মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

কিস্তিতে এসি বিক্রি বাড়ছে

কিস্তিতে এসি বিক্রি বাড়ছে
শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র: ফাইল ছবি।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • কিস্তিতে ১২ মাসে টাকা পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

  • কোনো কোনো ব্র্যান্ড দিচ্ছে ১৮ মাসের কিস্তির সুবিধা।

গুলশানের একটি বেসরকারি অফিসের চাকুরে মোহাম্মদ হাসান কিস্তিতে ব্যাংকের কার্ড দিয়ে এসি কিনবেন। বিভিন্ন ব্যান্ডের এসি থেকে নিজের পছন্দেরটি খুজে নিতে খোঁজ নিচ্ছেন বিভিন্ন শোরুমে।

গুলশানের ইলেকট্রোমার্টের শোরুমে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘যে বেতন পাই, তাতে এক সঙ্গে সব টাকা শোধ করে এসি কিনতে গেলে পুরো মাসের টাকাই খরচ হয়ে যাবে। কিন্তু কিস্তির কারণে তা কেনা অনেক সহজ হচ্ছে। হয়তো মাসে কিছু খরচ বাড়বে। তবে পুরো টাকা শোধ দিতে হবে এক বছরে, ১২ কিস্তিতে। সময় মতো পরিশোধ করতে পারলে সুদও দিতে হবে না। এতে এক সঙ্গে টাকা শোধের চাপ থাকল না। আবার এই গরম থেকে খানিকটা আরামও পাওয়া গেল।’

বৈশাখে দিনে দিনে তাপমাত্রা বাড়ছে। পারদের মাত্রার চেয়েও অনুভুত হচ্ছে বেশি গরম। অসহনীয় গরমে শান্তির পরশের আশায় সামর্থ্যবানরা ঝুঁকছেন এসির দিকে। পাশাপাশি কিস্তি সুবিধার কারণে গত কয়েক বছরে মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তরাও এসির ক্রেতা হিসাবে হাজির হচ্ছেন। বিলাসী পণ্য ছেড়ে এসি হয়ে উঠেছে জরুরি গার্হস্থ যন্ত্র।

দেশের বাজারে পাওয়া প্রায় সবগুলো ব্র্যান্ডের এসিতেই পাওয়া যাচ্ছে কিস্তি সুবিধা। ছয় থেকে ১২ মাসের কিস্তিতে পরিধোশ করা যাচ্ছে এসির দাম। কোনো কোনো ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে মিলছে ১৮ মাসের কিস্তির সুবিধাও। সময় মতো কিস্তি শোধ করলে বাড়তি টাকা বা সুদও দিতে হচ্ছে না। দেশের প্রায় সবগুলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের গ্রাহক এ সুবিধা পাচ্ছেন। আবার নগদে কিনলে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ও দিচ্ছে ব্র্যান্ডগুলো।

ইলেকট্রোমার্টের গুলশান-১ শাখার ইনচার্জ ইলিয়াস হারুন বলেন, ‘যে গরম পড়েছে, তাতে অতিষ্ট হয়ে মানুষ এসির জন্য আসছে। তাদের সুবিধার জন্য আমরা নগদে ১০ শতাংশ ছাড় এবং কিস্তিতে সর্বোচ্চ ১২ মাসের সুবিধা দিচ্ছি। আমাদের কাছে বেশ কয়েকটি ব্র্যান্ডের এসি রয়েছে। দামেও সেগুলো নাগালের মধ্যে। এক টনের দাম ৩৩ হাজার টাকায় শুরু। যাদের সাধ্য কম, তাদের অনেকে শুধু শোবার ঘরের জন্যই এক টনের এসি কিনে নিচ্ছেন, যেন অন্তত রাতের বেলায় আরামে ঘুমাতে পারেন। এতে এপ্রিল থেকে এসি বিক্রি আগের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। বড় ক্ষমতার এসির চাহিদাও রয়েছে তবে তা উচ্চবিত্তদের মধ্যেই বেশি।’

কংকা, গ্রি, তোশিবা, ডাইকিন, হাইকো ব্র্যান্ডের এসির আমদানি ও বিক্রি করে ইলেকট্রোমার্ট লিমিটেড। কিস্তি সুবিধা মিলছে এলজি, বাটারফ্লাই, সিঙ্গার, জেনারেল, মিডিয়া, হায়ার, ওয়ার্লপুল, সনি, প্যানাসনিক, ফিশার অ্যান্ড পেইকেল, ক্যারিয়ার, শার্প, ট্রান্সটেক ও স্যামসাংসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের এসি কিনতেও।

গুলশানের নাভানা শপিং কমপ্লেক্সের অ্যাসেট ইলেকট্রনিক্সের বিক্রেতা এরশাদ জানান, গত কয়েক দিনে এসির বিক্রি অনেক বেড়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন বেশিরভাগ আসছে মধ্যবিত্ত শ্রেণির। তার মধ্যে প্রায় সবাই কিস্তি সুবিধা দিয়ে এসি কিনে নিচ্ছেন। নগদ ক্রেতা খুবই কম। কিস্তি তাদের জন্য সুবিধা করে দিয়েছে। এককালীন তিন ভাগের এক ভাগ দাম পরিশোধ করে বাকিটা ছয় মাস থেকে এক বছরে দেয়ার সুযোগ রয়েছে।’

দেশি প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনও এসির বাজারে পিছিয়ে নেই। এই ব্র্যান্ডেরও কিস্তি সুবিধা রায়েছে। বাজারের অন্য সব এসির চেয়ে তাদের এসির দামও তুলনামূলক কম বলে দাবি করেন এর কর্মকর্তারা।

ওয়ালটনের বিজয় সরণি প্লাজার বিক্রয় কেন্দ্রের ম্যানেজার কুলসুম পারভীন বলেন, ‘মধ্যবিত্তের সামর্থ্য কম থাকায় তাদের মধ্যে এসির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে, এসির বাজারও বড় হচ্ছে। গমর বাড়ায় এসি বিক্রি অনেক বেড়েছে। সারা বছরের গড় চাহিদার গ্রীষ্মে দ্বিগুণ এসি বিক্রি হয়। এখন এসির বাজারে ওয়ালটনের অংশ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। গ্রাহকভেদে এসির চাহিদা নির্ভর করে। তবে আমাদের ক্রেতার বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত শ্রেণির। দেশের অর্ধেকের বেশি বাজার ধরাই আমাদের লক্ষ্য।’


ঋণখেলাপি ঝুঁকির দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ

ঋণখেলাপি ঝুঁকির দেশের তালিকায় নেই বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

২০২২ সালের মে মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণখেলাপি হয়ে যায়। দেশটির সরকারকে ৭৮ মিলিয়ন ডলারের সুদ পরিশোধের জন্য ৩০ দিন বাড়তি সময় দেয়া হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত দেশটি কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়।

এমন অবস্থায় একজন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে প্রশ্ন জাগতেই পারে আর কোন কোন দেশ শ্রীলঙ্কার মতো ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে?

বৈদেশিক ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এমন দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট। এই তালিকায় স্থান পাওয়া ২৫টি দেশের র‍্যাংক করতে তারা ব্লুমবার্গের ডেটা ব্যবহার করেছে।

তবে এই তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। বাংলাদেশ ঋণখেলাপি হতে পারে, এমনটা ভাবছে না কানাডাভিত্তিক সংবাদ প্রতিষ্ঠান ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্ট।

তবে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ হিসেবে তালিকায় নাম রয়েছে পাকিস্তানের।

সরকারি বন্ড, ৫ বছরের ডিফল্ট ক্রেডিট অদল-বদল, জিডিপিতে সুদের ব্যয়ের হার, জিডিপিতে সরকারি ঋণের হারের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকা করা হয়েছে।

তালিকায় প্রথম দেশটি এল সালভাদর। সম্প্রতি এল সালভাদর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সতর্কতা উপেক্ষা করে বিটকয়েনকে সরকারি মুদ্রা হিসেবে ঘোষণা করে। পাশাপাশি দেশটি বিটকয়েন কিনতে থাকে। কিন্তু বিটকয়েনের হটাৎ দরপতন দেশটির অর্থনীতিকে বিপর্যয়কর স্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিটকয়েনের দাম কমেছে প্রায় ৫৬ শতাংশ।

তালিকায় পরের দুটি দেশই আফ্রিকার। ঘানা ও তিউনিশিয়া।

তালিকার অধিকাংশ দেশও আফ্রিকার। এর মধ্যে রয়েছে নামিবিয়া, অ্যাঙ্গোলা, সেনেগাল, রুয়ান্ডা ও নাইজেরিয়ার মতো দেশ।

তালিকায় ৪ নম্বরে একমাত্র দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান।

এ ছাড়া তালিকায় আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, সাউথ আফ্রিকা, মেক্সিকো, মিসর ও তুর্কিয়ের মতো মোটামুটি শক্তিশালী অর্থনীতির দেশও রয়েছে।

সম্প্রতি তুর্কিয়েতে ব্যাপক মূল্যস্ফীতি দেখা দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ভোগাচ্ছে দেশটির সাধারণ নাগরিকদের। এদিকে রাশিয়ার সঙ্গে সস্তায় জ্বালানি তেল ও সার কেনার চুক্তি করে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে ব্রাজিল।

রাশিয়ার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়া ইউক্রেন আছে তালিকার ৮ নম্বর স্থানে। দেশটির বন্ডের দাম এখন ডলারে ৩০ সেন্ট। অর্থাৎ ইউক্রেনের ইস্যু করা ১০০ ডলারের বন্ডের দাম এখন মাত্র ৩০ ডলার।


বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম

বাড়তে পারে জ্বালানি তেলের দাম
ছবি সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অত্যধিক বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক অডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।

এতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েক দিন ধরেই লক্ষ করছি, ৬-৭ মাস ধরে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। যে তেল আমরা ৭০ থেকে ৭১ ডলারে কিনতাম সেটা এখন ১৭১ ডলার হয়ে গেছে। সেটা সব সময় বাড়তির দিকেই যাচ্ছে। আমরা বলে আসছি প্রথম থেকেই যে আমরা জ্বালানি তেলের দামে এডজাস্টমেন্টে যাব। আমরা নিজেদের অর্থে দিয়ে যাচ্ছি ভর্তুকিটা। তার পরও আমার মনে হয় আমাদের একটা সময় এডজাস্টমেন্টে যেতে হবে প্রাইসে।

‘সারা বিশ্বে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে বিভিন্ন ব্যবস্থা নিয়েছে। তেলের দাম তারা সমন্বয় করেছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের কথাই বলি, সেখানে প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ টাকা ডিফারেন্স লিটারপ্রতি বিভিন্ন তেলের ক্ষেত্রে।’

তিনি বলেন, ‘গ্যাস দিয়ে আমাদের ৬৪ শতাংশ বিদ্যুৎ চলে। আমাদের যে নিজস্ব গ্যাস, আমরা দিন দিন বাড়াচ্ছি আবার দিন দিন কমছেও। দুটো দিকই আছে। যেটা আমরা বাড়াচ্ছি, যে খনিগুলো থেকে আমরা পাচ্ছি, সেটা স্বল্প পরিমাণে পাচ্ছি। আর যেটা কমছে সেটা কমছে দ্রুতগতিতে। সেটাও আমরা প্রায় ১০ বছর থেকে বলে আসছি, আস্তে আস্তে গ্যাস কিন্তু ডিকলাইনের দিকে যাবে।

‘সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমরা যে এডজাস্টমেন্টটা করতাম, যে ঘাটতিটা ছিল গ্যাসে, সেটা আমরা ইমপোর্ট গ্যাস দিয়ে পূরণ করতাম। এর মধ্যে আমার দুটি ধারা, একটি হলো লং টার্ম কনটাক্ট সে প্রাইসটা ফিক্স করা। তুলনামূলক এই দামটা তেলের সঙ্গে ওঠানামা করে। আরেকটা হলো স্পট মার্কেট। এই মার্কেটের ডিমান্ড বেড়ে গেছে প্রচন্ডভাবে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তেল এবং গ্যাসের দাম প্রচন্ডভাবে এফেক্ট করেছে। ইউরোপের অধিকাংশ গ্যাস নেয় রাশিয়া থেকে। সেটা তারা এখন বন্ধ করে দিচ্ছে বলেই সব দেশ এই গ্যাসের ওপর (স্পট মার্কেট) প্রচন্ডভাবে নির্ভরশীল হয়ে গেছে।’

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। ফাইল ছবি

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘এ কারণে যেটা ৪ ডলারের গ্যাস, সেটা ৩০ ডলার হয়ে গেছে স্পট মার্কেটে। সেটা কিনতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অর্থের জোগান দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারি ভর্তুকি দিয়েও এটা সম্ভব হবে না, এই পরিমাণ অর্থ জোগান দেয়া। আমরা যদি শুধু দাম বাড়াতেই থাকি, তাহলে সাধারণ মানুষের ওপর প্রচন্ডভাবে চাপ তৈরি হবে। আমি আগে থেকেই বলে আসছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন কিছু করবেন না যাতে সাধারণ মানুষের ওপর বোঝা হয়ে থাকে। এর কারণে আমরা গ্যাসে সামান্য পরিমাণ মূল্য সংযোজন করেছি।

‘এখনও আমরা তেলে করিনি। আমি আশা করব, সবাই বিষয়টি বুঝতে পারবেন আর ধৈর্য ধরবেন। এটি খুব সাময়িক। আমাদের প্রচুর পাওয়ার প্ল্যান্ট আছে। কিন্তু গ্যাসের কারণে সেগুলোতে আমরা পাওয়ার জেনারেশন কমিয়ে দিয়েছি। আমরা প্রায়োরিটি দিয়েছি গ্যাসটাকে যে সার উৎপাদনে বেশি খেয়াল রাখব আর ইন্ডাস্ট্রিতে গ্যাসটা বেশি দেব। আপনাদের সবাই যদি গ্যাস ব্যবহারে মিতব্যয়ী হন তাহলে এটা আমরা নিশ্চয়ই মোকাবিলা করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আপনারা ভরসা রাখেন, নিশ্চয়ই অল্প সময়ের মধ্যে আমরা বিপদমুক্ত হব।’


সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকা

সোনার দামে রেকর্ড, ভরি ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকা
সবচেয়ে ভালো মানের সোনার ভরি এখন ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এবং ডলারের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে।

  • ভরিতে বেড়েছে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে দেশের বাজারে সোনার দাম এখন সর্বোচ্চ উচ্চতায়। প্রতি ভরি সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম ৮২ হাজার ৪৬৬ টাকা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই মূল্যবান এই ধাতুটি এত দামে বিক্রি হয়নি। তবে তবে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আগের দামেই বিক্রি হবে এই ধাতু।

আজ রোববার থেকে নতুন দর কার্য‌কর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম এবং ডলারের দাম বাড়ায় দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ৮ মার্চ দেশের বাজারে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৯ হাজার ৩১৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। তার চার দিন আগে ৪ মার্চ বাড়ানো হয়েছিল ভরিতে ৩ হাজার ২৬৫ টাকা।

এরপর বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমতে শুরু করায় গত ১৫ মার্চ দেশের বাজারে ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানোর ঘোষণা দেয় বাজুস। ২১ মার্চ কমানো হয় ভরিতে আরও ১ হাজার ৫০ টাকা। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় গত ১১ এপ্রিল সবচেয়ে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৮৪৯ টাকা নির্ধারণ করেছিল বাজুস। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমায় ২৫ এপ্রিল প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমানো হয়। সবশেষ ১০ মে একই পরিমাণ কমানো হয়েছিল। দুই দফায় ভরিতে ২ হাজার ৩৩২ টাকা কমানোর পর ১৭ মে ১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় বাজুস, ১৮ মে যা কার্য‌কর হয়। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে সোনার দাম এক ধাক্কায় ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়ানো হলো।

বাজুসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার ও অন্যান্য মুদ্রার দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার ও স্থানীয় বুলিয়ন মার্কেটেও সোনার মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানো হয়েছে। রোববার থেকে এই নতুন দর কার্য‌কর হবে।

দাম বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে বাজুসের সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি মুহূর্তে গোল্ডের দাম ওঠানামা করছে। এই বাড়ছে তো, ওই কমছে। গত এক সপ্তাহে দাম খানিকটা বেড়েছে। একইসঙ্গে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বেড়েছে বেশ খানিকটা। সে কারণে সবকিছু হিসাব করে আমরাও গোল্ডের দাম বাড়িয়েছি।’

দিলীপ কুমার আগারওয়ালা বলেন, ‘আমরা প্রতি মুহূর্তে বাজার পর্যবেক্ষণ করি। এখন বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে; আমরাও বাড়িয়েছি। দেশে সোনার দাম বাড়া বা কমা নির্ভর করে আসলে বিশ্ববাজারের ওপর। তবে এবার গোল্ডের দাম বাড়ানো হয়েছে মূলত মার্কিন ডলারের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে। ডলারের পাশাপাশি অন্যান্য মুদ্রার দামও বেশ বেড়েছে। এ কারণে গোল্ডের আমদানি খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে দাম বাড়ানো হয়েছে।’

বিশ্ববাজারে গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রতি আউন্স (৩১ দশমিক ১০৩৪৭৬৮ গ্রাম, ২ দশমিক ৬৫ ভরি) সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৮৪৬ ডলার ৫৩ সেন্ট। উল্লেখ্য, ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রামে এক ভরি।

সবশেষ ১৭ মে যখন দাম কমানো হয়, তখন প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৮৩২ ডলার ৪২ সেন্ট। চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এই দর কমতে কমতে ১ হাজার ৮০০ ডলারে নেমে এসেছিল। মার্চের প্রথম সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বাড়তে বাড়তে ২ হাজার ৬০ ডলারে উঠেছিল।

রোববার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা কিনতে লাগবে ৮৪ হাজার ৪৬৬ টাকা। গতকাল শনিবার পর্যন্ত এই মানের সোনা ৭৮ হাজার ২৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

২১ ক্যারেটের সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ২৮ টাকা বাড়িয়ে ৭৮ হাজার ৭৩২ টাকা করা হয়েছে। গত চারদিন ৭৪ হাজার ৭০৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে এই মানের সোনা। ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা বেড়ে হয়েছে ৬৭ হাজার ৫৩৫ টাকা। গতকাল শনিবার পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরির দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা বাড়িয়ে ৫৬ হাজার ২২০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাজুস। গত চার দিন ধরে ৫৩ হাজার ৩৬৩ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে: এফবিসিসিআই

গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে: এফবিসিসিআই
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর সংবাদ সম্মেলন করে সংগঠনটি।

  • এফবিসিসিআই বলছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে।

এই মুহূর্তে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্য না বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই মিলনায়তনে শনিবার সংগঠনটির এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বৈশ্বিক অন্তরীণ পরিস্থিতিতে চরম অসময় যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সময় এটা নয়। যে চেষ্টা হচ্ছে, সেটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার শামিল। সময় থাকতে সরকারকে তা বুঝতে হবে। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়লে সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে জনজীবনের ওপর। এটা চলতে থাকলে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তার দায়ভার তখন সরকারকে নিতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এরপরও যদি দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়, তাহলে সেটি ব্যবসায়ীদের ওপর না চাপিয়ে বিদ্যুৎ খাতের তহবিল থেকে ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করা হোক।’ তিনি বলেন, ‘এই দুঃসময়ে পাইকারি পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বহুমাত্রিক মূল্যস্ফীতি উসকে দিয়ে এর বহুমুখী নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার উদ্ভব হবে দেশে। ফলে কৃষি শিল্প সেবা এবং সার্বিকভাবে সাধারণের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের ক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি করবে। সর্বোপরি অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান ধারা মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হবে।’

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশ এখন স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছে। ২০৩০ সাল নাগাদ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ এবং এসডিজির লক্ষ্য বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীদের সর্বাগ্রে ভূমিকা রাখতে হবে।’

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, ‘এসডিজি ৭ অনুযায়ী ভোক্তা স্বার্থ সংরক্ষণ এবং জনগণের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে সবার জন্য সুলভ উন্নত নিরবিচ্ছিন্ন এবং টেকসই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বার্ক) আইনের বিধান অনুযায়ী স্বচ্ছতা, মানসম্মত দক্ষতা ও জবাবদিহিতা সহকারে সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। বরং এই খাতে সর্বত্র অদক্ষতা, যথেচ্ছ অনিয়ম, অস্বচ্ছতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এবং আইনের বিপরীতে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় সমগ্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার আমূল সংস্কার না করে এ খাতে বিরাজমান অব্যবস্থাপনার অহেতুক দায়ভার জাতীয় অর্থনীতি এবং জনগণের জীবন ও জীবিকা নির্বাহের সকল ক্ষেত্রে সংক্রমিত করা কোনোভাবেই সমীচীন হবে না।’

তবে করোনার সংকট ময় পরিস্থিতি প্রশমিত হলে এবং ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি বন্ধ হওয়ার পর দাম বাড়ানোর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ব্যবসায়ীদের সেক্ষেত্রে আপত্তি থাকবে না বলেও দাবি করেন এফবিসিসিআই সভাপতি।

জসিম উদ্দিন বলেন, ‘কুইক রেন্টালের এক সময় প্রয়োজনীতা ছিল। এখন আর তার প্রয়োজনীয়তা নেই। কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করা উচিত। অদক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো বন্ধ করা উচিত। গ্যাসচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। সরকার সেদিকে মনোযোগ না দিয়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। সরকারের ভুল পরিকল্পনার খেসারত শিল্প খাত বহন করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি না করে এখন সরকারের উচিত হবে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের আমূল সংস্কার আনা। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা। বিদ্যুতের অতিরিক্ত উৎপাদন বন্ধ করে অহেতুক খরচ কমিয়ে আনা। এর জন্য ব্যবসায়ীরা সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।’

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বাড়ানোর চেষ্টার পেছনে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেননেশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ স্মল অ্যান্ড কটেজ ইন্ডাস্ট্রিজ বাংলাদেশ সভাপতি মির্জা নুরুল গনি শোভন। তিনি দাবি করেন, এর থেকে সরে আসতে হলে দরকার গণতান্ত্রিক সরকারের রাজনৈতিক দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। এর বাইরে আমলাতন্ত্রের সিদ্ধান্তে কোন কাজ হবে না।

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, ‘দেশে এখন ডলার সংকট চলছে। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পণ্যের দাম বাড়ছে। এখন যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়, উৎপাদন খরচ বাড়বে। যার প্রভাব পড়বে ভোক্তার ওপর। এখন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির সময় নয়।’

রিহাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, ‘বিশ্ববাজারে ঝড় চলছে। এ অবস্থায় ইচ্ছামত দাম বাড়িয়ে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবেন না।’

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে আমরা রপ্তানিতে বেশ ভালো করতে ছিলাম। এ অবস্থায় বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে রপ্তানিকারকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। এতে বিশ্ববাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়বে দেশের পোশাক খাতের উদ্যোক্তারা।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান, সাবেক সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন, সাবেক সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন, এমসিসিআইর সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, বিএসএমএর সভাপতি মনোয়ার হোসেন, বিসিএমএর সভাপতি মো. আলমগীর কবিরসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


প্রকল্প অনুমোদনে পরিকল্পনামন্ত্রীর ক্ষমতা কমল

প্রকল্প অনুমোদনে পরিকল্পনামন্ত্রীর  ক্ষমতা কমল
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ৫০ কোটির বেশি কারিগরি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করতে হবে।

  • সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়াতে পারবে।

প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিকল্পনামন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো হয়েছে। আগে কারিগরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেকোনো অংকের প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষমতা ছিল পরিকল্পনামন্ত্রীর। এখন তা কমিয়ে ৫০ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নতুন পরিপত্রে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে নতুন পরিপত্রে।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হাসতে হাসতে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমার ক্ষমতা কমানো হয়েছে, আমার ডানা কাটা হয়েছে।’

পরিপত্রে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে পরিকল্পনা সচিব প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘আগে যেকোনো কারিগরি প্রকল্পের ক্ষেত্রে যেকোনো অংকের প্রকল্প অনুমোদন দিতে পারতেন পরিকল্পনামন্ত্রী, এখন সেটা ৫০ কোটি টাকা করা হয়েছে। ৫০ কোটির বেশি কোনো কারিগরি প্রকল্প হলে তা অনুমোদনের জন্য একনেকে উপস্থাপন করতে হবে।’

অর্থাৎ এখন থেকে কারিগরি প্রকল্প কিংবা বিনিয়োগ প্রকল্প সবক্ষেত্রেই ৫০ কোটি টাকার বেশি প্রকল্পের ব্যয় হলেই তা একনেকে অনুমোদন নিতে হবে।

পরিপত্রের অন্যান্য পরিবর্তন বিষয়ে পরিকল্পনা সচিব বলেন, ‘প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি বিষয়ে আগে উদ্যোগী মন্ত্রণালয় দুই দফায় দুই বছর পর্যন্ত বাড়াতে পারত। এখন মন্ত্রণালয় এক বছর বাড়াতে পারবে। এর বেশি প্রয়োজন হলে পরিকল্পনা কমিশনের কাছে আসতে হবে।

সচিব বলেন, ‘এডিপি রিভিউ সভা যেগুলো উদ্যোগী মন্ত্রণালয় করে থাকে, সেগুলোর বিষয়ে ক্লিয়ার কোনো ইন্সট্রাকশন ছিল না। এখন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পগুলো নিয়ে প্রতি মাসে অন্তত একবার সভা করতে হবে সচিবের নেতৃত্বে। প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রতি ছয় মাসে একবার এসব মিটিং পরিবীক্ষণ করবেন।’

সচিব বলেন, ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্পের ক্ষেত্রে আগে একবার মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ ছিল। এখন সেটা বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনবোধে একের অধিক বার মেয়াদ বাড়ানো যাবে।’

দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বেশ কিছু নির্দেশনা ছিল, সেগুলো নতুন পরিপত্রে সংযোজন করা হয়েছে।