রবিবার, অক্টোবর ২, ২০২২

২০২৬ সালের পর রপ্তানিতে নগদ সহায়তা থাকছে না

২০২৬ সালের পর রপ্তানিতে নগদ সহায়তা থাকছে না
রপ্তানির প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • আবু কাওসার

রপ্তানিতে আর থাকছে না নগদ সহায়তা বা ক্যাশ ইনসেনটিভ। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে এ সুবিধা পর্যায়ক্রমে তুলে নিতে চায় সরকার। তার বদলে দেয়া হবে অন্য কোনো সহায়তা।

আড়াই দশক ধরে চলে আসা সুবিধাটি বাতিল হলে বিকল্প কী ধরনের সহায়তা দেয়া যায়, এখন খোঁজা হচ্ছে তার উপায়। অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।

সূত্রগুলো জানায়, নগদ সহায়তা বাতিল হলে রপ্তানিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিকল্প সুবিধাগুলো কী হতে পারে- কাজ করছে সেটি নিয়েও। এ ক্ষেত্রে পরিবহন এবং সেচ কাজে জ্বালানি খরচ কমানো বা অন্য কোনো সুবিধা দেয়া যায় কি না ভাবা হচ্ছে সেটিও।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে রপ্তানিতে  প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা নগদ সহায়তা দেয়া হয়।   ওই অর্থবছরের মোট রপ্তানি আয় ছিল পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ডলার। বর্তমান বিনিময় হারে যা প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে তৈরি পোশাক শিল্পের অবদান ৪ হাজার ২৬৭ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৪২টি খাত সর্বনিম্ন ১ থেকে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা পাচ্ছে। রপ্তানি আয়ের এফ ও বি (ফ্রেইট অন বোট) মূল্যের বিপরীতে উল্লিখিত হারে নগদ সহায়তা দেয়া হয়।

প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ অনেক দেশেই রপ্তানিতে নগদ সহায়তা দেয়া হয় না। সেই পথেই হাঁটছে বাংলাদেশও। বিশেষ করে ভারত ও ভিয়েতনামে বিকল্প কী ধরনের সুবিধা দেয়া হচ্ছে, তা পরীক্ষা করে দেখছে সরকার।

সূত্র জানায়, নগদ সহায়তা বাতিল হলে দেশীয় রপ্তানি খাতে কী ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি আসতে পারে তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিকল্প সুবিধা দেয়ার বিষয়টি নিয়েও কাজ চলছে।

সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি তকমা কাটিয়ে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পাবে বাংলাদেশ। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) নিয়ম অনুযায়ী, উন্নয়শীল দেশ হলে তখন আর রপ্তানিতে নগদ সহায়তা কিংবা ভর্তুকি দেয়া যায় না। সংস্থাটির সদস্য হওয়ায় এ নিয়ম মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বাংলাদেশের। মূলত এ কারণেই নগদ সহায়তা উঠিয়ে দিতে চায় সরকার।

এলডিসি থেকে বের হতে পারলে উজ্জ্বল হবে দেশের ভাবমূর্তি। ক্রেডিট রেটিং উন্নত হওয়ায় সহজ হবে বিদেশি ঋণ পাওয়া। বাড়বে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআইও।

তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ রপ্তানি খাতে। উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের ফলে বিশ্ববাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে না বাংলাদেশ। এতে তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়বে রপ্তানি আয়।

যদিও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন স্থানীয় রপ্তানিকারকরা। তারা বলেছেন, বাংলাদেশের বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপ। সেখানে ২০২৯ সাল পর্যন্ত শুল্ক সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। লম্বা সময় আছে প্রস্তুতি নেয়ার। আর যুক্তরাষ্ট্রে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রযোজ্য হারে শুল্ক দিয়ে রপ্তানি করছে বাংলাদেশ। কাজেই, উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি খাত নিয়ে বাংলাদেশের কোনো ভয় নেই।

তবে কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারে জাপান, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা ভারতের বাজারে। এসব দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা পায় বাংলাদেশ।

তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন  বিকেএমইএর  সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘নগদ সহায়তা প্রত্যাহার হওয়া নিয়ে আমরা শঙ্কিত নই।’ তবে তার দাবি, রপ্তানি ব্যাহত করে এমন বাধাগুলো দূর করার পাশাপাশি কমাতে হবে ব্যবসার খরচ এবং আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় ঘুষ-দুর্নীতি।

বিজিএমইএর সহসভাপতি শহীদুল্লাহ আজিমও মনে করেন, নগদ সহায়তা না থাকলে ভয়ের কিছু নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছি। উচ্চ মূল্যের পোশাক বানানোর দিকে বেশি জোর দেয়া হচ্ছে। পণ্যের বৈচিত্র্যতা আর মূল্যসংযোজন বাড়াতে পারলে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কঠিন হবে না।’

যোগাযোগ করা হলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাবেক কর্মকর্তা ও গবেষণা সংস্থা পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, নগদ সহায়তা উঠে গেলে পোশাক খাতের অসুবিধা হবে না।  তবে আরও কিছু খাত আছে, যেগুলো বেশি হারে সুবিধা পাচ্ছে, সেসব খাতে প্রভাব পড়তে পারে। এ জন্য ডব্লিউটিওর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘পরোক্ষ সুবিধা’ দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম মনে করেন, নগদ সহায়তা দেয়ার ফলে রপ্তানিতে কতটুকু সুবিধা পাচ্ছে এবং তা প্রত্যাহার করে নিলে কী ধরনের প্রভাব পড়বে তার বিশদ বিশ্লেষণ দরকার।

তিনি বলেন, অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশ তাদের শিল্পকে রক্ষায় বিদ্যমান সুবিধার বাইরে বিকল্প সাপোর্ট দিয়ে আসছে। বাংলাদেশকেও এ ধরনের বিকল্প সুবিধা দিতে হবে। এ জন্য বিস্তারিত বিশ্লেষণ দরকার, যার ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে জানান তিনি।

রপ্তানিকে উৎসাহিত করতে পোশাকসহ অন্যান্য খাতে ১৯৯০ সাল থেকে নগদ সহায়তা দিয়ে আসছে সরকার।


লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত
লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের ভার্চুয়াল সভা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (এলএএফএল) চতুর্থ পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পর্ষদ সদস্যরা সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ থেকে যোগ দেন। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জওহর রিজভী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শমীন্দ্র মার্সেলাইন, ক্লাইভ ফনসেকা, রোহান পাথিরেজ, আজ্জাম আহামাত, উদেশ গুনাওয়ারদেনা, সামিট হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিচালক আজিজা খান, মাসকো গ্রুপের পরিচালক ফাহিমা আকতার, লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সিইও কান্তি কুমার সাহা এবং সিএফও বিশ্ব বিক্রমারাচ্চি। বিজ্ঞপ্তি


মোংলায় মেট্রোরেলের কোচ ও ইঞ্জিন, নদী পথে যাচ্ছে ঢাকার দিয়াবাড়ী

মোংলায় মেট্রোরেলের কোচ ও ইঞ্জিন, নদী পথে যাচ্ছে ঢাকার দিয়াবাড়ী
মোংলা বন্দরে জাহাজ থেকে মেট্রোরেলের কোচ ও ইঞ্জিন খালাস হচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালানে আসা ৮টি কোচ ও ৪টি ইন্জিন খালাসের কাজ চলছে। রোববার সকাল ৭টা থেকে জাহাজটি থেকে কোচ ও ইন্জিন খালাস শুরু হয়। খালাস করে তা রাখা হচ্ছে জাহাজের পাশে ভেড়ানো বার্জে (নৌযান)। একেকটি বার্জ পরিপূর্ণ হলে ছেড়ে যাচ্ছে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ী মেট্রোরেলের ডিপোর উদ্দেশে।
শনিবার বিকেলে জাপান থেকে আসা এ জাহাজটি বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভেড়ে। সেখানে জাহাজ থেকে সন্ধ্যায়ই ঢাকার পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী লিঃ এর মালামাল খালাস শুরু হয়ে রাতেই শেষ হয়। এসব মালামালই নদী পথে ঢাকায় যাচ্ছে।

মোংলা বন্দরে জাহাজ থেকে মেট্রোরেলের কোচ ও ইঞ্জিন খালাস হচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা

জাহাজটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনসিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানীর সিনিয়র এক্সিকিউটিভ (অপারেশন) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, রোববার সকাল ৭টা থেকে মেট্রোরেলের কোচ খালাস শুরু হয়েছে। সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ৪টি কোচ বার্জে নামানো হয়েছে। বার্জে নামানোর পরই এ মালামাল নদী পথে ঢাকার দিয়াবাড়ী মেট্রোরেলের ডিপোর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, রোববার সন্ধ্যা নাগাদ সব মালামাল খালাস শেষ হবে। এরপর সোমবার দুপুরে জাহাজটি এ বন্দর ত্যাগ করবে।
এখন পর্যন্ত ঢাকা মেট্রোরেলের ১১৬টি কোচ ও ইন্জিন এসেছে। তবে এখনও আসতে বাকী রয়েছে ২৮ টি কোচ ও ইন্জিন।


প্রবৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ

প্রবৃদ্ধির শীর্ষে বাংলাদেশ
ইউরোপে শীর্ষ পোশাক রপ্তানিকারক দেশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ইউরোপে পোশাক রপ্তানি

বীর সাহাবী

নানা সংকটের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের পর ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পালে হাওয়া লেগেছে। এ অঞ্চলে পোশাক রপ্তানির প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে (জানুয়ারি-জুন) ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। এ সময় মোট রপ্তানি আয়ে চীনকেও ইউরোপের বাজারে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এসব তথ্য জানা গেছে। এতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ১ হাজার ২২৩ কোটি বা ১২.২৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করে ইইউ অঞ্চলে চীন প্রথমে রয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৩১ কোটি বা ১১.৩১ বিলিয়ন ডলার পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। তবে প্রবৃদ্ধির দিক দিয়ে বাংলাদেশ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে সারা বিশ্ব থেকে ইউরোপে পোশাক রপ্তানি ২৫ শতাংশ বেড়েছে, সেখানে শুধু বাংলাদেশ থেকেই বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে বাংলাদেশ ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করেছিল ৭৮২ কোটি বা ৭.৮২ বিলিয়ন ডলার।

আলোচ্য সময়ে ইউরোপের বাজারে চীনের পোশাক রপ্তানি ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছর একই সময়ে দেশটি রপ্তানি করেছিল ১ হাজার ৩৯ কোটি বা ১০.৩৯ বিলিয়ন ডলার। তুরস্ক ইইউ’র তৃতীয় বৃহত্তম পোশাকের উৎস। এ সময় দেশটির রপ্তানি ২০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়েছে। তুরস্ক থেকে এই ৬ মাসে ৬১০ কোটি বা ৬.১০ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে ইইউ। আগের বছর একই সময়ে দেশটি এ অঞ্চলে পোশাক রপ্তানি করেছিল ৫০৭ কোটি বা ৫.৭ বিলিয়ন ডলার। এরপর রপ্তানিতে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ভারত। এ সময়ে দেশটি ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানি করে ২৫৮ কোটি বা ২.৭৬ বিলিয়ন ডলারের। যা আগের বছরে একই সময়ের চেয়ে ২০.৩৮ শতাংশ বেশি। গত বছর একই সময়ে দেশটি রপ্তানি করেছিল ২২০ কোটি বা ২.২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য। ইউরোপের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে কম্বোডিয়া। এ সময়ে দেশটি ইউরোপের বাজারে রপ্তানি করেছে ১৬৭ কোটি বা ১.৬৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক। দেশটির রপ্তানি বেড়েছে ২৪.৯০ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি করেছিল ১১৯ কোটি বা ১.১৯ বিলিয়ন ডলার।

আলোচ্য সময়ে ইউরোপের অন্যান্য শীর্ষ পোশাক রপ্তানিরকারক দেশের মধ্যে রয়েছে- ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, মরক্কো, শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়া। দেশগুলোর এ অঞ্চলে রপ্তানি বেড়েছে যথাক্রমে ২৩.৪৯ শতাংশ, ৩২.২৮ শতাংশ, ২০.৯০ শতাংশ, ১৫.১৯ শতাংশ এবং ২৮.৬৪ শতাংশ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি পোশাক মালিক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘প্রাণঘাতী করোনা মহামারির পর ঘুরে দাঁড়ানো এবং ভোক্তাদের কেনাকাটা বৃদ্ধির ফলে ইউরোপের খুচরা বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে।’ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দার বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন বিজিএমইএ পরিচালক বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে মন্দার কারণে ২০২২ সালের বাকি সময়টিতে প্রবৃদ্ধির এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা টিকে থাকবে, তা ভাবনার বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘অস্বাভাবিক দীর্ঘ গ্রীষ্মের কারণে শীতের পোশাকের চাহিদাও ইউরোপে বর্তমানে তুলনামূলকভাবে কম। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছিল। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের আমদানি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে পারে। তবে পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে খুচরা বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় ক্রেতারা আপাতত সতর্ক অবস্থানে আছেন বলেও জানান মো. মহিউদ্দিন রুবেল।’

অন্যদিকে আমেরিকার অফিশিয়াল ডেটা সোর্স ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপেরেল (ওটিইএক্সএ)’ চলতি বছরের জানুয়ারি-জুলাই সময়ের জন্য সর্বশেষ পোশাক আমদানির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ওটিইএক্সএর মতে, ২০২১ সালের একই সময়ের (জানুয়ারি-জুলাই) তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার পোশাক আমদানি ৫৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। আর পুরো বিশ্ব থেকে তাদের আমদানি বেড়েছে ৩৯ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ থেকে ৫ দশমিক ৭১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের পোশাক আমদানি করেছে।


বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে

বাজারের আগুনে সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে
সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রি।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। সুদের হার হ্রাস ও নানা ধরনের কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ মানুষের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ সঞ্চয়পত্র বিক্রি তলানিতে নেমে এসেছে।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রির হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় মাস আগস্টে মাত্র ৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের আগস্টে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৬২৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই আগস্টের চেয়ে গত বছরের আগস্টে ৪৪৯ গুণ বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল।

অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ৩৯৩ কোটি ১১ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের জুলাইয়ে বিক্রির অঙ্ক ছিল ২ হাজার ১০৪ কোটি টাকা। হিসাব বলছে, এই বছরের জুলাইয়ের চেয়ে গত বছরের জুলাইয়ে সঞ্চয়পত্র খাতে সাড়ে পাঁচ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

আর অর্থবছরের দুই মাসের হিসাবে অর্থাৎ ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) ৪০১ কোটি ২০ লাখ টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ে এই বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ৭৩২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এই বছরের জুলাই-আগস্ট সময়ের চেয়ে গত বছরের জুলাই-আগস্টে সঞ্চয়পত্রে ১৪ দশমিক ২৯ গুণ বেশি বিনিয়োগ হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজারে সব জিনিসের দামই চড়া। পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ অন্য সব খাতেও খরচ বেড়েছে। এতে মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে। ব্যাংকগুলোর আমানতের সুদের হার কম এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মন্দার কারণে বেশ কয়েক বছর ধরে লাফিয়ে বাড়ছিল সঞ্চয়পত্র বিক্রি। এতে সরকারের ঋণের বোঝা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।

বিক্রির চাপ কমাতে ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে মুনাফার ওপর উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। একই সঙ্গে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন (কর শনাক্তকরণ নম্বর) বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে সঞ্চয়পত্র বিক্রি না করার শর্ত আরোপসহ আরও কিছু কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার পরও বাড়তে থাকে বিক্রি।

