বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
১১ চৈত্র ১৪৩২
সাক্ষাৎকার

খেলাপি ঋণ আদায় করতেই হবে

ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার
আপডেটেড
২৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:১৭
প্রকাশিত
প্রকাশিত : ২৮ জানুয়ারি, ২০২৩ ০৯:১১

ব্যাংকিং খাতে প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। বিশাল অঙ্কের এই ঋণ আদায়ের জন্য বিভিন্ন সময় নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু খেলাপি ঋণ কমছে না; উল্টো বেড়েই চলেছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল গত মঙ্গলবার শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপির তালিকা জাতীয় সংসদে প্রকাশ করেছেন, যা নিয়ে দেশে এখন বেশ আলোচনা হচ্ছে। এই খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠিন পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নবনির্বাচিত সভাপতি ব্যারিস্টার সামীর সাত্তার। দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিবেদক বীর সাহাবী

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কেমন চলছে? অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি কেমন দেখছেন?
গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে সমগ্র বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। করোনা-পরবর্তী সময়ে ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যকার যুদ্ধের কারণে অর্থনীতিতে যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে তা এখনো বিদ্যমান এবং বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা যদি আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির কথা বিবেচনা করি তাহলে দেখতে পাব যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সরাসরি আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাপী নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শিল্পসংশ্লিষ্ট পণ্যের আমদানি খরচ অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলেছে। পাশাপাশি, আমরা যেসব দেশে রপ্তানি করে থাকি সেসব দেশে যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় আমাদের রপ্তানিতেও প্রভাব ফেলেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।

আমাদের স্থানীয় অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি অনেকাংশে বেড়ে গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্য অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় আমাদের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিসহ গ্যাস ও ডিজেলের আমদানি কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে আমাদের অর্থনীতি একটি চ্যালেঞ্জকে অতিক্রম করছে, কিন্তু বেসরকারি খাত ও সরকার যৌথভাবে এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার জন্য দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম যে হারে বেড়েছে, এতে ব্যবসায়ীরা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো সংকটে পড়বে কী?
আন্তর্জাতিক বাজারে সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়ার কারণে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিত তৈরি হয়েছে। সে কারণে নিরুপায় হয়ে সরকারকে ৬ মাস আগে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে ২২ শতাংশ বিদ্যুতের এবং শিল্পপর্যায়ে ১৯ শতাংশ গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করতে হয়েছে। যাতে করে বেশি মূল্য দিয়ে আমদানি করে হলেও নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত করছিল। এতে শিল্পের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা কঠিন হচ্ছে। একই হারে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় কটেজ, ক্ষুদ্র, মাঝারিদের জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে যেতে পারে। সে কারণে তাদের উৎপাদিত পণ্যের মূল্য বেড়ে যাবে এবং স্থানীয় বাজারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পেতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি মূল্যের অস্থিরতার কারণে সরকারকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তবে স্থানীয় শিল্প এবং বেসরকারি খাতের ওপর যাতে বেশিমাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য যৌক্তিকভাবে সমন্বয়ের লক্ষ্যে সরকারকে পরবর্তী সময়ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।

যেহেতু এটা দৃশ্যমান যে, বাংলাদেশ সরকার প্রতি মাসেই জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করার পরিকল্পনা করছে এবং সে- সংক্রান্ত একটি কৌশল নির্ধারণের কাজ চলছে, তাই সরকার যেন বিদ্যুতের মূল্য সহনশীলভাবে এবং ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করে, যাতে করে, বেসরকারি খাত অপ্রত্যাশিত বর্ধিত ব্যয়ের বোঝা এড়াতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির হয়তো কোনো বিকল্প নেই, তবুও সরকারের একটি অনুমানযোগ্য মূল্য নির্ধারণ নীতিমালা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যাতে করে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সৃষ্ট প্রভাব সম্পর্কে বেসরকারি খাত আগে থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণসহ তাদের ব্যবসা পরিচালনায় কৌশলী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। যদিও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে, তবে চলমান পরিস্থিতি অনুকূলে আসলে সরকার যেন ফের এই বর্ধিত মূল্য হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করে। বিষয়টি কোনোভাবেই একমুখী হওয়া উচিত হবে না। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, বর্তমানে অস্থির বিশ্বপরিস্থিতির কারণে সরকার বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে। আমরাও বুঝতে পারছি এ ছাড়া সরকারের অন্য কোনো পথ খোলা নেই। তবে যখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ অন্যান্য পণ্যের দাম কমে আসবে, টাকা-ডলারের বিনিময় হার স্বাভাবিক হবে, গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমে আসবে, তখন যেন সরকার বর্ধিত মূল্য হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ভর্তুকির অজুহাত দেখিয়ে শুধু দাম বাড়ানো হবে, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে কমানো হবে না- এমনটা যেন না হয়।

বৈশ্বিক সংকটের প্রভাব ছোট-বড় সব দেশেই পড়েছে। বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে। এই সংকটে থেকে উত্তরণের পথ কী?
আমার মনে হয়, বিশ্বের ধনী-গরিব সব রাষ্ট্রই চলমান সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক এ সমস্যায় কিছু দেশ সংকটে পড়েনি বিষয়টি তেমন নয়। সংকটের কারণে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, বেড়েছে মূল্যস্ফীতি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, জার্মানির মতো দেশে মূল্যস্ফীতি আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড মূল্যস্ফীতি ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১২%, যুক্তরাজ্য ১০.১%, কানাডা ৮.১%, জার্মানি ৭.৯%। যে জাপানের মূল্যস্ফীতি সব সময় নেগেটিভ থাকত তাদের মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়েছে ৪.১%।

উন্নত বিশ্বের এ ধরনের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তাদের স্থানীয় অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করেছে। এতে তাদের কাজের সুযোগ কমেছে এবং দারিদ্র্যের হার বেড়েছে। যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের ওপর। কেননা, বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশে সব থেকে বেশি রপ্তানি করে থাকে। তাদের ক্রমক্ষমতা কমে যাওয়ার অর্থই হচ্ছে আমাদের রপ্তানিতে সরাসরি আঘাত। অথচ বাংলাদেশের সামগ্রিক জিডিপির ১৫ শতাংশ রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। একইভাবে আমাদের আমদানি খরচও বেড়েছে অত্যধিক হারে। কেননা, আমরা যেসব দেশ থেকে আমরা আমদানি করি তাদেরও উৎপাদন খরচ এবং সাপ্লাই চেইন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমাদের কাছে বেশি দামে বিভিন্ন নিত্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামাল, মেশিনারি বিক্রি করছে। এর ফলে আমাদের রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমদানি খরচ বেড়ে গেছে এবং আমাদের অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করতে হয়েছে সে কারণে সংকটে পড়েছে রিজার্ভ। সর্বোপরি বাংলাদেশ যেহেতু বর্তমান বিশ্ববাণিজ্য ব্যবস্থায় একটি উদীয়মান অর্থনীতির দেশ, সেহেতু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সংকট বাংলাদেশ এড়াতে পারে না।

এই পরিস্থিতি অনুকূলে আনতে এখন করণীয় কী? সরকার ও বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের কী ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে আপনি মনে করেন?
বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট পরিস্থিতি যেহেতু একটি ভূরাজনৈতিক ও শক্তিধর দেশের ক্ষমতার দ্বন্দ্বের প্রতিফলন এবং বাংলাদেশ তার ভুক্তভোগী, সেহেতু বাংলাদেশ এককভাবে সংকট দূর করতে পারবে না। বাংলাদেশ তেমন কোনো শক্তিধর নয় বা ধনী দেশগুলোর প্রতিনিধিও নয়। সে কারণে বাংলাদেশ সরাসরি সংকট বন্ধের জন্য জোরালো পদক্ষেপেরও অংশ হতে পারছে না। এ সংকট কাটাতো জি-৭ ভুক্ত ও অন্যান্য ধনী দেশগুলোর কার্যকর আলোচনা মূলত প্রধান উপায়। বিশ্বের সংকটজনক পরিস্থিতি উত্তরণে উন্নত বিশ্ব যত দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থের জন্য সেটা ততটাই মঙ্গলজনক হবে। তবে বাংলাদেশ যে নীরব হয়ে আছে তেমন কিন্তু নয়, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মাধ্যমে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ইউক্রেন-রাশিয়া সংকট কেটে গিয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সে লক্ষ্যে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিলে আবারও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিত স্বাভাবিক হতে শুরু করবে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের বাণিজ্য প্রায় ১ শতাংশ কমে যাবে। যার সরাসরি প্রভাব বাংলাদেশ, চীনসহ এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর পড়বে। সুতরাং শুধু যে বাংলাদেশ সংকটে রয়েছে অন্যরা তেমন সংকটে নেই এ কথাটি এমন নয়। আমরা আশা করি দ্রুততম সময়ে সংকটময় এ পরিস্থিতি কেটে গিয়ে বিশ্ব অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আবারও একটি স্বাভাবিক রূপে ফিরে আসবে।

বর্তমান সংকট উতরাতে সরকার আর কী কী করতে পারে?
চলমান বৈশ্বিক এ সংকটকে মোকাবিলা করার জন্য সরকারের তেমন কিছু করার নেই। কারণ, আমরা বিশ্ব রাজনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করছি না। কিন্তু আমরা যেহেতু এ সংকটের কারণে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, সে কারণে সমমনা দেশগুলোকে নিয়ে জাতিসংঘ, ডব্লিউটিও ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ, সাপ্লাই চেইন স্বাভাবিক করা ও সংকট সমাধানের জন্য জোরালো আওয়াজ তুলতে পারি। অন্যদিকে, বৈশ্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ব্যয় কমিয়ে ও সামগ্রিক আমদানি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে পণ্য আমদানি না করে কৃচ্ছ্রসাধন এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে কিছুটা হলেও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখতে পারি।

সরকার ইতিমধ্যে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার প্রচেষ্টা চলমান রেখেছে এবং আর্থিক খাত স্বাভাবিক করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। তবে, ব্যাংকিং খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ (নন পার্ফরমিং লোন বা এনপিএল) কমানোর মাধ্যমে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বেশি পরিমাণে তারল্য বাড়াতে সহায়তা করলে বেসরকারি খাত আরও উপকৃত হতে পারবে। আমার মনে হয়, এই সংকটকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে এই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। যারা ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি তাদের কাছ থেকে ঋণ আদায়ের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমাদের মতো একটি ছোট দেশে ১ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের খেলাপি ঋণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাইট অফ বা অবলোপন এবং আদালতে মামলার কারণে আটকে থাকা খেলাপি ঋণ যোগ করলে প্রকৃতপক্ষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেশি। আর দেরি না করে, বিশাল অঙ্কের এই টাকাটা আদায়ের জন্য জোরালো পদক্ষেপ নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

