শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২২

সুদের হার বৃদ্ধি: মন্দার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি

সুদের হার বৃদ্ধি: মন্দার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি
প্রতীকী ছবি
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরতে বিশ্বব্যাপী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে। বিশ্বব্যাংক মনে করছে, এর জেরেই বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় সংকটে বিশ্ব অর্থনীতি। দিন দিন বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নীতি সুদহার একযোগে বাড়িয়েই চলেছে। এর জেরে বিশ্ব অর্থনীতি ২০২৩ সালে মন্দার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

‘বিশ্বে কি মন্দা আসন্ন’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক। মূল্যস্ফীতি কমাতে চলতি মাসেই বৈঠকে বসছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) ও ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। এই বৈঠক সামনে রেখেই বিশ্বব্যাংক গবেষণাটি করেছে।

ওয়াশিংটন থেকে গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তির দিক দিয়ে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ইউরোপ। এই তিন শক্তির অর্থনীতির চাকা দ্রুত গতি হারাচ্ছে। এর মধ্যে আগামী বছরে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর মাঝারি কোনো আঘাত এলেও তার পরিণতি গড়াতে পারে মন্দায়। এই মন্দায় মারাত্মক পরিণতি ভোগ করবে মূলত উঠতি বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো।

বিশ্বব্যাংক বলছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যেভাবে একযোগে সুদের হার বাড়াচ্ছে, তা গত পাঁচ দশকে আর দেখা যায়নি। এই প্রবণতা আগামী বছরও থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে করোনা মহামারির আগে মূল্যস্ফীতি যে পর্যায়ে ছিল, সেখানে ফিরে যেতে এসব পদক্ষেপ যথেষ্ট না-ও হতে পারে বলে ধারণা। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়িয়ে ৪ শতাংশ করবে- যা ২০০১ সালের গড় হারের দ্বিগুণের বেশি।

১৯৭০ সালের মন্দার পর বৈশ্বিক অর্থনীতি এখন সবচেয়ে সংকটে রয়েছে। আর আগের মন্দা শুরুর আগে মানুষের ব্যয়ের যে প্রবণতা ছিল, সে তুলনায় বর্তমানে মানুষ অনেক কম খরচ করছে। অর্থাৎ কমে গেছে ভোক্তার আস্থা।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস এ প্রসঙ্গে বলছেন, বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ব্যাপকভাবে কমে আসছে। ভবিষ্যতে যখন বিভিন্ন দেশ মন্দার কবলে পড়বে, তখন এই গতি আরও কমে আসতে পারে। ডেভিড ম্যালপাসের শঙ্কা, প্রবৃদ্ধি কমে আসার যে হাওয়া বইছে, তা অব্যাহত থাকবে। এর মারাত্মক পরিণতি ভোগ করতে হবে উঠতি বাজার ও উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোকে।

বিশ্বব্যাংকের তথ্য বলছে, সরবরাহব্যবস্থার সংকট এবং শ্রমবাজারের ওপর থাকা চাপ যদি প্রশমিত না হয়, তাহলে ২০২৩ সালে জ্বালানি খাত বাদে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়াবে ৫ শতাংশে। এই অঙ্কটা করোনা মহামারির আগের পাঁচ বছরের গড় মূল্যস্ফীতির প্রায় দ্বিগুণ। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হার অতিরিক্ত ২ শতাংশ বাড়ানোর প্রয়োজন পড়তে পারে। তবে চলতি বছরে এরই মধ্যে এ হার গড়ে ২ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে তারা।

বিশ্বব্যাংকের শঙ্কা, একে তো চলছে অর্থনৈতিক সংকট, তারপর সুদের হার বৃদ্ধির এই পরিমাণ ২০২৩ সালে বিশ্বে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমিয়ে দিতে পারে বা শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ মাথাপিছু আয় সংকোচন করতে পারে। এমন পরিস্থিতিকেই সংজ্ঞাগতভাবে বৈশ্বিক মন্দা বলা হয়ে থাকে।

ডেভিড ম্যালপাসের ভাষ্যমতে, আসন্ন মন্দার ঝুঁকি এড়াতে ভোগ কমানোর চেয়ে বরং উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দেয়া উচিত নীতিনির্ধারকদের। একই সঙ্গে তাদের বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে, বাড়াতে হবে উৎপাদনশীলতা।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘আগের বিভিন্ন সময়ের মন্দা আমাদের দেখিয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন দুর্বল থাকে, তখন লম্বা সময় ধরে মূল্যস্ফীতি বাড়তে দেয়া কতটা ঝুঁকির হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ দেয়া হয়েছে ১৯৮২ সালের মন্দার। তখন বিভিন্ন দেশের ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হারানোর ৪০টির বেশি ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া উন্নয়নশীল অনেক দেশ এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হারিয়েছিল।’

সমস্যা সমাধানে কিছু পরামর্শও দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলেছে, মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত আরও সুস্পষ্টভাবে জানাতে হবে। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের এমন সব মধ্যমেয়াদি রাজস্ব পরিকল্পনা করতে হবে, যেগুলোর গ্রহণযোগ্যতা থাকবে এবং দরিদ্র ও দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে আছে এমন পরিবারকে সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে।


বিদেশি ঋণে হোঁচট

বিদেশি ঋণে হোঁচট
মার্কিন ডলার। ছবি: ফ্রিপিক
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
  • দুই মাসে বিদেশি ঋণ কমেছে ২৪.৩৮ শতাংশ

বিদেশি ঋণপ্রবাহ কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে মোট ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পেয়েছে বাংলাদেশ। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কম।

গত অর্থবছরের এই দুই মাসে ১১৪ কোটি ২৯ লাখ (১.১৪ বিলিয়ন) ডলারের ঋণ ছাড় করেছিল দাতারা।

গত অর্থবছরের ধারাবাহিকতায় বিদেশি ঋণপ্রবাহের উল্লম্ফন নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০২২-২৩ অর্থবছর। নতুন অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রায় ৪৯ কোটি ডলারের বিদেশি ঋণসহায়তা এসেছিল। গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে বেশি এসেছিল ৪৮ দশমিক ৫০ শতাংশ।

কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টে এসে হোঁচট খেয়েছে। এই মাসে ৩৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলারের ঋণ ছাড় করেছে দাতারা। যা আগের মাস জুলাইয়ের চেয়ে প্রায় ২৩ শতাংশ কম।

করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় ওলটপালট হয়ে যাওয়া বিশ্বপরিস্থিতিতে গত অর্থবছরে কম সুদের বিদেশি ঋণ প্রাপ্তিতে রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। ওই অর্থবছরে ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) ডলারের বেশি বিদেশি ঋণ ছাড় করেছিল দাতারা।

বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কখনোই এক অর্থবছরে এত বেশি ঋণসহায়তা পায়নি বাংলাদেশ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) গত বৃহস্পতিবার বিদেশি ঋণ ছাড়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) দাতাদের কাছ থেকে যে ৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে প্রকল্প সাহায্য এসেছে ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ডলার। আর অনুদান পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৪ লাখ ডলার।

গত বছরের একই সময়ে প্রকল্প সাহায্য পাওয়া গিয়েছিল ১১০ কোটি ৮৭ লাখ (১.১০ বিলিয়ন) ডলার। অনুদান এসেছিল ৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার।

ইআরডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ৭৯৫ কোটি ৭৫ লাখ ৬০ হাজার (৭.৯৬ বিলিয়ন) ডলার ঋণসহায়তা পেয়েছিল বাংলাদেশ।

তার আগে ২০১৯-২০ অর্থবছরে এসেছিল ৭৩৮ কোটি (৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশে বিদেশি ঋণ বাড়তে থাকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে। ওই বছরই এক লাফে অর্থছাড় ৩০০ কোটি থেকে ৬৩৭ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। তারপর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আসে ৬৫৪ কোটি ডলার।

শ্রীলঙ্কাসহ কয়েকটি দেশে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ নিয়েও নানা কথা হচ্ছে। যদিও দুই দেশের তুলনা নাকচ করছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, বাংলাদেশের জিডিপির তুলনায় বৈদেশিক ঋণ এখনো ১৩ শতাংশের নিচে; আর শ্রীলঙ্কার ক্ষেত্রে তা ৫০ শতাংশের কাছাকাছি।

হঠাৎ করে বিদেশি ঋণ কমার কারণ ব্যাখ্যা করে অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা মহামারি করোনার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দাতা দেশ ও সংস্থার কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ঋণসহায়তা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু এখন তো আর কোভিডের ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না। অস্থির বিশ্বপরিস্থিতিতে অন্যরাও আগের চেয়ে কম ঋণ নিচ্ছে। সে কারণেই বিদেশি ঋণ কমছে। আমার মনে হচ্ছে, এবার গতবারের চেয়ে ঋণ বেশ খানিকটা কম আসবে।’ তিনি বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমাদের দেখেশুনে ঋণ নিতে হবে। কম সুদের ঋণ ছাড়া অন্য ঋণ নেয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কেননা, আমাদের বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ৯৫ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। চিন্তার বিষয় হচ্ছে, এই ঋণ তো আমরা প্রতি ডলার ৮৪/৮৫ টাকা হিসাবে পেয়েছি।

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘এখন ডলারের দর ১০৮ টাকা ১১০ টাকা। ডলারের বাজার যদি স্বাভাবিক না হয়, দাম যদি না কমে, তাহলে আমাদের ঋণের বোঝা কিন্তু অনেক বেড়ে যাবে।’

সবচেয়ে বেশি ছাড় করেছে জাপান

২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-আগস্ট সময়ে সবচেয়ে বেশি অর্থ ছাড় করেছে জাপান, ৩২ কোটি ৯১ লাখ ডলার। চীনের কাছ থেকে পাওয়া গেছে ১৮ কোটি ৭২ লাখ ডলার। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক-এডিবি দিয়েছে ১৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। বিশ্বব্যাংক ছাড় করেছে ৯ কোটি ৪১ লাখ ডলার। ভারত দিয়েছে ৭ কোটি ১৯ লাখ ডলার।

এ ছাড়া রাশিয়ার কাছ থেকে পাওয়া গেছে ৪১ লাখ ১০ হাজার ডলার। এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি) দিয়েছে ১৭ লাখ ১০ হাজার ডলার।

প্রতিশ্রুতি বেড়েছে

ইআরডির তথ্য বলছে, জুলাই-আগস্ট সময়ে দাতাদের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই দুই মাসে ৭ কোটি ৩৩ লাখ ২২ হাজার ডলারের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দাতারা। এই বছরের জুলাই-আগস্টে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ৩০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। এ হিসাবে প্রতিশ্রুতি ৩ গুণ বেড়েছে।

সুদ পরিশোধ কমেছে

জুলাই-আগস্ট সময়ে আগে নেয়া ঋণের আসল ও সুদ বাবদ ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে সরকার। গত বছরের একই সময়ে সুদ-আসল বাবদ ২৯ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার শোধ করা হয়েছিল।

এ হিসাবে এই দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে সুদ-আসল পরিশোধ বাবদ প্রায় ৩ শতাংশ বেশি অর্থ শোধ করতে হয়েছে সরকারকে।

বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে আড়াই লাখ কোটি টাকা

আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে গত বুধবার টাকা-ডলারের বিনিময়হার ছিল ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ ১ ডলার কিনতে খরচ করতে হয়েছে ১০৭ টাকা ৬৫ পয়সা। এক বছর আগে ২১ সেপ্টেম্বর টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ২৭ পয়সা।

ডলারের বিপরীতে টাকার বিশাল এই পতন দেশের অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে- জানতে চাইলে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে (আইএমএফ) গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করা আহসান মনসুর বলেন, ‘ডলারের এই অস্বাভাবিক উল্লম্ফন আমাদের অর্থনীতিকে বড় ধরনের বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমদানি কমছে, রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ছে। কিন্তু ডলারের দর কমছে না; এরই মধ্যে অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে আমাদের।’

আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমি হিসাব করে দেখেছি, আমাদের বিদেশি ঋণের বোঝা ইতিমধ্যে আড়াই লাখ কোটি টাকা বেড়ে গেছে। আমাদের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ এখন ৯৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে সরকারি ঋণ ৭ হাজার কোটি (৭০ বিলিয়ন) ডলার। আর বেসরকারি খাতের ঋণ ২৫ বিলিয়ন ডলার। এক বছর আগে টাকা-ডলারের বিনিময় হার ছিল ৮৪/৮৫ টাকা। সে হিসাবে মোট ৯৫ বিলিয়ন ডলার ঋণের টাকার অঙ্ক ছিল ৮ লাখ ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। আর বর্তমানে ব্যাংকে ডলারের রেট ১১০ টাকা দরে যদি আমি হিসাব করি তা হলে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এই সহজ-সরল হিসাব কষেই আমি দেখতে পাচ্ছি, টাকার পতনে এক বছরে আমাদের বিদেশি ঋণের পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা বেড়েছে। এর মধ্যে সরকারি ঋণ বেড়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। আর বেসরকারি খাতের ঋণ বেড়েছে ৬৫ হাজার কোটি টাকা।’

এ পরিস্থিতিতে এখন আমাদের টাকার মান বাড়াতেই হবে; যে করেই হোক করতেই হবে। তা না হলে সংকট আরও বাড়বে।


যুক্তরাষ্ট্রে কেকেআরের সঙ্গে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রে কেকেআরের সঙ্গে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের বৈঠক
কেকেআর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং কেকেআর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নীল আর ব্রাউনের সঙ্গে ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে কেকেআর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট এবং কেকেআর ইনফ্রাস্ট্রাকচারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নীল আর ব্রাউনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ড. চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি এই বৈঠক করেন। 

জানা গেছে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম হলো কেকেআর বা কোহলবার্গ ক্রাভিস রবার্টস। এটির পরিচালনাধীন সম্পদ ৪৭০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।

ইতিমধ্যে কেকেআর সমর্থিত বহুজাতিক যোগাযোগ অবকাঠামো কোম্পানি পিনাকল টাওয়ার বাংলাদেশে এ খাতে বিনিয়োগের জন্য চুক্তি হয়েছে।

ঢাকার ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সম্প্রতি পিনাকল টাওয়ার্সের চেয়ারম্যান প্যাট্রিক জোসেফ বাংলাদেশে আরও ২০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের পেছনে চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের অনুপ্রেরণার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্যাট্রিক জোসেফ বলেন, ‘দেশের বাইরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সঠিক স্থানীয় অংশীদার পাওয়া সব সময়ই খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিনাকলের ক্ষেত্রে আমরা খুবই বড় বেসরকারি ইক্যুইটি প্রতিষ্ঠান কেকেআরের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছি, যাদের ম্যানেজমেন্টের হাতে মোটা দাগে ৫০০ বিলিয়ন ডলার রয়েছে।’

বাংলাদেশে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে প্যাট্রিক বলেন, ‘এশিয়ায় বড় পরিসরে অবস্থান করা কেকেআরের বাংলাদেশে ওই অর্থে বিনিয়োগ ছিল না। এ কারণে আমাদের অনেক বিস্তৃত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।’

‘মার্কেটে প্রবেশের জন্য স্থানীয় অংশীদার দরকার ছিল। আমরা সফলভাবে লেনদেনে সক্ষম হয়েছিলাম, যার পেছনে মূলত ছিলেন স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংসের মূল উদ্যোক্তা। তার মাধ্যমে বাংলাদেশে অনেক বিদেশি বিনিয়োগ এসেছে।’

উল্লেখ্য, স্ট্র্যাটেজিক হোল্ডিংসের মূল উদ্যোক্তা চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ডিজিটাল অবকাঠামো কোম্পানি পিনাকল মোবাইল ফোন টাওয়ার, ফাইবার, ডেটা সেন্টারের মতো ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করে থাকে।


মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থনগত নানা দিক ও সুবিধার কথা তুলে ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের হোটেল লোটে প্যালেসে এক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানান সরকারপ্রধান।

যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কৌশলগত অবস্থান এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক হাব হওয়ার জন্য প্রচুর সম্ভাবনার দাবি রাখে। ভারত, চীন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অবস্থান ও ৪ বিলিয়ন মানুষের সম্মিলিত বাজারে মাঝখানে বাংলাদেশের অবস্থান।

গোলটেবিল বৈঠকে কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বেশ কিছু হাই-টেক পার্ক স্থাপন করছে। যদি প্রয়োজন হয় আমরা যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল দেব।

সরকারপ্রধান আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে উত্তরণ হবে, তাই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এবং রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আমাদের পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন। এই চ্যালেঞ্জিং প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশীদার হতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের উদার বিনিয়োগ নীতি রয়েছে, যার মধ্যে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা, ট্যাক্স হলিডে, রয়্যালটি রেমিট্যান্স, অনিয়ন্ত্রিত প্রস্থান নীতি, প্রস্থানের ওপর লভ্যাংশ এবং মূলধনের সম্পূর্ণ প্রত্যাবর্তনের সুযোগ।’

আইটি বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সঠিক গন্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছয় লাখেরও বেশি ফ্রি-ল্যান্সিং আইটি পেশাদার বাংলাদেশ রয়েছে। ফলে আইটি বিনিয়োগের জন্য সঠিক গন্তব্য বাংলাদেশ।


এখনই সুযোগ নিতে পারবে ২ হাজারের বেশি কোম্পানি

এখনই সুযোগ নিতে পারবে ২ হাজারের বেশি কোম্পানি
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • শিগগিরই চালু হচ্ছে এটিবি

ফারহান ফেরদৌস

ব্যবসায় মূলধন প্রাপ্তি ও শেয়ারের মালিকানা পরিবর্তন সহজ করতে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শিগগিরই চালু হচ্ছে বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থা বা অলটারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড (এটিবি)।

ব্যবস্থাটি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা যেকোনো কোম্পানি এটিবিতে সরাসরি তালিকাভুক্ত হয়ে শেয়ার লেনদেন করতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোম্পানিটিকে অবশ্যই প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তর হতে হবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারের বাইরে দুই হাজারেরও বেশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি রয়েছে। এসব কোম্পানি চাইলে সরাসরি এটিবিতে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে।  

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) গত ২৯ আগস্ট এ-সংক্রান্ত আইন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (অল্টারনেটিভ ট্রেডিং বোর্ড) রেগুলেশন, ২০২২ অনুমোদন দিয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর যা গেজেট আকারে প্রকাশের জন্য পাঠিয়েছে ডিএসই। এটি প্রকাশ হলেই এটিবি চালু হওয়ার পথে সব আইনি বাধা দূর হবে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা শেয়ার লেনদেনের এ বিকল্প ব্যবস্থাকে স্টক এক্সচেঞ্জে বৈপ্লবিক সংযোজন হিসেবে দেখছেন।

ডিএসই ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, এটিবি চালু হলে পুঁজিবাজারের বাইরের কোম্পানির উদ্যোক্তারা খুব সহজে মালিকানা পরিবর্তন বা শেয়ার হস্তান্তর করতে পারবেন। আগে এ কাজটি করতে অনেক খরচ হতো। এখন তা কম খরচেই করা যাবে। এ ছাড়া কোম্পানিগুলো সরাসরি শেয়ার লেনদেনের সুযোগ পাওয়ায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের মূলধন দিতে উৎসাহিত হবে। কেননা এটিবিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলোর বিনিয়োগ করা শেয়ার হস্তান্তরের অবারিত সুযাগ তৈরি হবে।

ভেঞ্চার ক্যাপিটাল হলো এমন ধরনের মূলধন, যা কোনো আর্থিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, যারা কি না ভবিষ্যতে লাভজনক হতে পারে এমন স্টার্টআপ বা ছোট কোম্পানিতে মালিকানা বা শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগ করে থাকে। সাধারণত বড় বড় বিনিয়োগকারী, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের তহবিল গঠন হয়ে থাকে। বাজারে বিনিয়োগকৃত শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের মুনাফা ও মূলধন ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে।

দেশে এতদিন শেয়ার লেনদেনের বিষয়টি সহজ ছিল না। ফলে বেশ কয়েকটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল জোগানদাতা প্রতিষ্ঠান থাকলেও, তা খুব বেশি কাজে আসছিল না।   

এটিবিতে কারা লেনদেন করতে পারবে

বর্তমানে যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের পরিদপ্তরে (আরজেএসসি) দুই লাখ ৬৩ হাজার ৮৮৮টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত আছে। এর মধ্যে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ১ লাখ ৯৫ হাজার ৪৫টি, পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি ২ হাজার ৫২৩টি আর একক মালিকানা কোম্পানি আছে ১৬৫টি।

বাকিগুলো হচ্ছে ট্রেড অর্গানাইজেশন, বিদেশি কোম্পানি, সোসাইটি আর অংশীদারি কোম্পানি। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে পুঁজিবাজারে আছে ৩৫০টি কোম্পানি। সেই হিসাবে ২ হাজার ১৭৩টি কোম্পানি এখন স্টক এক্সচেঞ্জের বাইরে। এই কোম্পানিগুলো এটিবি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের শেয়ার লেনদেনের সুযোগ নিতে পারবে। আর বাকিগুলোকে আগে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হতে হবে। 

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দৈনিক বাংলাকে জানান, পুঁজিবাজারে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেট বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে তালিকাচ্যুত বা তালিকাবহির্ভূত যে সিকিউরিটিজগুলো আছে সেগুলো এটিবিতে লেনদেন করা যাবে। এ ছাড়া ডেবট সিকিউরিটিজ ও মিউচুয়াল ফান্ডও লেনদেন হবে।

রেজাউল করিম বলেন, এটিবি চালু হলে বাজারে শেয়ারের সরবরাহ বাড়বে। সামগ্রিকভাবে যা বাজারে গভীরতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগের বিকল্প সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এটিবিতে কী সুবিধা মিলবে

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাবহির্ভূত যেকোনো কোম্পানি তাদের শেয়ার হস্তান্তর করতে গেলে ট্রান্সফার ফি ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটসহ বড় ধরনের খরচের বোঝা বহন করতে হয়। এ ছাড়া ১১৭ ফর্ম ফিলাপ করতে আরজেএসসিতে সশরীরে উপস্থিত থাকতে হয়। এটিবিতে এলে কোনো ধরনের ঝুট-ঝামেলা ছাড়াই সামান্য কমিশনেই শেয়ার হস্তান্তর করা যাবে। বাড়তি কোনো ফি দিতে হবে না। উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির বাজার মূল্য সম্পর্কে ধারণা পাবে। এ ছাড়া কোম্পানির পরিচিতি, সুনাম বা ব্র্যান্ড ভ্যালুও বাড়বে। 

এমনকি কোম্পানিগুলো ভবিষ্যতে এখান থেকে রাইট শেয়ার কিংবা প্রাইভেট প্লেসমেন্ট শেয়ার ছেড়ে তাদের মূলধন বাড়াতেও পারবে।

বিএসইসির মুখপাত্রের আশা, এতে অনেক কোম্পানি এখানে তালিকাভুক্ত হতে উৎসাহিত হবে। ফলে বাজার মূলধন ও লেনদেন বাড়বে। অর্থনৈতিক উন্নয়নে পুঁজিবাজারের গুরুত্বও বেড়ে যাবে।

এটিবিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো যাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির মতো কর সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে এনবিআরকে চিঠি দিয়েছে বিএসইসি। এনবিআরের সম্মতি পেলে সাড়ে সাত শতাংশ কর ছাড় পাবে কোম্পানিগুলো।

পুঁজিবাজারে এলে কোম্পানি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আগের চেয়ে বাড়ে, যা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিচ্ছিতে বড় ভূমিকা রাখে।

কীভাবে তালিকাভুক্তি

এটিবিতে তালিকাভুক্তি অনেকটা সরাসরি বা ডাইরেক্ট লিস্টিংয়ের মতো। নতুন শেয়ার না ছেড়ে উদ্যোক্তার হাতে থাকা শেয়ার বিক্রির উদ্দেশ্যে তালিকাভুক্তি নেয়া যাবে। শেয়ারের মূল্যও হবে বাজারভিত্তিক।  


ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৩ ধাপ এগিয়েছে

ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ৩ ধাপ এগিয়েছে
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
  • গ্লোবাল ফিন্যান্সের প্রতিবেদন

ইকবাল হোসেন

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় বাংলাদেশ চলতি বছর তিন ধাপ এগিয়েছে। এবার বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৭তম হয়েছে, গত বছর ছিল ১৪০তম। যুক্তরাষ্ট্রের গ্লোবাল ফিন্যান্স ম্যাগাজিন পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে বিশ্বের ধনী দেশগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেখানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে লুক্সেমবার্গ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর ও আয়ারল্যান্ড। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মালদ্বীপ। দেশটির অবস্থান ৬২তম। তালিকায় বাংলাদেশের আগে রয়েছে শ্রীলংকা, ভুটান ও ভারত। পরে পাকিস্তান ও নেপাল।  বাংলাদেশের পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ৬ হাজার ৬৩৩ ডলার।

তালিকায় বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিকে তুলনার জন্য পিপিপির (ক্রয় ক্ষমতার সমতা) ভিত্তিতে জিডিপির আকার হিসাব করা হয়। মূলত একটি দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানকে তুলনীয় করার জন্য নমিনাল জিডিপিকে ‘পিপিপি ডলারে জিডিপি’তে রূপান্তরিত করা হয়। প্রতিবেদনে চলতি বছরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এপ্রিলের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। গ্লোবাল ফিন্যান্স ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি এ তালিকা প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনী দেশ হিসেবে গত বছর লুক্সেমবার্গের অবস্থান ছিল তৃতীয়। এবার দেশটির অবস্থান শীর্ষে। পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয়ও গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। এ বছর এ আয় হলো ১ লাখ ৪০ হাজার ৬৯৪ ডলার, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ডলার। লুক্সেমবার্গ হলো ইউরোপের আরেক ট্যাক্স হ্যাভেন বা করস্বর্গ। প্রকাশিত তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর। তাদের মাথাপিছু আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৫৮০ ডলারে। তৃতীয় অবস্থানে আয়ারল্যান্ড। দেশটির মাথাপিছু আয় ১ লাখ ২৪ হাজার ৫৯৬ ডলার। চতুর্থ অবস্থানে উন্নীত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার। চলতি বছর দেশটির জনগণের মাথাপিছু আয় গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৭৮৯ ডলারে। পঞ্চম ম্যাকাও, মাথাপিছু আয় ৮৫ হাজার ৬১১ ডলার। সুইজারল্যান্ডে পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ৮৪ হাজার ৬৫৮ ডলার। দেশটির অবন্থান ষষ্ঠ। মাথাপিছু আয় ৭৮ হাজার ২৫৫ ডলার নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অবস্থান সপ্তম। নরওয়েতে পিপিতে মাথাপিছু আয় ৭৭ হাজার ৮০৮। দেশটির অবস্থান অষ্টম । ২০২০ সালে করোনার কারণে কঠিন সময় পার করলেও ধনী দেশের তালিকায় এগিয়ে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। পিপিপিতে মাথাপিছু আয় ৭৬ হাজার ২৭ ডলার। দেশটির অবস্থান নবম। ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ অনুসারে মার্চ ২০২০ থেকে এপ্রিল ২০২১-এর মধ্যে আমেরিকার ৭১৯ বিলিয়নিয়ারের সমষ্টিগত সম্পদের পরিমাণ ১ লাখ ৬২ হাজার কোটি  ডলার। বেড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। ব্রুনাই দারুসসালামে পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ৭৪ হাজার ৫৫৩ ডলার। তালিকায় এরপর রয়েছে হংকং, সানম্যারিনো, ডেনমার্ক, তাইওয়ান ও নেদারল্যান্ডসের।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপের পিপিপি জিডিপিতে মাথাপিছু আয় ২৯ হাজার ১৩৩ ডলার। এ ছাড়া শ্রীলংকার ১৫ হাজার ৩৮৭ ডলার (৯৮তম), ভুটানের ১২ হাজার ৯৬৭ ডলার (১১০তম), ভারতের ৮ হাজার ৩৫৮ ডলার (১২৭তম), পাকিস্তান ৬ হাজার ৪৭০ ডলার (১৩৮তম)  ও নেপাল ৪ হাজার ৫৭৮ ডলার (১৩৮তম)।