পরিমাণে বাড়ছে এতে করে পণ্যের দামও বেড়ে যায়। তবে কোম্পানিগুলো হুটহাট দাম না বাড়িয়ে পর্যায়ক্রমে অল্প অল্প করে দাম বাড়াতে পারত। কিন্তু তা না করে কয়েক লাফেই দাম দ্বিগুণের চেয়ে বেশি করে দিয়েছে।’
বিজ্ঞাপনে বেশি অর্থ না ঢেলে পণ্যের মূল্য কমানোর দিকে নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এ অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘এসব ব্র্যান্ড এখন প্রতিষ্ঠিত। তাদের এত বেশি বিজ্ঞাপনে টাকা খরচ না করে পণ্যের মূল্য কীভাবে কমের মধ্যে রাখা যায় তা নিয়ে কাজ করা উচিত।’
প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলা
বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে টয়লেট্রিজ পণ্যসংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। এর মধ্যে টয়লেট্রিজ সামগ্রীর (সাবান, সুগন্ধী সাবান ও গুঁড়া সাবান) অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য এসিআইয়ের চেয়ারম্যান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের এমডি, স্কয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান বা এমডি, কোহিনূর কেমিক্যাল কোম্পানি (তিব্বত) ও কেয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান অথবা এমডির নামে মামলা করে কমিশন।
সংস্থাটি বলছে, প্রতিযোগিতা কমিশন আইনের ১৫ এবং ১৬ ধারা লঙ্ঘন করেছে অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আর কমিশনের করা এই মামলার শুনানি এখনো চলমান।
প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারপারসন প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যে পাঁচটি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রতিযোগিতা কমিশন মামলা করেছে তার শুনানি চলছে। শুনানিতে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি প্রমাণিত হলে কমিশনের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানিয়েছিল, সাবান, ডিটারজেন্ট, টুথপেস্টসহ এ ধরনের পণ্যের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে এগুলোর উৎপাদন ব্যয় যাচাই ও খুচরা মূল্যের যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখবে তারা। তবে প্রতিষ্ঠানটি এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, প্রসাধনী ব্যবসার পদে পদে কারসাজি।
দাম বাড়ার চিত্র: সাবান, ডিটারজেন্ট ও হ্যান্ডওয়াশ
ইউনিলিভারের লাক্স সাবানসহ স্কয়ার ও কোহিনূর কেমিক্যালের সব ওজনের সাবানেরই দাম বাড়ানো হয়েছে। ১০০ গ্রামের লাক্স সাবান ৬৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ৮০ টাকা। বছরের শুরুতে লাইফবয় ১০০ গ্রাম সাবানের দাম ছিল ৩২ টাকা, যা এখন দাঁড়িযেছে ৫০ টাকায়। এক বছর আগেও লাক্স ১৫০ গ্রাম সাবানের দাম ছিল ৬০ টাকা, এখনকার দাম ৮০ টাকা। ৭৫ গ্রামের লাক্স বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়, আগে যা ছিল ৩২ টাকা। ভ্যাসলিন পেট্রোলিয়াম জেলি ৭ মিলির দাম বছরের শুরুতে ১০ টাকা থাকলেও তা এখন কিনতে হচ্ছে ২২ টাকায়।
লাইফবয় ১৫০ গ্রাম সাবান কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি ১০ টাকা গুনতে হচ্ছে। লাইফবয় হ্যান্ডওয়াশ রিফিল ১৭৫ গ্রাম ৬৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫ টাকা। ১৩৫ গ্রামের ডাভ সাবানের দাম বেড়েছে ৫৫ টাকা। বর্তমানে এটি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়। ১০০ গ্রামের ডাভ সাবানের দাম ৪৫ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা এক বছর আগেও ছিল ৯৫ টাকা।
বহুজাতিক আরেক প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজারের ডেটল সাবান অরিজিনাল ও কুল ৭৫ গ্রাম কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা, আগে যা ছিল ৪২ টাকা। একই সাবান ১২৫ গ্রাম কিনতে ক্রেতাকে ৮০ টাকা দিতে হচ্ছে। আগে যা ছিল ৬২ টাকা। বছরের ব্যবধানে সাবানটির দাম ১৮ টাকা বেড়েছে।
স্কয়ারের মেরিল ১০০ গ্রাম সাবানের দাম বছরের শুরুতে ছিল ৪০ টাকা, যা বেড়ে হয়েছে ৬০ টাকা। মেরিল লিপ জেলের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৪০ টাকা। এসিআই স্যাভলন ১০০ গ্রাম সাবানের মূল্য বছরের শুরুতে ৪৫ টাকা থাকলেও এখন ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের সাবানের দাম বেড়েছে ৫০ শতাংশ।
ইউনিলিভারের হুইল কাপড় কাচা সাবানের দাম ছিল ১৮ টাকা, যা এখন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে ৬৭ শতাংশ। শীতের জনপ্রিয় ভ্যাসলিন ১০০ গ্রামের দাম ১৮০ টাকা ছিল। এখন তা ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এক কেজি হুইল ডিটারজেন্ট ৮৫ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ক্রেতাকে ৬০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। আধা কেজির দাম ৫২ টাকা থেকে বেড়ে ৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের বাড়তি দিতে হচ্ছে ২৩ টাকা।
রিন এক কেজি কিনতে ক্রেতাকে এখন দিতে হচ্ছে ১৮০ টাকা। কিছুদিন আগেও যার দাম ছিল ১৩৫ টাকা। ৭০ টাকার আধা কেজি রিন এখন ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
