আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম কিস্তির এই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে যোগ হয়েছে। গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এত দ্রুত আইএমএফের টাকা পাওয়া একটা বিরল ঘটনা। দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বহুল প্রত্যাশিত ঋণটা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম কিস্তির অর্থ রিজার্ভে জমা হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
প্রথমেই একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলি, বাংলাদেশ এই ঋণের জন্য আইএমএফের কাছে আবেদন করেছিল ক্রাইসিস পয়েন্টে নয়, ক্রাইসিস প্রিভেনশন পয়েন্টে। অর্থাৎ সরকার শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের মতো সংকটে পড়ে কিন্তু আইএমএফের কাছে ঋণ চায়নি। সংকটটা যেন না আসে, বাংলাদেশ যেন বড় ধরনের বিপদে না পড়ে- সেটা থেকে রক্ষার জন্যই ঋণটা চেয়েছিল। বাংলাদেশ এই বিষয়ে একটু আলাদা অন্যান্য দেশ থেকে। যেমন-পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা বা আর্জেন্টিনা থেকে। বাংলাদেশের আবেদন খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনুমোদন দিয়েছে আইএমএফ। শুধু তা-ই নয়, সংস্থাটির বোর্ডে ঋণ অনুমোদনের তিন দিনের মাথায় ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বাংলাদেশের রিজার্ভে জমাও হয়েছে। কমতে থাকা রিজার্ভ বেড়েছে। এটা একটি ভালো দিক। দীর্ঘদিন আমি আইএমএফে কাজ করেছি, এত কম সময়ে মোটা অঙ্কের ঋণ অনুমোদন এবং অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম কিস্তি ছাড় খুব কমই দেখেছি। আমার কাছে এটাকে বিরল ঘটনা মনে হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, এই টাকা সংকট যাতে না আসে, সে জন্য দেয়া হয়েছে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমি যাই করি না কেন আমাদের কিন্তু প্রেসক্রিপশনটা নিতে হবে। আইএমএফ হচ্ছে একটি হাসপাতালের মতো। আমাদের অসুখ হলে আমরা যেমন ওষুধ খাই, হাসপাতালে যাই। সে রকম আইএমএফ অর্থনীতির জন্য ওষুধ দেয়। তারা দুইভাবে ওষুধ দেয়। টাকা দিয়ে বা ঋণ দিয়ে সাহায্য করে, যেটাকে আর্থিক সহায়তা বলে। সেই পরিমাণটা এখানে বলা হচ্ছে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। আরেকটি সাপোর্ট হচ্ছে পলিসিগত সাপোর্ট দেয়া। পলিসিগত পরিবর্তন নিয়ে আসা। এটার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে। সরকার জানে আমরাও জানি, টাকা কিন্তু কোনো পারমানেন্ট সমাধান নয়। টাকাটা কয়েক দিনের জন্য আমাদের সহায়তার ব্যবস্থা করবে। আসল যেটা হচ্ছে, সেটা হচ্ছে নীতির পরিবর্তন।
সেই পরিবর্তনটা আসলে কী, কীভাবে হবে সেই পরিবর্তন?
আমাদের চাহিদা কমাতে হবে, সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো করতে হবে। এক্সচেঞ্জ রেট ব্যবস্থাপনা ভালো করতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের একটি বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। আর এটিই হচ্ছে আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেখার বিষয় সরকার কী করছে। আমরা যদি ব্যবস্থা না নেই, আমরা যদি সঠিক নীতি গ্রহণ না করি, তাহলে কিন্তু আমাদের রোগ সারবে না। আমাকে আস্তে আস্তে এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রথমে আমাদের কিছু মূল্যস্ফীতি হবে, আমাদের কষ্ট হবে। এটা স্বাভাবিক যেকোনো রোগের সময় এটা হয়। অপারেশনের ক্ষেত্রে হয়; কিন্তু পোস্ট অপারেটিভ যদি ঠিকমতো হয় তাহলে কিন্তু রোগী সুন্দরভাবে তার জীবনে ফিরে আসতে পারে। আমাদের অর্থনীতি আবার সেই নরমাল হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমাদের সংস্কারগুলো সঠিকভাবে নিতে হবে, করতে হবে।
আমাদের নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তনটা করতে হয়। টাকা দিয়ে সামান্য কিছু সমস্যা সমাধান হয়। স্থায়ী পরিবর্তন হয় না। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়ার জন্য হচ্ছে টাকা। আর স্থায়ী সমাধানের জন্য দরকার নীতি পরিবর্তন। এই ঋণের যে টাকা, সেটা তো খুব বেশি পরিমাণে না। অল্প কিছু টাকা, খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে যদি আমরা নীতি পরিবর্তন করতে না পারি। বাংলাদেশ গত মাসে দেড় বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে ব্যয় করেছে। তাহলে আইএমএফ থেকে প্রাথমিকভাবে (প্রথম কিস্তি) যে টাকা পাওয়া গেছে, সেটা তো ১৫ দিনের টাকার সমানও না। এটা সাময়িক একটি সাহায্য। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান না। স্থায়ী সমাধান করতে হবে আমাদের নীতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে।
বাজারে জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই চড়া। সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি। অনেকেই বলছেন, আইএমএফের কথামতো সংস্কার করতে গেলে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আরও বাড়াতে হবে সরকারকে। সে ক্ষেত্রে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে না?
আমাদের দেশে যে ডলারের ক্রাইসিস আছে সেটা কমাতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে, মুদ্রাবাজারে তারল্য বাড়ানো অভ্যন্তরীণভাবে করতে হবে। সরকার সংস্কার শুরু করেছে। বিদ্যুতের দাম ফের বাড়িয়েছে সরকার। কারণ সরকার তো দেনায় পড়ে গেছে। সরকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে দেনায় আছে। সামিটের কাছেই নাকি সরকারের দেনা তিন হাজার কোটি টাকা। বাকিদের কাছে তো আরও অনেক দেনা হবে। এই টাকাগুলো সরকারকে শোধ করতে হবে। আগামীতে যেন আর না বাড়ে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজেই দাম বাড়া তো শুরু, সেটা কোথায় শেষ হবে তা হলো আসল কথা। সরকারের দরকার হবে এটা নিয়ে সামগ্রিকভাবে সবার সঙ্গে বসা। তাদের খুঁজে বের করতে হবে কত কম দাম বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। আমাদের বিদ্যুৎ তো তৈরি করতে হবে। আমাদের বিদ্যুতের দামটাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।
এখন সরকারের দরকার সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসে এটা ঠিক করা। এর মধ্যে কিছু কনসেশন চাইতে হবে, যারা পাওয়ার প্রডিউসার তাদের কাছ থেকে। এটা চাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সামিটকে বলা, ইউনাইটেড গ্রুপকে বলা তোমরা লাভ কম করো, লাভের ভাগটা ছেড়ে দাও; এক বছরের জন্য। এসব ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সিস্টেম লসটাও কমাতে হবে। আমি যদি ৫ শতাংশ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কমাতে পারি, তাহলে আমাদের ৫ শতাংশ বিদ্যুতের খরচ কমে যায়। এগুলোকে চিন্তার মধ্যে আনতে হবে, সরকারকে শুধু দাম বাড়ালেই হবে না।
আমি আশা করব, সরকার সুদের হার এবং ডলারের দাম দুটিই বাজারের ওপরে ছেড়ে দেবে। মোটামুটিভাবে পুরো বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। পুঁজিবাজারের ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া উচিত। এটা তো থাকাও উচিত ছিল না। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারী থাকবে না বাংলাদেশে।
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করতেই হবে। কর আহরণ খাতে সংস্কার করতে হবে। এগুলো সরাসরি জনগণকে উপকার করবে না। তবে আখেরে এটা জনগণকে বড় উপকার দেবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমবে, দক্ষতা বাড়বে, কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। সরকারের দরকার এখন ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিছুই করার দরকার নেই। শুধু আইনের প্রয়োগ করুক। ইসলামী ব্যাংকে বা কোন ব্যাংকে যারা অপকর্ম করেছে, তাদের সরাসরি দায়ী করুক। ধরে নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
সরকারকে ফিক্সেশনের মেন্টালিটি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সুদের হার বেঁধে দিলাম, পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম বেঁধে দিলাম, তেলের দাম বেঁধে দিলাম, বিদ্যুতের দাম বেঁধে দিলাম, পানির দাম বেঁধে দিলাম। এটা কেন? আমি যদি চাল, ডাল, গম, ওষুধ সবই কিনতে পারি, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাজার পরিবর্তন হচ্ছে, তাহলে এই কয়টি জিনিস আমি কেন কিনতে পারব না।
বলা হচ্ছে, আইএমএফের এই ঋণের পর বিশ্বব্যাংক-এডিবিসহ অন্য দাতা সংস্থাগুলোও বাংলাদেশকে ঋণ দিতে এগিয়ে আসবে। আপনি কী মনে করেন?
সিল অফ এপ্রুভাল যখন গ্লোবালি রেসপেক্টেড হয়। এটার একটি ওয়েট থাকে এটার সঙ্গে কিছু নীতিগত বিষয় সংযুক্ত থাকে। এটার কারণে এটার গুরুত্বটা বিশ্ব জোড়া স্বীকৃত। দেখা যায়, যেখানে আইএমএফ আসে সেখানে অন্যরাও আসতে পারে। সাধারণত বাজার কিন্তু আইএমএফের পলিসিকে সাপোর্ট করে। পৃথিবীজোড়া দেখা গেছে, যখন আইএমএফ একটি দেশে আসে। তখন সেই দেশের কিন্তু বাজারের কিছু গুণগত পরিবর্তন হয়। বৈদেশিক মুদ্রার হার ঠিক হয়। পুঁজিবাজার একটু চাঙ্গা হয়। কয়েক মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসে। নীতিগুলোর ভালো দিক আছে অবশ্যই। আমরা যেরকম ওষুধ খাই ভালো হওয়ার জন্য। নীতিগুলোকে যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। যেমন ব্যাংকিং খাতে আমাদের সংস্কার করতে হবে। এর মধ্যে দ্বিমতের কিছু নাই। সরকার থেকেও অনেকে বলেন লিখিত বা অলিখিতভাবে। বিদেশিরাও বলেন। আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। তা নাহলে সরকার বিপদগ্রস্ত হয়ে যাবে আগামীতে, অর্থের সংকুলান করতে পারবে না। সেগুলো নিয়েও কোনো দ্বিমতের কিছু নাই। এখানে আমি মনে করি আইএমএফের সঙ্গে সরকার বসবে। বসে সুন্দর এটি বাস্তবায়নযোগ্য নীতি বের করবে। যেটা আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে এবং আমাদের যে আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাত এই জায়গাগুলোতে সংস্কার এনে আমাদেরকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে, এখনো কিন্তু আমরা সেই জায়গাটা দেখি নাই। সেই ডিটেইলসগুলো আমরা পাই নাই। আমার মনে হয়, সেই ডিটেইলসগুলো ওয়ার্কআউট করা হয়নি। এগুলো হয়তো আগামী মাসগুলোয় তারা করবে।
আমরা আশা করি সরকার আইএমএফ এবং দেশের যারা অভিজ্ঞ লোক আছেন। সরকার তাদের সঙ্গে বসে এই কার্যক্রমটা যেন হাতে নেয়। আইএমএফ চাপিয়ে দিচ্ছে বলে আমরা করছি এটা ঠিক নয়। আমাদের জন্য দরকার আছে সেটা মেনে নিয়েই যেন এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।
আইএমএফের ঋণের শর্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার আইএমএফের শর্তগুলো ঠিকমতো মানতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে কী হবে?
হাঁ, এটা ঠিক যে, আইএমএফের ঋণে অনেক সময় অনেক শর্ত থাকে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা ছিল না। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ কিন্তু বিপদে পড়ে এই ঋণ নেয়নি। আমাদের অবস্থাটা কিন্তু পাকিস্তানের মতো নয়। পাকিস্তানে তাদের কিন্তু এক্সচেঞ্জ রেটকে ফ্লোট করে দিতে হয়েছে। আইএমএফের প্রত্যাবর্তনের পূর্বশর্ত হিসেবে। আমারা তো সেই রকম অবস্থার মধ্যে পড়িনি। আমাদের সেরকম কোনো শর্ত দেয় নাই। আমাদের অবস্থাটা ভিন্ন। আমাদের শর্তগুলো ভিন্ন। আমাদের দেশে যারা অভিজ্ঞ, সে লোকেরা আসেন। আমাদের খাতগুলো নিয়ে যারা চিন্তাভাবনা করেন। তাদের সাজেশনগুলো আমলে নিয়ে যারা এই খাতে কর্মরত আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে ব্যবহার করে আমরা যদি করতে পারি অবশ্যই আমরা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারব।
যদি বাংলাদেশ আইএমএফের কথামতো কাজ না করে, তাহলে মাঝপথে এসে ঋণের কিস্তি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো শঙ্কা আছে কী?
সে আশঙ্কা আছে। আইএমএফ যে কারণে টাকাটা দিচ্ছে, সেই কাজ যদি ঠিকঠাক মতো না হয়, তাহলে টাকাটা আটকে যেতে পারে, বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো সময় বাংলাদেশ ঠিকভাবে আইএমএফের কথামতো সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে, পুরো টাকাই পেয়েছে। আবার নতুন ভ্যাট আইন সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে নাই। আইএমএফ কিন্তু তখন এই প্রোগ্রামটাকে বন্ধ করে দেয়। তখন কিন্তু আইএমএফ আর টাকা দেয়নি। তখন আমাদের প্রচুর রিজার্ভ ছিল, আমরা তোয়াক্কা করিনি। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা কিছু রিফর্ম করতে গিয়ে কিছু গোষ্ঠীর চাপে আমরা সেটাকে পরিবর্তন করি। যেটা আগের চাইতেও খারাপ একটি আইনে পরিবর্তিত হয়। এটা আইএমএফের ক্ষেত্রে সমর্থন করা উচিত ছিল না, করে নাই। আমরা যে সংস্কারগুলো করব, সেগুলো যে চাপে পড়ে করব সেটা নয়। আমরা আমাদের ভালোর জন্য করব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে আমাদের কাজ করতে হবে। যে সংস্কারগুলো আমরা করব সেগুলো কিন্তু নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর বহু দেশে এগুলো করা হয়ে থাকে, এগুলো নতুন কিছু নয়। আমরা এখানে অবহেলা করেছি। বিশৃঙ্খলা করেছি। এসব কারণে আমরা খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছি। আমাদের এখান থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের সংস্কারগুলো ঠিকমতো করতে হবে।
আপনি বারবার বলছেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সংস্কারগুলো করা উচিত, অনেক আগেই এগুলো করা দরকার ছিল। যদি সরকার সত্যিই সংস্কারগুলো করে, তাহলে আমাদের অর্থনীতিতে কী পরিবর্তন আসবে বলে আপনি মনে করেন?
একটা কথা মনে রাখতে হবে, বৈশ্বিক কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে, সেটা কিন্তু যুগ যুগ ধরে চলবে না। একদিন না একদিন স্বাভাবিক হবে, স্থিতিশীল হবে। তখন কিন্তু একটি নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে। অতীতের সংকটের সময়ও তেমনটা দেখা গেছে। সেই সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে, আবার আগের মতো জিনিসপত্র কিনবে মানুষ। সেই সুযোগটাকেই আমাদের কাজে লাগাতে হবে, নতুন সম্ভাবনার ওই বাজারটাকে ধরতে হবে। আমাদের একটা সুযোগ এসেছে, আইএমএফ টাকার বিনিময়ে যেসব ভালো সংস্কারের কথা বলছে, সেগুলো নিজেদের স্বার্থের জন্য খুবই দরকার মনে করে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের পক্ষে ৮-৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।
বর্তমানে আমাদের মূল্যস্ফীতির একটি চাপ আছে। আমাদের ডলারের একটি সংকট চলছে। পর্যাপ্ত ডলার বাজারে নেই। আমাদের দেশে টাকার সংকট দেখা দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে ডিপোজিট (আমানত) কমে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, সামগ্রিক অর্থনীতিতে টাকার সংকট আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছে। এগুলোর সব কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। সবকিছু কিন্তু বাইরের দোষ না। এগুলোর পেছনে আমাদের নীতিগত সমস্যা আছে। আমাদের আশা সরকার এই সুযোগে এসব সমস্যার সমাধান করবে। আমাদের সবার জন্য তা ভালো হবে, দেশের জন্য মঙ্গল হবে। আইএমএফের প্রোগ্রাম সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করুক, সেটাই আমরা চাই। সরকার রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে সেটাকে বাস্তবায়ন করে সেই জায়গাটাতে নিয়ে যাক।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণে সক্ষমতা দেখালেও সময়মতো সেই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে এখনো বেশ দুর্বল বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। সোমবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত সোনালী ব্যাংকের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। গভর্নর উল্লেখ করেন যে, ঋণ প্রদানের প্রাথমিক পর্যায়েই যদি সঠিকভাবে গ্রাহক নির্বাচন করা যায়, তবে সেই অর্থ খেলাপিতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পায়। দীর্ঘদিন ধরে নানা বিধিনিষেধের কারণে সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ঋণ বিতরণে যে অতিরিক্ত সতর্কতা কাজ করছে, তার ফলে আদায়ের ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসছে না এবং অতীতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত রাখার প্রয়োজন হয়েছিল।
গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ২০০০ সালের আগের সীমিত ঋণ প্রবাহের মডেলটি কোনোভাবেই টেকসই ছিল না। তার মতে, ব্যাংক কেবল আমানত সংগ্রহ করলেই হবে না, যদি সেই অর্থ বৃহৎ অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে না পারে, তবে ব্যাংকিং খাতের অর্জন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। সোনালী ব্যাংকের বর্তমান কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সোনালী ব্যাংক বর্তমানে সতর্কতার সঙ্গে ঋণ বিতরণ করছে, তবে এখন সময় এসেছে আরও সাহসীভাবে ঋণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের।’ সোনালী ব্যাংককে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক ব্যাংকে রূপান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি জানান যে, ব্যাংকটিকে বর্তমানে প্রচলিত আংশিক কমার্শিয়াল ব্যাংকিং নীতি থেকে সরিয়ে পুরোপুরি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে পরিচালনা করে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা পর্যালোচনায় গভর্নর জানান, গত বছরের মুনাফা ব্যাংকের মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতি পূরণে বিশেষ সহায়ক হবে এবং ভবিষ্যতে সোনালী ব্যাংক লভ্যাংশ প্রদানেও সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদী। সরকার সোনালী ব্যাংককে প্রকৃত অর্থে বাণিজ্যিক নীতিতে পরিচালনার পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধিতে ব্যাংকটিকে আরও জোরালো ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। খেলাপি ঋণ বা এনপিএল পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন যে সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ইতোমধ্যে ১৮ শতাংশ থেকে নিচে নেমেছে এবং ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি করা গেলে এই হার আরও কমানো সম্ভব হবে। পরিশেষে মাঠপর্যায়ের সক্ষম উদ্যোক্তা ও দক্ষ এসএমই গ্রাহকদের চিহ্নিত করে ঋণ দেওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি বাণিজ্যে সোনালী ব্যাংকের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার তাগিদ দেন গভর্নর।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ সেবাকে একটি একীভূত ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের লক্ষ্যে সোমবার বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাবিজ ২.০’ এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিডা কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নতুন সংস্করণটি উন্মোধন করা হয় যা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করার পথে বড় ধরনের অগ্রগতি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তথ্যভিত্তিক পোর্টাল হিসেবে এর প্রথম সংস্করণ চালু হলেও এবারের সংস্করণে যুক্ত হয়েছে ‘বিজনেস স্টার্টার প্যাকেজ’, যার মাধ্যমে নাম ক্লিয়ারেন্স থেকে শুরু করে ট্রেড লাইসেন্স পর্যন্ত পাঁচটি প্রধান অনুমোদন একটি মাত্র আবেদনের মাধ্যমে মাত্র তিন কার্যদিবসে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। এছাড়া পরিবেশ ছাড়পত্র ও ভ্যাট নিবন্ধনসহ ২০টিরও বেশি ব্যবসায়িক অনুমোদন এখন এই এক প্ল্যাটফর্ম থেকেই পাওয়া যাবে।
বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে এই প্ল্যাটফর্মে ‘নো ইওর অ্যাপ্রুভালস’ এবং ‘বাংলাবিজ আইডি’ নামক নতুন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে যা ব্যবসায়িক প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা ও আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাকিং সহজতর করবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘সরকারি সেবা ডিজিটাল করতে হলে তা ব্যবহারকারীকেন্দ্রিক ও শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ডিজিটাল হতে হবে।’ একই অনুষ্ঠানে জাইকার বাংলাদেশ অফিসের প্রধান তোমোহিদে ইচিগুচি বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ‘বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছ, দ্রুত ও পূর্বানুমেয় সরকারি সেবার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন, বাংলাবিজ সেই দাবির একটি বাস্তব ও কার্যকর সমাধান।’ বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয় যে শিগগিরই বাংলাবিজকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব সরকারি সেবার একক প্রবেশদ্বার হিসেবে নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট সময়সীমা, স্বচ্ছ কার্যপ্রবাহ এবং কাজ সম্পন্ন করার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম।’ ২০৩০ সাল পর্যন্ত একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ অনুযায়ী এই প্ল্যাটফর্মটি দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যাবে বলে অনুষ্ঠানে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উপপরিচালক আবু মোহাম্মদ নূরুল হায়াত টোটুল এবং বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের (বিসিজি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও পার্টনার তৌসিফ ইশতিয়াক।
নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্ব নিতে যাওয়া পরবর্তী সরকারের জন্য অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে সতর্ক করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) সোনালী ব্যাংকের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন যে অন্তবর্তী সরকার অনেক প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে মোটামুটি একটি অবস্থানে আনার চেষ্টা করেছে, তবে আগামী দিনের সংকট আরও প্রবল হতে পারে। চলমান সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংস্কার আমরা যা করেছি, তা এনাফ না; তবে সামনের সরকারের জন্য তা সহায়ক হবে। আরও ট্যাক্টফুলি হ্যান্ডেল করতে হবে চ্যালেঞ্জগুলো।’
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার প্রেক্ষাপটে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ ও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দেন অর্থ উপদেষ্টা। বিশেষ করে রাজনৈতিক চাপের মুখে ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সরকারের সময়ে চাপ আসবে; তাদের সরাসরি ‘না’ বলা যাবে না। নেগোশিয়েট করার ক্ষমতায় যেতে হবে; তাদের অর্থনীতির নীতি বোঝাতে হবে, ব্যাংকিং আইন, অডিটের নর্মস দেখাতে হবে।’ এছাড়া দেশের সার্বিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে বড় ব্যবসায়ীদের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদানে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান তৈরিতে এই শ্রেণিটিই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে।
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি এই ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে গত রোববার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। এলডিসি পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা বজায় রাখতে ও দুই দেশের মধ্যে মুক্তবাণিজ্য এলাকা তৈরির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ চুক্তির ফলে জাপানে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে এবং এর বিপরীতে জাপান বাংলাদেশে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি তাদের জন্য ৯৭টি উপ-খাত উন্মুক্ত করা হবে। এলডিসি উত্তরণের পর সুযোগ-সুবিধা হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘হ্যাঁ আমরা অনেকগুলো দেশের সঙ্গে এফটিএ করছি। আমরা জাপানের সঙ্গে ইপিএ’র টোটাল নেগোসিয়েশন শেষ করেছি। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষর করব।’ জাপানের পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) নিয়ে গত বৃহস্পতিবারে আমাদের সাউথ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা নেগোসিয়েশন সম্পন্ন হয়েছে। আশা করি এ বছরের মধ্যে তাদের সঙ্গেও স্বাক্ষর হবে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এ ধরনের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি এটাই প্রথম, যা জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয়ে সচিব বলেন, ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে আমরা এফটিএ’র জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি এবং অন্যান্য যে সমস্ত মার্কেটে আমরা এখন শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাই সবগুলোর কাছেই আমাদের প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে এবং আমরা সেখানে আলোচনা সহসাই শুরু করব।’ বৈশ্বিক বাণিজ্যের মন্দা পরিস্থিতি ও রপ্তানির নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা পর্যালোচনা করেছি বিশ্ববাণিজ্যে আপনার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ মানে ডেফিসিট হয়েছে। আমরা তো পৃথিবীর বাইরে না, ওই হিসেবেই আমাদের উপরেও তবে আমাদের ৩ শতাংশ নেগেটিভ নেই। আমাদের ১ দশমিক ৬ শতাংশ লাইক দ্যাট। তবে আমাদের গ্লোবাল এভারেজের চেয়েও আমরা একটু ভালো অবস্থায় আছি।’ এছাড়া আসন্ন রমজান মাসে নিত্যপণ্যের বাজার ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, ‘রমজানের বাজার নিয়ে এবং মূল্য নিত্যপণ্য এবং রমজান মাসভিত্তিক স্পেসিফিক যে সমস্ত পণ্যের বাজার ওঠানামা করে সেগুলোর সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। এ বছরের অবস্থা ভালো।’ মূলত এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাণিজ্যিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ণ রাখতেই প্রধান রপ্তানি বাজারগুলোর সঙ্গে সরকার এই কৌশলগত অংশীদারিত্ব গড়ে তুলছে।
দেশের হালকা প্রকৌশল শিল্পের আধুনিক প্রযুক্তি ও উৎপাদিত পণ্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডের শহীদ আবু সাঈদ আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এক্সপো’ শুরু হয়েছে। এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস (ইসিফোরজে) প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুর রহিম খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ইসিফোরজের সহযোগিতায় বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিইআইওএ) দ্বিতীয়বারের মতো এই বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুর রহিম খান বলেন, “আমরা স্বাধীনতা পরবর্তীতে বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের কথা বলতে বলতে এখন ক্লান্ত। স্বাধীনতার পর আমরা যে প্রত্যাশা নিয়ে এগিয়েছিলাম, সেই লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করতে পারিনি। লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আমরা সেটিকে কাজে লাগাতে পারিনি। এলডিসির সুযোগকেও আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। তবে, এলডিসি উত্তরণ হলেও এই খাতের অনেক সম্ভাবনা থাকবে, যেটিকে কাজে লাগাতে সঠিক পরিকল্পনা দরকার।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রায় ২০ কোটি মানুষের দেশীয় বাজারে এই খাতের প্রায় ১৮-১৯ বিলিয়ন ডলারের বিশাল চাহিদা রয়েছে, যা ইউরোপের অনেক দেশের চেয়ে বেশি। ফলে দেশীয় বাজারের পাশাপাশি রপ্তানির সম্ভাবনাকে লক্ষ্য রেখে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের সিনিয়র প্রাইভেট সেক্টর স্পেশালিস্ট হোসনা ফেরদৌস সুমি। তিনি বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “বিশ্বব্যাপী লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত দ্রুতই পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। এজন্য আমাদের টেকনোলজিকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। গ্লোবাল মার্কেট যদি ১০ গতিতে এগিয়ে চলে, সেখানে আমরা ১ গতিতে এগোচ্ছি। আমাদের কাজের গতি বাড়াতে হবে। এখানে আমাদের অধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের পাশাপাশি উৎপাদকদেরও নিজস্ব উদ্যোগে এই খাতের অগ্রসরে গুরুত্ব বাড়াতে হবে।” বর্তমানে দেশে এই সেক্টরে ৮ বিলিয়ন ডলারের যে বাজার রয়েছে, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নের মাধ্যমে তা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উদ্বোধনী সভার সভাপতি ও বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান যে, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি এবং এই এক্সপো উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন প্রযুক্তি ও বাজার সংযোগের সুযোগ তৈরি করবে। এবারের মেলায় হালকা প্রকৌশল খাতের মোট ২৮টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, যন্ত্রাংশ ও আধুনিক প্রযুক্তিপণ্য প্রদর্শন করছে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং মেলার শেষ দুই দিনে দুটি পৃথক কারিগরি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকেরা প্রত্যাশা করছেন যে, এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রযুক্তি স্থানান্তর ও সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।
বিশ্ব বাজারে সোমবার স্বর্ণ, তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে বড় পতন ঘটেছে। সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণ, জ্বালানি তেল এবং শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতনে গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া অস্থিরতা আরও ঘনীভূত হয়েছে। গত সপ্তাহে রেকর্ড গড়া স্বর্ণ ও রুপার দামে গত শুক্রবার ধস শুরু হলে এক পর্যায়ে সোনার দাম ১২ শতাংশ এবং রুপার দাম ৩০ শতাংশের বেশি হ্রাস পায়। পতনের এই ধারা সোমবারও অব্যাহত ছিল এবং স্বর্ণের দাম এদিন ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমে ৪ হাজার ৪০৩ ডলারের নিচে নেমে আসে এবং রুপার দাম সাময়িকভাবে প্রায় ১২ শতাংশ কমে ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। বাজার পরিস্থিতির এই দ্রুত পরিবর্তন সম্পর্কে পেপারস্টোনের মাইকেল ব্রাউন বলেছেন, “গত কয়েক সপ্তাহে বাজার খুব দ্রুত চাঙ্গা হয়েছিল। একইভাবে পতনও দ্রুত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন জানতে চাইছেন, এরপর কী হবে।”
এই নজিরবিহীন পতনের পেছনে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রযুক্তি খাতের অতি-মূল্যায়নের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বড় ভূমিকা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা প্রকাশ করায় এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা প্রশমনের খবরে অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুটি চুক্তির মূল্য এক পর্যায়ে পাঁচ শতাংশের বেশি কমেছে। পাশাপাশি ট্রাম্প মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনীত করার ঘোষণা দেওয়ায় ডলার শক্তি সঞ্চয় করছে যা তেলের দাম কমাতে ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইনভেসকোর ব্রায়ান লেভিট মনে করেন, “ওয়ারশ সুদের হার কমানোর পক্ষে। কারণ তাঁর দর্শন হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতি না বাড়িয়েই মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।”
এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিশাল বিনিয়োগের বিপরীতে মুনাফা আসার সময়কাল নিয়ে সংশয় তৈরি হওয়ায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে মাইক্রোসফট এআই অবকাঠামোতে ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা দিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে শেয়ার ছাড়ার হিড়িক দেখা দেয়। এর প্রভাবে সোমবার সিউল স্টক এক্সচেঞ্জ পাঁচ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে এবং চিপ উৎপাদনকারী এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের শেয়ারের বড় ধরনের দরপতন ঘটেছে। এশীয় বাজারের পাশাপাশি লন্ডন, প্যারিস ও ফ্রাঙ্কফুর্টের মতো ইউরোপীয় শেয়ারবাজারগুলোতেও সোমবার বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৪৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত জুলাই থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে মোট ২ হাজার ২৯৮ কোটি ২ লাখ ডলার আয় হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২ হাজার ৩৫৫ কোটি ২০ লাখ ডলার। এই খাতের নিটওয়্যার পণ্য থেকে প্রাপ্ত আয় ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২৮ কোটি ৯৯ লাখ ডলারে এবং ওভেন পোশাকের রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৬০ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৯ কোটি ২ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। শুধু বিদায়ী জানুয়ারি মাসেই তৈরি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৬১ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ কম।