বাংলাদেশেল এগিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় অবদান রাখছে বেসরকারি খাত। বর্তমানে বেসরকারি খাতের অবস্থা কেমন দেখছেন?
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা কমবে, এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রতিষ্ঠানগুলো। এই বাস্তবতায় ব্যবসায়িক মুনাফা কমে যাবে এবং বিনিয়োগের গতি কমবে। অনেকে সংশয়ের মধ্যে থেকে বিনিয়োগ করতে চাইবে না। মূল বিষয় হচ্ছে খুচরা পর্যায়ে দাম বাড়বে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মুনাফা বাড়বে না বরং অনেক ক্ষেত্রে কমবে। এদিকে, জ্বালানি ও আর্থিক খাতে ভূরাজনৈতিক সংকটের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে এবং তা এক বছর আগে কেউ চিন্তাও করতে পারেনি। এ কারণে নতুন বিনিয়োগ খুব কম মাত্রায় হবে। একই সঙ্গে সম্প্রতি ঘোষিত এমপিএস এ দেখা গেছে এ অর্থবছরের প্রথমার্ধে বেসরকারি খাতের ঋণের টার্গেট ছিল ১৪.১ শতাংশ কিন্তু তা পূরণ করা সম্ভব হয়নি, মাত্র ১২.৮ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। নতুন যে টার্গেট নেয়া হয়েছে তার বাস্তবায়নও যথেষ্ট অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে। তবে এ ক্ষেত্রে যদি সরকারের ব্যয় লাগামহীন ভাবে বাড়তে থাকে। তবে সিএমএসএমইদের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধিও গুরুত্বপূর্ণ।

যদি বিশ্ব পরিস্থিতি এমনই থাকে তাহলে সরকার বাধ্য হয়ে ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করলে বেসরকারি খাতের ওপর তার প্রভাব পড়বে। পাশাপাশি, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া ও সাপ্লাই চেইন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি খাতও বাধ্য হয়ে পণ্যের মূল্য বাড়াতে গিয়ে তাদের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হারাতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগ কিছুটা হলেও নিরুৎসাহিত হবে।

এ বছর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এ পরিস্থিতিতে কিসে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন?
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ভবিষ্যদ্বাণী রয়েছে, তবে আমরা মনে করি বাংলাদেশ এ ব্যাপারে অনেক বেশি কেয়ারফুল। বাংলাদেশ সরকার বেসরকারি খাতে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যে উদ্যোগগুলো নিচ্ছে তার ফলে অনেক সংকট আসার পরেও বাংলাদেশ এখনো বেশ ভালোভাবে অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। সামনের দিনেও এভাবে চলতে পারলে আমরা হয়তো অত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হব না যেমনটা ভবিষ্যদ্বাণী করা হচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের সহিংসতা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা হলে আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সে কারণে আমি সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ করছি। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে আমাদের সবাইকে অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিষয়:

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির আশঙ্কা জানিয়েছেন আইইএ

আপডেটেড ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৮
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে অঞ্চলের অন্তত নয়টি দেশের ৪০টির বেশি জ্বালানি স্থাপনা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এই ক্ষয়ক্ষতির প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং সংঘাত শেষ হলেও সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। খবর আনাদোলু।

আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি তেল ক্ষেত্র, শোধনাগার ও পাইপলাইনগুলো আবার চালু করতে বেশ সময় লাগবে। তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এ লড়াই পুরো জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ওলটপালট করে দিয়েছে। বিশেষ করে মার্চের শুরু থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে তুলনা করেন অতীতের বড় জ্বালানি সংকটগুলোর সঙ্গে। তার ভাষায়, ‘এ সংকটের প্রভাব গত সত্তরের দশকের দুটি বড় জ্বালানি তেল সংকট এবং ২০২২ সালের প্রাকৃতিক গ্যাস সংকটের সম্মিলিত রূপের সঙ্গে তুলনীয়। বর্তমানে শুধু জ্বালানি তেল বা গ্যাস নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির প্রধান ধমনি হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন বাণিজ্যিক পথও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।’

এশিয়ার দেশগুলোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ‘প্রতিটি দেশই প্রথমে নিজস্ব স্বার্থ দেখে। তবে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া রফতানির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে ভালো কোনো ফল আসবে না। এটি বিশ্ব অর্থনীতিকে আরো অস্থির করে তুলতে পারে।’

সংকট মোকাবিলায় আইইএ জরুরি রিজার্ভ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে অতিরিক্ত মজুদ থেকেও সরবরাহ বাড়ানো হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার ওপর জোর দেন।

উল্লেখ্য, কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়। মার্চের শুরু থেকে এই রুট কার্যত অচল হয়ে পড়ায় জাহাজ চলাচলের ব্যয় বেড়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় উল্লম্ফন দেখা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা এই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে।


ঈদকে সামনে রেখে ৯৯ শতাংশ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ: বিজিএমইএ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের তৈরি পোশাক খাতের ৯৯ শতাংশ শ্রমিকের বেতন ও উৎসব বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বিজিএমইএ। বুধবার (১৮ মার্চ) উত্তরায় সংগঠনটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান যে, বিজিএমইএভুক্ত কারখানাগুলোর মধ্যে ৯৯.৯১ শতাংশ ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন এবং ৯৯.৮১ শতাংশ ঈদ বোনাস প্রদান করেছে। অবশিষ্ট সামান্য কিছু কারখানায় বর্তমানে এই প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমানে তাদের তালিকাভুক্ত কোনো কারখানায় বেতন নিয়ে বড় ধরনের কোনো অমীমাংসিত সমস্যা নেই।

