বুধবার, অক্টোবর ৫, ২০২২

৭ শতাংশ মুনাফায় ঋণ দেবে ইসলামী ব্যাংক

৭ শতাংশ মুনাফায় ঋণ দেবে ইসলামী ব্যাংক
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের লোগো
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্পের উদ্যোক্তাদের ৭ শতাংশ মুনাফায় ঋণ দেবে ইসলামী ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের অধীনে সিএমএসএমই খাতে এ ঋণ দিতে সম্প্রতি একটি চুক্তি করেছে ব্যাংকটি।

ইসলামী ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিএমএসএমই খাতে মেয়াদী ঋণের বিপরীতে ‘পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ প্রকল্পের আওতায় অংশগ্রহণকারী ব্যাংক হিসেবে কাজ করার জন্য এই চুক্তি করেছে ইসলামী ব্যাংক। পুনঃঅর্থায়ন প্রকল্পের শর্তানুযায়ী ইসলামী ব্যাংক সিএমএসএমই, বিশেষ করে এসএমই ক্লাস্টারের উদ্যোক্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তা ও নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে ঋণ প্রদান করবে। এ ঋণের মুনাফা হবে ৭ শতাংশ।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২ শতাংশ মুনাফায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ৭ শতাংশ মুনাফায় গ্রাহকদের দেবে।

এর আগে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই স্কিম পরিচালনার জন্য ২৫ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ডেপুটি গভর্নর আবু ফরাহ মো. নাছের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্ট’ এর পরিচালক জাকের হোসেন এবং ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।


খোঁজ নেই ৩৪ শতাংশ টিআইএনের

খোঁজ নেই ৩৪ শতাংশ  টিআইএনের
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আবু কাওসার, ঢাকা

বাড়ি-গাড়ি ব্যাংক হিসাব খোলা, অ্যাপার্টমেন্ট ক্রয়সহ নানা কাজে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা ই-টিআইএন লাগে। যারা প্রয়োজনে ই-টিআইএন নেন, এদের অনেকেই আয়কর রিটার্ন জমা দেন না।

অনেকেই মারা গেছেন, কেউ কেউ বিদেশ চলে গেছেন। আবার ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি অনেকেরই। এদের কারও কারও নামে থাকা আয়কর ফাইলও বাতিল করা হয়নি। ফলে লাখ লাখ ই-টিআইএন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নিবন্ধন নেয়ার পর খুঁজে পাওয়া যায়নি, এমন টিআইএনধারীর সংখ্যা প্রায় ৩৪ শতাংশ।

বর্তমানে ই-টিআইএন সংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ। এর মধ্যে নিষ্ক্রিয় করদাতার সংখ্যা ২৭ লাখ, যা শতকরা হারে ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এই ২৭ লাখ বাদ দিলে নিট টিআইএনধারীর সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৫৩ লাখে।

আইন অনুযায়ী, যাদের টিআইএন আছে তাদের প্রত্যেকের বাষিক রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তার পরও রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা বাড়ছে না প্রত্যাশা অুনযায়ী।

রাজস্ব বোর্ডের সর্বশেষ হিসাবমতে, বছরে আয়কর রিটার্ন জমা দেয় ২৫ লাখ। ফলে রিটার্ন জমা দেয়ার সংখ্যাও হতাশাজনক।

 অবশ্য আয়কর রিটার্নের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য এ বছরের বাজেটে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।

রিটার্নের সঙ্গে অ্যাকনলেজমেন্ট বা প্রাপ্তিস্বীকার রসিদ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয় ৩৪টি সেবা খাতে। এ উদ্যোগের ফলে এনবিআর আশা করছে আগামী করবর্ষে আয়কর রিটার্নের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে দ্বিগুণ বাড়বে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন আসলাম সিকদার। তিনি নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করতেন। দুই বছর আগে তিনি মারা গেছেন। কিন্তু তার ই-টিআইএন নিষ্ক্রিয়। আয়কর ফাইলও বাতিল করা হয়নি।

কুয়েত প্রবাসী বাচ্চু মিয়া বিদেশ যাওয়ার আগে জমি কিনতে

ই-টিআইএন নেন। কিন্তু রিটার্ন দেননি।

আসলাম সিকদার, বাচ্চু মিয়ার মতো লাখ লাখ ব্যক্তি প্রয়োজনে ই-টিআইএন নিলেও তাদের এখন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ওই সব টিআইএন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। এর ফলে লাখ লাখ নিষ্ক্রিয় করদাতা কর অঞ্চলগুলোর জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আয়কর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নিউজবাংলাকে বলেন, অনেকেই জমি ক্রয়, গাড়ি কেনা, ব্যাংক হিসাব খোলাসহ বিভিন্ন সেবা নিতে ই-টিআইএন নিবন্ধন নিয়েছেন।

কিন্তু বছরের পর বছর রিটার্ন দাখিল করেননি। আবার অনেকেই মারা গেছেন, কেউ আবার বিদেশ চলে গেছেন। ওই সব টিআইএন সিস্টেম থেকে বাতিল না করায় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। যে কারণে নিষ্ক্রিয় নম্বরগুলো কর বিভাগের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, নিষ্ক্রিয় ই-টিআইএন বাতিল করতে সম্প্রতি কর অঞ্চল থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ই-টিআইএনের সঙ্গে রিটার্ন দাখিলের পার্থক্য নিয়ে বিভিন্ন মহল প্রশ্ন তোলে।

ফলে নিষ্ক্রিয় টিআইএন বাতিল করা হলে রিটার্ন দাখিলের হার বেড়ে যাবে।

তবে এনবিআর বলছে, ই-টিআইএন সার্ভারে এটি বাতিলের কোনো অপশন বা সুযোগ রাখা হয়নি।

এনবিআর সূত্র জানায়, ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত বর্তমান ই-টিআইএনকে বলা হতো জিআইআর

ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে রেজিস্টার বইয়ে করদাতার নাম ও তথ্য নিবন্ধন করা হতো। এতে যে নাম্বার পড়ত সেটাই হতো করদাতার নম্বর। যাকে বলা হতো জেনারেল ইনডেক্স রেজিস্ট্রেশন নাম্বার।

কোনো কারণে করদাতা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে যাচাই করে সেই নম্বর বন্ধ করে দেয়া হতো। ১৯৯৩ সালে টিআইএন ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার চালু করা হয়।

২০১৩ সালের জুলাই থেকে টিআইএন স্বয়ংক্রিয় করা হয় এবং ১২ ডিজিটের এই নাম্বারকে বলা হয় ইলেকট্রনিক ট্যাক্স পেয়ার’স আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার বা ই-টিআইএন।

এই পদ্বতিতে টিআইএন নিষ্ক্রিয় করার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৩ সালের জুলাই থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত ই-টিআইএন সংখ্যা ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৮২৫। যেখানে গত বছরের আগস্ট পর্যন্ত ছিল ৬৫ লাখ ৫০ হাজার ৮৬৪। অর্থাৎ এক বছরে করদাতা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬১ বা ১৮ শতাংশ।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় জরিপ অঞ্চল কোম্পানি ১ হাজার ৫৩৮; কর অঞ্চল-১, চট্টগ্রাম কোম্পানি ব্যতীত ৪২ হাজার ৮৩৮ ও কোম্পানি ৯৪৯; কর অঞ্চল-২, চট্টগ্রাম কোম্পানি ব্যতীত ৬৯ হাজার ৪৬৯ ও কোম্পানি ১ হাজার ৭৫; কর অঞ্চল-৩, চট্টগ্রাম ৮৯ হাজার ৮০৫ ও কোম্পানি ১ হাজার ৮১৭; কর অঞ্চল-৪, চট্টগ্রাম কোম্পানি ব্যতীত ৯৫ হাজার ১৮০ ও কোম্পানি ১ হাজার ৮৮১; কর অঞ্চল খুলনা কোম্পানি ব্যতীত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫০৬ ও কোম্পানি ১ হাজার ২৮১; কর অঞ্চল রাজশাহী কোম্পানি ব্যতীত ২ লাখ ২৭ হাজার ২৪৫ ও কোম্পানি ১ হাজার ৫০; কর অঞ্চল রংপুর কোম্পানি ব্যতীত ৪৭ হাজার ৮২৫ ও কোম্পানি ১৬; কর অঞ্চল বরিশাল কোম্পানি ব্যতীত ১ লাখ ২২ হাজার ২০৭ ও কোম্পানি ৭৫; কর অঞ্চল সিলেট ১ লাখ ১২ হাজার ৮৭২ ও কোম্পানি ২৮৭; কর অঞ্চল নারায়ণগঞ্জ কোম্পানি ব্যতীত ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬৫১ ও কোম্পানি ১ হাজার ৪০৩; কর অঞ্চল গাজীপুর কোম্পানি ১ লাখ ২৩ হাজার ৮২০ ও কোম্পানি ১২; কর অঞ্চল কুমিল্লা কোম্পানি ব্যতীত ২ লাখ ৪৫ হাজার ৭৫৮ ও কোম্পানি ৩১১; কর অঞ্চল ময়মনসিংহ কোম্পানি ব্যতীত ৮২ হাজার ৯০০; কর অঞ্চল বগুড়া কোম্পানি ব্যতীত ১ লাখ ২ হাজার ৯৩ ও কোম্পানি ১৭৮।

