বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধারের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনায় বসছে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন। আলোচনায় অংশ নিতে গত শনিবার ফিলিপাইন গেছে বাংলাদেশের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এ সফরে তারা ফিলিপাইনের আদালতে চলমান একটি মামলায় সাক্ষ্য দেবেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলার বিষয়েও বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবেন।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অর্থ উদ্ধারে অগ্রগতি বিষয়ে ফিলিপাইনের আইন বিভাগ, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগসহ বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করবে প্রতিনিধি দল। রোববার রাতে বিএফআইইউ প্রধান মো. মাসুদ বিশ্বাসের ফিলিপাইনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা।
প্রতিনিধি দলে আছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আইনজীবী ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি, বিএফআইইউ ও সিআইডির দুজন করে কর্মকর্তা। দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তাদের সঙ্গে সেখানে যোগ দেবেন। প্রতিনিধি দল ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালকের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
তবে বিএফআইইউ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিলিপাইনের সরকার ও আদালত বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা করেন। ফিলিপাইনের আদালতে রিজার্ভ চুরির মামলা চলমান রয়েছে। সেই বিষয়ে ফলোআপ মিট করতে একটি প্রতিনিধি দল সেই দেশে গেছে। তাদের মধ্যে বিএফআইইউ ও সিআইডির কয়েকজন গেছেন ওই দেশের আদালতে সাক্ষ্য দিতে।’
এ সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ছাড়াও ফিলিপাইনের মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ফিলরেমের সম্পত্তি ক্রোকের এক মামলায় সাক্ষ্য দেবে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্সের আওতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আবেদনের বিষয়ে এ শুনানি হবে।
এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি বিএফআইইউ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির মামলা বাতিলের দুই আবেদন খারিজ করে দেন নিউইয়র্কের আদালত। অভিযুক্তদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে এবং একই সঙ্গে মধ্যস্থতার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিউইয়র্কের আদালতের এ রায়ের ফলে বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির মামলায় অভিযুক্ত ফিলিপাইনের আরসিবিসি, কিম অংসহ ১৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা চলার ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা নেই।
বিএফআইইউ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে রক্ষিত বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট ফর দ্য সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক বা ফেডারেল আদালতে ফিলিপাইনের বেসরকারি খাতের ব্যাংক আরসিবিসিসহ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। চুরি হওয়া রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারে এ মামলা করা হয়। পরে ওই মামলা বাতিলে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করে আরসিবিসিসহ ছয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ফেডারেল আদালত ২০২০ সালের ২০ মার্চ মামলা বাতিলের ওই আবেদন খারিজ করে মামলাটি ফেডারেল আদালতের বদলে স্টেট কোর্টে পরিচালনার নির্দেশ দেন।
ফেডারেল আদালতের ওই নির্দেশনার পর ২০২০ সালের ২৭ মে নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্ট তথা ডিস্ট্রিক্ট আদালতে নতুন করে মামলা করে বাংলাদেশ। নতুন আদালতেও মামলা বাতিলের আবেদন করেন আরসিবিসিসহ ছয় আসামি। তাদের এ আবেদনের ওপর একাধিক দফায় শুনানি হয়।
এদিকে সর্বশেষ ১৩ জানুয়ারি নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট আদালত যে রায় দিয়েছেন, সেখানে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির ক্ষেত্রে আরসিবিসির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত যোগসাজশ ছিল। আরসিবিসির নিউইয়র্কের হিসাব এবং আরসিবিসির ফিলিপাইনের অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের সহযোগিতা না থাকলে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে এ অর্থ অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ ছিল না। নিউইয়র্কের আদালত আরসিবিসিসহ অভিযুক্ত আসামিদের আগামী ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাদের জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এই বিষয়ে মধ্যস্থতারও নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি দিনগত রাতে নিউইয়র্কের ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ১ হাজার ৬২৩ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮১০ কোটি টাকা) চুরির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার শ্রীলঙ্কা থেকে উদ্ধার করা হয়। বাকি ৮ কোটি ডলারের বেশি ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংক হয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে যায়। ওই অর্থ এখনো ফেরত পায়নি বাংলাদেশ। সেই অর্থ উদ্ধারে মামলা চলছে নিউইয়র্কের আদালতে।
বাংলাদেশে সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ এবং একটি শক্তিশালী টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে হলে ব্যবসায়ীদের সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে নৈতিকতার চর্চা সুপ্রতিষ্ঠিত করা আবশ্যক বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে দি ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এবং ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশ (আইবিএফবি) আয়োজিত 'বিজনেস ক্লাইমেট ইন বাংলাদেশ : ইস্যু অ্যান্ড চ্যালেঞ্জ অব ইথিক্যাল প্রাক্টিস' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিজনেস প্রসেস রি-ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিচালন ব্যয় হ্রাস, সরকারি এজেন্সিসমূহের সেবার মান ও কাজের গতি বৃদ্ধি করতে হবে। এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ড. মোয়াজ্জেম ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স প্রাপ্তি, নবায়ন, নিবন্ধন এবং কাস্টমসসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতাগুলোর একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম সরকারি দপ্তরের পদ্ধতিগত কিছু জটিলতার কথা স্বীকার করে বলেন যে, সেগুলো সহজীকরণের সুযোগ রয়েছে। এ সময় সেবা পেতে কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করার আহ্বান জানান তিনি। সভায় উপস্থিত বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ে ন্যায্যতা ও নৈতিকতার চর্চা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নীতি কাঠামোগত সংস্কার অত্যন্ত জরুরি। ব্যবসায়ী নেতারা এ সময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন এবং সিঙ্গল উইন্ডো বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। আইবিএফবির পরিচালক এম এস সিদ্দিকী এ সময় অভিযোগ করেন যে, অনেক ক্ষেত্রেই সরকার কর্তৃক গৃহীত আইন ব্যবসা সহজীকরণ নীতির বিপরীতে যায় যা বিনিয়োগকে নিরুৎসাহিত করে।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মু. নজরুল ইসলাম জানান যে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে তবে এখন সবার মধ্যে আচরণগত সংস্কার খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। আইবিএফবির সভাপতি লুৎফুন্নিসা সাউদিয়া খান তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘আইবিএফবি বিশ্বাস করে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি, টেকসই উন্নয়ন এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতে নৈতিক ব্যবসায়িক চর্চা অপরিহার্য। উদ্যোক্তারা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, তা কেবল আইন দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, উন্মুক্ত সংলাপ এবং অংশীদারিত্বমূলক দায়বদ্ধতা।’ সভার সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. আবদুর রহিম খান আশ্বাস প্রদান করেন যে, বেসরকারি খাতের উত্থাপিত পরামর্শগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরা হবে। একই সাথে তিনি ব্যবসায় ন্যায্য মুনাফা করার পাশাপাশি সমাজিক, নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইতিবাচক অবদান রাখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ মেনে চলার আহ্বান জানান। সভায় এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মো. আলমগীর ও ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স উইংয়ের প্রধান মো. জাফর ইকবালসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ঋণ অনিয়মের কারণে সংকটে পড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) মাধ্যমে কোম্পানিটি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি আইন, ২০২৩ অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নতুন বোর্ডে মোট পাঁচজন পরিচালক নিয়োগ দিয়েছে। নবগঠিত এই পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. মুখতার হোসেন। বোর্ডের অন্য স্বতন্ত্র পরিচালকরা হলেন— মোহাম্মদ শাফিউল আজম, মো. নিয়ামুল কবির এবং মো. রফিকুল ইসলাম (এফসিএস)। এছাড়া পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মাহবুব আলম।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদের মাধ্যমে উত্তরা ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকলেও উত্তরা ফাইন্যান্স ২০১৯ সালের পর থেকে তা প্রকাশ করছে না। তবে গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত ২০২০ সালের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর শেষে কোম্পানির সুদ বাবদ লোকসান হয়েছে ৬১ কোটি ১৮ লাখ টাকা এবং ওই বছরে পরিচালন লোকসান দাঁড়িয়েছে ১০৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। সব ব্যয় মেটানোর পর কোম্পানিটির কর পরবর্তী নিট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ হিসাব বছর শেষে কোম্পানির মূলধন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে যোগ্য মূলধন ঘাটতি ৫৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় মূলধন ঘাটতি ৬৫২ কোটি ২১ লাখ টাকা। মূলত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়া এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পর্ষদ পুনর্গঠনের এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। নতুন পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের ফলে আমানতকারী ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের অর্থনীতির বৃহত্তর স্বার্থে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায় যে, চট্টগ্রাম বন্দরের সাথে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সমস্যা সমাধানে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ঢাকা চেম্বারের মতে, ‘চট্টগ্রাম বন্দরকে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ও বিনিয়োগের লাইফলাইন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।’ কারণ দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য এই বন্দরের মাধ্যমেই খালাস করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২.৬ লাখ টিইইউ এবং প্রতিদিন গড়ে ৯০০০ টিইইউ পণ্য খালাস হলেও গত বুধবার থেকে এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে বন্দরে প্রায় ৫৪ হাজার কনটেইনার পণ্য আটকা পড়েছে এবং এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে ব্যবসায়ীদের প্রতিদিন কনটেইনার প্রতি অতিরিক্ত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। ডিসিসিআই আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, এই অচলাবস্থার ফলে বিশেষ করে দেশের রপ্তানি খাতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং এভাবে চলতে থাকলে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
সংগঠনটি আরও উল্লেখ করেছে যে, নির্ধারিত সময়ে পণ্য জাহাজীকরণ সম্ভব না হওয়ায় অনেক ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থানান্তরের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যদিও কিছু বিদেশি ক্রেতা সাময়িকভাবে সময় বাড়াতে রাজি হয়েছেন, তবে সংকটের স্থায়িত্ব বাড়লে তারা বিকল্প দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে ঝুঁকতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের অর্থনীতির প্রধানতম চাকা চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে ব্যবসায়ী, বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সকল স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে একযোগে কাজ করার এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে সরকারের হস্তক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি বলে জোর দিয়েছে ডিসিসিআই।
পানামার সর্বোচ্চ আদালত কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পানামা খালের দুটি বন্দরের পরিচালনার দায়িত্ব থেকে হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিকে হাচিসনের চুক্তি বাতিল করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নেওয়া পানামা সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়া শুরু করার কথা গতকাল বুধবার জানিয়েছে সিকে হাচিসন।
গত বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সিকে হাচিসন জানিয়েছে যে, তারা পানামার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনি পথে লড়াই করবে। একই দিনে চীনা সরকারের হংকং ও ম্যাকাওবিষয়ক দপ্তর পানামার আদালতের এই রায়কে ‘অযৌক্তিক, লজ্জাজনক ও করুণ’ বলে আখ্যায়িত করেছে। ওই দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পানামার আদালত ‘তথ্য উপেক্ষা করেছে, বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এবং হংকং, চীনের প্রতিষ্ঠানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, ন্যায্য ও সুবিচারভিত্তিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থা রক্ষায় চীনের পর্যাপ্ত সক্ষমতা ও উপায় রয়েছে। পানামাকে সতর্ক করে দিয়ে সেখানে বলা হয়, যদি তারা এই রায় কার্যকরে অগ্রসর হয়, তবে দেশটিকে ‘রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় মূল্য দিতে হবে।’ উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে পানামার সুপ্রিম কোর্ট সিকে হাচিসনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পানামা পোর্টস কোম্পানির চুক্তি বাতিল করে। যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি নাম উল্লেখ না করে চীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, একটি দেশ ধমক ও চাপের কৌশল ব্যবহার করে অন্য দেশগুলোকে নিজেদের ইচ্ছার কাছে নত হতে বাধ্য করছে এবং ‘পানামা স্বেচ্ছায় আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করেছে।’ পানামা খাল দিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন হয় এবং এটি বিশ্বের মোট বাণিজ্যের প্রায় ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কঠোর হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও কিউবায় তেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) হাভানায় নিযুক্ত রুশ কূটনীতিক ভিক্টর করোনেলির বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আরআইএ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ওই কূটনীতিক স্পষ্ট করে বলেন যে, ‘সাম্প্রতিক বছরে রাশিয়া কিউবাকে তেল সরবরাহ করেছে। মস্কো আগামীতেও এই ধারা সমুন্নত রাখা হবে।’ এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ঘোষণা করে দেশটিতে তেল পাঠালে যে কোনো দেশের মার্কিন রপ্তানির উপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এরপর ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার সর্বোচ্চ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা শুরু করলেও চীন কিউবার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছে এবং পরবর্তীতে হাভানা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার পর কিউবাকে অর্থনৈতিকভাবে চেপে ধরতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে তেল সরবরাহ বন্ধের পদক্ষেপ নেওয়ায় সেখানে খাদ্য ও পরিবহনের দাম বেড়ে গেছে এবং রাজধানী হাভানায় তীব্র জ্বালানি ঘাটতি ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম পর্যায় থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ ৫০ কোটি মার্কিন ডলার দেশটির সরকারকে ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) এক মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, সম্প্রতি সর্বশেষ ২০ কোটি ডলার ভেনেজুয়েলায় পাঠানোর মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের পুরো অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলো। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ভেনেজুয়েলা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম তেল বিক্রি থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ ৫০ কোটি ডলার গ্রহণ করেছে এবং এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিবেচনায় ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের কল্যাণে’ ব্যয় করা হবে।
গত সপ্তাহে মার্কিন কংগ্রেসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রিতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে একটি স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন যার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ও সাধারণ জনগণকে সহায়তা করা। তিনি বলেন, ‘মূলত আমরা ভেনেজুয়েলাকে তাদের নিজস্ব তেল ব্যবহার করে আয় করার সুযোগ দিয়েছি। এতে করে শিক্ষক, দমকলকর্মী ও পুলিশদের বেতন দেওয়া যায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কার্যক্রম চালু রাখা সম্ভব হবে। ফলে পুরো ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে না।’
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভেনেজুয়েলা সরকার যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থ পেতে পারে সেজন্য এই অর্থ কাতারে একটি ‘অস্থায়ী ও স্বল্পমেয়াদি তহবিল’ হিসেবে রাখা হয়েছিল। ভবিষ্যতে তেল বিক্রির এই আয় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত একটি বিশেষ তহবিলে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে যেখান থেকে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভেনেজুয়েলা সরকার ও তাদের বিভিন্ন সংস্থার ব্যয় মেটানোর অনুমোদন দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে হওয়া এক চুক্তির অংশ হিসেবেই এই তেল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়।
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে প্রতি ভরিতে দাম বেড়েছে ১০ হাজার ৯০৬ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) মঙ্গলবার বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, নতুন এই মূল্য নির্ধারণের ফলে বর্তমানে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা এবং আজ বৃহস্পতিবারও সারাদেশে এই নতুন দামেই স্বর্ণ কেনাবেচা হবে। স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বাজুস জানিয়েছে যে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই স্বর্ণের এই নতুন মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, বর্তমানে ২১ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, স্বর্ণের এই বিক্রয় মূল্যের সঙ্গে ৫ শতাংশ সরকার নির্ধারিত ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করতে হবে, তবে গয়নার ডিজাইন ও মানভেদে এই মজুরির পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।