সংবাদ সম্মেলনে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের চিত্রও তুলে ধরা হয়। সভাপতি জানান যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ কমেছে। এর পাশাপাশি ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি খোলার হার এবং পোশাকের গড় ইউনিট মূল্যও হ্রাস পেয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে গত পাঁচ বছরে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম ৩৩ শতাংশ বাড়লেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত না হওয়া এবং উচ্চ সুদহারের কারণে শিল্প খাত ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছে।

এতসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও উদ্যোক্তারা শ্রমিকদের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা পালন করেছেন বলে বিজিএমইএ দাবি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তহবিল গঠন করে বা ব্যাংক ও শ্রমিক সংগঠনের সহায়তায় আর্থিক সংকটে থাকা কারখানাগুলোর বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকা সত্ত্বেও প্রায় ৬৪ শতাংশ কারখানা মার্চ মাসের আংশিক বেতন অগ্রিম প্রদান করেছে। ঈদযাত্রায় ভিড় কমাতে ধাপে ধাপে ছুটি দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ইতিমধ্যে অর্ধেক কারখানা বন্ধ হয়েছে এবং বাকিগুলো দ্রুতই ছুটি ঘোষণা করবে বলে জানানো হয়েছে।


বাংলাদেশের তরুণদের অর্ধেকই বেকার: বিশ্বব্যাংকের সতর্কতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করা বিপুলসংখ্যক তরুণের বড় অংশই কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। গত এক দশকে বাজারে আসা তরুণদের প্রায় অর্ধেকই চাকরি পাননি, আর নারীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য তুলে ধরেন বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জাট। তিন দিনের সফর শেষে তিনি একই দিন ঢাকা ত্যাগ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত দশ বছরে দেশের শ্রমবাজারে প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ তরুণ প্রবেশ করেছেন। এর বিপরীতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৮৭ লাখ, ফলে একটি বড় অংশ কর্মহীন থেকে যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় হয়।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার বৃহৎ পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতা আরও জোরদার করবে, বিশেষ করে যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে।

বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা এবং কর্মসংস্থান বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা সামষ্টিক অর্থনীতি ও আর্থিক খাতের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সদস্য দেশগুলোতে এমন অর্থনীতি গড়ে তুলতে কাজ করছে বিশ্বব্যাংক, যেখানে প্রবৃদ্ধির সুফল সরাসরি কর্মসংস্থানে রূপ নেয়। এ লক্ষ্য পূরণে অবকাঠামো উন্নয়ন, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।


আকরিক লোহার দাম টন প্রতি ১০০ ডলার হওয়ার সম্ভাবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

চলতি বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে আকরিক লোহার দাম প্রতি টনে প্রায় ১০০ ডলারে স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বের শীর্ষ খনি কোম্পানিগুলোর একটি ভেল।

ব্রাজিলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি তাদের সাম্প্রতিক ব্যবসায়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Hellenic Shipping News এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, গিনির সিমান্দু খনি থেকে উৎপাদন শুরু হওয়া এবং বড় কোম্পানিগুলোর সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব পড়ছে। একই সময়ে প্রধান আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা ধীরে কমতে থাকায় দাম একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে স্থির থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ভেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গুস্তাভো পিমেন্টা জানান, খনি খাত বর্তমানে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, পুরনো খনিগুলো থেকে আকরিক উত্তোলন এখন অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই মজুদ ফুরিয়ে আসছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে তুলনামূলক নিম্নমানের আকরিক উত্তোলনে যেতে হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বাস্তবতায় দীর্ঘমেয়াদি মূল্য পূর্বাভাস টনপ্রতি ৯০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০০ ডলারে উন্নীত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

কোম্পানিটির বাণিজ্যিক ও উন্নয়নবিষয়ক নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট রোজারিও নগুয়েরা বলেন, প্রাকৃতিক ক্ষয় ও মজুদ কমে যাওয়ার কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে খনিগুলো থেকে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় কোটি টন উৎপাদন সক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে এমন একটি ভারসাম্য তৈরি হয়েছে যেখানে ১০০ ডলারের নিচে বিক্রি করা উৎপাদকদের জন্য আর লাভজনক নয়, যা এখন কার্যত শিল্পের ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

পরিবর্তিত বাজার বাস্তবতায় নিজেদের কৌশলেও পরিবর্তন আনছে ভেল। সাধারণ মানের আকরিকের পরিবর্তে তারা এখন উচ্চমানের বা প্রিমিয়াম গ্রেডের আকরিক উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সাল নাগাদ তাদের উৎপাদনের বড় অংশই ছিল উন্নত মানের ‘পেলেট ফিড’ ও ‘কারাজাস’ ব্র্যান্ডের আকরিক, যা পরিবেশবান্ধব ইস্পাত উৎপাদনে বেশি ব্যবহৃত হয়।

চীনে চাহিদা কিছুটা কমলেও ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে ইস্পাত শিল্পের সম্প্রসারণ দ্রুত ঘটছে। ভেলের আশা, এসব অঞ্চলের বাড়তি চাহিদা আগামী কয়েক বছর বৈশ্বিক বাজারে আকরিক লোহার দামের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।

একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ও লজিস্টিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনাও নিয়েছে কোম্পানিটি।


ঈদ বোনাস পরিশোধ না করার অভিযোগ অনেক শ্রমিকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

সরকার নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও দেশের প্রায় ৫৪ শতাংশ কারখানায় এখনো ঈদের বোনাস পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন শ্রমিকরা। তবে তৈরি পোশাক খাতের প্রধান সংগঠনগুলোর দাবি, অধিকাংশ কারখানাতেই ইতোমধ্যে বেতন ও বোনাস পরিশোধ সম্পন্ন হয়েছে।

গত ৩ মার্চ রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ৯ মার্চের মধ্যে ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ১২ মার্চের মধ্যে ঈদ বোনাস পরিশোধ করতে হবে।

সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত ২ হাজার ২১৭টি কারখানার মধ্যে ২ হাজার ২১৬টি জানুয়ারির বেতন দিয়েছে। ফেব্রুয়ারির বেতন দিয়েছে ২ হাজার ৯০টি কারখানা এবং ৪৭৮টি কারখানা মার্চের অগ্রিম বেতনও পরিশোধ করেছে। বোনাস দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ৫১টি কারখানায়, যা ৯৬ শতাংশের বেশি। অন্যদিকে বিকেএমইএ জানিয়েছে, তাদের সদস্যভুক্ত কারখানার ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ ফেব্রুয়ারির বেতন এবং ৯৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ঈদ বোনাস দিয়েছে।

এদিকে শ্রমিক নেতারা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন। গার্মেন্ট শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু গণমাধ্যমকে বলেন, “মালিকরা প্রতিবারই একই কথা বলে, এবারও তাই। সরকার ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০ রমজানের মধ্যে বেতন-বোনাস পরিশোধ করার কথা থাকলেও এখনো অনেক কারখানায় বেতন বোনাস হয়নি।”

আরেক শ্রমিক নেতা জলি তালুকদার বলেন, “সারা বছর শ্রমিকরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কাজ করে। তাদের ঘামের ওপর মালিকরা বড় বড় শিল্প-কারখানা তৈরি করেছে। অথচ শ্রমিকরা এখনো ঘামের ন্যায্য মজুরি পায় না। প্রতিবছর ঈদ এলেই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস নিয়ে হাহাকার শুরু হয়। এজন্য মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার।”

এ বিষয়ে বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, “অন্য বছরের তুলনায় এবার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দ্রুততম সময়ে দেওয়া গেছে। সদস্যভুক্ত প্রায় শতভাগ কারখানায় ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস দেওয়া হয়েছে। দু-একটি বাকি থাকতে পারে। ঈদের ছুটির আগে এগুলো যেন বেতন-বোনাস দিতে পারে, সেজন্য নিবিড় মনিটরিং করা হচ্ছে। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে নতুন সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণ না দিলে বেতন-বোনাস দেওয়া কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ত। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।”

বেতন-বোনাস সংক্রান্ত তথ্যের তারতম্য নিয়ে তিনি আরও বলেন, “সারা দেশের সব গার্মেন্ট নিয়ে শিল্পপুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো রিপোর্ট তৈরি করে। এ তালিকায় এমন অনেক কারখানা থাকে, যেগুলো বিজিএমইএ বা বিকেএমইএ সদস্য নয়। সেগুলো বেতন-বোনাস না দিলেও বিজিএমইএ-বিকেএমইএ-কে দায়ী করা হয়। ওইসব কারখানা বেতন-বোনাস না দিলেও এই দুই সংগঠনকে জবাবদিহি করতে হয়, যা অযৌক্তিক।”

শ্রমিক ইউনিয়নের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গার্মেন্ট কারখানাগুলো বেতন-বোনাস দেয়নি বা দিচ্ছে না-শুধু মৌখিকভাবে এমন অভিযোগ করলে হবে না। কোথায়, কোন কারখানা বেতন-বোনাস দেয়নি, তার সুস্পষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিলে আমরা সেসব কারখানা মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। কিন্তু এই ইস্যুতে অনেক ইউনিয়ন ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাচ্ছে। শ্রমিকদের বেতন হিসাবে সরকারের দেওয়া অর্থকে ব্যাংক ঋণের পরিবর্তে প্রণোদনা হিসাবে উপস্থাপন করছে কোনো কোনো সংগঠন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া ঋণ ভিন্ন খাতে নেওয়ার সুযোগই নেই। কারণ ঋণের অর্থ শ্রমিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হচ্ছে। তাই চাইলেও গার্মেন্ট মালিক এই অর্থ অন্য খাতে ব্যয়ের সুযোগ নেই।”


হরমুজ পাহারা নিয়ে অনিশ্চয়তার জেরে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি

আপডেটেড ১৭ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৭
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম মঙ্গলবার ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

আজ সকালে এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই তেলের দাম ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৫ ডলার ৯৩ সেন্ট। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

গত কয়েক দিনে তেলের দামে ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। কখনো কমছে, আবার কখনো বাড়ছে। গত সপ্তাহে দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে উঠলেও পরে তা দ্রুত ১০০ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং পুনরায় আবার সেই সীমা অতিক্রম করে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এমএসটি মারকির বিশ্লেষক সল কেভনিক বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিন্ন ভিন্ন বার্তা বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। তাঁর মতে, বিনিয়োগকারীরা এখন মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতির ওপরই নজর রাখছেন, কারণ সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার জানান, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বহুজাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, জোট গঠন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি। তিনি বলেন, ‘কোনো কোনো দেশ খুবই উৎসাহী, আবার কোনো কোনো দেশ অতটা আগ্রহী নয়। আমি মনে করি, কেউ কেউ এতে অংশ নেবে না, অথচ তাদের আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিপুল ব্যয়ে সুরক্ষা দিয়ে আসছি।’

হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকার চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্রদের সহায়তা চেয়েছে। ইরানের হামলার পর এ পথে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

আইএনজির পণ্যকৌশল বিভাগের প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন বলেন, সরবরাহে বিঘ্ন এতটাই বেড়েছে যে দ্রুত সমাধান পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি জানান, বিমা সুরক্ষা বা নৌবাহিনীর পাহারার মতো উদ্যোগ থাকলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি, কারণ এতে নৌবাহিনীকেও ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়।

ওমান ও ইরানের মাঝামাঝি অবস্থিত হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক তেল পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেল তেল এ পথে পরিবাহিত হয়েছে, যা সমুদ্রপথে পরিবহন হওয়া মোট তেলের প্রায় ৩১ শতাংশ।

জ্বালানিবিষয়ক বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এ রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা দিতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ সংকটের কারণে বাজার দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানায়, প্রয়োজন হলে বাজার স্থিতিশীল রাখতে জরুরি মজুত থেকে আরও তেল ছাড়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেন, তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে বড় পরিসরে মজুত তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এর আগে এত বড় পরিমাণ তেল একসঙ্গে ছাড়ার নজির নেই। তবে প্রয়োজনে আরও মজুত তেল ছাড়ার সুযোগ এখনও রয়েছে।


ইপিএ সুফল অর্জনে  নীতি বাস্তবায়ন ও মানোন্নয়নে বিশেষ নজর দিতে হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পাদিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) শুধু শুল্ক হ্রাসের বিষয় নয়, বরং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহজ করার একটি বিস্তৃত কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই চুক্তির পূর্ণ সুফল পেতে হলে বাংলাদেশকে গুণগত নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য খাতেও নজর বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ও জাপান ইপিএ স্বাক্ষর করে। এ চুক্তির সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে সোমবার রাজধানীর বারিধারায় জাপান দূতাবাসে গবেষণা সংস্থা সিপিডির উদ্যোগে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দূতাবাস সহযোগিতা করে।

সেমিনারে জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গেই প্রথম এই চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জাপান। তাঁর মতে, এটি শুধু পণ্যের শুল্ক কমানোর বিষয় নয়, বরং কাস্টমস প্রক্রিয়া ও বাণিজ্যবিধিসহ নানা নীতিগত বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

মূল প্রবন্ধে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন তুলে ধরেন, জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নিয়ন্ত্রক বাধা বিদেশি বিনিয়োগের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পরিবহন ও বন্দর অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। তিনি মনে করেন, জাপানের কঠোর মান বজায় রাখতে হলে দেশের নিয়ন্ত্রক ও পরিদর্শন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

অন্য প্রবন্ধে জাপানের ন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজের প্রফেসর ইমেরিটাস কেনিচি ওহনো বলেন, সরকার কী করতে চায়, তার চেয়ে বাস্তবায়নের দক্ষতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইউএনডিপি বাংলাদেশের সিনিয়র ইকোনমিক অ্যাডভাইজার পোহ লিন লু শিল্পনীতিকে একটি ‘কড়া ওষুধ’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, এর কার্যকারিতা নির্ভর করে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং প্রয়োগের ওপর।

অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর দেশের শিল্প খাতের বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশে নীতির ঘাটতি নেই, মূল সমস্যা বাস্তবায়নে।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন শুধু তৈরি পোশাক খাতই বিশেষ সুবিধা পাবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণ চাইলে সব খাতের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, নতুন নীতি প্রণয়নের বদলে বিদ্যমান জাপানি বিনিয়োগকারীদের সমস্যার সমাধানেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. মনজুর হোসেন বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি, কারণ দেশের রপ্তানি এখনো একটি খাতনির্ভর। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং ‘চীন প্লাস ওয়ান’ নীতির কারণে বাংলাদেশ জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

গবেষণা সংস্থা পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, ইপিএ কেবল পণ্য বাণিজ্যের চুক্তি নয়, বরং জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের একটি প্ল্যাটফর্ম। তিনি উল্লেখ করেন, চুক্তির সুবিধা পুরোপুরি নিতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতকে সক্ষমতা বাড়াতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ৭০ শতাংশের বেশি রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের ওপর নির্ভরশীল। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা মোকাবিলায় জাপান একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প বাজার হতে পারে। তবে জাপানি বাজারে প্রবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও উচ্চমান বজায় রাখা অপরিহার্য।


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে বেড়ে ৩৪ হাজার ২২১ দশমিক ৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা প্রায় ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলারের সমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে এই রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২৯ হাজার ৫২৮ দশমিক ১৬ মিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়, যা প্রায় ২৯ দশমিক ৫২ বিলিয়ন ডলার।

এর আগে ১১ মার্চ গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩৪ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

উল্লেখ্য, আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ হিসাব করার সময় স্বল্পমেয়াদি দায় বাদ দিয়ে প্রকৃত বা নিট রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগের পর যে পরিমাণ থাকে, সেটিকেই নিট রিজার্ভ হিসেবে ধরা হয়।


ইসলামী ব্যাংক একীভূতকরণ দ্রুত সম্পন্নের নির্দেশ দিলেন গভর্নর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

শরীয়াহভিত্তিক দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একত্র করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের একীভূতকরণ কার্যক্রম, বিশেষ করে আইটি ইন্টিগ্রেশন, দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান।

সোমবার (১৬ মার্চ) গভর্নর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পাঁচ ব্যাংকের প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

গভর্নর বলেন, “ব্যাংক খাতের সংস্কারের অংশ হিসেবে একীভূতকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা ছাড়া বিকল্প নেই।” আইটি সমন্বয় কেন বিলম্বিত হচ্ছে জানতে চাইলে কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন ব্যাংকের আলাদা ডেটা একত্রিত করতেই সময় বেশি লাগছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এক কর্মকর্তা জানান, একীভূতকরণ প্রক্রিয়া চালু থাকবে কিনা তা নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এর জবাবে গভর্নর বলেন, সরকার ইতোমধ্যে নতুন ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন জুগিয়েছে এবং আমানত বীমা তহবিল থেকে গ্রাহকদের জন্য আরও ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ফলে এ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসার সুযোগ নেই এবং দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।

এর আগে ৩ মার্চ একই ব্যাংকের প্রশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর দ্রুত এমডি নিয়োগ সম্পন্ন করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি ঋণ আদায় বাড়ানো এবং বন্ধ হয়ে থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালুর নির্দেশ দেন।

দীর্ঘ সময় ধরে আমানত ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গঠন করা হয়। গত বছরের নভেম্বরে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংক নেয়।

নতুন এই ব্যাংক ৩৫ হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। এর মধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে সরকার এবং অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তর করা হবে।

বর্তমানে সংশ্লিষ্ট পাঁচ ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী রয়েছে, যাদের মোট আমানতের পরিমাণ ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যার ৭৭ শতাংশই খেলাপি।

একীভূতকরণের পর চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমানত ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষ ব্যবস্থায় আমানত বীমা ট্রাস্ট তহবিল থেকে প্রতি গ্রাহককে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রদান করা হচ্ছে। এর বেশি আমানতকারীরা প্রতি তিন মাস অন্তর ১ লাখ টাকা করে সর্বোচ্চ ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলন করতে পারবেন। তবে কিডনি ডায়ালাইসিস ও ক্যান্সারে আক্রান্ত গ্রাহকদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী যে কোনো পরিমাণ অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখা হয়েছে।


সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন: পাঁচ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিভিন্ন ধরনের সিকিউরিটিজ আইন ও নিয়ন্ত্রক বিধি ভঙ্গের ঘটনায় পাঁচ ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক দণ্ড আরোপ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩ লাখ টাকা। চলতি মাসে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট অ্যাকশন বিভাগ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে।

আদেশে বলা হয়েছে, নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তথ্য অনুযায়ী, বিএসইসির একটি পরিদর্শন দল ইনডেক্স এগ্রোর চারটি কারখানা ও প্রধান কার্যালয় পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন সময় জমা দেওয়া নথিপত্র ও রেকর্ড যাচাই করে। পরিদর্শনে উঠে আসে, ইনডেক্স এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ ও ইনডেক্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের মধ্যে প্রায় ২ কোটি টাকার একটি সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়েছে। একই ব্যক্তি উভয় প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় যুক্ত থাকলেও ৩০ জুন ২০২২ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ লেনদেন প্রকাশ করা হয়নি, যা প্রযোজ্য সিকিউরিটিজ আইনের পরিপন্থী।

নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান জি কিবরিয়া অ্যান্ড কোম্পানি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে যে, আলোচ্য সময়ে কোম্পানির স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো সম্পর্কিত পক্ষের লেনদেন হয়নি। কিন্তু পরিদর্শনে তার ভিন্নতা পাওয়া যায়। পাশাপাশি নির্মাণ ও সিভিল ওয়ার্কের কিছু কাজের অনুমোদন প্রক্রিয়াতেও অনিয়ম ধরা পড়ে, যেখানে অনুমোদিত কর্মকর্তার পরিবর্তে অন্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।

এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে কোম্পানিটির এমডি মাহিন বিন মাজহারকে ৫ লাখ টাকা, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ইকবাল আহমেদকে ১ লাখ এবং সেক্রেটারি আবু জাফর আলীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আইসিবি সিকিউরিটিজ ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের একটি চিঠির ভিত্তিতে প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের অনিয়ম সামনে আসে। সেখানে রবি আজিয়াটার এক লাখ শেয়ারের ক্ষেত্রে ডিপোজিটরি হিসাব ও ব্যাক-অফিস সিস্টেমের মধ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালের মাধ্যমে আভা দত্ত নামে এক বিনিয়োগকারীর জন্য শেয়ার ক্রয় করা হয় এবং পরে তা অন্য একটি বিও হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিও হিসাবটি খোলা হয় ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ, অর্থাৎ শেয়ার ক্রয়ের প্রায় দুই মাস পর। এটিকেও সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রুডেনশিয়াল ক্যাপিটালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির এমডি ও সিইও রেজাউল ইসলামকে ৫ লাখ এবং সাবেক কমপ্লায়েন্স অফিসার এওয়াই জোবায়েরকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া, নাভানা সিএনজি লিমিটেড ও এর পরিচালনা পর্ষদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের ওপর কোনো আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়নি।


ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে সূচকের উত্থান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ায় প্রধান সূচকগুলো ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে আগের দিনের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়তে থাকে এবং দিনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত ছিল।

দিনশেষে ডিএসইতে মোট ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ৭৩টির দাম কমেছে এবং ৬২টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

ঈদের আগে শেষ কার্যদিবসে দরবৃদ্ধি বেশি হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ৩৫৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ডিএসইএস ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮১ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৫২ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

এদিন ডিএসইতে মোট ৪৬০ কোটি ৩১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ। ফলে দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৬৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের উত্থান দেখা গেছে। এক্সচেঞ্জটির সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫০ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১৫ হাজার ৩০ পয়েন্টে উঠেছে। একই সঙ্গে প্রধান মূল্যসূচক ১৭ পয়েন্ট বেড়ে ৯ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৭টির দর কমেছে এবং ৩৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে এদিন মোট ৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন সেখানে লেনদেন হয়েছিল ৩৫ কোটি ১৩ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) থেকে টানা সাত দিনের ছুটি শুরু হচ্ছে। এ সময় শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ থাকবে। নির্ধারিত ছুটি শেষে আগামী ২৪ মার্চ থেকে আবার লেনদেন শুরু হবে।


ক্যাশলেস লেনদেন বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে পৃথক ইউনিট গঠনের নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন আরও বিস্তৃত করতে ব্যাংক ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে প্রতিটি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরকে (পিএসও) প্রধান কার্যালয়ে আলাদা ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেনের সুবিধা দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক পেমেন্ট ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে ক্যাশলেস, ডিজিটাল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রূপে গড়ে তুলতে কাজ করছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, বাংলা কিউআর, ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) এবং অনলাইন পেমেন্টের প্রসারের ফলে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগের অংশ হিসেবে খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা মার্চেন্টদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় বাংলা কিউআর লেনদেনে অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য নীতি নির্ধারণ, বাস্তবায়ন, পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিবেদন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সমন্বয় জোরদার করতে প্রতিটি ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করতে হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যাংকের ক্ষেত্রে ইউনিটটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে থাকবেন পেমেন্ট সিস্টেম কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা সমপর্যায়ের কর্মকর্তা। আর এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অব্যবহিত এক ধাপ নিচের কর্মকর্তা এ ইউনিটের তত্ত্বাবধান করবেন। ব্যাংকগুলোতে অন্তত চারজন এবং এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে অন্তত দুইজন কর্মকর্তাকে এ ইউনিটে নিয়োগ দিতে হবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য ব্যাংকের ক্ষেত্রে উপ-মহাব্যবস্থাপক বা সমপর্যায়ের একজন কর্মকর্তা ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে এমএফএস, পিএসপি ও পিএসও প্রতিষ্ঠানে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দুই ধাপ নিচের একজন কর্মকর্তা এ দায়িত্বে থাকবেন।

এ ইউনিটের দায়িত্বের মধ্যে কর্মকর্তাদের সক্ষমতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ আয়োজন, ডিজিটাল লেনদেন বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সমন্বয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগের আওতায় গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রতি বছর একটি পৃথক প্রতিবেদন তৈরি করে তা পরিচালনা পর্ষদে উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতি বছরের মার্চ মাসের শেষ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনটি বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং বাণিজ্য সংগঠনসহ সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করতে হবে।

আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ ইউনিট’ গঠন করে প্রয়োজনীয় তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে বলে সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্দেশনাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।


ঈদ উপলক্ষে হিলি স্থলবন্দরে টানা ১০ দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে দীর্ঘ বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই টানা ১০ দিন বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি ও রপ্তানিসহ সব ধরনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পুরোপুরি স্থগিত থাকবে। হিলি কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত এই ছুটি কার্যকর হবে। দীর্ঘ বিরতি শেষে আগামী ২৮ মার্চ থেকে পুনরায় বন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল হওয়ার কথা রয়েছে।

সোমবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন হিলি স্থলবন্দর আমদানি রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী। এই সংক্রান্ত চিঠি ইতিমধ্যে হিলি স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, বিজিবি এবং ভারতের সংশ্লিষ্ট কাস্টমস ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীসহ উভয় দেশের পরিবহন ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে পাঠানো হয়েছে।

ছুটির প্রেক্ষাপট নিয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. নাজমুল হাসান বলেন, “পবিত্র শবে কদর, ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ১০ দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ২৮ মার্চ থেকে যথারীতি হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় চালু হবে।”

বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত নিয়ে হিলি স্থলবন্দর পুলিশ কর্মকর্তা এসআই ফরিদুর রহমান জানান, স্থলবন্দর দিয়ে বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসাধারী যাত্রীদের পারাপার অন্যান্য দিনের মতোই স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া বন্দরের দাপ্তরিক কার্যক্রম সম্পর্কে হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের উদ্ভিদ নীরোদ কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আলী জানান, ছুটির সময়ে কাস্টমসের অভ্যন্তরীণ দাপ্তরিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চলমান রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মূলত ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উৎসব পালনের সুবিধার্থেই এই দীর্ঘ ছুটির ব্যবস্থা করা হয়েছে।


banner close