বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২২

ব্যাংক কার্ডে রেকর্ড লেনদেন

ব্যাংক কার্ডে রেকর্ড লেনদেন
ব্যাংক কার্ডে লেনদেন বেড়েছ।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ফুরিয়ে আসছে ব্যাংকে গিয়ে টাকা তোলা বা জমা দেয়ার দিন। পণ্য বা সেবা পেতেও এখন আর প্রয়োজন হয় না নগদ টাকা। ব্যাংকের কার্ডে স্বাচ্ছন্দ্যে পরিশোধ করা যায় অর্থ। যতই দিন যাচ্ছে ততই জনপ্রিয় হচ্ছে ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রি-পেইড কার্ড। সবশেষ হিসাব বলছে, কার্ডে একক মাস জুনে লেনদেন হয়েছে ৩৬ হাজার কোটি টাকা, যা একক মাস হিসাবে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ডেবিট কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ৩৪ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। আর ক্রেডিট কার্ডে হয়েছে ২ হাজার কোটি টাকার লেনদেন। অথচ করোনা আসার আগে এবং করোনার মধ্যে কার্ডে মাসে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১৪ থেকে ১৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ লেনদেন বেড়েছে ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার প্রকোপ কমে আসায় জীবনযাত্রা অনেকটা স্বাভাবিক ধারায় ফিরেছে। আবার ধীরে ধীরে কর্মচঞ্চল হচ্ছে অর্থনীতি। এমন অবস্থায় মানুষ খরচ বাড়িয়ে দেয়ায় বাড়ছে কার্ডের ব্যবহার। এখনো দেশের বড় অংশের মানুষের ব্যক্তিগত লেনদেন নগদ টাকায় হয়। কিন্তু আধুনিক জীবনব্যবস্থায় দিনকে দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে নগদ টাকার ব্যবহার কমছে।

গ্রাহকরা বলছেন, নগদ টাকা ঝুঁকি বেশি। কিন্তু কার্ডে টাকা থাকলে সে ক্ষেত্রে তুলনামূলক ঝুঁকি কম। এ ছাড়া পকেটে টাকা রাখার চেয়ে কার্ড রাখা বেশি নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।

ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, আগে অনেক গ্রাহক কার্ড নিতে চাইতেন না। কিন্তু এখন অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। অনেকে কার্ডে ঝুঁকছেন। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার কারণে ই-কমার্সে লেনদেন অনেক কমে গেছে। সেটি না হলে কার্ডে লেনদেন আরও বাড়ত।

প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিংয়ে গ্রাহকদের উৎসাহিত করেছে ব্যাংকগুলো। রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের সব ব্যাংকই এখন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এসব সেবায় যোগ হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম, অনলাইন সিআইবি রিপোর্ট, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রি-পেইড কার্ড, ভিসা কার্ড এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির এটিএম। এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে টাকা উত্তোলন ও জমা, রেমিট্যান্স বিতরণ, ইউটিলিটি বিল পরিশোধ ও বেতন-ভাতা প্রদান সবই সম্ভব।

ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেন

২০২১ সাল শেষে ডেবিট কার্ড ছিল ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৯টি। ছয় মাসে সেটা বেড়ে হয়েছে দুই কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ৩১টি। কার্ড বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে লেনদেনও। ডিসেম্বরে ডেবিট কার্ডে লেনদেন হয় ২৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। জুনে লেনদেন ৩৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা। এর আগে কখনো ডেবিট কার্ডে এক মাসে এত লেনদেন হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২১ সালের পুরোটা সময় ডেবিট কার্ডের সংখ্যা ও লেনদেন বেড়েছে। জানুয়ারিতে কার্ড ছিল ২ কোটি ১৬ লাখ ৭০ হাজার ৫২৬টি। এসব কার্ডে লেনদেনের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৭০ কোটি টাকা। বছরের শেষ ডিসেম্বরে কার্ড বেড়ে ২ কোটি ৫২ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫৯টিতে দাঁড়ায়। লেনদেন হয় ২৪ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা। চলতি বছরের ছয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জনুয়ারিতে ডেবিট কার্ড ছিল ২ কোটি ৫৫ লাখ ৭৪ হাজার ৬৬৮টি। লেনদেন হয় ২৪ হাজার ৭০১ কোটি টাকা। তিন মাস পর মার্চ শেষে কার্ডের সংখ্যা বেড়ে হয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৪৯ হাজার ৮৪৭টি। লেনদেনও বেড়ে হয় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর তিন মাস পর জুন শেষে ডেবিট কার্ড ব্যবহার আরও বাড়ে। এ সময় কার্ড ছিল ২ কোটি ৬৪ লাখ ৪৭ হাজার ২০১টি। এসব কার্ডে ২৮ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়। ডেবিট কার্ডের জানুয়ারিতে লেনদেন ২৪ হাজার ৭০১ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২৪ হাজার ৪১০ কোটি, মার্চে ২৮ হাজার ৩৭৫ কোটি, এপ্রিলে ৩৩ হাজার ৩১৭ কোটি, মে মাসে ২৬ হাজার ৫০ কোটি টাকা। জুন শেষে লেনদেন ৩৪ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকা।

ক্রেডিট কার্ড

গ্রাহকের তাৎক্ষণিক টাকার চাহিদা মেটাচ্ছে ক্রেডিট কার্ড। টাকার প্রয়োজনে কারও কাছে না গিয়ে এই কার্ডে ব্যাংকের বুথ থেকে নগদ টাকা তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্যের কেনাকাটা ও সেবার মূল্য পরিশোধ করা যাচ্ছে। কোনো সুদ ছাড়া টাকা পরিশোধে ৪৫ দিন পর্যন্ত সময় মিলছে। কোনো কোনো ব্যাংক কেবল সার্ভিস চার্জ নিয়ে ছয় মাসের জন্য বিনা সুদেও ঋণ দিচ্ছে। শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নয়, বিদেশে গিয়েও এসব কার্ডে বিদেশি মুদ্রায় লেনদেন করার সুযোগ রয়েছে। ২০২১ সাল শেষে ক্রেডিট কার্ডের সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৭৪ হাজার ৩৬২টি। ছয় মাস শেষে জুনে সেটা বেড়ে হয় ১৯ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬টি। ডিসেম্বরে ক্রেডিট কার্ডে ২ হাজার ২২৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়। জুনে লেনদেন ২ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। এটি ত্রেডিট কার্ডের তৃতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন। এর আগে চলতি বছর এপ্রিলে ক্রেডিট কার্ডে রেকর্ড ২ হাজার ৭১৫ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এক মাসে ক্রেডিট কার্ডে এত লেনদেন আগে কখনো হয়নি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লেনদেন হয় মার্চে, ২ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা। ক্রেডিট কার্ডের বিল সময়মতো দিতে না পারলে জরিমানার পাশাপাশি অনেক বেশি হারে সুদ দিতে হয়। ব্যাংকে সুদহার ৯ শতাংশ হলেও কার্ডের সুদ ২০ শতাংশ পর্যন্ত আছে। ২০২০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ক্রেডিট কার্ড ছাড়া অন্য সব ঋণে সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মানে ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ সুদ হওয়ার কথা ১৪ শতাংশ। তবে এই নির্দেশনাও অমান্য করে অনেক ব্যাংকই বিভিন্নভাবে এর চেয়ে বেশি টাকা আদায় করত। ফলে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে কোনো ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডে ২০ শতাংশের বেশি সুদ নিতে পারবে না বলে নতুন নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এটি ওই বছর ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়।


খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি

খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ১৪ শ কোটি ডলার দেবে এডিবি
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক লগো।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা বাড়াতে ১৪ বিলিয়ন বা এক হাজার ৪০০ কোটি ডলারের ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। গতকাল মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয় ম্যানিলা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান খাদ্যসংকট মোকাবিলায় আগামী তিন বছরে (২০২২-২৫) এই অর্থায়নের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। খাদ্যসংকট মোকাবিলায় দীর্ঘ মেয়াদে উন্নতি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতির প্রভাবের বিরুদ্ধে খাদ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তা জোরদার করতে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে বাংলাদেশসহ এডিবির সদস্যভুক্ত দেশগুলো।

এডিবি জানায়, এই অঞ্চলে খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এডিবির উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। এশিয়ায় ১১০ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের। ফলে এ অঞ্চলে খাদ্যের দামের কারণে স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব রয়েছে। এটা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ফার্ম ইনপুট, খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন, সামাজিক সুরক্ষা, সেচ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সমস্যার সমাধান-সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে অর্থায়ন করা হবে। এডিবি অন্যান্য কার্যক্রমে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে, যা খাদ্যনিরাপত্তায় অবদান রাখে। যেমন- জ্বালানি শক্তি, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবহন, গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা খাত।

এডিবির ৫৫তম বার্ষিক সভায় এটির অনুমোদন করা হয়। এই বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এডিবির প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, বিশ্ব একটি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি সংকটের জন্য একটি সময়োপযোগী এবং জরুরিভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। এশিয়ার অনেক দরিদ্র পরিবারকে ক্ষুধার্ত ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অতি দারিদ্র্যের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংকট বাড়ছে। এই অঞ্চলের উন্নয়নে আরও কাজ করতে হবে। উদীয়মান এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকির প্রভাব কমাতে খাদ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হবে।

