আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের প্রথম কিস্তি ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার পেয়েছে বাংলাদেশ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথম কিস্তির এই অর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভে যোগ হয়েছে। গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও দীর্ঘদিন আইএমএফের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করে আসা আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, এত দ্রুত আইএমএফের টাকা পাওয়া একটা বিরল ঘটনা। দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বহুল প্রত্যাশিত ঋণটা পেয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম কিস্তির অর্থ রিজার্ভে জমা হয়েছে। বিষয়টিকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
প্রথমেই একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলি, বাংলাদেশ এই ঋণের জন্য আইএমএফের কাছে আবেদন করেছিল ক্রাইসিস পয়েন্টে নয়, ক্রাইসিস প্রিভেনশন পয়েন্টে। অর্থাৎ সরকার শ্রীলঙ্কা-পাকিস্তানের মতো সংকটে পড়ে কিন্তু আইএমএফের কাছে ঋণ চায়নি। সংকটটা যেন না আসে, বাংলাদেশ যেন বড় ধরনের বিপদে না পড়ে- সেটা থেকে রক্ষার জন্যই ঋণটা চেয়েছিল। বাংলাদেশ এই বিষয়ে একটু আলাদা অন্যান্য দেশ থেকে। যেমন-পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা বা আর্জেন্টিনা থেকে। বাংলাদেশের আবেদন খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনুমোদন দিয়েছে আইএমএফ। শুধু তা-ই নয়, সংস্থাটির বোর্ডে ঋণ অনুমোদনের তিন দিনের মাথায় ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার বাংলাদেশের রিজার্ভে জমাও হয়েছে। কমতে থাকা রিজার্ভ বেড়েছে। এটা একটি ভালো দিক। দীর্ঘদিন আমি আইএমএফে কাজ করেছি, এত কম সময়ে মোটা অঙ্কের ঋণ অনুমোদন এবং অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে প্রথম কিস্তি ছাড় খুব কমই দেখেছি। আমার কাছে এটাকে বিরল ঘটনা মনে হয়েছে।
আইএমএফ বলছে, এই টাকা সংকট যাতে না আসে, সে জন্য দেয়া হয়েছে। একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমি যাই করি না কেন আমাদের কিন্তু প্রেসক্রিপশনটা নিতে হবে। আইএমএফ হচ্ছে একটি হাসপাতালের মতো। আমাদের অসুখ হলে আমরা যেমন ওষুধ খাই, হাসপাতালে যাই। সে রকম আইএমএফ অর্থনীতির জন্য ওষুধ দেয়। তারা দুইভাবে ওষুধ দেয়। টাকা দিয়ে বা ঋণ দিয়ে সাহায্য করে, যেটাকে আর্থিক সহায়তা বলে। সেই পরিমাণটা এখানে বলা হচ্ছে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের সমতুল্য। আরেকটি সাপোর্ট হচ্ছে পলিসিগত সাপোর্ট দেয়া। পলিসিগত পরিবর্তন নিয়ে আসা। এটার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হবে। সরকার জানে আমরাও জানি, টাকা কিন্তু কোনো পারমানেন্ট সমাধান নয়। টাকাটা কয়েক দিনের জন্য আমাদের সহায়তার ব্যবস্থা করবে। আসল যেটা হচ্ছে, সেটা হচ্ছে নীতির পরিবর্তন।
সেই পরিবর্তনটা আসলে কী, কীভাবে হবে সেই পরিবর্তন?
আমাদের চাহিদা কমাতে হবে, সরবরাহ ব্যবস্থা ভালো করতে হবে। এক্সচেঞ্জ রেট ব্যবস্থাপনা ভালো করতে হবে। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। আমাদের একটি বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিতে হবে। আর এটিই হচ্ছে আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দেখার বিষয় সরকার কী করছে। আমরা যদি ব্যবস্থা না নেই, আমরা যদি সঠিক নীতি গ্রহণ না করি, তাহলে কিন্তু আমাদের রোগ সারবে না। আমাকে আস্তে আস্তে এখান থেকে বের হয়ে আসতে হবে। প্রথমে আমাদের কিছু মূল্যস্ফীতি হবে, আমাদের কষ্ট হবে। এটা স্বাভাবিক যেকোনো রোগের সময় এটা হয়। অপারেশনের ক্ষেত্রে হয়; কিন্তু পোস্ট অপারেটিভ যদি ঠিকমতো হয় তাহলে কিন্তু রোগী সুন্দরভাবে তার জীবনে ফিরে আসতে পারে। আমাদের অর্থনীতি আবার সেই নরমাল হয়ে যাবে বলে আমি মনে করি। কিন্তু আমাদের সংস্কারগুলো সঠিকভাবে নিতে হবে, করতে হবে।
আমাদের নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী পরিবর্তনটা করতে হয়। টাকা দিয়ে সামান্য কিছু সমস্যা সমাধান হয়। স্থায়ী পরিবর্তন হয় না। প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়ার জন্য হচ্ছে টাকা। আর স্থায়ী সমাধানের জন্য দরকার নীতি পরিবর্তন। এই ঋণের যে টাকা, সেটা তো খুব বেশি পরিমাণে না। অল্প কিছু টাকা, খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে যদি আমরা নীতি পরিবর্তন করতে না পারি। বাংলাদেশ গত মাসে দেড় বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ থেকে ব্যয় করেছে। তাহলে আইএমএফ থেকে প্রাথমিকভাবে (প্রথম কিস্তি) যে টাকা পাওয়া গেছে, সেটা তো ১৫ দিনের টাকার সমানও না। এটা সাময়িক একটি সাহায্য। এটা কোনো স্থায়ী সমাধান না। স্থায়ী সমাধান করতে হবে আমাদের নীতি পরিবর্তন করার মাধ্যমে।
বাজারে জিনিসপত্রের দাম এমনিতেই চড়া। সরকারি হিসাবেই মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের কাছাকাছি। অনেকেই বলছেন, আইএমএফের কথামতো সংস্কার করতে গেলে গ্যাস-বিদ্যুতের দাম আরও বাড়াতে হবে সরকারকে। সে ক্ষেত্রে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে না?