থালা-বাসন পরিষ্কারক
এক বছরের ব্যবধানে থালা-বাসন পরিষ্কারক পণ্যের দাম ৩৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ১০০ গ্রাম ভিমবারের দাম ১২ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৫ টাকা। ৩০০ গ্রামের দাম বেড়ে হয়েছে ৪০ টাকা। যা আগে ছিল ৩৫ টাকা। ৫০০ গ্রাম ভিম লিকুইড কিনতে ক্রেতাকে বাড়তি ৪০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। ২৫০ গ্রাম ভিম লিকুইড পাউচের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০ টাকা হয়েছে।
টয়লেট ক্লিনার
বাথরুম পরিষ্কারের জনপ্রিয় পণ্য হারপিকের দাম এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ১৪ শতাংশ। হারপিক পাওয়ার প্লাস ৭৫০ এমএল কিনতে ক্রেতাকে ১৫০ টাকা গুনতে হচ্ছে, আগে যা ছিল ১৩৫ টাকা। ৫০০ এমএল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়। যার আগের দাম ছিল ১০৫ টাকা। হারপিক ৪০০ গ্রাম পাউডার ১২৫ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩০ টাকা।
টুথপেস্ট
গত আট থেকে ১০ মাসের মধ্যে টুথপেস্টের দাম বেড়েছে ৩৩ থেকে ৪০ শতাংশ। ইউনিলিভারের পেপসোডেন্ট ২০০ গ্রামের একটি টুথপেস্ট কিনতে ক্রেতাকে খরচ করতে হচ্ছে ১৬০ টাকা, আগে যা ছিল ১৩০ টাকা। ১০০ গ্রামের পেপসোডেন্ট বছরের শুরুতে ৭৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন তা কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১০০ টাকা। ক্লোজ আপ ১৬০ গ্রামের টুথপেস্ট বছরে শুরুতে ৯০ টাকা থাকলেও এখন ১৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। স্কয়ারের ম্যাজিক টুথ পাউডারের ১০০ গ্রামের দাম ১ বছর আগে ৩০ টাকা থাকলেও তা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকায়।
মুনাফা ও বিক্রি কমেছে খুচরা বিক্রেতাদের
রাজধানীর বাড্ডায় মায়ের দোয়া নামের একটি খুচরা দোকানির নাম জামাল উদ্দিন। তিনি জানান, প্রত্যেকটা পণ্যের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও মুনাফা আগের তুলনায় কমেছে ছোট দোকানিদের। দাম বাড়ার কারণে বিক্রিও কমেছে খুচরা পর্যায়ে। আগে যেখানে প্রতিদিন ১৫টি সাবান বিক্রি হতো, এখন সেখানে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি সাবান বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
জামাল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আগে যে পরিমাণ বিক্রি হতো সে অনুযায়ী আমাদের লাভ হতো বেশি। আগে একটা লাক্স সাবান বিক্রি করলে ৬-৭ টাকা লাভ হতো, এখন সেখানে লাভ হচ্ছে ৪-৫ টাকা। পণ্যের দাম ঠিকই বেড়েছে, কিন্তু আমাদের তো লাভ হচ্ছে না। তাহলে পণ্যের দাম বেড়ে লাভ কী হলো। অন্যদিকে আমাদের বিক্রিও কমেছে আগের তুলনায়।’
দেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র বিক্রয় চাপ ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা গেছে। ২৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত আলোচিত এই সপ্তাহে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সবকটি মূল্যসূচক উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে বড় মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কমে যাওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ২ শতাংশ বা ৯৬ পয়েন্টের বেশি হারিয়েছে। তবে সূচকের এই বড় পতনের মধ্যেও বাজারে লেনদেনের গতি ছিল ঊর্ধ্বমুখী। গত সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে দৈনিক গড় লেনদেনের পরিমাণ প্রায় ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা ও সস্তায় শেয়ার সংগ্রহের প্রবণতাকেই ইঙ্গিত করছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সপ্তাহ শেষে ডিএসইএক্স সূচক আগের সপ্তাহের তুলনায় ৯৬ দশমিক ৫১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। একইভাবে বাছাইকৃত ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৯ পয়েন্টের বেশি কমে ১ হাজার ৯৮০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শরিয়াহ ভিত্তিক কোম্পানিগুলোর সূচক ডিএসইএস-ও গত সপ্তাহে ১৪ পয়েন্ট হারিয়েছে। গত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া ৩৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০৬টিরই দরপতন ঘটেছে, যার বিপরীতে দর বেড়েছে ১৭২টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার মূল্য। সূচকের এই নিম্নমুখী প্রবণতায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইসলামী ব্যাংকের মতো শীর্ষস্থানীয় শেয়ারগুলো।
পুঁজিবাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির পেছনে ভূ-রাজনৈতিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কারণকে দায়ী করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এর ফলে অনেক বিনিয়োগকারী হাতে থাকা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে নিরাপদ অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন। সপ্তাহের শুরুর তিন কার্যদিবস টানা দরপতন হলেও শেষ দিকে কিছু বিনিয়োগকারী সস্তায় শেয়ার কেনার সুযোগ নেওয়ায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। গত সপ্তাহে ডিএসইতে দৈনিক গড়ে ৬৬৮ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের ৫৪৮ কোটি টাকার তুলনায় ২১ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।