মাসাতসুগু আসাকাওয়া বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়ার আগ্রাসন খাদ্যের প্রধান উপাদান ও সারের সরবরাহ ব্যাহত করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, করোনা সংকট এবং টেকসই কৃষি অনুশীলন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য ব্যবস্থা চাপে পড়েছে। এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের খাদ্য উৎপাদন ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ এ অঞ্চল খাদ্য আমদানি ও বৈদেশিক সারের ওপর নির্ভরশীল। সব ব্যবস্থায়ই ভেঙে পড়েছে। ইউক্রেন আক্রমণের আগেও এডিবির অনেক দেশে কিছু মানুষের পুষ্টিকর খাবারের অভাব ছিল। এখন এটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

এডিবি জানায়, এশিয়ার দরিদ্র মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা সহায়তায় উন্মুক্ত বাণিজ্যকে উন্নীত করা হবে। এডিবি সহায়তায় খামারের উৎপাদন ও জীবিকা উন্নত করবে, সারের ঘাটতি কমিয়ে দেবে এবং দক্ষ ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। এডিবি অর্থায়ন খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টনে বিনিয়োগে সহায়তা করবে, পুষ্টি বৃদ্ধি করবে এবং জলবায়ু মোকাবিলায় সহায়তা করবে।

এ প্রোগ্রামের আওতায় সহায়তা চলতি বছরে শুরু হয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চলবে। খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বেসরকারি খাতের সহ-অর্থায়নে অতিরিক্ত ৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহ করবে এডিবি। এডিবি খাদ্যনিরাপত্তায় বার্ষিক বিনিয়োগে ২০০ কোটি ডলার দিচ্ছে। চরম দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে একটি সমৃদ্ধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এডিবি। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এডিবি। বাংলাদেশসহ সংস্থাটির ৬৮টি সদস্য দেশ রয়েছে।


ভারতের শেয়ারবাজার ধস

ভারতের শেয়ারবাজার ধস
বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়।
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

বিশ্বে আর্থিক মন্দা দেখা দেয়ার আশঙ্কা ধাক্কা দিয়েছে বিনিয়োগকারীদের আস্থায়। ফলে প্রায় সব দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে লাগাতার পড়ছে ভারতের শেয়ারবাজারও। গত শুক্রবার হাজার পয়েন্টের বেশি পড়ার পরে সোমবার সেনসেক্স ৯৫৩.৭০ পয়েন্ট হারিয়ে নামে ৫৭ হাজারের ঘরে। এ দিনও লেনদেনের মাঝে একসময় পতন ১ হাজার পয়েন্ট ছাড়িয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই বিনিয়োগকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তাই মূল্যবৃদ্ধিকে রুখতে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশ বিপুল হারে সুদ বাড়ানোয় আর্থিক বৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা হাতের শেয়ার বেচে মুনাফা তুলে নিচ্ছেন আর যুক্তরাষ্ট্র সুদ বাড়ানোয় চাঙা সে দেশের ডলার এবং বন্ড বাজারে পুঁজি ঢালছেন। জিয়োজিৎ ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের গবেষণা বিভাগের প্রধান বিনোদ নায়ারের মতে, বাড়তে থাকা ডলারের দাম এবং শ্লথ আর্থিক বৃদ্ধি বিশ্বের শেয়ারবাজারকে অস্থির করছে। আর এইচডিএফসি সিকিউরিটিজের রিটেল গবেষণা বিভাগের প্রধান দীপক জসনির দাবি, শেয়ারের মতো সব ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগই অবস্থা কাহিল মূল্যবৃদ্ধি ও বিশ্বজুড়ে মন্দা দ্রুত মাথা তোলার আশঙ্কায়।

গত বুধবার থেকে চার দিনের লেনদেনে ভারতে ১০ হাজার ৯৭১ দশমিক ৫৭ কোটি রুপির শেয়ার বিক্রি করেছে বিদেশি বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলো। এর মধ্যে শুধু সোমবারেই ৫ হাজার ১০১ দশমিক ৩০ কোটি রুপির।

তবে শেয়ার ব্রোকিং সংস্থা ডিবি অ্যান্ড কোম্পানির কর্ণধার দেবু বিশ্বাসের দাবি, এই টানা পতনকে নেতিবাচক বলে মানতে পারছি না। কারণ, গত দুই মাসে সেনসেক্স প্রায় ৭ হাজার ৫০০ এবং নিফ্‌টি প্রায় ৩ হাজার পয়েন্ট বেড়েছিল। এই দফায় সূচক দুটির যথাক্রমে ২ হাজার ৫০০ ও ১ হাজারের মতো পতন আমার মতে সংশোধন। সেনসেক্স আরও ১ হাজার ২০০ ও নিফ্‌টি ৫০০ পয়েন্ট পড়লেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। এতে ভারতীয় বাজারের ভিত মজবুত হচ্ছে। যদিও বিশেষজ্ঞ অনিল আগরওয়ালের মতে, বিদেশের বাজারগুলো পড়ছে বলেই ভারতের সূচকে এমন ধাক্কা লাগছে। এ দেশের আর্থিক অবস্থা অন্য অনেক দেশের তুলনায় ভালো। তবে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের পতন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তার আশা, ভারতের শেয়ারবাজার শিগগিরই ঘুরে দাঁড়াবে।

ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৩ শতাংশ- এসঅ্যান্ডপি: মূল্যায়ন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল রেটিংস চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের আর্থিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস তাদের আগের করা ৭.৩ শতাংশেই বহাল রেখেছে। তবে তাদের মতে মূল্যবৃদ্ধির হার ডিসেম্বর পর্যন্ত রিজ়ার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার বেঁধে দেয়া ৬ শতাংশের সীমার ওপরেই থাকবে। ভারতে প্রবৃদ্ধির ৬.৯% অনুমান বহাল আন্তর্জাতিক সংস্থা ওইসিডির রিপোর্টেও। গত সোমবার (ভারতীয় সময় রাতে) খোলার পরেই মন্দার আশঙ্কায় ফের হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার। তার আগে ডলারে সাপেক্ষে ঐতিহাসিক তলানিতে নেমেছে ব্রিটিশ পাউন্ডও। ধাক্কা খেয়েছে সরকারি বন্ডের বাজার।


লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন

লভ্যাংশ ঘোষণা করেও দেয় না ওয়েস্টার্ন মেরিন
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা

নো ডিভিডেন্ড ঘোষণার পর পড়তির দিকে থাকা শেয়ার দর তরতর করে বাড়তে থাকে এজিএমে ১ শতাংশ লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যে শেয়ার দর ৫০ শতাংশ বেড়েও যায়। তবে সেই লভ্যাংশ আর বিতরণ করা হয়নি।

এই কাণ্ড করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের লভ্যাংশ ঘোষণার পর এই কাণ্ড করেছে তারা।

আগের বছরেও একই কাজ করেছে কোম্পানিটি।

ঘোষিত লভ্যাংশ বিতরণ করে যে প্রতিবেদন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসইতে দেয়ার কথা ছিল, সেটি জমা দেয়া হয়নি। বিষয়টি অবহিত করে নির্দেশনা চেয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি।

অভিযোগ উঠেছে, লভ্যাংশসংক্রান্ত এসব ঘোষণা দিয়ে শেয়ার দর বাড়িয়ে কোম্পানির কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ নিয়ে যোগাযোগ করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়ার জন্য কাউকে পাওয়া যায়নি। জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেছেন, তিনি কিছুই জানেন না।

নো ডিভিডেন্ডের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর পর শেয়ার দরে লাফ

২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি নো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও গত ২৩ ডিসেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএমে সে প্রস্তাব বাতিল করে ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে।

কিন্তু সেই লভ্যাংশ বিতরণ করার কোনো সিদ্ধান্ত আর জানানো হয়নি।

২০২১ সালের ১১ নভেম্বর কোম্পানিটি লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার দিন শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ১০ পয়সা। পরিচালনা পর্ষদের এই সিদ্ধান্তের পর শেয়ার দর কমে আসে ৯ টাকা ৫০ পয়সা।

এজিএমের দিন শেয়ার দর ছিল ১০ টাকা ২০ পয়সা। লভ্যাংশসংক্রান্ত ঘোষণা পাল্টানোর সিদ্ধান্ত আসার পর শেয়ার দর আবার দেয় লাফ। ১২ কর্মদিবস পর ১০ জানুয়ারি শেয়ার দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৬০ পয়সা। এ সময়ে বাড়ে ৪ টাকা ৪০ পয়সা বা ৪৩ দশমিক ১৩ শতাংশ।

যে কোম্পানিটির ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে যাওয়ার কথা ছিল, লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্তের কারণে সেটি আর সেই ক্যাটাগরিতে না গিয়ে ‘বি’তে লেনদেন হতে থাকে।

বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে জানান, বিধান হলো এজিএমে লভ্যাংশ অনুমোদনের ৩০ দিনের মধ্যে তা বিনিয়োগকারীর হিসাবে পাঠাতে হবে। লভ্যাংশ শেয়ারে দেয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা পাঠাতে হয় বিও হিসাবে আর নগদে হলে দিতে এখন সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠাতে হয়। আর যদি বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নিয়ে শেয়ার কিনে থাকেন, তাহলে নগদ লভ্যাংশও যাবে বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে।

কিন্তু এজিএমের ১০ মাসেও পর্যন্ত লভ্যাংশ বিতরণসংক্রান্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি শেয়ারধারীদের জানানো হয়নি।

আগের বছর একই চিত্র

২০২০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য ৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ২ দশমিক ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার। অর্থাৎ প্রতি ২০০ শেয়ারের বিপরীতে পাঁচটি বোনাস শেয়ার ও ১০ পয়সা নগদ বিতরণ করা হয়।

ওই বছরের ২৯ ডিসেম্বর এজিএমে সেই লভ্যাংশ অনুমোদনও হয়। কিন্তু সে বছরও লভ্যাংশ বিতরণ করে কোনো প্রতিবেদন দেয়া হয়নি।

পরিচালনা পর্ষদ লভ্যাংশসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর দিন শেয়ার দর ছিল ১১ টাকা ৫০ পয়সা। পরের বছর ৫ আগস্ট দর বেড়ে দাঁড়ায় ১৭ টাকা।

কোম্পানিটি ২০২১ সালের জুনে সমাপ্ত অর্থবছরের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করার পর এখন পর্যন্ত কোনো প্রান্তিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করেনি। অথচ এরই মধ্যে আরও একটি অর্থবছর শেষ হয়ে গেছে। জুনে যেসব কোম্পানির অর্থবছর শেষ হয়, সেগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে লভ্যাংশও ঘোষণা করেছে, হাতে গোনা এক দুটি বাদ দিয়ে বাকিগুলো মার্চে সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে কয়েক মাস আগেই।

ডিএসইর চিঠিতে যা বলা হয়েছে

বিএসইসিতে পাঠানো ডিএসইর চিঠিতে বলা হয়, ডিএসইর ২০১৫ সালের রেগুলেশনস অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে এক্সচেঞ্জ ও বিএসইসিতে লভ্যাংশ প্রদানসংক্রান্ত প্রতিবেদন সাত দিনের মধ্যে কমিশন নির্ধারিত ফরম্যাটে জমা দিতে হবে।

এর ব্যত্যয় ঘটলে সেই কোম্পানিকে কমিশনের অনুমোদনক্রমে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করার বিধান রয়েছে। কিন্তু ওয়েস্টার্ন মেরিন দুই বছর ধরে ডিভিডেন্ড কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা না দেয়ার পরও তাদের ‘ক্যাটাগরি’ সমন্বয় হয়নি।

ডিএসইর ওয়েবসাইটে দেয়া কোম্পানির যোগাযোগ নম্বরে ফোন করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। দৈনিক বাংলা ডিএসইর চিঠিটি পেলেও সংস্থাটির মুখপাত্র ও উপমহাব্যবস্থাপক শফিকুর রহমান বলেন, ‘চিঠির বিষয়টি আমার জানা নেই। না জেনে কিছুই বলতে পারব না।’

ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সাইফুর রহমান মজুমদারের ফোনে কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওয়েস্টার্ন শিপইয়ার্ডের অনুমোদিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ২৩৫ কোটি ২০ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এর বিপরীতে রিজার্ভ রয়েছে ২৬১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারসংখ্যা ২৩ কোটি ৫২ লাখ ৩ হাজার ৭৬৯টি। এর মধ্যে ৩০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৬ দশমিক ৯৯ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও বাকি ৫৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে।


শঙ্কার মধ্যে ভারতে রপ্তানিতে চমক

শঙ্কার মধ্যে ভারতে রপ্তানিতে চমক
চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পাশের দেশটিতে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত

আবদুর রহিম হারমাছি

নানা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জনসংখ্যার দেশ ভারতের বিশাল বাজারে পণ্য রপ্তানিতে চমক দেখিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) পাশের দেশটিতে ৩৭ কোটি ৪৫ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৩৬ দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি। ২০২১-২২ অর্থবছরের একই সময়ে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ২৭ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। আর মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে পোশাক খাত থেকে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের মধ্য দিয়ে দেশটিতে রপ্তানির পালে হাওয়া লাগবে বলে আশা করছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। মন্ত্রী বলেছেন, ‘গত অর্থবছরে আমরা ভারতে ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছি। এবার আশা করছি, ৩ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে। এভাবে এখন প্রতিবছরই ভারতে আমাদের রপ্তানি বাড়বে। ইউরোপ-আমেরিকার মতো ভারতও হবে আমাদের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার।’

একই সুরে কথা বলেছেন রপ্তানিকারক ও অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রপ্তানি বাজার হতে চলেছে ভারত। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হোঁচট খেলেও খুব বেশি সমস্যা হবে না। বছর শেষে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হবে।

গতকাল মঙ্গলবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক রপ্তানি আয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে পাশের দেশ ভারতে ১৫ কোটি ২০ লাখ ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। দ্বিতীয় মাস আগস্টে তা বেড়ে ২২ কোটি ২৫ লাখ হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে এই বাজারে ১২ কোটি ৬১ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। আগস্টে রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৮৭ লাখ ডলার।

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গত অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) ডলারের ঘরে পৌঁছে, যা ছিল আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরের উল্লম্ফনের পর চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেও রপ্তানি বাড়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। তারা বলছেন, প্রায় ১৫০ কোটি মানুষের দেশ ভারতের বাজার ভালোভাবে ধরতে পারলে আমাদের আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না। আরও সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক রপ্তানিকারকরা বলছেন, ভারতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ব্র্যান্ড-সচেতনতা। এ কারণে সেখানে স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোও শক্ত অবস্থান তৈরি করছে। আবার আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোও দেশটিতে নতুন নতুন বিক্রয়কেন্দ্র খুলতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সেই সুফলই এখন পাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী দিনগুলোতে রপ্তানি আরও বাড়বে- এমন আশার কথা শুনিয়ে অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই দেশের সরকারের মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে ভারতে বিজেপি ও বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আছে। এটাই উপযুক্ত সময়। সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে ভারতের বাজার ধরতে একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ইপিবির তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে ভারতে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। এই দুই মাসে এই খাত থেকে প্রায় ১৯ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৯ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।

ইপিবির সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক দেশ হিসেবে ভারত এখন বাংলাদেশের সপ্তম রপ্তানি বাজারের তালিকায় উঠে এসেছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের শীর্ষ ১০ বাজারের একটি এখন ভারত। অথচ ২০২০-২১ অর্থবছরেও বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ রপ্তানি বাজারের তালিকায় ভারতের স্থান ছিল না। আগের বছরগুলোতে ভারতের অবস্থান ছিল ১৪ থেকে ১৫তম স্থানে।

সবার ওপরে বরাবরের মতোই যুক্তরাষ্ট্র অবস্থান করছে। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি। তৃতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থানে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, স্পেন ও পোল্যান্ড। পোল্যান্ড ও ভারতে রপ্তানির অঙ্ক প্রায় কাছাকাছি। গত অর্থবছরে পোল্যান্ডে রপ্তানি হয়েছে ২১৪ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পণ্য।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে মাত্র তিনটি অর্থবছরে ভারতে পণ্য রপ্তানি ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলারের বেশি হয়েছে, তাও সেটা গত তিন বছরে। তার আগের বছরগুলোয় ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে। ২০২০-২১ অর্থবছরে বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা ভারতে ১২৮ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেন, যা ছিল এ-যাবতকালের সর্বোচ্চ। ২০১৯-২০ অর্থবছরের চেয়ে এ আয় বেশি ছিল প্রায় ১৭ শতাংশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের বাজারে ১২৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৯-২০ অর্থবছরে তা কমে ১০৯ কোটি ৬১ লাখ ৬০ হাজার ডলারে নেমে আসে।

২০১১ সালে ভারত বাংলাদেশকে অস্ত্র ও মাদক বাদে সব পণ্যে শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা দেয়। যদিও সেই সুবিধা খুব বেশি কাজে লাগাতে পারছিলেন না বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। ২০১১ সালের দিকে বাংলাদেশের বেশ কিছু কারখানার কাছ থেকে পোশাক নিয়ে টাকা দেয়নি ভারতীয় কোম্পানি লিলিপুট। সে জন্য বেশ কয়েক বছর পোশাক রপ্তানিতে ভাটা পড়ে। কিন্তু গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন শহরে পোশাকের নামিদামি বিদেশি অনেক ব্র্যান্ড বিক্রয়কেন্দ্র খোলায় তাতে পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পায়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাকেঞ্জি অ্যান্ড কোম্পানির এক প্রতিবেদনে ২০১৯ সালে বলা হয়েছিল, দুই বছরের মধ্যে ৩০০টি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ভারতে বিক্রয়কেন্দ্র খোলার পরিকল্পনা করছে। কারণ দেশটির মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে ১৯ শতাংশ হারে বাড়বে, যা কি না চীন, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর তুলনায় দ্রুত। ২০২২ সালে ভারতের কাপড়ের বাজার হবে ৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের।

রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি বাংলাদেশ চেম্বারের বর্তমান সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও ভারতে রপ্তানি আয়ে ভালো প্রবৃদ্ধি নিয়ে আমরা অর্থবছর শুরু করেছি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আমাদের প্রধান দুই বাজার আমেরিকা-ইউরোপের দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় আমরা পোশাক রপ্তানিতে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি। ওই দেশগুলোর মানুষ এখন পোশাক কেনা কমিয়ে দিচ্ছেন। এ অবস্থায় আমরা যদি ভারতে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়াতে পারি, তাহলে আমাদের জন্য খুবই ভালো হয়।’

দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ইভিন্স গ্রুপের কর্ণধার পারভেজ বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের কদর বাড়ছে। ভৌগোলিক কারণেই ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছে। এখন থেকে তা বাড়তেই থাকবে বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। প্রায় ১৫০ কোটি লোকের চাহিদা মেটাতে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনতেই হবে। ভারতে পোশাক তৈরি করতে যে খরচ হয়, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করলে তার থেকে অনেক কম পড়ে। সে কারণে সব হিসাব-নিকাশ করেই তারা এখন বাংলাদেশ থেকে বেশি বেশি পোশাক কিনছে।’

‘ভারতের অনেক ব্যবসায়ী এখন বাংলাদেশের কারখানায় পোশাক তৈরি করে তাদের দেশে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করছেন। এতে তাদের একদিকে যেমন লিড টাইম কম লাগছে, অন্যদিকে খরচও কম হচ্ছে। ‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিষয়ে বেশ আলো আলোচনা হয়েছে। রপ্তানিতে অবশ্যই এর একটা ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।’

সব মিলিয়ে ভারতের বিশাল বাজার বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকদের জন্য আগামী দিনে ‘সুদিন’ বয়ে আনবে বলে মনে করছেন পারভেজ।

একই কথা বলেছেন গবেষণা সংস্থা সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। দৈনিক বাংলাকে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারির পর এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশই কাছাকাছি উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের দিকে মনোযোগ বাড়িয়েছে। আবার বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অবকাঠামোগত যোগাযোগের উন্নতিও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের রপ্তানি আরও বাড়ানো সম্ভব। এর জন্য রপ্তানিকারকদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত মান পরিপালনের দিকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে। তবে ভারতের বাজারে অনেক সময় অযৌক্তিকভাবে অশুল্ক বাধা আরোপ করা হয়। এই বাধা দূর করার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং রপ্তানিকারকদের নেগোসিয়েশন দক্ষতা বাড়াতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এ গবেষক আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ বর্তমানে কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সেপা) স্বাক্ষর নিয়ে আলোচনা করছে। বাংলাদেশ যথাযথ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে এ চুক্তি করলে ভারতে রপ্তানি বাড়বে। একই সঙ্গে আমাদের এখানে ভারতের বিনিয়োগ বাড়বে। ভারতের বিনিয়োগকারীদের উৎপাদিত পণ্য তাদের দেশে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে রপ্তানি হবে।’

‘প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানকেই বেশ আন্তরিক মনে হয়েছে। সেপার বিষয়েও দ্রুত ভালো সিদ্ধান্ত আসবে বলে মনে হচ্ছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, ভারতে আমাদের রপ্তানি দিন দিন বাড়বেই বলে মনে হচ্ছে।’

বাংলাদেশের নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়েক দিন আগে ভারতের দুজন বায়ার আমার কারখানা পরিদর্শনে এসেছিলেন। তারা দুজন আমার পুরোনো ক্রেতা। এবার তারা এসেছেন, আরও বেশি অর্ডার দিতে। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ভারতে আমাদের পোশাকের চাহিদা বাড়ছে। আমরা বেশ ভালোভাবেই ভারতের বাজারে প্রবেশ করছি।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো ভারতে আমাদের রপ্তানি ২ বিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে। এটা এখন বাড়বেই। তেমন আভাস আমরা পাচ্ছি। আর সত্যি কথা বলতে কী, ভারতের বাজার যদি আমরা মোটামুটি ভালোভাবে ধরতে পারি, তাহলে আর আমাদের পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না। কেননা ভারত আমাদের পাশের দেশ, পরিবহন খরচ খুবই কম পড়বে। আমাদের মুনাফা বেশি হবে।’

‘ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে যদি কোনো কারণে সমস্যা হয়, তাহলে আমাদের সমস্যা হবে না।’


বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ হবে

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২০৩০-এর  দশকের মাঝামাঝি সর্বোচ্চ হবে
ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
  • ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের পূর্বাভাস

২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ হতে পারে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির হার। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের পূর্বাভাস অনুসারে- এ সময় অবকাঠামো খাতে ব্যয়, অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ এবং উচ্চ উৎপাদনশীলতার সুফল পেতে শুরু করবে বাংলাদেশ। গত বুধবার প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আমরা আশা করছি, বর্তমানের ৬ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হবে।’

প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনীতির ২০৫৩ সালে পর্যন্ত কেমন চিত্র হবে তা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দক্ষ মানবসম্পদ, গ্রামীণ এলাকায় আরও বিস্তৃত ইন্টারনেট সংযোগ, বিদেশি বিনিয়োগ, উদীয়মান খাতসমূহ এবং কর্মক্ষেত্রে আরও নারীর যোগদান, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হবে- এতে বলা হয়েছে। তবে জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ঘাটতি, অবকাঠামো খাতে ব্যয়ের সীমাবদ্ধতা থাকা, প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টসশিল্পে অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিষয়- বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের ক্ষেত্রে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরির ঝুঁকি হিসেবে থাকবে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স সতর্ক করে বলেছে, দেশের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের ক্ষতির মধ্যে পড়ার সংবেদেনশীলতাই ‘সবচেয়ে বড় হুমকি’।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক গণমাধ্যম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা শাখাটি মনে করে, যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ খাতে বাংলাদেশের চলমান একাধিক মেগা-প্রকল্প সম্পন্ন হলে– উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার যেসব চুক্তির আলোচনা চলছে, সেগুলো কার্যকর হলে তা বিনিয়োগ প্রবাহের সহায়ক হবে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স আশা করছে- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হালকা প্রকৌশল এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বিকাশের মাধ্যমে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য যোগ করার সরকারি চেষ্টা সফল হলে, তা আরও বিনিয়োগ আনবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

‘বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাত- তৈরি পোশাকে বৈশ্বিকপর্যায়ে স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র স্থাপনের প্রবণতা চলছে, এর ফলে সৃষ্টি হওয়া নেতিবাচক প্রভাব উদীয়মান খাতগুলোর বিকাশের সুবাদে অনেকটাই প্রশমিত রাখা যাবে’– উল্লেখ করে বলেছে, নতুন ধরনের কর্ম প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব, পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো গেলে, তা উদীয়মান খাতে দক্ষতার ঘাটতি পূরণে সহায়ক হবে।

প্রশিক্ষিত দক্ষ কর্মীরা বিদেশে গেলে- সেখান থেকে তারা আরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠাবেন। সেই সঙ্গে মানবসম্পদের অন্যান্য অর্জন যুক্ত হয়ে, ২০৫৩ সাল নাগাদ বাংলাদেশের কর্মমুখী জনসংখ্যা বৃদ্ধি কমে যাওয়ার নেতিবাচক প্রভাব প্রশমনে সহায়ক হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রপ্তানি চাঙা করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার অবকাঠামো খাতের ঘাটতি পূরণে- বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও মেগা-প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করছে। এতে আরও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতার চুক্তির আলোচনা চলমান থাকার কথা উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া জাপান, সিঙ্গাপুর এবং অন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।

গবেষণাটি বিশ্লেষণকারী ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্সের একজন অর্থনীতিবিদ অঙ্কুর শুকলা বলেন, ‘২০৪০-এর দশক থেকে বার্ষিক বিনিয়োগ আগের দুই দশকের ৮.৩ শতাংশ থেকে সামান্য বেড়ে ৮.৪ শতাংশ হওয়ার প্রত্যাশা করছি আমরা।’

উৎপাদনশীলতা স্থিতিশীলভাবে বাড়ার প্রক্ষেপণ করে ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স তাদের পূর্বাভাসে আশা প্রকাশ করেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নের পরিকল্পনাধীন ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিদেশি ব্যবসাগুলোকে আকৃষ্ট করবে। গ্রামীণ ডিজিটাল সেন্টার এবং ইন্টারনেট সংযোগের আরও সুগভীর বিস্তার- সেবা প্রদানের সুযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারি খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এ ছাড়া জাপান, সিঙ্গাপুর ও অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি হলে তা প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্থানীয় ব্যবসাগুলোকেও আরও সুদক্ষ করে তুলবে বলে মনে করছে ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্স। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিকাশের পথে সবচেয়ে বড় বিপদ বলেছে ব্লুমবার্গের গবেষণা শাখাটি।

জার্মানওয়াচের বৈশ্বিক জলবায়ু ঝুঁকি সূচক (গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স) প্রতিবেদনকে উদ্ধৃত করে সতর্কবাণী দিয়ে বলেছে, ‘বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান বিপুল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এতে সাগরে তলিয়ে যাবে অনেক জমি, কমবে কৃষি উৎপাদন আর বাস্তুচ্যুত হবে লাখ লাখ মানুষ।’

আউটলুক প্রতিবেদন জানিয়েছে- ‘ব্লুমবার্গ ইকোনমিক্স প্রক্ষেপণ করছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৪ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’ পোশাক খাত এর বাইরে কর্মসংস্থান তৈরি করতে না পারার ব্যর্থতাকে আরেকটি বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। কারণ অর্থনীতির প্রধানতম এ খাতে এখন বৈশ্বিকপর্যায়ে চলছে অটোমেশন- এতে করে এ খাতে ব্যাপক বেকারত্ব দেখা দিতে পারে।