রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

চালের শুল্ক কমলেও ভোক্তার সুবিধা নিয়ে শঙ্কা

চালের শুল্ক কমলেও ভোক্তার সুবিধা নিয়ে শঙ্কা
চাল। ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

চাল আমদানির ক্ষেত্রে আরও ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক কমিয়েছে সরকার। ফলে এবার সহনীয় দামে চাল কিনতে পারবে জনগণ। গত রোবাবর প্রজ্ঞাপন জারি করে শুল্ক কমানোর বিষয়টি জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, আগে চাল আমদানিতে শুল্ক ছিল ২৫ শতাংশ। এখন ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক রেখে বাকি সব শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, যে পরিমাণ শুল্ক কমানো হয়েছে তাতে প্রতি কেজি চালের দাম অন্তত ১০ টাকা কমে আসার কথা। তবে রাজস্ব ক্ষতি স্বীকার করে সরকার রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে জনকল্যাণে শুল্ক কমালেও উল্টে অসাধু ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন বলে মন্তব্য করছেন এনবিআরের কর্মকর্তারা।

যোগাযোগ করা হলে এনবিআরের সাবেক সদস্য আলী আহমেদ নিউজবাংলাকে বলেন, ‘শুল্ক-করে ছাড় দেয়া হলেও দুর্বল তদারকির কারণে অনেক ক্ষেত্রে এর লক্ষ্য পূরণ হয় না। মাঝখান থেকে মধ্যস্বত্বভোগীরা এর সুফল ভোগ করে।’

চাল আমদানিকারকরা বলছেন, বাজারে ধানের সরবরাহ কমে যাওয়া, সরকারিভাবে চাল আমদানি না হওয়াসহ নানা করণে চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।

এদিকে আগামী দুয়েক মাসের মধ্যে ১ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। সূত্রটি বলছে, সরবরাহ বাড়াতে সরকার চাল আনার পদক্ষেপ নিয়েছে।

খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা।

গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, চড়া মূল্যস্ফীতির মধ্যে দেশের নির্ধারিত আয়ের মানুষ কষ্টে আছে। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের উপায় খুঁজে বের করার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এ নির্দেশনার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমাতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার, ডিজেলের দাম কমানো, চাল আমদানি বাড়ানোসহ নানামুখি পদক্ষেপ নেয়া হয়।


বিএমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক সাইফ

বিএমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক সাইফ
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়শনের (বিএমবিএএ) নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাইফ আই মাহমুদ।

গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় বিএমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডদের নিয়ে একটি বিজনেস কেস বুকের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।  

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি আইবিএ-এর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান এবং আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আলমগীর।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শীর্ষ কর্তারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন এমবিএ ডিগ্রীধারীদের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। ঢাবির আইবিএর শুরুর দিককার এমবিএ ডিগ্রিধারী এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, ওয়ার্টন বিজনেস স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এমবিএদের নিয়ে ১৯৮৬ সালে শুরু হয় এই সংগঠনের যাত্রা।


পাটশিল্প বিকাশে ২ অন্তরায়

পাটশিল্প বিকাশে ২ অন্তরায়
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

একদিকে সোনালি আঁশ, অন্যদিকে রুপালি কাঠি। দুয়ে মিলে সম্ভাবনার নাম পাট। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামনে এসেছে প্রতিবন্ধকতা। কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর এবং এন্টি ডাম্পিং ডিউটি ধার্য করায় ম্লান হচ্ছে পাটের সম্ভাবনা।

সংকট সুরাহায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল সমিতি (বিজিএমএ)।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন জানান, পাট খাতের উন্নয়নে দুটি প্রধান বাধা স্পষ্ট। যা হচ্ছে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর এবং এন্টি ডাম্পিং ডিউটি। এ বাধা দূর হলে পাট খাতের রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়বে। ঘুরে দাঁড়াবে এই খাত। 

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব আব্দুল বারিক খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা পাট অত্যন্ত উন্নতমানের হওয়ায় বিশ্বে পাটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কাঁচা পাট রপ্তানিতে এ দুটি বাধা দূর করা জরুরি।

‘স্বাধীনতা পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে পাটই ছিল একমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। কিন্তু পাট খাতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করলে এ তহবিলের সুবিধা পায়। তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারকরা এ তহবিল থেকে বড় সহায়তা পায়। কিন্তু স্বল্পসুদের এ তহবিল থেকে পাটশিল্প কোনো সহায়তা পায় না।’

বলা হচ্ছে, এ তিনটি সুবিধা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাট রপ্তানি করে এখন যে আয় হয়, তার পাঁচগুণ আয় সম্ভব। কয়েক বছরের মধ্যে আট থেকে দশ বিলিয়ন ডলার আয় করা যাবে।

ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘কৃষক শ্রমিকসহ পাটশিল্প খাতের সঙ্গে পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। পাট খাতের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে দুটি সমস্যা পাট খাতের উন্নয়নে ও সার্বিক কার্যক্রমে প্রধান বাধা সৃষ্টি করছে। সমস্যা দুটি জরুরিভাবে সমাধান করা না হলে পাটশিল্প ক্রমান্বয়ে মুখ থুবরে পড়বে।  ফলে পাটপণ্য রপ্তানি ও রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’

কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর

কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর দেশের কৃষক ও ফরিয়াদের ওপর পড়ে। ফলে কৃষকরা পাট উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে এবং পাট উৎপাদন কমে যাবে। পাট খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন। তাই কৃষক ও শ্রমিক বাঁচাতে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর রহিত করা প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিবেশবান্ধব এ পাটজাত পণ্য বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ সৃষ্টিকারী কৃত্রিম পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। পলিথিনের স্বল্পমূল্য ও সহজলভ্যতা পাটকে বিশ্ববাজার থেকে বিতাড়িত করছে। পাটের সুদিন ফিরে আসবে- এ আশায় মিলমালিকরা কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়েও এ শিল্পকে ধরে রেখেছেন।

শতভাগ দেশীয় উৎপাদিত কাঁচা পাট দিয়ে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করা হয়। ২ শতাংশ উৎসে কর থাকলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার টিকে থাকা সম্ভব হবে না। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাটকলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন কারণে পাটপণ্য টিকে থাকতে পারছে না। ২ শতাংশ উৎসে কর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর আঘাত করছে।

অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি

বাংলাদেশে পাটপণ্য রপ্তানির ওপর ২০১৭ সালে অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করায় ভারতে পাট রপ্তানি কমে গেছে। ৫ বছরে পাটের মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া যেগুলো চালু রয়েছে তাও ঋণে জর্জরিত। ভারত কর্তৃক আরোপিত এন্টি ডাম্পিং ডিউটি রোধকল্পে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিওটিও) জরুরি ভিত্তিতে আপিল করে এ শিল্পকে রক্ষা করা জরুরি।

ইতিমধ্যে ভারতের ট্রেড রেমিডিজের মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে তদন্ত করেছে। ভারত আগামী পাঁচ বছরের জন্য পুনরায় অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করতে চায়।

বাংলাদেশি পাটপণ্যের বড় বাজার ছিল ভারত। কিন্তু পাটপণ্য রপ্তানির ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রাখায় দেশটিতে পাট সুতা রপ্তানি কমে ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নেমেছে।

চিঠিতে বিষয় দুটি জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে পত্র দেয়ার বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) সচিব আব্দুল বারিক খান আরও বলেন, ‘অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমলেও পাটপণ্যের চাহিদা কমবে না। ভবিষ্যতে চাহিদা আরও বাড়বে। আমাদের ‘সোনালি আঁশ’ পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারি, যদি এ খাতের দিকে একটু নজর দিই। কারণ বাংলাদেশ ছাড়া আর মাত্র একটি-দুটি দেশে পাট উৎপন্ন হয়। বিশ্ব যত বদলাবে পাটপণ্যের চাহিদা ততই বাড়বে।

পাট রপ্তানি

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে ওই অর্থবছরে ৬ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। তিন দশক আগেও দেশে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদিত হতো।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) সূত্রে জানা যায়, বছরে দেশে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য লাগে ৬০ লাখ বেল। আর ১০ থেকে ১২ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে ১১৬ কোটি ডলারেরও বেশি। ওই অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার।

জ্বালানি তেলের দাম ৮ মাসে সর্বনিম্ন

জ্বালানি তেলের দাম ৮ মাসে সর্বনিম্ন
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি সুখবর এসেছে। যে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিতে ওলট-পালট করে দিচ্ছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেলের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে; নেমে এসেছে ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ ডলার ৩১ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৮৬ ডলার ১৫ সেন্টে নেমে এসেছে। আর ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম নেমে এসেছে ৭৮ ডলার ৭৪ সেন্টে; কমেছে ৪ ডলার ৭৫ সেন্ট বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এই সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশ কমেছে। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।

এই দর গত জানুয়ারির পর সবচেয়ে কম। টানা চার সপ্তাহ ধরে দুই ধরনের তেলের দামই পড়ছে।

শনিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর নিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের বড় দরপতন হয়েছে।

‘আমেরিকান মুদ্রা ডলার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার বড় অর্থনীতিকে মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ আশঙ্কায় পড়ছে তেলের দাম।’

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশ ঋণের সুদের হার বাড়িয়েই চলেছে। ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ বুধবারও সুদের হার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। অন্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোও সেই একই পথ অনুসরণ করছে। আর এটাই বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ ছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বড় বড় শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাহিদা কমায় জ্বালানি তেলের দাম কমেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত দুটি কারণে তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। প্রথমত, বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা মোটেও ভালো নয়। উন্নত দেশগুলোতে মন্দার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই তেলের চাহিদা কমছে। দ্বিতীয়ত, ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দর।

ডলার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্যানুসারে, চলতি বছর ডলারের দর ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি মূল্য বেড়ে যায়, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। সে জন্য ডলারের দর বাড়লে উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি তেল আমদানি হ্রাস করে, বাংলাদেশও যা করেছে। ডলার বাঁচাতে দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস করা হবে।

বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম গড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছিল, ঠিক তখন বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। গত ৫ আগস্ট রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের প্রতি লিটারের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা আর অকটেন ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন মধ্যরাত থেকে নতুন দর কার্যকর করা হয়। এরপর থেকেই বাস, ট্রাক, অ্যাপের প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, লঞ্চ ও হিউম্যান হলারের ভাড়া বেড়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে তা আরও এক দফা বাড়ে।

সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য বলে আসছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলে দেশের বাজারে লিটারে মাত্র পাঁচ টাকা কমানো হয়।

মন্দাভাবের কারণে বিশ্ববাজারে দাম কমার ধারা কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দাম কমতে থাকলে ওপেক তেল উত্তোলন আরও হ্রাস করবে। এতে দাম খুব একটা না-ও কমতে পারে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে দুই ধরনের তেলের দামই ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে তেলের দাম। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে ওঠানামার মধ্যেই তেলের দর ১১০ থেকে ১১৫ ডলারের মধ্যে ছিল। গত মে মাসের শেষের দিকে তেলের দাম বেড়ে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

২০২০ সালের করোনা মহামারির শুরুতে সারা বিশ্বে যখন লকডাউন চলছিল, তখন জ্বালানি তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ এক ব্যারেল তেল কিনলে ক্রেতাকে উল্টো ৩৭ ডলার দেয়া হয়েছে। এরপর ওপেক ও রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মেতে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলারে ওঠে। সে সময়ই দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

এরপর অবশ্য তেলের দাম খানিকটা কমে আসে। যুদ্ধের কারণে ফের তা বাড়তে থাকে। ইউক্রেনে রুশ হামলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।


ভুয়া রিটার্ন শনাক্ত করা যাবে সহজেই

ভুয়া রিটার্ন শনাক্ত করা যাবে সহজেই
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আয়শা সিদ্দিকী একজন উদ্যোক্তা। রাজধানীর উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে বুটিক হাউসের ব্যবসা করেনে তিনি। ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাংকে যান  তিনি।

ব্যবস্থাপক তাকে জানিয়ে দেন, ঋণের জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বার বা ই-টিআইএনের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (প্রাপ্তি স্বীকার) দাখিল করতে হবে।

রিটার্ন দাখিল করে প্রমাণপত্র ব্যাংকে জমা দেন আয়শা। এত অল্প সময়ে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখে ব্যাংক কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইট থেকে ভেরিফিকেশন করে ব্যাংক কর্মকর্তা নিশ্চিত হন যে, আয়শা সিদ্দিকীর রিটার্ন জমা হয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু আয়শা সিদ্দিকী নয়, এখন থেকে যে কেউ আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া নিশ্চিত হতে চাইলে রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে তাৎক্ষণিক যাচাই করতে পারবেন। এর ফলে ভুয়া রিটার্ন সহজেই শনাক্ত করা যাবে।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সত্যতা যাচাই করতে এনবিআর চালু করেছে ‘ভেরিফাই’ পদ্ধতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই সিস্টেম চালুর মাধ্যমে যেকোনো করদাতা নিশ্চিত হতে পারবেন যে, তার রিটার্ন জমা হয়েছে। এতে করে ভুয়া রিটার্ন জমা দেয়ার সুযোগ থাকবে না।’

আগে শুধু ই-টিআইএন দিয়ে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম ছিল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে টিআইএনের পাশাপাশি ৩৮ সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমা বাধ্যতামূলক করা হয়।

অর্থাৎ এসব সেবা পেতে হলে টিআইএনের সঙ্গে আয়কর প্রমাণপত্র দেখাতে হবে করদাতাকে। এর ফলে একদিকে রিটার্ন জমার পরিমাণ বাড়বে। অন্যদিকে করযোগ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় সহজ হবে।

বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত করবর্ষে রিটার্ন দাখিল হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিবন্ধনধারীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই বাষিক রিটার্ন দাখিল করে না। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেছেন, কর দেয়ার সার্মথ্য যাদের আছে, তাদের আওতায় আনার জন্য রিটার্ন এর সঙ্গে প্রমাণপত্র জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

এনবিআরের ওয়েবসাইটে ‘ট্যাক্স রিটার্ন ভেরিফিকেশন মডিউল’ নামে একটি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। যাচাই করতে হলে করদাতাকে উল্লিখিত ওয়েবসাইটে ‘রিটার্ন ভেরিফাই’ অংশে ক্লিক করতে হবে। সেখানে করবর্ষ ও ই-টিআইএন নম্বর দিতে হবে। এন্টার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম ও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র চলে আসবে।

এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের একজন কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় রিটার্ন জমা না দিয়েও ভুয়া রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দিয়ে বিভিন্ন সেবাগ্রহণের তথ্য পাওয়া যেত। ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালুর ফলে কেউ চেষ্টা করলেও ভুয়া প্রমাণপত্র দিয়ে সেবা নিতে পারবেন না।’

এবারের বাজেটে ৪০টি সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। এতদিন এসব সেবা পেতে শুধু ই-টিআইএন সনদ দিলে হতো।

বর্তমানে প্রমাণপ্রত্র বাধ্যতামূলক করায় সেবা পেতে অনেকেই ভোগান্তির সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যারা ই-টিআইএন নিয়েও বছরের পর বছর রিটার্ন দাখিল করেন না।

আবার অনেক করদাতা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন। কিন্তু কর অফিসে সঠিকভাবে জমা রাখা হয় কি না, তা নিয়ে করদাতার মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি হয়। করদাতার শঙ্কা ও সংশয় দূর করতে এবং ভুয়া রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র রোধে এনবিআর চলতি বছর ‘রিটার্ন ভেরিফাই’ সিস্টেম  চালু করে। এর মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এমন কি করদাতা নিজেই রিটার্ন দাখিল হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।


বিশ্ববাজারে সোনার দাম ২ বছরে সবচেয়ে কম, দেশে কমছে সামান্য

বিশ্ববাজারে সোনার দাম ২ বছরে সবচেয়ে কম, দেশে কমছে সামান্য
স্বর্ণ। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছেই। গতকাল শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনা ২৯ ডলার বা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৪৩ ডলার ৯০ সেন্টে নেমে এসেছে। এক মাসের বেশি সময় ধরে বিশ্ববাজারে সোনার দরে টানা পড়ছে। এই দর দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ১ হাজার ৬৫০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল।

তবে বিশ্ববাজারে যে হারে সোনার দর কমছে, দেশের বাজারে সে হারে কমছে না। এমনকি পড়তির বাজারেও স্থানীয় বাজারে সোনার দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আগস্টের মাঝামাঝি থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমছে। গত ১২ আগস্ট প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল ১ হাজার ৮০১ ডলার ৮২ সেন্ট। সেখান থেকে কমতে কমতে এখন ১ হাজার ৬৫০ ডলারেরর নিচে নেমে এসেছে। এ হিসাবে দেড় মাসের কম সময়ের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ১৫৮ ডলার।

গত এক সপ্তাহে বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে ৩১ ডলার ৬৬ সেন্ট। এক মাসের ব্যবধানে কমেছে ১০৮ ডলার বা ৬ দশমিক ১৫ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে সোনার দাম কমার প্রভাব দেশের বাজারেও পড়েছে। স্থানীয় বাজারে কিছুটা কমেছে সোনার দর। তবে বিশ্ববাজারে যে হারে কমেছে, দেশের বাজারে সেই হারে কমেনি। বরং চলতি মাসে বিশ্ববাজারে যখন সোনার দাম কমের দিকে ছিল, সে সময়ও দেশের বাজারে উল্টো বাড়ানো হয়।

এতে ১১ সেপ্টেম্বর সব রেকর্ড ভেঙে দেশের বাজারে নতুন উচ্চতায় ওঠে সোনার দাম। সে সময় সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম ১ হাজার ২৮৩ টাকা বাড়িয়ে ৮৪ হাজার ৫৬৪ টাকা করা হয়। এর আগে দেশের বাজারে সোনার এত দাম দেখা যায়নি।

অবশ্য এই রেকর্ড দাম স্পর্শ করার পর সম্প্রতি দুই দফা দেশের বাজারে সোনার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি-বাজুস। এর মধ্যে সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৯৩৩ টাকা কমিয়ে ৮২ হাজার ৩৪৮ টাকা করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৮৭৫ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ৭০০ টাকা কমিয়ে ৬৭ হাজার ৪১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ৫৮৩ টাকা কমিয়ে ৫৫ হাজার ৮৭১ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের বাজারে এ দামেই বিক্রি হচ্ছে এই ধাতু।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া-ইউক্রেনে হামলার পর বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে সোনার দর।  মার্চের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম দুই হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এরপর গত কয়েক মাসে কয়েক দফা ওঠা-নামা করে। তবে আগস্টের মাঝামাঝি থেকে কমছেই।