খাতভিত্তিক লেনদেন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বরাবরের মতো ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল। ডিএসইর মোট লেনদেনের ১৬ দশমিক ৬ শতাংশ দখল করে এই খাতটি শীর্ষে অবস্থান করছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রকৌশল খাতের দখলে ছিল ১২ দশমিক ৪ শতাংশ লেনদেন। এছাড়া বস্ত্র ও ব্যাংক খাত উভয়েই ৯ দশমিক ৮ শতাংশ লেনদেন সম্পন্ন করে তালিকার পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে। তবে আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল ভ্রমণ ও অবকাশ খাত, যেখানে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ। এর বিপরীতে তথ্যপ্রযুক্তি খাত ছিল গত সপ্তাহের সবচেয়ে লাভজনক খাত, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা ৩ দশমিক ২ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন পেয়েছেন।
দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) গত সপ্তাহে একই ধরণের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৭০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচক কমলেও সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৮ কোটিতে পৌঁছেছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩০৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫২টির দর কমেছে এবং দর বেড়েছে ১২৭টির। সার্বিকভাবে, সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট ও জ্বালানি সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পুঁজিবাজারে এই অস্থিরতা ও সূচকের টানা পতন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে লেনদেনের ক্রমবর্ধমান গতি দীর্ঘমেয়াদে বাজারের জন্য ইতিবাচক হতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন।
প্রায় দেড় মাস ধরে দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে রাজধানীর বাজারগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় উধাও হয়ে গেছে। এই সুযোগে অসাধু সিন্ডিকেট ও সরবরাহ ঘাটতির দোহাই দিয়ে খোলা সয়াবিন তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হয়েছে। ঈদুল ফিতরের আগে থেকেই চড়া থাকা খোলা তেলের দাম গত কয়েক দিনে আরও বেড়ে প্রতি কেজি ২১০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার এখনো ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ বোতলের চেয়ে খোলা তেলের দাম কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে সাধারণ ভোক্তাদের।
রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, মতিঝিল ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে এক লিটার বা আধা লিটারের বোতলজাত তেল একেবারেই নেই। কিছু দোকানে দুই ও পাঁচ লিটারের সীমিত পরিমাণ বোতলজাত তেল পাওয়া গেলেও তা সাধারণ ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় নগণ্য। এমনকি বড় সুপারশপগুলো থেকেও এক পর্যায়ে বোতলজাত তেল উধাও হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সুপারশপগুলোতে অল্প পরিমাণে সরবরাহ থাকলেও ‘রেশনিং’ পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। একেকজন ক্রেতা দুই বোতলের বেশি তেল কিনতে পারছেন না। সরবরাহ সংকটের কারণে নিরূপায় হয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ খোলা তেলের দিকে ঝুঁকলেও সেখানে বাড়তি দামের কারণে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে।
ব্যবসায়ীরা এই সংকটের পেছনে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ বেশ কিছু কারণকে দায়ী করছেন। বিক্রেতাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের আমদানি চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের শোধনকারী কারখানা বা মিলগেটগুলোতে। সেখানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে। এছাড়া দেশে চলমান জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে তেলের দাম আরও এক দফা বেড়েছে। অনেক খুচরা বিক্রেতার অভিযোগ, ডিলার পর্যায়ে বোতলজাত তেলের লাভ কমিয়ে দেওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় তারা বাধ্য হয়েই খোলা তেল বেশি দামে বিক্রি করছেন।
সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সর্বশেষ তথ্যমতে, গত এক মাসের ব্যবধানে বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান আরও বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বর্তমানে খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮ শতাংশ এবং খোলা পাম তেলের দাম ১১ শতাংশ বেশি। বাজারে খোলা পাম তেল বর্তমানে প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের দাবি, বাজারের এই লাগামহীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর তদারকি ও নিয়মিত বাজার অভিযান অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
