মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

ইউনাইটেড এয়ারের কারসাজি খুঁজতে তদন্ত কমিটি

ইউনাইটেড এয়ারের কারসাজি খুঁজতে তদন্ত কমিটি
ইউনাইটেড এয়ার। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ফারহান ফেরদৌস

পুঁজিবাজারে ওটিসি মার্কেটে তালিকাভুক্ত ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের শেয়ারের কারসাজি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

পাঁচ সদস্যের এই তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসইসির অতিরিক্ত পরিচালক ওহিদুল ইসলামকে। কমিটির অন্য চারজন সদস্য হলেন বিএসইসির দুই উপপরিচালক শাহারিয়ার পারভেজ ও মো. শাহনেওয়াজ, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন প্রতিনিধি এবং আরেকজন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রতিনিধি।

বাংলাদেশ ‍সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইস) এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

গত ২৬ জুলাই বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই কারসাজি খতিয়ে দেখতে বিএসইসকে একটি চিঠি দিয়েছিল।

সেই চিঠির পরিপেক্ষিতে বিএসইসি এ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

তদন্ত কমিটিকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে- কী কারণে ইউনাইটেড এয়ারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া তদন্ত কমিটিকে ইউনাইটেড এয়ার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পরে এর শেয়ারের লেনদেন নিয়ে কোনো কারসাজি হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

ইউনাইটেড এয়ার পুঁজিবাজারের ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট থেকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরে অপেক্ষায় আছে।

তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি কোম্পানিটির আর্থিক অসংগতি খতিয়ে দেখতে বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

কোম্পানিটির আগের পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আছে। তদন্ত কমিটি সেই বিষয়টি দেখবে। এ ছাড়া আগের পরিচালনা পর্ষদ ইউনাইটেড এয়ারওয়েজকে কারসাজি করে ইচ্ছাকৃতভাবে লোকসানি কোম্পানিতে পরিণত করেছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।

ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ ২০০৭ সালে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে তারা দেশের অভ্যন্তরে সেবা দেয়া শুরু করে। পরে দেশের বাইরেও সেবা দিচ্ছিল। ২০১০ সালে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠিানটি।

২০১৪ সালে কোম্পানির পরিচালকদের ভেতরে সমস্যার কারণে প্রথমবারের মতো ইউনাইটেড এয়ারের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর পরে আবার চালু হলেও ২০১৬ সালে এর কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর ২০২১ সালে ইউনাইটেড এয়ারকে বাংলাদেশের মূল পুঁজিবাজার থেকে ওটিসি মার্কেটে পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এখন এই শেয়ারকে অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ডে (এটিবি) স্থানান্তরের জন্য রাখা হয়েছে।

গত বছর এয়ারলাইনটিকে পুনর্জীবিত করতে বিএসইসি আটজন অভিজ্ঞ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়ে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে।

কোম্পানিটির মূল মালিক ক্যাপ্টেন তাসারুল আহমেদ চৌধুরী বিদেশে পলাতক। নতুন পরিচালনা পর্ষদ ২০২১ সালের ৪ মার্চ দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এয়ারলাইনটি পুনর্জীবিত করার কাজ করছে।

ওটিসি মার্কেটের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইউনাইটেড এয়ারের শেয়ার ১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। এই শেয়ারটির অভিহিত মূল্য ১০ টাকা।

পুঁজিবাজারে এই কোম্পানির ৮২ কোটি ৮০ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮০টি শেয়ার আছে।

এর মধ্যে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ আছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। আরা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ৮৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ শেয়ার।

 ইউনাইটেড এয়ারের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৮২৮ কোটি ১০ লাখ । বাজার মূলধন ১৬৬ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকা।

ওটিসি মার্কেট হচ্ছে ওভার দ্য কাউন্টার মার্কেট। অর্থাৎ পুঁজিবাজারের মূল বাজারের বাইরের একটি মার্কেট। এই মার্কেটে একেবারে মন্দ কোম্পানির শেয়ারগুলো লেনদেন হয়।


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ হবে

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০৩০-এর  দশকের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ হবে
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের পূর্বাভাস

২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ হতে পারে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের পূর্বাভাস অনুসারে- এ সময় অবকাঠামো খাতে ব্যয়, অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতার সুফল পেতে শুরু করবে বাংলাদেশ। গত বুধবার প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করছি, বর্তমানের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির ২০৫৩ সালে পর্যন্ত কেমন চিত্র হবে তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষ মানবসম্পদ, গ্রামীণ এলাকায় আরও বিস্তৃত ইন্টারনেট সংযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ, উদীয়মান খাতসমূহ এবং কর্মক্ষেত্রে আরও নারীর যোগদান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে- এতে বলা হয়েছে। তবে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ঘাটতি, অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা থাকা, প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টসশিল্পে অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়- বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরির ঝুঁকি হিসেবে থাকবে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স সতর্ক করে বলেছে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ক্ষতির মধ্যে পড়ার সংবেদেনশীলতাই ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক গণমাধ্যম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা শাখাটি মনে করে, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের চলমান একাধিক মেগা-প্রকল্প সম্পন্ন হলে– উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যেসব চুক্তির আলোচনা চলছে, সেগুলো কার্যকর হলে তা বিনিয়োগ প্রবাহের সহায়ক হবে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স আশা করছে- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য যোগ করার সরকারি চেষ্টা সফল হলে, তা আরও বিনিয়োগ আনবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

‘বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত- তৈরি পোশাকে বৈশ্বিকপর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র স্থাপনের প্রবণতা চলছে, এর ফলে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব উদীয়মান খাতগুলোর বিকাশের সুবাদে অনেকটাই প্রশমিত রাখা যাবে’– উল্লেখ করে বলেছে, নতুন ধরনের কর্ম প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব, পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো গেলে, তা উদীয়মান খাতে দক্ষতার ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীরা বিদেশে গেলে- সেখান থেকে তারা আরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবেন। সেই সঙ্গে মানবসম্পদের অন্যান্য অর্জন যুক্ত হয়ে, ২০৫৩ সাল নাগাদ বাংলাদেশের কর্মমুখী জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব প্রশমনে সহায়ক হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি চাঙা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামো খাতের ঘাটতি পূরণে- বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মেগা-প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করছে। এতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার চুক্তির আলোচনা চলমান থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া জাপান, সিঙ্গাপুর এবং অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।

গবেষণাটি বিশ্লেষণকারী ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের একজন অর্থনীতিবিদ অঙ্কুর শুকলা বলেন, ‘২০৪০-এর দশক থেকে বার্ষিক বিনিয়োগ আগের দুই দশকের ৮.৩ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮.৪ শতাংশ হওয়ার প্রত্যাশা করছি আমরা।’

উৎপাদনশীলতা স্থিতিশীলভাবে বাড়ার প্রক্ষেপণ করে ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স তাদের পূর্বাভাসে আশা প্রকাশ করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের পরিকল্পনাধীন ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিদেশি ব্যবসাগুলোকে আকৃষ্ট করবে। গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার এবং ইন্টারনেট সংযোগের আরও সুগভীর বিস্তার- সেবা প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এ ছাড়া জাপান, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হলে তা প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসাগুলোকেও আরও সুদক্ষ করে তুলবে বলে মনে করছে ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিকাশের পথে সবচেয়ে বড় বিপদ বলেছে ব্লুমবার্গের গবেষণা শাখাটি।

জার্মানওয়াচের বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স) প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সতর্কবাণী দিয়ে বলেছে, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান বিপুল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে সাগরে তলিয়ে যাবে অনেক জমি, কমবে কৃষি উৎপাদন আর বাস্তুচ্যুত হবে লাখ লাখ মানুষ।’

আউটলুক প্রতিবেদন জানিয়েছে- ‘ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্স প্রক্ষেপণ করছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ পোশাক খাত এর বাইরে কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারার ব্যর্থতাকে আরেকটি বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ অর্থনীতির প্রধানতম এ খাতে এখন বৈশ্বিকপর্যায়ে চলছে অটোমেশন- এতে করে এ খাতে ব্যাপক বেকারত্ব দেখা দিতে পারে।


৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে জাইকা

৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে জাইকা
ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দাতা সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) বাংলাদেশকে ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

বর্তমান বিনিময় হার (প্রতি ডলার ১০৫ টাকা) হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৬ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাইকার বিদায়ী বাংলাদেশ প্রধান ইয়ো হায়াকাওয়া এবং নতুন আবাসিক প্রতিনিধি ইচিগুচি টমোহাইডের সঙ্গে বৈঠক শেষে  পরিকল্পনামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘এটা আলোচনা পর্যায়ে আছে; এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যেহেতু আমি সরকারের একটা দায়িত্বে আছি, তাই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সরকার বাজেট সহায়তা চেয়ে জাইকাকে আভাস দিয়েছে। এটা প্রক্রিয়াধীন আছে, তাদের কথা শুনে ইতিবাচক বলে মনে হয়েছে। তবে সবার কিছু আইন কানুন আছে, এগুলো মেনেই কাজ করতে হবে। আমার বিশ্বাস সব প্রসেসিং হওয়ার পর আমরা বাজেট সহায়তা পাব।’

এম এ মান্নান বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আমি মন্তব্য করার সঠিক ব্যক্তি আসলে আমি নই। এটা নিয়ে কাজ করবে ইআরডি। তবে যেহেতু সরকারে আছি, মন্ত্রণালয়ে আছি, তাই আলোচনা করেছি। পরিবেশটা অনেক ইতিবাচক। ৬০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা জাইকা আমাদের দেবে।

‘নারায়ণগঞ্জের আড়াই হাজারে জাপানি অর্থায়নে ইকোনমিক জোন হচ্ছে। এখানে কাজ করতে চায় জাইকা। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। প্রকল্পটি দ্রুততর সময়ে একনেক সভায় উঠবে। মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুতে জাপান কাজ করছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে আমরা আরও আগ্রহী। এই খাতে জাইকা কাজ করতে ইচ্ছুক। আমরা আমাদের নৌবন্দরগুলোতে আরও কাজ করতে চাই। অবকাঠামো খাতে জাইকা বেশি কাজ করতে চায়। রেল, সমুদ্র খাত নিয়ে কাজ করতে চায় তারা।’

বৈঠক শেষে জাইকার বিদায়ী আবাসিক প্রতিনিধি ইয়ো হায়াকাওয়া দীর্ঘদিন ঢাকায় অবস্থানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি নিজ চোখে দেখেছি, বাংলাদেশ বেশ ভালোভাবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলা করেছে। কোভিডের পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে। এটা আসার জন্য খুব অসাধারণ অভিজ্ঞতা ছিল। আমি বাংলাদেশে কাজ করার সময়টাকে খুব উপভোগ করেছি।’

জাইকা নতুন আবাসিক প্রতিনিধি ইচিগুচি টমোহাইড বলেন, ‘বাংলাদেশ আমার জন্য নতুন নয়। তিন বছর আগে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করেছি। বাংলাদেশের অনেক কিছুর সঙ্গে আমি পরিচিত। এই দেশের কয়েকটি প্রকল্পে আমি কাজ করেছি জাইকার হেড অফিসে বসে।’

তিনি বলেন, ‘আমার আগের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমি বাংলোদেশের উন্নয়নে কাজ করতে চাই। আমার বয়স আর বাংলাদেশের বয়স সমান। বাংলাদেশের জন্য আমি একটি টান অনুভব করি। আমি বাংলাদেশে কাজ করতে পেরে আনন্দিত।’

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন-সহযোগী হলো জাইকা। আর উন্নয়ন-সহযোগীদের মধ্যে অন্যতম বিশ্বস্ত বন্ধু হলো জাইকা। জাইকার অর্থায়নে ঢাকায় বহুল প্রতীক্ষিত মেট্টোরেল তৈরি হচ্ছে।

জাইকার ঋণের সুদের হার বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ অন্যান্য উন্নয়ন সংস্থার চেয়ে কম। জাইকার অনেক ঋণ অনুদান হিসেবেও পেয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বীকৃতি দেয়া দেশগুলোর মধ্যে জাপান ছিল প্রথম কাতারে। জাপান শুধু বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেই নয়, শিক্ষা ও কৃষিতেও অবদান রেখেছে। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে সব সময় বাংলাদেশের পাশে ছিল জাপান। দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পরিকল্পনামন্ত্রী মান্নান।

জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেবল অবকাঠামো উন্নয়নবিষয়ক নয়, এই সম্পর্ক দুই দেশের মানুষের মধ্যেও। জাপানের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি আমূল বদলে যাবে বলে মনে করেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ঋণসহায়তা দিয়েছে জাইকা।


টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক

টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক
টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সিটি ব্যাংক এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম (টিএসসিএফপি) অ্যাওয়ার্ডস ২০২২-এ ‘লিডিং পার্টনার ব্যাংক ইন বাংলাদেশ’-এ ভূষিত হয়েছে। এবারেরটি নিয়ে এই ব্যাংক টানা তিনবার ‘লিডিং পার্টনার ব্যাংক’ হিসেবে সম্মানিত হলো। এর আগে ২০১৯ সালে এডিবির অংশীদারিত্ব কর্মসূচীতে লেনদেনে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ‘মোমেন্টাম অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল সিটি ব্যাংক।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ১৫০ জন অংশীদার ব্যাংক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এডিবি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। সিটি ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস হাসান শরীফ আহমেদ এডিবির ট্রেড এবং সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সের প্রধান স্টিভেন বেকের কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জুলাই ১, ২০২১ থেকে জুন ৩০, ২০২২ সময়ের জন্য এডিবির সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বেশি ট্রেড লেনদেনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ক্ষুদ্র মাঝারি এবং বড় ব্যবসায়ের পাশাপাশি ট্রেড অর্থায়নে এডিবির সাথে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে সিটি ব্যাংক।

সিটি ব্যাংক ২০১৬ সাল থেকে এডিবি-র টিএসসিএফপি প্রোগ্রামের অধীনে ইস্যুয়িং ব্যাংক হিসাবে অংশগ্রহণ করছে। এডিবি তাদের টিএসসিএফপি প্রোগ্রামের অধীনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমর্থনকারী অংশীদার ব্যাংকগুলিকে গ্যারান্টি এবং বাণিজ্য ঋণ প্রদান করে। টিএসসিএফপি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এডিবি-র উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলিতে ২৪০টিরও বেশি ব্যাংকের সাথে কাজ করে। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির অধীনে মোট ১৬টি ব্যাংক এডিবির সদস্য।

এডিবির পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রæপ, ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব অস্ট্রিয়া, নরওয়ে ভিত্তিক নরফান্ড, নেদারল্যান্ডের এফএমওসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে সিটি ব্যাংক। এই শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদার সংযোগের মাধ্যমে যে কোন ধরনের বড় অর্থায়ন এবং লেনদেনে এগিয়ে আছে ব্যাংকটি। উল্লেখ্য, এ বছর সিটি ব্যাংক আইএফসি’র গ্লোবাল ট্রেড ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের অধীনে ‘দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ইস্যুয়িং ব্যাংক’ পুরস্কারও জিতেছে। বিজ্ঞপ্তি


বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে জাপান

বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে জাপান
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

অবশেষে বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে জাপান। করোনা মহামারির কারণে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জাপানে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে পর্যটকরা ভিসা ছাড়াই দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন, লাগবে না কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তাও। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রবেশ করা পর্যটকের পরিমাণের সীমাও তুলে দেয়া হবে। খবর বিবিসির।

তাইওয়ান এবং হংকং তাদের দেশে পর্যটক প্রবেশের নিয়ম শিথিল করার পরপরই জাপান এ রকম ঘোষণা দিল। তাইওয়ান অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ আন্তর্জাতিক আগমনের জন্য কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজনীয়তা বাদ দেয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে গত শুক্রবার হংকং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের বদলে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, ‘জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিল করবে।’

দেশটি জুন থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাদের কোনো ট্যুরের অংশ হতে হতো।

কিশিদা জাপানে ভ্রমণের জন্য একটি প্রণোদনা স্কিমও ঘোষণা করেছেন। যার মাধ্যমে ভ্রমণ করলে থিম পার্ক, ক্রীড়া ইভেন্ট এবং কনসার্টে ছাড় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জাপানের নাগরিক এবং বাসিন্দারা ১১ হাজার ইয়েন ভর্তুকি পাবে বলে জানা গেছে।

অন্য দেশগুলোতেও একই রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, যাতে মানুষ ব্যয় করতে আগ্রহ পায় এবং অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পায়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি এশিয়ার সর্বশেষ শক্তিশালী দেশ যারা কোভিড স্বাস্থ্য উদ্বেগের জন্য সীমানা বন্ধ রেখেছিল। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম জাপানে এবং টিকাদানের হার সবচেয়ে বেশি।

মহামারির আগের বছর ২০১৯ সালে প্রায় ৩২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় অনেক বিদেশি জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত রয়েছে।


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

  • সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এই তিন বাধা দূর করতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে।

বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সংস্কার না হলে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির কাঠামো টেকসই নয়। ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। কিন্তু এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। অর্থনীতির তেজিভাব কখনো স্থায়ী প্রবণতা নয়। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সব সময় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। তবে কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। শীর্ষ ১০-এ থাকা দেশগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ পরের দশকেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক দশকে (২০১০-১৯) যেসব দেশ শীর্ষ ১০-এ ছিল, সেসব দেশ আগের দশকে শীর্ষ ১০-এ ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক কিছু সুপারিশ করেছে। যেমন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শুল্ক-করহার অন্য দেশের তুলনায় বেশি, যে কারণে বাণিজ্য সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কিন্তু দেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্য দিকে আধুনিক নগরায়ণই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বাংলাদেশ সফরে এসে বলেন, ‘বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অনিশ্চয়তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সম্প্রসারণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংস্কারে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।’

মার্টিন রেইজার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হলো একটি উন্নয়ন সাফল্যের গল্প। ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বিশ্বব্যাংক গর্বিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা অর্জনে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই হওয়া নিশ্চিতকরণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করার বিষয়ে সময়োপযোগী নীতি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) তৈরি করছে বিশ্বব্যাংক। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত কয়েক দশকের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকের উন্নতি হয়েছে। কোভিড মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে।