সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

রপ্তানি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিতের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

বুধবার সচিবালয়ে সফররত যুক্তরাজ্যভিত্তিক তৈরি পোশাক ব্র্যান্ড প্রাইমার্ক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। ছবি: পিআইডি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রাইমার্কের মতো বড় পোশাক ব্র্যান্ডগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি তৈরি পোশাক ক্রয় করার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। পাশাপাশি তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রাইমার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাউল মার্চেন্টের নেতৃত্বে বাংলাদেশে সফররত যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত তৈরি পোশাক ব্র্যান্ড প্রাইমার্ক অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তৈরি পোশাকশিল্পে দক্ষতা অর্জন করেছে। বর্তমানে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশের ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মবান্ধব পরিবেশে কাজ করছে। এর মধ্যে প্রায় ৬৫ ভাগই নারী শ্রমিক। তিনি আরও বলেন, ‘গত বছর ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক বাংলাদেশ রপ্তানি করেছে, ২০৩০ সালে এ রপ্তানির পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করে আমরা কাজ করছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন চাহিদা মোতাবেক যেকোনো পরিমাণ পণ্য যথাসময়ে সরবরাহ করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। আমরা রপ্তানি বাণিজ্যে বড় লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘প্রাইমার্ক আমাদের বড় ক্রেতা, বিশ্বখ্যাত এ পোশাক ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি তৈরি পোশাক ক্রয় করবে বলে বিশ্বাস করি, একই সঙ্গে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত জনবলকে উৎসাহ দিতে তৈরি পোশাকের উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উন্নয়নে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করছে। তৈরি পোশাকশিল্পের কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে, পণ্যের মান এবং ডিজাইন আধুনিক করা হচ্ছে। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে কিছু বিদেশি দক্ষকর্মী ছিল, এখন আমাদের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দক্ষ কর্মীরাই কাজ করছে। শিল্প বিকাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১০০টি স্পেশাল ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

প্রাইমার্কের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা পাউল মার্চেন্ট এ সময় বলেন, বাংলাদেশ বাণিজ্য ক্ষেত্রে আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক সেক্টরে অনেক উন্নতি করেছে। গ্রিন ফ্যাক্টরিতে কর্মীবান্ধব পরিবেশে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক উৎপাদন করছে। শিল্প ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বেশি আকর্ষণীয় করেছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক আমাদের কাছে খুবই প্রিয়।

পরে বাণিজ্যমন্ত্রী সচিবালয়ে তার অফিস কক্ষে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট কাজুশিক নোবুতানির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।


আইএমএফের ঋণ: ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা বাড়তি কর আদায় করতে হবে

সোমবার রাজধানীর গুলশানে পিআরআই কার্যালয়ে আইএমএফের ঋণ নিয়ে কতা বলেন বক্তরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি (৪.৭ বিলিয়ন) ডলার ঋণের পুরো অর্থ পেতে সরকারকে বাড়তি ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে। ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে সংস্থাটি রাজস্ব খাতের যে সব সংস্কারের কথা বলেছে তা বিশ্লেষণ এই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)।

পিআইরআই বলেছে, রাজস্ব খাতে আইএমএফের সংস্কার বা শর্ত পূরণ করতে আগামী অর্থবছর থেকেই ধাপে ধাপে রাজস্ব আয় বা কর বাড়াতে হবে। এরমধ্যে আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয় করতে হবে। আইএমএমের ঋণ কর্মসূচির সবশেষ বছর অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এনবিআরকে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

‘এই বাড়তি রাজস্ব আদায় করা খুবই কঠিন’ উল্লেখ করে সংস্থটির নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী কিস্তিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অতীতে হয়েছে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আইএমএফ রাজস্ব খাতের যে সব সংস্কারগুলো করতে হলেছে, তা শেষ করতে হবে।’

সোমবার রাজধানীর গুলশানে পিআরআই কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর। এ সময় রাজস্ব খাতে আইএমএফের শর্ত মেনে সরকারের যেসব সংস্কার করতে হবে, সে ব্যাপারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা পরিচালক এম এ রাজ্জাক।

পিআরআই বলছে, আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ পেতে রাজস্ব আয় বাড়াতে আইএমএফের পক্ষ থেকে এখনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা না পাওয়া গেলেও বাজেটের আগে ধাপে ধাপে তা আসবে। আইএমএফের চাপে নয়; বরং নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতেই এই সংস্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করে সংস্থাটি।

পিআরআই বলছে, এ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা খুবই কঠিন, তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী কিস্তিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অতীতে হয়েছে।

মূল প্রবন্ধে এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘আইএমএফএর শর্ত মেনে ২০২৩-২০২৪, ২০২৪-২০২৫ এবং ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে বাজেটের মূল রাজস্ব আদায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে হবে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরকে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ৬৫ হাজার কোটি টাকা আয় করতে হবে। এরপরের অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুনে সমাপ্ত বছরে বর্তমান বছরের লক্ষ্যমাত্রা থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় করতে হবে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আইএমএমের ঋণ কর্মসূচির সর্বশেষ বছর, অর্থাৎ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এনবিআরকে বর্তমান লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অতিরিক্ত আরও ২ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে।

চলতি ২০২২–২৩ অর্থবছরের বাজেটে এনবিআরকে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করার লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে।

পিআরআই গবেষণা পরিচালক আরও বলেন, ‘রাজস্ব খাতের ক্ষেত্রে আইএমএফের সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করা চ্যালেঞ্জ হবে। তবে এটা অসম্ভব নয়। এ জন্য সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে হবে।’

এম এ রাজ্জাক বলেন, ‘আইএমএফ বলেছে, আমাদের এই মুহূর্তে ট্যাক্স জিডিপি রেশিও বাড়াতে হবে। বর্তমানে তাদের হিসেবে এটা ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। শর্ত অনুযায়ী জিডিপিতে করের অবদান সাত দশমিক ৮ থেকে ২০২৪ অর্থবছরে ৮ দশমিক তিন শতাংশ, ২০২৫ অর্থবছরে ৮ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৬ অর্থবছরে ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এটা ম্যানেজ করা খুবই কঠিন। গত ৩-৪ বছরে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১০ থেকে ১৩ ভাগের মধ্যে থাকছে। এজন্য রাজস্ব আদায় ১৮ শতাংশ বাড়াতে হবে। এ বছরের বাজেটে সরকারকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। এটা কম হওয়ার ফলে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আমরা পর‌্যাপ্ত অর্থ ব্যয় করতে পারছি না। আইএমএফ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বন্ধের কথা বলেছেন। এ বছর প্রবৃদ্ধির যে প্রাক্কলন করা হয়েছিল সেটা আইএমএফ কমিয়ে দিয়েছে।’

এনবিআরের কাঠামোগত সংস্কার ও মানসিকতার বদল করা না গেলে আইএমএফের শর্ত মেনে রাজস্ব খাতের সংস্কার বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করেন পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ‘এ পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা খুবই কঠিন, তবে এর কোনো বিকল্প নেই। বড় ধরনের সংস্কার সম্পন্ন না হলে পরবর্তী কিস্তিগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যা অতীতে হয়েছে। সংস্কার না হলে অর্জিত তো হবেই না বরং ট্যাক্স জিডিপি রেশিও কমে যেতে পারে। গত ৫ বছরে প্রতি বছর একটু একটু করে এটা কমেছে।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘অন্য দেশে কর হার বাড়িযে এটা আদায় সম্ভব। কিন্তু আমাদের দেশে কর হার এমনিই বেশি। এজন্য এটা আদায় করতে কষ্ট করতে হবে। এখানে সংস্কার গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আর অন্য কোনো উপায় নেই।’

বিষয়:

দেশের টাকা কানাডার বেগমপাড়ায় চলে যাচ্ছে: কৃষিমন্ত্রী

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক সেমিনারে কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী ড. মো: আব্দুর রাজ্জাক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের টাকা বিভিন্ন উপায়ে বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, ‘বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। বহু টাকা এ দেশ থেকে কানাডার বেগমপাড়া, দুবাইসহ বিভিন্ন দেশে চলে যাচ্ছে। আন্ডার ভয়েস, ওভার ভয়েসসহ নানাভাবে যে কেউ চাইলেই খুব সহজেই বিদেশে টাকা পাঠাতে পারে। এটিকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। এক্ষেত্রে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদেরকে শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।’

সোমবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে কাস্টমস বিষয়ক সেমিনারে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড রাজস্ব সম্মেলন ২০২৩ উপলক্ষে 'বাংলাদেশ কাস্টমস: স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সারথি' শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে।

রাজস্ব আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আগের তুলনায় রাজস্ব অনেক বেড়েছে, কিন্তু রাজস্ব- জিডিপি অনুপাতে এখনো অনেক পিছিয়ে আছি। এটিকে আরও বাড়ানো উচিত। বিশেষ করে আয়করে আমরা এখনো সফল হতে পারিনি। সেজন্য, রাজস্ব বিভাগের সক্ষমতা ও দক্ষতা আরও বাড়াতে হবে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিগত ১৪ বছরে অর্থনীতি, কৃষি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সকল ক্ষেত্রে দেশের যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে, সারা বিশ্ব তার স্বীকৃতি দিচ্ছে, প্রশংসা করছে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক মিডিয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের প্রশংসা করছে। সেখানে দেশের ভিতরে কেউ কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা কোনভাবেই কাম্য নয়। জাতি হিসেবে আমাদের আত্মসম্মানবোধ থাকা উচিত।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন। পৃথক দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস ও বন্ড কমিশনারেটের কমিশনার মাহবুবুর রহমান ও চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার ফাইজুর রহমান।


বাজার তদারকি অভিযান বন্ধ রাখার ‘আবদার’ ব্যবসায়ীদের

মতবিনিময় সভায় কথা বলেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:১৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের মসলার বাজার অস্থিতিশীল। বিশেষ করে আদা ও রসুনের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন রমজানে মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে নির্বিঘ্নে এলসি খোলা, আমদানি শুল্ক শিথিল ও বাজারে তদারকি অভিযান বন্ধ রাখার দাবি জানিয়েছেন মসলা ব্যবসায়ীরা।

গরম মসলার মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সোমবার তারা এসব দাবি জানান। অধিদপ্তরের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।

এ সময় ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সফিউজ্জামান বলেন, ‘এলসির বিষয়টি বর্তমানে স্বাভাবিক হচ্ছে। তা ছাড়া মসলার আমদানির বিষয়ে এলসি খোলা নিয়ে আমি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া হবে। এ সমস্যা যেন দ্রুত সমাধান হয়, সেই বিষয়ে আমরা বন্দর ও অন্যদের সঙ্গে কাজ করব। রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কাঠামোর বিষয়ে এনবিআরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। মসলার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’

তবে বাজার অভিযান স্থিতিশীলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অভিযান শিথিল করতে হলে ব্যবসায়ীদের সে দায়িত্ব নিতে হবে। কিন্তু অসাধু পথে দাম বাড়ানো, অনিরাপদ সামগ্রী, মসলায় রং ব্যবহার করা, সেটি হবে না। আমরা অভিযানের সময় দেখি ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দেয়। দোকান বন্ধ করে চলে যাওয়া মানেই এখানে কোনো একটা সমস্যা রয়েছে। তাহলে আমরা শুধু অভিযান বা কঠোর আইনি পদক্ষেপই গ্রহণ করব না, বাজার কমিটির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সভার শুরুতে এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘গরম মসলার বাজার বেশ কিছুদিন ধরে অস্থির দেখা যাচ্ছে। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী বিভিন্নভাবে দেখেছি এরই মধ্যে জিরার দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সামনে আসন্ন রমজান মাস কেন্দ্র করে মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘রমজান কেন্দ্র করে গরম মসলার দাম কেউ যদি অন্যায়ভাবে বৃদ্ধি করেন তাহলে অভিযানের পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া ফুডগ্রেড রঙের পরিবর্তে যদি খাবারে অন্য রং মেশানো হয় তাহলেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজারে পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্যতালিকা থাকতে হবে।’ এ ছাড়া অবশ্যই ক্যাশ মেমো ব্যবহার করতে হবে বলেও তিনি জানান।

সভায় মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন বাবু বলেন, ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংক মসলার জন্য আমাদের এলসি দিচ্ছে না। আর মসলার বাজার হচ্ছে আমদানিনির্ভর। শুধু বাংলাদেশ নয়, নানা কারণে সারা বিশ্বেই এ সমস্যা চলছে। জিরাসহ অধিকাংশ মসলা আমাদের দেশে আসে আফগানিস্তান, তুরস্ক ও ভারত থেকে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আফগানিস্তান ও তুরস্ক কিন্তু কোনো এলসি দিচ্ছে না৷ আমরা শুধু ভারত থেকে জিরা আমদানি করছি। কিন্তু এখন ভারতেও জিরার দাম বেড়েছে৷ এ ছাড়া ভারতও কখন বন্ধ করে দেয় কি না, তাও বলা যাচ্ছে না। ডলারের দামও গত বছরের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছি। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি এ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার জন্য। তবে আশা করি রমজানে আমরা মসলার বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারব।’


মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী, ৫ মাস ধরে কমছে

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতির পারদ আরও খানিকটা কমেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের সপ্তম মাস এবং নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি বা মাসভিত্তিক) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

এর অর্থ হলো ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে দেশের মানুষ যে পণ্য বা সেবা ১০০ টাকায় পেয়েছিল, এই বছরের জানুয়ারিতে তা কিনতে ১০৮ টাকা ৫৭ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। ডিসেম্বরে একই পরিমাণ পণ্য কিনতে তাদের লেগেছিল ১০৮ টাকা ৭১ পয়সা। নভেম্বরে লেগেছিল ১০৮ টাকা ৮৫ পয়সা। অক্টোবরে লেগেছিল ১০৮ টাকা ৯১ পয়সা। সেপ্টেম্বরে লেগেছিল ১০৯ টাকা ১০ পয়সা। আর আগস্টে লেগেছিল ১০৯ টাকা ৫২ পয়সা। আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতি ছিল গত এক যুগের মধ্যে সর্বোচ্চ।

২০১০-১১ অর্থবছরে দেশের গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। এরপর আর এই সূচক ৯ শতাংশের উপরে ওঠেনি।

সোমবার মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এই তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-(বিবিএস)।

বিবিএসের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। দেশে জ্বালানি তেলের দাম ৫০ শতাংশের মতো বৃদ্ধি করার কারণে আগস্টে তা এক লাফে বেড়ে ৯ দশমিক ৫২ শতাংশে উঠে যায়। সেপ্টেম্বরে তা কমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশে নেমে আসে।

অক্টোবরে তা আরও কমে ৯ শতাংশের নিচে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশে নেমে আসে। নভেম্বরে মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৮৫ শতাংশ। ডিসেম্বরে তা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে নেমে আসে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তা আরও কমে ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমে এসেছে।

জানুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ। ডিসেম্বরে এই হার ছিল ৭ দশমিক ৯১ শতাংশ। ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। নভেম্বরে হয়েছিল ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ। অক্টোবরে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে ছিল ৯ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

অন্যদিকে জানুয়ারিতে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। আগের মাস ডিসেম্বরে হয়েছিল ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। নভেম্বরে এই হার ছিল ৯ দশমিক ৯৮ শতাংশ। অক্টোবরে ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে হয়েছিল ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

শহরের চেয়ে গ্রামে মূল্যস্ফীতি এখনো বেশি

জানুয়ারিতে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১০ দশমিক ১২ শতাংশ।

ডিসেম্বরে গ্রামে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ১১ শতাংশ। আর খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ।

জানুয়ারিতে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ৪১ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আগের মাস ডিসেম্বরে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয় ৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৫১ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার প্রবণতা ছিল। ঠিক এ রকম একসময়ে গত ৫ আগস্ট সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ায়। এর পরপরই বাড়ানো হয় সব ধরনের পরিবহন ভাড়া। এই দুইয়ের প্রভাবে বেড়ে যায় প্রায় সব পণ্যের দাম। গত ২৯ আগস্ট জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা কমানো হলেও বাজারে তার প্রভাব ছিল না বললেই চলে।

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতির উদ্বেগজনক ও স্পর্শকাতর সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপের দেশগুলোও ধুঁকছে।

মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী হওয়ায় স্বস্তির কথা জানিয়েছে অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আমন ধানের বাম্পার ফলনের কারণে বাজারে চালের দাম কিছুটা কমেছে। তার একটা প্রভাব মূল্যস্ফীতিতে পড়েছে। আগামী বোরো মৌসুমে ভালো ফলন হলে মূল্যস্ফীতি সহনীয় থাকবে বলেই মনে হচ্ছে। তবে শঙ্কার কথা হচ্ছে, রমজানকে সামনে রেখে কিছু পণ্যের দাম কিন্তু বাড়তে শুরু করেছে। এটা অব্যাহত থাকলে কিন্তু মূল্যস্ফীতি আবার বাড়া শুরু করবে।’

তিনি বলেন, ‘বিবিএসের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন আছে। আমি এ বিষয়ে বারবার বলে আসছি, আমাদের পরিসংখ্যান ব্যুরোর মূল্যস্ফীতির তথ্যের সঙ্গে বাজারের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন হয় না। বিবিএস ১৭ বছর আগের বছরকে (২০০৫-০৬) ভিত্তি ধরে মূল্যস্ফীতির হিসাব করে। অথচ জিপিডির হিসাব দেখায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে। বাস্তব চিত্র পাওয়ার জন্য মূল্যস্ফীতির তথ্যও ২০১৫-১৬ অর্থবছরকে ভিত্তিবছর ধরে হিসাব করা উচিত বলে আমি মনে করি।’

শহরের চেয়ে গ্রামে খাবারের দাম বেশি কেন- এ প্রশ্নের উত্তরে আহসান মনসুর বলেন, ‘এর সঠিক কোনো উত্তর আমার জানা নেই। তবে এমন হতে পারে, যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হওয়ার কারণে গ্রামের সব পণ্য এখন দ্রুত শহরে চলে আসছে। সে কারণে গ্রামে পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয়ায় দাম বেড়ে যাচ্ছে।’

মজুরি সূচক বেড়েছে

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস ধরেই মজুরি সূচক অল্প অল্প করে বাড়ছে। অক্টোবরে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ৬ দশমিক ৯৮ শতাংশে উঠেছে। ডিসেম্বরে তা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য তিন শতাংশে উঠে। সর্বশেষ জানুয়ারিতে তা আরও খানিকটা বেড়ে ৭ দশমিক শূন্য ছয় শতাংশে উঠেছে।


আশা জাগিয়ে ফের ধপাস পুঁজিবাজার

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

আগের টানা ৫ কর্মদিবস লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়টি স্বস্তি এনে দিলেও একদিন পরেই ধপাস পুঁজিবাজার। দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৭ গুণের বেশি। ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হয়েছে তারও বেশি। যদিও সংখ্যাটি আগের দিনের চেয়ে কমে এসেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে ৬ কর্মদিবস পর রোববার ৭ শ কোটির ঘর অতিক্রম করলেও একদিন পরেই লেনদেন নেমে এসেছে ৫ শ কোটির ঘরে।

সোমবার দিনভর হাতবদল হয়েছে ৫৮০ কোটি ৮১ লাখ ৯১ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। যা আগের দিনের চেয়ে ১৭১ কোটি ৯২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা কম।

ডিসেম্বরে তিন শ কোটি থেকে দুই শর ঘরে নেমে যাওয়া লেনদেন ৪ জানুয়ারি বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বৈঠকের পর বাড়তে থাকে। ১৮ জানুয়ারি হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই হওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবরে উল্টো পথে ছোটে লেনদেনের চাকা। গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার লেনদেন নেমে আসে চার শ কোটির ঘরে।

সপ্তাহটিতে প্রথম তিন কর্মদিবস সূচক পতন ও শেষের দুই কর্মদিবস সূচক বাড়লেও লেনদেন বেড়েছে চার দিনই। এর মধ্যে শুধু বৃহস্পতিবারই ১০৬ কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বেড়ে হাতবদল হয় ৬৮৭ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট।

সেখান থেকে ৬৫ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বেড়ে রোববার লেনদেন হয় ৭৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ১৮ জানুয়ারি ৯৩৪ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

লেনদেন না হওয়া কোম্পানির সংখ্যা আগের দিনের ৩ গুণের বেশি বেড়েছে। রোববার একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৫টি। অথচ সোমবার সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৪টিতে। অবশ্য বৃহস্পতিবার এটি ছিল ৫৬।

দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৭ গুণের বেশি। ২১টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১৫২টির। আগের দিন এটি ছিল ৩ গুণ। ৪৩টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছিল ১৩৩টির।

তবে অপরিবর্তিত দরে লেনদেনের সংখ্যা আগের মতোই বেশি রয়েছে। লেনদেন খরার মধ্যে আড়াই শর বেশি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল। ধীরে ধীরে শতাধিক কোম্পানি ফ্লোর প্রাইস থেকে বেরিয়ে আসতে থাকে।

বৃহস্পতিবার ১৬৫টি কোম্পানির লেনদেন হয় অপরিবর্তিত দরে বা ফ্লোর প্রাইসে। রোববার ফ্লোরে ঢোকে আরও ৫টি কোম্পানি। ১৭১টি কোম্পানির লেনদেন হয় অপরিবর্তিত দরে। সোমবার ফের ৫টি কোম্পানি বেরিয়ে এসেছে ফ্লোর থেকে। ফলে অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে ১৬৫টির।

আগের সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে ২৯ পয়েন্ট সূচক পতনের পর বুধ ও বৃহস্পতিবার সূচক বেড়েছিল ২৭ পয়েন্ট।