সবশেষ সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য বিক্রি কমাতে গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ২ শতাংশের মতো কমিয়ে দেয় সরকার। এর পরও বিক্রি বাড়ছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিক্রি বেশ কমেছে। এখন একেবারে তলানিতে নেমে এসেছে।

সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমার কারণ ব্যাখ্যা করে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষক জায়েদ বখত দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এমনিতেই দুই বছরের করোনা মহামারির কারণে মানুষের আয়-উপার্জন কমে গেছে। অনেকে চাকরি হারিয়ে গ্রামে চলে গেছেন। কারও বেতন কমেছে। এরপর শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কা। এই ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশে ডলারের বিপরীতে টাকার ব্যাপক দরপতন হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে সরকার। এমনিতেই বাজারে জিনিপত্রের দাম বেশি ছিল। এরপর যুদ্ধের কারণে তা আরও বেড়ে গেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় অর্থাৎ বাজারে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় মানুষের সঞ্চয় করার ক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে মানুষ আর আগের মতো সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছে না।’

গবেষক জায়েদ বখত বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর পরও ১০ শতাংশের বেশি সুদ পাওয়া যায়। ব্যাংকে বা অন্য কোনোখানে টাকা রাখলে এত মুনাফা পাওয়া যায় না। এ ছাড়া সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ; এখানে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই, মাস শেষে বা নির্দিষ্ট সময় শেষে সুদ-আসল পাওয়া যায়। তাই সঞ্চয়পত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমেনি, একটু বেশি মুনাফার আশায় কিনেই চলেছিল। তবে এখন আর সঞ্চয়পত্র কেনার মতো সঞ্চয় নেই মানুষের কাছে। সে কারণে কমে গেছে এ খাতে বিনিয়োগ।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসভিত্তিক) গত জুলাই মাসে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ। সেপ্টেম্বর মাস শেষ হয়ে গেলেও আগস্ট মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেনি বিবিএস। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আগের মাসের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো। কিন্তু তার ব্যত্যয় হওয়ায় অনেকের মনে প্রশ্ন জেগেছে, ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের ৫০ শতাংশ দাম বাড়ানোয় মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়ে গেছে। সেটা ৯ শতাংশ ছাড়িয়ে ১০ শতাংশের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছতে পারে। সে কারণে সরকারের শীর্ষ মহলের নির্দেশে মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করছে না বিবিএস।

এ প্রসঙ্গে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘যখন মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশে দেরি হয়, তখন সরকারের তথ্য-উপাত্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সাধারণত প্রথম সপ্তাহেই মূল্যস্ফীতির তথ্য তৈরি হয়ে যায়। তা হলে এখনো দিচ্ছে না কেন? তথ্য-উপাত্ত নিয়ে রাজনৈতিকীকরণ বন্ধ হওয়া উচিত। কারণ, তথ্য-উপাত্ত দিয়ে নীতি ঠিক করা হয়। দুঃখজনক হলেও সত্য, দেশে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কারসাজি করা হচ্ছে, তথ্য ঢেকে রাখা হচ্ছে। ৯-১০ শতাংশ মূল্যস্ফীতি যা-ই হোক না কেন, এটা প্রকাশ করা উচিত। বিভিন্ন দেশ তাদের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করে ফেলছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আরও ৩ শতাংশের মতো মূল্যস্ফীতি বাড়বে।’

সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে গ্রাহকদের মূল টাকা (বিনিয়োগ) ও মুনাফা (সুদ) বাবদ পরিশোধ করা হয়েছে ৮৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারকে সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছর শেষে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর এ খাতে সরকারের নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৯১৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫২ দশমিক ৪৪ শতাংশ কম। ২০২০-২১ অর্থবছরে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকার ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ধরেছিল। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, লক্ষ্যের চেয়ে এই খাত থেকে ৩৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কম ঋণ নিয়েছে সরকার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ১৮৮ কোটি ২৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। এর মধ্যে আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল বাবদ ৭০ হাজার ২২৯ কোটি টাকা গ্রাহকদের পরিশোধ করা হয়। সে হিসাবে নিট বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা।

এর আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকার সঞ্চয়পত্র থেকে ১৪ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকার সবচেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছিল ২০১৬-১৭ অর্থবছরে, ৫২ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা।

সঞ্চয়পত্র খাতে সরকারকে যাতে বেশি সুদ পরিশোধ করতে না হয়, সে জন্য গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে দেয় সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম সুদের হার, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এক রকম হার এবং ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আরেক রকম হার নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে।

তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হারে সরকার হাত দেয়নি। অর্থাৎ আগে যে হারে সুদ পাওয়া যেত, এখনো সেই হারে পাওয়া যাবে। এর আগে ২০১৫ সালে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে ২ শতাংশের মতো কমিয়েছিল সরকার।

আগে বিক্রি হওয়া সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল গ্রাহকদের পরিশোধের পর যেটা অবশিষ্ট থাকে, তাকে বলা হয় নিট বিক্রি। ওই অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে সুদ দিতে হয়। এ কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ‘ঋণ’ বা ‘ধার’ হিসেবে গণ্য করা হয়।


আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে মুগ্ধ আইএমএফ

আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে মুগ্ধ আইএমএফ
ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত

আবদুর রহিম হারমাছি

বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির দ্রুত বিকাশের গল্প শুনে মুগ্ধ হয়েছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আন্তোয়েনেট এম সায়েহ।

তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ এগোচ্ছে। সমানতালে এগোচ্ছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি; উন্নত হচ্ছে আর্থিক সেবাদান প্রক্রিয়া। বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সাধারণ ব্যাপার। মানুষ ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখাবিহীন ব্যাংকিং এবং মোবাইল মানি ব্যবহারে অভ্যস্ত। এক দশকে দেশটির এই সাফল্য দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ। এ ক্ষেত্রে অনেক দেশের বাংলাদেশের কাছ থেকে শেখার আছে।’

গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির পথচলা নিয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারের তিনি এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আইএমএফের সদর দপ্তর থেকে ওয়েবিনারটি পরিচালনা করা হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আন্তোয়েনেট এম সায়েহ। বাংলাদেশ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার, মোবাইলে আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ নাজনীন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর চ্যাং ইয়ং রি। আরও দুটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিনিয়র আইএমএফের ইনস্টিটিউট ফর ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্টের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ তাও উ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান।

কেনিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর প্যাট্রিক নজোরোজসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দুই শর বেশি ব্যাংকার, অর্থনীতিবিদ ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিরা ওয়েবিনারে অংশ নেন।

‘ফিনটেক অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড দ্য কেস অব বাংলাদেশের ‘পিয়ার-লার্নিং সিরিজ’ শীর্ষক এই ওয়েবিনারে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন আইএমএফের ডিএমডি আন্তোয়েনেট এম সায়েহ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আজকের অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ। বাংলাদেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির যাত্রা শুরু হয় এক দশক আগে। এই সময়ে দেশটি বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সেবার মধ্যে আনতে সক্ষম হয়েছে। এই যাত্রা, যা প্রথম মাইক্রোক্রেডিট (ক্ষুদ্র ঋণ) দিয়ে শুরু হয়েছিল, তারপর থেকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির সব দিককে কভার করার জন্য বিকশিত হয়েছে। একদিকে যেমন সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। তেমনি ব্যবহার ও গুণমানের দিক দিয়েও অনেক দূর এগিয়ে গেছে দেশটি।’

‘বর্তমানে বাংলাদেশে আর্থিক লেনদেনের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি সাধারণ ব্যাপার। মানুষ ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং, শাখাবিহীন ব্যাংকিং এবং মোবাইল মানি ব্যবহারে অভ্যস্ত। অল্প সময়ের মধ্যে স্বপ্নের মতো এসব সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। যা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।’

এম সায়েহ বলেন, ‘সরকারি নীতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের উদ্যোগকে সক্ষম করেছে এবং নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তা করেছে। আর সুবিধাগুলো শুধু শহুরে এলাকার জন্যই নয়; কৃষি এবং গ্রামীণ খাতগুলোও নীতির জন্য অগ্রসর হয়েছে-যেমন ফ্লোর অন ক্রেডিট, যা রেয়াত শর্তে পুনঃঅর্থায়ন লাইন দ্বারা সমর্থিত।’

