শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২২

ওষুধ রপ্তানিতে হোঁচট

ওষুধ রপ্তানিতে হোঁচট
ওষুধ রপ্তানিতে হোঁচট।
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কমেছে ১৫.৩৭ শতাংশ

২০১০-১১ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি করে মাত্র ৪ কোটি ৪২ লাখ ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে বাড়তে ১০ বছরের ব্যবধানে গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সেই আয় পাঁচ গুণের বেশি বেড়ে ২৩ কোটি ডলারে ওঠে। কিন্তু সেই ইতিবাচক ধারায় হোঁচট খেয়েছে। তৈরি পোশাকসহ সব খাতের রপ্তানিতে উল্লম্ফন দেখা দিলেও ওষুধ রপ্তানি বেশ কমেছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় করোনাভাইরাস নিরোধক ওষুধ রপ্তানি না হওয়ায় সম্ভাবনাময় এ খাতের রপ্তানি নিম্নমুখী হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) জীবন রক্ষাকারী ওষুধপণ্য রপ্তানি থেকে ২ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম এসেছে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ।

এই দুই মাসে এ খাত থেকে ৩ কোটি ২৬ লাখ ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরেছিল সরকার। গত অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে আয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরের পুরো সময়ে (২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন) ওষুধ রপ্তানি থেকে ২৩ কোটি ডলার বিদেশি মুদ্রা আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে।

হাডসন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘করোনার ওষুধ রপ্তানি করে গত অর্থবছরে ভালো আয় করেছিলাম আমরা। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় এ ওষুধ রপ্তানি হচ্ছে না। তাই আয় কিছুটা নিম্নমুখী হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই। বিভিন্ন দেশে আমাদের ওষুধের চাহিদা বাড়ছে। করোনার ওষুধ রপ্তানি না হলেও আমাদের রপ্তানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘দুই মাসের তথ্য দিয়ে সার্বিক অবস্থা বোঝা যাবে না। অর্থবছর শেষে ঠিকই আমাদের ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হবে।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, প্রতি বছরই ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় বেড়েছে। তবে ২০১৫ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) জন্য ২০৩২ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বে ছাড় (মেধাস্বত্ব অধিকার-ট্রিপস) দেয়ার পর থেকে এ খাতের রপ্তানির পালে বাড়তি হাওয়া লাগে। এরপর করোনা চিকিৎসার ওষুধ রপ্তানি করে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে ওষুধ খাত।

করোনাভাইরাস মহামারিতে দেশের বিভিন্ন শিল্প খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ওষুধশিল্পে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উল্টো করোনা এ খাতে আশীর্বাদই বয়ে এনেছিল বলা যায়। অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি রপ্তানি আয় বাড়ছিল সমানতালে। রপ্তানি পণ্যের তালিকায় কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের অন্তর্ভুক্তি, গুণগত মানের উন্নয়ন ও সরকারের নীতিসহায়তার কারণে সুবাতাস বইছিল এ খাতে।

ওষুধশিল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২০-২১ অর্থবছরে কেবল কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ রপ্তানি থেকেই আয় হয়েছিল প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো দাঁড়ায়।

বাংলাদেশ মূলত ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, ক্যানসার, কুষ্ঠরোগ, অ্যান্টি-হেপাটিক, পেনিসিলিন, স্ট্রেপটোমাইসিন, কিডনি ডায়ালাইসিস, হোমিওপ্যাথিক, বায়োকেমিক্যাল, আয়ুর্বেদিক ও হাইড্রোসিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওষুধ রপ্তানি করে থাকে।

২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর থেকে এ তালিকায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ যুক্ত হয়, ফলে এ শিল্পে রপ্তানি আয়ের পরিমাণ আরও বেড়ে যায়। গত ২০২১-২২ অর্থবছর পর্যন্ত তা অব্যাহত ছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি স্বাভাবিক হয়ে আসায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধক ওষুধ আর এখন রপ্তানি হচ্ছে না।

সে কারণেই এ খাত থেকে রপ্তানি আয় কম আসছে বলে জানান হাডসন ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির মহাসচিব এস এম শফিউজ্জামান। তবে এতে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ওষুধশিল্পের অগ্রগতি এখন গর্ব করার মতো। বাংলাদেশ শুধু নিজেদের ওষুধ নিজেরাই উৎপাদন করে না বরং বিশ্বের শতাধিক দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। অথচ স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আমরা ৭০ শতাংশ ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতাম। এখন দেশের চাহিদার ৯৮ শতাংশ পূরণ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মানসম্মত ওষুধ রপ্তানি করছে।’

শফিউজ্জামান বলেন, ‘আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্প অল্প সময়ের মধ্যে করোনাভাইরাস নিরোধক ওষুধের জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন করে সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। ফলে ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের রপ্তানি বেড়েছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টি-ভাইরাল ড্রাগ রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভির রপ্তানি বাড়াতে অবদান রেখেছিল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় এখন এ ওষুধ থেকে রপ্তানি আয় কম আসছে। তবে এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব অঙ্গনে আমাদের ভাবমূর্তি বেড়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়বে।’

সরকারের নীতিসহায়তার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চপর্যায়ের নিয়ন্ত্রিত বাজারে তিন মাসের মধ্যে প্রবেশ করতে পেরেছে, যেখানে প্রবেশ করতে স্বাভাবিক অবস্থায় অন্তত দুই বছর সময় লাগত।’

ওষুধশিল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ থেকে রেমডেসিভির ও ফ্যাভিপিরাভিরের জেনেরিক সংস্করণটি আমদানি করছে।

বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট চাহিদার ৯৭ শতাংশের বেশি ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি ৪৩টি কোম্পানির বিভিন্ন প্রকারের ওষুধ ও ওষুধের কাঁচামাল যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের প্রায় ১৫৩টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, আগের বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় গত ২০২১-২২ অর্থবছরেও ওষুধ রপ্তানির ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল। ওই অর্থবছরে এ খাত থেকে ১৮ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্য ধরা ছিল। আয় হয়েছিল ১৮ কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

এ হিসাবে লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়েছিল প্রায় ৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরের চেয়ে বেশি এসেছিল ১১ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

২০২০-২১ অর্থবছরে ওষুধ রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ১৬ কোটি ৯০ লাখ ২০ হাজার ডলার।

ঔষধ শিল্প সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ওষুধ রপ্তানি আয়ের ২০ শতাংশই দখল করে আছে বেক্সিমকো। দ্বিতীয় অবস্থানে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস। এ ছাড়া স্কয়ার, এসকেএফ, বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, একমি ল্যাবরেটরিজসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ওষুধ রপ্তানি করে থাকে।

এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানিতে কী প্রভাব পড়বে?

ওষুধ খাতে রপ্তানি আয় বেড়ে চললেও ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হলে ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বে ছাড় পাওয়ার সুবিধা আর থাকার কথা নয়। বর্তমান ট্রিপস সুবিধার আওতায় বাংলাদেশের ২০৩৩ সাল পর্যন্ত ওষুধের মেধাস্বত্বের জন্য কোনো ব্যয় না করেই ওষুধ তৈরি ও কেনাবেচা করার সুযোগ পাওয়ার কথা রয়েছে।

এলডিসি থেকে বের হলেও বাংলাদেশ যাতে এই সুবিধা পায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দুই বছরের কোভিড-১৯ এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। আশা করছি, এই সুবিধাটা আমরা ২০৩৩ সাল পর্যন্ত পাব। ডব্লিউটিও ইতিবাচক সাড়া দেবে।’

একই আশা করছেন শফিউজ্জামান। তিনি বলেন, ‘আমাদেরও বিশ্বাস একটা ভালো সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে ডব্লিউটিও। সে ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ওষুধশিল্প ও রপ্তানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।’

তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে যেভাবে রপ্তানি বাড়ছিল, সেভাবেই বাড়বে। মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত কার্যক্রম চালিয়েছে। দেশ-বিদেশের বাজারে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করেছে। ভবিষ্যতে এই শিল্পের রপ্তানি আরও বাড়বে।’

‘ওষুধ খাতের রপ্তানি বাজার খুবই উজ্জ্বল বলে আমি মনে করি। ট্রিপস নিয়ে আমরা মোটেই চিন্তিত নই। সরকার যেভাবে সিরিয়াসলি কাজ করছে, বিশেষ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়টি নিয়ে যতটা আন্তরিক, তাতে আমরা বুঝতে পেরেছি ২০৩৩ সাল অবধি আমরা এ সুবিধা পেয়ে যাব।

