বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২২

ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়ার খবর গুজব: বিএসইসি চেয়ারম্যান

ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়ার খবর গুজব: বিএসইসি চেয়ারম্যান
বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার থেকে ফ্লোর প্রাইস এখনই উঠে যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। রোববার দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়া সংক্রান্ত খবরটি গুজব।

শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমরা ফ্লোর প্রাইস তুলে দিচ্ছি না। দেশের পুঁজিবাজার ভালো করছে। এর মধ্যে গুবজ ছড়ানো হয়েছে যে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেয়া হবে। এই তথ্যটি সঠিক নয়। ফ্লোর প্রাইস তুলে দিচ্ছি না, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত শেয়ারে ফ্লোর প্রাইস অব্যাহত থাকবে।’

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়ার পর পুঁজিবাজারে ধস ঠেকাতে ফ্লোর প্রাইস দেয়া হয়। পরে বাজার ঊর্ধ্বগতিতে ফিরলে ধাপে ধাপে তা তুলে দেয়া হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রুশ হামলার পর বিশ্বজুড়ে অর্থনীতিতে টালমাটাল পরিস্থিতিতে দেশের পুঁজিবাজারে যে ধস নামে, সেটি ঠেকাতে গত ২৮ জুলাই ফের ফ্লোর প্রাইস পদ্ধতি চালু করা হয়।

এর মধ্যে টানা ৯ মাস মন্দাভাব থাকার পর বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গত ২৮ জুলাই থেকে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৫২৮ পয়েন্ট বা ৮ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট বেড়েছে ডিএসই সূচক। এই এক মাসে গড়ে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৩৪ কোটির ঘরে। সর্বোচ্চ লেনেদন ছিল ২ হাজার কোটি টাকা।

আগের ১৯ মাসের বড় উত্থানের পর টানা ৯ মাস মন্দাভাব ছিল দেশের পুঁজিবাজারে। এরপর পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বগতি থাকলেও ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার গুজবে ছয় দিন টানা বাড়ার পরে রোববার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের পতন হয়।


প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৬ শতাংশ

প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৬ শতাংশ
ছবি : দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছর শেষে (২০২৩ সালের জুন শেষে) বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আভাস দিয়েছে ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থাটি।

অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলে তথ্য দিয়েছে এডিবি। সংস্থাটির ধারণা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বাড়বে।

বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি এবং স্থানীয় স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের ভোগ-চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছরে গত বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি কম হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

গতকাল বুধবার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক সেপ্টেম্বর সংস্করণ প্রকাশ করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক। সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়। এ উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবির ঢাকা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে এডিবির সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুন চ্যাঙ হং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুকের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তব্য দেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। আর গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় বাংলাদেশে। গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে এডিবি।

সংবাদ সম্মেলনে এডিমন গিন্টিং বলেন, ‘দুই বছরের কোভিড-১৯-এর ধাক্কার পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিকে সংকটের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। এ অবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলে, আমি সেটাকেই খুবই সন্তোষজনক বলে মনে করি। বাংলাদেশ অতীতেও নানা ধরনের সংকট সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলা করেছে অন্যন্ত ভালোভাবে। যুদ্ধের মধ্যেও অর্থনীতিকে সঠিক পথে রেখেছে। রপ্তানির পাশাপাশি রেমিট্যান্স বাড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগ ছিল যে আমদানি, সেটা কমতে শুরু করেছে। সবমিলিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে।’

তিনি বলেন, 'বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘায়িত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাকে তুলনামূলক ভালোভাবে মোকাবিলা করেছে এবং এই অসম পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনায় উপযুক্ত নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে।'

এডিমন গিন্টিং বলেন, 'তবে এ ধরনের সময় মধ্যম পর্যায়ে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য সংস্কারের জন্য উপযুক্ত। এ ধরনের সংস্কার কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ ব্যবহারের উপযোগিতা বাড়ানো, অর্থ বাজারের উন্নয়ন এবং বেসরকারি খাতে ফলপ্রসূ চাকরি তৈরির জন্য প্রতিযোগিতামূলক মনোভাবের প্রচারণা।'

'আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা সংস্কার কর্মসূচিকে গতিশীল করার ভালো নিয়ামক হতে পারে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের লক্ষ্য অর্জন ও স্থানীয় টেকসই জ্বালানির সরবরাহ সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীবাশ্মভিত্তিক জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।'

গিন্টিং বলেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় এবং জ্বালানি সংকটের কারণে এ বছর কাঙ্ক্ষিত হারে বিনিয়োগ হবে না। ধীরগতি দেখা দেবে সরকারি বিনিয়োগেও। এ অবস্থায় রাজস্ব আদায় বাড়াতে সরকারকে জোর দিতে হবে।’

