শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপনে কমিশনারের নেতৃত্বে বিএসইসির কমিটি

কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপনে কমিশনারের নেতৃত্বে বিএসইসির কমিটি
বিএসইসি ভবন। ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বাংলাদেশে কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপনের কাজ গুছিয়ে এনেছে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সম্প্রতি এক বৈঠকে সংস্থাটি কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিতে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছে।

এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিএসইসি কমিশনার ড. রুমানা ইসলামকে। কমিটির সদস্য সচিব বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। আর সদস্য হিসেবে আছেন বিএসইসির তিন নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান, মো. মাহাবুবুল আলম ও রিপন কুমার দেবনাথ এবং পরিচালক মো. আবুল কালাম।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমরা কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছি। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) এ বছর কমোডিটি স্টক এক্সচেঞ্জ শুরু করবে। এ বিষয়ে আমরা একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছি।’

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ অনুযায়ী, কৃষিপণ্য, গবাদিপশু, মাছ, বনজ সম্পদ, খনিজ ও জ্বালানি পণ্যসহ উৎপাদিত যেকোনো পণ্য কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে কেনাবেচা করা যাবে। এসব পণ্য কেনাবেচা বা লেনদেনের জন্য যে এক্সচেঞ্জ বা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, সেটিই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হিসেবে পরিচিত হবে।

বাংলাদেশে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের অনুমোতি দিতে পারে কেবল বিএসইসি। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সেই কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের অনুমতি চেয়েছে। কমিটির গঠনের মাধ্যমে কমোডিটি এক্সচেঞ্জ স্থাপনের কাজ অনেকটা এগিয়ে নিয়েছে বিএসইসি।


যুক্তরাষ্ট্রে কেকেআরের সঙ্গে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রে কেকেআরের সঙ্গে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের বৈঠক
কেকেআর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং কেকেআর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নীল আর ব্রাউনের সঙ্গে ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কেকেআর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং কেকেআর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নীল আর ব্রাউনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এই বৈঠক করেন। 

জানা গেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম হলো কেকেআর বা কোহলবার্গ ক্রাভিস রবার্টস। এটির পরিচালনাধীন সম্পদ ৪৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

ইতিমধ্যে কেকেআর সমর্থিত বহুজাতিক যোগাযোগ অবকাঠামো কোম্পানি পিনাকল টাওয়ার বাংলাদেশে এ খাতে বিনিয়োগের জন্য চুক্তি হয়েছে।

ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি পিনাকল টাওয়ার্সের চেয়ারম্যান প্যাট্রিক জোসেফ বাংলাদেশে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের পেছনে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের অনুপ্রেরণার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্যাট্রিক জোসেফ বলেন, ‘দেশের বাইরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক স্থানীয় অংশীদার পাওয়া সব সময়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিনাকলের ক্ষেত্রে আমরা খুবই বড় বেসরকারি ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান কেকেআরের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি, যাদের ম্যানেজমেন্টের হাতে মোটা দাগে ৫০০ বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্যাট্রিক বলেন, ‘এশিয়ায় বড় পরিসরে অবস্থান করা কেকেআরের বাংলাদেশে ওই অর্থে বিনিয়োগ ছিল না। এ কারণে আমাদের অনেক বিস্তৃত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’

‘মার্কেটে প্রবেশের জন্য স্থানীয় অংশীদার দরকার ছিল। আমরা সফলভাবে লেনদেনে সক্ষম হয়েছিলাম, যার পেছনে মূলত ছিলেন স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংসের মূল উদ্যোক্তা। তার মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।’

উল্লেখ্য, স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংসের মূল উদ্যোক্তা চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো কোম্পানি পিনাকল মোবাইল ফোন টাওয়ার, ফাইবার, ডেটা সেন্টারের মতো ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করে থাকে।


মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থনগত নানা দিক ও সুবিধার কথা তুলে ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের হোটেল লোটে প্যালেসে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হওয়ার জন্য প্রচুর সম্ভাবনার দাবি রাখে। ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অবস্থান ও ৪ বিলিয়ন মানুষের সম্মিলিত বাজারে মাঝখানে বাংলাদেশের অবস্থান।

গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বেশ কিছু হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে। যদি প্রয়োজন হয় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেব।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ হবে, তাই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদার বিনিয়োগ নীতি রয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, ট্যাক্স হলিডে, রয়্যালটি রেমিট্যান্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থান নীতি, প্রস্থানের ওপর লভ্যাংশ এবং মূলধনের সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ।’

