রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটলে প্রতিটা খাতে রপ্তানিতে ভালো করা সম্ভব

আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটলে প্রতিটা খাতে রপ্তানিতে ভালো করা সম্ভব
প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বুধবার পিআরআইবি আয়োজিত ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

দেশের তৈরি পোশাক খাত রপ্তানিতে সফল হতে পারলে অন্য খাতগুলো অনেক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। এর জন্য তিনি আমলাতান্ত্রিক জটিলতাকে দায়ী করেছেন।

তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটা খাতে রপ্তানিতে ভালো করা সম্ভব যদি আমলাতান্ত্রিক জটিলতার সংস্কার করা যায়। উচ্চপর্যায়ে আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার পরিবর্তন এসেছে, তবে মাঠ পর্যায়ে এখনো রয়ে গেছে।

বুধবার পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) ‘রপ্তানি প্রতিযোগিতার জন্য বাণিজ্য সুবিধার উন্নতি: বাংলাদেশের জন্য অগ্রগতি পাঠ এবং নীতি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান এসব কথা বলেন।

সালমান এফ রহমান বলেন, দেশে গত ১৫ বছরে জিডিপি বেড়েছে ১০ বারের বেশি। প্রধানমন্ত্রী দেশের উন্নয়নের জন্য সবকিছু করে যাচ্ছেন। দেশ সে অনুযায়ী এগোচ্ছেও। তারপরও কিছু খাতে সমস্যা রয়েই গেছে।

বাংলাদেশের যেকোনো উন্নয়নমূলক কাজে সহযোগী হওয়ার জন্য আইএফসি, বিশ্বব্যাংক এবং এডিবিকে ধন্যবাদ দেন উপদেষ্টা। বলেন, ‘তারা সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকে।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘প্রথমে ইস্যু বলতে গেলে এক্সপোর্ট নিয়ে বলতে হয়। প্রধানমন্ত্রী অনেকবার বলেছেন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি অনেক সফল, তাহলে অন্য এক্সপোর্ট সেক্টর কেন গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির মতো সফল হচ্ছে না? অন্য সেক্টরের মানুষেরা অভিযোগ করছেন, গার্মেন্টস সেক্টরের মতো তারা সুবিধা পাচ্ছেন না। আমাদের সিরিয়াসভাবে অন্য সেক্টরের দিকে মনোযোগ দিতে হবে, যেমনটা আরএমজি এক্সপোর্টের দিকে দিয়েছি।’ 

‘এক্সপোর্ট বাড়াতে হলে পোর্টের সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত। চিটাগং পোর্টের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। এ নিয়ে কাজ চলছে। কক্সবাজার জেলার মাতারবাড়ী এলাকার প্রস্তাবিত গভীর সমুদ্র বন্দর নিয়ে কাজ চলছে। যা কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য আনা কয়লাবাহী জাহাজ ভেড়ানো জেটিকে সম্প্রসারণ করে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বন্দর হিসেবে নির্মাণ করা হবে। এগুলো হয়ে গেলে এক্সপোর্ট আরও বাড়ানো যাবে।’

প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ উপদেষ্টা বলেন, ‘কীভাবে লোকাল প্রাইভেট ও ফরেন প্রাইভেট সেক্টরে আরও বিনিয়োগ আনা যায় আমি সেই বিষয়ে কাজ করছি। সরকারের সংস্থাগুলোও কাজ করছে। আপনাদের বুঝতে হবে, আমরা কোনো বিনিয়োগকারী না, আমরা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাই আমাদের কাজগুলোও সেভাবেই হচ্ছে।’

আমলাতন্ত্রের সমস্যা আছে উল্লেখ করে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমি সব সময় বলি যে উচ্চমানের আমলাতন্ত্রের কাছে আগে সবকিছু বন্দি ছিল। তবে এখন উচ্চপর্যায়ে সমস্যা কমেছে। আমলাতন্ত্রের উচ্চপর্যায়ে ইতিবাচক মানসিক পরিবর্তন এসেছে। তবে নিম্ন পর্যায় ও মাঠ পর্যায়ে এখনো সমস্যা রয়ে গেছে। এনবিআর এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে এসব চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজ করছে। গার্মেন্টস সেক্টরের মতো অন্য সেক্টরগুলোতেও নজর দিতে হবে।’

সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ উপদেষ্টা বলেন, ‘সাপ্লাই চেইনে সিরিয়াস সমস্যা দেখা দিয়েছে। আমাদের সবার একযোগে এসব সমস্যা বের করে কাজ করতে হবে। কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগুনো যায়, তা করতে হবে। আমি পিআরআই, পলিসি এক্সচেঞ্জ এবং বিশ্বব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুরোধ করব সাপ্লাই চেইন নিয়ে আরও সতর্ক হতে।

সর্বশেষ বলব, প্রথমত গ্লোবাল ট্রেড অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এটা দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক। দ্বিতীয়ত আমাদের আমলাতন্ত্রের মাঠ পর্যায়ে মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। তৃতীয়ত আমাদের সবার জিও পলিটিক্যাল সিচুয়েশনে নিয়ে ভাবতে হবে, এটা কীভাবে সাপ্লাই চেইনে আঘাত করছে সেদিকে নজর দিতে হবে।’

এ সময় ভার্চুয়াল ওয়েবিনারে যুক্ত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পিআরআই নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার, পলিসি এক্সচেঞ্জ চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ, আইএফসি ম্যানেজার সেলমা রাজাভেক, জাতীয় রাজর্স্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য (কাস্টম অডিট) ড. আব্দুল মান্নান সিকদার, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান, বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক, বিজিএমইএর পরিচালক ও সিএসইর সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এনামুল হক, এফসিডিওর ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর ডানকান ওভারফিল্ড, আইএফসির কান্ট্রি ম্যানেজার মারটিন হটম্যানসহ আরো অনেকে।

পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যে যে ভিশন নিয়েছে সে অনুযায়ী এগোচ্ছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে।

এনবিআরের সদস্য আব্দুল মান্নান শিকদার বলেন, আমাদের হাতে অনেকগুলো প্রজেক্ট আছে, বিশ্বব্যাংক আমাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছে। বন্ড ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট আছে যা খুব ভালোভাবেই শুরু হচ্ছে। এনবিআর সব সময় চেষ্টা করে অংশীজনদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক কিছু করতে।

বিজিএমইএ পরিচালক ও সিএসই সভাপতি আসিফ ইব্রাহিম বলেন, বন্ডেড ওয়্যারহাউজ ইস্যু নিয়ে বলতে গেলে কাস্টমসে আমরা অনেক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আমরা যখন কোনো নতুন প্রোডাক্ট আনতে চাই বন্ডেড ওয়্যারহাউজে তখন সমস্যা পোহাতে হয়।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের এমডি এনামুল হক বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হবে। জিএসপি অ্যান্ড জিএসপি প্লাস পেতে হলে ২০৩০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

ওয়েবিনার শুরু করেন পিআরআইবি নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর ও সঞ্চালনা করেন চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।


পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকার হতে চায় সাকিব-হিরুর কোম্পানি
সাকিব আল হাসান। ছবি: ফেসবুক থেকে
ফারহান ফেরদৌস
প্রকাশিত

ফারহান ফেরদৌস

পুঁজিবাজারে মার্কেট মেকারের লাইসেন্স চেয়েছে ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও আলোচিত বিনিয়োগকারী আবুল খায়ের হিরুর মালিকানাধীন ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই এই আবেদনে সম্মতি দিয়ে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন বা বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছে আবেদনটি।
ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই চিঠি পাঠান। তবে এখনও বিএসইসি থেকে কোনো জবাব আসেনি।
বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কাগজপত্র সব ঠিকঠাক আছে কি না, সেটি দেখার মূল দায়িত্ব ডিএসইর। বিএসইসি মূলত সেই সিদ্ধান্ত রিভিউ করে।’
মোনার্কের মার্কেট মেকার হওয়ার যোগ্যতা আছে বলে মনে করেন কি না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘যেসব ক্রাইটেরিয়া তাদের থাকা উচিত, সেগুলো যদি থাকে, তাহলে তারা পাবে।’
সাকিবের ব্যবসায়ীক অংশীদার হিরুর বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির মাধ্যমে ১৩৭ কোটি টাকা আয়ের প্রমাণ পেয়েছে বিএসইসি। একাধিক আদেশে হিরু ও তার অংশীদারদের ১০ কোটি টাকারও বেশি জরিমানাও করা হয়েছে।
কারসাজির অভিযোগ ছিল সাকিবের বিরুদ্ধেও। তবে সেই অভিযোগের প্রমাণ না পেয়ে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। যদিও হিরুর সঙ্গে তার ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের বিষয়টি নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে।
মোনার্কের নথিপত্রে সাকিবের বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুরের নাম ছাপা হওয়া নিয়েও তোলপাড় হয়েছে সম্প্রতি। তবে এটি করণিক ভুল বলে জানিয়েছে মোনার্ক।
কোম্পানিটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয়, তখন সাকিবের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজাই উল্লেখ করা হয়। তবে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানোর আবেদনের সময় যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি থেকে ভুল করা হয়। তারা সাকিবের বাবার নামের জায়গায় হিরুর শ্বশুর আব্দুল লতিফের নাম বসিয়ে দেয়।
তোলপাড়ের পর সেটি সংশোধনের আবেদন করা হয়। এরই মধ্যে নামটি সংশোধন হয়ে গেছে বলে মোনার্ককে জানানো হয়েছে।

ডিএসইর মূল্যায়নে মোনার্ক যোগ্য

মোনার্ক প্রথমে ডিএসইর কাছে আবেদন করার পর তারা পুঁজিবাজারে কারসাজির এই বিষয়গুলো বিবেচনায় না এনে কেবল কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্তে আসে যে, প্রতিষ্ঠানটির মার্কেট মেকার হিসেবে কাজ করার যোগ্যতা আছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসইর এমডি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা আবেদন পেয়েছিলাম। প্রয়োজনীয় কাজগপত্র সব আছে। কাজ শেষ করে বিএসইসির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।’
যে কোম্পানির মালিকের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ আছে, এমন একটি কোম্পানিকে মার্কেট মেকারের স্বীকৃতি দেয়া কতটা নৈতিক, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তাদের যে জরিমানা করা হয়েছে, সেটা তো অন্য বিষয়। এখানে আমরা তাদের কোনো সমস্যা পাইনি।’
কারসাজিতে জড়িত থাকার পর হিরুর মালিকানাধীন কোম্পানিকে মার্কেট মেকারের স্বীকৃতি দেয়াটা কতটা যৌক্তিক- এমন প্রশ্নে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মার্কেট মেকারের লাইসেন্স নিয়ে অকাজ করলে তো হবে না। তবে বিষয়টি বিএসইসি দেখবে।’
মোনার্ক হোল্ডিংসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা অনেক আগে ডিএসইর মার্কেট মেকারের লাইসেন্স পেতে আবেদন করেছিলাম। তারা তাদের কাজ শেষ করেছে। এখন বিএসইসি কাগজ খতিয়ে দেখছে। তারা আমাদের কাছে কিছু কাগজ চেয়েছে। আমরা এসব কাগজ কালকে দিয়ে দেবো।’


মার্কেট মেকার কারা

মার্কেট মেকার বলতে এমন একটি কোম্পানি বা ব্যক্তিকে বোঝায় যারা একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করে। তারা কোনো একটি শেয়ারের মজুদ রাখে এবং সব সময় তাদের কাছে একটি দামে শেয়ারটি কেনা যায় ও একটি দামে শেয়ারটি বিক্রি করা যায়। এর ফলে পুঁজিবাজারে তারল্য তৈরি হয়।
পুঁজিবাজারের গভীরতা বাড়াতে মার্কেট মেকারের আইন করে বিএসইসি।
দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মার্কেট মেকার হিসেবে নিবন্ধন সনদ পায় ডিএসই ও সিএসই (চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জের) সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজ বি রিচ লিমিটেড।এর পরে লাইসেন্স পায় গ্রিনডেল্টা সিকিউরিটিজ।
বাজার সৃষ্টিকারী বিধিমালায় উল্লেখ রয়েছে- কোনো মার্চেন্ট ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্টক ডিলার বা স্টক ব্রোকার বিএসইসি থেকে এ সনদ পাওয়ার যোগ্য হবে।
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বাজার সৃষ্টিকারী) বিধিমালা অনুযায়ী, মার্কেট মেকার হওয়ার জন্য স্টক এক্সচেঞ্জের অনুমোদন সাপেক্ষে বিএসইসির কাছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান আবেদন করবে।
একইসঙ্গে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পরিশোধিত মূলধন কমপক্ষে ১০ কোটি টাকা থাকতে হবে। আর উল্লিখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধিত মূলধন হিসেবে থাকলে যে কোনো মার্কেট মেকার একটি অনুমোদিত সিকিউরিটিজ পরিচালনার জন্য নিয়োজিত থাকতে পারবে।
বাংলাদেশে একজন মার্কেট মেকার সর্বোচ্চ ৫টি শেয়ারের বাজার তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। একটি শেয়ারের বাজার তৈরি করতে ১০ কোটি টাকা পেইডআপ লাগবে। সে হিসাবে ৫০ কোটি টাকা পেইড-আপ থাকলে ৫টি শেয়ারের মার্কেট তৈরি করা যাবে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি যাত্রা শুরু করে মোনার্ক হোল্ডিংস। আবুল খায়ের হিরু জানিয়েছেন, তাদের পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকা।


বিএমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক সাইফ

বিএমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল, সম্পাদক সাইফ
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়শনের (বিএমবিএএ) নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন সাইফ আই মাহমুদ।

গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির ১০ম বার্ষিক সাধারণ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

সভায় বিএমবিএ অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রকাশিত দেশীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডদের নিয়ে একটি বিজনেস কেস বুকের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে।  

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাবি আইবিএ-এর পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পিএইচপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সুফি মিজানুর রহমান এবং আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী সৈয়দ আলমগীর।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মিজানুর রহমান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, দেশি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান শীর্ষ কর্তারা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ এমবিএ অ্যাসোসিয়েশন এমবিএ ডিগ্রীধারীদের সবচেয়ে পুরোনো ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। ঢাবির আইবিএর শুরুর দিককার এমবিএ ডিগ্রিধারী এবং করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ, হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল, ওয়ার্টন বিজনেস স্কুল ও স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুলের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশি এমবিএদের নিয়ে ১৯৮৬ সালে শুরু হয় এই সংগঠনের যাত্রা।


পাটশিল্প বিকাশে ২ অন্তরায়

পাটশিল্প বিকাশে ২ অন্তরায়
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

একদিকে সোনালি আঁশ, অন্যদিকে রুপালি কাঠি। দুয়ে মিলে সম্ভাবনার নাম পাট। তবে ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামনে এসেছে প্রতিবন্ধকতা। কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর এবং এন্টি ডাম্পিং ডিউটি ধার্য করায় ম্লান হচ্ছে পাটের সম্ভাবনা।

সংকট সুরাহায় বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল সমিতি (বিজিএমএ)।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন জানান, পাট খাতের উন্নয়নে দুটি প্রধান বাধা স্পষ্ট। যা হচ্ছে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর এবং এন্টি ডাম্পিং ডিউটি। এ বাধা দূর হলে পাট খাতের রপ্তানি কয়েক গুণ বাড়বে। ঘুরে দাঁড়াবে এই খাত। 

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) মহাসচিব আব্দুল বারিক খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁচা পাট অত্যন্ত উন্নতমানের হওয়ায় বিশ্বে পাটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কাঁচা পাট রপ্তানিতে এ দুটি বাধা দূর করা জরুরি।

‘স্বাধীনতা পূর্ব এবং পরবর্তী সময়ে পাটই ছিল একমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত। কিন্তু পাট খাতে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল থেকে কোনো সহায়তা দেয়া হয় না। বিদেশ থেকে তুলা আমদানি করলে এ তহবিলের সুবিধা পায়। তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারকরা এ তহবিল থেকে বড় সহায়তা পায়। কিন্তু স্বল্পসুদের এ তহবিল থেকে পাটশিল্প কোনো সহায়তা পায় না।’

বলা হচ্ছে, এ তিনটি সুবিধা বাস্তবায়ন করতে পারলে পাট রপ্তানি করে এখন যে আয় হয়, তার পাঁচগুণ আয় সম্ভব। কয়েক বছরের মধ্যে আট থেকে দশ বিলিয়ন ডলার আয় করা যাবে।

ট্যারিফ কমিশনে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘কৃষক শ্রমিকসহ পাটশিল্প খাতের সঙ্গে পাঁচ কোটি মানুষের জীবিকা জড়িত। পাট খাতের অনেকগুলো সমস্যার মধ্যে দুটি সমস্যা পাট খাতের উন্নয়নে ও সার্বিক কার্যক্রমে প্রধান বাধা সৃষ্টি করছে। সমস্যা দুটি জরুরিভাবে সমাধান করা না হলে পাটশিল্প ক্রমান্বয়ে মুখ থুবরে পড়বে।  ফলে পাটপণ্য রপ্তানি ও রপ্তানি আয় ব্যাপকভাবে কমে যাবে।’

কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর

কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর দেশের কৃষক ও ফরিয়াদের ওপর পড়ে। ফলে কৃষকরা পাট উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হবে এবং পাট উৎপাদন কমে যাবে। পাট খাতের সঙ্গে জড়িত মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির সম্মুখীন। তাই কৃষক ও শ্রমিক বাঁচাতে কাঁচা পাটের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর রহিত করা প্রয়োজন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, পরিবেশবান্ধব এ পাটজাত পণ্য বিশ্বব্যাপী পরিবেশ দূষণ সৃষ্টিকারী কৃত্রিম পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। পলিথিনের স্বল্পমূল্য ও সহজলভ্যতা পাটকে বিশ্ববাজার থেকে বিতাড়িত করছে। পাটের সুদিন ফিরে আসবে- এ আশায় মিলমালিকরা কোটি কোটি টাকা লোকসান দিয়েও এ শিল্পকে ধরে রেখেছেন।

শতভাগ দেশীয় উৎপাদিত কাঁচা পাট দিয়ে বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করা হয়। ২ শতাংশ উৎসে কর থাকলে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজার টিকে থাকা সম্ভব হবে না। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাটকলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন কারণে পাটপণ্য টিকে থাকতে পারছে না। ২ শতাংশ উৎসে কর ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’-এর আঘাত করছে।

অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি

বাংলাদেশে পাটপণ্য রপ্তানির ওপর ২০১৭ সালে অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করায় ভারতে পাট রপ্তানি কমে গেছে। ৫ বছরে পাটের মিলগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া যেগুলো চালু রয়েছে তাও ঋণে জর্জরিত। ভারত কর্তৃক আরোপিত এন্টি ডাম্পিং ডিউটি রোধকল্পে বিশ্ববাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লিওটিও) জরুরি ভিত্তিতে আপিল করে এ শিল্পকে রক্ষা করা জরুরি।

ইতিমধ্যে ভারতের ট্রেড রেমিডিজের মহাপরিচালকের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে তদন্ত করেছে। ভারত আগামী পাঁচ বছরের জন্য পুনরায় অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি আরোপ করতে চায়।

বাংলাদেশি পাটপণ্যের বড় বাজার ছিল ভারত। কিন্তু পাটপণ্য রপ্তানির ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে রাখায় দেশটিতে পাট সুতা রপ্তানি কমে ২৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নেমেছে।

চিঠিতে বিষয় দুটি জরুরি ভিত্তিতে সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়কে পত্র দেয়ার বিষয়ে ট্যারিফ কমিশনের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দানের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএমএ) সচিব আব্দুল বারিক খান আরও বলেন, ‘অন্যান্য পণ্যের চাহিদা কমলেও পাটপণ্যের চাহিদা কমবে না। ভবিষ্যতে চাহিদা আরও বাড়বে। আমাদের ‘সোনালি আঁশ’ পাটের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে পারি, যদি এ খাতের দিকে একটু নজর দিই। কারণ বাংলাদেশ ছাড়া আর মাত্র একটি-দুটি দেশে পাট উৎপন্ন হয়। বিশ্ব যত বদলাবে পাটপণ্যের চাহিদা ততই বাড়বে।

পাট রপ্তানি

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। তবে ওই অর্থবছরে ৬ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়। তিন দশক আগেও দেশে ১২ লাখ হেক্টর জমিতে পাট উৎপাদিত হতো।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ) সূত্রে জানা যায়, বছরে দেশে ৭৫ থেকে ৮০ লাখ বেল কাঁচা পাট উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে পাটপণ্য উৎপাদনের জন্য লাগে ৬০ লাখ বেল। আর ১০ থেকে ১২ লাখ বেল কাঁচা পাট রপ্তানি করে বাংলাদেশ।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পাট ও পাটজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে ১১৬ কোটি ডলারেরও বেশি। ওই অর্থবছরে কাঁচা পাট রপ্তানি হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি ডলার।

জ্বালানি তেলের দাম ৮ মাসে সর্বনিম্ন

জ্বালানি তেলের দাম ৮ মাসে সর্বনিম্ন
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি সুখবর এসেছে। যে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য বিশ্ব অর্থনীতিতে ওলট-পালট করে দিচ্ছিল, আন্তর্জাতিক বাজারে সেই তেলের বড় ধরনের দরপতন হয়েছে; নেমে এসেছে ৮ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম দামে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ ডলার ৩১ সেন্ট বা ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৮৬ ডলার ১৫ সেন্টে নেমে এসেছে। আর ডব্লিউটিআই ক্রুডের প্রতি ব্যারেলের দাম নেমে এসেছে ৭৮ ডলার ৭৪ সেন্টে; কমেছে ৪ ডলার ৭৫ সেন্ট বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এই সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৬ শতাংশ কমেছে। ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ।

এই দর গত জানুয়ারির পর সবচেয়ে কম। টানা চার সপ্তাহ ধরে দুই ধরনের তেলের দামই পড়ছে।

শনিবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দর নিয়ে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূলত বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের বড় দরপতন হয়েছে।

‘আমেরিকান মুদ্রা ডলার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। ক্রমবর্ধমান সুদের হার বড় অর্থনীতিকে মন্দার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এ আশঙ্কায় পড়ছে তেলের দাম।’

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় বড় দেশ ঋণের সুদের হার বাড়িয়েই চলেছে। ইউএস ফেডারেল রিজার্ভ বুধবারও সুদের হার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়েছে। অন্য বড় অর্থনীতির দেশগুলোও সেই একই পথ অনুসরণ করছে। আর এটাই বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

এ ছাড়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের বড় বড় শহরে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নতুন করে লকডাউন শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাহিদা কমায় জ্বালানি তেলের দাম কমেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত দুটি কারণে তেলের দাম নিম্নমুখী হয়েছে। প্রথমত, বিশ্ব অর্থনীতির অবস্থা মোটেও ভালো নয়। উন্নত দেশগুলোতে মন্দার পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই তেলের চাহিদা কমছে। দ্বিতীয়ত, ডলারের ঊর্ধ্বমুখী দর।

ডলার প্রাইস ইনডেক্সের তথ্যানুসারে, চলতি বছর ডলারের দর ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি মূল্য বেড়ে যায়, যা বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করে। সে জন্য ডলারের দর বাড়লে উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি তেল আমদানি হ্রাস করে, বাংলাদেশও যা করেছে। ডলার বাঁচাতে দেশে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম না কমলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস করা হবে।

বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানি তেলের দাম গড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের কাছাকাছি ওঠানামা করছিল, ঠিক তখন বাংলাদেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ৫১ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। গত ৫ আগস্ট রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়, ডিজেল ও কেরোসিনের প্রতি লিটারের দাম ৩৪ টাকা বাড়িয়ে ১১৪ টাকা, পেট্রল ৪৪ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা আর অকটেন ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন মধ্যরাত থেকে নতুন দর কার্যকর করা হয়। এরপর থেকেই বাস, ট্রাক, অ্যাপের প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল, লঞ্চ ও হিউম্যান হলারের ভাড়া বেড়ে যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আগে থেকেই বাড়তি ছিল, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে তা আরও এক দফা বাড়ে।

সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য বলে আসছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে দেশেও জ্বালানি তেলের দাম কমানো হবে। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলে দেশের বাজারে লিটারে মাত্র পাঁচ টাকা কমানো হয়।

মন্দাভাবের কারণে বিশ্ববাজারে দাম কমার ধারা কত দিন অব্যাহত থাকবে, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহ আছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, দাম কমতে থাকলে ওপেক তেল উত্তোলন আরও হ্রাস করবে। এতে দাম খুব একটা না-ও কমতে পারে।

২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। করোনা মহামারির মধ্যেও টানা বেড়েছে তেলের দাম। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় তা আরও ঊর্ধ্বমুখী হয়।

গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে দুই ধরনের তেলের দামই ৮০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সে সময় বাংলাদেশ সরকারও ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ৮০ টাকা নির্ধারণ করে।

রাশিয়া গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে হামলা করলে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে তেলের দাম। একপর্যায়ে প্রতি ব্যারেল ১৩৯ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। এরপর থেকে বিভিন্ন উদ্যোগে ওঠানামার মধ্যেই তেলের দর ১১০ থেকে ১১৫ ডলারের মধ্যে ছিল। গত মে মাসের শেষের দিকে তেলের দাম বেড়ে ১২০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।

২০২০ সালের করোনা মহামারির শুরুতে সারা বিশ্বে যখন লকডাউন চলছিল, তখন জ্বালানি তেলের দাম মাইনাস ৩৭ ডলারে নেমে এসেছিল। অর্থাৎ এক ব্যারেল তেল কিনলে ক্রেতাকে উল্টো ৩৭ ডলার দেয়া হয়েছে। এরপর ওপেক ও রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে তেল সরবরাহ কমিয়ে মূল্যবৃদ্ধি করে।

২০২০ সালের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক বাজারে গড়ে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ছিল ৪২ ডলার। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ছিল ৪৯ ডলার। এরপর থেকে গড়ে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল ফেব্রুয়ারিতে ৫৩ ডলার, মার্চে ৬০, এপ্রিলে ৬৫, মেতে ৬৪, জুনে ৬৬, জুলাইয়ে ৭৩ এবং আগস্টে ৭৪ ডলার। অক্টোবরে এই দাম ৮৫ ডলারে ওঠে। সে সময়ই দেশের বাজারে তেলের দাম বাড়ানো হয়।

এরপর অবশ্য তেলের দাম খানিকটা কমে আসে। যুদ্ধের কারণে ফের তা বাড়তে থাকে। ইউক্রেনে রুশ হামলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।


ভুয়া রিটার্ন শনাক্ত করা যাবে সহজেই

ভুয়া রিটার্ন শনাক্ত করা যাবে সহজেই
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

আয়শা সিদ্দিকী একজন উদ্যোক্তা। রাজধানীর উত্তরার চার নম্বর সেক্টরে বুটিক হাউসের ব্যবসা করেনে তিনি। ব্যবসা সম্প্রসারণে ঋণ নিতে সম্প্রতি একটি বেসরকারি ব্যাংকে যান  তিনি।

ব্যবস্থাপক তাকে জানিয়ে দেন, ঋণের জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বার বা ই-টিআইএনের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র (প্রাপ্তি স্বীকার) দাখিল করতে হবে।

রিটার্ন দাখিল করে প্রমাণপত্র ব্যাংকে জমা দেন আয়শা। এত অল্প সময়ে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দেখে ব্যাংক কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওয়েবসাইট থেকে ভেরিফিকেশন করে ব্যাংক কর্মকর্তা নিশ্চিত হন যে, আয়শা সিদ্দিকীর রিটার্ন জমা হয়েছে।

এনবিআরের কর্মকর্তারা বলছেন, শুধু আয়শা সিদ্দিকী নয়, এখন থেকে যে কেউ আয়কর রিটার্ন জমা দেয়া নিশ্চিত হতে চাইলে রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে তাৎক্ষণিক যাচাই করতে পারবেন। এর ফলে ভুয়া রিটার্ন সহজেই শনাক্ত করা যাবে।

আয়কর রিটার্ন দাখিলের সত্যতা যাচাই করতে এনবিআর চালু করেছে ‘ভেরিফাই’ পদ্ধতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের একজন সদস্য দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এই সিস্টেম চালুর মাধ্যমে যেকোনো করদাতা নিশ্চিত হতে পারবেন যে, তার রিটার্ন জমা হয়েছে। এতে করে ভুয়া রিটার্ন জমা দেয়ার সুযোগ থাকবে না।’

আগে শুধু ই-টিআইএন দিয়ে বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার নিয়ম ছিল। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে টিআইএনের পাশাপাশি ৩৮ সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র বা প্রাপ্তি স্বীকারপত্র জমা বাধ্যতামূলক করা হয়।

অর্থাৎ এসব সেবা পেতে হলে টিআইএনের সঙ্গে আয়কর প্রমাণপত্র দেখাতে হবে করদাতাকে। এর ফলে একদিকে রিটার্ন জমার পরিমাণ বাড়বে। অন্যদিকে করযোগ্য ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে আদায় সহজ হবে।

বর্তমানে টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে গত করবর্ষে রিটার্ন দাখিল হয়েছে প্রায় ২৫ লাখ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিবন্ধনধারীর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশই বাষিক রিটার্ন দাখিল করে না। এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেছেন, কর দেয়ার সার্মথ্য যাদের আছে, তাদের আওতায় আনার জন্য রিটার্ন এর সঙ্গে প্রমাণপত্র জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

এনবিআরের ওয়েবসাইটে ‘ট্যাক্স রিটার্ন ভেরিফিকেশন মডিউল’ নামে একটি সিস্টেম চালু করা হয়েছে। যাচাই করতে হলে করদাতাকে উল্লিখিত ওয়েবসাইটে ‘রিটার্ন ভেরিফাই’ অংশে ক্লিক করতে হবে। সেখানে করবর্ষ ও ই-টিআইএন নম্বর দিতে হবে। এন্টার দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম ও রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র চলে আসবে।

এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের একজন কমিশনার বলেন, ‘অনেক সময় রিটার্ন জমা না দিয়েও ভুয়া রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দিয়ে বিভিন্ন সেবাগ্রহণের তথ্য পাওয়া যেত। ভেরিফিকেশন সিস্টেম চালুর ফলে কেউ চেষ্টা করলেও ভুয়া প্রমাণপত্র দিয়ে সেবা নিতে পারবেন না।’

এবারের বাজেটে ৪০টি সেবার ক্ষেত্রে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলক করা হয়। এতদিন এসব সেবা পেতে শুধু ই-টিআইএন সনদ দিলে হতো।

বর্তমানে প্রমাণপ্রত্র বাধ্যতামূলক করায় সেবা পেতে অনেকেই ভোগান্তির সম্মুখীন হন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যারা ই-টিআইএন নিয়েও বছরের পর বছর রিটার্ন দাখিল করেন না।

আবার অনেক করদাতা নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন। কিন্তু কর অফিসে সঠিকভাবে জমা রাখা হয় কি না, তা নিয়ে করদাতার মধ্যে সংশয়ের সৃষ্টি হয়। করদাতার শঙ্কা ও সংশয় দূর করতে এবং ভুয়া রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র রোধে এনবিআর চলতি বছর ‘রিটার্ন ভেরিফাই’ সিস্টেম  চালু করে। এর মাধ্যমে সেবা প্রদানকারী সরকারি-বেসরকারি সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান এমন কি করদাতা নিজেই রিটার্ন দাখিল হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন।