মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২২

করদাতার সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চায় এনবিআর

করদাতার সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চায় এনবিআর
করদাতার সংখ্যা দ্বিগুণ করতে চায় এনবিআর।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • আবু কাওসার

রাজধানী ঢাকার তালতলার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম সম্প্রতি জমি বিক্রি করে দশ লাখ টাকা পেয়েছেন। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসাবে সঞ্চয়পত্র কেনার কথা ভাবছেন তিনি। সঞ্চয় ব্যুরো অফিসে গিয়ে জানতে পেরেছেন এর জন্য আয়কর রিটার্ন জমার কপি দিতে হবে, যদিও তার করযোগ্য আয় নেই।

চলতি ২০২২-২৩  অর্থবছরের বাজেটে এমন ৩৮ ধরনের সেবা নিতে হলে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এতদিন এসব সেবা নিতে গেলে শুধু টিআইএন সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হতো। কিন্তু এখন টিআইএনের সঙ্গে রিটার্ন জমার প্রমাণপত্রও জমা দিতে হচ্ছে।

এই নিয়ম করা হয়েছে সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতে করনেট বা করজাল বাড়ানোর জন্য; যাতে যাদের সামর্থ্য আছে তারা যেন সবাই কর দেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দেশে এখন ২৪ লাখ লোক বার্ষিক আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন। চলতি বছরের মধ্যে এই সংখ্যা দ্বিগুণ করতেই ৩৮ ধরনের সেবা নিতে আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার প্রমাণ বাধ্যতামূলক করেছে এনবিআর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আগে শুধু করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দেখিয়ে জমি, ফ্ল্যাট নিবন্ধন, গাড়ি, ক্রয়সহ বিভিন্ন সেবা পাওয়া যেত। দেখা গেছে, সেবাগ্রহীতার অনেকেই রিটার্ন জমা দিত না। অথচ তাদের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে। সে জন্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে টিআইএনের সঙ্গে রিটার্নের প্রমাণাদি বা দলিলাদি জমা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে আশা করছি, এবার রিটার্নের সংখ্যা বর্তমানের চেয়ে কমপক্ষে দ্বিগুণ হবে।’

রাজস্ব বোর্ডের সবশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে টিআইএন ধারীর সংখ্যা ৭৬ হাজার। গত করবর্ষে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান মিলে মোট রিটার্ন জমা হয়েছে ২৪ লাখ। অর্থাৎ ৬৮ শতাংশই রিটার্ন জমা দেয়নি।

আলী হোসেন একজন ব্যবসায়ী। বসুন্ধরা শপিংমলে তার একটি কাপড়ের শোরুম আছে। ধরে নেয়া হয় তার করযোগ্য আয় আছে। এ বছর তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দেবেন। আইন অনুযায়ী, রিটার্নের সঙ্গে তাকে ব্যবসার আয়-ব্যয়ের বিবরণী জমা দিতে হবে।

রহমান শেখ একটি বেসরকারি ব্যাংকের উচ্চপদে চাকরি করেন। রিটার্নের সঙ্গে তাকে প্রমাণ হিসেবে বেতন বিবরণী, ব্যাংকে এফডিআর থাকলে তার বিবরণী, কোনো খাতে বিনিয়োগ থাকলে তার প্রমাণ দেখাতে হবে। যে প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা নেয়া হবে, সেখানেই এসব প্রমাণ দেখাতে হবে।

কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে এসব প্রমাণ সংগ্রহ করে না রাখে, তাহলে সেসব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হবে। একই সঙ্গে বেশি হারে কর কেটে রাখা হবে।

দেশে সাড়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যা থাকলেও নিয়মিত কর দেন মাত্র ১ শতাংশ। কত জন লোকের কর দেয়ার সামর্থ্য আছে তার কোনো সঠিক হিসাব এনবিআরের কাছে নেই। তবে মাথাপিছু আয় ও ক্রয়ক্ষমতার বিচারে বর্তমানে দেড় কোটি লোকের করযোগ্য আয় আছে বলে এনবিআর মনে করে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, যোগ্যদের বেশির ভাগই করের আওতার বাইরে এখনও।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ বড় শহরে যাদের বাড়ি, গাড়ি. ফ্ল্যাট আছে, তাদের প্রত্যেককে করনেটে এনে আদায় নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। 

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে যেসব সেবা নিতে আয়কর রিটার্নের প্রমাণ জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ৫ লাখ টাকার অধিক ঋণ, কোনো কোম্পানির পরিচালক বা স্পনসর শেয়ারহোল্ডার হতে, আমদানি ও রপ্তানির নিবন্ধন সনদ পেতে, সিটি করপোরেশন বা পৌর এলাকায় ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে, সমবায় সমিতির নিবন্ধন নিতে, বিমা বা সার্ভেয়ার হিসেবে তালিকাভুক্তি বা লাইসেন্সপ্রাপ্তি ও নবায়ন করতে।

সিটি করপোরেশন, জেলা সদরের পৌর এলাকা বা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এলাকায় জমি, ভবন বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি, রেজিস্ট্রেশন, দলিল হস্তান্তর, বায়না বা পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেয়ার ক্ষেত্রে যদি চুক্তিমূল্য ১০ লাখ  টাকার অধিক হয়, ব্যাংক থেকে ক্রেডিট কার্ড নিতে হলেও রিটার্নের প্রমাণ জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এ ছাড়া চিকিৎসক, ডেন্টিস্ট, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, হিসাবরক্ষক, প্রকৌশলী, স্থপতি বা সার্ভেয়ার বা যেকোনো পেশাদার সংগঠনের সদস্যপদ প্রাপ্তির জন্য, মুসলিম বিবাহ ও তালাক আইনের অধীনে বিবাহ নিবন্ধক হিসেবে লাইসেন্স পেতে হলে, কোনো ব্যবসায়ী বা পেশাজীবী সংগঠনের সদস্যপদ পেতে হলে, ড্রাগ লাইসেন্স, অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স, পরিবেশ ছাড়পত্র, বিএসটিআই লাইসেন্স প্রাপ্তি বা নবায়ন করতে হলে। আবাসিক, বাণিজ্যিক ও শিল্পের জন্য গ্যাস সংযোগ পেতে হলে। ভাড়ায় চালিত লঞ্চ, স্টিমার, মাছ ধরা জলযান, ট্রলার, কার্গো, কোস্টার এবং বার্জের জন্য সার্ভে সার্টিফিকেট পেতে এবং জেলা প্রশাসন বা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ইট তৈরির অনুমতি পেতে রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে।

সিটি করপোরেশন বা জেলা সদর পৌরসভায় সন্তান বা পোষ্যকে আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে বা জাতীয় পাঠ্যক্রমের অধীনে ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি করতে হলে, সিটি করপোরেশন বা সেনানিবাস এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে। কোনো কোম্পানির ডিস্ট্রিবিউটরশিপ বা এজেন্টশিপ পেতে, অস্ত্রের লাইসেন্স পেতে, আমদানির উদ্দেশ্যে ঋণপত্র খুলতে, ৫ লাখ টাকার বেশি পোস্টাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট খুলতে, ১০ লাখ টাকার বেশি ক্রেডিট ব্যালেন্সসহ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে এবং ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র কিনতে রিটার্নের প্রমাণ জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন বা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে। মোটরগাড়ি, জমি, বাসস্থান বা যেকোনো স্থাবর সম্পদ সংশ্লিষ্ট অংশীদারত্ব ব্যবসা করতে। কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন নেয়ার সময়, সরকার বা সরকারি কোনো সংস্থা, করপোরেশন থেকে ‘বেতন’ শিরোনামে মূল বেতন হিসেবে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পাওয়ার সময়, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক উপায়ে অর্থ স্থানান্তরে কোনো কমিশন, ফি জাতীয় অর্থ পেতে, পরামর্শক, ক্যাটারিং, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, জনবল সরবরাহ বা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে অর্থ গ্রহণ করতে, সরকারের কাছ থেকে মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার (এমপিও) হিসেবে প্রতি মাসে ১৬ হাজার বা তার বেশি টাকা পেতে এবং বিমা কোম্পানির এজেন্সি হিসেবে নিবন্ধন  করতেও রিটার্নের প্রমাণ জমা দিতে হবে।

একই সঙ্গে দুই বা তিন চাকা ছাড়া যেকোনো ধরনের মোটরগাড়ি নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়ন করতে, কোনো এনজিওকে বা মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির অধীনে কোনো মাইক্রো ক্রেডিট সংস্থার কাছে বিদেশি অনুদানে ছাড় দেয়ার ক্ষেত্রে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কোনো পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে, কোনো ক্লাবের সদস্যপদ পেতে, পণ্য সরবরাহ, চুক্তি সম্পাদন বা সেবা প্রদানের জন্য টেন্ডারের কাগজপত্র জমা দেয়ার ক্ষেত্রে, আমদানি বা রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ থেকে বিল অব এন্ট্রি জমা দেয়ার ক্ষেত্রে এবং ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকসহ চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জমা দেয়ার ক্ষেত্রে রিটার্নের প্রমাণ জমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক

টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক
টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সিটি ব্যাংক এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম (টিএসসিএফপি) অ্যাওয়ার্ডস ২০২২-এ ‘লিডিং পার্টনার ব্যাংক ইন বাংলাদেশ’-এ ভূষিত হয়েছে। এবারেরটি নিয়ে এই ব্যাংক টানা তিনবার ‘লিডিং পার্টনার ব্যাংক’ হিসেবে সম্মানিত হলো। এর আগে ২০১৯ সালে এডিবির অংশীদারিত্ব কর্মসূচীতে লেনদেনে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ‘মোমেন্টাম অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল সিটি ব্যাংক।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ১৫০ জন অংশীদার ব্যাংক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এডিবি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। সিটি ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস হাসান শরীফ আহমেদ এডিবির ট্রেড এবং সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সের প্রধান স্টিভেন বেকের কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জুলাই ১, ২০২১ থেকে জুন ৩০, ২০২২ সময়ের জন্য এডিবির সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বেশি ট্রেড লেনদেনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ক্ষুদ্র মাঝারি এবং বড় ব্যবসায়ের পাশাপাশি ট্রেড অর্থায়নে এডিবির সাথে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে সিটি ব্যাংক।

সিটি ব্যাংক ২০১৬ সাল থেকে এডিবি-র টিএসসিএফপি প্রোগ্রামের অধীনে ইস্যুয়িং ব্যাংক হিসাবে অংশগ্রহণ করছে। এডিবি তাদের টিএসসিএফপি প্রোগ্রামের অধীনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমর্থনকারী অংশীদার ব্যাংকগুলিকে গ্যারান্টি এবং বাণিজ্য ঋণ প্রদান করে। টিএসসিএফপি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এডিবি-র উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলিতে ২৪০টিরও বেশি ব্যাংকের সাথে কাজ করে। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির অধীনে মোট ১৬টি ব্যাংক এডিবির সদস্য।

এডিবির পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রæপ, ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব অস্ট্রিয়া, নরওয়ে ভিত্তিক নরফান্ড, নেদারল্যান্ডের এফএমওসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে সিটি ব্যাংক। এই শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদার সংযোগের মাধ্যমে যে কোন ধরনের বড় অর্থায়ন এবং লেনদেনে এগিয়ে আছে ব্যাংকটি। উল্লেখ্য, এ বছর সিটি ব্যাংক আইএফসি’র গ্লোবাল ট্রেড ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের অধীনে ‘দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ইস্যুয়িং ব্যাংক’ পুরস্কারও জিতেছে। বিজ্ঞপ্তি


বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে জাপান

বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে জাপান
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

অবশেষে বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে জাপান। করোনা মহামারির কারণে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জাপানে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে পর্যটকরা ভিসা ছাড়াই দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন, লাগবে না কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তাও। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রবেশ করা পর্যটকের পরিমাণের সীমাও তুলে দেয়া হবে। খবর বিবিসির।

তাইওয়ান এবং হংকং তাদের দেশে পর্যটক প্রবেশের নিয়ম শিথিল করার পরপরই জাপান এ রকম ঘোষণা দিল। তাইওয়ান অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ আন্তর্জাতিক আগমনের জন্য কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজনীয়তা বাদ দেয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে গত শুক্রবার হংকং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের বদলে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, ‘জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিল করবে।’

দেশটি জুন থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাদের কোনো ট্যুরের অংশ হতে হতো।

কিশিদা জাপানে ভ্রমণের জন্য একটি প্রণোদনা স্কিমও ঘোষণা করেছেন। যার মাধ্যমে ভ্রমণ করলে থিম পার্ক, ক্রীড়া ইভেন্ট এবং কনসার্টে ছাড় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জাপানের নাগরিক এবং বাসিন্দারা ১১ হাজার ইয়েন ভর্তুকি পাবে বলে জানা গেছে।

অন্য দেশগুলোতেও একই রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, যাতে মানুষ ব্যয় করতে আগ্রহ পায় এবং অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পায়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি এশিয়ার সর্বশেষ শক্তিশালী দেশ যারা কোভিড স্বাস্থ্য উদ্বেগের জন্য সীমানা বন্ধ রেখেছিল। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম জাপানে এবং টিকাদানের হার সবচেয়ে বেশি।

মহামারির আগের বছর ২০১৯ সালে প্রায় ৩২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় অনেক বিদেশি জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত রয়েছে।


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

  • সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এই তিন বাধা দূর করতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে।

বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সংস্কার না হলে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির কাঠামো টেকসই নয়। ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। কিন্তু এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। অর্থনীতির তেজিভাব কখনো স্থায়ী প্রবণতা নয়। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সব সময় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। তবে কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। শীর্ষ ১০-এ থাকা দেশগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ পরের দশকেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক দশকে (২০১০-১৯) যেসব দেশ শীর্ষ ১০-এ ছিল, সেসব দেশ আগের দশকে শীর্ষ ১০-এ ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক কিছু সুপারিশ করেছে। যেমন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শুল্ক-করহার অন্য দেশের তুলনায় বেশি, যে কারণে বাণিজ্য সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কিন্তু দেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্য দিকে আধুনিক নগরায়ণই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বাংলাদেশ সফরে এসে বলেন, ‘বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অনিশ্চয়তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সম্প্রসারণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংস্কারে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।’

মার্টিন রেইজার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হলো একটি উন্নয়ন সাফল্যের গল্প। ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বিশ্বব্যাংক গর্বিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা অর্জনে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই হওয়া নিশ্চিতকরণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করার বিষয়ে সময়োপযোগী নীতি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) তৈরি করছে বিশ্বব্যাংক। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত কয়েক দশকের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকের উন্নতি হয়েছে। কোভিড মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে।


বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল মিলছে না

বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল মিলছে না
চিনি ও পাম তেল।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বীর সাহাবী

সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী জানেনই না এ দুটি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার খবর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। যা গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হলেও সে নির্দেশনা অনুযায়ী পাম সুপার খোলা তেল ও চিনি বিক্রি করছেন না দোকানিরা।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মহাখালীসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেঁধে দেয়া এ দুটি পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

দেখা যায়, পাম সুপার তেল সেই আগের দাম ১৪৫ টাকা লিটারেই বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা চিনি ৯০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল বিক্রি করছেন না- এ প্রশ্নে কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো দাম নির্ধারণ করি না। দাম যারা নির্ধারণ করে তারাই এসব বিষয়ে বুঝবে। আমরা বেশি দাম দিয়ে কিনেছি, তাই সে দামেই বিক্রি করব। আমাদের কাছে এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, দেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সবাই তড়িঘড়ি করে দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু যখন সে পণ্যের দাম কমার ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে, তখন আর কেউ সহজে দাম কমাতে চান না। বিগত দিনগুলোতে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানকে। তার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। তার পরও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বেশি মূল্যে পণ্য কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের; সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি হিসাব-নিকাশ করে চিনি ও পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু সে মূল্যে কোনো ব্যবসায়ী এই দুটি পণ্য বিক্রি করছেন না।

দাম বাড়লে তা সরকারি নির্দেশনা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে কমে যেতে হবে এমন কোনো আইন নেই বলে মনে করেন মহাখালীর এক খুচরা দোকানি। মফিজ উদ্দিন নামে এ বিক্রেতা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মূল্য সরকারিভাবে বাড়ানো হয়েছিল। আমরা সে অনুযায়ীই বিক্রি করছি। এখন আজ থেকে আবার কমার সিদ্ধান্ত দেয়া আছে শুনেছি। কমার সিদ্ধান্ত দিলেই কি সঙ্গে সঙ্গে কমিয়ে ফেলতে হবে? সিদ্ধান্ত নিছে কমার, তা আস্তে আস্তে কমবে।’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শাখা দুটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে; যা গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পাম সুপার তেল প্রতি লিটার খুচরায় সর্বোচ্চ ১৩৩ টাকা; যা এত দিন ১৪৫ টাকায় নির্ধারিত ছিল। মিল গেটে পাম তেল প্রতি লিটার ১২৮ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে পরিশোধিত খোলা চিনি প্রতিকেজি ৮৪ টাকা এবং প্যাকেট চিনি প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ৮৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে খোলা চিনি ৯০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিল গেটে খোলা চিনি প্রতিকেজি ৭৯ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে প্যাকেটজাত চিনি মিল গেটে ৮২ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার ‘দ্য কন্ট্রোল অব অ্যাসেনসিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট-১৯৫৬’ এর ক্ষমতাবলে মিল গেট, পরিবেশক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেল, চিনির দাম নির্ধারণ করল।

এর আগে বিভিন্ন সময় তেল ও চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সবশেষ বাজার বিশ্লেষণ করে চিনি ও পাম তেলের দাম কমিয়ে ঠিক করে দেয়া হলো।

চাল, লবণসহ অত্যাবশ্যকীয় অন্তত ৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হবে বলে চলতি মাসের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকশি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, আমাদের নির্ধারিত মূল্যেই পাম তেল ও চিনি বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয় মূল্য কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। বেঁধে দেয়া নতুন দর অনুযায়ী, খুচরায় চিনির মূল্য কেজিতে ৬ টাকা এবং পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকার মতো কমেছে। তবে এ মূল্যের বাইরে যদি কোনো ভোক্তা কেনাকাটা করে তাহলে সে আইন অনুযায়ী ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোক্তা জরিমানার ২৫ শতাংশ ফেরত পাবে।’

ভোক্তার অভিযোগ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান লতিফ বকশি।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার শুধু মূল্য বেঁধে দিলে হবে না, বাজার তদারক করতে হবে; মনিটর করতে হবে। যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে, সেই মূল্যে ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে পণ্য বিক্রি করে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করাকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ‘শুভ সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পরে প্রথম কোনো দৃশ্যমান কাজ করল প্রতিযোগিতা কমিশন। কিছু করল বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমিশন। আর এই কাজকে শুভ সূচনা বলে আমি মনে করি।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’


জনশক্তি রপ্তানি কমার শঙ্কা

জনশক্তি রপ্তানি কমার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • ডলারের মূল্যবৃদ্ধি

আবদুর রহিম হারমাছি

টাকার বিপরীতে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দর অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও জনশক্তি রপ্তানিতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এত দিন একজনের সৌদি আরব যেতে বিমান ভাড়া ২৫ খেতে ৩০ হাজার টাকা লাগত, সেই ভাড়া এখন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো লাগছে। অন্যান্য খরচও বেশি লাগছে। সব দেশেই একই হারে খরচ বেড়েছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিদেশ যেতে ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর কাজের সন্ধানে বিদেশে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকে। সবাই অপেক্ষা করছেন, ডলারের দাম কমলে বিদেশ যেতে খরচ কমবে; তখন যাবেন। সে কারণে জনশক্তি রপ্তানিতে যে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, সেটা কমে এসেছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি ২০২২ সালের প্রথম ৮ মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) প্রায় ৮ লাখ জনকে বিদেশে কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মাসে ১ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়েছে ৪ বার। জানুয়ারিতে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৮ জনের, ফেব্রুয়ারিতে ৯২ হাজার ৫৯৬ জনের, মার্চে ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৬ জনের, এপ্রিলে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৫ জন, মে মাসে ৭৭ হাজার ৪২১ জন, জুন মাসে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৩৯ জন এবং জুলাই মাসে হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৯৯ জনের। সবশেষ আগস্ট মাসে ৯২ হাজার ৯০৮ জন বিভিন্ন দেশে গেছেন কাজের সন্ধানে।

একক মাসের হিসাবে সর্বাধিক কর্মী পাঠানোর রেকর্ড হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১৬ জন কাজ নিয়ে বিভিন্ন দেশে গেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে এত বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়নি।

বিএমইটির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বছরের হিসাবে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয় ২০১৭ সালে, ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছরে সেই রেকর্ড ভেঙে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে কাজের জন্য বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় বিদেশে যেতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেটা আর সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘বেশ ভালো উল্লম্ফন হয়েছিল জনশক্তি রপ্তানিতে। আমরা আশা করেছিলাম, এ বছর আমাদের জনশক্তি রপ্তানি ১২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। আট মাসের তথ্য সেটাই বলছিল। কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব হবে না। তবে বছর শেষে ১১ লাখের মতো হবে। তবুও কিন্তু রেকর্ড হবে। এর আগে আমরা এক বছরে ১০ লাখের কিছু বেশি জনশক্তি রপ্তানি করেছিলাম।’

মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা যেখানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিদেশে যেতে পারত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেই টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো লাগছে। কখনো কখনো ১ লাখ টাকাও লাগছে। যারা বিদেশ যাচ্ছেন তাদের একটা ধাক্কা দিয়েছে। কেননা, যারা কাজের জন্য বিদেশে যান, তারা নিম্নবিত্ত অথবা নিম্নমধ্যবিত্ত। নানাভাবে ধারদেনা করে অথবা জমিজমা বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে তারা বিদেশে যান। খরচ বাড়ায় তারা এখন আর যেতে পারছেন না। বিষয়টি আমাদেরও হতাশ করেছে। জানি না কবে ডলারের দাম কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ যদি না থাকত তা হলে আমাদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়টা আরও গতিশীল হতো। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আরও বেশি আসত। ইউরোপের মার্কেটে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘তবে অতীতে যারা বিদেশে গেছেন ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে তারা কিন্তু উপকৃত হচ্ছেন। পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি করে টাকা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু যারা নতুন করে বিদেশ যাচ্ছেন বা যেতে চাচ্ছেন তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে। আগে বিমান ভাড়া ছিল ২৫-৩০ হাজার টাকা। সেই ভাড়াটা এখন ৭০, ৮০, ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তারা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যারা নতুন করে যাচ্ছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত আর যারা আগে গেছেন, ১ কোটি ২০ হাজারের মতো লোক, বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন, তারা কিন্তু উপকৃত হচ্ছেন।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির বর্তমান ধারা বজায় রেখে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণ বেগবান করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে যেতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অনেকে যেতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে, সরকার কিছু ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিয়ে হলেও বিদেশে লোক পাঠানো অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা, এই সংকটের সময়ে রেমিট্যান্সই কিন্তু অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে। এটা যে করেই হোক অব্যাহত রাখতে হবে।’

বিএমইটি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৮ মাসে বিশালসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তারা মূলত গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ- সৌদি আরব, ওমান ও আরব আমিরাতে। ৮ লাখের ৮০ শতাংশের বেশি গেছেন এই ৩ দেশে।

১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ বাংলাদেশি কাজ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান। এদের মধ্যে অবশ্য অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন। অনেকে আবার বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন। সবমিলিয়ে এখন ১ কোটি ২০ লাখের মতো প্রবাসী বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন।

২০১৯ সালে মহামারি করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। মহামারির আগের বছর ২০১৯ সালে ৭ লাখ ১৫৯ জন কর্মী কাজ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। করোনার ধাক্কায় ২০২০ সালে তা ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৯ জনে নেমে আসে। গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে অবশ্য তা বেড়ে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ জনে দাঁড়ায়।