মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২২

ভারতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ২৩ মাসের সর্বনিম্ন

ভারতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ২৩ মাসের  সর্বনিম্ন
ডলার।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

গত কয়েক মাস ধরে ভারতের বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভ ক্রমাগত কমছে। রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ৭৯৪ দশমিক ১ কোটি ডলার কমে তা হয়েছে ৫৫ হাজার ৩১০ দশমিক ৫ কোটি ডলার, যা ২০২০-এর ৯ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের বিপরীতে রুপি যাতে শক্তি না হারায় তা নিশ্চিত করতে ডলার বিক্রি করে চলেছে দেশটির শীর্ষ ব্যাংক। এটি রিজার্ভ কমার অন্যতম কারণ। খবর ইকোনমিক টাইমসের

গত ২৫ ফেব্রুয়ারি বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভ ছিল ৬৩ হাজার ১৫৩ কোটি ডলার, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। পরবর্তী ছয় মাসে তা প্রায় ৮ হাজার কোটি ডলার কমেছে। এই নিয়ে টানা পাঁচ সপ্তাহে তা কমছে। বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভের প্রধান উপাদান বিদেশি মুদ্রা সম্পদ। এর মধ্যে ডলারের পাশাপাশি পাউন্ড, ইউরো, ইয়েন ইত্যাদি থাকলেও মোট সম্পদের হিসাব করা হয় ডলারে। শীর্ষ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে তা ৬৫২ দশমিক ৭ কোটি ডলার কমে ৪৯ হাজার ২১১ দশমিক ৭ কোটিতে নেমেছে। কমেছে রিজার্ভের প্রতিটি বিদেশি মুদ্রা। পাশাপাশি কমেছে সোনা, আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডারের (আইএমএফ) মজুত এবং স্পেশাল ড্রয়িং রাইটসও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বৃদ্ধি এবং ভারতে আমদানি বাড়ায় ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। ফলে রুপিকে সহায়তা দিতে দেশটির শীর্ষ ব্যাংককে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়াতে হচ্ছে। ফলে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও কমছে।


বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি

বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তুলতে চায় আইডিএলসি
আইডিএলসি। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক খাতে তালিকাভুক্ত আইডিএলসি ২ বছরের জন্য বন্ড ছেড়ে ৫০০ কোটি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন পেলে কোম্পানটি এই টাকা তুলতে পারবে।

আইডিএলসি ফাইন্যান্স বলছে, এই বন্ডটি হবে আনসিকিউরড বন্ড অর্থাৎ বন্ডটি ছাড়তে তারা কোনো জামানত জমা দেবে না। বন্ডটি নন কনভার্টাইবেল অর্থাৎ বন্ডটিকে শেয়ারে রূপান্তর করা যাবে না।

এছাড়া বন্ডটি হবে জিরো কুপন বন্ড বা বন্ডটিতে বছর বছর কোনো সুদ দেওয়া হবে না; মেয়াদ শেষে একবারে সুদে আসলে টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

এই বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।

বন্ডটি কিনতে পারবেন সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচুয়াল ফান্ড, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি, তালিকাভুক্ত ব্যাংক, সমবায় ব্যাংক, আঞ্চলিক রুরাল ব্যাংক, সংগঠন, ট্রাস্ট ও স্বায়ত্তশাসিত করপোরেশনগুলো এবং বড় বিনিয়োগকারীরা।

১৯৯২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির শেয়ার বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে।

২০১৮ সালে আইডিএলসি ২১৭ কোটি ১০ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল; লভ্যাংশ দিয়েছিল শেয়ার প্রতি ৩ টাকা ৫০ পয়সা।

২০১৯ অর্থবছরে মুনাফা হয় ১৬৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেওয়া হয় ৩ টাকা ৫০ পয়সা। ২০২০ অর্থবছরে মুনাফা হয় ২৫৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেওয়া হয় প্রতি শেয়ারে ১ টাকা ৫০ পয়সা, আর ১০০ নতুন শেয়ারে ৫টি বোনাস শেয়ার।

২০২১ অর্থবছরে মুনাফা হয় ২১১ কোটি ৬১ লাখ টাকা। লভ্যাংশ দেওয়া হয় প্রতি শেয়ারে ১ টাকা ৫০ পয়সা, আর ১০০ নতুন শেয়ারে ৫টি বোনাস শেয়ার।

পুঁজিবাজারে এ কোম্পানির ৪১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৮ হাজার ৪৮৫টি শেয়ার রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ আছে পরিচালকদের হাতে।

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে আছে ২৬ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার, বিদেশিদের হাতে রয়েছে ২ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে ১৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ শেয়ার।

আইডিএলসির বর্তমান বাজার মূলধন ২ হাজার কোটি ৬৬ লাখ টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৪১৫ কোটি ৬৯ লাখ টাকা; রিজার্ভের পরিমাণ ১ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা।


দামের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যের হাহাকার

দামের ধাক্কায় বিশ্বজুড়ে খাদ্যের হাহাকার
ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ কারণে খাদ্যের দাম বাড়ায় বিশ্বের প্রায় সব দেশেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে দেশগুলো। স্বল্প, মধ্য ও উচ্চ আয়ের সব দেশকেই খাদ্য মূল্যস্ফীতির ধকল সহ্য করতে হচ্ছে। এর মধ্যে ৪৫টি দেশের ২০ কোটি ৫১ লাখ মানুষ খাদ্যসংকটে ভুগছে। চলতি বছর তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। সোমালিয়ার উপকূলবর্তী তিনটি অঞ্চলে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে মারাত্মক খাদ্যসংকটের কারণে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক বিশ্বব্যাংকের এক ব্রিফিংয়ে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশ যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সে তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, করোনার সময়ে বিশ্বব্যাপী খাদ্য উৎপাদন কম হওয়া ও সরবরাহ-ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ-ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও কৃষি উপকরণের সংকটের কারণে খাদ্য উৎপাদন কমেছে। একই সঙ্গে সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের দাম বাড়ায় খাদ্যের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এতে সার্বিকভাবে খাদ্য উপকরণের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে কমেছে সুষম সরবরাহ। যার প্রভাবে বিশ্বের প্রায় সব দেশে খাদ্যের দাম বেড়ে গেছে। এতে সার্বিক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি খাদ্যে মূল্যস্ফীতির হারও বাড়ছে লাগামহীন গতিতে। কোনো কোনো দেশে এই হার গত ৪০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নিজেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২১টি দেশ ৩০ ধরনের খাদ্য উপকরণ রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। কয়েকটি দেশ খাদ্য রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছে। খাদ্য রপ্তানিতে নিবন্ধন প্রথা আরোপসহ নানা ধরনের অশুল্ক বাধা আরোপ করেছে। এতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করা হয়েছে।

ভারত বিশ্বের সবচেয়ে বড় চাল রপ্তানিকারক দেশ। তারা গম, ভাঙা চাল ও চিনি রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে। আফগানিস্তানে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ কারণে তারা গম রপ্তানি বন্ধ করেছে। আলজেরিয়া চিনি, গম, তেল রপ্তানি বন্ধ করেছে। আর্জেন্টিনা সয়াবিন তেল রপ্তানির ওপর কর আরোপ করেছে। বাংলাদেশ চাল রপ্তানি বন্ধ করেছে। ঘানা ভুট্টা, চাল ও সয়াবিন রপ্তানি বন্ধ করেছে। ইরান আলু, ডিম, পেঁয়াজ, টমেটো রপ্তানি বন্ধ করেছে। কাজাকিস্তান থেকে সানফ্লাওয়ার বীজ ও চিনি রপ্তানি বন্ধ। কুয়েত ভেজিটেবল অয়েল, মুরগির মাংস পাকিস্তান চিনি, রাশিয়া সরিষার বীজ, সয়াবিন, গম, কর্ন সানফ্লাওয়ার বীজ, সানফ্লাওয়ার তেল রপ্তানি বন্ধ করেছে। তিউনেশিয়া ফল ও সবজি, তুরস্ক রান্নার তেল, গরুর মাংস, খাসির মাংস ও বাটার রপ্তানি বন্ধ করেছে। পাকিস্তানে বন্যার কারণে খাদ্য উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্যের মূল্য ৮ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানি মূল্যসূচক কমেছে ২ শতাংশ। জুলাইয়ে খাদ্যশস্যের দাম কিছুটা কমার পর আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে গম এবং ভুট্টার দাম বেড়েছে। তবে চালের বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে ভুট্টার দাম ১২ শতাংশ এবং গমের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। চালের দাম বেড়েছে দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২১ সালের তুলনায় এখন পর্যন্ত ভুট্টার ১৭ শতাংশ, গমের ২৯ শতাংশ এবং চালের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার প্রায় সব দেশে বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো। এর মধ্যে চলতি বছরের মে থেকে আগস্ট মাসে লেবাননে খাদ্য মূল্যস্ফীতির প্রকৃত হার ৭২ শতাংশ, জিম্বাবুয়েতে ৬৮ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৩০ শতাংশ, ইরানে ২৯ শতাংশ, হাঙ্গেরিতে ১৮ শতাংশ খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে। এ ছাড়া কলম্বিয়া, জিবুতি ও রুয়ান্ডায় ১৪ শতাংশ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে। বুরকিনা ফাসোতে ১৩ শতাংশ, কোস্টারিকায় ১০ শতাংশ, বুরুন্ডিতে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ, ইথিওপিয়ায় ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ, গাম্বিয়ায় ১৪ শতাংশ, মালাউইতে ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ, মোজাম্বিকে ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ, সোমালিয়ায় ১৭ শতাংশ, উগান্ডায় সাড়ে ১৬ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ দশমিক ৯ শতাংশ, বাংলাদেশে ৮ দশমিক ২ শতাংশ ও ভারতে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে।


ভ্রমণের নামে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা যাচ্ছে অবৈধভাবে

ভ্রমণের নামে বিপুল পরিমাণ মুদ্রা যাচ্ছে অবৈধভাবে
টাকা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

আবু কাওসার

শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা বেড়ানোসহ নানা কারণে ভ্রমণের নামে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা। এই ব্যয়ে নেই যথাযথ নজরদারি। ফলে এসব ক্ষেত্রে বেশির ভাগ মুদ্রাই যাচ্ছে অবৈধভাবে।

আর এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটছে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বেলায়। প্রতি বছর লাখ লাখ বাংলাদেশি ঘুরতে যাচ্ছেন দেশটিতে, যাদের বড় অংশই যান চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য।

এ ছাড়া থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরেও চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন অনেকেই।
প্রতি বছর কতজন রোগী এসব দেশে চিকিৎসার জন্য যান তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্যমতে, প্রতি বছর বিদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগীদের ২২ শতাংশই বাংলাদেশি।

ভারতের ব্যুরো অব ইমিগ্রেশন দপ্তরের হিসাব মতে, দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক পর্যটক যায় বাংলাদেশ থেকে। ২০১৮ সালে প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি পর্যটক ভারতে গেছেন। ২০২০ সালের মার্চে করোনা মহামারিতে দেশটি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দিলে এ হার নেমে আসে শূন্যের কোঠায়। প্রায়  ‍দুই বছর পর এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে দেশটিতে ফের বাড়তে থাকে বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা।  

ভারতের ভিসা প্রত্যাশীদের চাপ সামলাতে জনবল ও অফিসের সময় বাড়াতে হয় ঢাকায় ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্রকে। একইসঙ্গে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার জন্য জনবল বাড়ানোসহ নেয়া হয় নানা ব্যবস্থা। গত রোববার বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কার্যক্রম চালু রেখেছে ভারতীয় ভিসা আবেদনকেন্দ্র।

দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশন অফিসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে আসা পর্যটকদের প্রতি পাঁচজনের এক জনই বাংলাদেশি। প্রশ্ন উঠেছে এসব পর্যটকের ব্যয় নিয়েও। সম্প্রতি দিল্লিতে বাংলাদেশি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ইমরান হোসেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রশ্ন তোলেন। পর্যটন কিংবা চিকিৎসার জন্য যারা ভারতে যাচ্ছেন তাদের তো বটেই, যেসব শিক্ষার্থী ভারতে লেখাপড়া করতে যান তাদের অভিভাবকদের করযোগ্য আয়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয় ওই চিঠিতে।

বলা হয় , এসব বিষয়ে সরকার ব্যবস্থা নিলে দেশ থেকে টাকা পাচার রোধ করা যাবে। সাশ্রয় হবে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা।

জানা যায়, ওই চিঠির একটি অনুলিপি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্র্রার আনুষ্ঠানিক কিংবা অনানুষ্ঠানিক বাজার অস্থিরতা চলছে। প্রতিনিয়ত কমছে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত। যার প্রভাব পড়েছে বিনিময় হারে। সম্প্রতি টাকার বিপরীতে ডলারের দাম রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করাসহ নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কিন্তু খুব একটা লাগাম টানা যায়নি বেসরকারি পর্যায়ে বিদেশ ভ্রমণে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে ,বর্তমানে যে কোনো দেশে ভ্রমণের জন্য বৈধভাবে বছরে সর্বোচ্চ ১২ হাজার ডলার নেয়া যায়।

চিকিৎসার জন্য নেয়া যায় ১০ হাজার ডলার। এর বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি লাগে। আর উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার পাঠাতে পারে তাদের অভিভাবকদের।

আইনে  বিদেশ ভ্রমণে ডলার নেয়ার সীমা থাকলেও বাস্তবে এর চেয়ে বহুগুণ চলে যাচ্ছে অবৈধ পথে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ভ্রমণের জন্য যারা বৈধ পথে বিদেশ যান তারা কত ডলার নিতে পারবেন তার সীমা দেয়া আছে। এর চেয়ে বেশি নেয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি চুরি-চামারি করে নেয় সেটা তো আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।’

তিনি জানান, সীমার বেশি বেশি নিতে হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পারমিশন লাগে। এক্ষেত্রে যৌক্তিকতা যাচাই করেই অনুমতি দেয়া হয়।

গবেষণা সংস্থা পিআরআইয়ের  নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘‘উন্নত চিকিৎসার জন্য যে কেউ বিদেশ যেতেই পারে। সরকার তা বন্ধ করতে পারে না। আমার মনে হয়, এখানে যে ধরনের তদারিক দরকার তা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার এদিকে নজর দেয়া উচিত।’

হাইকমিশনারের চিঠিতে যা আছে

হাইকমিশনার তার চিঠিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগের গভীরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা কারণে জনগণের যাতায়াত বেড়েছে।  এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যমান আর্থিক নীতিমালার সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করলে  বড় অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হতে পারে।’

চিকিৎসা বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসা নিতে আসেন ভারতে। রোগীর সঙ্গে অভিভাবকও থাকেন, যা খরচের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে তোলে। অথচ জটিল ও মুমূর্ষু রোগী ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের চিকিৎসা এখন বাংলাদেশেই সম্ভব।

তাই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশিদের বিদেশি চিকিৎসা নেয়ার প্রয়োজন আছে কি না, সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা যেতে পারে। বিশেষ বিবেচনা  করে চিকিৎসার অনুমতি দিলে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হতে পারে।

ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে আয় প্রায় বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার। এই আয়ের উল্লেখযোগ্য পরিমাণই আসে বাংলাদেশিদের কাছ থেকে।

শিক্ষা ভ্রমণ প্রসঙ্গে চিঠিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে আসা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাত্রছাত্রী ভারতের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ খরচে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। প্রতি বছর এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। স্নাতক পর্যায়ের একজন শিক্ষার্থীকে ভারতে প্রতি বছর আনুমানিক তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এক্ষেত্রে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকে নিরুৎসাহিত না করে, ছাত্রছাত্রীরা যাতে সঠিক ও বৈধ চ্যানেলে অর্থ স্থানান্তর করে তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

পর্যটন ভিসার বিষয়ে চিঠিতে বলা হয়, ধর্মীয় উৎসব, বিয়ে বা অন্য কোনো সামাজিক উৎসব উপলক্ষে কেনাকাটার জন্য বছরজুড়েই বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণ করে থাকেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। এক্ষেত্রেও বিদেশ ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশি পর্যটকরা যাতে সঠিক ও বৈধ পথে অর্থ নিয়ে আসে, তা নিশ্চিত করা যেতে পারে।

ভ্রমণকারীদের কর যাচাইয়ের সুপারিশ

ভ্রমণকারীদের কর দেয়ার সামর্থ্য রয়েছে বলে মনে করেন হাইকমিশনার। যারা চিকিৎসা নিতে বিদেশে আসেন কিংবা যেসব অভিভাবক তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষায় বিদেশ পাঠান তাদেরও সেই সামর্থ্য আছে। তারা ঠিকমতো সেটি পরিপালন করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখার সুপারিশও করা হয় ইকবাল হোসেনের চিঠিতে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ৩৮ সেবার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের সঙ্গে প্রমাণাদি দেখানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। হাইকমিশনার মনে করেন, ভ্রমণকারীদের বাধ্যতামূলক রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ প্রদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘হাইকমিশনারের চিঠিটি আমরা পেয়েছি। যেসব প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন তা যৌক্তিক। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি। আগামী বাজেটে তার প্রতিফলন থাকতে পারে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক ঊর্ধ্বতন পরিচালক ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের দেশে সেবা খাতে সীমাবদ্ধতা আছে। যে কারণে অনেকেই চিকিৎসা, শিক্ষা নিতে বিদেশ যাচ্ছে। এটা ঠিক, চিকিৎসায় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। এখানে শক্তভাবে তদারিক করা দরকার। পাশাপাশি দেশে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। তাহলে বিদেশ যাওয়া কমবে রোগীদের।’


অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস

অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস
ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • আড়াই মাসেই ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

আবদুর রহিম হারমাছি

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ দিনে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের আড়াই মাসে (১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ৫১৪ কোটি ২৮ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই আড়াই মাসে ৪৫৪ কোটি ৪৯ লাখ (৪.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ডলারের বিপরীতে টাকার বড় দরপতনে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকাররা। আর এতে অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তির বাতাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এখন কোনো প্রবাসী ১ ডলার দেশে পাঠালে তার পরিবারের যে সদস্যের নামে পাঠাচ্ছেন তিনি ১০৮ টাকা পাচ্ছেন। তার সঙ্গে আবার আড়াই শতাংশ সরকারের প্রণোদনাও পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তিনি যে টাকা তুলতে পারছেন, তা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠালে যা পাওয়া যায়, তার সমান। সে কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। যার ফলে বাড়ছে এই সূচক; এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো।’

ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘তবে, যেহেতু প্রবাসীরা এখন বেশি টাকা পাচ্ছেন, আমার বিবেচনায় এখন আর আড়াই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া উচিত নয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ডলারের দর ১০৮ টাকার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে। আগামী দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। গত দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) মতো সেপ্টেম্বর মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে (১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ১০০ কোটি ৮৭ লাখ (১ বিলিয়নের বেশি) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। পরের মাস আগস্টে আসে ২০৩ কোটি ৭৮ (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে, তখন চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের (সরকার) সাহস জোগাচ্ছে। করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় আমরা বেশ চাপের মধ্যে আছি। আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই দুশ্চিন্তা সবার মধ্যে, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ওই বছরে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে তার চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবেন আমাদের প্রবাসীরা।’

মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে রপ্তানিও বাড়ছে। আমদানি কমতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে একধরনের স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডলারের বাজারের অস্থিরতাও কমে আসবে বলে মনে হচ্ছে। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ। অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসবে।’

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের বছরের (২০২০-২১) চেয়ে কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। শুরু থেকেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমনই পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’ দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৫ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে। এই বিষয়টি আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।


সাকিবের বাবার নামের স্থানে ‘ভুল করে’ বসেছে হিরুর স্ত্রীর বাবার নাম

সাকিবের বাবার নামের স্থানে ‘ভুল করে’ বসেছে হিরুর স্ত্রীর বাবার নাম
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ব্যবসা করার জন্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান যে ব্রোকারেজ হাউজ এর ব্যবসা খুলেছেন সেই কোম্পানির নিবন্ধনের সময় তার বাবার নামের স্থানে ভুল করে আরেক পরিচালকের বাবার নাম বসেছে।
ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন,‘ যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি এই ভুল করেছে। আমাদের কোম্পানির মেমোরেন্ডামে সব তথ্য ঠিক আছে। ’
‘রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি আরজেএসসি সাকিব আল হাসান এর বাবার নামের স্থানে ভুল করে আমাদের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজি সাদিয়া হাসানের বাবার নাম লিখেছে।’, বলেন ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন।
সাকিব আল হাসানের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজা। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড কোম্পানির ফর্ম ১৫ এ দেখা যাচ্ছে সাকিব আল হাসান এর বাবার নাম দেওয়া হয়েছে কাজী আব্দুল লতিফ।
এ বিষয়ে সাকিব আল হাসানের ব্যবসায়ীক পার্টনার আবুল খায়ের হিরু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা যখন কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটাল বাড়াতে গিয়েছি তখন এই ভুল হয়েছে। কাজী আব্দুল লতিফ আমার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের বাবার নাম। এটি একটি প্রিন্টিং ভুল। ভুলে একজনের বাবার নামের যায়গায় আরেকজনের বাবার নাম লেখা হয়েছে।’
সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে যে চক্রটি ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সেই কারসাজি চক্রের মূল অভিযুক্ত পুঁজিবাজারে বহুল আলোচিত-সমালোচিত মুখ আবুল খায়ের হিরু।
ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস এর মালিকানায় আছে সাকিব আল হাসান, আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল খায়ের হিরুর বাবা আবুল কালাম মাতবর ও জাভেদ এ মতিন নামে একজন।
কোম্পানি নিবন্ধন এর কাজ করেন এমন একজন দৈনিক বাংলাকে বলেন,‘ এই কোম্পানির তথ্য যখন তৈরি করা হয়েছে, ভুল তখন করা হয়েছে, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি সেই ভুল তথ্যের উপর নিবন্ধন দিয়েছে।’
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন, এর মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড যাত্রা শুরু করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।