সোমবার, ১১ মে ২০২৬
২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

অর্থনীতিতে অনিশ্চিয়তা বাড়াচ্ছে সোনার দাম

আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত : ২০ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৮:০৩

১৯৭১ সালে এক ভরি সোনার দাম ছিল ১৫৪ টাকা। তখন মাথাপিছু আয় ছিল ৭০ ডলার। সে সময় ডলারের বিনিময় হার ৭ টাকা ২৮ পয়সা ধরলে মাথাপিছু আয় ছিল ৫০৯ টাকা। অর্থাৎ বার্ষিক মাথাপিছু আয় দিয়ে ৩ দশমিক ৩১ ভরি সোনা কেনা যেত তখন।

এখন বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২৪ ডলার। প্রতি ডলার ১০৭ টাকা ধরলে আয় ৩ লাখ ২ হাজার ১৬৮ টাকা। এখন সোনার ভরি কিনতে দিতে হয় ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা। সুতরাং মাথাপিছু আয় দিয়ে ৩ দশমিক ২৩ ভরি সোনা কেনা সম্ভব। দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে সোনার বাজার স্থিতিশীল। ক্রেতার লোকসান হয় না। মূলত স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্যতার কারণেই সব মানুষের পছন্দের ধাতু সোনা। সোনার বাজারে সাময়িক ওঠানামা থাকে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

বিশ্বে সোনাকেই সবচেয়ে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য পণ্য হিসেবে ধরা হয়। বলা হয়, একমাত্র এই পণ্যটির দরেই সাধারণত বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা যায় না। এটি কিনে রাখলে লোকসানের ভয় নেই। এ কারণেই সোনার প্রতি সবার এত আকর্ষণ। ৫০ বছর আগে কেউ সোনা কিনে রাখলেও তা ভালো বিনিয়োগ হিসেবেই বিবেচিত। শেয়ারবাজার, ডলার বা অন্য কিছু- এই নিশ্চয়তা দেয় না।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি বলেছেন, এই বছরেই মন্দার কবলে পড়বে বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ দেশ। যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বে।

কিন্তু এর মধ্যেও ছুটছে সোনার দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে বাড়ছে প্রতি মুহূর্তে; আর দেশের বাজারে বাড়ছে সপ্তাহে সপ্তাহে। সবশেষ গত রোববার দেশে সোনার দাম ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকায়। এই দাম দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জুয়েলারি দোকানগুলোতে সোনার গহনা কেনার চেয়ে বিক্রি বেশি হচ্ছে। যে কোনো মুহূর্তে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম লাখ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন স্বর্ণালঙ্কার ব্যবসায়ীরা।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ ভোক্তা পর্যায়ে সোনার কেনাকাটা হয় গহনাসামগ্রীতে। এই শ্রেণির ক্রেতার কাছে গহনার চাহিদা ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে কমেছে ১৫ শতাংশেরও বেশি। বৈশ্বিকভাবে সোনার সরবরাহ কমেছে ৫ শতাংশের মতো। কিন্তু এর পরও আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার আউন্সপ্রতি দামও বেড়েছে।

গত বুধবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৯১৬ ডলার ৪০ সেন্ট। এক বছর আগে এর দাম ছিল ১ হাজার ৮০০ ডলার। ২০২০ সালের মার্চে বিশ্বে করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ২ হাজার ২০ ডলারে উঠেছিল। পরে অবশ্য কমতে কমতে ১ হাজার ৬০০ ডলারে নেমে এসেছিল। ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার পর থেকে চড়তে থাকে অতি দামি বলে পরিচিত এই ধাতুর দাম।

কেন সোনার দাম বেড়েই চলছে

সোনার দামের সঙ্গে বিশ্ব অর্থনীতির একটি সম্পর্ক আছে। বিশ্ব অর্থনীতিতে আগামী দিনগুলোতেও অনিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন। করোনা মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এই অনিশ্চয়তার সময়টাই আসলে সোনার স্বর্ণসময়। যত বেশি অনিশ্চয়তা, তত বেশি সোনা বিক্রি। যত বেশি মূল্যস্ফীতি, তত বেশি সোনার মূল্যবৃদ্ধি। ঐতিহাসিকভাবেও দেখা গেছে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির সময়েই সোনার দাম সবচেয়ে বেশি বাড়ে।