‘রপ্তানি আয়ে বৈচিত্র্য আসছে। কৃষি ও ওষুধ খাতে বছরে ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি হচ্ছে। প্রবাসী আয়ও বাড়ছে। আমি মনে করি, রপ্তানি খাতে বৈচিত্র্যই অর্থনীতিকে টেকসই করে। যেহেতু প্রবৃদ্ধি দেশের ভেতর থেকেই হতে হবে, তাই বেসরকারি খাতের বিকাশ প্রয়োজন।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি ঘাটতির কারণে বেসরকারি বিনিয়োগের বৃদ্ধি কম হবে। সে কারণেই চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি গত অর্থবছরের ৭ দশমিক ২৫ শতাংশের কম, ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হবে।

প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বলা হয়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায় পণ্যের আমদানি খরচ বেড়েছে। অনেক দেশে খাদ্য-সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক দেশে খাদ্য উৎপাদন কম হয়েছে। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে; ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

‘সব মিলিয়ে ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় এবং বিভিন্ন পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গত অর্থবছরের ৬ দশমিক ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উঠতে পারে।’

বাংলাদেশের অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তাকে চিহ্নিত করেছে এডিবি। এ কারণে দেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা দীর্ঘায়িত হতে পারে বলেও মনে করে এডিবি।

প্রতিবেদনে গত অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ক্যারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি প্রসঙ্গে বলা হয়, ‘আমদানি কমে এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে চলতি হিসাবের ঘাটতি ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপির ৪ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।’

‘তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মন্দার কারণে রপ্তানিতে ঝুঁকি আছে।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘দেশটির অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা।’

৪৯ বছরের অংশীদারত্বে বাংলাদেশকে এডিবি প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে।

এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ হতে পারে: এডিবি

এবার জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৬ শতাংশ হতে পারে: এডিবি
ছবি: দৈনিক বাংলা
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে বলে আভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। আজ বুধবার এডিবির ঢাকার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০২৩ প্রকাশ করেছে এডিবি।

সেখানে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সম্পর্কে এ কথা বলেন এডিবির সিনিয়র কান্ট্রি স্পেশালিস্ট সুন চ্যাঙ হং। এ সময় বক্তব্য দেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং।

এ ছাড়া গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ হবে বলেও জানিয়েছে এডিবি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার মূল্যস্ফীতি বাড়বে বলে মনে করছে সংস্থাটি।

বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়ায় চলতি বছরে গত বছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি কম হবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

সরকার চলতি অর্থবছরে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে। আর গড় মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৪ শতাংশে আটকে রাখতে চেয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয় বাংলাদেশে। গড় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৬ দশমিক ২ শতাংশ।

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নতুন চ্যালেঞ্জ বলে মনে করে এডিবি।


২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২০০ কোটি ডলার (২ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (সরকারি রেট প্রতি ডলার ৯৬ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান। ঋণ প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে এডিমন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে এডিবির দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং এডিবি সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে এডিবি, যা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর। বলেন, ‘করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্যতম সেরা উদাহরণ স্থাপন করেছে।’

বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নগর উন্নয়ন এবং এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

মহামারি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এডিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে সবসময় এডিবি থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কান্ট্রি ডিরেক্টর ।

বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর।

বৈঠকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবিকে আরও সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং বিশেষ করে কোভিড-১৯ এর ক্ষতিকর প্রভাব উত্তরণে দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য এডিবির প্রশংসা করেন তিনি।

একই সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানের জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানান মুস্তফা কামাল।

বৈঠকে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও এডিবির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এডিবি এ যাবৎ বাংলাদেশকে ২ হাজার ৭০০ কোটি (২৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশকে সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি প্রধানত বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি, পানি সম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সুশাসন, আর্থিক এবং বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেয়।

ম্যানিলায় যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

আগামী ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এডিবির ৫৫তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের জন্য ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়বেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, ইআরডি সচিব শরিফা খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় যোগ দেবেন।


ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না

ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না
ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • আন্তব্যাংক লেনদেন ১০৮ টাকায় উঠেছে

  • বাজারভিত্তিক হওয়ার পর ডলারের সর্বোচ্চ দর

দাম বাজারভিত্তিক এবং আমদানি ব্যয় কমলেও ডলারের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না; কমছে না বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিধর মুদ্রাটির তেজ। অদ্ভুদ আচরণ করছে বাজার।