একাধিক কর কমিশনার শেয়ার বিজকে জানিয়েছেন, যে ঠিকানায় ই-টিআইএন নেয়া হয়েছে, সেখানে চিঠি পাঠালে ফেরত আসে। আবার অনেক করদাতা মারা গেছেন, কেউ বিদেশ চলে গেছেন, কেউ কোনো কাজে ই-টিআইএন নিয়ে আর রিটার্ন দেয়নি। এভাবে ই-টিআইএন সংখ্যা বেড়ে গেছে। এনবিআর উদ্যোগ নিয়ে সিস্টেম থেকে অকেজো এসব ই-টিআইএন বাতিল করতে পারবে।


বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স যায় ভারতে

বাংলাদেশ থেকে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স যায় ভারতে
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

এ এস এম সাদ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স আয়ের প্রবৃদ্ধি যখন নেতিবাচক, তখন বিপরীত চিত্র দেখা গেছে দেশ থেকে বেরিয়ে যাওয়া রেমিট্যান্স প্রবাহে।

বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে যেসব বিদেশি কাজ করেন, তারা গত অর্থবছরে ২৩ শতাংশ বেশি অর্থ নিজ দেশে পাঠিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তথ্য বলছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে কর্মরত বিদেশিরা ৯ কোটি ৪০ লাখ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ নিজ নিজ দেশে পাঠান। ২০২১-২২ অর্থবছরে যা দাঁড়ায় ১১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে। আর এই টাকা পাঠানোর দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে ভারতীয়রা। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব বলছে,  গত অর্থবছরে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স গেছে ভারতে, যা দেশের বাইরে যাওয়া রেমিট্যান্সের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে এই রেমিট্যান্সের অঙ্ক বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের চেয়ে অনেক কম। এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর রেমিট্যান্স আকারে ভারতে যায় ৪ বিলিয়ন বা ৪০০ কোটি ডলার। আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা পিউ রিসার্চের বরাত দিয়ে ওসব খবরে এটাও বলা হয় যে, রেমিট্যান্স আয়ে ভারতের চতুর্থ বড় উৎস বাংলাদেশ। যদিও ভারতের পক্ষ থেকে এ তথ্য ভুল বলে দাবি করা হয়। বছর চারেক আগে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে দেশটির তৎকালীন হাইকমিশনার বর্তমানে পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, পিউ রিসার্চের ওয়েবসাইটে সাইবার আক্রমণের মাধ্যমে এ তথ্য উঠেছিল, যা পুরোপুরি ভুল।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের তৈরি পোশাক খাতসহ বেশ কয়েকটি খাতে অনেক ভারতীয় নাগরিক কাজ করেন। এ কারণেই প্রতি বছর ভারতেই সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্সে যায়।

রেমিট্যান্স পাঠানোয় দ্বিতীয় স্থানে আছে থাইল্যান্ডের নাগরিকরা। তারা ৮৭ লাখ ডলার দেশে পাঠায়। এরপরেই চীনের অবস্থান। চীনে যায় ৮৫ লাখ ডলার। জাপানে ৫৩ লাখ আর শ্রীলঙ্কায় ৫০ লাখ ডলার পাঠান দেশ দুটির নাগরিকরা।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ পরিসংখ্যানই শেষ কথা নয়। বিপুলসংখ্যক বিদেশি বিশেষত আফ্রিকানরা এ দেশে অবৈধভাবে বসবাস করেন। তাদের বড় অংশই হুন্ডির মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠান। আবার ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বৈধভাবে বসবাসকারীরাও কর ফাঁকি দিতে তাদের আয়ের একটি অংশ হুন্ডির মাধ্যমে পাঠান।

বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা জানে না কেউ

কতসংখ্যক বিদেশি কর্মী বৈধভাবে বাংলাদেশ কাজ করছেন তার কোনো সঠিক তথ্য নেই। যেই সংস্থায় এ তথ্য থাকার কথা সেই বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) বলছে, দেশে কাজ করা বিদেশিদের সঠিক হিসাব নেই তাদের কাছে। তবে সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের তথ্যের বরাতে গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৯৭ হাজার ৬৯৫ নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। 

২০২০ সালে প্রকাশিত টিআইবির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্তত ৪৪টি দেশের প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার নাগরিক এ দেশে কাজ করেন।

সংস্থাটির মতে, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক বিদেশি কর্মী কাজ করেন তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে। এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, আন্তর্জাতিক এনজিও, হোটেল ও রেস্তোরাঁর মতো খাতে বিদেশি কর্মীরা কাজ করেন।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো মুনতাসির কামাল বলেন, ‘সমস্যা হচ্ছে যারা এ দেশে কাজ করেন তাদের ২০ শতাংশ আয়কর দেয়া লাগে। তাই কর ফাঁকি দিতে অনেকেই টুরিস্ট ভিসায় এসে কাজ করেন। তিনি বলেন, নিবন্ধনের মাধ্যমেই দেশে কাজ করতে দেয়ার সুযোগ দিতে হবে। আর এই দায়িত্ব নিতে হবে বিডাকেই।


কমলে প্রথম সপ্তাহে, বাড়লেই অপেক্ষা

কমলে প্রথম সপ্তাহে, বাড়লেই অপেক্ষা
নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য। ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • মূল্যস্ফীতির তথ্য

আবদুর রহিম হারমাছি

শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতির উদ্বেগজনক ও স্পর্শকাতর সূচক এখন মূল্যস্ফীতি। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় উঠে ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। কিন্তু বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার এখন কত- তা জানতে দুই মাস পেছনে যেতে হবে। কেননা, জুলাইয়ের পর মূল্যস্ফীতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো- বিবিএস।

গত জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরপর আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস চলে গেছে, কিন্তু অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে সরকার লুকোচুরি করছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবের কারণে আগস্টে মূল্যস্ফীতি অনেকটা বেড়েছে বলে সেটা প্রকাশ করতে দেরি করা হচ্ছে। দেশে এমনটা অতীতে বিভিন্ন সরকারের সময়ে হয়েছে। তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। ‘কমলে প্রথম সপ্তাহে, বাড়লেই বিলম্ব’- এই খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য সঠিক সময়ে প্রকাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

তবে দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বা মূল্যস্ফীতি বাগে এসেছে বলে দাবি করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। কিন্তু কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেননি তিনি। মন্ত্রী বলেছেন, ‘চলতি বছরের আগস্টে মূল্যস্ফীতি অনেক বাড়লেও সেপ্টেম্বরে তা কমে এসেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (বিআইডিএস) এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন এম এ মান্নান।

তবে এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও আগস্টে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার কত ছিল, সে তথ্য এখনও প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো- বিবিএস। সেপ্টেম্বরে তা কমে কততে নেমেছে সে তথ্যও প্রকাশ করেনি বিবিএস। পরিকল্পনামন্ত্রীও এই দুই মাসের তথ্য প্রকাশ করেননি।

গতকালের সংবাদ সম্মেলনে মূল্যস্ফীতি নিয়ে মন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনাদের জন্য ভালো সংবাদ আছে। দ্রব্যমূল্যের পাগলা ঘোড়া বাগে এসেছে এই মাসে (সেপ্টেম্বর)। সবাই আমাদের কাছে ফোন করে জানার জন্য। গত মাসে (আগস্ট) মূল্যস্ফীতি বেড়েছিল।

‘এই মাসে নেমেছে এবং ভালোভাবে নেমেছে। আমি যদিও অর্থনীতিবিদ নই, তবুও আমি বলছি আগামী মাসে (অক্টোবর) মূল্যস্ফীতি আরও কমবে।’

মূল্যস্ফীতি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কেন কমেছে? কারণ আমাদের সরকারের কৌশলগত ব্যবস্থা। তেলের দাম বেড়েছিল, কিন্তু এখন কমেছে। কারণ এক কোটি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কম দামে বিক্রি হচ্ছে চাল, তেল।

‘ফলে আমরা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরাসরি আঘাত করতে পেরেছি। এতে দাম কমে এসেছে। শুধু কমেনি; ভালো কমেছে। বিশ্ববাজারেও কমেছে। কয়েক দিনের মধ্যে আপনারা মূল্যস্ফীতির পুরোটা তথ্য পেয়ে যাবেন।’

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতি হয়েছে বাংলাদেশে। চলতি বছরের জুনে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয় ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা ৯ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। পরের মাস জুনে সেটি সামান্য কমে হয় ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। এরই মধ্যে দুই মাস পার হয়ে গেছে, কিন্তু আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস।

মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে লুকোচুরি কেন?

সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। সেই ধারাবাহিকতায় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি করে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয় বিবিএস। কিন্তু সরকারের উচ্চপর্যায়ের ‘সবুজ সংকেত’ পাওয়া যায়নি। ফলে মূল্যস্ফীতির আগস্ট মাসের তথ্য প্রকাশ করেনি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় বা পরিসংখ্যান ব্যুরো। এরই মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসও শেষ হয়ে গেছে।

বিবিএসের দায়িত্বশীল একটি সূত্রে জানা গেছে, বিবিএসের খসড়া হিসাবে গত আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। আর খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের ঘরে উঠেছে। এক মাসের মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ হারে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির তথ্য সরকার প্রকাশ না করলেও সীমিত আয়ের মানুষ ঠিকই এর উত্তাপ পাচ্ছে।

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত তথ্য নিয়ে বরাবরই প্রশ্ন উঠেছে। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, বেশি হারে বেড়েছে বলেই মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। অর্থনীতির তথ্য-উপাত্ত নিয়ে এক ধরনের রাজনীতি করা হচ্ছে বলে আগের মতোই অভিযোগ করেছেন তারা।

গত মার্চ মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বলেছিল, পরিসংখ্যান ‍ব্যুরো দেশে মূল্যস্ফীতির যে তথ্য প্রকাশ করে, প্রকৃত হার তার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি। সানেম ও সময় বলেছিল, শহর এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গ্রামে এই হার ১২ দশমিক ১০ শতাংশ। আরেক গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যও ওই সময় বলেছিলেন, দেশে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি বিবিএসের তথ্যের দ্বিগুণেরও বেশি।।

সে সময় বিবিএসের তথ্যে বলা হয়েছিল, ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছিল ৬ দশমিক ১২ শতাংশ।

আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য নিয়ে নীতিনির্ধারক, অর্থনীতিবিদ, গবেষকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে বেশ আগ্রহ ছিল। কারণ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যায়। অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

কয়েক মাস ধরেই দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির প্রবণতা ছিল। আবার তখন বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামও কিছুটা কমেছিল। ঠিক এ রকম এক সময়ে, গত ৫ আগস্ট সরকার জ্বালানি তেলের দাম ৪২ থেকে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। ডিজেলের দাম লিটারে ৩৪ টাকা, অকটেনের দাম লিটারে ৪৬ টাকা ও পেট্রলের দাম লিটারে ৪৪ টাকা বাড়ানো হয়। এর আগে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক লাফে জ্বালানি তেলের দাম এত বাড়ানো হয়নি।

এর পরপরই সব ধরনের পরিবহন ভাড়া বাড়ানো হয়। এই দুইয়ের প্রভাবে বেড়ে যায় প্রায় সব পণ্যের দাম। এরপর গত ২৯ আগস্ট খানিকটা মুখ রক্ষা করতে জ্বালানি তেলের দাম ৫ টাকা কমায় সরকার। তবে তাতে বাজারে খুব একটা প্রভাব দেখা যায়নি; বরং এর সামগ্রিক প্রভাবে খাদ্যপণ্য ছাড়াও যাতায়াত, পোশাক-আশাক, শিক্ষাসামগ্রীসহ খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দামও বেশ বেড়ে যায়। সুতরাং তখন থেকেই আগস্ট মাসে মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির শঙ্কা করা হচ্ছিল। একাধিক অর্থনীতিবিদের প্রাক্কলন ছিল মূল্যস্ফীতি ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর এ নিয়ে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তাহলে দুই মাস পার হয়ে গেলেও দেশবাসী মূল্যস্ফীতির কোনো তথ্য পাচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। তার মতে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

গত কয়েক মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের সময়কাল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কোনো মাসের মূল্যস্ফীতি কমলে পরের মাসের প্রথম সপ্তাহেই তা প্রকাশ করা হয়। আবার বাড়লে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে পরের মাসের তৃতীয় বা চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

যেমন গত মে ও জুন মাসে মূল্যস্ফীতির হার ৭ শতাংশের বেশি ছিল। যেমন মে মাসে ছিল ৭ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং জুন মাসে ৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ওই দুই মাসের তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয় পরের মাসের ১৯ তারিখে। আবার গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ হয়। আর জুলাই মাসের মূল্যস্ফীতির সেই তথ্য প্রকাশ করা হয় দ্রুতগতিতে, আগস্ট মাসের ৩ তারিখে।

দেশের প্রায় সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ করার একমাত্র সংস্থা বিবিএস। আট-দশ বছর আগে বিবিএস আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করত। বিবিএসের পরিবর্তে এখন পরিকল্পনামন্ত্রী নিজে মূল্যস্ফীতির তথ্য সাংবাদিকদের জানান। মূলত বর্তমান অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালই পরিকল্পনামন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে নিজেই মূল্যস্ফীতির তথ্য সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে শুরু করেছিলেন।

আবার ২০১৭ সালে মূল্যস্ফীতি টানা বাড়তে থাকলে আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রতি মাসের পরিবর্তে তিন মাস পরপর মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। পরে মূল্যস্ফীতি কমতে শুরু করলে আবারও মাসিক ভিত্তিতে মূল্যস্ফীতি প্রকাশ শুরু হয়েছিল।

মূল্যস্ফীতি এখন সারা বিশ্বেরই সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিশ্বব্যাপী সব ধরনের অর্থনৈতিক নীতি নেয়া হচ্ছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ বা ফেড মূল্যস্ফীতি কমাতে আগ্রাসীভাবে নীতি সুদের হার বাড়াচ্ছে। মূল্যস্ফীতি কমাতে মন্দাকে পর্যন্ত ডেকে আনা হচ্ছে।

এ নিয়ে এখন বিশ্বব্যাপী চলছে প্রবল বিতর্ক। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, সবাই যদি সমন্বিতভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কাজটি না করে, তাহলে মন্দার চেয়েও খারাপ অবস্থা হতে পারে। দেখা দিতে পারে স্ট্যাগফ্লেশন বা বদ্ধস্ফীতি। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি আদৌ কমল না, অথচ প্রবৃদ্ধি কমে গেল ভয়াবহভাবে।

‘এ পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতির সঠিক তথ্য প্রকাশ করা উচিত’ মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ আহসান মনসুর বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির তথ্য দিয়ে নীতি ঠিক করা দরকার। মূল্যস্ফীতির তথ্য না থাকলে এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব কীভাবে। আমানত ও ঋণের সুদের হার মূল্যস্ফীতি দিয়ে ঠিক করা উচিত। মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা আনতেও মূল্যস্ফীতির সঠিক তথ্য দরকার।’


ডুবছে সানফ্লাওয়ার লাইফ

ডুবছে সানফ্লাওয়ার লাইফ
সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্সুরেন্সের আর্থিক ক্যালেঙ্কারি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • মালিকের লোকসানি কোম্পানিতে বিনিয়োগ

এ এস এম সাদ

নিয়মবহির্ভূতভাবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে ৪৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে এখন নিজেই ডুবতে বসেছে বেসরকারি বিমা কোম্পানি সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স। বিনিয়োগের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের বিমা দাবি মেটাতে পারছে না। এই কোম্পানির কাছে গ্রাহকদের পাওনা ২১ কোটি টাকারও বেশি।

বিমা খাতের নিয়ন্ত্রক বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) করানো নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কোম্পানির নানা অসঙ্গতি উঠে এসেছে। আইডিআরএ হক শাহ আলম মনসুর অ্যান্ড কোম্পানিকে দিয়ে সানফ্লাওয়ার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আর্থিক অবস্থা নিরীক্ষা করায়। ২০২১ সালে নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানটি প্রতিবেদন জমা দেয়।  

আইডিআরএ সূত্র বলছে, নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগ প্রমাণ হওয়ার পর সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে ১৯ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়। কিন্তু জরিমানার সেই টাকা এখনো পরিশোধ করেনি কোম্পানিটি।  

সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যরেন্সের চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী মেজর (অব.) আবদুল মান্নান প্রভাব খাটিয়ে তার ব্যক্তিগত ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগে বাধ্য করেন। এমন একটি কোম্পানি ওয়াইম্যাক্স প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বাংলা লায়ন কমিউনিকেশন লিমিটেড। এই কোম্পানিরও মূল উদ্যোক্তা মেজর আব্দুল মান্নান বর্তমানে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব। তিনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানও। বাংলা লায়নের বন্ডে ৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করে সানফ্লাওয়ার। কিন্তু অব্যাহত লোকসানে ব্যবসা গুটিয়ে যায় বাংলা লায়নের। ২০২১ সালে কোম্পানিটির লাইসেন্সও বাতিল করে টেলি যোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। ফলে এই কোম্পানিতে যেসব প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করেছিল, তারা এখন চরম বেকায়দায়। 

শুধু বাংলা লায়ন নয়, আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত দুই আর্থিক প্রতিষ্ঠান-বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স করপোরেশন লিমিটেড (বিআইএফসি) এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডে (পিএলএফএস) মোট ১৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বিনিয়োগ করে সানফ্লাওয়ার ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে বিআইএফসিতে ১৬ কোটি ৭৮ লাখ ও পিএলএফএসে ৭০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়।

মেজর মান্নান বিআইএফসিরও সাবেক চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে রুগ্‌ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকায় প্রথম সারিতে আছে কোম্পানিটি। আর পিএলএফএসের অবস্থা এতটাই নাজুক যে, একসময় আদালতের মাধ্যমে তা অবসায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে কোনো রকম টিকে আছে। টাকা ফেরত পেতে এখনো সরকারের বিভিন্ন সংস্থার দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রতিষ্ঠানটির আমানতকারীরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ রকম বিনিয়োগ কনফ্লিকট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের দ্বন্দ্ব)। এমন বিনিয়োগ বলতে বোঝায় এক জায়গার টাকা আরেক কোম্পানিতে বিনিয়োগের নামে সরিয়ে ফেলা। ফলে এ ধরনের বিনিয়োগ তিনি কোনোভাবেই করতে পারেন না।’  

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক আল মাহমুদ বলেন, ‘বিআইএফসি ও পিপলস লিজিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনো সময়ই উল্লেখ করার মতো লাভজনক প্রতিষ্ঠান ছিল না। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের মাধ্যমে অবশ্যই স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষকে সুবিধা দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু রেটিং দেখে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ করা উচিত নয়, কোম্পানির ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্টের অবস্থাও বিবেচনায় নেয়া উচিত।’

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার তানজীব-উল আলম বলেন, ‘ নিজের কোম্পানির টাকা স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোম্পানিতে বিনিয়োগ দণ্ডবিধির ৪০৬-এর লঙ্ঘন। ফান্ডের টাকা তিনি নিজের সুবিধার্থে আরেক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করেছেন।’

সানফ্লাওয়ার ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ কমার্শিয়াল ব্যাংকে (বিসিবিএল) প্রায় ১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে। হক শাহ আলম মনসুর  অ্যান্ড কোম্পানির নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এটি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বিসিবিএল ২০১৫ সালের আগের তিন বছর বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশের নিচে লভ্যাংশ দেয়। এমন কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে নিয়ম ভঙ্গ করেছে বিমা কোম্পানিটি।

এ বিষয়ে অধ্যাপক আল মাহমুদ বলেন, ‘বিমা আইন অনুযায়ী ১০ শতাংশের নিচে লভ্যাংশ দেয়া কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের সুযোগ নেই। কেউ তা করে থাকলে অবশ্যই আইনভঙ্গের অপরাধ হবে।’    

সানফ্লাওয়ার লাইফে দীর্ঘদিন কাজ করা সাবেক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, কোম্পানি কোথায় বিনিয়োগ করবে সে সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদ থেকেই নেয়া হয়েছে। আর পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মেজর মান্নানই সে সিদ্ধান্ত নিতেন।’ তিনি বলেন, পর্ষদের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপেই কোম্পানির অবস্থা আজ নাজুক।

তবে এমন অভিযোগ মানতে নারাজ আব্দুল মান্নান। তার দাবি, ‘বিনিয়োগের জন্য কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিচালনা পর্ষদের কাছে সুপারিশ করত। সে মোতাবেক সিদ্ধান্ত নিত পর্ষদ। এতে আমার একক কোনো দায়-দায়িত্ব নেই ।’

তিনি বলেন, বিআইএফসিতে যখন বিনিয়োগ করা হয় তখন কোম্পানিটি ১৩ শতাংশের ওপর লভ্যাংশ দিচ্ছিল। 

সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি ২০০০ সালে যাত্রা শুরু করে। তিন কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের এ কোম্পানি প্রতিষ্ঠার ২২ বছর পার করলেও এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। অথচ বিমা কোম্পানিকে পরিচালনায় আসার তিন বছরের মধ্যে পুঁজিবাজারে আসার বিধান রয়েছে। যৌক্তিক কারণ ছাড়া এ সময়ের  মধ্যে পুঁজিবাজারে আসতে না পারলে গুনতে হয় জরিমানা।  

বর্তমানে কোম্পানিটি গ্রাহককের অর্থ ফেরত দিতেও হিমসিম খাচ্ছে। বিমা পলিসির মেয়াদ পূর্ণ হলেও দীর্ঘদিন ধরে অনেক গ্রাহক অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না- এমন অভিযোগ নিয়মিতই পড়েছে আইডিআরএতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের তহবিলের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা। বিমা খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এই কোম্পানি যত দিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করছে, তত দিনে কমপক্ষে চার হাজার কোটি টাকার তহবিল থাকা উচিত ছিল। পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপকদের দুর্নীতি ও অদক্ষতা কোম্পানিটিকে ডুবিয়েছে।

এ বিষয়ে সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইউসুফ আলী মৃধা বলেন, ‘যেসব কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়েছিল, তাদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করেছি। আমরা চেষ্টা করছি বিনিয়োগের অর্থ ফিরিয়ে আনার।’

কোম্পানির উদ্যোক্তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা যায় কি না এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান ইউসুফ আলী মৃধা। তিনি বলেন, ‘আগের ব্যবস্থাপনায় নানা রকমের দুর্নীতি হয়েছে। আমি দেড় বছর আগে দায়িত্ব নিয়েছি। এখন চেষ্টা করে যাচ্ছি কীভাবে কোম্পানিকে আবারও দাঁড় করানো যায়।’


ভোজ্যতেলের দাম বোতলে ১৪ আর খোলায় ১৭ টাকা কমল

ভোজ্যতেলের দাম বোতলে ১৪ আর খোলায় ১৭ টাকা কমল
ভোজ্য তেলের দাম আরও কমল। ছবি সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ভোজ্যতেল কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সঙ্গে বৈঠকের পর সয়াবিন তেলের দাম কমল।

প্রতি লিটার বোতলজাত দেলের দাম ১৪ টাকা আর খোলা তেলের দাম ১৭ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ঠিক করা হয়েছে।

এখন বোতলজাত এক লিটার তেল বিক্রি হবে ১৭৮ টাকায়, যা এতদিন ছিল ১৯২ টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতলের দাম হবে ৮৮০ টাকা যা এতদিন ছিল ৯৪৫ টাকা।

খোলা সয়াবিন তেলের নতুন দাম হবে ১৫৮ টাকা, যা এতদিন ছিল ১৭৫ টাকা।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়।

মঙ্গলবার থেকেই এই দাম কার্যকর হবে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পাম অয়েলের দাম লিটারে ১৩ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা ঠিক করে দেয়। তবে সয়াবিন তেল নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত সেদিন নেয়া হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘আমাদের ভোজ্যতেল মালিক সমিতির সদস্যরা বর্তমানে ডলারের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এলসি খোলার জটিলতার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান, মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল এবং টি কে গ্রুপের এমডি মোস্তফা হায়দার।

‘সভায় ডলারের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে এবং এলসি খোলার জটিলতার বিষয়ে আলোচনা শেষে এবং ভোক্তাদের সুবিধার্থে ভোজ্য তেলের দাম ১৪ টাকা কমিয়ে পুনর্নির্ধারণ করা হয়, যা ৪ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।’

বিশ্ববাজারে টানা এক বছর ঊর্ধ্বগতির কারণে দেশে ভোজ্যতেলের দাম ২০২১ সাল লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ২০৫ টাকা হয়ে যায়। দুই দফায় কমিয়ে গত ২১ জুলাই তেলের লিটার ১৮৫ টাকা করা হয়।

এর মধ্যে ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতন ভোজ্য তেলের দাম আরও বাড়িয়ে দেয়। গত ২৩ আগস্ট লিটারে ৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ঠিক করা হয় ১৯২ টাকা করা হয়।

ডলারের বাড়তি দাম কমেনি, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসার পর হ্রাসকৃত দামের তেল দেশে আসায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নতুন করে হিসাব কষে এই দাম ঠিক করে দিয়েছে।

গত কয়েক মাসে ডলারের দাম ৮৪ টাকা থেকে বেড়ে ১০৬ টাকা হয়ে গেছে। টাকার ২৫ শতাংশ দরপতনের কারণে আমদানি পণ্যের খবরও ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে।

সরকার ভোজ্য তেলের দর ভোক্তাদের কাছে আরও সহনীয় করতে ভ্যাটেও ছাড় দিয়েছে।

গত ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম অয়েলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুদিন পর ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত। পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় গত শুক্রবার।

ভ্যাট ছাড় আরও তিন মাস অব্যাহত রাখতে গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে চিঠি দেয়া হয়।