আমাদের দেশে যে ডলারের ক্রাইসিস আছে সেটা কমাতে হবে। মূল্যস্ফীতি কমাতে হবে, মুদ্রাবাজারে তারল্য বাড়ানো অভ্যন্তরীণভাবে করতে হবে। সরকার সংস্কার শুরু করেছে। বিদ্যুতের দাম ফের বাড়িয়েছে সরকার। কারণ সরকার তো দেনায় পড়ে গেছে। সরকার বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর কাছে দেনায় আছে। সামিটের কাছেই নাকি সরকারের দেনা তিন হাজার কোটি টাকা। বাকিদের কাছে তো আরও অনেক দেনা হবে। এই টাকাগুলো সরকারকে শোধ করতে হবে। আগামীতে যেন আর না বাড়ে, সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজেই দাম বাড়া তো শুরু, সেটা কোথায় শেষ হবে তা হলো আসল কথা। সরকারের দরকার হবে এটা নিয়ে সামগ্রিকভাবে সবার সঙ্গে বসা। তাদের খুঁজে বের করতে হবে কত কম দাম বাড়িয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যায়। আমাদের বিদ্যুৎ তো তৈরি করতে হবে। আমাদের বিদ্যুতের দামটাকে সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে।
এখন সরকারের দরকার সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে বসে এটা ঠিক করা। এর মধ্যে কিছু কনসেশন চাইতে হবে, যারা পাওয়ার প্রডিউসার তাদের কাছ থেকে। এটা চাওয়া উচিত বলে আমি মনে করি। সামিটকে বলা, ইউনাইটেড গ্রুপকে বলা তোমরা লাভ কম করো, লাভের ভাগটা ছেড়ে দাও; এক বছরের জন্য। এসব ক্ষেত্রে বিদ্যুতের সিস্টেম লসটাও কমাতে হবে। আমি যদি ৫ শতাংশ অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ কমাতে পারি, তাহলে আমাদের ৫ শতাংশ বিদ্যুতের খরচ কমে যায়। এগুলোকে চিন্তার মধ্যে আনতে হবে, সরকারকে শুধু দাম বাড়ালেই হবে না।
আমি আশা করব, সরকার সুদের হার এবং ডলারের দাম দুটিই বাজারের ওপরে ছেড়ে দেবে। মোটামুটিভাবে পুরো বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়াই ভালো। পুঁজিবাজারের ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে দেয়া উচিত। এটা তো থাকাও উচিত ছিল না। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারী থাকবে না বাংলাদেশে।
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার করতেই হবে। কর আহরণ খাতে সংস্কার করতে হবে। এগুলো সরাসরি জনগণকে উপকার করবে না। তবে আখেরে এটা জনগণকে বড় উপকার দেবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচ কমবে, দক্ষতা বাড়বে, কম সুদে ঋণ পাওয়া যাবে। সরকারের দরকার এখন ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। কিছুই করার দরকার নেই। শুধু আইনের প্রয়োগ করুক। ইসলামী ব্যাংকে বা কোন ব্যাংকে যারা অপকর্ম করেছে, তাদের সরাসরি দায়ী করুক। ধরে নিয়ে শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
সরকারকে ফিক্সেশনের মেন্টালিটি থেকে বের হয়ে আসতে হবে। সুদের হার বেঁধে দিলাম, পুঁজিবাজারে শেয়ারের দাম বেঁধে দিলাম, তেলের দাম বেঁধে দিলাম, বিদ্যুতের দাম বেঁধে দিলাম, পানির দাম বেঁধে দিলাম। এটা কেন? আমি যদি চাল, ডাল, গম, ওষুধ সবই কিনতে পারি, ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাজার পরিবর্তন হচ্ছে, তাহলে এই কয়টি জিনিস আমি কেন কিনতে পারব না।
বলা হচ্ছে, আইএমএফের এই ঋণের পর বিশ্বব্যাংক-এডিবিসহ অন্য দাতা সংস্থাগুলোও বাংলাদেশকে ঋণ দিতে এগিয়ে আসবে। আপনি কী মনে করেন?