এদিকে, দেশের ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গত ২৫ মার্চ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে। বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের অজুহাতে তারা দাম সমন্বয়ের দাবি জানালেও সরকার এখন পর্যন্ত নতুন কোনো দর অনুমোদন করেনি। এর ফলে কোম্পানিগুলো ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ভোজ্যতেলের বাজারের এই অস্থিরতা কাটার সম্ভাবনা দেখছেন না সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সব মিলিয়ে তেলের এই আকাশচুম্বী দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর হরমুজ প্রণালি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় গুরত্বপূর্ণ এ পথটি পুরো নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইরান। এরপর থেকে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় চাহিদা মেটাতে এবার বিকল্প পথে সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) আমদানি করছে বাংলাদেশ।
জানা গেছে, লোহিত সাগরের কাছাকাছি অবস্থিত সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে এই তেল লোহিত সাগর হয়ে সরাসরি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে আনা হবে। তেলবাহী ট্যাংকারটি আগামী ২০ এপ্রিল লোড করার কথা রয়েছে।
এদিকে, বর্তমানে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের একটি জাহাজে থাকা ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে। জাহাজটি বর্তমানে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অবস্থান করলেও ইরানের বিশেষ ছাড়পত্র না পাওয়ায় এটি বাংলাদেশে আসতে পারছে না। যদিও ইরান সম্প্রতি বাংলাদেশের ৬টি জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তবে, এই তেলের জাহাজটি সেই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নয়।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) তথ্যানুযায়ী, আগামী ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন তেল জাহাজে লোড করা হবে। আরও ১ লাখ টন তেল নিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আটকা পড়ে আছে ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের জাহাজ। মে মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে দুই জাহাজ মিলিয়ে মোট ২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। পরে এসব তেল রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করে বাজারজাত করা হবে। এতে চলমান সংকট অনেকটাই লাঘব হবে বলে আশা করছে বিএসসি।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সূত্র জানায়, পরিশোধনের পর এই ২ লাখ টন ক্রুড অয়েল থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে। এর মধ্যে রয়েছে, ৫২ হাজার টন ডিজেল, ৩২ হাজার টন পেট্রোল, ১৬ হাজার টন অকটেন, ৪৮ হাজার টন ফার্নেস অয়েল এবং ৪২ হাজার টন কেরোসিন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, জটিলতা নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে এবং ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা চলছে। অনুমতি মিললেই ‘এমটি নরডিক পলুকস’ জাহাজটি সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাবে।
তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালির এই জটিলতা এড়াতে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন করে কেনা ১ লাখ টন ক্রুড অয়েল লোহিত সাগরের তীরবর্তী সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই বন্দরটি হরমুজ প্রণালির বাইরে হওয়ায় তেল পরিবহনে সামরিক বা রাজনৈতিক বাধার আশঙ্কা কম।
বিএসসি সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত ক্রুড অয়েল, এলপিজি, এলএনজিসহ বিভিন্ন জ্বালানি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে অন্তত ৩৩টি জাহাজ এসেছে।
বাংলাদেশে নারী আর্থিক অন্তর্ভুক্তির অগ্রগতি আরও শক্তিশালী করতে ডাটা ড্যাশবোর্ডে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। পুঁজিবাজার ও বীমা খাত সংশ্লিষ্ট আলাদা ওয়েব পেজ যুক্ত করায় তথ্যভান্ডার আরও বিস্তৃত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংক-এর ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এনএফআইএস অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ইউনিট এবং সুইজারল্যান্ডভিত্তিক কনসিউমার সেন্ট্রিক্স-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন ওয়েব পেজগুলোর উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী, বীমা কোম্পানি, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা এবং এমএফএস সেবাদাতাদের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে এই ড্যাশবোর্ডে হালনাগাদ করা হচ্ছে। নতুন খাত যুক্ত হওয়ায় এখন নারী আর্থিক অন্তর্ভুক্তির চিত্র আরও পূর্ণাঙ্গভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই ড্যাশবোর্ড নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে এবং নারীদের আর্থিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের বর্তমান অবস্থা বিশ্লেষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
