সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২২

এসএফআইএলের প্রশংসায় বিদেশি বিনিয়োগকারী

এসএফআইএলের প্রশংসায় বিদেশি বিনিয়োগকারী
প্যাট্রিক জোসেফ।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে যাত্রা শুরু করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের (এসএফআইএল) প্রশংসা করেছেন সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান পিনাকল টাওয়ার্সের চেয়ারম্যান প্যাট্রিক জোসেফ। ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে বুধবার এসএফআইএলের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে তিনি এ প্রশংসা করেন।

‘স্বচ্ছতার বন্ধন’ স্লোগানকে সামনে রেখে ২০২০ সালের ১ সেপ্টেম্বর কার্যক্রম শুরু করে এসএফআইএল। মাত্র চার মাসেই লাভের মুখ দেখে প্রতিষ্ঠানটি।

দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ওয়েস্টিনে আয়োজন করা হয় জমকালো অনুষ্ঠানের। এতে এসএফআইএলের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি স্টেকহোল্ডাররাও অংশ নেন।

এসএফআইএলের ৯৮ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার প্রাতিষ্ঠানিক। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ কানাডা ও আমেরিকার সরাসরি বিনিয়োগ (এফডিআই) রয়েছে। আর বাকি ২ শতাংশ ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে ডিজিটাল অবকাঠামো প্রতিষ্ঠান পিনাকল টাওয়ার্সের চেয়ারম্যান প্যাট্রিক জোসেফ বলেন, ‘পিনাকল সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো কোম্পানি। এটি মোবাইল ফোন টাওয়ার, ফাইবার, ডেটা সেন্টারের মতো ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করে।’

নিজের ব্যাংকার পরিচয় তুলে ধরতে গিয়ে প্যাট্রিক বলেন, ‘আমি আসলে সাবেক ব্যাংকার… এখানে উপস্থিত বেশির ভাগই ব্যাংকার।’

স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংস গ্রুপের সঙ্গে পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে পিনাকল টাওয়ার্স চেয়ারম্যান বলেন, ‘প্রায় দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো গ্রুপের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়। বাংলাদেশি বাজারে প্রবেশের প্রাক্কালে তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল।

সঠিক স্থানীয় অংশীদার পাওয়া সব সময়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। পিনাকলের ক্ষেত্রে বলব, আমরা খুবই বড় বেসরকারি ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান কেকেআরের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি, যাদের ম্যানেজমেন্টের হাতে মোটা দাগে ৫০০ বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্যাট্রিক বলেন, ‘এশিয়ায় বড় পরিসরে অবস্থান করা কেকেআরের বাংলাদেশে ওই অর্থে বিনিয়োগ ছিল না। এ কারণে আমাদের অনেক বিস্তৃত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।

মার্কেটে প্রবেশের জন্য স্থানীয় অংশীদার দরকার ছিল। আমরা সফলভাবে লেনদেনে সক্ষম হয়েছিলাম, যার পেছনে মূলত ছিলেন স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংসের মূল উদ্যোক্তা।’

কোম্পানির বিনিয়োগের বিষয়ে পিনাকল টাওয়ার্স চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমরা দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগ করেছি। ইনশাআল্লাহ আমাদের বিনিয়োগ আগামী কয়েক বছরে ৩০০ মিলিয়ন (৩০ কোটি) ডলার ছাড়াবে বলে আশা করছি।’

এসএফআইএলের উদ্যোক্তাদের প্রশংসা করে বিদেশি এ বিনিয়োগকারী বলেন, তার ব্যবসা পরিকল্পনাসংক্রান্ত বিস্তৃত কৌশলগত জ্ঞান ও চিন্তার গভীরতা রয়েছে। এটা পুরো গ্রুপের জন্য প্রাপ্তি।

‘আমি খুশি যে, আমরা এ থেকে উপকৃত হয়েছি’, বলেন প্যাট্রিক।

অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এসএফআইএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইরতেজা আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল) শূন্য। আমরা দেখেশুনে ফাইন্যান্স করছি। একটু বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছি। আমানতকারীরা টাকা ফেরত চাইলে যেন সঙ্গে সঙ্গে সেটা দিতে পারি, এটাই আমাদের পরিকল্পনা। আমানত সুরক্ষা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য।’

এসএফআইএলের স্বতন্ত্র পরিচালক আরিফ খান বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানের মুনাফাকে শুধু টাকার অঙ্কে বিবেচনা করলে হবে না। অর্থের চেয়ে আস্থা অর্জন করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সে জন্য কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করা জরুরি। সেটি করতে পারলে মুনাফা এমনিতেই আসতে থাকবে।

ওই সময় দুই বছরে এসএফআইএলের সাফল্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন এ পরিচালক।

এসএফআইএল বাংলাদেশের একমাত্র জয়েন্ট ভেঞ্চার কনসোর্টিয়াম, যার রয়েছে কানাডা, আমেরিকা ও বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ।

দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির পোর্টফোলিও বেড়ে হয়েছে ৪৮২ কোটি টাকা। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগ করেছে ২১৬ কোটি টাকা।

২০২০ থেকে ২০২১ সালে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির নিট লাভ ২৭৩ শতাংশ। পরিচালন মুনাফা বেড়েছে ২৭৫ শতাংশ।


অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস

অর্থনীতিতে স্বস্তির বাতাস
ছবি: সংগৃহীত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • আড়াই মাসেই ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স

আবদুর রহিম হারমাছি

দেশের অর্থনীতি নিয়ে নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৫ দিনে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

সব মিলিয়ে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের আড়াই মাসে (১ জুলাই থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ৫১৪ কোটি ২৮ লাখ (৫.১৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে ডলারের দর ১০৮ টাকা হিসাবে টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ৫৫ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা।

গত ২০২১-২২ অর্থবছরের এই আড়াই মাসে ৪৫৪ কোটি ৪৯ লাখ (৪.৫৪ বিলিয়ন) ডলারের প্রবাসী আয় দেশে এসেছিল। এ হিসাবে আলোচ্য সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ।

ডলারের বিপরীতে টাকার বড় দরপতনে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ এবং ব্যাংকাররা। আর এতে অর্থনীতিতে এক ধরনের স্বস্তির বাতাস পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এখন কোনো প্রবাসী ১ ডলার দেশে পাঠালে তার পরিবারের যে সদস্যের নামে পাঠাচ্ছেন তিনি ১০৮ টাকা পাচ্ছেন। তার সঙ্গে আবার আড়াই শতাংশ সরকারের প্রণোদনাও পাচ্ছেন। সব মিলিয়ে তিনি যে টাকা তুলতে পারছেন, তা হুন্ডির মাধ্যমে পাঠালে যা পাওয়া যায়, তার সমান। সে কারণে প্রবাসীরা এখন ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। যার ফলে বাড়ছে এই সূচক; এটা দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো।’

ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘তবে, যেহেতু প্রবাসীরা এখন বেশি টাকা পাচ্ছেন, আমার বিবেচনায় এখন আর আড়াই শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া উচিত নয়।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ডলারের দর ১০৮ টাকার প্রভাব পড়েছে রেমিট্যান্সে। আগামী দিনগুলোতে এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকবে। গত দুই মাসের (জুলাই-আগস্ট) মতো সেপ্টেম্বর মাসেও ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স আসবে বলে আমরা আশা করছি।’

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল রোববার রেমিট্যান্সের সাপ্তাহিক যে তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম ১৫ দিনে (১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর) ১০০ কোটি ৮৭ লাখ (১ বিলিয়নের বেশি) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার। শতাংশ হিসাবে বেড়েছে প্রায় ১৭ শতাংশ।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাই মাসের চেয়ে বেশি ছিল ১২ শতাংশ। পরের মাস আগস্টে আসে ২০৩ কোটি ৭৮ (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া অর্থনীতিতে গত ৫ আগস্ট জ্বালানি তেলের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধিতে যখন দেশজুড়ে ক্ষোভ-হতাশা এবং আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই প্রশ্ন সবার মধ্যে, তখন চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের শুরু থেকেই স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

রেমিট্যান্সের এই উল্লম্ফনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আমাদের (সরকার) সাহস জোগাচ্ছে। করোনা মহামারির পর ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ধাক্কায় আমরা বেশ চাপের মধ্যে আছি। আগামী দিনগুলোতে কী হবে? এই দুশ্চিন্তা সবার মধ্যে, তখন স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের প্রবাহ। মনে করিয়ে দিচ্ছে ২০২০-২১ অর্থবছরের কথা। ভরা করোনা মহামারির মধ্যেও ওই অর্থবছরে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি। প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন ঘটে ওই বছরে। আশা করছি, চলতি অর্থবছরে তার চেয়েও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবেন আমাদের প্রবাসীরা।’

মহামারির মধ্যে ওই সময় অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন প্রবাসীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় অর্থনীতিতে যে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে, সেই সংকট কাটাতেও সবার আগে এগিয়ে এসেছেন প্রবাসীরা। আবার বেশি বেশি রেমিট্যান্স দেশে পাঠাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে রপ্তানিও বাড়ছে। আমদানি কমতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে একধরনের স্বস্তির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডলারের বাজারের অস্থিরতাও কমে আসবে বলে মনে হচ্ছে। এতে অনেকটাই চাপমুক্ত হবে দেশ। অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরে আসবে।’

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের বছরের (২০২০-২১) চেয়ে কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। কিন্তু চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। শুরু থেকেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রবণতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

অর্থ মন্ত্রণালয়ও তেমনই পূর্বাভাস দিয়েছে। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরজুড়ে (২০২১-২২) ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে থাকা প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সে নতুন অর্থবছরে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে।

এই অর্থবছরে রেমিট্যান্স বাড়ার কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘করোনা-পরবর্তী সময়ে দেশ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ শ্রমিক নতুন করে বিদেশে যাওয়ায় তাদের কাছ থেকে বাড়তি পরিমাণ রেমিট্যান্স পাওয়া যাবে।’ দেশের অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালচাল নিয়ে তৈরি করা পাক্ষিক প্রতিবেদনেও রেমিট্যান্স নিয়ে সুসংবাদের আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

১৫ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে সরকার ইতিমধ্যে রেমিট্যান্সে নগদ প্রণোদনা ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে। করোনা মহামারি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় সব প্রবাসী তাদের কর্মস্থলে ফিরেছেন। টাকার বিপরীতে ডলার বেশ খানিকটা শক্তিশালী হয়েছে। এই বিষয়টি আগামী মাসগুলোতে রেমিট্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।


সাকিবের বাবার নামের স্থানে ‘ভুল করে’ বসেছে হিরুর স্ত্রীর বাবার নাম

সাকিবের বাবার নামের স্থানে ‘ভুল করে’ বসেছে হিরুর স্ত্রীর বাবার নাম
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে ব্যবসা করার জন্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান যে ব্রোকারেজ হাউজ এর ব্যবসা খুলেছেন সেই কোম্পানির নিবন্ধনের সময় তার বাবার নামের স্থানে ভুল করে আরেক পরিচালকের বাবার নাম বসেছে।
ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন,‘ যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি এই ভুল করেছে। আমাদের কোম্পানির মেমোরেন্ডামে সব তথ্য ঠিক আছে। ’
‘রেজিস্টার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানি আরজেএসসি সাকিব আল হাসান এর বাবার নামের স্থানে ভুল করে আমাদের কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজি সাদিয়া হাসানের বাবার নাম লিখেছে।’, বলেন ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলমগীর হোসেন।
সাকিব আল হাসানের বাবার নাম খন্দকার মাসরুর রেজা। কিন্তু গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড কোম্পানির ফর্ম ১৫ এ দেখা যাচ্ছে সাকিব আল হাসান এর বাবার নাম দেওয়া হয়েছে কাজী আব্দুল লতিফ।
এ বিষয়ে সাকিব আল হাসানের ব্যবসায়ীক পার্টনার আবুল খায়ের হিরু দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা যখন কোম্পানির পেইড আপ ক্যাপিটাল বাড়াতে গিয়েছি তখন এই ভুল হয়েছে। কাজী আব্দুল লতিফ আমার স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসানের বাবার নাম। এটি একটি প্রিন্টিং ভুল। ভুলে একজনের বাবার নামের যায়গায় আরেকজনের বাবার নাম লেখা হয়েছে।’
সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি কোম্পানির শেয়ারে কারসাজি করে যে চক্রটি ১৩৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে বলে বিএসইসির তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সেই কারসাজি চক্রের মূল অভিযুক্ত পুঁজিবাজারে বহুল আলোচিত-সমালোচিত মুখ আবুল খায়ের হিরু।
ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস এর মালিকানায় আছে সাকিব আল হাসান, আবুল খায়ের হিরুর স্ত্রী কাজী সাদিয়া হাসান, আবুল খায়ের হিরুর বাবা আবুল কালাম মাতবর ও জাভেদ এ মতিন নামে একজন।
কোম্পানি নিবন্ধন এর কাজ করেন এমন একজন দৈনিক বাংলাকে বলেন,‘ এই কোম্পানির তথ্য যখন তৈরি করা হয়েছে, ভুল তখন করা হয়েছে, যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর বা আরজেএসসি সেই ভুল তথ্যের উপর নিবন্ধন দিয়েছে।’
ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান গত কয়েক বছরে বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন, এর মধ্যে ব্রোকারেজ হাউজ মোনার্ক হোল্ডিংস লিমিটেড যাত্রা শুরু করে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে।


সিএমজেএফের গোলটেবিল: পুঁজিবাজারের মঙ্গলে সহজ ব্যাংক ঋণ বন্ধ করতে হবে

সিএমজেএফের গোলটেবিল: পুঁজিবাজারের মঙ্গলে সহজ  ব্যাংক ঋণ বন্ধ করতে হবে
সিএমজেএফের গোলটেবিল। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়াতে হলে দেশের ভালো সরকারি, বেসরকারি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে হবে। আর তাদের তালিকাভুক্ত করতে হলে দিতে হবে সঠিক প্রণোদনা। পাশাপাশি সহজ ব্যাংক ঋণ বন্ধ করতে হবে। অতালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যেন কর ফাঁকি না দিতে পারে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।  

গতকাল শনিবার পুঁজিবাজারবিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠকে এ বিষয়গুলো ওঠে আসে।

বক্তারা বলেন, কোনোভাবেই দেশের পুঁজিবাজারে আইপিও বন্ধ করা যাবে না, এ ছাড়া দেশের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা উচিত এবং বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে কর কাঠামো ঠিক করা দরকার। আর পুঁজিবাজারকে বড় করতে হলে সহজ ব্যাংক ঋণ বন্ধ করতে হবে।

শনিবার সকালে দেশের পুঁজিবাজার সাংবাদিকদের সংগঠন ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আর মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ) ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজার: বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শিরোনামে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে।

বাজারে ভালো কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করতে হবে

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান ।

তিনি তার গবেষণায় দেখান, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ভালো কোম্পানিগুলোর মুনাফা যে হারে বেড়েছে; পুঁজিবাজারও সেই হারেই বেড়েছে।

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের অনেক বেশি বিলিয়ন ডলার কোম্পানি লাগবে, যে কোম্পানিগুলো রিলায়েবল, যেগুলো অনেক বছর ধরে টেকসইভাবে বাড়তে পারবে।’

এ বিষয়ে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘যারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে, তাদের যদি পুঁজিবাজারে আনা যায় তাহলে দেশের পুঁজিবাজারের পরিধি বাড়বে, দেশের বিনিয়োগকারীরা উপকৃত হবে, দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে।’

লাগবে প্রণোদনা, বাড়াতে হবে সুশাসন

মনিরুজ্জামান বলেন, ‘কিছুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সার্কুলার ছিল- ঋণ দিতে হলে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ওপরে দিতে হবে। এই সার্কুলারটি এখনো পুরোপুরি ইফেক্টিভ হয়নি। এটা যদি বাস্তবায়িত হয় তাহলে দেখা যাবে কোম্পানিগুলো নিরীক্ষিত প্রতিবেদনে সঠিক তথ্য দেবে।’

‘এখন কোম্পানিগুলো কর না দিয়েও ছাড় পেয়ে যায় কিন্তু যখন সঠিক তথ্য দিতে হবে তখন কিন্তু কোম্পানিগুলো ট্যাক্স ইনসেনটিভ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবে, তখন কোম্পানিগুলো করা ছাড় পাওয়ার জন্য দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইবে।’

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হারের পার্থক্য কমপক্ষে ১৫ শতাংশ করতে। কিন্তু বাজেট করার সময় এসব কেন আমলে নেয়া হয় না, আমি বুঝি না।’

‘তালিকাভুক্ত হলে যদি ১৫ শতাংশ কম কর দিতে হয়, তাহলে অনেক কোম্পানি দেশের পুঁজিবাজারে আসবে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি ভালো কোম্পানিগুলো না আসতে চাইলে দরকার হলে আইন করে ভালো কোম্পানি যেমন নেসলে বা ইউনিলিভার-এর মতো কোম্পানিগুলোকে দেশের পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা উচিত।’

এ প্রসঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন ‘আমাদের দেশে একটি তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে অনেক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে থাকতে হয়। অন্যদিকে নন লিস্টেড কোম্পানিগুলো অনেক ধরনের কমপ্লায়েন্স এড়িয়ে যেতে পারে।’

আইপিও বন্ধ করা যাবে না

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল বৈঠকে মত দেন, দেশে যেহেতু শেয়ারের পর্যাপ্ত চাহিদা নেই, তাই আপাতত আইপিও বন্ধ করা দরকার। বৈঠকে কেউ কেউ বলেন, বাংলাদেশে আইপিওর মাধ্যমে টাকা তোলা ৫০ শতাংশ কোম্পানি খারাপ করছে।

কিন্তু আইপিও বন্ধ না করার পক্ষে মত দেন বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞ।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘আমাদের সাপ্লাই এবং ডিমান্ড দুটোই বাড়াতে হবে, কোনভাবেই আইপিও বন্ধ করা যাবে না।’

এ ছাড়া আইপিওর মাধ্যমে টাকা তোলা কোম্পানিগুলোর খারাপ করার বিষয়ে সাবেক বিএসইসি চেয়ারম্যান এম খাইরুল হোসেন বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য দেশে আমাদের দেশের তুলনায় বেশি কোম্পানি খারাপ করছে, ভারতে ৪০ শতাংশের বেশি কোম্পানি নন পারফরমিং।

মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে বিনিয়োগ করা উচিত

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীরা যদি দেশের মিউচুয়াল ফান্ড এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের ডিসক্রিশনারি একাউন্টের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেন, তাহলে কম ক্ষতির মুখে পড়বেন, দেশের পুঁজিবাজার স্থিতিশীল হবে। ’

পুঁজিবাজারে কর কাঠামো ঠিক করা দরকার

বিএমবিএ সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর তুলনায় আমাদের তো ডিভিডেন্ড ইল্ড অনেক হাই। ইন্ডিয়ার তুলনায় আমাদের ডাবল ডিভিডেন্ড ইল্ড। ইন্ডিয়াতে ডিভিডেন্ড ইল্ড ২ শতাংশের ঘরে। আমাদের দেশে ডিভিডেন্ড ইল্ড চার শতাংশের ওপরে। লভ্যাংশ ভালো থাকলেও আমাদের দেশে লভ্যাংশের ওপরে বেশি কর দিতে হচ্ছে। তাই অনেকে এখানে বনিয়োগ করতে চান না।’

সহজ ব্যাংক ঋণ বন্ধ করতে হবে

গোলটেবিল বৈঠকে পুঁজিবাজার বড় এবং ভালো করতে সহজ ব্যাংক ঋণ বন্ধ করার পরামর্শ দেন অনেকেই। এ বিষয়ে বিএমবিএর সভাপতি ছায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা ব্যবসা করে, তারা খুব সহজেই ব্যাংক থেকে ঋণ পেয়ে যায়। আমাদের এই বিষয়টি বন্ধ করতে হবে।’

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের স্টক মার্কেট সঠিকভাবে ডেভেলপমেন্ট হচ্ছে না। আমাদের ভালো কোম্পানিগুলো বাজারে আসছে না। নতুন নতুন কোম্পানিগুলো আসার মতো সুযোগও তৈরি হচ্ছে না। যেখানে ভালো কোম্পানিগুলোকে ঋণ দিতে ব্যাংক মুখিয়ে আছে, সেখানে ক্যাপিটাল মার্কেটে ভালো সুযোগ না পেলে তারা কেন আসবে? সুতরাং যতদিন ব্যাংকের লং টার্ম লোন দেয়ার তারল্য থাকবে, ততদিন ভালো কোম্পানি এখানে আসতে আগ্রহ দেখাবে না।’

সবার বক্তব্য শেষে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, ‘আমরা ক্রিটিসাইজ করব আমাদের ভালোর জন্য। তার আগে আমাদের জানতে হবে, বুঝতে হবে, আমাদের তুলনা কার সঙ্গে হচ্ছে এবং আমাদের বাস্তবতা কোথায়? যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, তখন একভাবে চিন্তা করতাম, যখন মাঠে এসেছি, দেখছি বইয়ে লেখা নিয়মকানুন সব জায়গায় পালন করা যায় না। বুকসের অ্যাপ্লিকেশন অনেক সময় করা যায় না এবং বাস্তবতার নিরিখে অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। আমি অনেক কিছুই চাই করতে। কিন্তু পারব না এই মুহূর্তে বা দুই বছরের মধ্যে। অনেক কিছুই প্রস্তুত না।’

তিনি বলেন, ‘ফাইন্যানশিয়াল লিটারেসি যদি না থাকে, কাজ করা না যায়, ডেরিভেটিভস মার্কেট নিয়ে কতটুকু এগোতে পারব। কয়টা লোক এর মানে বোঝে? এই জিনিসটা যে কী, কী করতে হবে, বাংলাদেশের পয়েন্ট ১ শতাংশ মানুষও কি সেটা জানে। তাহলে কীভাবে ডেরিভেটিস মার্কেট নিয়ে কাজ করব?’

‘আমি যেখানেই কাজ করতে যাই, ডিজিটাল বোর্ড নিয়ে, আইটিতে লোক পাই না। আমি যখন অপশনাল ডেরিভেটিস নিয়ে কাজ করছি, কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নিয়ে কাজ করছি চিটাগাংয়ে, আরইআইটি নিয়ে কাজ করছি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে, কই লোক তো পাচ্ছি না। কে করবে এগুলো। যদি কাজ করারই লোক না থাকে এই মার্কেটে প্লে করবে কারা? তাই লিটারেসি নিয়ে আমাদের প্রথম কাজ করতে হচ্ছে।’

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিলের চেয়ারম্যান ও সাবেক মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সদস্য মো. জাহিদ হাসান, বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহীম, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব নাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এজাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।


সুদের হার বৃদ্ধি: মন্দার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি

সুদের হার বৃদ্ধি: মন্দার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি
প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এর জেরেই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি। দিন দিন বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার একযোগে বাড়িয়েই চলেছে। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৩ সালে মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘বিশ্বে কি মন্দা আসন্ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। মূল্যস্ফীতি কমাতে চলতি মাসেই বৈঠকে বসছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। এই বৈঠক সামনে রেখেই বিশ্বব্যাংক গবেষণাটি করেছে।

ওয়াশিংটন থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপ। এই তিন শক্তির অর্থনীতির চাকা দ্রুত গতি হারাচ্ছে। এর মধ্যে আগামী বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মাঝারি কোনো আঘাত এলেও তার পরিণতি গড়াতে পারে মন্দায়। এই মন্দায় মারাত্মক পরিণতি ভোগ করবে মূলত উঠতি বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো।

বিশ্বব্যাংক বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেভাবে একযোগে সুদের হার বাড়াচ্ছে, তা গত পাঁচ দশকে আর দেখা যায়নি। এই প্রবণতা আগামী বছরও থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে করোনা মহামারির আগে মূল্যস্ফীতি যে পর্যায়ে ছিল, সেখানে ফিরে যেতে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট না-ও হতে পারে বলে ধারণা। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করবে- যা ২০০১ সালের গড় হারের দ্বিগুণের বেশি।

১৯৭০ সালের মন্দার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন সবচেয়ে সংকটে রয়েছে। আর আগের মন্দা শুরুর আগে মানুষের ব্যয়ের যে প্রবণতা ছিল, সে তুলনায় বর্তমানে মানুষ অনেক কম খরচ করছে। অর্থাৎ কমে গেছে ভোক্তার আস্থা।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এ প্রসঙ্গে বলছেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাপকভাবে কমে আসছে। ভবিষ্যতে যখন বিভিন্ন দেশ মন্দার কবলে পড়বে, তখন এই গতি আরও কমে আসতে পারে। ডেভিড ম্যালপাসের শঙ্কা, প্রবৃদ্ধি কমে আসার যে হাওয়া বইছে, তা অব্যাহত থাকবে। এর মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে উঠতি বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোকে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, সরবরাহব্যবস্থার সংকট এবং শ্রমবাজারের ওপর থাকা চাপ যদি প্রশমিত না হয়, তাহলে ২০২৩ সালে জ্বালানি খাত বাদে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। এই অঙ্কটা করোনা মহামারির আগের পাঁচ বছরের গড় মূল্যস্ফীতির প্রায় দ্বিগুণ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার অতিরিক্ত ২ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে চলতি বছরে এরই মধ্যে এ হার গড়ে ২ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে তারা।

বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা, একে তো চলছে অর্থনৈতিক সংকট, তারপর সুদের হার বৃদ্ধির এই পরিমাণ ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মাথাপিছু আয় সংকোচন করতে পারে। এমন পরিস্থিতিকেই সংজ্ঞাগতভাবে বৈশ্বিক মন্দা বলা হয়ে থাকে।

ডেভিড ম্যালপাসের ভাষ্যমতে, আসন্ন মন্দার ঝুঁকি এড়াতে ভোগ কমানোর চেয়ে বরং উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া উচিত নীতিনির্ধারকদের। একই সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে, বাড়াতে হবে উৎপাদনশীলতা।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আগের বিভিন্ন সময়ের মন্দা আমাদের দেখিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন দুর্বল থাকে, তখন লম্বা সময় ধরে মূল্যস্ফীতি বাড়তে দেয়া কতটা ঝুঁকির হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ দেয়া হয়েছে ১৯৮২ সালের মন্দার। তখন বিভিন্ন দেশের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হারানোর ৪০টির বেশি ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া উন্নয়নশীল অনেক দেশ এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হারিয়েছিল।’

সমস্যা সমাধানে কিছু পরামর্শও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আরও সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের এমন সব মধ্যমেয়াদি রাজস্ব পরিকল্পনা করতে হবে, যেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে এবং দরিদ্র ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছে এমন পরিবারকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।


রূপায়ণ সিটি উত্তরায় রূপায়ণ ম্যাজেস্টিক ফেইজের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর

রূপায়ণ সিটি উত্তরায় রূপায়ণ ম্যাজেস্টিক ফেইজের আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর
কন্ডো অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তর অনুষ্ঠানে রূপায়ণ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলসহ গ্রাহক ও অতিথিরা। ছবি: সৌজন্য
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

দেশের প্রথম প্রিমিয়াম মেগা গেইটেড কমিউনিটি রূপায়ণ সিটি উত্তরার রূপায়ণ ম্যাজেস্টিক ফেইজের ১১টি ভবনের ৩১৫টি কন্ডো অ্যাপার্টমেন্ট গ্রাহকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অ্যাপার্টমেন্টগুলো হস্তান্তর করেন রূপায়ণ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত করা হয়। এরপর রূপায়ণ সিটি উত্তরার অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এম মাহবুবুর রহমান।

পরে অতিথিদের নিয়ে রূপায়ণ সিটি উত্তরার গ্রাহকদের মাঝে কন্ডো অ্যাপার্টমেন্ট হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন রূপায়ণ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল এবং কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল।

এরপর রূপায়ণ সিটি উত্তরার হেড অব কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবিব প্রজেক্টের প্লানিং ডিজাইন ও কনস্ট্রাকশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন (অব.) পি জে উল্লাহ ও রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খান রাতুল।

রূপায়ণ সিটি উত্তরার ডিরেক্টর সেলস রেজাউল হক লিমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে এ সময় উপস্থিত ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুলের মা ফরিদা বেগম, ডিরেক্টর রোকেয়া বেগম নাসিমা, ভাইস চেয়ারম্যান আলী আকবর খান রতন, ভাইস চেয়ারম্যান নওরীন জাহান মিতুল এবং ডিরেক্টর সাইফ আলী খান অতুল, এশিয়ান গ্রুপ ও এশিয়ান টিভির চেয়ারম্যান হারুন অর রশীদসহ সন্মানিত গ্রাহক এবং প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

রূপায়ণ গ্রুপ জানিয়েছে, রূপায়ণ সিটি উত্তরার রয়েছে ৬৩ শতাংশ খোলা জায়গা, সবুজ খেলার মাঠ, সাড়ে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ জগিং ট্রাক, কমিউনিটি স্পেস, ইনডোর গেমস জোন, কমিউনিটি ক্লাব, কর্নার শপ, মসজিদ, স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্টসহ আধুনিক নগর জীবনের সব আয়োজন।