আইটি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সঠিক গন্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছয় লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার বাংলাদেশ রয়েছে। ফলে আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য বাংলাদেশ।


এখনই সুযোগ নিতে পারবে ২ হাজারের বেশি কোম্পানি

এখনই সুযোগ নিতে পারবে ২ হাজারের বেশি কোম্পানি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • শিগগিরই চালু হচ্ছে এটিবি

ফারহান ফেরদৌস

ব্যবসায় মূলধন প্রাপ্তি ও শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন সহজ করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শিগগিরই চালু হচ্ছে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা বা অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)।

ব্যবস্থাটি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা যেকোনো কোম্পানি এটিবিতে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে অবশ্যই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর হতে হবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারের বাইরে দুই হাজারেরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানি চাইলে সরাসরি এটিবিতে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।  

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৯ আগস্ট এ-সংক্রান্ত আইন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) রেগুলেশন, ২০২২ অনুমোদন দিয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর যা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছে ডিএসই। এটি প্রকাশ হলেই এটিবি চালু হওয়ার পথে সব আইনি বাধা দূর হবে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা শেয়ার লেনদেনের এ বিকল্প ব্যবস্থাকে স্টক এক্সচেঞ্জে বৈপ্লবিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন।

ডিএসই ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, এটিবি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানির উদ্যোক্তারা খুব সহজে মালিকানা পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন। আগে এ কাজটি করতে অনেক খরচ হতো। এখন তা কম খরচেই করা যাবে। এ ছাড়া কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাওয়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের মূলধন দিতে উৎসাহিত হবে। কেননা এটিবিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলোর বিনিয়োগ করা শেয়ার হস্তান্তরের অবারিত সুযাগ তৈরি হবে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হলো এমন ধরনের মূলধন, যা কোনো আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যারা কি না ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে এমন স্টার্টআপ বা ছোট কোম্পানিতে মালিকানা বা শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগ করে থাকে। সাধারণত বড় বড় বিনিয়োগকারী, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের তহবিল গঠন হয়ে থাকে। বাজারে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফা ও মূলধন ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দেশে এতদিন শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সহজ ছিল না। ফলে বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও, তা খুব বেশি কাজে আসছিল না।   

এটিবিতে কারা লেনদেন করতে পারবে

বর্তমানে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দুই লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫টি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ২ হাজার ৫২৩টি আর একক মালিকানা কোম্পানি আছে ১৬৫টি।

বাকিগুলো হচ্ছে ট্রেড অর্গানাইজেশন, বিদেশি কোম্পানি, সোসাইটি আর অংশীদারি কোম্পানি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে পুঁজিবাজারে আছে ৩৫০টি কোম্পানি। সেই হিসাবে ২ হাজার ১৭৩টি কোম্পানি এখন স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে। এই কোম্পানিগুলো এটিবি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নিতে পারবে। আর বাকিগুলোকে আগে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। 

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে জানান, পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে তালিকাচ্যুত বা তালিকাবহির্ভূত যে সিকিউরিটিজগুলো আছে সেগুলো এটিবিতে লেনদেন করা যাবে। এ ছাড়া ডেবট সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডও লেনদেন হবে।

রেজাউল করিম বলেন, এটিবি চালু হলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে যা বাজারে গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এটিবিতে কী সুবিধা মিলবে

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত যেকোনো কোম্পানি তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে গেলে ট্রান্সফার ফি ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটসহ বড় ধরনের খরচের বোঝা বহন করতে হয়। এ ছাড়া ১১৭ ফর্ম ফিলাপ করতে আরজেএসসিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। এটিবিতে এলে কোনো ধরনের ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই সামান্য কমিশনেই শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির বাজার মূল্য সম্পর্কে ধারণা পাবে। এ ছাড়া কোম্পানির পরিচিতি, সুনাম বা ব্র্যান্ড ভ্যালুও বাড়বে। 

এমনকি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে এখান থেকে রাইট শেয়ার কিংবা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে তাদের মূলধন বাড়াতেও পারবে।

বিএসইসির মুখপাত্রের আশা, এতে অনেক কোম্পানি এখানে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। ফলে বাজার মূলধন ও লেনদেন বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বও বেড়ে যাবে।

এটিবিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো কর সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এনবিআরের সম্মতি পেলে সাড়ে সাত শতাংশ কর ছাড় পাবে কোম্পানিগুলো।

পুঁজিবাজারে এলে কোম্পানি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আগের চেয়ে বাড়ে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিচ্ছিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তালিকাভুক্তি

এটিবিতে তালিকাভুক্তি অনেকটা সরাসরি বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মতো। নতুন শেয়ার না ছেড়ে উদ্যোক্তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্তি নেয়া যাবে। শেয়ারের মূল্যও হবে বাজারভিত্তিক।  


ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৩ ধাপ এগিয়েছে

ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৩ ধাপ এগিয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গ্লোবাল ফিন্যান্সের প্রতিবেদন

ইকবাল হোসেন

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ চলতি বছর তিন ধাপ এগিয়েছে। এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭তম হয়েছে, গত বছর ছিল ১৪০তম। যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ফিন্যান্স ম্যাগাজিন পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লুক্সেমবার্গ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর ও আয়ারল্যান্ড। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটির অবস্থান ৬২তম। তালিকায় বাংলাদেশের আগে রয়েছে শ্রীলংকা, ভুটান ও ভারত। পরে পাকিস্তান ও নেপাল।  বাংলাদেশের পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ৬ হাজার ৬৩৩ ডলার।

তালিকায় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে তুলনার জন্য পিপিপির (ক্রয় ক্ষমতার সমতা) ভিত্তিতে জিডিপির আকার হিসাব করা হয়। মূলত একটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানকে তুলনীয় করার জন্য নমিনাল জিডিপিকে ‘পিপিপি ডলারে জিডিপি’তে রূপান্তরিত করা হয়। প্রতিবেদনে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এপ্রিলের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। গ্লোবাল ফিন্যান্স ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনী দেশ হিসেবে গত বছর লুক্সেমবার্গের অবস্থান ছিল তৃতীয়। এবার দেশটির অবস্থান শীর্ষে। পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয়ও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এ বছর এ আয় হলো ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৪ ডলার, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার। লুক্সেমবার্গ হলো ইউরোপের আরেক ট্যাক্স হ্যাভেন বা করস্বর্গ। প্রকাশিত তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। তাদের মাথাপিছু আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৮০ ডলারে। তৃতীয় অবস্থানে আয়ারল্যান্ড। দেশটির মাথাপিছু আয় ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৬ ডলার। চতুর্থ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। চলতি বছর দেশটির জনগণের মাথাপিছু আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৮৯ ডলারে। পঞ্চম ম্যাকাও, মাথাপিছু আয় ৮৫ হাজার ৬১১ ডলার। সুইজারল্যান্ডে পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ৮৪ হাজার ৬৫৮ ডলার। দেশটির অবন্থান ষষ্ঠ। মাথাপিছু আয় ৭৮ হাজার ২৫৫ ডলার নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান সপ্তম। নরওয়েতে পিপিতে মাথাপিছু আয় ৭৭ হাজার ৮০৮। দেশটির অবস্থান অষ্টম । ২০২০ সালে করোনার কারণে কঠিন সময় পার করলেও ধনী দেশের তালিকায় এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পিপিপিতে মাথাপিছু আয় ৭৬ হাজার ২৭ ডলার। দেশটির অবস্থান নবম। ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ অনুসারে মার্চ ২০২০ থেকে এপ্রিল ২০২১-এর মধ্যে আমেরিকার ৭১৯ বিলিয়নিয়ারের সমষ্টিগত সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি  ডলার। বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। ব্রুনাই দারুসসালামে পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ৭৪ হাজার ৫৫৩ ডলার। তালিকায় এরপর রয়েছে হংকং, সানম্যারিনো, ডেনমার্ক, তাইওয়ান ও নেদারল্যান্ডসের।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ২৯ হাজার ১৩৩ ডলার। এ ছাড়া শ্রীলংকার ১৫ হাজার ৩৮৭ ডলার (৯৮তম), ভুটানের ১২ হাজার ৯৬৭ ডলার (১১০তম), ভারতের ৮ হাজার ৩৫৮ ডলার (১২৭তম), পাকিস্তান ৬ হাজার ৪৭০ ডলার (১৩৮তম)  ও নেপাল ৪ হাজার ৫৭৮ ডলার (১৩৮তম)।  


কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর

কমছে রেমিট্যান্সের ডলারের দর
বাজারভিত্তিক হওয়ার পর ডলারের সর্বোচ্চ দর।
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত

আবদুর রহিম হারমাছি

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় আনতে প্রতি ডলারের জন্য সর্বোচ্চ দর ১ টাকা কমিয়ে ১০৮ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনা হচ্ছে। আমদানি কমায় এবং রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে বিদেশি মুদ্রা লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) চেয়ারম্যান এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফজাল করিম জানিয়েছেন।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাতে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

বাজারে ডলার-সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) নেতারা গত ১১ সেপ্টেম্বর এক সভায় ডলারের সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দেন। তাতে রপ্তানি আয়ে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দাম ৯৯ টাকা, প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা দাম বেঁধে দেয়া হয়। আর ডলারের পাঁচ দিনের গড় খরচের চেয়ে ১ টাকা বেশি দামে আমদানি দায় শোধ করতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে।

১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। যেটাকে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজার বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এর মধ্য দিয়ে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ বাজারভিত্তিক করা হয়েছে।

টাকা-মুদ্রা বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পর মঙ্গলবার ডলারের তেজ বেশ খানিকটা কমেছিল। এক দিনের ব্যবধানে আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দর সাড়ে পাঁচ টাকা কমেছিল। কিন্তু বুধবার তা ফের বেড়েছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ১০৮ টাকায় উঠেছিল। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ছিল ৮ টাকা ৩৫ পয়সা। মঙ্গলবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ৫ টাকা ৪৪ পয়সা কমে ১০২ টাকা ৫৬ পয়সায় নেমে আসে। আর সর্বনিম্ন দর ২ টাকা ১৩ পয়সা বেড়ে ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা হয়েছিল। ব্যবধান নেমে এসেছিল মাত্র ৭৮ পয়সায়।

বুধবার ডলারের সর্বোচ্চ দর ফের বেড়ে ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সায় উঠেছে। সর্বনিম্ন দর ছিল ১০০ টাকা। ব্যবধান বেড়ে ৭ টাকা ৬৫ পয়সা হয়েছে।

‘আগামী সপ্তাহ থেকে ডলার দুর্বল হবে; টাকা শক্তিশালী হবে’ এমন আশার কথা শুনিয়ে বাফেদার চেয়ারম্যান সোনালী ব্যাংকের এমডি আফজাল করিম বলেন, ‘ডলারের বাজার ম্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। কিছু দিনের মধ্যে পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আমদানি বেশ কমেছে; রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বাড়ছে। তার প্রভাব পড়েছে বাজারে। এখন ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হবে। আর এটা অব্যাহত থাকবে বলে আমার কাছে মনে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাতে আমরা বাফেদার বৈঠক করব। ওই বৈঠকে সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে টাকা-ডলারের বিনিময় হার পুনর্নির্ধারণ করা হবে। আমরা রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা থেকে ১ টাকা কমিয়ে ১০৭ টাকায় নামিয়ে আনব। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে ৯৯ টাকাই রাখব।’

‘নতুন দর নির্ধারণের পর আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের দর আরও কমে আসবে’ জানিয়ে আফজাল বলেন, ‘বাজারে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। এখন ডলারের কোনো সংকট নেই। আমরা আশা করছি, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’

সংকট নিরসনে ডলারের দামের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে দাম বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছিল না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছিল। দুর্বল হচ্ছিল টাকা; শক্তিশালী হয়েই চলছিল ডলার। মঙ্গলবার থেকে স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু বুধবার ফের হোঁচট খেয়েছে।

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে খুব একটা ডলার বিক্রি করছে না। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য রিজার্ভ থেকে সামান্য কিছু ডলার বিক্রি করা হচ্ছে।

সপ্তাহের শেষ দিন গতকাল বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বুধবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা।

বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে মঙ্গলবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০২ টাকা ৫৬ পয়সা; সর্বনিম্ন দর ছিল ১০১ টাকা ৭৮ পয়সা।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সোমবারের আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা; সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা।

১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়েছিল।

কয়েক দিন ধরে খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেট এবং ব্যাংকগুলোতে একই দামে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ২০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা ৯০ পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

বাফেদার চেয়ারম্যান আফজাল করিম বলেন, ‘বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসছে। ব্যাংকে নগদ ডলারের দামও কমে আসবে।’

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এত দিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের বাজার বাজারভিত্তিক করা হয়। ওই দিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রাটির বিনিময় হার ঠিক করে দেয়া হয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাড়ে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দরপতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময় মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাফেদার দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই। তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।