সিল অফ এপ্রুভাল যখন গ্লোবালি রেসপেক্টেড হয়। এটার একটি ওয়েট থাকে এটার সঙ্গে কিছু নীতিগত বিষয় সংযুক্ত থাকে। এটার কারণে এটার গুরুত্বটা বিশ্ব জোড়া স্বীকৃত। দেখা যায়, যেখানে আইএমএফ আসে সেখানে অন্যরাও আসতে পারে। সাধারণত বাজার কিন্তু আইএমএফের পলিসিকে সাপোর্ট করে। পৃথিবীজোড়া দেখা গেছে, যখন আইএমএফ একটি দেশে আসে। তখন সেই দেশের কিন্তু বাজারের কিছু গুণগত পরিবর্তন হয়। বৈদেশিক মুদ্রার হার ঠিক হয়। পুঁজিবাজার একটু চাঙ্গা হয়। কয়েক মাসের মধ্যে মূল্যস্ফীতি কমে আসে। নীতিগুলোর ভালো দিক আছে অবশ্যই। আমরা যেরকম ওষুধ খাই ভালো হওয়ার জন্য। নীতিগুলোকে যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। যেমন ব্যাংকিং খাতে আমাদের সংস্কার করতে হবে। এর মধ্যে দ্বিমতের কিছু নাই। সরকার থেকেও অনেকে বলেন লিখিত বা অলিখিতভাবে। বিদেশিরাও বলেন। আমাদের রাজস্ব ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে। তা নাহলে সরকার বিপদগ্রস্ত হয়ে যাবে আগামীতে, অর্থের সংকুলান করতে পারবে না। সেগুলো নিয়েও কোনো দ্বিমতের কিছু নাই। এখানে আমি মনে করি আইএমএফের সঙ্গে সরকার বসবে। বসে সুন্দর এটি বাস্তবায়নযোগ্য নীতি বের করবে। যেটা আমাদের দেশের জন্য ভালো হবে এবং আমাদের যে আর্থিক খাত ও রাজস্ব খাত এই জায়গাগুলোতে সংস্কার এনে আমাদেরকে একটি শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে, এখনো কিন্তু আমরা সেই জায়গাটা দেখি নাই। সেই ডিটেইলসগুলো আমরা পাই নাই। আমার মনে হয়, সেই ডিটেইলসগুলো ওয়ার্কআউট করা হয়নি। এগুলো হয়তো আগামী মাসগুলোয় তারা করবে।
আমরা আশা করি সরকার আইএমএফ এবং দেশের যারা অভিজ্ঞ লোক আছেন। সরকার তাদের সঙ্গে বসে এই কার্যক্রমটা যেন হাতে নেয়। আইএমএফ চাপিয়ে দিচ্ছে বলে আমরা করছি এটা ঠিক নয়। আমাদের জন্য দরকার আছে সেটা মেনে নিয়েই যেন এই কার্যক্রম শুরু করা হয়।
আইএমএফের ঋণের শর্ত নিয়ে সবচেয়ে বেশি কথা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনের আগে সরকার আইএমএফের শর্তগুলো ঠিকমতো মানতে পারবে না। সে ক্ষেত্রে কী হবে?
হাঁ, এটা ঠিক যে, আইএমএফের ঋণে অনেক সময় অনেক শর্ত থাকে। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটা ছিল না। মনে রাখতে হবে, বাংলাদেশ কিন্তু বিপদে পড়ে এই ঋণ নেয়নি। আমাদের অবস্থাটা কিন্তু পাকিস্তানের মতো নয়। পাকিস্তানে তাদের কিন্তু এক্সচেঞ্জ রেটকে ফ্লোট করে দিতে হয়েছে। আইএমএফের প্রত্যাবর্তনের পূর্বশর্ত হিসেবে। আমারা তো সেই রকম অবস্থার মধ্যে পড়িনি। আমাদের সেরকম কোনো শর্ত দেয় নাই। আমাদের অবস্থাটা ভিন্ন। আমাদের শর্তগুলো ভিন্ন। আমাদের দেশে যারা অভিজ্ঞ, সে লোকেরা আসেন। আমাদের খাতগুলো নিয়ে যারা চিন্তাভাবনা করেন। তাদের সাজেশনগুলো আমলে নিয়ে যারা এই খাতে কর্মরত আছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে ব্যবহার করে আমরা যদি করতে পারি অবশ্যই আমরা একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনতে পারব।
যদি বাংলাদেশ আইএমএফের কথামতো কাজ না করে, তাহলে মাঝপথে এসে ঋণের কিস্তি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো শঙ্কা আছে কী?
সে আশঙ্কা আছে। আইএমএফ যে কারণে টাকাটা দিচ্ছে, সেই কাজ যদি ঠিকঠাক মতো না হয়, তাহলে টাকাটা আটকে যেতে পারে, বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো সময় বাংলাদেশ ঠিকভাবে আইএমএফের কথামতো সংস্কার বাস্তবায়ন করেছে, পুরো টাকাই পেয়েছে। আবার নতুন ভ্যাট আইন সরকার বাস্তবায়ন করতে পারে নাই। আইএমএফ কিন্তু তখন এই প্রোগ্রামটাকে বন্ধ করে দেয়। তখন কিন্তু আইএমএফ আর টাকা দেয়নি। তখন আমাদের প্রচুর রিজার্ভ ছিল, আমরা তোয়াক্কা করিনি। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমরা কিছু রিফর্ম করতে গিয়ে কিছু গোষ্ঠীর চাপে আমরা সেটাকে পরিবর্তন করি। যেটা আগের চাইতেও খারাপ একটি আইনে পরিবর্তিত হয়। এটা আইএমএফের ক্ষেত্রে সমর্থন করা উচিত ছিল না, করে নাই। আমরা যে সংস্কারগুলো করব, সেগুলো যে চাপে পড়ে করব সেটা নয়। আমরা আমাদের ভালোর জন্য করব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে আমাদের কাজ করতে হবে। যে সংস্কারগুলো আমরা করব সেগুলো কিন্তু নতুন কিছু নয়। পৃথিবীর বহু দেশে এগুলো করা হয়ে থাকে, এগুলো নতুন কিছু নয়। আমরা এখানে অবহেলা করেছি। বিশৃঙ্খলা করেছি। এসব কারণে আমরা খারাপ অবস্থায় পড়ে গেছি। আমাদের এখান থেকে উত্তরণ করতে হলে আমাদের সংস্কারগুলো ঠিকমতো করতে হবে।
আপনি বারবার বলছেন, আমাদের নিজেদের স্বার্থেই সংস্কারগুলো করা উচিত, অনেক আগেই এগুলো করা দরকার ছিল। যদি সরকার সত্যিই সংস্কারগুলো করে, তাহলে আমাদের অর্থনীতিতে কী পরিবর্তন আসবে বলে আপনি মনে করেন?