এমন নয় যে সোনার দাম কেবল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছেই। মাঝেমধ্যে কমছেও। এটাও অনিশ্চয়তার ফল। সুদের হার বাড়ানো নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা বা অর্থনীতি মন্দায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার ওপরও নির্ভর করছে সোনার দামের ওঠানামা। এই দাম আপাতত কমবে, এমন পূর্বাভাসও কেউ দিচ্ছেন না। যখনই মনে হয় অর্থনীতির সংকট হয়তো কেটে যাচ্ছে, তখনই সোনার দাম খানিকটা পড়ে যায়। আবার যখন মনে হয় সুদহার বাড়িয়েও কাজ হচ্ছে না, তখনই দাম বাড়ে সোনার।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকট দীর্ঘ হলে এবং এর থেকে মূল্যস্ফীতি বাড়ার ভয় তীব্র হলে সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থনীতি স্বাভাবিক রাখতে আর্থিক কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থের চেয়ে ক্ষয়হীন সোনার মজুদের প্রতি ঝোঁক বাড়ে। কারণ অর্থের (টাকা বা ডলার) মান যেকোনো সময় অবনমন হতে পারে, কিন্তু সেই অর্থে মজুত সোনার কোনো ক্ষয় হয় না।’

তিনি বলেন, ‘সংকটকালে সোনার মজুত বাড়াতে পারলে সংশ্লিষ্ট দেশ অর্থনৈতিকভাবেও অন্যের চেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকে। কেননা, পরে দাম বেশি পেলে ওই সোনা বিক্রি করেও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। তবে কোন কোন কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী পরিমাণ সোনা কিনছে বা বিক্রি করছে তা খুব একটা বাইরে প্রকাশ পায় না।’

আহসান মনসুর বলেন, ‘স্বর্ণ কিনে কারও লোকসান হয়েছে বা কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন নজির বিশ্বে নেই। একই কথা সাধারণ ভোক্তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এ কারণে করোনা মহামারি ও যুদ্ধের কারণে মানুষের আয় ও স্বাভাবিক বিনিয়োগ কমে গেলেও সামর্থ্যবানরা সোনা বা স্বর্ণালঙ্কার মজুতে বিনিয়োগ করছেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, প্রায় সব দেশে বহুকাল ধরেই মানুষ নিরাপদ ভেবে স্বর্ণে বিনিয়োগ করছেন।’

সোনার দাম ও ভোক্তার আচরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দুজন অর্থনীতিবিদ গবেষণা করেছেন। ‘গোল্ডেন ডিলেমা’ নামে ওই গবেষণায়ও দাবি করা হয়, ‘সংকটকালে সোনার দাম বাড়ে। ভয় বা আতঙ্কের কারণেই এটা হয়, যা ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর থেকে দৃশ্যমান হতে দেখা গেছে।’

সোনার কেনাকাটায় স্থানীয় বাজারে নিয়ন্ত্রণ খুব একটা না থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে যাতে কোনো ‘বাবল’ তৈরি হতে না পারে সেজন্য সিলিং বেঁধে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে ১৯৯৯ সালে ওয়াশিংটন চুক্তি নামে একটি আন্তর্জাতিক চুক্তিও রয়েছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বছরে ৪০০ টন বা ৪০০০ কেজির বেশি সোনা বিক্রি করতে পারবে না।

দেশে এ খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের স্বত্বাধিকারী এবং বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতির (বাজুস) সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সোনার বাজারটি অন্যসব পণ্যের মতো নয়। বিশ্বে বিভিন্ন দেশের দায়িত্বশীল এজেন্ট ও বায়াররাই সোনার বাজারের মূল নিয়ন্ত্রক। বিশ্ব যখন স্থিতিশীল থাকে তখন সোনা কেনার প্রতি এদের চাহিদা কম থাকে। যখনই বিশ্ব সংকটের মুখোমুখি হয় তখন নিজ নিজ দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অনুমোদিত লোকাল এজেন্টরা ক্রেতা সেজে হাজার হাজার কেজি সোনা কিনে মজুত রাখেন। এভাবে সব দেশ যখন একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ সোনা কেনার তৎপরতা চালায়, তখন চাহিদা ও জোগানের ফর্মুলা অনুযায়ীই সোনার দাম বাড়তে থাকে।’ তিনি বলেন, ‘সোনার মজুত দেশকে নিরাপদ রাখে। ফলে এই ভয়-আতঙ্ক সামাল দিতেই যেকোনো সংকটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ সংরক্ষণ করে বলে সার্বিকভাবে সোনা কেনার প্রবণতা বাড়ে। আবার যাদের মজুত বেশি আছে তারা এই সময়ে বাড়তি দামে বিক্রিও করেন। করোনার পর যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও এখন তাই ঘটতে দেখা যাচ্ছে। যার প্রভাব দেশেও পড়েছে।’

দেশে এখন সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) সোনার ভরি ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা। এক বছর আগে ছিল ৭৭ হাজার ৪১৬ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে দেশে সোনার দাম বেড়েছে ২১ শতাংশ। সোনার দামে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড। দাম বেড়েছে বিশ্বব্যাপীই।

কেন সোনার দাম বাড়ে-কমে

আর সব পণ্যের মতো সোনার দামও ঠিক হয় সরবরাহ ও চাহিদার ওপর। সরবরাহ আসে দুই ভাবে। নতুন উত্তোলন এবং পুরোনো সোনা বিক্রি। সোনার খনিতে সোনা উত্তোলন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সাধারণত প্রতিবছর কত পরিমাণ সোনা উত্তোলন হবে, তার একটা হিসাব পাওয়া যায়। এই হিসাবে খুব একটা ওঠানামাও করে না। যেমন অতিমারির বছর ২০২০ সালেও সোনা উত্তোলন হয়েছিল আগের বছরগুলোর মতোই, ৩ হাজার ৪৭৬ টন। তবে সাধারণত সোনার সরবরাহ বাড়ে মূল্যবৃদ্ধির সময়টাতেই। দাম বাড়লে অনেকেই হাতে থাকা সোনা বেশি মুনাফার আশায় বিক্রি করে দেন, অনেকে আবার জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় মেটাতেও সোনা বিক্রি করেন।

সোনার চাহিদাও তৈরি হয় দুভাবে। যেমন গহনার চাহিদা এবং সোনায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি। গহনা হিসেবে সোনার বেশি প্রচলন চীন ও ভারতে। পশ্চিমা দেশগুলোয়ও গহনার ভালো চাহিদা আছে। আন্তর্জাতিক গোল্ড কাউন্সিলের হিসাবে, সরবরাহকৃত মোট সোনার ৪৭ শতাংশই ব্যবহার করা হয় গহনায়, এর পরিমাণ ২ হাজার ২৩০ টন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশে সোনায় বিনিয়োগ করার জন্য বন্ডসহ নানা ধরনের আর্থিক সম্পদ আছে। অনিশ্চয়তার সময় এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও ভবিষ্যতের জন্য সোনার মজুত বাড়িয়ে দেয়। হিসাব অনুযায়ী, সোনার বার ও সোনার মুদ্রায় বিনিয়োগের পরিমাণ ১ হাজার টন। মোট সরবরাহের ২১ শতাংশই বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে সোনার ব্যবহার হয়ে থাকে।

ডলারের মূল্যবৃদ্ধি দাম বাড়াচ্ছে

এক বছর আগে বাংলাদেশে ১ ডলারের জন্য গুনতে হতো ৮৫ টাকা। এখন লাগে ১০৭ টাকা। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বব্যাপীই ডলারের রমরমা অবস্থা। বিশ্বের বেশির ভাগ প্রধান মুদ্রা ডলারের বিপরীতে মূল্যমান হারিয়েছে। ফলে চাঙা ডলার অনেক দেশের জন্যই বিপদের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের দেশগুলো আছে বেশি বিপদে। তাদের আমদানি বেশি, রপ্তানি কম। আর সিংহভাগ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য যেহেতু ডলারে করতে হয়, তাই এসব দেশকে টিকে থাকতে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করতে হচ্ছে। ডলারের ওপর অতিনির্ভরশীলতা থেকে বাঁচতে রাশিয়া ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ বহু আগে থেকেই সোচ্চার। ভবিষ্যতেও হয়তো এ নিয়ে নানা উদ্যোগ থাকবে। এতে ডলারের ওপরে আস্থা কমে গেলে অনেকেই সোনার দিকে ঝুঁকে পড়বে।

জ্বালানি তেলের কেনাবেচার সঙ্গেও সোনার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণত দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে সোনার দামও বেড়ে যায়। কারণ, তখন অনেক দেশই সোনার বিনিময়ে জ্বালানি তেল বিক্রি করে থাকে। আর যেহেতু এখন ডলারের কারণে বিশ্বের মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা চলছে, ফলে বিনিময় মাধ্যম হিসেবে সোনার চাহিদাও বাড়ছে।

বাংলাদেশে চাহিদা কত?