তামাক খাতে করনীতি সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এমন একটি বাস্তবসম্মত কাঠামো দরকার যা রাজস্ব আদায় বজায় রাখার পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়তা করবে।
বুধবার (০১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) কার্যালয়ে ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব বিষয় উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের একজন প্রতিনিধি। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন পিআরআইর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার এবং আলোচনা সঞ্চালনা করেন পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান। মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক খাতে কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও রাজস্ব আয়ের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি কমেছে। ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেট বিক্রি কমে যায়, যার প্রভাবে রাজস্ব বৃদ্ধি সীমিত হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদনের তথ্যে উল্লেখ করা হয়, দেশে তামাকের ওপর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্বে অন্যতম উচ্চ। এই অবস্থায় শুধু কর বাড়িয়ে রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। পাশাপাশি আকস্মিক কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্য বিস্তারের সুযোগ তৈরি করছে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখতে একটি কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি জরুরি। ঘন ঘন কর ও মূল্য পরিবর্তন ভোক্তাদের নিম্নমূল্যের পণ্যের দিকে ঠেলে দেয় এবং বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তারা আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হওয়ায় রাজস্ব পূর্বাভাস দুর্বল হয়ে পড়ে। এ কারণে ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়, যা বাস্তবায়নে সহজ এবং রাজস্ব আদায়ে সহায়ক।
অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা সতর্ক করেন, বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ বাণিজ্য তুলনামূলক বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।
সার্বিকভাবে তারা মনে করেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা এবং খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো এখন সময়ের দাবি।
দেশে প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিকতা ইতিবাচক রয়েছে এবং চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ায় এ ধারা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ এপ্রিল একদিনে দেশে এসেছে ১১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা আগের বছরের একই দিনের ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এ তথ্য জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৬ হাজার ৩২৬ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ২১ হাজার ৮০৩ মিলিয়ন ডলার।
এই হিসাবে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২০ দশমিক ৮ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারের প্রণোদনা, হুন্ডি দমন এবং বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ার ফলে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বেড়েছে, যা এই প্রবৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে এবং সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে জাহাজ ভাড়া ও লজিস্টিক খরচ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী চাহিদার ধরনে পরিবর্তনের ফলে রফতানিকারক দেশগুলো বর্তমানে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। তবে এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ডেইরি পণ্যের বাজার আপাতত স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ফারমারস উইকলি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, বিশেষজ্ঞরা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও লজিস্টিক খাতের ঝুঁকিকে বর্তমান অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে লোহিত সাগর ও সংলগ্ন এলাকায় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বীমা ও পরিবহন খরচের ওপর। অনেক কোম্পানি দীর্ঘ পথ ঘুরে পণ্য পাঠাতে বাধ্য হওয়ায় খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলো ভৌগোলিক কারণে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে পণ্য পাঠাতে কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও পরোক্ষভাবে তারাও বাড়তি ব্যয়ের চাপ অনুভব করছে।
সম্প্রতি ৪শ’তম গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) নিলামের তথ্য অনুযায়ী, খরচ বাড়া সত্ত্বেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোয় দুগ্ধজাত পণ্য কেনার প্রবণতা বেড়েছে। অন্যদিকে প্রধান রফতানিকারক দেশ নিউজিল্যান্ডে গত ফেব্রুয়ারিতে দুধ উৎপাদনের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রেও দুধের উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ এবং দেশটিতে গত ৩০ বছরের মধ্যে বর্তমানে গবাদি পশুর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। আর্জেন্টিনা থেকেও দুধের উৎপাদন ১০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির খবর পাওয়া গেছে।
৩৯৯তম জিডিটি নিলামের তথ্যমতে, বাজারে দুগ্ধজাতীয় পণ্যের সরবরাহ বাড়লেও চাহিদা বেশ শক্তিশালী ছিল। বিশেষ করে ননি ছাড়া গুঁড়া দুধ (এসএমপি), মাখন ও মোজারেলা পনিরের দাম এবং চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ সংকটের কারণে ননীমুক্ত গুঁড়া দুধের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্বব্যাপী প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাওয়ায় ডেইরি পণ্যের বাজারে বর্তমানে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে।
রফতানির পরিমাণ বাড়লেও আয়ের ক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দেশটিতে রফতানি বাড়লেও আয়ের হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যার প্রধান কারণ বছরের শুরুতে পণ্যের দাম কম থাকা। এ ছাড়া বিশ্বের অন্যতম বড় আমদানিকারক দেশ চীন বর্তমানে তাদের আমদানির পরিমাণ প্রায় ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি বেড়েছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ইউরোপের দেশগুলোও রফতানি বাণিজ্য থেকে ভালো মুনাফা অর্জন করছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার বাজারে রফতানি ও আয়—উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধস লক্ষ্য করা গেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য আগামী দিনগুলোতে বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রাখবে। পরিবহন ও বীমা খরচ বাড়তে থাকলে তা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপের সৃষ্টি করবে। তবে আশার কথা হলো, উচ্চমূল্য সত্ত্বেও বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা কমেনি, যা বাজারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। নিউজিল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত ডেইরি কোম্পানি ফনটেরা এরই মধ্যে কৃষকদের জন্য দুধের দাম বাড়ানোর পূর্বাভাস দিয়েছে। সার্বিকভাবে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক পরিবর্তনের প্রতি দুগ্ধজাত পণ্যের বাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে কোনো ধরনের সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। চলতি এপ্রিল মাসজুড়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরেন বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব (অপারেশন অনুবিভাগ) মনির হোসেন চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো আসছে। তাই এপ্রিল মাস পুরোপুরি নিরাপদ।’
সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মোট জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৮ মেট্রিক টন।
মজুতের মধ্যে ডিজেলের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি, যার পরিমাণ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ মেট্রিক টন। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ জুড়ে থাকা এই জ্বালানি কৃষি, পরিবহন ও শিল্প খাতে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া অকটেনের মজুত রয়েছে ৯ হাজার ২১ মেট্রিক টন, যা ব্যক্তিগত যানবাহন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইঞ্জিনের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট। পেট্রোলের মজুত দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৯৪ মেট্রিক টনে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেট ফুয়েলের মজুত রয়েছে ৪১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন। ফার্নেস অয়েল রয়েছে ৫৮ হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন, কেরোসিন ৯ হাজার ৩৭৮ মেট্রিক টন এবং মেরিন ফুয়েল ১ হাজার ১৫৩ মেট্রিক টন।
সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৬০০টি প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট অডিটের জন্য বাছাই করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। নতুন এই উদ্যোগে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনো মানবীয় হস্তক্ষেপ রাখা হয়নি।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভ্যাট অডিটকে আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করতে ই-ভ্যাট ব্যবস্থায় ‘অটোমেটিক রিস্ক ম্যানেজমেন্ট মডিউল’ চালু করা হয়েছে। এতে ২০টি ঝুঁকি সূচক নির্ধারণ করে সেগুলোর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা হচ্ছে।
ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী নির্দিষ্ট অগ্রাধিকার বা ওয়েটেজ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় এখানে কোনো ম্যানুয়াল প্রভাবের সুযোগ নেই, ফলে অডিট নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে—যা দীর্ঘদিন ধরে করদাতা ও সুশীল সমাজের প্রত্যাশা ছিল।
সংস্থাটি আরও জানায়, এই পদ্ধতিতে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অডিট শেষে প্রত্যাশিত ফল না মিললে ভবিষ্যতে রিস্ক ক্রাইটেরিয়া ও ওয়েটেজ প্রয়োজন অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে।
প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ৬০০ প্রতিষ্ঠানের তালিকা সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৪০৫টি উৎপাদনকারী, ৯৮টি সেবাদানকারী, ৬৫টি খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী এবং ৩২টি আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে ভ্যাট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও দক্ষতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি করদাতাবান্ধব পরিবেশ তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধও আরও জোরদার হবে।
দীর্ঘ সময় ধরে ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা দিয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ হঠাৎ কমে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান ইস্যুতে দেওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্য বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার কমাতে পারে—এমন সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে স্বর্ণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে আসে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, স্পট গোল্ডের দাম এদিন ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬২২ দশমিক ৫৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যদিও দিনের শুরুতে দাম প্রায় ৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছিল, পরে তা পুরোপুরি পতনে রূপ নেয়। এর ফলে টানা চার দিনের ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে যায়।
এদিকে, মার্কিন গোল্ড ফিউচারও ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৬৪৯ ডলারে নেমে এসেছে।
গত ১৯ মার্চের পর স্বর্ণবাজারে যে ইতিবাচক ধারা তৈরি হচ্ছিল, তা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণার পর ভেঙে পড়ে। এক বিশেষ ভাষণে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে আগ্রাসী হামলা অব্যাহত রাখবে এবং দেশটি তাদের ‘প্রধান কৌশলগত লক্ষ্য’ অর্জনের পথে রয়েছে। এতে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত হবে—এমন প্রত্যাশায় থাকা বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়েছেন।
শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রুপার দাম ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৭১ দশমিক ০৭ ডলারে নেমেছে। প্ল্যাটিনাম কমেছে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাব ভিন্নভাবে পড়েছে বিভিন্ন দেশে। ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে, অন্যদিকে চীনে ক্রেতারা আরও কম দামের আশায় অপেক্ষা করায় লেনদেনে কিছুটা ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে।
দেশের শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে উল্লেখযোগ্য দরপতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। একই প্রবণতা দেখা গেছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও, যেখানে সূচকের সঙ্গে লেনদেনও কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিনের শুরুতে সূচক কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সারাদিন জুড়েই পতনের ধারা অব্যাহত থাকে, যা বাজারে নেতিবাচক মনোভাবের প্রতিফলন। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দর কমায় সামগ্রিকভাবে বাজারে চাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৩ দশমিক শূন্য ৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২১৯ দশমিক ৭৩ পয়েন্টে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৫৯ দশমিক ৫৭ পয়েন্টে নেমে আসে এবং ডিএস-৩০ সূচক ২১ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৯৮০ দশমিক ৩৫ পয়েন্টে।
এই দিনে ডিএসইতে মোট ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫টির, কমেছে ৩০৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৩টির। মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র দেখা গেছে। সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৮৩ দশমিক ৩৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৬৯৫ দশমিক ৮৭ পয়েন্টে। সিএসসিএক্স সূচক ৪৪ দশমিক ২১ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৯৭৭ দশমিক ৫১ পয়েন্টে নেমে আসে। শরিয়াহ সূচক ২ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট কমে ৮৯৫ দশমিক শূন্য ৩ পয়েন্টে এবং সিএসই-৩০ সূচক ৭০ দশমিক ৪১ পয়েন্ট কমে দাঁড়ায় ১২ হাজার ৮৪৮ দশমিক ২০ পয়েন্টে।