একটা কথা মনে রাখতে হবে, বৈশ্বিক কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে, সেটা কিন্তু যুগ যুগ ধরে চলবে না। একদিন না একদিন স্বাভাবিক হবে, স্থিতিশীল হবে। তখন কিন্তু একটি নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে। অতীতের সংকটের সময়ও তেমনটা দেখা গেছে। সেই সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এখন থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে হবে। বিশ্ব পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে, মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়বে, আবার আগের মতো জিনিসপত্র কিনবে মানুষ। সেই সুযোগটাকেই আমাদের কাজে লাগাতে হবে, নতুন সম্ভাবনার ওই বাজারটাকে ধরতে হবে। আমাদের একটা সুযোগ এসেছে, আইএমএফ টাকার বিনিময়ে যেসব ভালো সংস্কারের কথা বলছে, সেগুলো নিজেদের স্বার্থের জন্য খুবই দরকার মনে করে বাস্তবায়ন করতে হবে। আর যদি আমরা এটা করতে পারি, তাহলে আমি জোর দিয়ে বলতে পারি, আমাদের পক্ষে ৮-৯ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করা সম্ভব।
বর্তমানে আমাদের মূল্যস্ফীতির একটি চাপ আছে। আমাদের ডলারের একটি সংকট চলছে। পর্যাপ্ত ডলার বাজারে নেই। আমাদের দেশে টাকার সংকট দেখা দিচ্ছে। ব্যাংকিং খাতে ডিপোজিট (আমানত) কমে যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, সামগ্রিক অর্থনীতিতে টাকার সংকট আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে সংকট সমাধানের চেষ্টা করেছে। এগুলোর সব কিন্তু এমনি এমনি হয়নি। সবকিছু কিন্তু বাইরের দোষ না। এগুলোর পেছনে আমাদের নীতিগত সমস্যা আছে। আমাদের আশা সরকার এই সুযোগে এসব সমস্যার সমাধান করবে। আমাদের সবার জন্য তা ভালো হবে, দেশের জন্য মঙ্গল হবে। আইএমএফের প্রোগ্রাম সেই উদ্দেশ্যেই কাজ করুক, সেটাই আমরা চাই। সরকার রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে সেটাকে বাস্তবায়ন করে সেই জায়গাটাতে নিয়ে যাক।
আন্তর্জাতিক পণ্যবাজার বা ইন্টারকন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) অপরিশোধিত চিনির সরবরাহ কমে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। গত শুক্রবার প্রকাশিত এক্সচেঞ্জের এক বিজ্ঞপ্তির বরাতে বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, এবার মে মাসের চুক্তিতে মাত্র ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৬৪৩ টন চিনি সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন সরবরাহের রেকর্ড।
পণ্যবাজারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ৯ হাজার ৫২০ লট চিনির বিশাল একটি অংশ বা প্রায় ৩ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন আসবে ব্রাজিল থেকে। দেশটির সান্তোস, পারানাগুয়া ও মাসেইও বন্দর থেকে এই চিনি জাহাজীকরণ করা হবে। এছাড়া বাকি চিনি মধ্য আমেরিকার পাঁচটি দেশ এবং মেক্সিকোর কোয়াটজাকোয়ালকোস বন্দর থেকে সরবরাহ করা হবে। গত বছরের মে মাসে চিনির সরবরাহের পরিমাণ যেখানে প্রায় ৩০ হাজার লট ছিল, সেখানে এবার তা কমে মাত্র ৯ হাজার ৫২০ লটে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ সরবরাহ কমেছে প্রায় তিন গুণেরও বেশি।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সরবরাহ কমে যাওয়ার এই প্রবণতাকে বাজারে ইতিবাচক বা ‘বুলিশ’ সংকেত হিসেবে দেখা হয়। এর অর্থ হলো, ব্যবসায়ীরা এখন সরাসরি খোলা বাজার থেকে লেনদেনে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং এক্সচেঞ্জের বাইরে তারা পণ্যের আরও ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ দেখছেন। বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ফরাসি প্রতিষ্ঠান ‘সুকডেন’ এই চালানের প্রধান সরবরাহকারী হিসেবে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ৪০০ টন চিনি সরবরাহ করেছে, যা ব্রাজিলীয় সমবায় প্রতিষ্ঠান কোপারসুকার নিয়ন্ত্রণাধীন কোম্পানি ‘আলভিয়ান’ কিনে নিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের এই ঘাটতির খবর প্রচার হওয়ার পরপরই চিনির দামে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। নিউইয়র্কের বাজারে গতকাল চিনির দাম ২ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি পাউন্ড প্রায় ১৫ সেন্টে দাঁড়িয়েছে, যা গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, ব্রাজিলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা এবং সরাসরি বাজার থেকে পণ্য ক্রয়ের এই প্রবণতা চিনির বাজারকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। এর ফলে খুচরা বাজারেও পণ্যটির দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মার্কিন শেয়ারবাজারের প্রধান সূচকগুলো তাদের রেকর্ড উচ্চতা থেকে নিচে নেমে এসেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে সংবাদ সংস্থা এপি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত কার্যদিবসে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে তার পূর্বের সর্বোচ্চ অবস্থান হারিয়েছে। পাশাপাশি ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ১ দশমিক ১ শতাংশ এবং ন্যাসডাক কম্পোজিট দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে দরপতন হলেও সবচেয়ে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে জ্বালানি তেলের বাজারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্টের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১১৪ ডলার ৪৪ সেন্টে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দাবি করেছে যে তারা ইরানের আক্রমণের শিকার হয়েছে—আর এই খবরটিই মূলত জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
বর্তমানে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় পারস্য উপসাগরে কয়েকশ জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যমান সংঘাত শুরু হওয়ার আগে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে তা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান যুদ্ধ কতদিন দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা থাকলেও মার্কিন শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত যথেষ্ট স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে এবং মাঝেমধ্যেই রেকর্ড গড়ছে। ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকদের মধ্যে এখনো এই আশা রয়েছে যে, বৈশ্বিক অর্থনীতি চরম বিপর্যয় এড়াতে সক্ষম হবে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী মুনাফা দীর্ঘমেয়াদে শেয়ারের দাম ধরে রাখতে সহায়তা করছে। এ প্রসঙ্গে ব্যাংক অব আমেরিকার স্ট্র্যাটেজিস্ট সাভিতা সুব্রামানিয়ান জানিয়েছেন, “এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে গড় কোম্পানিগুলোর প্রবৃদ্ধি ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ হতে পারে।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্ব শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। প্রযুক্তি খাতের শেয়ারের ওপর ভর করে দক্ষিণ কোরিয়ার সূচক ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং হংকংয়ের সূচক ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ছুটির কারণে এদিন চীন ও জাপানের মূল শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘসময় অবরুদ্ধ থাকা এবং বৈরী প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে কৃষিজাত পণ্যের দাম গত দুই বছরের মধ্যে রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। পর্যাপ্ত সারের অভাব এবং ফলন হ্রাসের আশঙ্কায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তীব্রতর হচ্ছে, যা বিশ্বজুড়ে সাধারণ ভোক্তাদের জন্য এক বিশাল উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হেলেনিক শিপিং নিউজ-এর প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক পরিস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, শীর্ষ দশটি কৃষিপণ্যের মূল্যের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত ‘ব্লুমবার্গ এগ্রিকালচার স্পট ইনডেক্স’ সূচকটি টানা তিন মাস ধরে ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে এই সূচক ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সবথেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে বিশ্ববাজারের সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পাশাপাশি তীব্র খরা আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। বিশেষ করে সার আমদানিতে বিঘ্ন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
কৃষিজাত পণ্যের মধ্যে গম ও ভুট্টার বাজার সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে (সিবিওটি) গত ফেব্রুয়ারি থেকে গমের দাম প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একইভাবে ভুট্টার দামও গত দুই মাসে ৬ শতাংশ বেড়ে এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। উৎপাদনকারী দেশগুলোর কৃষকরা জানিয়েছেন, সার ও জ্বালানির অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের কারণে তাঁরা চাষাবাদের জমির পরিমাণ কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফ্রান্সে সারের দাম বাড়ার ফলে কৃষকরা ভুট্টা চাষ কমিয়ে দেওয়ায় প্যারিসের বাজারে ভুট্টার মূল্য ১৪ মাসের মধ্যে শিখরে পৌঁছেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গম উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোতে দীর্ঘস্থায়ী খরার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়ার প্রতিকূল আবহাওয়া ফলন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি যদি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে উৎপাদন খরচ আরও বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর। বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর এই অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
চীনের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) প্রস্তুতকারক কোম্পানি বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দামে গাড়ি বিক্রির অনন্য এক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিশেষায়িত বিলাসবহুল ব্র্যান্ড ‘ইয়াংওয়াং’-এর অত্যাধুনিক সুপারকার ‘ইউ৯ এক্সট্রিম’ সম্প্রতি ২৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার বা ২ কোটি ইউয়ানেরও বেশি মূল্যে বিক্রি হয়েছে। বেইজিং অটো শো ২০২৬-এ গাড়িটির প্রদর্শনী চলাকালেই এই বিশেষ লেনদেনটি সম্পন্ন হয় বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বিওয়াইডির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা লি ইউনফেই এই সাফল্যের বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ‘এবারের প্রদর্শনীতে এটিই ছিল সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হওয়া গাড়ি।’ প্রতিষ্ঠানটি এই মডেলের মাত্র ৩০টি গাড়ি তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে এর বিশেষত্ব ও বিরলতা বজায় থাকে। গতির দিক থেকেও গাড়িটি তাক লাগিয়ে দিয়েছে; জার্মানির বিখ্যাত রেসিং ট্র্যাকে এটি রেকর্ড সময় ৬ মিনিট ৫৯ দশমিক ১৫৭ সেকেন্ডে ল্যাপ শেষ করেছে। এছাড়া চীনের একাধিক নামকরা রেসিং সার্কিটেও এই সুপারকারটি নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকে ‘ইউ৯ এক্সট্রিম’ এক দানবীয় শক্তি ধারণ করে। এতে তিন হাজার হর্সপাওয়ারের বেশি ক্ষমতা সম্পন্ন মোটর এবং ১ হাজার ২০০ ভোল্টের শক্তিশালী বৈদ্যুতিক সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপদ ও মসৃণ যাত্রার জন্য এতে বিওয়াইডির নিজস্ব ‘ডাইসাস-এক্স’ সাসপেনশন এবং উচ্চমানের কার্বন-সিরামিক ব্রেক ডিস্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
একই প্রদর্শনীতে ইয়াংওয়াং তাদের নতুন বিলাসবহুল ফোর-সিটার এসইউভি ‘ইউ৮এল’ সর্বসাধারণের জন্য উন্মোচন করেছে। উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি এই মডেলটি বাজারে মার্সিডিজ-বেঞ্জের মেব্যাক সিরিজের সঙ্গে সরাসরি পাল্লা দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে ইয়াংওয়াং ব্র্যান্ডটি চীনে ৯৪৫টি গাড়ি বিক্রি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। কার নিউজ চায়না’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিওয়াইডি এখন গণবাজারের পাশাপাশি অভিজাত ও উচ্চমূল্যের অটোমোবাইল বাজারেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে সচেষ্ট রয়েছে।
সূত্র- কার নিউজ চায়না
দেশের বাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের নিম্নমুখী সংশোধন এনেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪০ হাজার ৩৩৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে এবং আজ সকাল ১০টা থেকেই এই নতুন হার কার্যকর হয়েছে।
স্বর্ণের দাম কমানোর কারণ হিসেবে বাজুস জানিয়েছে, “স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।” এই সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুসারে, বর্তমানে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৯ হাজার ৪৩১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৫৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬০ হাজার ১৪৭ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল সবশেষ দাম বাড়ানো হয়েছিল, তখন ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকা।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট ৬১ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ২৮ বার কমানো হয়েছে। অন্যদিকে, বিগত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দামের হেরফের হয়েছিল, যার মধ্যে ৬৪ বার বৃদ্ধি ও ২৯ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছিল।
স্বর্ণের মূল্যে পরিবর্তন আসলেও রুপার বাজার দর এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৪৮২ টাকায় স্থির রয়েছে এবং অন্যান্য মানের রুপার দামও আগের হারেই বজায় আছে। চলতি বছর রুপার দাম এ পর্যন্ত ৩৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ বার বৃদ্ধি এবং ১৭ বার হ্রাসের ঘটনা ঘটেছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী সিকদার গ্রুপ অব কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রন হক সিকদার মারা গেছেন। সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, শারীরিক নানা জটিলতা দেখা দিলে গত সপ্তাহে তাঁকে দুবাইয়ের ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় আজ তিনি মারা যান।
রন হক সিকদার ছিলেন বাংলাদেশের ব্যবসা জগতের এক পরিচিত নাম। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে সিকদার গ্রুপ ব্যাংকিং, বিদ্যুৎ উৎপাদন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে অভাবনীয় প্রসার ঘটিয়েছে। বিশেষ করে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন সাহসী পদক্ষেপ জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বাইরে রন হক সিকদার সমাজসেবামূলক কাজেও ছিলেন অগ্রণী। শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে তিনি ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়মিত পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতেন। দেশের করপোরেট অঙ্গনে তিনি একজন প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
তাঁর এই অকাল প্রয়াণে দেশের করপোরেট ও বাণিজ্যিক মহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো আয়ের ধারাবাহিক প্রবাহ দেশের অর্থনীতির পালে নতুন হাওয়া দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোমবারের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি মে মাসের প্রথম তিন দিনেই দেশে ৩১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রাপ্তি ছিল মাত্র ৮৮ মিলিয়ন ডলার; সেই তুলনায় এবার প্রবাসীদের পাঠানো আয়ের পরিমাণ ২৬০ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই থেকে ৩রা মে পর্যন্ত সামগ্রিক রেমিট্যান্স প্রবাহের চিত্রটিও বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সময়ে মোট ২৯ হাজার ৬৪৮ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স দেশে এসেছে। এর আগে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ২৪ হাজার ৬২৫ মিলিয়ন ডলার, যার তুলনায় এবারের অঙ্কটি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারা বাংলাদেশের বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ঢাল হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির সক্ষমতা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধিতে এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে
দেশের পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যসীমার কারণে সৃষ্ট স্থবিরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। বাজারের স্বাভাবিক ছন্দ ও লেনদেনের গতি পুনরুদ্ধার করতে সংগঠনটি অবিলম্বে এই কৃত্রিম মূল্যসীমা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে আজ সোমবার পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নিকট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে ডিবিএ।
সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, ফ্লোর প্রাইস আরোপের ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত লেনদেনহীন অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া চিঠিতে ডিবিএ আরও জানিয়েছে যে, “ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিসহ ফ্লোর প্রাইসযুক্ত শেয়ারগুলো ৩ মে ফ্লোর প্রাইসে অবস্থান করায় বিক্রেতাদের জন্য স্বাভাবিক লেনদেন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে।” সংগঠনটির মতে, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা বাজারের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করছে।
ডিবিএ তাদের চিঠিতে সতর্ক করে বলেছে যে, ফ্লোর প্রাইসজনিত এই দীর্ঘমেয়াদি লেনদেন সীমাবদ্ধতা মার্জিন ঋণ গ্রহণকারী বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে নেতিবাচক ইক্যুইটির ঝুঁকি অনেকাংশে বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, বাজারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি এ ধরনের কৃত্রিম নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে এবং বাজারের সক্ষমতা সম্পর্কে বিশ্বে নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
এই সংকটময় প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট শেয়ারগুলোর ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস দ্রুত সরিয়ে নিয়ে বাজারে স্বাভাবিক লেনদেনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য বিএসইসির প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে ডিবিএ। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজারের স্থবিরতা কাটিয়ে পুনরায় গতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে সংগঠনটি জোরালো আশা প্রকাশ করেছে।
রাজধানীর উত্তরায় অবস্থিত বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য ‘বিজিএমইএ মো. রিয়াজউদ্দীন ডে-কেয়ার সেন্টার’-এর পথচলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিশেষ এই সেন্টারের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী এই বিশেষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম এবং সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরও যোগ দেন সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল এবং ভারপ্রাপ্ত সচিব মেজর মো. সাইফুল ইসলামসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মীবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মাহমুদ হাসান খান কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, “বিজিএমইএ’র কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই সংগঠনের মূল চালিকাশক্তি। কর্মজীবী মা-বাবার সন্তানদের নিরাপত্তা ও সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আধুনিক এই ডে-কেয়ার সেন্টার চালু করা হয়েছে। এর ফলে কর্মীরা সন্তানদের নিরাপদ পরিবেশে রেখে আরও নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।”
সংস্থাটি সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য অত্যন্ত আধুনিক ও সময়োপযোগী সুযোগ-সুবিধার সমন্বয়ে এই সেন্টারটি সুসজ্জিত করা হয়েছে। এখানে আনন্দঘন খেলাধুলার জায়গা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিজ্ঞ তত্ত্বাবধায়ক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্য এবং বিকাশ নিশ্চিত করা সহজতর হবে।
উদ্বোধন পর্ব শেষে বিজিএমইএ সভাপতি এবং সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ সেন্টারের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন কক্ষ এবং শিশুদের জন্য রাখা আধুনিক উপকরণসমূহ পরিদর্শন করেন। কার্যালয় প্রাঙ্গণেই এমন একটি অনন্য সুবিধা চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বস্তি প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এর ফলে তাঁদের পেশাগত জীবনে বাড়তি মানসিক প্রশান্তি কাজ করবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এস আলম গ্রুপের প্রভাবাধীন ছয়টি ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক ব্যাংকে জনবল নিয়োগে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশেষ করে ভুয়া শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার, অস্বচ্ছ উপায়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ এবং কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ছাড়াই হাজার হাজার কর্মী নিয়োগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিজস্বভাবে তদন্ত চালিয়ে বিপুলসংখ্যক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করলেও পুরো নিয়োগ ও ছাঁটাই প্রক্রিয়াটি যথাযথ আইনি কাঠামো মেনে হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে এই তদন্তে নেমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ পরিদর্শক দল ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে, যারা মূলত নিয়োগের আগে জাতীয় গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার উপস্থিতি এবং প্রার্থীদের সনদের সত্যতা যাচাইয়ের মতো বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করছে। তদন্তের আওতায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো— ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে কাঠামোগত সংকট তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতির গভীরতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর একটি ৭ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই বিষয়ে জানিয়েছেন যে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তা আদালতেও উপস্থাপন করা হতে পারে। মূলত নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত স্বচ্ছতা ছিল কি না, তা নিশ্চিত করাই এই কমিটির প্রধান কাজ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার আগে ২০১৬ সালের শেষে ইসলামী ব্যাংকের মোট জনবল ছিল ১৩ হাজার ৫৬৯ জন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত সেখানে আরও প্রায় ১১ হাজার নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রায় ৮ হাজার ৩৪০ জনকে কোনো ধরনের প্রকাশ্য বিজ্ঞপ্তি বা পরীক্ষা ছাড়াই সরাসরি চাকরিতে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এই বিশাল জনবল নিয়োগের বৈধতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ-এর মাধ্যমে একটি বিশেষ যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করা হলেও ৫ হাজার ৩৮৫ জন অভিযুক্ত কর্মীর মধ্যে মাত্র ৪১৪ জন তাতে অংশগ্রহণ করেন। যারা পরীক্ষায় অংশ নেননি বা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের প্রথমে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয় এবং পরবর্তীতে পর্যায়ক্রমে চাকরিচ্যুত করা হয়। এই ছাঁটাই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে গত ১৯ এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের সামনে বিক্ষোভ করেন ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীরা, যাদের দাবি শুধু চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকেই প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ নামে আরেকটি পক্ষ ছাঁটাইয়ের সমর্থনে পাল্টা কর্মসূচি পালন করে।
বর্তমানে এই নিয়োগ ও ছাঁটাই সংক্রান্ত বিষয়টি উচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিয়োগ প্রদান বা চাকরি বহাল ও বাতিলের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ওই ব্যাংকের নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদ ও নীতিমালার এখতিয়ারভুক্ত।
দক্ষিণ কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী স্যামসাংয়ের চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ং এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা দেশটির ইতিহাসের সর্বোচ্চ উত্তরাধিকার কর পরিশোধের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বা ১২ ট্রিলিয়ন ওন সমপরিমাণের এই বিশাল কর বিলটি গত পাঁচ বছর ধরে মোট ছয়টি কিস্তিতে পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। মূলত ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রয়াত হওয়া স্যামসাংয়ের তৎকালীন চেয়ারম্যান লি কুন-হির রেখে যাওয়া বিপুল সম্পত্তির ওপর এই কর ধার্য করা হয়েছিল।
লি কুন-হির প্রায় ২৬ ট্রিলিয়ন ওন সমমূল্যের সম্পদের ওপর দক্ষিণ কোরিয়ার প্রচলিত নিয়মানুযায়ী প্রায় ৫০ শতাংশ হারে এই বিশাল কর নির্ধারিত হয়। এই নজিরবিহীন কর পরিশোধের প্রক্রিয়ায় চেয়ারম্যান লি জে-ইয়ংয়ের সঙ্গে তাঁর মা হং রা-হি এবং দুই বোন লি বু-জিন ও লি সিও-হিউন যুক্ত ছিলেন। পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল, কারণ এত বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিবারের নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার একটি আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। উল্লেখ্য যে, এই পরিশোধিত করের অঙ্ক ২০২৪ সালে দেশটির মোট আদায়কৃত উত্তরাধিকার করের তুলনায় প্রায় দেড় গুণ বেশি।