দেশের বাজারে এখন সোনার মূল্যবৃদ্ধি নিয়মিত ঘটনা হয়ে গেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) সর্বশেষ সোনার দাম বাড়িয়েছে গত রোববার। ফলে এখন হলমার্ক করা ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি সোনার দাম ৮৯ হাজার ১৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৭৬ হাজার ৪৫৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম বেড়ে হয়েছে ৬৩ হাজার ৬৮৫ টাকা।

বাংলাদেশের সোনার চাহিদা কত, এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য নেই। স্বর্ণ নীতিমালায় বলা আছে, দেশে প্রতিবছর ২০ থেকে ৪০ মেট্রিক টন সোনার চাহিদা তৈরি হচ্ছে। আবার বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি বলছে, প্রতিবছর সোনা চোরাচালানের আর্থিক পরিমাণ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। মূলত সোনা চোরাচালানের অর্থ লেনদেন হয় হুন্ডিতে।

আবার গহনা বানানো ছাড়া দেশে সোনার তেমন কোনো চাহিদাও নেই। অন্যান্য দেশের মতো সোনায় বিনিয়োগ করার মতো কোনো বন্ড বা আর্থিক উপাদানও গড়ে ওঠেনি। ফলে গহনা বানানো বা সোনার বার কিনে রাখাই এখন একমাত্র বিনিয়োগ। অথচ সোনায় বিনিময়যোগ্য আর্থিক কোনো উপাদান থাকলে তাতে দেশই লাভবান হতে পারত, যা পাশের দেশ ভারতেও রয়েছে।


আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির সরবরাহ রেকর্ড পরিমাণ হ্রাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার বা ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) অপরিশোধিত চিনির সরবরাহ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক্সচেঞ্জের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, এবার মে মাসের চুক্তিতে মাত্র ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৩ টন চিনি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন সরবরাহের রেকর্ড।

পণ্যবাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৯ হাজার ৫২০ লট চিনির বিশাল একটি অংশ বা প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন আসবে ব্রাজিল থেকে। দেশটির সান্তোস, পারানাগুয়া ও মাসেইও বন্দর থেকে এই চিনি জাহাজীকরণ করা হবে। এছাড়া বাকি চিনি মধ্য আমেরিকার পাঁচটি দেশ এবং মেক্সিকোর কোয়াটজাকোয়ালকোস বন্দর থেকে সরবরাহ করা হবে। গত বছরের মে মাসে চিনির সরবরাহের পরিমাণ যেখানে প্রায় ৩০ হাজার লট ছিল, সেখানে এবার তা কমে মাত্র ৯ হাজার ৫২০ লটে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ কমেছে প্রায় তিন গুণেরও বেশি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সরবরাহ কমে যাওয়ার এই প্রবণতাকে বাজারে ইতিবাচক বা ‘বুলিশ’ সংকেত হিসেবে দেখা হয়। এর অর্থ হলো, ব্যবসায়ীরা এখন সরাসরি খোলা বাজার থেকে লেনদেনে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং এক্সচেঞ্জের বাইরে তারা পণ্যের আরও ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ দেখছেন। বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘সুকডেন’ এই চালানের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ টন চিনি সরবরাহ করেছে, যা ব্রাজিলীয় সমবায় প্রতিষ্ঠান কোপারসুকার নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানি ‘আলভিয়ান’ কিনে নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের এই ঘাটতির খবর প্রচার হওয়ার পরপরই চিনির দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। নিউইয়র্কের বাজারে গতকাল চিনির দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি পাউন্ড প্রায় ১৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ব্রাজিলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং সরাসরি বাজার থেকে পণ্য ক্রয়ের এই প্রবণতা চিনির বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এর ফলে খুচরা বাজারেও পণ্যটির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