চলতি সপ্তাহের প্রথম দিন ৮ পয়েন্টের পর সোমবার কমল আরও ৫ পয়েন্ট। ডিএসইর সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৮০ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘টানা কয়েক দিন লেনদেন বাড়ার পর একটু কমেছে। কিছুটা প্রফিট টেকিং বা মার্কেট কারেকশন হয়ে থাকতে পারে।'


অটোমেশন সফটওয়্যার কিনলেই সব সহজ হয়ে যাবে না: এনবিআর চেয়ারম্যান

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সেমিনারে কথা বলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:২৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

অটোমেশন সফটওয়্যার কিনলেই সব সহজ হয়ে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। তিনি বলেছেন, ‘কৃষক জমি কিনতে গেলেও টিআইএন নিতে হয়, তাকে আমরা করদাতা হিসেবে উল্লেখ করতে পারি না। কর মেলা যে সময় হয়, তা হচ্ছে রিটার্ন দাখিলের শেষ সময়। তাই সবাই মেলা নিয়েই ব্যস্ত থাকে, রিটার্ন দাখিল হয় না। অটোমেশন একটা সফটওয়্যার কিনে ফেললেই যে সব সহজ হয়ে যাবে বিষয়টা এমন না। এজন্য আরও অনেক কাজ করতে হবে।’

সোমবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে 'আয়কর ব্যবস্থার ক্রমবিকাশ ও বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় আয়করের ভূমিকা' এবং 'আয়কর ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা' বিষয়ক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম বলেন, ‘ই-রিটার্ন, ই-টিডিএস এগুলো আমাদের নিজস্ব তৈরিকৃত ডিজাইন। এগুলো দিয়ে আগের থেকে কাজ অনেক সহজ হয়েছে। সবাই অটোমেশন করার কথা বলেন। অটোমেশন করলেই যে সুবিধা পাওয়া যাবে তা না। আর অটোমেশন করলেই যে সব বদলে যাবে বা সব সহজ হয়ে যাবে বিষয়টা এমন না।’

আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘এনবিআর ধাপে ধাপে দক্ষতা, আইটি নির্ভর সক্ষমতা আনছে। দিন দিন এনবিআর অনেক বদলে যাচ্ছে। সামনের দিনে এনবিআর আরও বদলে যাবে, বদলে দেবে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কর আহরণ আরবানে বেশি রুরালে নাই, এটা আমি বিশ্বাস করি না। আমাদের সহনীয় লেভেলটা অনেক বেশি তাই এখানে বিল গেটস নাই বা জ্যাক মা নাই। ব্যবসায়ীরা টাকা কামায়, টাকা উৎপাদন করে। তাই যারা ট্যাক্সদাতা দাতাদের মধ্যে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না করে একটা ভালো অবস্থা তৈরি করা যেতে পারে। সবার মধ্যে একটা অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক উন্নয়ন করা গেলে ট্যাক্স হার বাড়বে।’

তাজুল ইসলাম বলেন ,‘ট্যাক্স পের একটা সহনশীল মাত্রা থাকা উচিত। বিদেশে এক প্যাকেট সিগারেট কিনলেও সেটা থেকে ট্যাক্স কাটা হয় ও সরকারের কোষাগারে জমা হয়ে যায়। তারা সবকিছুতেই দায়বদ্ধ থাকে। এক আইডি কার্ড থেকেই সবকিছুর সঙ্গে যুক্ত তারা।’

কাস্টমে দ্রুত মালামাল খালাসের আহবান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘একজন ব্যবসায়ীর মাল কাস্টমে তিন দিন আটকে রাখলে এর সঙ্গে জড়িত সবাই ভুক্তভোগী হয়। তাই যতদ্রুত সম্ভব মালামাল খালাসের ব্যবস্থা করতে হবে।’

প্যানেল আলোচনায় মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, ‘নতুন রাজস্ব ভবন যেন ব্যক্তিপর্যায়ে আস্তার জায়গায় তৈরি হয়। করের হার নয়, করদাতার সংখ্যার মধ্য দিয়ে কর আহরণ বাড়াব। আমাদের শিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যয় মেটাতে করের দরকার। রাষ্ট্র আমাদের যেসব সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এ জন্য আহরণ বাড়াতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘করোনার সময় করপোরেট কর হার হ্রাস করা হয়েছে, যেটা আমরা চাইনি। আমরা শুধু চাই আশপাশের দেশ সমুহের সঙ্গে মিল রেখে করপোরেট কর হার নির্ধারণ করার কথা। কর আদায়ের পরিমাণ বাড়াতে চাইলে আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কর আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে রাজস্ব বোর্ডের সমন্বয় করতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, বিজিএমইএ, এফবিসিসিআই, এমসিসিআইসহ অন্যান্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

বিষয়:

সবুজ কারখানার সনদ পেলো কেডিএস আইডিআর

একটি গ্রিন ফ্যাক্টরি বাইরের অংশ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৭:৩২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নতুন বছরের শুরু দিকেই দেশের চারটি প্রতিষ্ঠান সবুজ কারখানা বা গ্রিন ফ্যাক্টরির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে। এ নিয়ে ১৮৭টি কারখানা ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইডি)’ সনদ পেয়েছে। সবশেষ কেডিএস আইডিআর লিমিটেড এ সনদ পেল।

সোমবার বিজিএমইএ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে জেএল ফ্যাশন ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে প্লাটিনাম সনদ পায়। এই কারখানাটি গাজীপুর সদর ভবানীপুরে অবস্থিত। অন্যদিকে একই সময়ে জেকেএল কারখানাও গ্রিন ফ্যাক্টরির সনদ পায়। এটি চট্টগ্রামের কালুরঘাটে অবস্থিত। বিভিন্ন সূচকে কারখানাটির অর্জিত পয়েন্ট ৮৪। এছাড়া গত ২২ জানুয়ারি আমানত শাহ ফেব্রিকস ৬৮ পয়েন্ট নিয়ে গোল্ড সনদ অর্জন করে।

দেশে এই সনদ পাওয়া সবুজ কারখানার মধ্যে রয়েছে প্লাটিনাম ৬৩টি, গোল্ড ১১০টি, সিলভার ১০টি ও সার্টিফাইড চারটি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান ‘ইউএস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল’ এ সনদ দেয়। বাণিজ্যিক ভবন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাড়িসহ অন্যান্য স্থাপনার ক্ষেত্রেও সনদ দেয় সংস্থাটি। তবে শিল্প কারখানার ভবন নির্মাণ থেকে পণ্য উৎপাদন পর্যন্ত সব পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্লেষণ করে সর্বোচ্চ মানের কারখানাকে এ সনদ দেয়া হয়।

তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি-বিজিএমইএ পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল দৈনিক বাংলাকে বলেন, সবুজ কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের গায়ে গ্রিন ট্যাগ সংযুক্ত থাকে। অর্থাৎ পণ্যটি সবুজ কারখানায় উৎপাদিত। বিশ্ব বাজারে ক্রেতার কাছেও আলাদা কদর রয়েছে এর। এতে বিদেশি ব্র্যান্ড এবং ক্রেতার কাছে আস্থা বাড়ে।

তিনি বলেন, সবুজ কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে দর কষাকষিতেও এগিয়ে থাকা যায়। মূল কথা হলো এ সনদ দেশ ও পোশাকখাতের ব্র্যান্ড ইমেজ বাড়াতে সহায়তা করে।


কাজে ফিরেছেন ন্যাশনাল ব্যাংকের এমডি মেহমুদ হোসেন

মো. মেহমুদ হোসেন। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বেসরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংকের পদত্যাগ করা ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মেহমুদ হোসেন রোববার আবার কাজে ফিরেছেন।

গত মাসে এমডি পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। তবে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ মেহমুদ হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে কাজে ফেরার নির্দেশ দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রোববার মেহমুদ হোসেন কাজে যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ন্যাশনাল ব্যাংকে ফিরছেন মেহমুদ হোসেন

এই প্রসঙ্গে মেহমুদ হোসেন বলেন, ‘আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলাম। পর্ষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, আমার পদত্যাগপত্র পর্ষদ গ্রহণ করছে না। আমাকে ব্যাংকের স্বার্থে আবার কাজে যোগদান করতে বলেছেন। তাই আমি কাজে যোগ দিয়েছি। ’

এমডি পদে মেহমুদ হোসেনের মেয়াদ রয়েছে আগামী ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে গত ১৮ জানুয়ারি তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিন তিনি সাত দিনের ছুটির জন্য আবেদন করেন। এরপর আর ব্যাংকে যাননি তিনি।

এরপর ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালকদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানানো হয়, মেহমুদ হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি পর্ষদ। এরপর মেহমুদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সময় তাকে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদের পক্ষ থেকেও তাকে কাজে যোগদান করতে চিঠি দেয়া হয়।

বিষয়:

১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রপ্তানি আয় আনলে ১০৩.৫০ টাকা

মার্কিন ডলার
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২৩:১৪
এ এস এম সাদ

যেসব রপ্তানিকারক গত নভেম্বর-ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি করেছেন, তারা সেই রপ্তানির দাম ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে আনলে প্রতি ডলারে ১০৩ টাকার পরিবর্তে ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা করে দেয়া হবে।

ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোববার এ সিদ্ধান্ত হয়।

বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসের রপ্তানিকারকরা রপ্তানি পণ্যের দাম ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশে আনতে পারলে তাদের ১০৩ টাকার পরিবর্তে ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা দেয়া হবে। এবিবি-বাফেদা যৌথভাবে আলোচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রপ্তানিকারকরা প্রতি ডলার কত পাবে, সেটি এলে ইউনিফাইড রেট বা দর করে দেয়া উচিত। বর্তমান প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করে এভাবে দর বারবার না বাড়িয়ে একবারে ইউনিফাইড রেটে চলে যাওয়া উচিত বলে মনে করি। না হলে সহজে ডলারসংকট কাটবে না।’

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি বাফেদা-এবিবির সভা শেষে রপ্তানিকারকদের প্রতি ডলার ১ টাকা বাড়িয়ে ১০৩ টাকা করা হয়। এটি গত বুধবার থেকে কার্যকর হয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়বে বলে আশা করছেন ব্যাংকাররা। তার আগে গত ২ জানুয়ারি রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০২ টাকা করা হয়েছিল।

রপ্তানির ক্ষেত্রে ডলারের দর বাড়ানো হলেও প্রবাসী আয়ে ডলারের দাম আগের মতো ১০৭ টাকা রয়েছে। এ ছাড়া রপ্তানি বিল ও রেমিট্যান্সের দর গড় করে ১ টাকা স্প্রেড করে আমদানি বিল পরিশোধ করা হবে। এর আগেও বেশ কয়েকবার এবিবি-বাফেদার পক্ষ থেকে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়ে বলা হয়, রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো ব্যাংক ১০৭ টাকার বেশি দিতে পারবে না। এই ১০৭ টাকার সঙ্গে সরকার ঘোষিত আড়াই শতাংশ প্রণোদনা যোগ হবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চের পর দেশে ডলারসংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু তার পরও সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। পরে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেয়া হয় এবিবি ও বাফেদাকে। এরপর দুই সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ শুরু করেন।


ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি

সিটিজেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মাসুম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ০০:১০
এ এস এম সাদ

চতুর্থ প্রজন্মের সিটিজেনস ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন ও ৪০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু করে। ৩৩২ কোটি টাকার আমানত দিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। গ্রাহকের আস্থা অর্জন ও সঠিক নিয়মে পরিচালনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালি ব্যাংকে পরিণত হওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করেছে সিটিজেনস ব্যাংক। সম্প্রতি ব্যাংকটির যাত্রার উদ্দেশ্য ও ব্যাংক খাতের সার্বিক বিষয় নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও মোহাম্মদ মাসুম দৈনিক বাংলাকে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিবেদক এ এস এম সাদ।

সার্বিক অর্থনীতির অবস্থা বিবেচনায় ব্যাংক ঋণের সুদের হার ১২ শতাংশে নেয়াকে সমর্থন করছেন?

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী পদক্ষেপ হলো ঋণের সুদের হার সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় বর্ধিতকরণ। আমরা জানি, ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের আল্ট্রা লুস মোনেটারি পলিসি হতে বেরিয়ে এসে সুদের হার ক্রমান্বয়ে বাড়ানোর ব্যবস্থা নেয়ার প্রেক্ষাপটে মুদ্রাস্ফীতির হার সংযত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সুদের হার বৃদ্ধির কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা মুদ্রাস্ফীতির হার অন্তত ২ শতাংশে এনকোরিং করার টার্গেট সামনে রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভোক্তাঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার ১২ শতাংশে উন্নীত করেছে। কিন্তু অন্যান্য বাণিজ্যিক ঋণের ক্ষেত্রে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। উল্লেখ্য, ভোক্তাঋণের পরিমাণ ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের ৯ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশের অতিরিক্ত হবে না। ভোক্তা ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি বাস্তব অবস্থার নিরিখে মুদ্রাস্ফীতি রোধকল্পে অথবা ব্যাংকের আর্থিক উৎকর্ষ বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ভূমিকা রাখবে না। বরং দেশের আর্থসামাজিক ভারসাম্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে। এখানে উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতিমধ্যে রেপো রেট তথা পলিসি ইন্টারেস্ট রেট কয়েক দফায় বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে অর্থনীতিতে ঋণের সুদের হার ৯ শতাংশ ক্যাপে বিদ্যমান থাকায় নীতি সুদের হার বাড়ানোর বাড়তি প্রভাব মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খুব একটা কার্যকরী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। মূল সুদের হার ঠিক রেখে পলিসি রেট বৃদ্ধির ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক হতে যে ঋণ গ্রহণ করে, তা ব্যয়বহুলের কারণে ব্যাংকগুলোর তহবিলের খরচের ওপর বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করবে। ব্যাংকগুলো তাদের উপার্জন সংযত পর্যায়ে রাখার জন্য কার্যকরভাবে আমানতের হার কমানোর ব্যবস্থা নেয়াটাই স্বাভাবিক। আমানতের হার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলোতে আমানতকারীরা তাদের আমানত রাখতে নিরুৎসাহিত হবে। কারণ মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের উপরে। সে ক্ষেত্রে আমানতকারীর আমানতের প্রকৃত সুদের হার ঋণাত্মক। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা আমানতকারীদের বিশ্বস্ততার ঘাটতি সৃষ্টি করেছে।

ব্যাংক খাত কি তারল্য সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে?

সার্বিক অর্থে তারল্য সংকটের মাত্রা এই পর্যায়ে যায়নি যে পর্যায়ে এ বিষয় নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে। বরং সংকটকে অতিরঞ্জিত করে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলা হয়েছে, যা মোটেই কাঙ্ক্ষিত নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক রাখার নিমিত্তে ডলার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখার জন্য রিজার্ভ থেকে ডলার সরবরাহ করেছে। আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান নিয়ামক দুটি (রপ্তানি ও রেমিট্যান্স আয়)। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এবং বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি উল্লম্ফনের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গতিময়তা অনেকাংশে হ্রাস পায়। মুদ্রাস্ফীতির প্রভাবে আমাদের রপ্তানি ও রেমিট্যান্সের আয় অর্জনের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অবস্থানে উন্নীতকরণ সম্ভব হয়নি। ডলারের বিনিময় মূল্যস্থিতি অবস্থায় রাখার নিমিত্তে সাপ্লাই সাইড ম্যানেজমেন্টের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক অপ্রয়োজনীয় এবং বিলাসজাতীয় দ্রব্য আমদানি নিরুৎসাহিত করে এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির জন্য ঋণপত্র বা এলসি মার্জিনের পরিমাণ ৭৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশে বৃদ্ধি করেছে। এ পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে যদিও ডলারসংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ অনেকাংশে নিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার দর স্থিতি অবস্থায় নেয়ার জন্য আন্তব্যাংক লেনদেন একপর্যায়ে অকার্যকর হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের তদারকিমূলক হস্তক্ষেপের ফলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। বিনিময় হারের বৈষম্য দূর করার জন্য একীভূত রেট বা দর কার্যকর করা অতিব প্রয়োজনীয়। এ ছাড়াও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোর ওপর তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই নজরদারি চলমান রাখার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়াও ঋণ পুনর্তফসিলীকরণের ক্ষেত্রে নীতিমালার অতিরিক্ত শিথিলতা দেয়ার ফলে এবং বারংবার সময়ক্ষেপণ করার ফলে ব্যাংকের স্থিতিপত্রের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এটাও একটি তারল্য সংকটের প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। ঋণ সময়মতো পরিশোধ না করার ফলে তহবিলের রিসাইকেলিং প্রক্রিয়ায় বাধাগ্রস্ত হয়। কারণ রিসাইকেলিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকের নতুন তারল্য সৃষ্টি হয়, যা ব্যাংকের অর্থজোগানের কার্যকরী মাধ্যম। উপরন্তু, খেলাপি ঋণের মাত্রার পরিমাণ ট্রিলিয়ন টাকার বেশি হওয়া তারল্য সংকটের অনস্বীকার্য অন্যতম কারণ।

ব্যাংক খাতে ঋণখেলাপির সংখ্যা বাড়ছে। কীভাবে কমানো যাবে বলে আপনি মনে করেন?

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণখেলাপির পরিমাণ সংযত পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য প্রডেটোরি ল্যান্ডিং কালচার কার্যকরভাবে বন্ধ করতে হবে। তা ছাড়া ঋণগ্রহীতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে যথাযথ ডিউ ডেলিজ্যান্সের প্রয়োগ অতিব জরুরি। সর্বোপরি সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বোর্ড ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নির্ধারিত দায়-দায়িত্ব স্বচ্ছতার মাধ্যমে পরিপালন করা গেলে, তা ঋণখেলাপি নিরোধে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এতে সন্দেহের অবকাশ নেই। ব্যাংক খাতে সঠিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময় প্রুডেনশিয়াল গাইডলাইন প্রণোয়ন করা হয়েছে। তবে এই নির্দেশিকার সঠিক পরিপালনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে এখনো সুশাসন আনা সম্ভব হয়নি। ফলে নানা রকমের সমস্যায় জর্জরিত দেশের ব্যাংক খাত। বারংবার ব্যাংকিং খাতে সুশাসনের অভাবের কথা বলা হলেও এর নিরোধকল্পে কার্যকরী ভূমিকা পালনের অভাব বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাবলির মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে। ফলে ব্যাংক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ ব্যাংকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেয়ার পর ঋণ পুনর্তফসিলের মেয়াদ বাড়িয়ে খেলাপিদের কী বিশেষ সুবিধা দিয়েছে?

কোভিডের সময় দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি প্রতিঘাতের সম্মুখীন হয়েছিল। এ সময় সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের কারণে দেশের অর্থনীতি অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হয়। সরকার দেশের শিল্প বাণিজ্যে গতিসঞ্চার করার জন্য এক ট্রিলিয়ন টাকার ঊর্ধ্বে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। যার ফলে সামগ্রিক অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবার ইতিবাচক ইঙ্গিত সুস্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়। পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে আবারও দেশের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়ে। যার ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি খাত সংকটের সম্মুখীন হয়। করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতিতে পড়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও শ্রেণিকৃত ঋণের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য ঋণ পুনর্তফসিলের মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি করা হয়। সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকিং খাতকে সুবিন্যাস্ত করার জন্য বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, যা প্রশংসার দাবি রাখে। উল্লেখ্যযোগ্য পদক্ষেপের মধ্যে ঋণ পুনর্তফসিলের ক্ষেত্রে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ওপর সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব দেয়া হয়। ফলে ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ওপরে বড় রকমের দায়িত্ব অর্পিত হয়। এই দায়িত্ব সুচারুরূপে পালনের পূর্বশর্ত হলো ব্যাংকে প্রকৃত সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যেখানে ব্যাংকাররা পেশাগত দক্ষতা প্রয়োগ করে খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সঠিক, সময়োপযোগী এবং পক্ষপাতশূন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তা পর্ষদের অনুমতিক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেবে। বর্তমান গভর্নরের সক্রিয় উদ্যোগে অতিসম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নিজস্ব অর্থায়নে রপ্তানি সহায়ক তহবিল গঠন করেছে, যা একদিকে রপ্তানিকারকদের দেশীয় মুদ্রায় আর্থিক সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত করেছে অন্যদিকে ডলারের অতিমূল্যায়নপ্রসূত অভ্যন্তরীণ মুদ্রার সংকটজনিত সমস্যা লাঘবে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়। আমাদের বিভিন্নমুখী অভিজ্ঞতার আলোকে এই ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকিতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর দায়-দায়িত্ব সঠিকভাবে পালনের ব্যবস্থা নেয়া অতীব প্রয়োজন। তা ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক সিএমএসএমই খাতে অর্থায়নের নিমিত্তে ২৫ হাজার কোটি টাকা পুনঃঅর্থায়ন স্কিমকে প্রাক-অর্থায়ন স্কিমে রূপান্তরিত করার যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা প্রশংসার দাবিদার। এ উদ্যোগের ফলে সিএমএসএমই খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ডলারের ঊর্ধ্বমূল্যজনিত তারল্যসংকট নিরসন হবে এবং এই খাতে অর্থায়নের পথ সুগম হবে। সন্দেহাতীতভাবে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সঠিক পদক্ষেপ নিতে পারছে?

এযাবৎকাল পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক সামগ্রিকভাবে দেশের সার্বিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অতিসম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে সেখানেও সামগ্রিক অর্থনীতি ব্যবস্থাপনার যে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, তা বাস্তব অবস্থার সামঞ্জস্যপূর্ণ কিন্তু এ সিদ্ধান্তে আরও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যবিধান করার সুযোগ ছিল। উল্লেখ্য যে, মুদ্রানীতি এবং রাজস্বনীতি এর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বিধান করা অতীব প্রয়োজন, যা একটি অপরটির পরিপূরক হিসেবে প্রতীয়মান হওয়া জরুরি। ব্যাংকিং খাতের আমূল সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য কারণ ব্যাংকিং খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ ২০২৬ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উপনীত হবে এবং বর্তমান সরকারঘোষিত ‘রূপকল্প-২০৪১’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ব্যাংকিং খাতকে বর্তমান সমস্যা সংকুল অবস্থা হতে অবমুক্ত করে একটি শক্তিশালী ও দক্ষ খাত হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া একান্তভাবে উপলব্ধিযোগ্য। ব্যাংকিং খাতের সমূহ সংস্কারের জন্য ব্যাংকিং কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনার দাবি রাখে।

অর্থনীতির মন্দার সময় সিটিজেনস ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হলো। সফল ব্যাংকগুলোর কাতারে নাম লেখাতে পারবে বলে মনে করছেন?

সিটিজেনস ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন ও ৪০০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন দিয়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ে যাত্রা শুরু করে। ৩৩২ কোটি টাকার আমানত দিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। গ্রাহকের আস্থা অর্জন ও সঠিক নিয়মে পরিচালনার মাধ্যমে একটি শক্তিশালি ব্যাংকিং ভিত গড়ে তোলার জন্য অত্র ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সংকল্পবদ্ধ এবং সচেষ্ট। ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬টি ব্র্যাঞ্চের কার্যক্রম আরম্ভ করেছি। এই বছরের মধ্যে আরও ১৫টি শাখা/উপশাখার কার্যক্রম আরম্ভ করার জন্য যথাযথব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে সিটিজেনস ব্যাংক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সেবা ছড়িয়ে দিতে তথা আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রয়াসে ব্যাংকটি নতুন শাখা খোলার পাশাপাশি উপশাখায়ও খোলায় জোর দেয়া হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে চালু করা হয়েছে স্টার্ট-আপ ঋণ সুবিধা। দেশের সর্বাঙ্গীণ অবস্থার প্রেক্ষাপটে স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা উচিত, যা হবে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির একটি দৃশ্যমান প্ল্যাটফর্ম। কারণ এটা সময়ের দাবি, যার বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমাদের বিচক্ষণ পরিচালনা পর্ষদের প্রণোদিত নীতিমালার আঙ্গিকে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রকগুলোর সংস্থার প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালন করে সিটিজেনস ব্যাংক প্রতিযোগিতা এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজস্ব অবস্থান সৃষ্টি করে নেবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে বলে একান্তভাবে আশা করি।


বাংলাদেশে সরবরাহের বিদ্যুৎ উৎপাদনের তারিখ এগোল আদানি

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৯:৫৩
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা

ভারতীয় শিল্পগ্রুপ আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনে আসার কথা আগামী ২৬ মার্চ। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগকে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীকে জানানোও হয়। কিন্তু ভারতের ঝাড়খন্ডের গোড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদন এখন প্রায় এক মাস এগিয়ে এনে ২৮ ফেব্রুয়ারি আনার কথা বলছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের চাহিদা তীব্র না থাকায় এই বিদ্যুৎ খুব বেশি উপকারে আসবে না। উল্টো আদানির বিদ্যুৎ সরকারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে। এক মাসেই এক ইউনিটের শুধু কেন্দ্র ভাড়া বা ক্যাপাসিটি পেমেন্টে আদানি পাবে ২৫০ কোটি টাকার মতো।

রোববার বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সচিবালয় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং ২৮ ফেব্রুয়ারি বলে জানিয়েছেন।

এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সারসংক্ষেপে বলা হয়, আদানি গ্রুপের গোড্ডা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদন (সিওডি বা কমার্শিয়াল অপারেশন ডেট) ২০২৩ সালের ২৬ মার্চ ঠিক করা হয়েছে।

গত ২৪ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পুঁজিবাজার বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিন্ডেনবার্গ আদানির শেয়ারবাজারে বাজারে কারসাজি এবং অ্যাকাউন্টিং জালিয়াতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। হিন্ডেনবার্গের গবেষণায় বলা হয়, আদানি গ্রুপ বছরে পর বছর শেয়ারবাজারে বাজারে কারসাজি এবং অ্যাকাউন্টিং জালিয়াতি করেছে। তারা আদানির শেয়ারকে অতিমূল্যায়িত হিসেবে অভিহিত করেছে।

এই তথ্য প্রকাশের গত শুক্রবার পর্যন্ত সিএনএনের তথ্যমতে, ১১০ বিলিয়ন ডলার খুইয়েছে আদানি গ্রুপ। ভারতের স্টক মার্কেট সর্বশেষ বেচাকেনা হয় গত শুক্রবার। মার্কেট আগামী সোমবার আবার চালু হবে। যে পরিমাণ অর্থ আদানি গ্রুপ খুইয়েছে তা তাদের মোট সম্পদের অর্ধেক।

আদানির শেয়ার যখন ক্রমাগতভাবে প্রতিদিনই পড়ে যাচ্ছে, তখন বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি এক মাস এগিয়ে আসায় কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। কারণ গত কয়েকদিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমে আদানির বিদ্যুতের দাম অনেক বেশি তা নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। এ ছাড়া আদানি গ্রুপ কয়লায় কারসাজি করছে এমন অভিযোগও করা হয়েছে। কয়লার দাম বেশি এটা নিয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) চিঠিও দিয়েছে আদানিকে। এ ছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাইকোর্টে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা গত ৩১ জানুয়ারি আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এই মামলার শুনানি হবে আগামি ৭ ফেব্রুয়ারি।

আদানির বিদ্যুৎ আসবে ২৮ ফেব্রুয়ারি

রোববার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমিশনিং হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই, মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

নসরুল হামিদ আরও বলেন, আদানির বিদ্যুৎ নিয়ে যেসব কথা হচ্ছে তার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা প্রতিযোগিতামুলক বাজার দরেই বিদ্যুৎ পাব। এ নিয়ে কোনো সংশয়ের সুযোগ নেই। মার্চে প্রথম ইউনিট থেকে আসবে ৭৫০ মেগাওয়াট। দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে এপ্রিল মাসে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আসছে সেচ ও গীষ্ম মৌসুমে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। আমাদের বেশকিছু কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে আসবে। রামপাল এসেছে, এসএস পাওয়ার আসবে, বরিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র আসবে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নিয়েছি, সেচ মৌসুম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

স্পর্ট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ বেড়ে যাবে। স্পর্ট মার্কেট থেকে ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

গ্যাসের নতুন দর ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি নাকচ করে দেন প্রতিমন্ত্রী।


মাথাপিছু আয় কমছে ৩১ ডলার

অর্থনৈতিক সংকটে অল্প দামে পণ্য কিনতে টিসিবির গাড়ির পেছনে এখন মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ফাইল ছবি
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ২২:০৩
আবদুর রহিম হারমাছি

চূড়ান্ত হিসাবে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় কমে ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলারে নেমেছে। সাময়িক হিসাবে এই আয় ছিল ২ হাজার ৮২৪ ডলার। অর্থাৎ মাথাপিছু আয় কমেছে ৩১ ডলার।

মাথাপিছু আয় কমার পাশাপাশি মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৭ দশমিক ১০ শতাংশে নেমেছে। সাময়িক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) রোববার জিডিপি প্রবৃদ্ধির চূড়ান্ত এই হিসাব প্রকাশ করেছে।

গত বছরের ১০ মে সাময়িক হিসাব প্রকাশ করা হয়েছিল। গতকাল ২০২১-২২ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি, মাথাপিছু আয়সহ মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করল পরিসংখ্যান ব্যুরো।

মাথাপিছু আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমার কারণ জানতে চাইলে বিবিএসের মহাপরিচালক মতিয়ার রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দুই বছরের করোনা মহামারির ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হয়। গত অর্থবছরের শেষের চার মাসের বেশি সময় (২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন) গেছে উত্তাল যুদ্ধের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও সেই যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে। বিনিয়োগ কমেছে। সব মিলিয়েই জিডিপি প্রবৃদ্ধি খানিকটা কমেছে। এর ফলে মাথাপিছু আয়ও ৩১ ডলার কমে গেছে।’

তবে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এই প্রবৃদ্ধি ‘খুবই ভালো’ উল্লেখ করে বিবিএস মহাপরিচালক বলেন, ‘৭ দশমিক ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি এটাই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। জিডিপির এই তথ্য হিসাবের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের এদিক-সেদিক করা হয়নি। সারা দেশ থেকে যে তথ্য পাওয়া গেছে, সেটাই প্রকাশ করা হয়েছে।’

চূড়ান্ত হিসাবে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৯৩ ডলার হলেও বাস্তবে দেশের প্রতিটি মানুষের আয় তা নয়। কারণ, মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। দেশের অভ্যন্তরের পাশাপাশি রেমিট্যান্সসহ যত আয় হয়, তা দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে দেশের জনসংখ্যা দিয়ে মাথাপিছু ভাগ করে এ আয়ের হিসাব করা হয়। ফলে দেশে মাথাপিছু আয় বাড়লেও তাতে ব্যক্তির আয়ে তারতম্য হয় না।

বিবিএসের চূড়ান্ত হিসাবে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৩৯ লাখ ৭১ হাজার ৭১৬ কোটি টাকা বা ৪৬০ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৭৯৩ ডলার। সাময়িক হিসাবে জিডিপির আকার ছিল ৩৯ লাখ ৭৬ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা বা ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৮২৪ ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার। ২০১৯-২০ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৩২৬ ও ২ হাজার ২০৯ ডলার।

করোনাভাইরাস মহামারির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ধারাবাহিক অগ্রগতির পথ ধরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ (ভিত্তি বছর পরিবর্তনের পর ৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ) প্রবৃদ্ধি অর্জন করে বাংলাদেশ, যা ছিল দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি। গত এক দশকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৬ শতাংশ। আর চার বছরে এই হার ছিল ৭ শতাংশের ওপরে।

বিনিয়োগ কমেছে, কমেছে কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি

পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে জিডিপির ৩১ দশমিক ০৫ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে।

চূড়ান্ত হিসাবে শিল্প খাতে গত অর্থবছরে আগের অর্থবছরের চেয়ে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ খাতে ৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং নির্মাণ খাতে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

চূড়ান্ত হিসাবে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। সাময়িক হিসাবে যা ছিল একটু বেশি, ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতে ৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যানবাহন খাতে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ব্যাংক ও বিমা খাতে ৫ দশমিক ৮৭ শতাংশ, শিক্ষা খাতে ৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ ও স্বাস্থ্য খাতে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

অর্থনীতির গবেষক বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চূড়ান্ত হিসাবে ৭ দশমিক ১০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে হিসাব বিবিএস দিয়েছে তা বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে খুবই ভালো প্রবৃদ্ধি বলে আমি মনে করি। কিন্তু একটা বিষয় আমাদের মনে রাখতে হবে, বর্তমানে কিন্তু কঠিন সময় পার করছি আমরা। মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী। ডলারের সংকট আছে, যুদ্ধ চলছে। এ অবস্থায় জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে সংকট মোকাবিলার দিকেই আমাদের বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত বলে আমি মনে করি। এই কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে যদি চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধিও অর্জিত হয়, তাও ভালো অর্জন বলে আমি মনে করি।’


ফের লেনদেন বাড়ছে পুঁজিবাজারে

একটি ব্রোকার হাউজে বিনিয়োগকারীরা। ছবি: দৈনিক বাংল
আপডেটেড ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ ১৮:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে সূচক পড়লেও পুঁজিবাজারে টানা পাঁচ কর্মদিবস লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়টি আশা জাগাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মনে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৬ কর্মদিবস পর লেনদেন ফের ৭০০ কোটির ঘর অতিক্রম করল, যা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ। কমেছে এসেছে লেনদেন না হওয়া কোম্পানির সংখ্যাও।

গত বছরের ডিসেম্বরে ২০০ থেকে ৩০০ কোটির ঘরে নেমে যাওয়া লেনদেন ৪ জানুয়ারি বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির বৈঠকের পর বাড়তে থাকে। ১৮ জানুয়ারি হাজার কোটি টাকা ছুঁইছুঁই হওয়ার পর বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধির খবরে উল্টো পথে ছোটে লেনদেনের চাকা।

গত সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবস রোববার লেনদেন নেমে আসে ৪০০ কোটির ঘরে। সপ্তাহটিতে প্রথম তিন কর্মদিবস সূচক পতন ও শেষের দুই কর্মদিবস সূচক বাড়লেও চারদিনই লেনদেন বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু বৃহস্পতিবার ১০৬ কোটি ৪৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বেড়ে হাতবদল হয় ৬৮৭ কোটি ১২ লাখ ২২ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। সেখান থেকে ৬৫ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা বেড়ে রোববার লেনদেন হয়েছে ৭৫২ কোটি ৭৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা, যা ১২ কর্মদিবসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর চেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছিল ১৮ জানুয়ারি ৯৩৪ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

কমেছে এসেছে লেনদেন না হওয়া কোম্পানির সংখ্যা। রোববার একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি এমন কোম্পানির সংখ্যা ছিল ১৫টি। অথচ আগের কর্মদিবসে কোনো শেয়ার লেনদেন হয়নি ৫৬টি কোম্পানির।

দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতন হয়েছে ৩ গুণের বেশি। তবে অপরিবর্তিত দরে লেনদেনের সংখ্যা তারও বেশি। ৪৩টি কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ১৩৩টির।

লেনদেন খড়ার মধ্যে আড়াই শতাধিক কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে পড়ে ছিল। ধীরে ধীরে শতাধিক কোম্পানি ফ্লোর প্রাইস থেকে বেরিয়ে আসলেও রোববার ফের আরও ৫টি ঢুকেছে সেই তালিকায়। এ ছাড়া ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হয়েছে আরও ১৭১টির। বৃহস্পতিবার এই সংখ্যা ছিল ১৬৫।

আগের সপ্তাহের রবি, সোম ও মঙ্গলবার মিলিয়ে ২৯ পয়েন্ট সূচক পতনের পর বুধ ও বৃহস্পতিবার সূচক বেড়েছিল ২৭ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৮ পয়েন্ট কমে রোববার সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৬ হাজার ২৮৬ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সাবেক সভাপতি আহমেদ রশীদ লালী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এক সময় শতাধিক কোম্পানির কোনো শেয়ার লেনদেন হতো না। ফ্লোর প্রাইসে আটকে ছিল আড়াই শর বেশি কোম্পানি। সেখান থেকে গতি ফিরছে বাজারে। ভলিউম বাড়ছে। বাজারের সব ইনডিকেটরই ভালো। বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।’


banner close