‘আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, আমাদের এই খাত এখন এমন শক্ত অবস্থায় দাঁড়িয়েছে যে, বিশ্বের বড় বড় কোম্পানি আমাদের এখানে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে। সে কারণে ট্রিপস সুবিধা উঠে গেলেও বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের কোনো সমস্যা হবে বলে আমি মনে করি না।’


ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ব্যাংকগুলোকেও নিষ্কৃতি

ডলারে অতিরিক্ত মুনাফা: বাকি ব্যাংকগুলোকেও নিষ্কৃতি
প্রতীকী ছবি
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ১২ ব্যাংকের মধ্যে বাকি ৬টিকেও অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক ছয়টির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) কাছে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।

ওই ৬ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি), ঢাকা ব্যাংক ও এইচএসবিসি ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর একাধিক ট্রেজারি কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত ২৫ সেপ্টেম্বর পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে উত্থাপিত বিভিন্ন অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। মে-জুন মাসে ডলার কেনাবেচা করে ব্যাংকগুলো যে মুনাফা করেছিল তার অর্ধেক আয় খাতে নিতে বলা হয়েছে। বাকি অর্ধেক অর্থ সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে (সিএসআর) বরাদ্দ রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে ব্যাংকগুলোর করা এই মুনাফার পুরোটাই আলাদা রাখতে নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা করা ৬ ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। জবাবে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি দেয়।

সব মিলিয়ে অভিযুক্ত ১২ ব্যাংককে ডলার কেনাবেচা থেকে অতিরিক্ত মুনাফা ও ভুল তথ্য দেয়াসহ বেশ কয়েকটি অভিযোগ থেকে মুক্তি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এর আগে ডলারে অতি মুনাফার জন্য বেসরকারি ছয় ব্যাংকের ট্রেজারিপ্রধানদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক যে ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা প্রত্যাহার করে ওই দায়িত্বে ফেরার সুযোগ দেয়া হয়।

আগের ৬ ব্যাংক হলো ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ও সাউথইস্ট ব্যাংক ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক। সেপ্টেম্বরে তাদেরও ডলার কেনাবেচা থেকে করা মুনাফা নিয়ে একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল।

তখন ওই ৬ ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধানদের সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে আগের পদে ফেরার সুযোগও দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কোন ব্যাংক কত মুনাফা করল

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের হিসাবে ডলার কেনাবেচা থেকে ব্যাংক এশিয়া ১৭৭ কোটি বা ৭৭০ শতাংশ, প্রাইম ব্যাংক ১২৬ কোটি বা ৫০৪ শতাংশ, ব্র্যাক ব্যাংক ৭৫ কোটি বা ৪১৭ শতাংশ, ডাচ-বাংলা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৪০৩ শতাংশ, ঢাকা ব্যাংক ১০৬ কোটি বা ৩৫৩ শতাংশ, সিটি ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ৩৪০ শতাংশ, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১২০ কোটি বা ২৪৫ শতাংশ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক ৯৭ কোটি বা ২৩৪ শতাংশ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ১৩৫ কোটি বা ২০৫ শতাংশ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪৩ কোটি বা ১৫৯ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংক ১৩৬ কোটি বা ১৪০ শতাংশ মুনাফা করে।

চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় কিছুটা কমার কারণে ডলারের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে।

বাজারে আরও স্থিতিশীলতা আনতে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) সব ব্যাংকের জন্য ডলারের একক দর নির্ধারণ করে দেয়। রেমিট্যান্স আনতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন হবে সর্বোচ্চ ৯৯ টাকায়।


ডিএসইতে কর্মকর্তাদের পদোন্নতি বাতিল হচ্ছে

ডিএসইতে কর্মকর্তাদের  পদোন্নতি বাতিল হচ্ছে
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লোগো
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বীর সাহাবী

কর্মকর্তাদের যে পদোন্নতি নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের মতো ঘটনা ঘটেছে, এবার তা বাতিল হতে যাচ্ছে। আর এমন সিদ্ধান্তের আভাসে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের মাঝে।

অবশ্য স্টক এক্সচেঞ্জটির পক্ষে থেকে বলা হচ্ছে বাতিল নয়, সংশোধন হচ্ছে  কিছু কিছু কর্মকর্তার পদোন্নতির সিদ্ধান্ত।

কর্মকর্তাদের মধ্যে কাজের উদ্দীপনা ফেরাতে গত ২৩ আগস্ট ৯৫ জনকে পদোন্নতি দেন ডিএসইর সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারিক আমিন ভূইয়া। কিন্তু নিজেদের মনমতো না হওয়ায় শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল পরিচালনা পর্ষদ। এ টানাপোড়েনের সমাপ্তি ঘটে এমডির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে। এরপরই পদোন্নতি নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়, যা বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে এবার।

কর্মীদের মাঝে অসন্তোষ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদোন্নতি পাওয়া ডিএসইর একজন জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা আমাদের পদোন্নতি দেয়া হয় গত আগস্টে। আগের এমডি তারিক আমিন ভূইয়া এ পদোন্নতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পরদিন থেকেই আমরা শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল অফিশিয়ালি। কিন্তু আগের এমডি পদত্যাগ করার পর, আমাদের মেইল করে আগের পদবি ব্যবহার করেই কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এটা কীভাবে হতে পারে! যেখানে অফিশিয়ালি আমাদের সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে, সেখানে মেইল করে পদ বাতিল করে আগের পদেই কাজ করার কথা বলাটা কতটুকু যৌক্তিক।’

পদোন্নতি পাওয়ার পর তা আবার বাতিল হওয়ায় মানসিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছেন বলে জানান ডিএসইর একজন সিনিয়র ম্যানেজার। তিনি বলেন, ‘আমাকে যখন পদোন্নতি দেয়া হলো, তখন আমি সব মহল থেকে অনেক শুভেচ্ছা পেয়েছি। এখন পদোন্নতি বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছি। ঠিকমতো কাজে মনোযোগ দিতে পারছি না। সব জায়গায় হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এটা রীতিমতো একটা মানসিক টর্চার।’

তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এখন আমার পদ কী, সেটাই নিশ্চিত নই। অফিশিয়ালি জানানো হয়েছে আমি সিনিয়র ম্যানেজার হয়েছি। অথচ মেইল করে বলা হচ্ছে আমি ম্যানেজারই আছি। এখন আমি কোনটা লিখব? কোনটা ঠিক? এসব প্রশ্নের কোনো উত্তর খুঁজে পাই না।’

জিএম পদবির আরেকজন বলেন, ‘ভুল করলে কর্তৃপক্ষ করেছে। সে জন্য এমপ্লয়িরা কেন শাস্তি পাবেন, অপমানিত হবেন, এটা কী আইন।’

ডিএসইর পদোন্নতি পাওয়া অনেকেই দৈনিক বাংলাকে বলেন, আগের এমডির নির্দেশনা মেনে যারা কাজ করেছেন, তারা এখন পদে পদে নিঃগ্রহের শিকার হচ্ছেন। সুষ্ঠু কাজের পরিবেশটায় ভেঙে পড়েছে।

জিএম পদোন্নতি পাওয়া একজন বলেন, এক মাসের বেশি হয়েছে আমি পদোন্নতি পেয়েছি। কিন্তু এইচআর থেকে বলা হয়েছে আমি নাকি সেই ডিজিএমই আছি। আবার আমাকে জিএম হিসেবে গাড়ি দেয়া হচ্ছে, মোবাইল অ্যালাউন্সসহ অন্যান্য ‍সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হচ্ছে জিএম হিসেবেই। তাহলে আমার পদ কোনটা?’

পদোন্নতি পাওয়া কেউ তাদের টাইটেল লিখতে পারছে না উল্লেখ করে একজন এজিএম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের পদোন্নতি দেয়া হলেও, আমরা সে অনুযায়ী টাইটেল লিখতে পারছি না। আমাদের টাইটেল লিখতে বাধা দেয়া হচ্ছে।’

কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পদোন্নতি আটকে ছিল। আগের এমডি তাদের সেই প্রাপ্য পদোন্নতিই দিয়েছিলেন।

কর্তৃপক্ষ কী বলছে

এ বিষয়ে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘খুব শিগগিরই বোর্ড মিটিং করে এসব কর্মকর্তার পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বেশ কিছু পদ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তা বাতিল হবে। আর কিছু সংশোধন করা হবে।’

তিনি বলেন, যেখানে আইন আছে, কর্তৃপক্ষ আছে, সেখানে তো কেউ চাইলেই তা লঙ্ঘন করতে পারে না। আইন যেখানে লঙ্ঘন করা হয়েছে, তা ঠিক করতে হবে। যেসব কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল তা সম্পূর্ণ আইন লঙ্ঘিত করে দেয়া হয়েছিল। সেটাই ঠিক করা হবে।’

কবে এটা কার্যকর হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই এটা হচ্ছে। যেগুলো আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক, তা থেকে কিছু বাদ যাবে আর কিছু সংশোধন হবে।’

পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের ইমেইলে আগের পদেই বহাল থেকে কাজ করতে নির্দেশনা প্রসঙ্গে ডিএসইর ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘বোর্ড থেকে সিদ্ধান্ত আসার পরপরই, সবাইকে আবারও অফিশিয়ালি জানিয়ে দেয়া হবে তাদের পদের ব্যাপারে। এতে তাদের কাজের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না বলেও দাবি তার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের এখনো কিছু জানায়নি ডিএসই। আমরা রোববার খবর নেব। বিষয়টা এমন হতে পারে, ওদের অর্গানোগ্রামের বাইরে বোধ হয় কয়েকটা পদোন্নতি হয়ে গেছে, তাই হয়তো অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন হতে পারে।’

যদি ডিএসই অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী সংশোধন বা পদোন্নতি বাতিল করে, তাহলে কোনো সমস্যা নেই। যদি এর বাইরে করে তাহলে আমাদের জানাবে যোগ করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

এর আগে জিএম থেকে সিনিয়র জিএম তিনজন, ডিজিএম থেকে জিএম তিনজন, এজিএম থেকে ডিজিএম তিনজন, সিনিয়র ম্যানেজার থেকে এজিএম ১৯ জনকে পদোন্নতি দেয়া হয়। এ ছাড়া ম্যানেজার থেকে সিনিয়র ম্যানেজার ১৫ জন, ডেপুটি ম্যানেজার থেকে ম্যানেজার ২৯ জন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ২৯ জন, এক্সিকিউটিভ থেকে ডেপুটি ম্যানেজার ১০ জন, জুনিয়র এক্সিকিউটিভ থেকে এক্সিকিউটিভ ছয়জন, সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ একজন, অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে সিনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট দুজন, জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট থেকে অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট একজন, জিএসএস থেকে জুনিয়র অফিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ছয়জন পদোন্নতি পান।


২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লোগো
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মালিকানার একটি অংশ কিনে নিচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরা। গ্রুপের সহযোগী কোম্পানি এবিজি লিমিটেডকে এই অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হলো বসুন্ধরা গ্রুপ।

সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনবে গ্রুপটি। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের দাম হবে ১৫ টাকা। সেই হিসাবে সিএসই প্রায় ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাবে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে। আর ৩৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সিএসই পরিশোধিত মূলধন ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। শেয়ারের সংখ্যা ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ। এই হিসাবে প্রায় ১৬ কোটি শেয়ার বিক্রি করতে হবে তাদের।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সিএসই তার শেয়ারহোল্ডারদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সিএসইর নিট মুনাফা ছিল ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন মেনে তাদের ২৫ শতাংশ শেয়ার দুই কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেখানে ২১ টাকা দরে প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করে ডিএসই পায় প্রায় ৯৬২ কোটি টাকা।


খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি

খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক লগো।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে ১৪ বিলিয়ন বা এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আগামী তিন বছরে (২০২২-২৫) এই অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে উন্নতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির প্রভাবের বিরুদ্ধে খাদ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করতে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশসহ এডিবির সদস্যভুক্ত দেশগুলো।

এডিবি জানায়, এই অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এডিবির উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। এশিয়ায় ১১০ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের। ফলে এ অঞ্চলে খাদ্যের দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব রয়েছে। এটা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফার্ম ইনপুট, খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন, সামাজিক সুরক্ষা, সেচ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যার সমাধান-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। এডিবি অন্যান্য কার্যক্রমে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে, যা খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখে। যেমন- জ্বালানি শক্তি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবহন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাত।

এডিবির ৫৫তম বার্ষিক সভায় এটির অনুমোদন করা হয়। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বিশ্ব একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি সংকটের জন্য একটি সময়োপযোগী এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এশিয়ার অনেক দরিদ্র পরিবারকে ক্ষুধার্ত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকট বাড়ছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। উদীয়মান এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাব কমাতে খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার আগ্রাসন খাদ্যের প্রধান উপাদান ও সারের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, করোনা সংকট এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চল খাদ্য আমদানি ও বৈদেশিক সারের ওপর নির্ভরশীল। সব ব্যবস্থায়ই ভেঙে পড়েছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগেও এডিবির অনেক দেশে কিছু মানুষের পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছিল। এখন এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এডিবি জানায়, এশিয়ার দরিদ্র মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তায় উন্মুক্ত বাণিজ্যকে উন্নীত করা হবে। এডিবি সহায়তায় খামারের উৎপাদন ও জীবিকা উন্নত করবে, সারের ঘাটতি কমিয়ে দেবে এবং দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। এডিবি অর্থায়ন খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনে বিনিয়োগে সহায়তা করবে, পুষ্টি বৃদ্ধি করবে এবং জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

এ প্রোগ্রামের আওতায় সহায়তা চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বেসরকারি খাতের সহ-অর্থায়নে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করবে এডিবি। এডিবি খাদ্যনিরাপত্তায় বার্ষিক বিনিয়োগে ২০০ কোটি ডলার দিচ্ছে। চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এডিবি। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এডিবি। বাংলাদেশসহ সংস্থাটির ৬৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।


ভারতের শেয়ারবাজার ধস

ভারতের শেয়ারবাজার ধস
বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়। ফলে প্রায় সব দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাগাতার পড়ছে ভারতের শেয়ারবাজারও। গত শুক্রবার হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ার পরে সোমবার সেনসেক্স ৯৫৩.৭০ পয়েন্ট হারিয়ে নামে ৫৭ হাজারের ঘরে। এ দিনও লেনদেনের মাঝে একসময় পতন ১ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বিনিয়োগকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই মূল্যবৃদ্ধিকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ বিপুল হারে সুদ বাড়ানোয় আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা হাতের শেয়ার বেচে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন আর যুক্তরাষ্ট্র সুদ বাড়ানোয় চাঙা সে দেশের ডলার এবং বন্ড বাজারে পুঁজি ঢালছেন। জিয়োজিৎ ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের গবেষণা বিভাগের প্রধান বিনোদ নায়ারের মতে, বাড়তে থাকা ডলারের দাম এবং শ্লথ আর্থিক বৃদ্ধি বিশ্বের শেয়ারবাজারকে অস্থির করছে। আর এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের রিটেল গবেষণা বিভাগের প্রধান দীপক জসনির দাবি, শেয়ারের মতো সব ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগই অবস্থা কাহিল মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে মন্দা দ্রুত মাথা তোলার আশঙ্কায়।

গত বুধবার থেকে চার দিনের লেনদেনে ভারতে ১০ হাজার ৯৭১ দশমিক ৫৭ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো। এর মধ্যে শুধু সোমবারেই ৫ হাজার ১০১ দশমিক ৩০ কোটি রুপির।

তবে শেয়ার ব্রোকিং সংস্থা ডিবি অ্যান্ড কোম্পানির কর্ণধার দেবু বিশ্বাসের দাবি, এই টানা পতনকে নেতিবাচক বলে মানতে পারছি না। কারণ, গত দুই মাসে সেনসেক্স প্রায় ৭ হাজার ৫০০ এবং নিফ্‌টি প্রায় ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছিল। এই দফায় সূচক দুটির যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ১ হাজারের মতো পতন আমার মতে সংশোধন। সেনসেক্স আরও ১ হাজার ২০০ ও নিফ্‌টি ৫০০ পয়েন্ট পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এতে ভারতীয় বাজারের ভিত মজবুত হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞ অনিল আগরওয়ালের মতে, বিদেশের বাজারগুলো পড়ছে বলেই ভারতের সূচকে এমন ধাক্কা লাগছে। এ দেশের আর্থিক অবস্থা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো। তবে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের পতন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার আশা, ভারতের শেয়ারবাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে।

ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ- এসঅ্যান্ডপি: মূল্যায়ন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তাদের আগের করা ৭.৩ শতাংশেই বহাল রেখেছে। তবে তাদের মতে মূল্যবৃদ্ধির হার ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজ়ার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বেঁধে দেয়া ৬ শতাংশের সীমার ওপরেই থাকবে। ভারতে প্রবৃদ্ধির ৬.৯% অনুমান বহাল আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডির রিপোর্টেও। গত সোমবার (ভারতীয় সময় রাতে) খোলার পরেই মন্দার আশঙ্কায় ফের হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। তার আগে ডলারে সাপেক্ষে ঐতিহাসিক তলানিতে নেমেছে ব্রিটিশ পাউন্ডও। ধাক্কা খেয়েছে সরকারি বন্ডের বাজার।