সিএসইতে মোট ১৯১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৬০টির, কমেছে ১১৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৬টির। দিন শেষে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় অনেক কম।
ইরানকে ঘিরে সংঘাত প্রশমনের সম্ভাবনা এবং যুদ্ধ থেমে যাওয়ার প্রত্যাশায় বিশ্বজুড়ে পুঁজিবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ ফিরে আসায় একদিনেই বড় ধরনের উল্লম্ফন হয়েছে বিভিন্ন বাজারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইতিবাচক বার্তার পর বাজারে আস্থা বাড়ে। এর প্রভাবে গতকাল তিন বছরের মধ্যে শেয়ারবাজারে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান রেকর্ড হয়।
লেনদেন শুরুর দিকেই ইউরোপের এসটিওএক্সএক্স ৬০০ সূচক ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যায়। ভ্রমণ খাতের শেয়ার প্রায় ৪ শতাংশ এবং অ্যারোস্পেস ও প্রতিরক্ষা খাতের শেয়ার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। একই সময়ে জার্মান বন্ডের ইল্ড ৭ বেসিস পয়েন্ট কমেছে। এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে (জাপান ছাড়া) শেয়ার সূচক ৪ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ দৈনিক উত্থান। সম্প্রতি ট্রাম্প জানিয়েছেন, দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যই বাজারে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
ন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের মুদ্রা কৌশলী রদ্রিগো ক্যাটরিল বলেন, ‘শান্তি বা যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে দুই পক্ষ এখনো অনেক দূরে। তবে যেহেতু আলোচনা শুরু হয়েছে, তাই বাজার এ বিষয়কে ইতিবাচকভাবে দেখছে।’
এশিয়ার বাজারগুলোও ইতিবাচক ধারা ধরে রাখে শক্তিশালী অর্থনৈতিক তথ্যের কারণে। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশ এবং জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। তাইওয়ানের বাজারেও ৪ দশমিক ৬ শতাংশ উত্থান দেখা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিকন্ডাক্টর রফতানি মার্চে ৪৮ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের শেয়ার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
আইএনজির বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে চিপের চাহিদা ও অনুকূল মূল্য পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি রফতানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার শিল্প খাত চার বছরের মধ্যে দ্রুততম হারে সম্প্রসারিত হয়েছে।
তবে বাজারে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হলেও ঝুঁকি পুরোপুরি কাটেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতও সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে দেশটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সমর্থন চেয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষে ন্যাটোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুনভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
সব মিলিয়ে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি এখন ট্রাম্পের পরবর্তী বক্তব্যের দিকে। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বার্তা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এখনো উভয় পক্ষের হামলা পুরোপুরি থামেনি, তবুও আলোচনার সম্ভাবনাই বিশ্ব অর্থনীতিতে স্বস্তির সঞ্চার করেছে।
ব্যাংকিং খাতে নগদহীন লেনদেন বাড়ানো এবং সরকারের রাজস্ব আয় জোরদারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে আগামী জুনের মধ্যে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকে ‘বাংলা কিউআর’ অ্যাপ ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিজনেস এডিটরদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এ নির্দেশনা দেন।
গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করাই এখন অগ্রাধিকার। অতীতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে খাতে সুশাসন বজায় রাখা সম্ভব হয়নি, তবে এখন থেকে এমন কোনো প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া হবে না।
খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বাড়তি সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি ঋণ আবেদন ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে তবেই অনুমোদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
‘বাংলা কিউআর’ চালুর বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এর বিস্তারের ফলে নগদ অর্থের ব্যবহার কমবে এবং ডিজিটাল লেনদেনের স্বচ্ছতা বাড়বে, যা জাতীয় রাজস্ব আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
উল্লেখ্য, ‘বাংলা কিউআর’ বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি জাতীয় কিউআর কোড মানদণ্ড। এর মাধ্যমে গ্রাহক স্মার্টফোনের ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহার করে সরাসরি অর্থ পরিশোধ করতে পারেন। এটি নিরাপদ ও স্পর্শবিহীন প্রযুক্তি, যা লেনদেনকে দ্রুততর করে এবং ভোগান্তি কমাতে সহায়তা করে।