শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২২

এবার লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম

এবার লিটারে ৭ টাকা বাড়ল সয়াবিন তেলের দাম
সয়াবিন তেল। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম ১৯২ টাকা

কমানোর এক মাস পরই আবার বেড়ে গেল সয়াবিন তেলের দাম। এবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৭ টাকা। সে হিসাবে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ হয়েছে ১৯২ টাকা। আজ মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হবে।

মিল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন গতকাল সোমবার (২২ আগস্ট) এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার ওই সিদ্ধান্ত জানিয়ে অ্যাসোসিয়েশনের চিঠি গ্রহণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি লিটার ১৭৫ টাকা। এ ছাড়া পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি হবে ৯৪৫ টাকায়। আর খোলা পাম তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি লিটার ১৪৫ টাকা।

এর আগে, গত ১৭ জুলাই সয়াবিন ও পাম তেলের দাম কিছুটা কমানো হয়েছিল। ওই সময় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা, এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৬৬ টাকা, পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯১০ টাকা এবং প্রতি লিটার খোলা পাম তেলের দাম ১৪৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি এবং বিশ্ববাজারের বাড়তি দামের কারণ দেখিয়ে মিল মালিকরা সয়াবিন তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। গত ৩ আগস্ট বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনকে (বিটিটিসি) দেওয়া সেই প্রস্তাবনায় প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮০ টাকা, এক লিটারের বোতল ২০৫ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ৯৬০ টাকা করার কথা বলা হয়েছিল।

এর আগেও অবশ্য এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল সর্বোচ্চ ২০৫ টাকায় বিক্রি হয় এ বছরেই।


দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ রুরাল আইএসপি প্রতিষ্ঠান ইউরোটেল বিডি

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ রুরাল আইএসপি প্রতিষ্ঠান ইউরোটেল বিডি
ইউরোটেল বিডির পক্ষ থেকে পুরস্কার নিচ্ছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম জাকির হোসেন ও প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিব বায়্যানী। ছবি : সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ইন্টারনেট সেবা প্রদানে অসামান্য অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার প্রতিষ্ঠান ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড 

দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের শতাধিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের পদক জেতে বরিশালের এই প্রতিষ্ঠানটি। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে ৮ দেশের বিশিষ্টজনের উপস্থিতিতে এই সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয় ইউরোটেলকে। 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান। গেস্ট অব অনার হিসেবে ভূমি মন্ত্রী শরীফ আহম্মেদসহ ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভ‚টান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তানের হাই কমিশনারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

অতিথিবৃন্দের কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন ইউরো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম জাকির হোসেন। এ সময়ে তাঁর সাথে উপস্থিত ছিলেন কোম্পানীর প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিব বায়্যানি । 

পদক প্রদানের বিষয়ে জুরিবোর্ড অভিহিত করেন, ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড প্রান্তিক পর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তি সম্প্রসারণে শ্রেষ্ঠ সেবা প্রদান করছে। নগরায়নের বাইরে প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়ে বিশ্বায়নের সাথে সর্বস্তরের মানুষকে যুক্ত করে নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা নিশ্চিত করছে । 

ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নাছেফ কামাল বলেন, বিভাগের ৪২টি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ২০২২ সালে ইন্টারনেট সেবায় সংযুক্ত করে ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড। এতে এই অঞ্চলের মানুষের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এসব ইউনিয়নের মানুষ আগে জানতেন না ইন্টারনেট কি। ইউরোটেল বিডি তাদের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দিয়ে ইন্টারনেটে যুক্ত করেছেন। এখন এই অঞ্চলের মানুষ সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ইউরোটেল বিডির মাধ্যমে সেবা পাচ্ছেন। 

কোম্পানীর প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা রাকিব বায়্যানী বলেন, আমরা অভিভুত এই পদক প্রাপ্তিতে। কাজের স্বীকৃতি পাওয়ায় জনসেবামূলক কাজের আগ্রহ আরো বেড়ে গেল। বরিশালবাসীর কাছে আমাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে। আমি মনে করি ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেডের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর কাজের আন্তরিকতায় এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। 

শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের পদকপ্রাপ্তির অনুভুতিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম জাকির হোসেন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর তথ্য প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভিশন তথ্য প্রযুক্তিতে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে ইউরোটেল বিডি চেষ্টা করছে নিজ অবস্থানে থেকে কাজ করার। নদীবেষ্টিত বরিশাল বিভাগের অনেক এলাকা রয়েছে দুর্গম। যেখানে ইন্টারনেট সেবা গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু পৌঁছানো কষ্টসাধ্য। আমরা চেষ্টা করেছি বিভাগের দুর্গমসহ সকল জনপদকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় নিয়ে আসতে। এতে মানুষ ঘরে বসেই সহজে সরকারের সেবা পাবেন। আমি মনে করি এই অর্জন শুধু ইউরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেডের নয় পুরো বরিশালবাসীর। মূলত ইনফো সরকার ফেইস ২, ফেইস ৩, ফেইস ৪ বাস্তবায়ন করায় প্রত্যান্ত অঞ্চলে এই সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এজন্য আমরা সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এসব সম্ভব হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে বরিশালে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডার ইরোটেল বিডি অনলাইন লিমিটেড সেবা প্রদান শুরু করেন। বিজ্ঞপ্তি


১০ বছর পর প্রথম কোনো দৃশ্যমান কাজ করল প্রতিযোগিতা কমিশন

১০ বছর পর প্রথম কোনো দৃশ্যমান কাজ করল প্রতিযোগিতা কমিশন
গোলাম রহমান।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ফারহান ফেরদৌস

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করাকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ‘শুভ সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান।

শুক্রবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পরে প্রথম কোনো দৃশ্যমান কাজ করল প্রতিযোগিতা কমিশন। কিছু করল বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমিশন। আর এই কাজকে শুভ সূচনা বলে আমি মনে করি।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিযোগিতা কমিশনের এই মামলা করাকে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছি। যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে আমি কমিশনকে সাধুবাদ জানাব।’

বাজারে চাল, আটা-ময়দা, ডিম, মুরগির মাংস ও টয়লেট্রিজ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন।

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান বাজারে চাল, আটা-ময়দা, ডিম, মুরগির মাংস ও টয়লেট্রিজ পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগে এসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

কাগজে-কলমে প্রতিযোগিতা কমিশন বাংলাদেশে কাজ শুরু করছে ২০১২ সালে। তবে এতদিন তাদের তেমন কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান ছিল না।

এ প্রসঙ্গে ক্যাবের সভাপতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিযোগিতা সংকোচন করার প্রচেষ্টা কিন্তু সবসময় আছে। প্রতিযোগিতা কমিশন আইন হয়েছে তো অনেক দিন আগে। কমিশনও হয়েছে অনেক দিন আগে। কিন্তু এর আগে তাদের কোনো কার্যক্রম আমরা দেখিনি। তারা প্রতিযোগিতা বাড়াতে কোনো কার্যক্রম নেয়নি অথবা প্রতিযোগিতা যারা সংকোচন করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার উদ্যোগ আমরা দেখিনি।’

‘এই প্রথম প্রতিযোগিতা কমিশন তাদের আইনি ক্ষমতার ব্যবহার করল; একটি উদ্যোগ নিল। আমি অবশ্যই এটাকে সাধুবাদ জানাই।’

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে বলেছিলেন, ‘আইন অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বাজারের সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার নিয়ম ভেঙে চাল, আটা, ডিম, ব্রয়লার মুরগি, সাবান, ডিটারজেন্টসহ অস্বাভাবিকভাবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ জন্য মামলা করা হয়েছে। আগামী সোমবার থেকে এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হবে।’

এ প্রসঙ্গে সাবেক আমলা গোলাম রহমান বলেন, ‘আমি ফল দেখতে চাই। কথায় আছে না, ফলে বৃক্ষের পরিচয়। আবার ২৬ তারিখে শুনানি আছে। শুনানি করে ওনারা কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’

‘ভোক্তাদের স্বস্তি দেয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানটির যথেষ্ট সুযোগ আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা আশা করব এই যে উদ্যোগ তারা গ্রহণ করেছে, এটা একটি শুভ সূচনা সৃষ্টি করবে। যারা কৃত্রিমভাবে অন্যায়ভাবে প্রতিযোগিতা কমিশনকে সংকোচন করার চেষ্টা করেছে তাদের বিচারের সূচনা হবে।’

‘আমি এই অসাধু মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই’ মন্তব্য করে গোলাম রহমান বলেন, ‘প্রতিযোগিতা আইনে নানা ধরনের ব্যবস্থা আছে। আমরা আশা করি যে, সেই আইনের যথাযথ ব্যবহার হবে। আইনে আছে টার্নওভারের ১ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা যাবে। আইনে যে বিধান আছে সেই বিধান অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হবে সেটাই আমাদের আশা।’

কমিশনকে এ ধরনের কার‌্যক্রম অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানিয়ে গোলাম রহমান বলেন, ‘এটা যেন ওয়ান টাইম না হয়; এটা যেন সব সময় থাকে। যে-ই অন্যায় করবে, আইন ভঙ্গ করবে ভোক্তাদের জিম্মি করে মুনাফা নেয়ার চেষ্টা করবে বা প্রতিযোগিতা সংকোচন করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে এই কমিশন খড়্‌গহস্ত থাকবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’


কঠিন সময়েও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করছে

কঠিন সময়েও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করছে
এ এইচ এম সফিকুজ্জামান।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

ভোক্তাদের অধিকার সংরক্ষণে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। দপ্তরটি সারা দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পণ্যমূল্য লাগামে রাখতে চেষ্টা করেছে। ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের এই সংস্থাটি ভোক্তাদের স্বার্থে নতুন সেবা আনার কথা জানিয়েছে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান। গত বুধবার নিজ দপ্তরে দৈনিক বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এ খবর দিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে কীভাবে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে কাজ করছেন, তিনি সেসব বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার নিজস্ব প্রতিবেদক বীর সাহাবী

করোনা মহামারির পর ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বেড়ে গেছে সব ধরনের পণ্যের দাম। মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। কবে নাগাদ স্বস্তি আসবে বলে মনে করেন?

সারা বিশ্ব যখন করোনা মহামারির কবল থেকে সেরে উঠছিল, ঠিক তখনই আবার আরেকটা ধাক্কা দিল রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ফলে অনেক দেশে উৎপাদন কমে গেছে। এর ধারাবাহিকতায় পুরো বিশ্বজুড়েই মন্দা চলছে। তেলের বাজারে এর প্রভাবটা পড়েছে সবচেয়ে বেশি। অন্যদিকে এ দুটি দেশ যেহেতু গম উৎপাদন করে এর ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনসহ অন্যান্য বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে খাদ্য নিরাপত্তার ওপরে একটা বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও মূল্যস্ফীতি হয়েছে। ডলারের মূল্য চলে গেছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আমাদের আমদানি পণ্য ব্যয় বেড়ে গেছে, এ সবকিছু মিলিয়ে আমরা একটা কঠিন সময় পার করছি। এ সময় থেকে শিগগিরই উত্তোরণ হবে বলে আমি মনে করি না। এই কঠিন বাস্তবতার মধ্যে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। আর এ পরিস্থিতি আমাদের সবারই মেনে নিতে হবে। অনেক বিষয়ে কৃচ্ছ্রসাধন করা হচ্ছে, যা আমাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও মেনে নিতে হচ্ছে। সামনে আরও কঠিন সময় আসছে। তা মোকাবিলা করার জন্য আমাদের সবার অংশগ্রহণ দরকার।

বৈশ্বিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে একদল ব্যবসায়ী বসে থাকে ফায়দা লুটতে। এই লুটেরাদের বিষয়টা আপনি কীভাবে দেখছেন?