সামগ্রিক রপ্তানি পরিস্থিতির চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াসহ মোট ২৭ ধরনের পণ্য বিশ্ববাজারে রপ্তানি করে বাংলাদেশ ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৫ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। এই সময়ে তৈরি পোশাক ও কৃষি পণ্যের রপ্তানি কমলেও হোম টেক্সটাইল এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। হোম টেক্সটাইল খাতের আয় ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ৫০ কোটি ৯৯ লাখ ডলারে পৌঁছেছে এবং চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ কোটি ৭২ লাখ ডলারে। তবে আশঙ্কাজনকভাবে কৃষি পণ্য রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত আয় ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৬০ কোটি ৭২ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। সামগ্রিকভাবে গত জানুয়ারি মাসে পণ্য রপ্তানি থেকে ৪৪১ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার আয় হয়েছে, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ কম।
২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় সামান্য হ্রাস পেয়ে ৪ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের একই সময়ের ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের তুলনায় জানুয়ারিতে প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।
সোমবার রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে রপ্তানি খাতের এই নিম্নমুখী চিত্র ফুটে উঠেছে। তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অর্থাৎ জুলাই-জানুয়ারি সময়ে সামগ্রিক রপ্তানি আয় ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ কমে ২৮ দশমিক ৪১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৮ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর আগে চলতি অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ডিসেম্বরেও রপ্তানি আয় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কমেছিল। বিগত কয়েক মাস ধরেই দেশের রপ্তানি আয় ধারাবাহিকভাবে কমছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার দেশের উভয় পুঁজিবাজারে সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এদিন ৫৪ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
সূচকের এই ইতিবাচক ধারার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের গতিও বেড়েছে; এদিন মোট ৭৪৬ কোটি ২৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১২০ কোটি টাকা বেশি। ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ২১৫টির দর বেড়েছে, ১০৭টির কমেছে এবং বাকি ৬৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল। এছাড়া ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট বেড়ে যথাক্রমে ১ হাজার ৫৫ ও ২ হাজার ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
একই দিনে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বাজার পরিস্থিতির উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১১ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৯১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এদিন সিএসইতে ১৮৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যার মধ্যে ৯৮টির দাম বেড়েছে এবং ৬০টির দাম কমেছে, বাকি ২৫টি প্রতিষ্ঠানের দর ছিল অপরিবর্তিত। সিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের চেয়ে ২ কোটি টাকা বেশি। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, সোমবার উভয় বাজারেই বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ও শেয়ার কেনার প্রবণতা বাড়ায় সূচক ও লেনদেন—উভয় ক্ষেত্রেই উন্নতির ছাপ স্পষ্ট হয়েছে।
ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে আবারও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও অটোগ্যাসের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এই মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়ে সংস্থাটি জানিয়েছে যে সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে বলেন, “ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজির দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।” এর আগে জানুয়ারিতে এলপিজির দাম সর্বশেষ সমন্বয়ের সময় ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এলপিজির পাশাপাশি অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ভোক্তা পর্যায়ে অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ২ টাকা ৩৪ পয়সা বাড়িয়ে মূসকসহ ৬২ টাকা ১৪ পয়সা করা হয়েছে। অটোগ্যাসের দাম এর আগে জানুয়ারিতে সর্বশেষ সমন্বয়ের সময় লিটারপ্রতি ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে মূসকসহ ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ডের ১২২তম ড্র রোববার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই ড্র-তে ছয় লাখ টাকার প্রথম পুরস্কার বিজয়ী সিরিজের নম্বর হিসেবে ০MDE১৭৭৭৭ ঘোষিত হয়েছে। এ ছাড়া তিন লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের দ্বিতীয় পুরস্কার পেয়েছে ০৪৮০১৩৩ নম্বরটি।
একক সাধারণ পদ্ধতিতে পরিচালিত এই ড্র-তে তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে এক লাখ টাকা করে বিজয়ী নম্বর দুটি হলো ০৭৬৬৩৩৮ ও ০৯৩৯৯৩০ এবং চতুর্থ পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা করে জয়ী হয়েছে যথাক্রমে ০১০০০০১ ও ০৩৯৫৪০৮ নম্বর। এবারের ড্র-তে প্রচলনযোগ্য ১০০ টাকা মূল্যমানের মোট ৮৪টি সিরিজের ৪৬টি সাধারণ সংখ্যা পুরস্কারের যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে। কক থেকে শুরু করে ঘচ পর্যন্ত প্রতিটি সিরিজের একই নম্বরে এই পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে।
পঞ্চম পুরস্কার হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে বিজয়ী ৪০টি নম্বর হলো-০০১৫৯৩৭, ০১৭৫৯৪৯, ০৩২৩৮১৪, ০৫৭৬২১৪, ০৮৩৯৬৯১, ০০২৩১৩৯, ০২১২০৩০, ০৩৭৩০৬৮, ০৫৯৭১০৯, ০৮৬৮০৭৮, ০০৪১৮৭০, ০২১২৯৫৫, ০৩৭৮৪৪৯, ০৬৭৮৬১৪, ০৮৯১৫৮০, ০০৭৪৬৮৭, ০২৬৮২৯৩, ০৩৯৮১৪০, ০৭০২২৪২, ০৯৩১১৪৪, ০০৯৯১৮৪, ০২৯২৬৪১, ০৪০১৭৬৫, ০৭০৩২৯৯, ০৯৩২৪৭২, ০১১১০৭০, ০২৯৯৪৮৪, ০৪০৬২৭৭, ০৭২০৩৮১, ০৯৫৫৮৬১, ০১৪৫২০৪, ০৩১২৩৭৬, ০৪৮৪৬৯৭, ০৭২১৩০৮, ০৯৯০১৫৫, ০১৬৫৩৯২, ০৩২৩৭৮২, ০৫৫৯২৮৫, ০৮১২৪৯০ এবং ০৯৯৫২৭৩।
রপ্তানি বাজার সুরক্ষায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সচিবালয়ে রোববার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায় এই চুক্তিটি সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সামগ্রিকভাবে লাভবান হবে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারেই প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।