সংকট নিরসনে ডলারের দামের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়ে দাম বাজারভিত্তিক করে দেয়া হয় গত ১৩ সেপ্টেম্বর। এক সপ্তাহ পার হয়ে গেলেও স্বাভাবিক হচ্ছে না ডলারের বাজার; উল্টো আগের মতোই চড়ছে। দুর্বল হয়েই চলেছে টাকার মান; শক্তিশালী হচ্ছে ডলার। ব্যাংকগুলো একে অপরের কাছে যে দামে ডলার বেচাকেনা করছে, তার দামও বাড়ছে।

গত সোমবার আন্তব্যাংক মুদ্রা বাজারে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ব্যবধান ৮ টাকা ৩৫ পয়সা। সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন দামের এতোটা পার্থক্যের কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘ডলারের বাজার বাজারভিত্তিক করার পরও দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না আমি। আমদানি বেশ কমেছে। রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। এখন বাজার স্বাভাবিক হয়ে আসার কথা। কিন্তু উল্টো বাড়ছে। তাহলে বাজারভিত্তিক করে কী লাভ হলো। আর আমার কাছে সবচেয়ে বেশি অবাক লাগছে সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন নামের মধ্যে ৮ টাকার বেশি ব্যবধান।’

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘রপ্তানিতে ডলারের দাম ৯৯ টাকা, আর প্রবাসী আয়ে ১০৮ টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে দাম ৯৬ টাকা। এত পার্থক্য রেখে ডলারের দাম স্থিতিশীল করা যাবে না। প্রবাসী আয়ে দাম কমাতে হবে, রপ্তানিতে দাম বাড়াতে হবে। এভাবে সব ক্ষেত্রে ডলারের দাম এক করে ফেলতে হবে।’

ডলারের দাম নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকগুলোর দামকে স্বীকৃতি দেয়া শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই দরকেই আন্তব্যাংক লেনদেন দর বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। আগের দিনের লেনদেনের দরকে পরের দিন সকালে প্রকাশ করা হয়। এটাকেই বাজারভিত্তিক দর বলছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৩ সেপ্টেম্বরের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে কোনো ডলার বিক্রি করছে না। জ্বালানি তেল, সারসহ সরকারি কেনাকাটার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ থেকে কত দামে কত ডলার বিক্রি করেছে, সে তথ্য প্রকাশ করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সোমবার আন্তব্যাংক লেনদেনে ডলারের সর্বোচ্চ দর ছিল ১০৮ টাকা। আর সর্বনিম্ন দর ধরা হয় ৯৯ টাকা ৬৫ পয়সা। ১৩ সেপ্টেম্বর এই দর ছিল যথাক্রমে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা ও ১০১ টাকা ৫০ পয়সা।

তার আগে প্রায় দেড় মাস আন্তব্যাংকে ডলারের ক্রয়-বিক্রয়মূল্য ৯৫ টাকায় আটকে রেখেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বাজারভিত্তিক করার আগের দিন অবশ্য ডলারের বিপরীতে টাকার মান আরও কমিয়ে ৯৬ টাকা করা হয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার খোলাবাজার বা কার্ব মার্কেটে ১১৪ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ১১৪ টাকা ৪০ পয়সায় ডলার বিক্রি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক ১০৬ টাকা ২৫ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। জনতা ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৬ টাকা পয়সায়। অগ্রণী ব্যাংক থেকে কিনতে লেগেছে ১০৭ টাকা।

বেসরকারি ইস্টার্ন ব্যাংক গতকাল ১০৫ টাকা ৫০ পয়সায় নগদ ডলার বিক্রি করেছে। সিটি ব্যাংক বিক্রি করেছে ১০৪ টাকায়।

ডলারের দর ৫০ পয়সা বাড়ানোই যেখানে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছিল এতদিন, সেখানে ১৩ সেপ্টেম্বর এক দিনে ১০ টাকা ১৫ পয়সা বাড়িয়ে ডলারের বাজার বাজারভিত্তিক করা হয়। ওই দিন বৈদেশিক বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মুদ্রাটির বিনিময় হার ঠিক করে দেয় ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। আগের দিন দাম এক টাকা বেড়ে হয়েছিল ৯৬ টাকা। অর্থাৎ এক দিনে বাড়ল ১০ টাকা ১৫ পয়সা বা ১০ দশমিক ৫৭ শতাংশ। ওই সিদ্ধান্তে ইতিহাস সৃষ্টি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে দেশে দেশে মুদ্রার দরপতনের যে সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। সাত মাসের কম সময়ে দেশের মুদ্রার দরপতন হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। এই যুদ্ধ শুরুর আগে দর ছিল ৮৪ থেকে ৮৫ টাকা।

ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ বা এবিবি ও বৈদেশিক মুদ্রার ডিলার ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন বা বাফেদা ঠিক করে আন্তব্যাংকে ডলারের বিনিময় হার হবে ১০৬ টাকা ১৫ পয়সা। সেই দরকেই আন্তব্যাংক দর হিসেবে বেছে স্বীকৃতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, টাকা ও ডলারের বিনিময়মূল্য ব্যাংকগুলো নির্ধারণ করেছে। জোগান ও চাহিদা এবং বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফেদা) দামের ভিত্তিতে ডলারের এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দৈনন্দিন ভিত্তিতে ডলার কেনাবেচার মধ্যে নেই। তবে বাজার বিবেচনায় প্রয়োজন হলে কেনাবেচা করবে।

ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে এখন এই দরে ডলার কেনাবেচা করছে। এটাকেই আন্তব্যাংক দাম বলা হচ্ছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে দামে ডলার কেনাবেচা করত, সেটি আন্তব্যাংক দর হিসেবে উল্লেখ করা হতো। সেই দামই ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।


রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন

রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

আবু কাওসার

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রাজস্ব আদায়ে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতেই সরকারি আয়ে সুখবর এসেছে।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) সব মিলিয়ে ৪০ হাজার ২৭০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

এ হিসাবে এই দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি রাজস্ব পেয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ তথা রাজস্ব আদায়ে এমন প্রবৃদ্ধি বাংলাদেশের ইতিহাসে আগে কখনই হয়নি।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এ সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল সাড়ে ১৪ শতাংশ। পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে রাজস্ব আয় বেড়েছে গড়ে ১২ শতাংশ। সে হিসেবে এখন যে প্রবৃদ্ধি হলো এটা অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক বলে মনে করেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা।

এনবিআর সূত্র জানায়, প্রধানত পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণেই রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সাধারণত আন্তজাতিক বাজারে আমদানিকরা পণ্যের দাম বাড়লে বেশি শুল্ক আদায় হয়। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম বাড়লে মূল্য সংযোজন কর আদায়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

আবার উন্নয়ন কাজের গতি বাড়লে আয়কর বাড়ে। এসব কারণে আলোচ্য অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজস্বের পালে হাওয়া লেগেছে বলে জানান কর কর্মকর্তারা।

এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাজস্ব আয়ের চলমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছানো যাবে।’

এ বছর এনবিআরের মাধ্যমে সংগৃহীত রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। সরকার বাজেট বাস্তবায়নে যে অর্থায়ন করে তার ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ জোগান দেয় এনবিআর। যে কারণে রাজস্ব আয় ভালো হলে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার পরিমাণ সহনীয় থাকে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা।

গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির যে আকার তার সঙ্গে রাজস্ব আয় সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কাজেই, আরও বেশি আদায় বাড়াতে হবে।’

রাজস্ব বোর্ডের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে কাস্টমস, মূল্য সংযোজন কর-ভ্যাট এবং আয়কর মিলে আদায় হয় ৪০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের এ সময়ে আদায় হয়েছিল ৩৩ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা। ফলে রাজস্ব আয় বেড়েছে বা প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ। 

আমদানি, ভ্যাট ও আয়কর- এই তিন উৎস থেকে রাজস্ব আহরণ করে থাকে এনবিআর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবদান ভ্যাটে। মোট আদায়ের ৩৯ শতাংশ ভ্যাট থেকে আসে। আয়কর থেকে আয় হয় ৩৭ শতাংশ। বাকি রাজস্ব আসে আমদানি শুল্ক থেকে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আলোচ্য অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে সবচেয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি হয়েছে আমদানি শুল্ক খাতে। এ সময় শুল্ক আদায় হয় ১৪ হাজার ৮৬৩ কোটি টাকা।

গত অর্থবছরের এ সময় আদায় হয়েছিল ১১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা। ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি হয় ২৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ।

এনবিআর সূত্র বলেছে, বিশ্ববাজারে আমদানিকৃত পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই বাড়তি শুল্ক আদায় হয়।

আলোচ্য অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে অভ্যন্তরীণ রাজস্বের অন্যতম উৎস ভ্যাট আদায় হয় ১৫ হাজার ৩৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের এ সময়ে আদায় হয় ১২ হাজার ৯৬৫ কোটি টাকা। ভ্যাটে এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হয় ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ সম্পদের আরেকটি উৎস আয়করে আদায় হয় ১০ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময় আদায় ৮ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। ফলে আয়করে জুলাই-আগস্টে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১৯ শতাংশ।

সব মিলে চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে আহরণ হয় ৪০ হাজার ২৭০ কোটি টাকা, যা পুরো বছরের মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ শতাংশ। 

গত অর্থবছরে এনবিআর রাজস্ব আদায় করে দুই লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকা।