বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে চায় এসএফআইএল

আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে চায় এসএফআইএল
এসএফআইএলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের সবচেয়ে আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে দুই বছর পূর্তি উদযাপন করেছে স্ট্র্যাটেজিক ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড (এসএফআইএল)।

দু-একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম এবং অর্থ তছরুপের মতো ঘটনার মধ্যেও গ্রাহকের আস্থার জায়গায় পৌঁছে গেছে নতুন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএফআইএল।

দেশে আর্থিক খাতে বয়স বিবেচনায় এসএফআইএল একেবারেই নবীন। তবে ‘স্বচ্ছতার বন্ধন’ স্লোগান সামনে রেখে ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তার পরিচালন দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। আমানত সংগ্রহ ও ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রেও মিলেছে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

যাত্রা শুরুর পর মাত্র চার মাসের মাথায় দেখা মিলেছে লাভের মুখ। এভাবে হাঁটি হাঁটি পা পা করে পরিণতির দিকে এগোতে থাকা এসএফআইএল পা রাখল তৃতীয় বর্ষে।

গতকাল বুধবার ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে জমকালোভাবে পালন করা হলো এসএফআইএল-এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠান।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে এসএফআইএলের গ্রাহক, অংশীদার এবং বিশিষ্টজনরা এই বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।

এসএফআইএল বাংলাদেশের একমাত্র জয়েন্টভেঞ্চার কনসোর্টিয়াম, যাদের রয়েছে কানাডা, আমেরিকা ও বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসএফআইএলের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামিম মার্জান হুদা।

দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির পোর্টফোলিও বেড়ে হয়েছে ৪৮২ কোটি টাকা। এ সময় বিনিয়োগ করেছে ২১৬ কোটি টাকা। ২০২০ থেকে ২০২১ সালে নিট লাভ ২৭৩ শতাংশ। পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ২৭৫ শতাংশ।

অতি সতর্কভাবে ঋণ বিতরণ করায় প্রতিষ্ঠার দুই বছর পরও বিতরণকৃত ঋণের এক টাকাও খেলাপি হয়নি প্রতিষ্ঠানটির।

এসএফআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইরতেজা আহমেদ খান বলেন, ‘উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিকে পাথেয় করে অচিরেই দেশের সবচেয়ে আস্থার আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পেতে চাই আমরা। এসএফআইএল থেকে আমরা গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা ঋণ, নারী  উদ্যোক্তা ঋণ, করপোরেট লোনসহ নানা ধরনের ঋণ দিয়ে থাকি। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি নতুন হলেও এরই মাঝে উল্লেখযোগ্য হারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। লক্ষণীয় মাত্রায় ঋণ-আমানত আনতে পেরেছি। এ ছাড়া আমরা জিরো এনপিএল পোর্টফোলিও বজায় রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নানান উদ্ভাবনী পণ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা রাখি একটি টেকসই প্রবৃদ্ধির মুখ দেখব আমরা শিগগিরই।’

ইরতেজা আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের ৯৮ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার প্রাতিষ্ঠানিক। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ কানাডা ও আমেরিকার সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) রয়েছে। আর বাকি ২ শতাংশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক। ফলে সুশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিধি নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত হয়। এটা আমাদের শক্তি। আমানতকারীদের আস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এটা একটা ভালো উদাহরণ।’

ঋণ বিতরণে আমরা অনেক সতর্ক মন্তব্য করে এসএফআইএলের এমডি ইরতেজা আহমেদ খান বলেন, ‘ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে সীমিত আকারে গ্রাহক ভালোভাবে যাচাই করে ঋণ দিয়েছি। দুই বছরে আমাদের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) শূন্য। আমরা দেখেশুনে একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি।'

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এহসানুল কবির বলেন, ‘অতীতের মতো ভবিষ্যতেও এসএফআইএল বিনিয়োগ করে যাবে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি, টেকসই ব্যবসায়িক অনুশীলন, সবুজ উদ্যোগ এবং কর্মীদের কল্যাণে এবং এর মাধ্যমে আমরা দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’

দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে এসএফআইএল উদ্বোধন করে 'এসএফআইএল কানেক্ট অ্যাপ।'

অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন মোবাইল অ্যাপটির মাধ্যমে গ্রাহকরা দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসে নিমেষে খুলে ফেলতে পারবেন ডিপিএস এবং টার্ম ডিপোজিট অ্যাকাউন্ট।

এ ছাড়া ডিপোজিটের টাকা বা ঋণে কিস্তি মুহূর্তেই শোধ করা যাবে এবং অ্যাকাউন্টবিষয়ক তথ্য পাওয়াও অনেক সহজ হয়ে যাবে এই অ্যাপের মাধ্যমে।


২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা

২৩৮ কোটিতে সিএসইর অংশীদার হচ্ছে বসুন্ধরা
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের লোগো
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) মালিকানার একটি অংশ কিনে নিচ্ছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ব্যবসায়ী গ্রুপ বসুন্ধরা। গ্রুপের সহযোগী কোম্পানি এবিজি লিমিটেডকে এই অনুমোদন দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি।

বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি। এই বিনিয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী হলো বসুন্ধরা গ্রুপ।

সিএসইর টেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম দৈনিক বাংলাকে বলেন, কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে সিএসইর ২৫ শতাংশ শেয়ার কিনবে গ্রুপটি। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি শেয়ারের দাম হবে ১৫ টাকা। সেই হিসাবে সিএসই প্রায় ২৩৭ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পাবে।

ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন অনুযায়ী চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে কৌশলগত বিনিয়োগকারীর কাছে। আর ৩৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতে হবে সাধারণ বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে।

১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত সিএসই পরিশোধিত মূলধন ৬৩৪ কোটি ৫২ লাখ টাকা। শেয়ারের সংখ্যা ৬৩ কোটি ৪৫ লাখ। এই হিসাবে প্রায় ১৬ কোটি শেয়ার বিক্রি করতে হবে তাদের।

২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য সিএসই তার শেয়ারহোল্ডারদের ৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত সিএসইর নিট মুনাফা ছিল ২৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

এর আগে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ডিমিউচুয়ালাইজেশন আইন মেনে তাদের ২৫ শতাংশ শেয়ার দুই কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনঝেন স্টক এক্সচেঞ্জ ও সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের কাছে হস্তান্তর করেছে। সেখানে ২১ টাকা দরে প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করে ডিএসই পায় প্রায় ৯৬২ কোটি টাকা।


খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি

খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক লগো।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে ১৪ বিলিয়ন বা এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আগামী তিন বছরে (২০২২-২৫) এই অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে উন্নতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির প্রভাবের বিরুদ্ধে খাদ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করতে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশসহ এডিবির সদস্যভুক্ত দেশগুলো।

এডিবি জানায়, এই অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এডিবির উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। এশিয়ায় ১১০ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের। ফলে এ অঞ্চলে খাদ্যের দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব রয়েছে। এটা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফার্ম ইনপুট, খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন, সামাজিক সুরক্ষা, সেচ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যার সমাধান-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। এডিবি অন্যান্য কার্যক্রমে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে, যা খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখে। যেমন- জ্বালানি শক্তি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবহন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাত।

এডিবির ৫৫তম বার্ষিক সভায় এটির অনুমোদন করা হয়। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বিশ্ব একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি সংকটের জন্য একটি সময়োপযোগী এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এশিয়ার অনেক দরিদ্র পরিবারকে ক্ষুধার্ত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকট বাড়ছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। উদীয়মান এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাব কমাতে খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার আগ্রাসন খাদ্যের প্রধান উপাদান ও সারের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, করোনা সংকট এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চল খাদ্য আমদানি ও বৈদেশিক সারের ওপর নির্ভরশীল। সব ব্যবস্থায়ই ভেঙে পড়েছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগেও এডিবির অনেক দেশে কিছু মানুষের পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছিল। এখন এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এডিবি জানায়, এশিয়ার দরিদ্র মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তায় উন্মুক্ত বাণিজ্যকে উন্নীত করা হবে। এডিবি সহায়তায় খামারের উৎপাদন ও জীবিকা উন্নত করবে, সারের ঘাটতি কমিয়ে দেবে এবং দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। এডিবি অর্থায়ন খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনে বিনিয়োগে সহায়তা করবে, পুষ্টি বৃদ্ধি করবে এবং জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

এ প্রোগ্রামের আওতায় সহায়তা চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বেসরকারি খাতের সহ-অর্থায়নে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করবে এডিবি। এডিবি খাদ্যনিরাপত্তায় বার্ষিক বিনিয়োগে ২০০ কোটি ডলার দিচ্ছে। চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এডিবি। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এডিবি। বাংলাদেশসহ সংস্থাটির ৬৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।


ভারতের শেয়ারবাজার ধস

ভারতের শেয়ারবাজার ধস
বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়। ফলে প্রায় সব দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাগাতার পড়ছে ভারতের শেয়ারবাজারও। গত শুক্রবার হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ার পরে সোমবার সেনসেক্স ৯৫৩.৭০ পয়েন্ট হারিয়ে নামে ৫৭ হাজারের ঘরে। এ দিনও লেনদেনের মাঝে একসময় পতন ১ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বিনিয়োগকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই মূল্যবৃদ্ধিকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ বিপুল হারে সুদ বাড়ানোয় আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা হাতের শেয়ার বেচে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন আর যুক্তরাষ্ট্র সুদ বাড়ানোয় চাঙা সে দেশের ডলার এবং বন্ড বাজারে পুঁজি ঢালছেন। জিয়োজিৎ ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের গবেষণা বিভাগের প্রধান বিনোদ নায়ারের মতে, বাড়তে থাকা ডলারের দাম এবং শ্লথ আর্থিক বৃদ্ধি বিশ্বের শেয়ারবাজারকে অস্থির করছে। আর এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের রিটেল গবেষণা বিভাগের প্রধান দীপক জসনির দাবি, শেয়ারের মতো সব ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগই অবস্থা কাহিল মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে মন্দা দ্রুত মাথা তোলার আশঙ্কায়।

গত বুধবার থেকে চার দিনের লেনদেনে ভারতে ১০ হাজার ৯৭১ দশমিক ৫৭ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো। এর মধ্যে শুধু সোমবারেই ৫ হাজার ১০১ দশমিক ৩০ কোটি রুপির।

তবে শেয়ার ব্রোকিং সংস্থা ডিবি অ্যান্ড কোম্পানির কর্ণধার দেবু বিশ্বাসের দাবি, এই টানা পতনকে নেতিবাচক বলে মানতে পারছি না। কারণ, গত দুই মাসে সেনসেক্স প্রায় ৭ হাজার ৫০০ এবং নিফ্‌টি প্রায় ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছিল। এই দফায় সূচক দুটির যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ১ হাজারের মতো পতন আমার মতে সংশোধন। সেনসেক্স আরও ১ হাজার ২০০ ও নিফ্‌টি ৫০০ পয়েন্ট পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এতে ভারতীয় বাজারের ভিত মজবুত হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞ অনিল আগরওয়ালের মতে, বিদেশের বাজারগুলো পড়ছে বলেই ভারতের সূচকে এমন ধাক্কা লাগছে। এ দেশের আর্থিক অবস্থা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো। তবে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের পতন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার আশা, ভারতের শেয়ারবাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে।

ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ- এসঅ্যান্ডপি: মূল্যায়ন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তাদের আগের করা ৭.৩ শতাংশেই বহাল রেখেছে। তবে তাদের মতে মূল্যবৃদ্ধির হার ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজ়ার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বেঁধে দেয়া ৬ শতাংশের সীমার ওপরেই থাকবে। ভারতে প্রবৃদ্ধির ৬.৯% অনুমান বহাল আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডির রিপোর্টেও। গত সোমবার (ভারতীয় সময় রাতে) খোলার পরেই মন্দার আশঙ্কায় ফের হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। তার আগে ডলারে সাপেক্ষে ঐতিহাসিক তলানিতে নেমেছে ব্রিটিশ পাউন্ডও। ধাক্কা খেয়েছে সরকারি বন্ডের বাজার।


লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন

লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা

নো ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর পড়তির দিকে থাকা শেয়ার দর তরতর করে বাড়তে থাকে এজিএমে ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শেয়ার দর ৫০ শতাংশ বেড়েও যায়। তবে সেই লভ্যাংশ আর বিতরণ করা হয়নি।

এই কাণ্ড করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার পর এই কাণ্ড করেছে তারা।

আগের বছরেও একই কাজ করেছে কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ করে যে প্রতিবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে দেয়ার কথা ছিল, সেটি জমা দেয়া হয়নি। বিষয়টি অবহিত করে নির্দেশনা চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগ উঠেছে, লভ্যাংশসংক্রান্ত এসব ঘোষণা দিয়ে শেয়ার দর বাড়িয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি কিছুই জানেন না।

নো ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর পর শেয়ার দরে লাফ

২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও গত ২৩ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে সে প্রস্তাব বাতিল করে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

কিন্তু সেই লভ্যাংশ বিতরণ করার কোনো সিদ্ধান্ত আর জানানো হয়নি।

২০২১ সালের ১১ নভেম্বর কোম্পানিটি লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। পরিচালনা পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের পর শেয়ার দর কমে আসে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

এজিএমের দিন শেয়ার দর ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সা। লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা পাল্টানোর সিদ্ধান্ত আসার পর শেয়ার দর আবার দেয় লাফ। ১২ কর্মদিবস পর ১০ জানুয়ারি শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। এ সময়ে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

যে কোম্পানিটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা ছিল, লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সেটি আর সেই ক্যাটাগরিতে না গিয়ে ‘বি’তে লেনদেন হতে থাকে।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে জানান, বিধান হলো এজিএমে লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীর হিসাবে পাঠাতে হবে। লভ্যাংশ শেয়ারে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা পাঠাতে হয় বিও হিসাবে আর নগদে হলে দিতে এখন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে হয়। আর যদি বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনে থাকেন, তাহলে নগদ লভ্যাংশও যাবে বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে।

কিন্তু এজিএমের ১০ মাসেও পর্যন্ত লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি শেয়ারধারীদের জানানো হয়নি।

আগের বছর একই চিত্র

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারের বিপরীতে পাঁচটি বোনাস শেয়ার ও ১০ পয়সা নগদ বিতরণ করা হয়।

ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর এজিএমে সেই লভ্যাংশ অনুমোদনও হয়। কিন্তু সে বছরও লভ্যাংশ বিতরণ করে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর দিন শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা। পরের বছর ৫ আগস্ট দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকা।

কোম্পানিটি ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি। অথচ এরই মধ্যে আরও একটি অর্থবছর শেষ হয়ে গেছে। জুনে যেসব কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে, হাতে গোনা এক দুটি বাদ দিয়ে বাকিগুলো মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কয়েক মাস আগেই।

ডিএসইর চিঠিতে যা বলা হয়েছে

বিএসইসিতে পাঠানো ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়, ডিএসইর ২০১৫ সালের রেগুলেশনস অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিতে লভ্যাংশ প্রদানসংক্রান্ত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে কমিশন নির্ধারিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই কোম্পানিকে কমিশনের অনুমোদনক্রমে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওয়েস্টার্ন মেরিন দুই বছর ধরে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা না দেয়ার পরও তাদের ‘ক্যাটাগরি’ সমন্বয় হয়নি।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া কোম্পানির যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দৈনিক বাংলা ডিএসইর চিঠিটি পেলেও সংস্থাটির মুখপাত্র ও উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ‘চিঠির বিষয়টি আমার জানা নেই। না জেনে কিছুই বলতে পারব না।’

ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদারের ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়েস্টার্ন শিপইয়ার্ডের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ২৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৯টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।


শঙ্কার মধ্যে ভারতে রপ্তানিতে চমক

শঙ্কার মধ্যে ভারতে রপ্তানিতে চমক
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পাশের দেশটিতে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত

আবদুর রহিম হারমাছি

নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারতের বিশাল বাজারে পণ্য রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পাশের দেশটিতে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আর মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে পোশাক খাত থেকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দেশটিতে রপ্তানির পালে হাওয়া লাগবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। মন্ত্রী বলেছেন, ‘গত অর্থবছরে আমরা ভারতে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছি। এবার আশা করছি, ৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। এভাবে এখন প্রতিবছরই ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো ভারতও হবে আমাদের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার।’

একই সুরে কথা বলেছেন রপ্তানিকারক ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হতে চলেছে ভারত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হোঁচট খেলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না। বছর শেষে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাশের দেশ ভারতে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। দ্বিতীয় মাস আগস্টে তা বেড়ে ২২ কোটি ২৫ লাখ হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই বাজারে ১২ কোটি ৬১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের ঘরে পৌঁছে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরের উল্লম্ফনের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও রপ্তানি বাড়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের বাজার ভালোভাবে ধরতে পারলে আমাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, ভারতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ব্র্যান্ড-সচেতনতা। এ কারণে সেখানে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। আবার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও দেশটিতে নতুন নতুন বিক্রয়কেন্দ্র খুলতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সেই সুফলই এখন পাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আরও বাড়বে- এমন আশার কথা শুনিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বিজেপি ও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। এটাই উপযুক্ত সময়। সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে ভারতের বাজার ধরতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এই দুই মাসে এই খাত থেকে প্রায় ১৯ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।

ইপিবির সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে ভারত এখন বাংলাদেশের সপ্তম রপ্তানি বাজারের তালিকায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি এখন ভারত। অথচ ২০২০-২১ অর্থবছরেও বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল না। আগের বছরগুলোতে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪ থেকে ১৫তম স্থানে।

সবার ওপরে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও পোল্যান্ড। পোল্যান্ড ও ভারতে রপ্তানির অঙ্ক প্রায় কাছাকাছি। গত অর্থবছরে পোল্যান্ডে রপ্তানি হয়েছে ২১৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে, তাও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এ-যাবতকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে অস্ত্র ও মাদক বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেয়। যদিও সেই সুবিধা খুব বেশি কাজে লাগাতে পারছিলেন না বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। ২০১১ সালের দিকে বাংলাদেশের বেশ কিছু কারখানার কাছ থেকে পোশাক নিয়ে টাকা দেয়নি ভারতীয় কোম্পানি লিলিপুট। সে জন্য বেশ কয়েক বছর পোশাক রপ্তানিতে ভাটা পড়ে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন শহরে পোশাকের নামিদামি বিদেশি অনেক ব্র্যান্ড বিক্রয়কেন্দ্র খোলায় তাতে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির এক প্রতিবেদনে ২০১৯ সালে বলা হয়েছিল, দুই বছরের মধ্যে ৩০০টি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভারতে বিক্রয়কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করছে। কারণ দেশটির মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে ১৯ শতাংশ হারে বাড়বে, যা কি না চীন, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় দ্রুত। ২০২২ সালে ভারতের কাপড়ের বাজার হবে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও ভারতে রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা অর্থবছর শুরু করেছি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আমাদের প্রধান দুই বাজার আমেরিকা-ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় আমরা পোশাক রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। ওই দেশগুলোর মানুষ এখন পোশাক কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় আমরা যদি ভারতে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়াতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।’

দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার পারভেজ বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। ভৌগোলিক কারণেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন থেকে তা বাড়তেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রায় ১৫০ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার থেকে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি পোশাক কিনছে।’

‘ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশের কারখানায় পোশাক তৈরি করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন লিড টাইম কম লাগছে, অন্যদিকে খরচও কম হচ্ছে। ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে বেশ আলো আলোচনা হয়েছে। রপ্তানিতে অবশ্যই এর একটা ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’

সব মিলিয়ে ভারতের বিশাল বাজার বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য আগামী দিনে ‘সুদিন’ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন পারভেজ।

একই কথা বলেছেন গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির পর এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই কাছাকাছি উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে। আবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবকাঠামোগত যোগাযোগের উন্নতিও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত মান পরিপালনের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। তবে ভারতের বাজারে অনেক সময় অযৌক্তিকভাবে অশুল্ক বাধা আরোপ করা হয়। এই বাধা দূর করার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রপ্তানিকারকদের নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এ গবেষক আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করছে। বাংলাদেশ যথাযথ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে এ চুক্তি করলে ভারতে রপ্তানি বাড়বে। একই সঙ্গে আমাদের এখানে ভারতের বিনিয়োগ বাড়বে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি হবে।’

‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানকেই বেশ আন্তরিক মনে হয়েছে। সেপার বিষয়েও দ্রুত ভালো সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে হচ্ছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ভারতে আমাদের রপ্তানি দিন দিন বাড়বেই বলে মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশের নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভারতের দুজন বায়ার আমার কারখানা পরিদর্শনে এসেছিলেন। তারা দুজন আমার পুরোনো ক্রেতা। এবার তারা এসেছেন, আরও বেশি অর্ডার দিতে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভারতে আমাদের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। আমরা বেশ ভালোভাবেই ভারতের বাজারে প্রবেশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ভারতে আমাদের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। এটা এখন বাড়বেই। তেমন আভাস আমরা পাচ্ছি। আর সত্যি কথা বলতে কী, ভারতের বাজার যদি আমরা মোটামুটি ভালোভাবে ধরতে পারি, তাহলে আর আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। কেননা ভারত আমাদের পাশের দেশ, পরিবহন খরচ খুবই কম পড়বে। আমাদের মুনাফা বেশি হবে।’

‘ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে যদি কোনো কারণে সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের সমস্যা হবে না।’