ইরান সংঘাতে তেলের দাম বৃদ্ধি, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ধস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো তাদের রেকর্ড উচ্চতা থেকে নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কার্যদিবসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে তার পূর্বের সর্বোচ্চ অবস্থান হারিয়েছে। পাশাপাশি ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ন্যাসডাক কম্পোজিট দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে জ্বালানি তেলের বাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১৪ ডলার ৪৪ সেন্টে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে যে তারা ইরানের আক্রমণের শিকার হয়েছে—আর এই খবরটিই মূলত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।

বর্তমানে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে কয়েকশ জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরান যুদ্ধ কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা থাকলেও মার্কিন শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত যথেষ্ট স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং মাঝেমধ্যেই রেকর্ড গড়ছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো এই আশা রয়েছে যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি চরম বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী মুনাফা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের দাম ধরে রাখতে সহায়তা করছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংক অব আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিস্ট সাভিতা সুব্রামানিয়ান জানিয়েছেন, “এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে গড় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ হতে পারে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর ভর করে দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং হংকংয়ের সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ছুটির কারণে এদিন চীন ও জাপানের মূল শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।


বৈরী আবহাওয়া ও যুদ্ধাবস্থায় বিশ্ববাজারে কৃষিপণ্যের দাম দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ থাকা এবং বৈরী প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষিজাত পণ্যের দাম গত দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। পর্যাপ্ত সারের অভাব এবং ফলন হ্রাসের আশঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তীব্রতর হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এক বিশাল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হেলেনিক শিপিং নিউজ-এর প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।

বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শীর্ষ দশটি কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ‘ব্লুমবার্গ এগ্রিকালচার স্পট ইনডেক্স’ সূচকটি টানা তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে এই সূচক ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সবথেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে বিশ্ববাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পাশাপাশি তীব্র খরা আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে সার আমদানিতে বিঘ্ন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে গম ও ভুট্টার বাজার সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) গত ফেব্রুয়ারি থেকে গমের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে ভুট্টার দামও গত দুই মাসে ৬ শতাংশ বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। উৎপাদনকারী দেশগুলোর কৃষকরা জানিয়েছেন, সার ও জ্বালানির অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা চাষাবাদের জমির পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফ্রান্সে সারের দাম বাড়ার ফলে কৃষকরা ভুট্টা চাষ কমিয়ে দেওয়ায় প্যারিসের বাজারে ভুট্টার মূল্য ১৪ মাসের মধ্যে শিখরে পৌঁছেছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী খরার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার প্রতিকূল আবহাওয়া ফলন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।


২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের রেকর্ডমূল্যে বিওয়াইডির ‘ইউ৯ এক্সট্রিম’সুপারকার বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চীনের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) প্রস্তুতকারক কোম্পানি বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে গাড়ি বিক্রির অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষায়িত বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং’-এর অত্যাধুনিক সুপারকার ‘ইউ৯ এক্সট্রিম’ সম্প্রতি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ২ কোটি ইউয়ানেরও বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছে। বেইজিং অটো শো ২০২৬-এ গাড়িটির প্রদর্শনী চলাকালেই এই বিশেষ লেনদেনটি সম্পন্ন হয় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বিওয়াইডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লি ইউনফেই এই সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘‌এবারের প্রদর্শনীতে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া গাড়ি।’ প্রতিষ্ঠানটি এই মডেলের মাত্র ৩০টি গাড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে এর বিশেষত্ব ও বিরলতা বজায় থাকে। গতির দিক থেকেও গাড়িটি তাক লাগিয়ে দিয়েছে; জার্মানির বিখ্যাত রেসিং ট্র্যাকে এটি রেকর্ড সময় ৬ মিনিট ৫৯ দশমিক ১৫৭ সেকেন্ডে ল্যাপ শেষ করেছে। এছাড়া চীনের একাধিক নামকরা রেসিং সার্কিটেও এই সুপারকারটি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকে ‘ইউ৯ এক্সট্রিম’ এক দানবীয় শক্তি ধারণ করে। এতে তিন হাজার হর্সপাওয়ারের বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন মোটর এবং ১ হাজার ২০০ ভোল্টের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ ও মসৃণ যাত্রার জন্য এতে বিওয়াইডির নিজস্ব ‘ডাইসাস-এক্স’ সাসপেনশন এবং উচ্চমানের কার্বন-সিরামিক ব্রেক ডিস্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

একই প্রদর্শনীতে ইয়াংওয়াং তাদের নতুন বিলাসবহুল ফোর-সিটার এসইউভি ‘ইউ৮এল’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মোচন করেছে। উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি এই মডেলটি বাজারে মার্সিডিজ-বেঞ্জের মেব্যাক সিরিজের সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইয়াংওয়াং ব্র্যান্ডটি চীনে ৯৪৫টি গাড়ি বিক্রি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। কার নিউজ চায়না’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিওয়াইডি এখন গণবাজারের পাশাপাশি অভিজাত ও উচ্চমূল্যের অটোমোবাইল বাজারেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট রয়েছে।

সূত্র- কার নিউজ চায়না


দেশের বাজারে স্বর্ণের দরপতন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের নিম্নমুখী সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে এবং আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন হার কার্যকর হয়েছে।

স্বর্ণের দাম কমানোর কারণ হিসেবে বাজুস জানিয়েছে, “স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।” এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সবশেষ দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৬১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামের হেরফের হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছিল।

স্বর্ণের মূল্যে পরিবর্তন আসলেও রুপার বাজার দর এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় স্থির রয়েছে এবং অন্যান্য মানের রুপার দামও আগের হারেই বজায় আছে। চলতি বছর রুপার দাম এ পর্যন্ত ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার বৃদ্ধি এবং ১৭ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছে।


সিকদার গ্রুপের এমডি রন হক সিকদারের জীবনাবসান

আপডেটেড ৪ মে, ২০২৬ ২০:১১
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার মারা গেছেন। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিলে গত সপ্তাহে তাঁকে দুবাইয়ের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় আজ তিনি মারা যান।

রন হক সিকদার ছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসা জগতের এক পরিচিত নাম। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সিকদার গ্রুপ ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভাবনীয় প্রসার ঘটিয়েছে। বিশেষ করে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বাইরে রন হক সিকদার সমাজসেবামূলক কাজেও ছিলেন অগ্রণী। শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতেন। দেশের করপোরেট অঙ্গনে তিনি একজন প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।

তাঁর এই অকাল প্রয়াণে দেশের করপোরেট ও বাণিজ্যিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।


মাসের প্রথম ৩ দিনে রেমিট্যান্স এলো ৩১৫ মিলিয়ন ডলার  

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের অর্থনীতির পালে নতুন হাওয়া দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৮৮ মিলিয়ন ডলার; সেই তুলনায় এবার প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ ২৬০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই থেকে ৩রা মে পর্যন্ত সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রটিও বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে মোট ২৯ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৪ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন ডলার, যার তুলনায় এবারের অঙ্কটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে


পুঁজিবাজারে স্বাভাবিক গতি ফেরাতে ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমার কারণে সৃষ্ট স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বাজারের স্বাভাবিক ছন্দ ও লেনদেনের গতি পুনরুদ্ধার করতে সংগঠনটি অবিলম্বে এই কৃত্রিম মূল্যসীমা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আজ সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিবিএ।

সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত লেনদেনহীন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া চিঠিতে ডিবিএ আরও জানিয়েছে যে, “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ফ্লোর প্রাইসযুক্ত শেয়ারগুলো ৩ মে ফ্লোর প্রাইসে অবস্থান করায় বিক্রেতাদের জন্য স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।” সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা বাজারের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।

ডিবিএ তাদের চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে যে, ফ্লোর প্রাইসজনিত এই দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন সীমাবদ্ধতা মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং বাজারের সক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস দ্রুত সরিয়ে নিয়ে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসইসির প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় গতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংগঠনটি জোরালো আশা প্রকাশ করেছে।


বিজিএমইএ-তে শিশুদের জন্য আধুনিক ডে-কেয়ার সেন্টারের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘বিজিএমইএ মো. রিয়াজউদ্দীন ডে-কেয়ার সেন্টার’-এর পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিশেষ এই সেন্টারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলামসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীবৃন্দ।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিজিএমইএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানদের নিরাপত্তা ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আধুনিক এই ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর ফলে কর্মীরা সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে আরও নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”

সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে এই সেন্টারটি সুসজ্জিত করা হয়েছে। এখানে আনন্দঘন খেলাধুলার জায়গা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং বিকাশ নিশ্চিত করা সহজতর হবে।

উদ্বোধন পর্ব শেষে বিজিএমইএ সভাপতি এবং সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ সেন্টারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কক্ষ এবং শিশুদের জন্য রাখা আধুনিক উপকরণসমূহ পরিদর্শন করেন। কার্যালয় প্রাঙ্গণেই এমন একটি অনন্য সুবিধা চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এর ফলে তাঁদের পেশাগত জীবনে বাড়তি মানসিক প্রশান্তি কাজ করবে।


এস আলম ঘনিষ্ঠ ৬ ব্যাংকে নিয়োগ অনিয়ম খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন ছয়টি ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকে জনবল নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার, অস্বচ্ছ উপায়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ এবং কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজস্বভাবে তদন্ত চালিয়ে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করলেও পুরো নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি কাঠামো মেনে হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে এই তদন্তে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে, যারা মূলত নিয়োগের আগে জাতীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার উপস্থিতি এবং প্রার্থীদের সনদের সত্যতা যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে কাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তা আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে। মূলত নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করাই এই কমিটির প্রধান কাজ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের মোট জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেখানে আরও প্রায় ১১ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৩৪০ জনকে কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি চাকরিতে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিশাল জনবল নিয়োগের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।

পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর মাধ্যমে একটি বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও ৫ হাজার ৩৮৫ জন অভিযুক্ত কর্মীর মধ্যে মাত্র ৪১৪ জন তাতে অংশগ্রহণ করেন। যারা পরীক্ষায় অংশ নেননি বা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের প্রথমে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ১৯ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা, যাদের দাবি শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকেই প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে আরেকটি পক্ষ ছাঁটাইয়ের সমর্থনে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে।

বর্তমানে এই নিয়োগ ও ছাঁটাই সংক্রান্ত বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়োগ প্রদান বা চাকরি বহাল ও বাতিলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ওই ব্যাংকের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও নীতিমালার এখতিয়ারভুক্ত।


১২ ট্রিলিয়ন ওন উত্তরাধিকার কর পরিশোধ করল স্যামসাং পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্তরাধিকার কর পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বা ১২ ট্রিলিয়ন ওন সমপরিমাণের এই বিশাল কর বিলটি গত পাঁচ বছর ধরে মোট ছয়টি কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রয়াত হওয়া স্যামসাংয়ের তৎকালীন চেয়ারম্যান লি কুন-হির রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তির ওপর এই কর ধার্য করা হয়েছিল।

লি কুন-হির প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ওন সমমূল্যের সম্পদের ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত নিয়মানুযায়ী প্রায় ৫০ শতাংশ হারে এই বিশাল কর নির্ধারিত হয়। এই নজিরবিহীন কর পরিশোধের প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ংয়ের সঙ্গে তাঁর মা হং রা-হি এবং দুই বোন লি বু-জিন ও লি সিও-হিউন যুক্ত ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল, কারণ এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই পরিশোধিত করের অঙ্ক ২০২৪ সালে দেশটির মোট আদায়কৃত উত্তরাধিকার করের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি।

প্রয়াত চেয়ারম্যানের রেখে যাওয়া সম্পদের তালিকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি পাবলো পিকাসো এবং সালভাদর দালির মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অমূল্য শিল্পকর্মও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এসকল শিল্পকর্মের একটি বড় অংশ ইতিপূর্বে জাতীয় জাদুঘর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে প্রদান করা হয়েছে। এই বিশাল কর পরিশোধের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, কর দেওয়া নাগরিকদের স্বাভাবিক দায়িত্ব। ১৯৩৮ সালে লি বিং-চুলের প্রতিষ্ঠিত স্যামসাং বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্ববৃহৎ ‘চ্যাবল’ বা পরিবার-নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা গোষ্ঠী হিসেবে দেশটির অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বর্তমানে স্মার্টফোন, টেলিভিশন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিশ্ববাজারে প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার ফলে শেয়ারবাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের আর্থিক মূল্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ভারী শিল্প ও নির্মাণ খাত পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাম্রাজ্যটি এখনো সুসংহত পারিবারিক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।


রাজধানীর ৬৮ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’ বাধ্যতামূলক

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার মোট ৬৮টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’ এর ব্যবহার আবশ্যক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, তালিকার ১ থেকে ১৮ নম্বর ক্রমিকের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি “প্রাইভেট কারে জ্বালানি দেওয়ার জন্য ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”

নির্ধারিত এই ৬৮টি ফিলিং স্টেশনের তালিকায় রয়েছে আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানি, কামাল ট্রেডিং এজেন্সি, সিটি ফিলিং স্টেশন, আইডিয়েল ফিলিং স্টেশন, ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন এবং সিকদার ফিলিং স্টেশন। মহাখালী ও বনানী এলাকার গুলশান সার্ভিস স্টেশন, ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ, চন্দা মাহজাবীন (সিএম) ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। উত্তরার সেবা গ্রিন ফিলিং স্টেশন, মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন, কসমো ফিলিং স্টেশন, উত্তরা ফিলিং স্টেশন এবং জি. এফ. ট্রেডিং (ডিএল ফিলিং স্টেশন) এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মিরপুর ও গাবতলী এলাকার খালেক সার্ভিস স্টেশন, মেসার্স এস.পি. ফিলিং স্টেশন, স্যাম এসোসিয়েটস, সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন, ডেনসো ফিলিং স্টেশন, আল মাহমুদ ফিলিং স্টেশন, কমফোর্ট ফিলিং স্টেশন, এ. এস. ফিলিং স্টেশন ও সোবহান ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি নিতে অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

তালিকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স, পূবালী ফিলিং স্টেশন, মেঘলা মডেল সার্ভিস সেন্টার ও বিনিময় সার্ভিস স্টেশন। এছাড়া নীলক্ষেতের মেসার্স পথের বন্ধু ও কিউ.জি সামদানী ফিলিং স্টেশন, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, হাটখোলা রোডের মেসার্স এ. হাই অ্যান্ড কোং এবং যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মুন সিএনজি, সান্টু ফিলিং স্টেশন, রাজধানী ফিলিং স্টেশন, মুক্তি ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স আসমা আলী সিএনজি স্টেশন। রায়েরবাজারের মেসার্স সাদেক ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স জে এম এক্সপ্রেস, শ্যামপুরের এস. আহমেদ ফাউন্ডেশন এবং খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকার মেসার্স কিকো ও মেসার্স সিকদার ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল চালকদের ফুয়েল পাস ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা সেনানিবাসের সিএসডি ফিলিং স্টেশন, কেরানীগঞ্জের আলহাজ্ব নূর ফিলিং স্টেশন, সায়েদাবাদের পৌর ফিলিং স্টেশন এবং জুরাইন, মুগদা, মালিবাগ, রাজারবাগ, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি ও বাড্ডা এলাকার নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় অবশ্যই গ্রাহকদের ফুয়েল পাস অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।


চার বছর পর বিশ্ববাজারে ভারতের গম রপ্তানি শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় গম রপ্তানি শুরু করেছে ভারত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন এবং অভ্যন্তরীণ মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে দেশটির সরকার এই রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আইটিসি গুজরাটের কান্দালা বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ২২ হাজার টন গম রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

২০২২ সালে দেশটিতে তীব্র তাপদাহের কারণে গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও বলবৎ ছিল। বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় নরেন্দ্র মোদির সরকার চলতি বছরের শুরুতে প্রথমে ২৫ লাখ টন এবং গত মাসের শেষে আরও ২৫ লাখ টন গম রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ট্রেলিয়া বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গমের তুলনায় ভারতীয় গমের দাম অন্তত ২০ ডলার বেশি। বিশ্ববাজারে যেখানে প্রতি টন গমের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ ডলার, সেখানে ভারতীয় গমের জন্য আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ ডলার। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দ্রুত সরবরাহের সুবিধার্থে ভারতের দিকে ঝুঁকছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে গম রপ্তানির এই ধারা মূলত জরুরি প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শিপমেন্ট প্রয়োজন, তারাই এখন ভারতীয় গমের প্রধান ক্রেতা। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী মজুতের ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা এখনও আর্জেন্টিনা বা রাশিয়ার মতো তুলনামূলক সস্তা উৎসের ওপর নির্ভর করছেন। তবে বিশ্ব গমের বাজারে ভারতের এই প্রত্যাবর্তনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


banner close