প্রয়াত চেয়ারম্যানের রেখে যাওয়া সম্পদের তালিকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি পাবলো পিকাসো এবং সালভাদর দালির মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের অমূল্য শিল্পকর্মও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে এসকল শিল্পকর্মের একটি বড় অংশ ইতিপূর্বে জাতীয় জাদুঘর ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে প্রদান করা হয়েছে। এই বিশাল কর পরিশোধের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, কর দেওয়া নাগরিকদের স্বাভাবিক দায়িত্ব। ১৯৩৮ সালে লি বিং-চুলের প্রতিষ্ঠিত স্যামসাং বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার সর্ববৃহৎ ‘চ্যাবল’ বা পরিবার-নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা গোষ্ঠী হিসেবে দেশটির অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে স্মার্টফোন, টেলিভিশন ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিশ্ববাজারে প্রধান শক্তি হিসেবে পরিচিত স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ার ফলে শেয়ারবাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স সূচকের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে এই পরিবারের সম্মিলিত সম্পদের আর্থিক মূল্য ৪৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে ভারী শিল্প ও নির্মাণ খাত পর্যন্ত বিস্তৃত এই সাম্রাজ্যটি এখনো সুসংহত পারিবারিক নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে।
জ্বালানি তেল সরবরাহ ও বিতরণে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকার মোট ৬৮টি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে ‘ফুয়েল পাস অ্যাপ’ এর ব্যবহার আবশ্যক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশেষভাবে জানানো হয়েছে যে, তালিকার ১ থেকে ১৮ নম্বর ক্রমিকের ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের পাশাপাশি “প্রাইভেট কারে জ্বালানি দেওয়ার জন্য ফুয়েল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।”
নির্ধারিত এই ৬৮টি ফিলিং স্টেশনের তালিকায় রয়েছে আসাদগেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সততা অ্যান্ড কোম্পানি, কামাল ট্রেডিং এজেন্সি, সিটি ফিলিং স্টেশন, আইডিয়েল ফিলিং স্টেশন, ক্লিন ফুয়েল ফিলিং স্টেশন এবং সিকদার ফিলিং স্টেশন। মহাখালী ও বনানী এলাকার গুলশান সার্ভিস স্টেশন, ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ, চন্দা মাহজাবীন (সিএম) ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনেও এই নিয়ম কার্যকর হবে। উত্তরার সেবা গ্রিন ফিলিং স্টেশন, মাসুদ হাসান ফিলিং স্টেশন, কসমো ফিলিং স্টেশন, উত্তরা ফিলিং স্টেশন এবং জি. এফ. ট্রেডিং (ডিএল ফিলিং স্টেশন) এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। মিরপুর ও গাবতলী এলাকার খালেক সার্ভিস স্টেশন, মেসার্স এস.পি. ফিলিং স্টেশন, স্যাম এসোসিয়েটস, সুমাত্রা ফিলিং স্টেশন, ডেনসো ফিলিং স্টেশন, আল মাহমুদ ফিলিং স্টেশন, কমফোর্ট ফিলিং স্টেশন, এ. এস. ফিলিং স্টেশন ও সোবহান ফিলিং স্টেশনেও জ্বালানি নিতে অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
তালিকার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোর মধ্যে রয়েছে শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স, পূবালী ফিলিং স্টেশন, মেঘলা মডেল সার্ভিস সেন্টার ও বিনিময় সার্ভিস স্টেশন। এছাড়া নীলক্ষেতের মেসার্স পথের বন্ধু ও কিউ.জি সামদানী ফিলিং স্টেশন, নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার, হাটখোলা রোডের মেসার্স এ. হাই অ্যান্ড কোং এবং যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা এলাকার মেসার্স হক ফিলিং স্টেশন, মেসার্স সিটি ফিলিং স্টেশন, মেসার্স মুন সিএনজি, সান্টু ফিলিং স্টেশন, রাজধানী ফিলিং স্টেশন, মুক্তি ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স আসমা আলী সিএনজি স্টেশন। রায়েরবাজারের মেসার্স সাদেক ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স জে এম এক্সপ্রেস, শ্যামপুরের এস. আহমেদ ফাউন্ডেশন এবং খিলগাঁও ও বনশ্রী এলাকার মেসার্স কিকো ও মেসার্স সিকদার ফিলিং স্টেশনেও মোটরসাইকেল চালকদের ফুয়েল পাস ব্যবহার করতে হবে। ঢাকা সেনানিবাসের সিএসডি ফিলিং স্টেশন, কেরানীগঞ্জের আলহাজ্ব নূর ফিলিং স্টেশন, সায়েদাবাদের পৌর ফিলিং স্টেশন এবং জুরাইন, মুগদা, মালিবাগ, রাজারবাগ, নিউ এলিফ্যান্ট রোড, ধানমন্ডি ও বাড্ডা এলাকার নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় অবশ্যই গ্রাহকদের ফুয়েল পাস অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।
দীর্ঘ চার বছরের বিরতি কাটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনরায় গম রপ্তানি শুরু করেছে ভারত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাম্পার ফলন এবং অভ্যন্তরীণ মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর প্রেক্ষিতে দেশটির সরকার এই রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ভারতের বৃহৎ ভোগ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান আইটিসি গুজরাটের কান্দালা বন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশে ২২ হাজার টন গম রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২০২২ সালে দেশটিতে তীব্র তাপদাহের কারণে গম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে অভ্যন্তরীণ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত সরকার গম রপ্তানির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যা ২০২৩ ও ২০২৪ সালেও বলবৎ ছিল। বর্তমানে মজুত পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় নরেন্দ্র মোদির সরকার চলতি বছরের শুরুতে প্রথমে ২৫ লাখ টন এবং গত মাসের শেষে আরও ২৫ লাখ টন গম রপ্তানির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
তবে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে ভারতকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্ট্রেলিয়া বা কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের গমের তুলনায় ভারতীয় গমের দাম অন্তত ২০ ডলার বেশি। বিশ্ববাজারে যেখানে প্রতি টন গমের দাম ২৯০ থেকে ৩০০ ডলার, সেখানে ভারতীয় গমের জন্য আমদানিকারকদের গুনতে হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ ডলার। যদিও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার ফলে জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় কিছু এশীয় ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দ্রুত সরবরাহের সুবিধার্থে ভারতের দিকে ঝুঁকছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ভারত থেকে গম রপ্তানির এই ধারা মূলত জরুরি প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ থাকবে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের ৩০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে শিপমেন্ট প্রয়োজন, তারাই এখন ভারতীয় গমের প্রধান ক্রেতা। অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদী মজুতের ক্ষেত্রে আমদানিকারকরা এখনও আর্জেন্টিনা বা রাশিয়ার মতো তুলনামূলক সস্তা উৎসের ওপর নির্ভর করছেন। তবে বিশ্ব গমের বাজারে ভারতের এই প্রত্যাবর্তনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।