বর্তমানে এভরিথিং বাট আর্মস সুবিধার আওতায় সব পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া গেলেও এলডিসি থেকে উত্তরণের তিন বছর পর অর্থাৎ ২০২৯ সালে এই সুবিধা শেষ হবে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ জিএসপি প্লাস কাঠামোর যোগ্য হতে পারে বলে মনে করা হলেও সেখানে তৈরি পোশাক খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেননা জিএসপি প্লাস নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশের একটি নির্দিষ্ট পণ্য ইউরোপের মোট আমদানির ৯ শতাংশ ছাড়ালে শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল থাকে না, যেখানে বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট তৈরি পোশাক আমদানির প্রায় ১৬ দশমিক ৫ শতাংশই বাংলাদেশ থেকে যায়। এই সুবিধা না থাকলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে গড়ে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক আরোপের আশঙ্কা রয়েছে, যা প্রধান রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। তবে ভারতের সঙ্গে ইইউর সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন নয় বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, “তৈরি পোশাক খাতে সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।”
বাণিজ্য সচিব আরও জানান, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নিয়েছে। জাপানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং চলতি বছরের মধ্যেই চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে এক বৈঠকে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যেন বাংলাদেশের রপ্তানি বিশেষ করে তৈরি পোশাক যাতে ইউরোপীয় বাজারে নির্বিঘ্নে প্রবেশ করতে পারে, সে জন্য এখনই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।” অধ্যাপক ইউনূস আরও উল্লেখ করেন যে, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের সাত হাজারের বেশি পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে এবং সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের চুক্তি করতে চায়।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি ৯ ফেব্রুয়ারি
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক বিষয়ে পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। বাণিজ্য সচিব জানান, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য তারিখ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশ থাকলেও তা কিছুটা কমতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
চুক্তি সইয়ের উদ্দেশ্যে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ছাড়বেন। তারা প্রথমে জাপান যাবেন এবং সেখানে চুক্তি সইয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাবেন।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সুবাতাস বইছে প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের হাত ধরে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জানুয়ারি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের উল্লম্ফন লক্ষ্য করা গেছে। গত ডিসেম্বর মাসের ধারাবাহিকতায় জানুয়ারিতেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা ৩ বিলিয়ন বা ৩০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক মাসে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩১৭ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতাকে আরও শক্তিশালী করছে।
দেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে এটি ছিল তৃতীয় কোনো মাস, যেখানে রেমিট্যান্স প্রবাহ ৩ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল। এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে ৩২২ কোটি ডলার এবং গত বছরের রমজান ও ঈদের মাস মার্চে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ ৩৩০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। শতাংশের হিসেবে গত বছরের জানুয়ারির তুলনায় এবারের প্রবৃদ্ধি অবিশ্বাস্য। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ২১৮ কোটি ডলার পাঠিয়েছিলেন, সেই তুলনায় এ বছর একই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৪৫ শতাংশের বেশি।
চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসের সামগ্রিক চিত্রও অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট ১ হাজার ৯৪৪ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অংক ছিল ১ হাজার ৫৯৬ কোটি ডলার। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। বিগত রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে রেমিট্যান্স প্রবাহে যে জোয়ার শুরু হয়েছিল, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলেও তা সমানতালে বজায় রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে সুসংহত করতে বড় ভূমিকা রাখছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রবাসীরা দেশে বেশি পরিমাণ অর্থ পাঠাচ্ছেন। সাধারণত রমজান ও ঈদুল ফিতরের আগে রেমিট্যান্সের হার বাড়ে, তবে এবার জাতীয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে আগেভাগেই এই গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর তদারকির ফলে অর্থ পাচার এবং ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। হুন্ডি বা অবৈধ চ্যানেলের পরিবর্তে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রবাসীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহকেও এই সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেমিট্যান্সের এই বিশাল প্রবাহের সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। গত ২৯ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বা বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী যা বর্তমানে ২৮ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলারে রয়েছে। আমদানি ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হওয়া সত্ত্বেও রেমিট্যান্সের প্রাচুর্যের কারণে দেশে বর্তমানে ডলারের কোনো সংকট নেই। দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণেও পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে। প্রবাসীদের এই অব্যাহত অবদানের ফলে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এখন অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।