স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ৫৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়াও ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ওমানে নির্ধারিত আলোচনার খবরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, দুই দেশের মধ্যে শুক্রবার আলোচনার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে। এদিন গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৫২ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৬৮ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯১ সেন্ট বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬৪ দশমিক ২৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যখন একটি সংবাদে দাবি করা হয় যে নির্ধারিত আলোচনাটি ভেঙে যেতে পারে। তবে পরবর্তীতে উভয় দেশের কর্মকর্তারা শুক্রবারের বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলে বাজারে দামের এই সংশোধন ঘটে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন আলোচনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাই মূলত সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দামের বড় ওঠানামার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে আইজির বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ‘আলোচনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তেলের দাম বেড়েছিল। তবে পারমাণবিক আলোচনা আবার শুরু হচ্ছে এমন খবরে সেই ভয় অনেকটাই কমে এসেছে।’ ইরান জানিয়েছে যে তারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চায় এই আলোচনার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে, যেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন এবং অভ্যন্তরীণ মানবাধিকার পরিস্থিতিও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলোচনার ঘোষণা এলেও বৈশ্বিক উদ্বেগ এখনো পুরোপুরি নিরসন হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত সামরিক হামলার হুমকি বাস্তবায়ন করতে পারেন কিনা, তা নিয়ে বাজারে শঙ্কা রয়ে গেছে। ইরান ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম তেল উৎপাদক হওয়ায় দেশটির ওপর কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু ইরানের উৎপাদনই নয়, বরং ওমান ও ইরানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি ব্যবহারের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়ায় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও ইরাকের মতো রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার এই সিদ্ধান্ত সাম্প্রতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম কমাতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের মজুত সংক্রান্ত তথ্য থেকে জানা গেছে যে, ৩০ জানুয়ারি শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে অপরিশোধিত তেল ও ডিস্টিলেটের মজুত কমলেও গ্যাসোলিনের মজুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
লজিস্টিকস খাত নিয়ে এক আলোচনায় বাংলাদেশের বাণিজ্যের প্রসারে উন্নত রেল যোগাযোগসহ বহু উপায়ের বা মাল্টি মোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জোর সুপারিশ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ওয়েস্টিনে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘লজিস্টিকস খাতের প্রেক্ষাপট নির্মাণ: প্রতিবন্ধকতা, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক এক অংশীজনভিত্তিক আলোচনায় বক্তারা বিশেষত চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে দেশের প্রধান শিল্পকেন্দ্রগুলোর রেল যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ এরশাদ আহমেদ অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশের লজিস্টিকস খাত সময়ের সঙ্গে কিছুটা বিকশিত হলেও এটি এখনও বৈশ্বিক প্রতিযোগীদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে এবং দেশীয় পর্যায়ে যথাযথভাবে অনুধাবিত নয়।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন, ডিকার্বনাইজেশন ও জ্বালানি রূপান্তর, ভূরাজনীতি, আঞ্চলিকীকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিশীলতা– এই বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল শক্তিগুলো লজিস্টিকস খাতকে দ্রুত পুনর্গঠন করছে। এ প্রেক্ষাপটে দেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চাহিদা পূরণে বিদ্যমান জ্ঞান ও সক্ষমতার ঘাটতি দূর করতে হবে।’
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম. মাসরুর রিয়াজ জাতীয় বাণিজ্যের সিংহভাগ বহনকারী ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে কাঠামোগত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করে কোল্ড চেইন ও রেল লজিস্টিকসে বেসরকারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সিএফ গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল আনাম এয়ার লজিস্টিকস ও এক্সপ্রেস কুরিয়ার খাতের চ্যালেঞ্জগুলো আলোচনায় তুলে ধরেন। বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ পরিবহন বিশেষজ্ঞ নুসরাত নাহিদ ববি বলেন, ‘২০২২ সাল থেকে বাংলাদেশের লজিস্টিকস সংস্কারের যে গতি তৈরি হয়েছে, নতুন সরকারের উচিত তা স্পষ্ট অগ্রাধিকার ও উচ্চপর্যায়ের ঐকমত্যের মাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত করা।’ অ্যামচেমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই আলোচনায় লজিস্টিকস খাতের সদস্য ছাড়াও তৈরি পোশাক, ফ্রেইট ফরোয়ার্ডিং, ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো, শিপিং লাইন, এয়ারলাইনস ও কুরিয়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন খাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট এবং এগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে মাথাপিছু আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য স্বল্পোন্নত দেশের তুলনায় জিডিপির বিপরীতে কর রাজস্বের অনুপাত প্রতি বছরই কমছে। রাজস্ব আদায়ের এই মন্থর গতি দেশের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এত কম রাজস্ব আয় নিয়ে পৃথিবীর কোনো দেশের পক্ষেই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে সফলভাবে উত্তরণ সম্ভব নয়। একই সঙ্গে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোকে আধুনিক অর্থনীতির তুলনায় ‘পশ্চাৎপদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তারা, যা বেসরকারি খাতের বিকাশে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘সম্পূরক ও আবগারি শুল্কের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের রাজস্ব কার্যক্রম পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে পিআরআই।
রাজস্ব কাঠামোর সীমাবদ্ধতা
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআই-এর গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বাড়লেও উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর তুলনায় কর-জিডিপি অনুপাত কমছে। বর্তমানে আমাদের জিডিপির প্রায় ১৭ শতাংশ আসে আবগারি শুল্ক থেকে, যা আধুনিক অর্থনৈতিক কাঠামোর তুলনায় বেশ সেকেলে। দেশে করপোরেট কর ও ভ্যাট হার তুলনামূলক বেশি। এছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ উন্নত দেশে পরিমাণভিত্তিক আবগারি শুল্ক আরোপ করা হলেও বাংলাদেশে তা মূলত পণ্যের দামের ওপর নির্ধারিত হয়, যা একটি ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দ্য এম গ্রুপের প্রধান হাফিজ চৌধুরী এনবিআরের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, এনবিআর ন্যায্য ও যৌক্তিক শুল্কহার নিরূপণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিনিয়োগ কমার আশঙ্কা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর
উন্মুক্ত আলোচনায় কোকা-কোলা, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) সহ বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে সম্পূরক শুল্কের হার অত্যন্ত বেশি, যা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর টিকে থাকা কঠিন করে তুলছে। তারা সতর্ক করে বলেন, ‘শুল্কের এই উচ্চহারের কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আগে আমাদের পুনরায় ভাবতে হবে। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ কমিয়ে দিতে হতে পারে।’
এনবিআরের বক্তব্য
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রথম সচিব মো. মশিউর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশে যেসব প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে, তাদের টিকিয়ে রাখা জরুরি।’ তিনি একটি বাণিজ্যবান্ধব শুল্কনীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআরের সদস্য সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা উচ্চহারের শুল্ককে উৎসাহিত করতে চাই না, তবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পূরক শুল্কহারে প্রায় ১৭ হাজার আদর্শমাত্রা রয়েছে, যা বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের জন্য সহায়ক নয়। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মধ্য আয়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ার বড় কারণ হলো যৌক্তিক শুল্কহার নির্ধারণের অভাব।’
নীতি সংস্কারের সুপারিশ
সভাপতির বক্তব্যে পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদী সাত্তার বলেন, ২০১২ সালের কর আইনের জটিলতার ফলে ২০১৯ সালে একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করা হলেও তা বেশ জটিল রয়ে গেছে। জাতীয় টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে একটি একক ও সহজ শুল্ক ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য দুই ধরনের শুল্কনীতি উপযোগী হতে পারে—ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য একটি নিম্নহার এবং অন্যদের জন্য একটি আদর্শ হার। বর্তমানে আবগারি শুল্ক কাঠামোয় আমদানিকৃত ও দেশীয় পণ্যের ক্ষেত্রে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। দেশে প্রায় ১ হাজার ৪০০টি ট্যারিফ লাইন থাকলেও আবগারি শুল্কের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১ হাজার ৭০০টি। এর প্রায় ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে দেশীয় পণ্যের ওপর শুল্ক হার আমদানিকৃত পণ্যের তুলনায় অনেক কম।
ড. জাইদী সাত্তার সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নীতিমালার আলোকে এই বৈষম্যমূলক শুল্ক ব্যবস্থা এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পথে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই অর্থনীতিকে প্রাণবন্ত করতে দ্রুত ব্যবসাবান্ধব ও আধুনিক শুল্ক কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।
ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক হয়ে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। মাস্কের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স তাঁরই মালিকানাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি এক্সএআই (xAI) অধিগ্রহণ করার পর এই ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি হয়েছে। ফোর্বস ম্যাগাজিনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এই বড় চুক্তিতে যৌথ কোম্পানির বাজার মূল্যায়ন দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি ডলার, যার ফলে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদ এক লাফে ৮৪ বিলিয়ন ডলার বেড়ে মোট ৮৫২ বিলিয়ন বা ৮৫ হাজার ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে।
একীভূতকরণের হিসাব বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, চুক্তির আগে স্পেসএক্সের ৪২ শতাংশ মালিকানা বাবদ মাস্কের শেয়ারের মূল্য ছিল ৩৩৬ বিলিয়ন ডলার এবং চলতি মাসের শুরুতে একটি বেসরকারি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে এক্সএআই-এর মূল্যায়ন ধরা হয়েছিল ২৫০ বিলিয়ন ডলার। কোম্পানি দুটির সংযুক্তির পর ১ লাখ কোটি ডলারের স্পেসএক্স এবং ২৫ হাজার কোটি ডলারের এক্সএআই মিলে গঠিত যৌথ প্রতিষ্ঠানে মাস্কের বর্তমান অংশীদারত্ব দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশে, যার বর্তমান বাজারমূল্য ৫৪২ বিলিয়ন ডলার। এর ফলে স্পেসএক্স এখন মাস্কের সামগ্রিক পোর্টফোলিওতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের প্রধান সম্পদ টেসলার শেয়ারমূল্যকেও উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে ছাড়িয়ে গেছে।
বর্তমানে ইলন মাস্কের সম্পদের অন্যান্য উৎসের মধ্যে টেসলার ১২ শতাংশ শেয়ারের মূল্য প্রায় ১৭৮ বিলিয়ন ডলার এবং তাঁর কাছে আরও প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্টক অপশন রয়েছে। উল্লেখ্য যে, এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এটি মাস্কের দ্বিতীয় বড় একীভূতকরণের ঘটনা, কেননা গত মার্চেই তিনি তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর একীভূতকরণের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন যে, “তাঁর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কোম্পানি এক্সএআই এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স একীভূত হয়েছে।” যদিও এসব চুক্তিতে মাস্ক নিজেই ক্রেতা ও বিক্রেতার ভূমিকায় থাকায় বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে কোম্পানির মূল্যায়ন নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে, তবে সব প্রতিষ্ঠান এখন স্পেসএক্সের একক কাঠামোর আওতায় চলে এসেছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্পেসএক্সের আইপিও বা প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বাজারে ছাড়ার জোরালো প্রস্তুতি চলছে, যার ফলে কোম্পানিটিকে শিগগিরই শেয়ারবাজারের কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছতার মুখোমুখি হতে হবে। ইতিপূর্বে গত ডিসেম্বর মাসেই ইলন মাস্ক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছিলেন। বৈশ্বিক গবেষণা সংস্থা ইনফরমা কানেক্ট একাডেমির প্রাক্কলন অনুযায়ী, মাস্কের সম্পদের বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২৭ সালের মধ্যেই তিনি বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা এক লাখ কোটি ডলারের মালিক হওয়ার গৌরব অর্জন করতে পারেন।
দেশের অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক ও স্থিতিশীল অবস্থায় রেখে অন্তর্বর্তী সরকার পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য পথ প্রশস্ত করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় এমন এক অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করবে যেখানে পরবর্তী নেতৃত্বকে কোনো বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়তে হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এসব কথা বলেন। অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি মনে করি, আমরা অর্থনীতিকে একটি সন্তোষজনক অবস্থায় রেখে যাচ্ছি। পরবর্তী সরকার দায়িত্ব নিলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে না। পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, আগের মতো নড়বড়ে নয়।” তবে এই স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ভবিষ্যতে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
সরকারের ঋণ গ্রহণ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা তথ্য দেন যে, ঋণ বাড়লেও সমান্তরালভাবে বড় অঙ্কের বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, ঋণগ্রহণ বেড়েছে, তবে আমরা প্রায় ছয় বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক ঋণও পরিশোধ করেছি। ঋণ পরিশোধও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।” এছাড়া বর্তমান সরকার মেগা প্রকল্প বা টানেলের মতো ব্যয়বহুল অবকাঠামো নির্মাণ থেকে বিরত থাকায় সরকারি ঋণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি জানান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যাশিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কঠিন ছিল। সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতিবন্ধকতা নিয়ে তিনি বলেন, “সংস্কার শুধু বক্তৃতার বিষয় নয়। এর জন্য প্রক্রিয়া, সহযোগিতা এবং ধৈর্য প্রয়োজন। সিস্টেমের ভেতরে প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত জটিল। সহযোগিতা ছাড়া এটি খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।” তবে ভূমি রেকর্ড ডিজিটালাইজেশনের মতো জনকল্যাণমূলক কাজে সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের কথা তিনি গর্বের সঙ্গে উল্লেখ করেন।
আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে এস আলম গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট অর্থপাচার ও আর্থিক বিরোধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি সংস্থা ইকসিড-এ (ICSID) আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির কথা জানান অর্থ উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “তারা বিশ্বব্যাংকের ফোরামে সালিশে গেছে। আমরা নোটিস পেয়েছি এবং এর জবাব দিতে হবে। এটি বিপুল অর্থের সঙ্গে জড়িত একটি বিষয়।” এই মামলা পরিচালনার জন্য একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ এবং সরকারি প্রতিনিধি দলের ওয়াশিংটন সফরের সিদ্ধান্তের কথাও তিনি নিশ্চিত করেন।
বিদ্যুৎ খাতের শুল্ক সমন্বয় ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সংস্কারগুলো সবসময় দৃশ্যমান প্রকল্পের মতো চোখে পড়ে না। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, “মানুষ বলে কিছুই করা হয়নি। কারণ, তারা শুধু দৃশ্যমান প্রকল্প খোঁজে। কিন্তু অনেক মৌলিক প্রক্রিয়াগত সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। কেউ যদি দেখতে না চায়, তাহলে তো তারা দেখবে না।” মূলত পদ্ধতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত মঙ্গলবার অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর একটি প্রতিনিধিদল। বিজিএমইএ-এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান এবং পরিচালক ফয়সাল সামাদ, যারা রপ্তানি সচল রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে নীতিগত ও জরুরি আর্থিক সহায়তার অনুরোধ জানান।
বৈঠকে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা প্রতিকূলতায় শিল্পটি এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে এবং “বৈশ্বিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ নানা চ্যালেঞ্জের কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৪৩% হ্রাস পেয়েছে এবং ২০২৫-এর অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর, এই তিন মাসে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় তৈরি পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৯ দশমিক ৪৩% হ্রাস পেয়েছে।”
প্রতিনিধিদল অর্থ সচিবের নিকট উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান যে, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্ডার কমে যাওয়ার ফলে গত এক বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কর্মদিবস কমে যাওয়ায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) প্রতিষ্ঠানগুলো বেতন-বোনাস পরিশোধে চরম সংকটে পড়বে। ৬০ দিনের মধ্যে কারখানা মাত্র ৩৫ দিন খোলা থাকলেও মার্চ মাসে নিয়মিত বেতনের পাশাপাশি বোনাস এবং অগ্রিম বেতন মিলিয়ে কারখানাগুলোকে প্রায় দ্বিগুণ মজুরি পরিশোধ করতে হবে, যা সময়মতো দিতে না পারলে শিল্পে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে তারা সতর্ক করেন। এই পরিস্থিতি উত্তরণে বিজিএমইএ দুটি সুস্পষ্ট অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, “লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন থাকা বকেয়া নগদ সহায়তার আবেদনগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে অর্থ ছাড়করণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান” করতে হবে এবং শ্রমিকদের পাওনা নিশ্চিত করতে “সফট লোন” বা স্বল্প সুদে সহজ শর্তে ৬ মাসের বেতনের সমপরিমাণ ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য জরুরি সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলের প্রস্তাবসমূহ গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ইতিবাচক আশ্বাস প্রদান করেন।