শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

সরকার রোগের উপশমের পেছনে দৌঁড়াচ্ছে, রোগটা কী বলছে না: দেবপ্রিয়

সরকার রোগের উপশমের পেছনে দৌঁড়াচ্ছে, রোগটা কী বলছে না: দেবপ্রিয়
সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। ফাইল ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকটে রাজস্ব খাতকে প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি মনে করেন, চলমান সংকটের জন্য বহিঃখাত নয়, রাজস্বই ‘আসল খলনায়ক’।

বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) সামষ্টিক অর্থনীতির প্রবণতা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক ভার্চুয়াল সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ডলারের দাম বাড়বে কী বাড়বে না, ভর্তুকি দেওয়া যাবে কী না, এগুলো বহিঃখাতের বিষয় নয়। সরকার শুধু রোগের উপশমের পেছনে দৌঁড়াচ্ছে, আসল রোগ কী, সেটা বলছে না।

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, আমাদের রাজস্ব আহরণ অনেক কম। বড় দুর্বলতা এই জায়গাতেই। জিডিপির তুলনায় কর অনুপাত যদি ১৫ শতাংশ হতো, তাহলে এই সংকটকালীন বাড়তি রাজস্ব দিয়ে সরকার জ্বালানি তেল আমদানি করতে পারতো। রাজস্ব আয় বৃদ্ধির জন্য বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন, যা করা হচ্ছে না।

অর্থনীতিতে যে সংকট চলছে, তা নিরসনে অন্তর্বর্তীকালীন নীতি সমঝোতার পরামর্শ দিয়েছেন ড. দেবপ্রিয়। তিনি মনে করেন, সংকটকালে একটি বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে নীতি সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে পারলে সংকট থেকে উত্তরণ লাভ সম্ভব।

বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব বলতে কী বোঝাতে চান, তা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় বলেন, অর্থনীতির চলমান সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা যায়, বিষয়টি নিয়ে সরকার সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা করতে পারে। প্রথমে মন্ত্রিসভায় আলোচনা করতে হবে। তারপর সংসদ ও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করতে পারে। সংসদের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।

‘সরকার যতই কাজ করুক না কেন, সেটা যদি বিশ্বাসযোগ্য না হয় এবং জনগণের আস্থা অর্জন না করে, তাহলে সবচেয়ে ভালো নীতিও তখন কাজে আসে না। সে জন্যই আমি সমঝোতার ভিত্তিতে নীতি প্রণয়নের কথা বলছি।’

তেলের মূল্য ধাপে ধাপে বাড়ালে যৌক্তিক হতো কী না?- এমন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় বলেন, অর্থনীতি কখনো অভিঘাত গ্রহণ করতে পারে না। এটা করা হলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। অর্থনীতি অভিঘাত পছন্দ করে না। অনেক দিন ধরে না দিয়ে একবারে ধাক্কা দেওয়া, এটা অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়। শুধু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নয়, সুদ ও বিনিময় হারের ক্ষেত্রেও এমনটি সত্য।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, মূল্যস্ফীতি কতদিন থাকবে, এটি নিশ্চিত করে বলতে পারবো না, তবে অর্থনীতির যে চিত্র দেখছি, মূল্যস্ফীতি বাড়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তাতে আগামী দুবছর পর্যন্ত এ অবস্থা থাকবে।


ডিএসইতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বাতিল হচ্ছে

ডিএসইতে কর্মকর্তাদের  পদোন্নতি বাতিল হচ্ছে
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লোগো
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বীর সাহাবী

কর্মকর্তাদের যে পদোন্নতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের মতো ঘটনা ঘটেছে, এবার তা বাতিল হতে যাচ্ছে। আর এমন সিদ্ধান্তের আভাসে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মাঝে।

অবশ্য স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে বাতিল নয়, সংশোধন হচ্ছে  কিছু কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত।

কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে গত ২৩ আগস্ট ৯৫ জনকে পদোন্নতি দেন ডিএসইর সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া। কিন্তু নিজেদের মনমতো না হওয়ায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল পরিচালনা পর্ষদ। এ টানাপোড়েনের সমাপ্তি ঘটে এমডির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। এরপরই পদোন্নতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়, যা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে এবার।

কর্মীদের মাঝে অসন্তোষ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদোন্নতি পাওয়া ডিএসইর একজন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমাদের পদোন্নতি দেয়া হয় গত আগস্টে। আগের এমডি তারিক আমিন ভূইয়া এ পদোন্নতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরদিন থেকেই আমরা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল অফিশিয়ালি। কিন্তু আগের এমডি পদত্যাগ করার পর, আমাদের মেইল করে আগের পদবি ব্যবহার করেই কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা কীভাবে হতে পারে! যেখানে অফিশিয়ালি আমাদের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেখানে মেইল করে পদ বাতিল করে আগের পদেই কাজ করার কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক।’

পদোন্নতি পাওয়ার পর তা আবার বাতিল হওয়ায় মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান ডিএসইর একজন সিনিয়র ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।’

তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এখন আমার পদ কী, সেটাই নিশ্চিত নই। অফিশিয়ালি জানানো হয়েছে আমি সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছি। অথচ মেইল করে বলা হচ্ছে আমি ম্যানেজারই আছি। এখন আমি কোনটা লিখব? কোনটা ঠিক? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।’

জিএম পদবির আরেকজন বলেন, ‘ভুল করলে কর্তৃপক্ষ করেছে। সে জন্য এমপ্লয়িরা কেন শাস্তি পাবেন, অপমানিত হবেন, এটা কী আইন।’

ডিএসইর পদোন্নতি পাওয়া অনেকেই দৈনিক বাংলাকে বলেন, আগের এমডির নির্দেশনা মেনে যারা কাজ করেছেন, তারা এখন পদে পদে নিঃগ্রহের শিকার হচ্ছেন। সুষ্ঠু কাজের পরিবেশটায় ভেঙে পড়েছে।

জিএম পদোন্নতি পাওয়া একজন বলেন, এক মাসের বেশি হয়েছে আমি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু এইচআর থেকে বলা হয়েছে আমি নাকি সেই ডিজিএমই আছি। আবার আমাকে জিএম হিসেবে গাড়ি দেয়া হচ্ছে, মোবাইল অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য ‍সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে জিএম হিসেবেই। তাহলে আমার পদ কোনটা?’

পদোন্নতি পাওয়া কেউ তাদের টাইটেল লিখতে পারছে না উল্লেখ করে একজন এজিএম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পদোন্নতি দেয়া হলেও, আমরা সে অনুযায়ী টাইটেল লিখতে পারছি না। আমাদের টাইটেল লিখতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পদোন্নতি আটকে ছিল। আগের এমডি তাদের সেই প্রাপ্য পদোন্নতিই দিয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিং করে এসব কর্মকর্তার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেশ কিছু পদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, যেখানে আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে তো কেউ চাইলেই তা লঙ্ঘন করতে পারে না। আইন যেখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘিত করে দেয়া হয়েছিল। সেটাই ঠিক করা হবে।’

কবে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা থেকে কিছু বাদ যাবে আর কিছু সংশোধন হবে।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ইমেইলে আগের পদেই বহাল থেকে কাজ করতে নির্দেশনা প্রসঙ্গে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরপরই, সবাইকে আবারও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেয়া হবে তাদের পদের ব্যাপারে। এতে তাদের কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলেও দাবি তার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখনো কিছু জানায়নি ডিএসই। আমরা রোববার খবর নেব। বিষয়টা এমন হতে পারে, ওদের অর্গানোগ্রামের বাইরে বোধ হয় কয়েকটা পদোন্নতি হয়ে গেছে, তাই হয়তো অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে।’

যদি ডিএসই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন বা পদোন্নতি বাতিল করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যদি এর বাইরে করে তাহলে আমাদের জানাবে যোগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এর আগে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম তিনজন, ডিজিএম থেকে জিএম তিনজন, এজিএম থেকে ডিজিএম তিনজন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম ১৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ২৯ জন, এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ১০ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ ছয়জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ একজন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন, জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ছয়জন পদোন্নতি পান।


২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লোগো
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মালিকানার একটি অংশ কিনে নিচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরা। গ্রুপের সহযোগী কোম্পানি এবিজি লিমিটেডকে এই অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হলো বসুন্ধরা গ্রুপ।

সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনবে গ্রুপটি। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের দাম হবে ১৫ টাকা। সেই হিসাবে সিএসই প্রায় ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাবে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে। আর ৩৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সিএসই পরিশোধিত মূলধন ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। শেয়ারের সংখ্যা ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ। এই হিসাবে প্রায় ১৬ কোটি শেয়ার বিক্রি করতে হবে তাদের।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সিএসই তার শেয়ারহোল্ডারদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সিএসইর নিট মুনাফা ছিল ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন মেনে তাদের ২৫ শতাংশ শেয়ার দুই কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেখানে ২১ টাকা দরে প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করে ডিএসই পায় প্রায় ৯৬২ কোটি টাকা।


খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি

খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক লগো।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে ১৪ বিলিয়ন বা এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আগামী তিন বছরে (২০২২-২৫) এই অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে উন্নতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির প্রভাবের বিরুদ্ধে খাদ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করতে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশসহ এডিবির সদস্যভুক্ত দেশগুলো।

এডিবি জানায়, এই অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এডিবির উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। এশিয়ায় ১১০ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের। ফলে এ অঞ্চলে খাদ্যের দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব রয়েছে। এটা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফার্ম ইনপুট, খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন, সামাজিক সুরক্ষা, সেচ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যার সমাধান-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। এডিবি অন্যান্য কার্যক্রমে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে, যা খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখে। যেমন- জ্বালানি শক্তি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবহন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাত।

এডিবির ৫৫তম বার্ষিক সভায় এটির অনুমোদন করা হয়। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বিশ্ব একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি সংকটের জন্য একটি সময়োপযোগী এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এশিয়ার অনেক দরিদ্র পরিবারকে ক্ষুধার্ত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকট বাড়ছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। উদীয়মান এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাব কমাতে খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার আগ্রাসন খাদ্যের প্রধান উপাদান ও সারের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, করোনা সংকট এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চল খাদ্য আমদানি ও বৈদেশিক সারের ওপর নির্ভরশীল। সব ব্যবস্থায়ই ভেঙে পড়েছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগেও এডিবির অনেক দেশে কিছু মানুষের পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছিল। এখন এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এডিবি জানায়, এশিয়ার দরিদ্র মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তায় উন্মুক্ত বাণিজ্যকে উন্নীত করা হবে। এডিবি সহায়তায় খামারের উৎপাদন ও জীবিকা উন্নত করবে, সারের ঘাটতি কমিয়ে দেবে এবং দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। এডিবি অর্থায়ন খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনে বিনিয়োগে সহায়তা করবে, পুষ্টি বৃদ্ধি করবে এবং জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

এ প্রোগ্রামের আওতায় সহায়তা চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বেসরকারি খাতের সহ-অর্থায়নে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করবে এডিবি। এডিবি খাদ্যনিরাপত্তায় বার্ষিক বিনিয়োগে ২০০ কোটি ডলার দিচ্ছে। চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এডিবি। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এডিবি। বাংলাদেশসহ সংস্থাটির ৬৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।


ভারতের শেয়ারবাজার ধস

ভারতের শেয়ারবাজার ধস
বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়। ফলে প্রায় সব দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাগাতার পড়ছে ভারতের শেয়ারবাজারও। গত শুক্রবার হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ার পরে সোমবার সেনসেক্স ৯৫৩.৭০ পয়েন্ট হারিয়ে নামে ৫৭ হাজারের ঘরে। এ দিনও লেনদেনের মাঝে একসময় পতন ১ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বিনিয়োগকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই মূল্যবৃদ্ধিকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ বিপুল হারে সুদ বাড়ানোয় আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা হাতের শেয়ার বেচে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন আর যুক্তরাষ্ট্র সুদ বাড়ানোয় চাঙা সে দেশের ডলার এবং বন্ড বাজারে পুঁজি ঢালছেন। জিয়োজিৎ ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের গবেষণা বিভাগের প্রধান বিনোদ নায়ারের মতে, বাড়তে থাকা ডলারের দাম এবং শ্লথ আর্থিক বৃদ্ধি বিশ্বের শেয়ারবাজারকে অস্থির করছে। আর এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের রিটেল গবেষণা বিভাগের প্রধান দীপক জসনির দাবি, শেয়ারের মতো সব ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগই অবস্থা কাহিল মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে মন্দা দ্রুত মাথা তোলার আশঙ্কায়।

গত বুধবার থেকে চার দিনের লেনদেনে ভারতে ১০ হাজার ৯৭১ দশমিক ৫৭ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো। এর মধ্যে শুধু সোমবারেই ৫ হাজার ১০১ দশমিক ৩০ কোটি রুপির।

তবে শেয়ার ব্রোকিং সংস্থা ডিবি অ্যান্ড কোম্পানির কর্ণধার দেবু বিশ্বাসের দাবি, এই টানা পতনকে নেতিবাচক বলে মানতে পারছি না। কারণ, গত দুই মাসে সেনসেক্স প্রায় ৭ হাজার ৫০০ এবং নিফ্‌টি প্রায় ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছিল। এই দফায় সূচক দুটির যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ১ হাজারের মতো পতন আমার মতে সংশোধন। সেনসেক্স আরও ১ হাজার ২০০ ও নিফ্‌টি ৫০০ পয়েন্ট পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এতে ভারতীয় বাজারের ভিত মজবুত হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞ অনিল আগরওয়ালের মতে, বিদেশের বাজারগুলো পড়ছে বলেই ভারতের সূচকে এমন ধাক্কা লাগছে। এ দেশের আর্থিক অবস্থা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো। তবে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের পতন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার আশা, ভারতের শেয়ারবাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে।

ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ- এসঅ্যান্ডপি: মূল্যায়ন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তাদের আগের করা ৭.৩ শতাংশেই বহাল রেখেছে। তবে তাদের মতে মূল্যবৃদ্ধির হার ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজ়ার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বেঁধে দেয়া ৬ শতাংশের সীমার ওপরেই থাকবে। ভারতে প্রবৃদ্ধির ৬.৯% অনুমান বহাল আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডির রিপোর্টেও। গত সোমবার (ভারতীয় সময় রাতে) খোলার পরেই মন্দার আশঙ্কায় ফের হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। তার আগে ডলারে সাপেক্ষে ঐতিহাসিক তলানিতে নেমেছে ব্রিটিশ পাউন্ডও। ধাক্কা খেয়েছে সরকারি বন্ডের বাজার।


লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন

লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা

নো ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর পড়তির দিকে থাকা শেয়ার দর তরতর করে বাড়তে থাকে এজিএমে ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শেয়ার দর ৫০ শতাংশ বেড়েও যায়। তবে সেই লভ্যাংশ আর বিতরণ করা হয়নি।

এই কাণ্ড করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার পর এই কাণ্ড করেছে তারা।

আগের বছরেও একই কাজ করেছে কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ করে যে প্রতিবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে দেয়ার কথা ছিল, সেটি জমা দেয়া হয়নি। বিষয়টি অবহিত করে নির্দেশনা চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগ উঠেছে, লভ্যাংশসংক্রান্ত এসব ঘোষণা দিয়ে শেয়ার দর বাড়িয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি কিছুই জানেন না।

নো ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর পর শেয়ার দরে লাফ

২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও গত ২৩ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে সে প্রস্তাব বাতিল করে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

কিন্তু সেই লভ্যাংশ বিতরণ করার কোনো সিদ্ধান্ত আর জানানো হয়নি।

২০২১ সালের ১১ নভেম্বর কোম্পানিটি লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। পরিচালনা পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের পর শেয়ার দর কমে আসে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

এজিএমের দিন শেয়ার দর ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সা। লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা পাল্টানোর সিদ্ধান্ত আসার পর শেয়ার দর আবার দেয় লাফ। ১২ কর্মদিবস পর ১০ জানুয়ারি শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। এ সময়ে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

যে কোম্পানিটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা ছিল, লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সেটি আর সেই ক্যাটাগরিতে না গিয়ে ‘বি’তে লেনদেন হতে থাকে।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে জানান, বিধান হলো এজিএমে লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীর হিসাবে পাঠাতে হবে। লভ্যাংশ শেয়ারে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা পাঠাতে হয় বিও হিসাবে আর নগদে হলে দিতে এখন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে হয়। আর যদি বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনে থাকেন, তাহলে নগদ লভ্যাংশও যাবে বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে।

কিন্তু এজিএমের ১০ মাসেও পর্যন্ত লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি শেয়ারধারীদের জানানো হয়নি।

আগের বছর একই চিত্র

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারের বিপরীতে পাঁচটি বোনাস শেয়ার ও ১০ পয়সা নগদ বিতরণ করা হয়।

ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর এজিএমে সেই লভ্যাংশ অনুমোদনও হয়। কিন্তু সে বছরও লভ্যাংশ বিতরণ করে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর দিন শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা। পরের বছর ৫ আগস্ট দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকা।

কোম্পানিটি ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি। অথচ এরই মধ্যে আরও একটি অর্থবছর শেষ হয়ে গেছে। জুনে যেসব কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে, হাতে গোনা এক দুটি বাদ দিয়ে বাকিগুলো মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কয়েক মাস আগেই।

ডিএসইর চিঠিতে যা বলা হয়েছে

বিএসইসিতে পাঠানো ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়, ডিএসইর ২০১৫ সালের রেগুলেশনস অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিতে লভ্যাংশ প্রদানসংক্রান্ত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে কমিশন নির্ধারিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই কোম্পানিকে কমিশনের অনুমোদনক্রমে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওয়েস্টার্ন মেরিন দুই বছর ধরে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা না দেয়ার পরও তাদের ‘ক্যাটাগরি’ সমন্বয় হয়নি।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া কোম্পানির যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দৈনিক বাংলা ডিএসইর চিঠিটি পেলেও সংস্থাটির মুখপাত্র ও উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ‘চিঠির বিষয়টি আমার জানা নেই। না জেনে কিছুই বলতে পারব না।’

ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদারের ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়েস্টার্ন শিপইয়ার্ডের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ২৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৯টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।