বাংলাদেশ এমন একটা দেশ, এখানে আমরা একটা অজুহাতের অপেক্ষায় থাকি সব সময়। বিশ্বের এ সংকটময় সময়ে এসে আমাদের দেশের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী তারা অতি মুনাফা করছে। এ সুযোগটা দেশের প্রতিটা সেক্টরেই নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী লোডশেডিংয়ের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই চার্জার ফ্যানের দাম বেড়ে গেছে, যা আগেই আমদানি করা হয়েছে এবং দামও নির্ধারণ করা আগে থেকেই। এরপরও দুই ঘণ্টার মধ্যে কেন দাম বেড়ে গেল? অর্থাৎ তারা সুযোগের অপেক্ষায় বসেছিল, যা কাজে লাগিয়েছে। একইভাবে জ্বালানি তেল, ডিম, ডিটারজেন্ট পাউডার সাবানসহ অন্যান্য পণ্যেরও রাতারাতি দাম বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এগুলো আমরা নিয়মিত অভিযান করছি। আমাদের অভিযানে এগুলো নিয়মিত ধরা পড়ছে।

ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়ার কথা সরকার বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কতটা জানাচ্ছেন?

আমাদের কার্যক্রম ব্যাপক। আমাদের সাড়ে ১৬ কোটি ভোক্তা আছে। তারা যে যেখানেই প্রতারিত হয় বা যেখানে ভোক্তার অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় সেখানেই দায়বদ্ধতা থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আমরা চালের বাজার নিয়ে কাজ করছি, গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে কাজ করছি। জ্বালানি মন্ত্রণালয় প্রতি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে ১ হাজার ২৩৫ টাকা, সেখানে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছিল। এরপর আমরা অভিযান করেছি, তাদের সঙ্গে মিটিং করেছি। ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ করতে গিয়ে যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছি তা সবই সরকারকে জানাচ্ছি। তবে শুধু আমাদের অভিযান দিয়েই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারব না। আমাদের দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের আরও ব্যাপক অংশগ্রহণ করা দরকার। এই কঠিন সময়ে শুধু ব্যবসা বড় করলেই হবে না, মানবিক ‍ও নীতিনৈতিকতার বিষয়গুলোতে তাদের আরও সচেতন হতে হবে।

দেশে চলমান অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন?

আমার দায়িত্ব ভোক্তার অধিকার রক্ষা করা। অস্থির এ পরিস্থিতির মধ্যে একদম খুচরা পর্যায় থেকে বড় পর্যায়ে আমরা কাজ করছি। ডিলার থেকে শুরু করে বড় বড় রিফাইনারি, করপোরেট সেক্টরেও আমরা কাজ করছি। সেখানে যারা আছেন তারা অনেক প্রভাবশালী বিভিন্ন দিক থেকে। তারপরও আমরা আমাদের অভিযান চালাচ্ছি এবং আমার দিক থেকে স্বাধীনভাবেই কাজ করছি। কাজ করতে গিয়ে আমি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা পাচ্ছি। গোয়েন্দা সংস্থা আমাকে সহযোগিতা করছে। সর্বশেষ গণমাধ্যমের একটা বড় সাপোর্ট পাচ্ছি। আমাদের অভিযানের সত্য ঘটনাগুলো, সত্যিটা গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে। এতে ভোক্তারা আসল ঘটনা সম্পর্কে অবগত হতে পারছেন। তাই আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি স্বাধীনভাবে কাজ করছি।

ভোক্তার আস্থা কতটা অর্জন করতে পেরেছেন বলে মনে করেন?

বিভিন্ন সেক্টর নিয়ে আমরা যেভাবে সারা দেশে অভিযান করছি আর তা যেভাবে প্রচার পাচ্ছে তা সত্যিই প্রশংসাজনক। এর ফলে গত দুই মাসে যে পরিমাণ অভিযোগ জমা পড়েছে তা গত এক বছরেও পড়েনি। এ থেকে বোঝা যায়, মানুষ অনেক সচেতন হচ্ছে, তাদের নিজের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারছে। অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে তার প্রতিকারের জন্য আমাদের কাছে আসছে।

ভোক্তাদের সুবিধার্থে এমন কোনো নতুন সেবা নিয়ে কাজ করছেন যার মাধ্যমে আরও দ্রুত সেবা দেয়া যায়?

আমাদের প্রচার প্রচারণার ক্ষেত্রে আগে আমরা ট্র্যাডিশনালি কাজ করতাম। তবে অধিদপ্তর ও ভোক্তার মাঝে যেন কোনো দেয়াল না থাকে তাই আমরা একটি সরকারি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছি। সেখানে আমাদের অভিযানের ভিডিওগুলো আপলোড হলে দেখা যায়, মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ দেখছে। এতে বোঝা যায়, মানুষের এখানে একটা আগ্রহ আছে। আমাদের কার্যক্রম দেখে মানুষ সচেতন হচ্ছে। আমরা আরও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর জন্যই নতুন ভাবে ডিজিটাল সেবা শুরু করেছি। আমাদের কাছে যেন ভোক্তা খুব সহজেই অভিযোগ দায়ের করতে পারে এ জন্য হটলাইন নম্বর আছে ‘১৬১২১’ এখানে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারছে খুব সহজেই। অভিযোগগুলো সরাসরি আমাদের সঙ্গে লিংক করার জন্য কাজ করছি। সারা দেশে আমরা একযোগে অভিযান পরিচালনা করছি। এখন নতুন নতুন অনেক সেক্টর নিয়ে আমরা কাজ করছি। সাবান, শ্যাম্পু ডিটারজেন্টের দাম বাড়ায় আমরা ইউনিলিভারসহ যারা এগুলো উৎপাদন করে দেশীয় কোম্পানি তাদের সঙ্গে আমরা বৈঠক করে একটা কমিটি করে দিয়েছি। তারা যে মূল্য বাড়িয়েছে তা যৌক্তিক কি না, তা সেই কমিটি যাচাই-বাছাই করে দেখছে। আমরা সুপারশপ নিয়ে কাজ করছি। তারা প্যাকেট করে মূল্য বাড়িয়েছে। আমরা ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়ে কাজ করেছি, ডিম নিয়ে কাজ করেছি। এগুলো সবই নতুন নতুন ইস্যু। আমরা সামনে আরও অনেক নতুন ইস্যু নিয়ে কাজ করব।

ভোক্তাদের উদ্দেশে কী বলবেন?

ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার জন্য সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। আমি এখানে শতভাগ এফোর্ট দিতে চাই এবং দিচ্ছিও বটে। ভোক্তাদের স্বার্থ আমাদের পক্ষে যতটুকু দেয়া সম্ভব তা আমরা ভবিষ্যতেও দিয়ে যাব। তবে ভোক্তাদের আরও বেশি সচেতন হতে হবে। ‘একজনও বেশি দামে পণ্য কিনবে না, প্রতিবাদ করবে, ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবে’-এই মানসিকতা সবার মধ্যে থাকতে হবে। তাহলেই ব্যবসায়ীরা অন্যায়ভাবে বেশি মুনাফা করতে পারবে না। এখানে গণমাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা আছে, সেটা তারা ভালোভাবেই পালন করছে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে দেশবাসীকে জানাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা চাই। সবাইকে আমাদের সম্পর্কে আরও জানতে হবে। তাহলে ভোক্তারা সচেতন হবেন।


দাম নিয়ে কারসাজির মামলার পরও বাজার চড়া

দাম নিয়ে কারসাজির মামলার পরও বাজার চড়া
রাজধানীর বাজারেগুলোতে নিত্যাণ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পরিবারের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ছবি: ফোকাস বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বীর সাহাবী

চাল, ডিম, মুরগি, প্রসাধনীর দাম কারসাজি করে বাড়ানোর অভিযোগে প্রতিযোগিতা কমিশনের মামলার পর দিনও রাজধানীর বাজার ছিল চড়া। কাঁচা-বাজারসহ নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাট করতে গিয়ে বেশি খরচ করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় দাম বেড়েছে চাল, ডিম, মুরগির মাংসের। মূলত এ তিনটি পণ্যের দাম বাড়ানোর পেছনেই কারসাজির প্রমাণ পেয়ে মামলা করেছে প্রতিযোগিতা কমিশন। বৃহস্পতিবার মামলার পর আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে কোম্পানিগুলোকে।

প্রতিযোগিতা কমিশন চালের বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে রশিদ অ্যাগ্রো ফুড প্রোডাক্ট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী আব্দুর রশিদ ও নওগাঁর বেলকন গ্রুপের বেলকন প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী বেলাল হোসেনের বিরুদ্ধে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, বাড্ডাসহ বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, মোটা-সরু সব চালের দামই বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা। ২ টাকা বেড়ে মোটা স্বর্ণা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকায় ও বিআর-২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬২ টাকায়।

চিকন চালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া মিনিকেট ও নাজিরশাইল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৮৪ টাকায়।

কারওয়ান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী জমির ব্যাপারী দৈনিক বাংলাকে বলেন, পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বাজারেও প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া এখন চালের মৌসুম শেষ। যদিও চাল আমদানির কথা শুনছি, কিন্তু বাজারে সেগুলো আসছে না। এ জন্য চালের দাম বাড়ছে। অগ্রিম টাকা দিয়েও চাহিদামতো চাল মিলছে না। মোকামে যে পরিমাণ চালের অর্ডার দেয়া হচ্ছে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

চলতি সপ্তাহের আগে টানা তিন সপ্তাহ চালের দামে ছিল ভাটার টান। কেজিতে ৬ থেকে ৮ টাকা কমেছিল ওই সময়ে।

প্রতিযোগিতা কমিশন দুই করপোরেট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে আটা-ময়দার সংকট তৈরির অভিযোগে।

মামলার পরদিন খোলা ময়দার দাম কেজিতে ২ টাকা বাড়ার তথ্য মিলেছে। গত সপ্তাহে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া খোলা ময়দা এখন বিক্রি হচ্ছে ৬২ টাকায়। প্যাকেটের ময়দার দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা কেজি, এখন হয়েছে ৭৫ টাকা।

বাংলাদেশ এডিবল অয়েল লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তেলের বাজারে সংকট তৈরির অভিযোগে।

বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, বেড়ে গেছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। গত সপ্তাহে বিক্রি হয়েছে ১৭২ টাকা দরে, সেটি বেড়ে হয়েছে ১৭৭ টাকা।

ডিমের সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিম ব্যবসায়ী-আড়তদার বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি আমানত উল্লাহ্, কাজী ফার্মস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। মুরগির বাজারে সংকট সৃষ্টির অভিযোগও আনা হয়েছে প্যারাগন পোলট্রি ও কাজী ফার্মসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে। এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে আলাদা মামলা হয়েছে।

মামলার পরদিন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ডিমের দর আবার দিয়েছে লাফ। গত মাসে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা ডজন ব্রিক্রির পর তা নেমে এসেছিল ১২০ টাকায়। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে আবার বাড়তে থাকে। ডজনের দাম হয়ে যায় ১৩৫ টাকা, শুক্রবার সেটি কিনতে হয়েছে ১৫০ টাকায়।

সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিমের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। কিছুটা বেড়েছে মুরগির দামও।

সবজি, মসলার খরচও বাড়ল

গ্রীষ্ম ও বর্ষাকালীন সবজির মৌসুম শেষ প্রায়। শীতের আগাম সবজির জোগান বাজারের চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়। আর সরবরাহে টান পড়ার কারণে প্রতি বছরের মতো শীতের আগে আগে দাম বাড়ার যে প্রবণতা দেখা যায়, সেটি দেখা যাচ্ছে এবারও।

সবজিভেদে দাম কেজিতে ২০-২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাঁধাকপি ও ফুলকপি উঠতে শুরু করেছে, আকারে ছোট, তবে দামে বড়; একেকটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেড়ে গেছে মিষ্টিকুমড়ার ফালির দামও। কেউ বিক্রি করছে ৩০ টাকায়, কেউ কেজি প্রতি দাম চাইছে ৪০ টাকা।

দাম বেড়েছে আদা-রসুনেরও। আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ২০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে যে আদা বিক্রি হয়েছে, শুক্রবার সেই আদা বিক্রি হয়েছে ১৪০ টাকা দরে।

রসুনের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকার মতো। গত সপ্তাহে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া রসুন এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি দরে।


বিদেশি ঋণে হোঁচট

বিদেশি ঋণে হোঁচট
মার্কিন ডলার। ছবি: ফ্রিপিক
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • দুই মাসে বিদেশি ঋণ কমেছে ২৪.৩৮ শতাংশ

বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে মোট ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম।

গত অর্থবছরের এই দুই মাসে ১১৪ কোটি ২৯ লাখ (১.১৪ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ ছাড় করেছিল দাতারা।

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশি ঋণপ্রবাহের উল্লম্ফন নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২২-২৩ অর্থবছর। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণসহায়তা এসেছিল। গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি এসেছিল ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।

কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে হোঁচট খেয়েছে। এই মাসে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করেছে দাতারা। যা আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ কম।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্বপরিস্থিতিতে গত অর্থবছরে কম সুদের বিদেশি ঋণ প্রাপ্তিতে রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল দাতারা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক অর্থবছরে এত বেশি ঋণসহায়তা পায়নি বাংলাদেশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গত বৃহস্পতিবার বিদেশি ঋণ ছাড়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দাতাদের কাছ থেকে যে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য এসেছে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার। আর অনুদান পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

গত বছরের একই সময়ে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ (১.১০ বিলিয়ন) ডলার। অনুদান এসেছিল ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার (৭.৯৬ বিলিয়ন) ডলার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছিল ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসে ৬৫৪ কোটি ডলার।

শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ নিয়েও নানা কথা হচ্ছে। যদিও দুই দেশের তুলনা নাকচ করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ এখনো ১৩ শতাংশের নিচে; আর শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি।

হঠাৎ করে বিদেশি ঋণ কমার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন তো আর কোভিডের ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অস্থির বিশ্বপরিস্থিতিতে অন্যরাও আগের চেয়ে কম ঋণ নিচ্ছে। সে কারণেই বিদেশি ঋণ কমছে। আমার মনে হচ্ছে, এবার গতবারের চেয়ে ঋণ বেশ খানিকটা কম আসবে।’ তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমাদের দেখেশুনে ঋণ নিতে হবে। কম সুদের ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, আমাদের বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ৯৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এই ঋণ তো আমরা প্রতি ডলার ৮৪/৮৫ টাকা হিসাবে পেয়েছি।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এখন ডলারের দর ১০৮ টাকা ১১০ টাকা। ডলারের বাজার যদি স্বাভাবিক না হয়, দাম যদি না কমে, তাহলে আমাদের ঋণের বোঝা কিন্তু অনেক বেড়ে যাবে।’

সবচেয়ে বেশি ছাড় করেছে জাপান

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান, ৩২ কোটি ৯১ লাখ ডলার। চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি দিয়েছে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। ভারত দিয়েছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৪১ লাখ ১০ হাজার ডলার। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) দিয়েছে ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

প্রতিশ্রুতি বেড়েছে

ইআরডির তথ্য বলছে, জুলাই-আগস্ট সময়ে দাতাদের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার ডলারের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। এই বছরের জুলাই-আগস্টে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ হিসাবে প্রতিশ্রুতি ৩ গুণ বেড়েছে।

সুদ পরিশোধ কমেছে

জুলাই-আগস্ট সময়ে আগে নেয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ ২৯ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার শোধ করা হয়েছিল।

এ হিসাবে এই দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ প্রায় ৩ শতাংশ বেশি অর্থ শোধ করতে হয়েছে সরকারকে।

বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত বুধবার টাকা-ডলারের বিনিময়হার ছিল ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ ১ ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। এক বছর আগে ২১ সেপ্টেম্বর টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা।

ডলারের বিপরীতে টাকার বিশাল এই পতন দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে- জানতে চাইলে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন আমাদের অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমদানি কমছে, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। কিন্তু ডলারের দর কমছে না; এরই মধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের।’

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি, আমাদের বিদেশি ঋণের বোঝা ইতিমধ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। আমাদের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সরকারি ঋণ ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) ডলার। আর বেসরকারি খাতের ঋণ ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪/৮৫ টাকা। সে হিসাবে মোট ৯৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের টাকার অঙ্ক ছিল ৮ লাখ ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর বর্তমানে ব্যাংকে ডলারের রেট ১১০ টাকা দরে যদি আমি হিসাব করি তা হলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই সহজ-সরল হিসাব কষেই আমি দেখতে পাচ্ছি, টাকার পতনে এক বছরে আমাদের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে সরকারি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর বেসরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।’

এ পরিস্থিতিতে এখন আমাদের টাকার মান বাড়াতেই হবে; যে করেই হোক করতেই হবে। তা না হলে সংকট আরও বাড়বে।