‘অবশ্যই, এই গতি বজায় রাখার জন্য সুবিধাকে আরও প্রসারিত করতে এবং লিঙ্গগত ব্যবধানগুলোকে দূর করতে আরও কাজ করা দরকার। তবে আমি অবশ্যই বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষকে তাদের সাম্প্রতিক আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলের সমৃদ্ধ নীতিমালার জন্য প্রশংসা করব, যা অগ্রাধিকার খাতে ঋণ বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে অর্থায়ন, লিঙ্গ অগ্রাধিকার, গ্রামীণ এলাকায় অর্থের সুবিধা এবং সবুজ অর্থায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোকে কভার করে।’

‘বাংলাদেশ ডিজিটাল অবকাঠামোতে উল্লেখযোগ্যভাবে বিনিয়োগ করেছে এবং সেই অবকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে অনেক নতুন কোম্পানির আবির্ভাব হয়েছে, যেগুলো সম্পর্কে আমি জেনে ও শুনে মুগ্ধ হয়েছি। ক্রেডিট ব্যুরো, সম্পদ নিবন্ধন, পেমেন্ট সিস্টেম এবং মাইক্রো-ফাইন্যান্স প্রতিষ্ঠানের মতো ক্ষেত্রগুলোকে ক্রমাগত জোর দেয়া আর্থিক পরিষেবার খরচ আরও কমিয়ে দেবে। এর মধ্যে কিছু অর্জনের জন্য বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতা করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। কিন্তু উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।’

‘বাংলাদেশকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আমি বলতে চাই, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৈষম্য হ্রাস করার ক্ষেত্রে বড় অবদান রাখে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার ক্ষমতা রাখে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাবিবুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ওয়েবিনারে আইএমএফের কর্মকর্তারা ছাড়াও সব দেশের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশে প্রশংসা করেছেন। আমি এতে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেছি। তাতে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির বিকাশের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।’

আইএমএফের ওয়েবসাইটে ওয়েবিনারটি সরাসরি প্রচার করা হয়।

ব্যাকিং সেবার বাইরে থাকা এবং সীমিত ব্যাংকিং সেবা পাওয়া জনগোষ্ঠীকে আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে ১০ বছর আগে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস খাত। ১০ বছরের পথচলায় এমএফএস খাতের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে অনেক অর্জন, যা দেশের সীমা ছাড়িয়ে বিশ্বের বুকে উদাহরণ তৈরি করেছে।

দেশের কোটি মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে এমএফএস খাতের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। এখন একজন গ্রাহক তার দৈনন্দিন প্রায় সব ধরনের আর্থিক লেনদেন এমএফএস দিয়েই করতে পারেন। টাকা যেখানে প্রয়োজন সেখান থেকেই ব্যবহারের এই অনন্যতার কারণেই এমএফএস বিপ্লব আনতে পেরেছে।

সরকারের সদিচ্ছা, বাংলাদেশ ব্যাংকের যথাযথ দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধান এবং সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরন্তর প্রচেষ্টায় গত এক দশকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থায় প্রভাব রাখতে সক্ষম হয়েছে এমএফএস। ২০১৩ সালে যেখানে বাংলাদেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির হার ছিল মাত্র ২০ শতাংশ, এমএফএস সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কল্যাণে ২০২১ সালে এসে তা বেড়ে ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়েছে।

১১ কোটির বেশি গ্রাহকসংখ্যা, দৈনিক আড়াই হাজার কোটি টাকার লেনদেন এবং ১১ লাখের বেশি এজেন্টের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক নিয়ে এমএফএস খাত বাংলাদেশের আর্থিক খাতের চেহারা বদলে দিচ্ছে।

অন্যদিকে ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। প্রায় সব ব্যাংক এখন এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রামের মানুষকেও ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে।