সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২

সোয়া ১১ টাকার’ দাম পাঁচ টাকা!

সোয়া ১১ টাকার’ দাম পাঁচ টাকা!
মিউচুয়াল ফান্ডের চিত্র।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • ওয়াসেক বিল্লাহ ও আসাদুজ্জামান নূর

বিষয়টা বিস্ময়কর হলেও বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে এটি একটি নিয়মিত ঘটনা।

তালিকাভুক্ত বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ডই তার ইউনিটের সম্পদমূল্যের তুলনায় অর্ধেক বা তার চেয়ে বেশি কমে লেনদেন হচ্ছে। অথচ এটি সম্পদমূল্যের বেশি বা কাছাকাছি লেনদেন হওয়াই সমীচীন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারের চিত্র তাই।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৬টি মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে বেশির ভাগের দরই এখন ইউনিট মূল্যের কমে বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে আটটি ফান্ডের দর সম্পদমূল্যের অর্ধেকের কম বা অর্ধেকের কাছাকাছি। তিনটি ফান্ডের দর সম্পদমূল্যের তুলনায় ৪০ শতাংশের বেশি-কম। আটটির দর ৩০ শতাংশ বা তার চেয়ে বেশি কম।

২০১০ সালের মহাধসের পর মাঝে ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত চার বছর বাদ দিলে বাকি সময় মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর লভ্যাংশ আহামরি কিছু ছিল না। এর কারণ, পুঁজিবাজারের পতনে পর্যাপ্ত আয় না হওয়া।

তবে ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় থেকে পুঁজিবাজারে যে উত্থান দেখা দিয়েছে, তাতে তালিকাভুক্ত ও পুঁজিবাজারের বাইরের মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর আয় বাড়ে ব্যাপক হারে। সেই সঙ্গে বাড়ে লভ্যাংশ।

তবে দারুণ লভ্যাংশের পর চলতি বছর বাজার ধসের মধ্যে ফান্ডগুলো তাদের আয়ের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেনি। এতে ফান্ডগুলো দর হারিয়েছে অনেকটাই। ফলে গত বছর ভালো লভ্যাংশ নিয়েও বিনিয়োগকারীরা লোকসানে আছেন।

তবে গত এক বছরে বাজারে মন্দাভাবের মধ্যেও জুনে অর্থবছর সমাপ্ত বেশিরভাগ ফান্ডই তার ইউনিট মূল্যের তুলনায় এত ভালো লভ্যাংশ দিয়েছে যে, ডিভিডেন্ড ইল্ড যেকোনো সঞ্চয়ী স্কিমের চেয়ে ভালো।

বেশির ভাগ ফান্ডই এখন তার ফ্লোর প্রাইসের কাছাকাছি লেনদেন হচ্ছে। ফলে যে লভ্যাংশ পাওয়া যাবে, তা অনেকাংশেই ফ্রি হয়ে যাবে।

বিষয়টি দেখা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি পরিচালিত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর ক্ষেত্রে। প্রায় সব কটি ফান্ড ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হচ্ছিল।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসিও চাইছে এই ফান্ডগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করতে। বর্তমানে ১৫ হাজার কোটি টাকার ফান্ড রয়েছে পুঁজিবাজার ও বাইরে। এটি দেড় লাখ কোটি টাকায় নিতে নানা সুযোগ-সুবিধা দেয়ার কথাও ঘোষণা করেছে বিএসইসি।

মিউচুয়াল ফান্ডগুলো ভালো করতে পারে না- এমন একটি ধারণার মধ্যে চলতি বছর এগুলোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করলে দেখা যায়, এই ধারণা সঠিক নয়।

২০২১ সালের প্রথম কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইর সার্বিক সূচক ছিল ৬ হাজার ২১৯ পয়েন্ট, যা অর্থবছর শেষে গত ৩০ জুন ছিল ৬ হাজার ৩৭৬ পয়েন্ট। এক বছরে বেড়েছে ২.৫২ শতাংশ। তবে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটধারীরা লভ্যাংশ পেয়েছেন এর চেয়ে অনেক বেশি।

কেবল এই পরিসংখ্যানে বোঝা যাবে না, গত এক বছরে পুঁজিবাজারে কতটা কঠিন সময় গেছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইসির সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স ৭ হাজার ৩০০ পয়েন্ট পেরিয়ে যখন ৮ হাজারের পথে ছোটার স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল, তখন শুরু হয় দীর্ঘ দর সংশোধন।

চলতি বছরের শুরুর দিকে বাজার আপন গতিতে ফেরার আশা তৈরি করেও শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক বিপর্যয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা সিদ্ধান্ত, এরপর ইউক্রেনে রুশ হামলার পর অর্থনীতির চাপে পড়ার মধ্যে বাজারে নামে ধস।

এই বাজার ধসের মধ্যেও জুনে সমাপ্ত অর্থবছরে লভ্যাংশ ঘোষণা করা কোনো মিউচুয়াল ফান্ডই এবার আশাহত করেনি। এমনকি বাজার দরে ৭ টাকা ২০ পয়সা, এমন ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ১ টাকা ১০ পয়সা, বাজারদর ৯ টাকা ৮০ পয়সা, এমন ফান্ড লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে ১ টাকা ৫০ পয়সা।

কেন এমন হচ্ছে

মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে আগ্রহ না থাকার তিনটি সম্ভাব্য কারণ উল্লেখ করেছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের পরিচালক শাকিল রিজভী। তিনি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘একটি কারণ হতে পারে বিনিয়োগকারীরা হয়তো সম্পদমূল্যের বিষয়টি আস্থা রাখছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি বিনিয়োগ করতে হলে বিবেচনায় নেব যে, এই নেট অ্যাসেট ভ্যালুর আন্ডারলাইনে কী সম্পদ আছে? সে ভালো জিনিস কিনে রেখেছে নাকি বিশ শতাংশ চলে যাবে এ রকম কিছু কিনেছে।’

তিনি দ্বিতীয় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন নিয়মিতভাবে লভ্যাংশ না পাওয়া। শাকিল রিজভী বলেন, ‘যদি এমন হতো এবার দশ শতাংশ দিয়েছে, পরেরবার ১১, তারপর ১৫ দিচ্ছে, তাহলে আস্থা থাকত। কিন্তু দেখা যায়, এবার ১০ দিয়ে পরের বার নেই। তার পরের বার থেকে ধারাবাহিকতা থাকে না।’

তবে এ বছর ফ্লোর প্রাইসের কারণে মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা অন্যবারের চেয়ে তুলনামূলক বেশি লাভবান হবেন বলে মনে করেন তিনি। বলেন, 'আমাদের দেশে ঘোষিত লভ্যাংশের পুরোটা সমন্বয় হয়, কিন্তু ফ্লোর প্রাইজের কারণে মিউচুয়াল ফান্ডের লভ্যাংশ পুরোটা সমন্বয় হতে পারবে না। এ ছাড়াও ফান্ডটি যদি ভালো পারফর্ম করে এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি সুযোগ রয়েছে।'

বিএলআই সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, 'একটা শেয়ারের এনএভি ১২ টাকা তারপরও মানুষ ৭ টাকায় কিনতে চায় না কেন? কারণ, এটার বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। সঠিক বিনিয়োগ সম্পর্কে জানে না তাই রিস্ক নেয় না, এই আরকি।'

সম্পদের অর্ধেক দরে যেসব ফান্ড

এই তালিকার শীর্ষে আছে এফবিএফআইএফ: ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের সম্পদমূল্য ১১ টাকা ২৭ পয়সা। পুঁজিবাজারে ইউনিট দর ৫ টাকা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় দাম ৫৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ কম।

এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: প্রতি ইউনিটে সম্পদমূল্য ১১ টাকা ১৭ পয়সা। বিপরীতে ইউনিট মূল্য ৫ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদের তুলনায় ইউনিট দর কম ৫৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

পপুলার লাইফ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: ১০ টাকা ৮৬ পয়সা সম্পদমূল্যের বিপরীতে ফান্ডটির বাজারদর ৫ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ইউনিটের বাজারদর কম ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ।

আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: ফান্ডটির ইউনিট মূল্য এখন ৫ টাকা ১০ পয়সা। আর সম্পদমূল্য ১০ টাকা ৮২ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের ৫২ দশমিক ৮৬ শতাংশে লেনদেন হচ্ছে একেকটি ইউনিট।

পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: ৫ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে প্রতি ইউনিট। ইউনিটপ্রতি সম্পদ আছে ১০ টাকা ৮৭ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদের তুলনায় দাম কম ৫২ দশমিক ১৬ শতাংশ।

ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: ইউনিট দর এখন ৫ টাকা ৬০ পয়সায়। এর সম্পদমূল্য ১১ টাকা ৩৬ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদের চেয়ে বাজারদর কম ৫০ দশমিক ৭০ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইস ৫ টাকা ৮০ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। প্রতি ইউনিটের বিপরীতে সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ২০ পয়সায়। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ৪৮ দশমিক ২১ শতাংশ কমে লেনদেন হচ্ছে ইউনিট।

এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: ফান্ডটির ইউনিট দর ৬ টাকা ৬০ পয়সার বিপরীতে সম্পদমূল্য ১০ টাকা ৬০ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদের চেয়ে ৪৭ দশমিক ১৬ শতাংশ কমে যাওয়া যাচ্ছে ইউনিট।

৪০ শতাংশের বেশি কমে যেগুলো

এলআর গ্লোবাল ওয়ান ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: এই ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের বিপরীতে সম্পদ রয়েছে ১১ টাকা ৯ পয়সার। কিন্তু বাজারদর ৬ টাকা ৪০ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের ৪৬ দশমিক ২১ শতাংশ কমে পাওয়া পাচ্ছে।

ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড: ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের বিপরীতে সম্পদ রয়েছে ১১ টাকা ৬১ পয়সা। এখন দাম ৬ টাকা ৫০ পয়সায়। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ৪৪ দশমিক ০১ শতাংশ কমে লেনদেন হচ্ছে একেকটি ইউনিট।

জনতা ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: এই ফান্ডটির ইউনিটপ্রতি সম্পদ আছে ১০ টাকা ৭০ পয়সা। কিন্তু বাজার দর ৬ টাকা ১০ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ইউনিট মূল্য কম ৪২ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

৩০ শতাংশের বেশি কমে যেগুলো

এনসিসি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

ফান্ডটির বর্তমান বাজারমূল্য ৭ টাকার বিপরীতে সম্পদমূল্য ১১ টাকা ৩১ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ৩৮ দশমিক ১০ শতাংশ কমে পাওয়া যাচ্ছে।

গ্রিন ডেল্টা মিউচুয়াল ফান্ড

ফান্ডটির বর্তমান সম্পদমূল্য ১০ টাকা ৭৯ পয়সা। ফ্লোর প্রাইস ৬ টাকা ৯০ পয়সায় নেমে এসেছে দর। বাজারদর এর সম্পদমূল্যের চেয়ে ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ কম।

আইএফআইএল ইসলামী মিউচুয়াল ফান্ড

ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের সম্পদমূল্য ৯ টাকা ৯৬ পয়সা অথচ কেনা যাচ্ছে ৬ টাকা ৪০ পয়সায়, অর্থাৎ ৩৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ কমে।

ভ্যানগার্ড এএমএল বিডি ফাইন্যান্স মিউচুয়াল ফান্ড

ফান্ডটির বর্তমান দর ৭ টাকা ৪০ পয়সা আর সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১১ টাকা ৫৩ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদের চেয়ে বাজারদর কম ৩৫ দশমিক ৮১ শতাংশ।

ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

এটির ইউনিটদর ৬ টাকা ৯০ পয়সা। আর এর সম্পদ মূল্য ১১ টাকা ২ পয়সা।

অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে লেনদেন হচ্ছে একেকটি ইউনিট।

আইসিবি থার্ড এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড

ফান্ডটির ফ্লোর প্রাইস ৬ টাকা ৫০ পয়সা, লেনদেন হচ্ছে এই দরেই। অথচ ইউনিটপ্রতি সম্পদ আছে ৯ টাকা ৮০ পয়সা। অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় বাজার মূল্য কম ৩৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

ভ্যানগার্ড রূপালী ব্যাংক মিউচুয়াল ফান্ড

ফান্ডটির দর ফ্লোর প্রাইস ৭ টাকা ৪০ পয়সায় অবস্থান করছে। বিপরীতে প্রতি ইউনিটের সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১০ টাকা ৬১ পয়সায়। অর্থাৎ সম্পদের চেয়ে বাজারদর কম ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ।

ইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

সম্পদ মূল্য ১০ টাকা ৬১ পয়সার বিপরীতে সোমবার লেনদেন হয়েছে ফ্লোর প্রাইস ৭ টাকা ৪০ পয়সায়।

অর্থাৎ সম্পদমূল্যের তুলনায় ৩০ দশমিক ২৫ শতাংশ কমে লেনদেন হচ্ছে একেকটি ইউনিট।

২০ শতাংশের বেশি কমে যেগুলো

এ ছাড়া আইসিবি এমপ্লয়ি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড সম্পদমূল্যের চেয়ে ২৯ দশমিক ৭০ শতাংশ, এআইবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২৮ দশমিক ১৪ শতাংশ, রিলায়েন্স ওয়ান মিউচুয়াল ফান্ড ২৭ দশমিক ২২ শতাংশ, এসএমইএল এফবিএসএল গ্রোথ ফান্ড ২৭ দশমিক ০১ শতাংশ, গ্রামীণ টু ২৬ দশমিক ৪৬ শতাংশ প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট আইসিবি এএমসিএল মিউচুয়াল ফান্ড ২৬ দশমিক ৩১ শতাংশ, আইসিবি সোনালী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড ২৫ দশমিক ৭১ শতাংশ, এসএমইএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ, আইসিবি অগ্রণী ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট সম্পদমূল্যের চেয়ে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

আইসিবি এএমসিএল সেকেন্ড মিউচুয়াল ফান্ড, এসএমইএল লেকচার ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট ফান্ড, এশিয়ান টাইগার সন্ধানী লাইফ গ্রোথ ফান্ডের ইউনিটদর এর সম্পদমূল্যের চেয়ে ১১ থেকে ১৯ শতাংশ কমে বিক্রি হচ্ছে।

তিনটি ফান্ডের সম্পদের চেয়ে ইউনিটদর বেশি

ফার্স্ট প্রাইম ফাইনান্স মিউচুয়াল ফান্ড সম্পদমূল্যের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড, সম্পদমূল্যের তুলনায় ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ এবং ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড সম্পদমূল্যের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশিতে লেনদেন হচ্ছে।


টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক

টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক
টানা চতুর্থবার এডিবি-র পুরস্কার পেল সিটি ব্যাংক
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সিটি ব্যাংক এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) কর্তৃক ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রাম (টিএসসিএফপি) অ্যাওয়ার্ডস ২০২২-এ ‘লিডিং পার্টনার ব্যাংক ইন বাংলাদেশ’-এ ভূষিত হয়েছে। এবারেরটি নিয়ে এই ব্যাংক টানা তিনবার ‘লিডিং পার্টনার ব্যাংক’ হিসেবে সম্মানিত হলো। এর আগে ২০১৯ সালে এডিবির অংশীদারিত্ব কর্মসূচীতে লেনদেনে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে ‘মোমেন্টাম অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছিল সিটি ব্যাংক।

সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে ১৫০ জন অংশীদার ব্যাংক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এডিবি বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। সিটি ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস হাসান শরীফ আহমেদ এডিবির ট্রেড এবং সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্সের প্রধান স্টিভেন বেকের কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।

জুলাই ১, ২০২১ থেকে জুন ৩০, ২০২২ সময়ের জন্য এডিবির সাথে যৌথভাবে বাংলাদেশে রেকর্ডকৃত সবচেয়ে বেশি ট্রেড লেনদেনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই মর্যাদাপূর্ণ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এই সময়ের মধ্যে ক্ষুদ্র মাঝারি এবং বড় ব্যবসায়ের পাশাপাশি ট্রেড অর্থায়নে এডিবির সাথে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছে সিটি ব্যাংক।

সিটি ব্যাংক ২০১৬ সাল থেকে এডিবি-র টিএসসিএফপি প্রোগ্রামের অধীনে ইস্যুয়িং ব্যাংক হিসাবে অংশগ্রহণ করছে। এডিবি তাদের টিএসসিএফপি প্রোগ্রামের অধীনে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সমর্থনকারী অংশীদার ব্যাংকগুলিকে গ্যারান্টি এবং বাণিজ্য ঋণ প্রদান করে। টিএসসিএফপি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এডিবি-র উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলিতে ২৪০টিরও বেশি ব্যাংকের সাথে কাজ করে। বাংলাদেশে এই কর্মসূচির অধীনে মোট ১৬টি ব্যাংক এডিবির সদস্য।

এডিবির পাশাপাশি ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (আইএফসি), ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক গ্রæপ, ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক অব অস্ট্রিয়া, নরওয়ে ভিত্তিক নরফান্ড, নেদারল্যান্ডের এফএমওসহ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য আর্থিক উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে সিটি ব্যাংক। এই শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অংশীদার সংযোগের মাধ্যমে যে কোন ধরনের বড় অর্থায়ন এবং লেনদেনে এগিয়ে আছে ব্যাংকটি। উল্লেখ্য, এ বছর সিটি ব্যাংক আইএফসি’র গ্লোবাল ট্রেড ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের অধীনে ‘দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ইস্যুয়িং ব্যাংক’ পুরস্কারও জিতেছে। বিজ্ঞপ্তি


বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে জাপান

বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলছে জাপান
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

অবশেষে বিদেশি পর্যটকদের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে জাপান। করোনা মহামারির কারণে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে জাপানে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ ছিল। আগামী ১১ অক্টোবর থেকে পর্যটকরা ভিসা ছাড়াই দেশটিতে ভ্রমণ করতে পারবেন, লাগবে না কোনো ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তাও। এ ছাড়া প্রতিদিন প্রবেশ করা পর্যটকের পরিমাণের সীমাও তুলে দেয়া হবে। খবর বিবিসির।

তাইওয়ান এবং হংকং তাদের দেশে পর্যটক প্রবেশের নিয়ম শিথিল করার পরপরই জাপান এ রকম ঘোষণা দিল। তাইওয়ান অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ আন্তর্জাতিক আগমনের জন্য কোয়ারেন্টাইনের প্রয়োজনীয়তা বাদ দেয়ার কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে গত শুক্রবার হংকং কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হোটেলে কোয়ারেন্টাইনের বদলে বাড়িতে কোয়ারেন্টাইন পালন করতে হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা বলেছেন, ‘জাপান যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শিথিল করবে।’

দেশটি জুন থেকে দর্শনার্থীদের প্রবেশের অনুমতি দিলেও তাদের কোনো ট্যুরের অংশ হতে হতো।

কিশিদা জাপানে ভ্রমণের জন্য একটি প্রণোদনা স্কিমও ঘোষণা করেছেন। যার মাধ্যমে ভ্রমণ করলে থিম পার্ক, ক্রীড়া ইভেন্ট এবং কনসার্টে ছাড় পাওয়া যাবে। এ ছাড়া জাপানের নাগরিক এবং বাসিন্দারা ১১ হাজার ইয়েন ভর্তুকি পাবে বলে জানা গেছে।

অন্য দেশগুলোতেও একই রকমের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা গেছে, যাতে মানুষ ব্যয় করতে আগ্রহ পায় এবং অর্থনীতি প্রাণ ফিরে পায়। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগজনক।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটি এশিয়ার সর্বশেষ শক্তিশালী দেশ যারা কোভিড স্বাস্থ্য উদ্বেগের জন্য সীমানা বন্ধ রেখেছিল। বিশ্বের ধনী দেশগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম জাপানে এবং টিকাদানের হার সবচেয়ে বেশি।

মহামারির আগের বছর ২০১৯ সালে প্রায় ৩২ কোটি আন্তর্জাতিক পর্যটক জাপান ভ্রমণ করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিধিনিষেধ আরোপ করায় অনেক বিদেশি জাপান ভ্রমণ থেকে বিরত রয়েছে।


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

  • সংস্কার না হলে প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এই তিন বাধা দূর করতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে।

বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সংস্কার না হলে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির কাঠামো টেকসই নয়। ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। কিন্তু এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। অর্থনীতির তেজিভাব কখনো স্থায়ী প্রবণতা নয়। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সব সময় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। তবে কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। শীর্ষ ১০-এ থাকা দেশগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ পরের দশকেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক দশকে (২০১০-১৯) যেসব দেশ শীর্ষ ১০-এ ছিল, সেসব দেশ আগের দশকে শীর্ষ ১০-এ ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক কিছু সুপারিশ করেছে। যেমন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শুল্ক-করহার অন্য দেশের তুলনায় বেশি, যে কারণে বাণিজ্য সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কিন্তু দেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্য দিকে আধুনিক নগরায়ণই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বাংলাদেশ সফরে এসে বলেন, ‘বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অনিশ্চয়তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সম্প্রসারণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংস্কারে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।’

মার্টিন রেইজার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হলো একটি উন্নয়ন সাফল্যের গল্প। ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বিশ্বব্যাংক গর্বিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা অর্জনে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই হওয়া নিশ্চিতকরণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করার বিষয়ে সময়োপযোগী নীতি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) তৈরি করছে বিশ্বব্যাংক। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত কয়েক দশকের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকের উন্নতি হয়েছে। কোভিড মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে।


বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল মিলছে না

বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল মিলছে না
চিনি ও পাম তেল।
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বীর সাহাবী

সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী জানেনই না এ দুটি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার খবর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। যা গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হলেও সে নির্দেশনা অনুযায়ী পাম সুপার খোলা তেল ও চিনি বিক্রি করছেন না দোকানিরা।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মহাখালীসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেঁধে দেয়া এ দুটি পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

দেখা যায়, পাম সুপার তেল সেই আগের দাম ১৪৫ টাকা লিটারেই বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা চিনি ৯০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল বিক্রি করছেন না- এ প্রশ্নে কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো দাম নির্ধারণ করি না। দাম যারা নির্ধারণ করে তারাই এসব বিষয়ে বুঝবে। আমরা বেশি দাম দিয়ে কিনেছি, তাই সে দামেই বিক্রি করব। আমাদের কাছে এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, দেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সবাই তড়িঘড়ি করে দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু যখন সে পণ্যের দাম কমার ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে, তখন আর কেউ সহজে দাম কমাতে চান না। বিগত দিনগুলোতে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানকে। তার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। তার পরও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বেশি মূল্যে পণ্য কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের; সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি হিসাব-নিকাশ করে চিনি ও পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু সে মূল্যে কোনো ব্যবসায়ী এই দুটি পণ্য বিক্রি করছেন না।

দাম বাড়লে তা সরকারি নির্দেশনা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে কমে যেতে হবে এমন কোনো আইন নেই বলে মনে করেন মহাখালীর এক খুচরা দোকানি। মফিজ উদ্দিন নামে এ বিক্রেতা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মূল্য সরকারিভাবে বাড়ানো হয়েছিল। আমরা সে অনুযায়ীই বিক্রি করছি। এখন আজ থেকে আবার কমার সিদ্ধান্ত দেয়া আছে শুনেছি। কমার সিদ্ধান্ত দিলেই কি সঙ্গে সঙ্গে কমিয়ে ফেলতে হবে? সিদ্ধান্ত নিছে কমার, তা আস্তে আস্তে কমবে।’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শাখা দুটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে; যা গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পাম সুপার তেল প্রতি লিটার খুচরায় সর্বোচ্চ ১৩৩ টাকা; যা এত দিন ১৪৫ টাকায় নির্ধারিত ছিল। মিল গেটে পাম তেল প্রতি লিটার ১২৮ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে পরিশোধিত খোলা চিনি প্রতিকেজি ৮৪ টাকা এবং প্যাকেট চিনি প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ৮৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে খোলা চিনি ৯০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিল গেটে খোলা চিনি প্রতিকেজি ৭৯ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে প্যাকেটজাত চিনি মিল গেটে ৮২ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার ‘দ্য কন্ট্রোল অব অ্যাসেনসিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট-১৯৫৬’ এর ক্ষমতাবলে মিল গেট, পরিবেশক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেল, চিনির দাম নির্ধারণ করল।

এর আগে বিভিন্ন সময় তেল ও চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সবশেষ বাজার বিশ্লেষণ করে চিনি ও পাম তেলের দাম কমিয়ে ঠিক করে দেয়া হলো।

চাল, লবণসহ অত্যাবশ্যকীয় অন্তত ৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হবে বলে চলতি মাসের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকশি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, আমাদের নির্ধারিত মূল্যেই পাম তেল ও চিনি বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয় মূল্য কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। বেঁধে দেয়া নতুন দর অনুযায়ী, খুচরায় চিনির মূল্য কেজিতে ৬ টাকা এবং পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকার মতো কমেছে। তবে এ মূল্যের বাইরে যদি কোনো ভোক্তা কেনাকাটা করে তাহলে সে আইন অনুযায়ী ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোক্তা জরিমানার ২৫ শতাংশ ফেরত পাবে।’

ভোক্তার অভিযোগ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান লতিফ বকশি।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার শুধু মূল্য বেঁধে দিলে হবে না, বাজার তদারক করতে হবে; মনিটর করতে হবে। যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে, সেই মূল্যে ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে পণ্য বিক্রি করে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করাকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ‘শুভ সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পরে প্রথম কোনো দৃশ্যমান কাজ করল প্রতিযোগিতা কমিশন। কিছু করল বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমিশন। আর এই কাজকে শুভ সূচনা বলে আমি মনে করি।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’


জনশক্তি রপ্তানি কমার শঙ্কা

জনশক্তি রপ্তানি কমার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • ডলারের মূল্যবৃদ্ধি

আবদুর রহিম হারমাছি

টাকার বিপরীতে আমেরিকান মুদ্রা ডলারের দর অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে ইতিবাচক প্রভাব পড়লেও জনশক্তি রপ্তানিতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এত দিন একজনের সৌদি আরব যেতে বিমান ভাড়া ২৫ খেতে ৩০ হাজার টাকা লাগত, সেই ভাড়া এখন দ্বিগুণেরও বেশি বেড়ে ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো লাগছে। অন্যান্য খরচও বেশি লাগছে। সব দেশেই একই হারে খরচ বেড়েছে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকরা বলছেন, বিদেশ যেতে ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো আর কাজের সন্ধানে বিদেশে যেতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেকে। সবাই অপেক্ষা করছেন, ডলারের দাম কমলে বিদেশ যেতে খরচ কমবে; তখন যাবেন। সে কারণে জনশক্তি রপ্তানিতে যে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল, সেটা কমে এসেছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সবশেষ তথ্য বলছে, চলতি ২০২২ সালের প্রথম ৮ মাসে (জানুয়ারি-আগস্ট) প্রায় ৮ লাখ জনকে বিদেশে কাজের জন্য পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে মাসে ১ লাখের বেশি কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়েছে ৪ বার। জানুয়ারিতে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯৮ জনের, ফেব্রুয়ারিতে ৯২ হাজার ৫৯৬ জনের, মার্চে ১ লাখ ২০ হাজার ৩১৬ জনের, এপ্রিলে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৭৫ জন, মে মাসে ৭৭ হাজার ৪২১ জন, জুন মাসে ১ লাখ ১১ হাজার ৫৩৯ জন এবং জুলাই মাসে হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৯৯ জনের। সবশেষ আগস্ট মাসে ৯২ হাজার ৯০৮ জন বিভিন্ন দেশে গেছেন কাজের সন্ধানে।

একক মাসের হিসাবে সর্বাধিক কর্মী পাঠানোর রেকর্ড হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। ওই মাসে ১ লাখ ৩১ হাজার ৩১৬ জন কাজ নিয়ে বিভিন্ন দেশে গেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক মাসে এত বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয়নি।

বিএমইটির তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, বছরের হিসাবে সবচেয়ে বেশি জনশক্তি রপ্তানি হয় ২০১৭ সালে, ১০ লাখ ৮ হাজার ৫২৫ জন। ধারণা করা হচ্ছিল, চলতি বছরে সেই রেকর্ড ভেঙে প্রায় ১২ লাখ মানুষকে কাজের জন্য বিদেশে পাঠানো সম্ভব হবে। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ায় বিদেশে যেতে ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেটা আর সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সভাপতি মোহাম্মদ আবুল বাশার।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘বেশ ভালো উল্লম্ফন হয়েছিল জনশক্তি রপ্তানিতে। আমরা আশা করেছিলাম, এ বছর আমাদের জনশক্তি রপ্তানি ১২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। আট মাসের তথ্য সেটাই বলছিল। কিন্তু এখন আর সেটা সম্ভব হবে না। তবে বছর শেষে ১১ লাখের মতো হবে। তবুও কিন্তু রেকর্ড হবে। এর আগে আমরা এক বছরে ১০ লাখের কিছু বেশি জনশক্তি রপ্তানি করেছিলাম।’

মোহাম্মদ আবুল বাশার বলেন, ‘আমাদের শ্রমিকরা যেখানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে বিদেশে যেতে পারত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সেই টিকিটের দাম ৬০ থেকে ৮০ হাজার টাকার মতো লাগছে। কখনো কখনো ১ লাখ টাকাও লাগছে। যারা বিদেশ যাচ্ছেন তাদের একটা ধাক্কা দিয়েছে। কেননা, যারা কাজের জন্য বিদেশে যান, তারা নিম্নবিত্ত অথবা নিম্নমধ্যবিত্ত। নানাভাবে ধারদেনা করে অথবা জমিজমা বিক্রি করে টাকা জোগাড় করে তারা বিদেশে যান। খরচ বাড়ায় তারা এখন আর যেতে পারছেন না। বিষয়টি আমাদেরও হতাশ করেছে। জানি না কবে ডলারের দাম কমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধ যদি না থাকত তা হলে আমাদের বিদেশে যাওয়ার বিষয়টা আরও গতিশীল হতো। প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আরও বেশি আসত। ইউরোপের মার্কেটে জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে আরও বেশি সুফল বয়ে আনতে পারতাম।’

তিনি বলেন, ‘তবে অতীতে যারা বিদেশে গেছেন ডলারের মূল্যবৃদ্ধিতে তারা কিন্তু উপকৃত হচ্ছেন। পরিবার-পরিজনের কাছে বেশি করে টাকা পাঠাচ্ছেন। কিন্তু যারা নতুন করে বিদেশ যাচ্ছেন বা যেতে চাচ্ছেন তাদের ব্যয় বেড়ে গেছে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে। আগে বিমান ভাড়া ছিল ২৫-৩০ হাজার টাকা। সেই ভাড়াটা এখন ৭০, ৮০, ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে যাওয়ার কারণে তারা কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। যারা নতুন করে যাচ্ছেন তারা ক্ষতিগ্রস্ত আর যারা আগে গেছেন, ১ কোটি ২০ হাজারের মতো লোক, বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন, তারা কিন্তু উপকৃত হচ্ছেন।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে জনশক্তি রপ্তানির বর্তমান ধারা বজায় রেখে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী প্রেরণ বেগবান করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘এ কথা ঠিক যে, ডলারের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় বিদেশে যেতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অনেকে যেতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ হচ্ছে, সরকার কিছু ভর্তুকি বা প্রণোদনা দিয়ে হলেও বিদেশে লোক পাঠানো অব্যাহত রাখতে হবে। কেননা, এই সংকটের সময়ে রেমিট্যান্সই কিন্তু অর্থনীতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখছে। এটা যে করেই হোক অব্যাহত রাখতে হবে।’

বিএমইটি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ৮ মাসে বিশালসংখ্যক কর্মী বিদেশে গেলেও তারা মূলত গিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের তিনটি দেশ- সৌদি আরব, ওমান ও আরব আমিরাতে। ৮ লাখের ৮০ শতাংশের বেশি গেছেন এই ৩ দেশে।

১৯৭৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১ কোটি ৪৩ লাখ বাংলাদেশি কাজ নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যান। এদের মধ্যে অবশ্য অনেকে দেশে ফিরে এসেছেন। অনেকে আবার বিদেশে স্থায়ী হয়েছেন। সবমিলিয়ে এখন ১ কোটি ২০ লাখের মতো প্রবাসী বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন এবং তারা দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রাখছেন।

২০১৯ সালে মহামারি করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মুখ থুবড়ে পড়ে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। মহামারির আগের বছর ২০১৯ সালে ৭ লাখ ১৫৯ জন কর্মী কাজ নিয়ে বিদেশে গিয়েছিলেন। করোনার ধাক্কায় ২০২০ সালে তা ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৯ জনে নেমে আসে। গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে অবশ্য তা বেড়ে ৬ লাখ ১৭ হাজার ২০৯ জনে দাঁড়ায়।