সোমবার, অক্টোবর ৩, ২০২২

২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি

২০০ কোটি ডলার দেবে এডিবি
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশকে ২০০ কোটি ডলার (২ বিলিয়ন) ডলার ঋণ সহায়তা দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বর্তমান বিনিময় হার হিসাবে (সরকারি রেট প্রতি ডলার ৯৬ টাকা) টাকার অঙ্কে এই অর্থের পরিমাণ ১৯ হাজার কোটি টাকার বেশি। সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিন্টিং অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান। ঋণ প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে উল্লেখ করে এডিমন বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে এডিবির দৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে এবং এডিবি সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।’

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গৃহীত উন্নয়ন প্রকল্পে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেবে এডিবি, যা প্রক্রিয়াধীন আছে।

কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর। বলেন, ‘করোনা মহামারি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ অন্যতম সেরা উদাহরণ স্থাপন করেছে।’

বাংলাদেশের গ্রামীণ ও নগর উন্নয়ন এবং এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করতে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে এডিবি।

মহামারি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এডিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে সবসময় এডিবি থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কান্ট্রি ডিরেক্টর ।

বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর।

বৈঠকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এডিবিকে আরও সহযোগিতা প্রদানের অনুরোধ জানান অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল।

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এবং বিশেষ করে কোভিড-১৯ এর ক্ষতিকর প্রভাব উত্তরণে দ্রুততার সঙ্গে বাংলাদেশকে সহায়তার জন্য এডিবির প্রশংসা করেন তিনি।

একই সঙ্গে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব উত্তরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানের জন্য এডিবিকে ধন্যবাদ জানান মুস্তফা কামাল।

বৈঠকে ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ও এডিবির ৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী এডিবি এ যাবৎ বাংলাদেশকে ২ হাজার ৭০০ কোটি (২৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা প্রদান করেছে।

বাংলাদেশকে সহায়তার ক্ষেত্রে এডিবি প্রধানত বিদ্যুৎ, শিক্ষা, পরিবহন, জ্বালানি, পানি সম্পদ, কৃষি, স্থানীয় সরকার, সুশাসন, আর্থিক এবং বেসরকারি খাতকে প্রাধান্য দেয়।

ম্যানিলায় যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী

আগামী ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এডিবির ৫৫তম বার্ষিক সভায় অংশগ্রহণের জন্য ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা ছাড়বেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, ইআরডি সচিব শরিফা খানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সভায় যোগ দেবেন।


নথিপত্র ছাড়াই ৬৩৭০ কোটি টাকা ঋণ

নথিপত্র ছাড়াই ৬৩৭০ কোটি টাকা ঋণ
নিয়ম না মেনে নাবিল গ্রুপকে ৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা ঋণ দেয় ৩ ব্যাংক।
মৌসুমী ইসলাম
প্রকাশিত
  • নিয়ম না মেনে নাবিল গ্রুপকে ঋণ দিল ৩ ব্যাংক

মৌসুমী ইসলাম

দেশের ব্যাংকিং খাতে একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও ‘নাবিল গ্রুপ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পর্যাপ্ত নথিপত্র ও জামানত ছাড়াই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে তিনটি ব্যাংক। তিনটি ব্যাংকই একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ যত টাকা ঋণ দেয়া যায়, তার সীমাও লঙ্ঘন করেছে।

এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক দিয়েছে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ১ হাজার ২০০ কোটি এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক দিয়েছে ১ হাজার ১২০ কোটি টাকা।

রাজশাহীভিত্তিক নাবিল গ্রুপের ওয়েবসাইটে গ্রুপটির ১৭টি প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ থাকলেও তাদের পণ্য হিসেবে দেয়া আছে চাল, আটা, ময়দা, সুজি, ডাল ও পশুখাদ্য।

ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, সম্পূর্ণ নতুন এই গ্রাহককে দেয়া এই ঋণ ঝুঁকি তৈরি করবে। কারণ, বড় অঙ্কের এই ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে ঠিকমতো জামানত রাখা হয়নি। প্রকল্প প্রস্তাব যাচাই করা হয়নি। ঋণ ব্যবহারের সক্ষমতা আছে কি না, তাও দেখা হয়নি। অনুমোদন দেয়ার সময় যে শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, পরের বোর্ডসভায় তাও শিথিল করা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এই ঋণ ওই সব ব্যাংকের পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বেনামি ঋণ হতে পারে।

ঋণ বিতরণে ব্যাংকগুলো কতটা উদার ছিল, তা উঠে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে। এতে তুলে ধরা হয়, ঋণ নেয়া গ্রুপটির একটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ঋণ আছে সাড়ে আট লাখ টাকা। ঋণের টাকা ব্যবহারের সক্ষমতা আছে কি না, তা যাচাই না করেই ওই কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফসাইট সুপারভিশন বিভাগ।

স্পষ্টতই অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে কিছু বলা হচ্ছে না। তবে নাবিল গ্রুপ দাবি করেছে, তারা নিয়ম মেনেই ঋণ পেয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র সিরাজুল ইসলামের কাছে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি কিছু বলতে পারেননি। তিনি বলেছেন, বিস্তারিত জেনে পরে জানাবেন।

কোন ব্যাংক কত দিল

সব মিলিয়ে তিন ব্যাংকের কাছে গ্রুপটির ঋণের পরিমাণ (ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরিভাষায় বিনিয়োগ) ৬ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংকের রাজশাহী শাখা চলতি বছরের ২১ মার্চ নাবিল ফিড মিলস ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নামে ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেয়। ব্যাংকটির গুলশান শাখায় নাবিল গ্রেইন ক্রপসের নামে অনুমোদন দেয়া হয় ৯৫০ কোটি টাকা ঋণ। অর্থাৎ ইসলামী ব্যাংক গ্রুপটিকে দিচ্ছে ৪ হাজার ৫০ কোটি টাকা।

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুনিরুল মওলাকে ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেননি। পরে ফোনে এসএমএস এবং হোয়াটস অ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও তিনি উত্তর দেননি।

গত ২৩ জুন ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ২৪৬তম বোর্ডসভায় নাবিল নব ফুড এবং তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নাবিল ফিড মিলস ও শিমুল এন্টারপ্রাইজের নামে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়।

এর আগে ৩০ মে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৪৮১তম বোর্ডসভায় গুলশান শাখা থেকে নাবিল নব ফুড এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠান নাবিল ফিড মিলস ও শিমুল এন্টারপ্রাইজের নামে ১ হাজার ১২০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে ফান্ডেড (নগদ) ৪৫০ কোটি এবং নন-ফান্ডেড (ঋণপত্র বা এলসি ও ব্যাংক গ্যারান্টি) ৬৭০ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে বিনিয়োগসীমা নতুনভাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন খাতে এই টাকা ব্যবহার হবে, তা উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে জানতে এসআইবিএলের এমডি জাফর আলমকে ফোন দিলে শাফায়াত নামে অন্য এক কর্মকর্তা ফোনটি ধরেন। তিনি জাফর আলমের ব্যক্তিগত সহকারী বা পিএস বলে পরিচয় দেন। এমডির সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার ব্যস্ত।’

পর্যাপ্ত নথি, জামানত ছাড়াই উদার হস্তে ঋণ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন একটি প্রতিষ্ঠানকে বিপুল পরিমাণ ঋণ দেয়া হলেও পর্যাপ্ত নথি নেই। এতে উল্লেখ করা হয়, অধিকাংশ ঋণেই কোনো ধরনের জামানত রাখা হয়নি। এই ঋণের অর্থ কোথায় ব্যবহার হবে তাও পরিষ্কার নয়। এ ছাড়া নতুন একটি গ্রুপকে এত টাকা ঋণ দেয়া হলেও তার পর্যাপ্ত নথি সংরক্ষণ করা হয়নি।

গ্রুপের একটি কোম্পানিকে ৯৫০ কোটি টাকা ঋণ দেয়া হয়েছে, কিন্তু সর্বশেষ সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট অনুসারে এর আগে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ওই কোম্পানির ঋণ আছে মাত্র সাড়ে আট লাখ টাকা। ফলে এই পরিমাণ অর্থ ব্যবহারের সক্ষমতা রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হয়নি।

এই ঋণ ব্যাংকের পরিচালকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বেনামি ঋণ কি না, সেই সন্দেহ করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে।

বিশেষ নিরীক্ষাটির সুপারিশ প্রতিবেদনে বলা হয়, এত বড় অঙ্কের ঋণের বিপরীতে কোনো জামানত নেয়া হয়নি। তিন মাসে এলসি কমিশন মাত্র দশমিক ১৫ শতাংশ। গ্যারান্টির ক্ষেত্রে নাবিল ফার্মের করপোরেট গ্যারান্টি নেয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৪৮১তম বোর্ড মিটিংয়ে এই ঋণ অনুমোদন দেয়া হলেও বোর্ডের ৪৮২ এবং ৪৮৩তম সভায় শর্ত শিথিল করা হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গ্যারান্টির ক্ষেত্রে সব পরিচালক এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীর গ্যারান্টি ছিল। কিন্তু তা শিথিল করে শুধু পরিচালকদের গ্যারান্টি রাখা হয়।

আমানত সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বলা হয়, নিজ নামে অথবা রেফারেন্সে অন্যদের নামে প্রাথমিকভাবে ২০০ কোটি এবং পরবর্তী সময়ে আমানত ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে, কিন্তু পরে তা শিথিল করে বলা হয়, পর্যাপ্ত আমানত রাখতে হবে। এই পর্যাপ্তের কোনো ব্যাখা দেয়া হয়নি।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, একটি নতুন ঋণের ক্ষেত্রে কোন বিবেচনায় শর্ত শিথিল করা হলো তাও জানা জরুরি। এ ছাড়া গ্রাহক বেনামে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান কি না, সেটিও যাচাই করতে হবে। কোন বিবেচনায় নতুন একজন গ্রাহককে তিন ব্যাংক এত বিপুল পরিমাণ ঋণ দিয়েছে, তা যাচাই করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে ফোর্সড (বাধ্যতামূলক) ঋণ আদায় অগ্রগতি অবহিত করা, কোন বিবেচনায় এই ঋণ দেয়া হলো তার ব্যাখা এবং বিস্তারিত কাগজপত্র জমা দেয়া।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলশান শাখার গ্রাহক নাবিল গ্রেইন ক্রপসের অনুকূলে ৯৫০ কোটি টাকা নন-ফান্ডেড ঋণ দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের নীতিমালা অনুসারে এই ঋণে ২৩০ কোটি টাকা জামানত হওয়ার কথা। ঋণের শর্তে ১১০ কোটি টাকার আমানত অথবা লিয়েন থাকার কথা বলা হয়েছে। এক জায়গায় বলা আছে, কৃষিপণ্য আমদানি ও বিপণনের জন্য এই অর্থ ব্যবহার হবে, কিন্তু সর্বশেষ সিআইবি প্রতিবেদন অনুসারে বিভিন্ন ব্যাংকে ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গ্রাহকের এক্সপোজার মাত্র সাড়ে আট লাখ টাকা।

প্রকল্প ঋণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গ্রাহক একেবারে নতুন। ফলে সম্পূর্ণ নতুন একজন গ্রাহককে বাণিজ্যের জন্য এই পরিমাণ ঋণ দেয়া হলো। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের বড় ব্যবসা পরিচালনার দক্ষতা এবং অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাই করা দরকার।

নাবিল ফিড মিলসের নামে নতুন করে ৭০০ কোটি টাকাসহ মোট ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে ইসলামী ব্যাংকের রাজশাহী শাখা, কিন্তু নাবিল গ্রেইন ক্রপস কোনো গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সন্দেহ, এটিও গ্রুপের প্রতিষ্ঠান। ফলে একক কোনো গ্রুপকে ঋণ দেয়া সংক্রান্ত যে আইন রয়েছে, এটি তার লঙ্ঘন।

একক প্রতিষ্ঠানের ঋণসীমা লঙ্ঘন

কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো কোম্পানি বা গ্রুপকে দিতে পারবে না। এই ঋণ ফান্ডেড ও নন-ফান্ডেড উভয় মিলেই। এ ক্ষেত্রে ফান্ডেড বা সরাসরি ঋণ হবে ১৫ শতাংশ, যা বড় ঋণ হিসেবে চিহ্নিত হবে। আগে সুদসহ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৫ শতাংশ।

নন-ফান্ডেড ঋণে রপ্তানি খাতের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ঋণকে ৫০ টাকা এবং বিদ্যুৎ খাতের ক্ষেত্রে ১০০ টাকার ঋণকে ২৫ টাকা হিসাবে গণনা করতে হবে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এমন নির্দেশনা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা এপ্রিল থেকে কার্যকর বলে উল্লেখ করা হয়।

গত জুন শেষে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মোট মূলধনের পরিমাণ ছিল ১০ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এর ২৫ শতাংশ হিসাবে ব্যাংকটি একটি গ্রুপকে সর্বোচ্চ দিতে পারে ২ হাজার ৫০৭ কোটি টাকা। কিন্তু তারা দিচ্ছে এর চেয়ে দেড় হাজার কোটি টাকা বেশি।

একই সময়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ছিল ৩ হাজার ৭১৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে ব্যাংকটি নাবিল গ্রুপকে সর্বোচ্চ ঋণ দিতে পারবে ৯৩০ কোটি টাকার মতো। তারা ২৭০ কোটি টাকা বেশি দিচ্ছে।

জুন শেষে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের মূলধন ছিল ৩ হাজার ২৬০ কোটি টাকা। এ হিসাবে ব্যাংকটি গ্রুপটিকে ঋণ দিতে পারে সর্বোচ্চ ৮১৪ কোটি টাকা। তারা বেশি দিচ্ছে ২৯৬ কোটি টাকা।

নাবিল গ্রুপের ব্যবসা কী

নাবিল গ্রুপের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন মো. জাহান বক্স মণ্ডল। এর পরিচালক ইসরাত জাহান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম এবং উপপরিচালক মো. মামুনুর রশীদ।

নাবিল গ্রুপের ওয়েবসাইটে গ্রুপটির ১৭টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাবিল নব ফুড, ফ্লাওয়ার মিল, ফিড মিল, অটো রাইস মিল, ডাল মিল, কনজ্যুমার প্রোডাক্টস, নাবিল ফার্ম, ক্যাটল ফার্ম এবং নাবিল ট্রান্সপোর্ট।

ওয়েবসাইটে গ্রুপের পণ্য হিসেবে কেবল ছয়টির কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো চাল, আটা, ময়দা, সুজি, ডাল ও পশুখাদ্য।

গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমিনুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমাদের সব কাগজপত্র রয়েছে। কোনো ঘাটতি নেই।’

জামানত ছাড়া ঋণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শতভাগ বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী ইনভেস্টমেন্ট হয়েছে। উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান আমরা। এখানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ কাজ করেন। নিয়মের মধ্যেই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ ছাড় করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক সরাসরি তদন্ত করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে সব ঠিক আছে।’

একক ঋণসীমা মানার বিষয়ে প্রশ্ন করলে এমডির দাবি, ‘অবশ্যই, নিয়ম মেনেই তিন ব্যাংক ঋণ দিয়েছে।’


৭ মাসে রেমিট্যান্সে হোঁচট, কমেছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি

৭ মাসে রেমিট্যান্সে হোঁচট, কমেছে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি
সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

সাত মাস পর সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে গত সেপ্টেম্বরে। অন্যদিকে ১৩ মাস পর রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে লেগেছে হোঁচট। অন্যদিকে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। তবে সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই দুই সূচকে নেতিবাচক ধারার কারণে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমেছে ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

রোববার দিন শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। বিকেলে রেমিট্যান্সের তথ্য জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স কমেছে ১১ শতাংশ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা ১৫৩ কোটি ৯৫ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন, যা গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ১৭২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার এসেছিল।

তবে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহে এখনও প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই তিন মাসে ৫৬৭ কোটি ২৭ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ৫৪০ কোটি ৮৩ লাখ ডলার পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ ১০ হাজার (২.১ বিলিয়ন) ডলার রেমিট্যান্স পাঠান প্রবাসীরা, যা ছিল গত ১৪ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর গত বছরের জুলাইয়ের চেয়ে ছিল ১২ শতাংশ বেশি।

পরের মাস আগস্টে আসে ২০৩ কোটি ৭৮ (২.০৪ বিলিয়ন) ডলার। প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬০ শতাংশ। এই দুই মাসে (জুলাই-আগস্ট) মোট রেমিট্যান্স এসেছিল ৪১৩ কোটি ৪১ লাখ (৪.১৩ বিলিয়ন) ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে যা ছিল ১২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি।

২০২১-২২ অর্থবছরে প্রবাসী আয়ে মন্দা দেখা দেয়। পুরো অর্থবছরে ২ হাজার ১০৩ কোটি (২১.০৩ বিলিয়ন) ডলার এসেছিল। আগের অর্থবছরের (২০২০-২১) চেয়ে কমেছিল ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরে ঘুরে দাঁড়ায় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। শুরু থেকেই ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। তবে ফের হোঁচট খেয়েছে গত মাসে।

২০২০-২১ অর্থবছরে করোনা মহামারির মধ্যেও অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা ছিল আগের অর্থবছরের (২০১৯-২০) চেয়ে ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে আশা করা হয়েছে, রেমিট্যান্স ঊর্ধ্বমুখী হবে এবং চলতি অর্থবছরে গত বছরের চেয়ে ১৫ শতাংশ বেশি আসবে।

রপ্তানি আয়ে হোঁচট

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রোববার সকালে রপ্তানি আয়ের তথ্য প্রকাশ করে। রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধিতে ১৩ মাস পর হোঁচট খেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ২৫ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আগের বছরের জুলাইয়ের চেয়ে রপ্তানি আয় কমেছিল ৬ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। এর পর থেকে এক বছরের বেশি সময় ধরে রপ্তানি আয়ে বড় প্রবৃদ্ধি হচ্ছিল। ৩৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ২০২১-২২ অর্থবছর শেষ হয়।


ভোজ্যতেলে ভ্যাট সুবিধা অব্যাহত থাকছে

ভোজ্যতেলে ভ্যাট সুবিধা অব্যাহত থাকছে
ভোজ্য তেল। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

ছয় মাস ধরে ভোজ্যতেলে উৎপাদন ও ব্যবসায় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর - ভ্যাট   মওকুফের যে সুবিধা ছিল, তার মেয়াদ আবারও বাড়তে পারে। অর্থাৎ ভোজ্যতেলে  (সয়াবিন ও পাম) ভ্যাট  সুবিধা অব্যাহত থাকছে।

ভোক্তাদের সুবিধার্থে ভোজ্যতেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিদ্যমান সুবিধা আরও তিন মাস বহাল রাখতে পারে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।

জানা যায়, ভোজ্যতেলের মূল্য ও সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাটের বিদ্যমান সুবিধা আগামী জুন পর্যন্ত বাড়াতে সম্প্রতি বাণিজ্যমন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে, বিদ্যমান সুবিধা আরও বাড়ানো হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনবিআরের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, আমরা বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি পেয়েছি। শিগগিরিই এ বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসবে।

বর্তমানে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে ৫ শতাংশ ছাড়া আর কোনো স্তরে ভ্যাট নেই। এই সুবিধাটি দুই দফা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। সবশেষ মেয়াদ ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর। এনবিআর সূত্র জানায়, বিদ্যমান সুবিধার মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়ানো হতে পারে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রণালয় থেকে এনবিআরে লিখিত চিঠিতে বলা হয়,  আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত (কাঁচামাল) সয়াবিন ও পামওয়েলের দাম কমলেও ডলারের দাম বাড়ার কারণে দেশীয় বাজারে পণ্যটির মূল্য কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

তাই, স্থানীয় বাজারে ভোজ্যতেলের মূল্য এবং সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে ভ্যাট অব্যাহতির বর্তমান মেয়াদ ১ অক্টোবর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পুনরায় বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

ভোজ্যতেল উৎপাদক ও বিপণনকারী কোম্পানি সিটি গ্রুপের পরিচালক বিশ্বজিৎ সাহা     দৈনিক  বাংলাকে বলেন, ভ্যাট মুওকুফ সুবিধার মেয়াদ অব্যাহত না রাখা হলে ভোজ্যতেল আমদানিতে শুল্ক কর হার বেড়ে যাবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারে। সে জন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, বর্তমান যে সুবিধা রয়েছে তার মেয়াদ আগামী বাজেট পর্যন্ত বহাল রাখা  হোক।

২০২০ সালের ১১৩ টাকা লিটার তেল এখন ১৯২ টাকা। দুই বছরের ব্যবধানে ভোক্তা পর্যায়ে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৯৪ শতাংশ।

ভোজ্যতেলের বাজার স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকার সয়াবিনের দাম  বেঁধে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে ১ লিটার সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯২ টাকায়। 

ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর গত মার্চ থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ভোজ্যতেলের দাম  অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেও দামে প্রভাব পড়ে।

এ অবস্থার প্রেক্ষিতে, দাম কমাতে উদ্যোগ নেয় সরকার। তারই অংশ হিসেবে চলতি বছরের ১৪ মার্চ এনবিআর প্রজ্ঞাপন জারি করে সয়াবিন ও পাম তেলের উৎপাদন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ এবং ব্যবসায় পর্যায়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করে।

এর দুই দিন পরে ভোজ্যতেলের আমদানি পর্যায়ে আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়। তখন এর মেয়াদ ঠিক করা হয় ৩০ জুন পর্যন্ত।

পরে ৩ জুলাই আরেকটি প্রজ্ঞাপনে ভ্যাট মওকুফ সুবিধার মেয়াদ বাড়িয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর করা হয়। যার মেয়াদ শেষ হয় শুক্রবার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের প্রেক্ষিতে, এখন সেই সুবিধার মেয়াদ আরেক দফা বাড়াতে যাচ্ছে এনবিআর।

এদিকে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমা অব্যাহত রয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানিকারক দেশগুলোতে মজুত বেড়ে যাওয়ায় এমন দরপতন হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি এক্সচেঞ্জ শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে গত ২৮ জুলাই সয়াবিন তেলের দর উঠেছিল টনপ্রতি ১ হাজার ৪৫১ ডলার।

তবে আগষ্ট-সেপ্টেম্বরে দাম কিছুটা বাড়ে। বর্তমানে টনপ্রতি দাম ১ হাজার ২০০ ডলার।

দেশের ব্যবসায়ীরা মূলত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে পরিশোধিত আকারে পাম অয়েল আমদানি করে।

আর অপরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল থেকে। বছরে ২১ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি হয়। এ ছাড়া মাড়াই করে পাওয়া যায় আরও তিন লাখ টন সয়াবিন।

দেশে সয়াবিন তেলের বড় অংশ বেচাকেনা হয় বোতলজাত হিসেবে।

কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বিশ্ববাজারে ভোজ্যতেলের দরপতন যেভাবে হয় দেশের বাজারে সেভাবে দাম কমানো হয় না। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে দেরি করেন না আমদানিকারকরা।

ক্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম যেভাবে কমেছে বাংলাদেশের বাজারে সেভাবে কমেনি। পাইকারি কিংবা খুচরা বাজারে এখনো বেঁধে দেয়া দামের বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভোক্তারা। আর লাভবান হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।


এলপি গ্যাসের দাম কমল ৩৫ টাকা

এলপি গ্যাসের দাম কমল ৩৫ টাকা
প্রতীকী ছবি
বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত

চলতি অক্টোবর থেকে এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৩৫ টাকা কমে ১২০০ টাকা হয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে এই দাম ছিল ১২৩৫ টাকা। লিটার প্রতি দাম ৫৫ দশমিক ৯২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আজ রোববার ভার্চুয়াল সাংবাদিক সম্মেলনে নতুন এই দাম ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল।

টানা কয়েকমাস ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর মে মাসে থেকে কমতে থাকে এলপি গ্যাসের দাম। চলতি মাসেও এলপি গ্যাসের দর কমলেও ডলারের দরের ঊর্ধ্বমুখিতার কারণে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের ভোক্তারা।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে এলপি গ্যাসের দাম গত এপ্রিলে (১২ কেজি) গিয়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৪৩৯ টাকায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এলপিজির দামের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় এ বছর। এপ্রিল মাসে (সৌদি আরামকো) সর্বোচ্চ দর ওঠে প্রপেন ৯৪০ বিউটেন ৯৬০ ডলার। ২০১৪ সালের পর আর কখনও এতো বেশি দরে বেচাকেনা হয়নি বাংলাদেশে রান্নার কাজে বহুল ব্যবহৃত এই জ্বালানি। চলতি মাসে প্রোপেন ও বিউটেনের দাম কমে যথাক্রমে ৫৯০ ও ৫৬০ ডলার হয়েছে। প্রোপেন বিউটেনের অনুপাত ৩৫ ও ৬৫ যার গড় দর দাঁড়িয়েছে প্রতি টন ৫৭০.৫০ ডলার।

ভোক্তা পর্যায়ে বিইআরসির ঠিক করে দেয়া দাম কার্যকর হচ্ছে না-এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, “কোনো ভোক্তা যদি বেশি দাম দিতে বাধ্য হন, তিনি যদি সেই কোম্পানির বিরুদ্ধে কমিশনে লিখিত অভিযোগ দেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির সদস্য মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, “বেশি দামে যারা কিনছেন, তারা রশিদটা নিয়ে আমাদের জানান, দেখেন না আমরা কি করি। আমরা কিন্তু লিখিত অভিযোগ পাইনি। দাম কার্যকরের ক্ষেত্রে ভোক্তাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। কোন কোম্পানি মানি না মানবো না, এমনটি বলার সুযোগ নেই। কেউ বললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

গত বছরের ১২ এপ্রিলের আগে পর্যন্ত এলপিজির দাম কোম্পানিগুলো ইচ্ছামত ঠিক করতো। ১২ এপ্রিল প্রথমবারের মতো দর ঘোষণা করে বিইআরসি। তখন বলা হয়েছিল, সৌদি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি আরামকো ঘোষিত দরকে আমদানি নির্ভর এই জ্বালানির ভিত্তি মূল্য ধরা হবে। সৌদির দর উঠানামা করলে ভিত্তিমূল্য উঠানামা করবে। অন্যান্য কমিশন অরপরিবর্তিত থাকবে। ঘোষণার পর থেকে প্রতিমাসে এলপিজির দর ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি।

সাধারণত মাসের তিন-চার তারিখের মধ্যে দর ঘোষণা করা হয়ে থাকে। কিন্তু চলতি মাসে ডলারের দর নিয়ে মতবিরোধ থাকায় জটিলতা দেখা দেয়। এলপিজি ব্যবসায়ীদের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত দরে তারা ডলার কিনতে পারছে না।

এলপিজি আমদানিকারকরা অপরেশনাল কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছে। ১১টি কোম্পানি বিইআরসিতে লিখিত আবেদন দেয়। তাদের দাবি হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় জাহাজ ভাড়া বেড়েছে, অভ্যন্তরীণ রুটের ভাড়াও বেড়েছে। সম্প্রতি কমিশনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছে আমদানিকারকরা। সেখানে গণশুনানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোম্পানিগুলো আবেদন জমা দিলেই গণশুনানি গ্রহণ করা হবে।

অন্যদের মধ্যে সংবাদ সম্মেলনে আরও অংশ নেন কমিশনের সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক, মোহাম্মদ বজলুর রহমান, কামরুজ্জামান, বিইআরসির সচিব খলিলুর রহমান খান।


লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত

লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত
লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সের ভার্চুয়াল সভা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত

লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের (এলএএফএল) চতুর্থ পর্ষদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২৯ সেপ্টেম্বর। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে পর্ষদ সদস্যরা সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা ও বাংলাদেশ থেকে যোগ দেন। 

সভায় সভাপতিত্ব করেন লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান জওহর রিজভী। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক শমীন্দ্র মার্সেলাইন, ক্লাইভ ফনসেকা, রোহান পাথিরেজ, আজ্জাম আহামাত, উদেশ গুনাওয়ারদেনা, সামিট হোল্ডিংস লিমিটেডের পরিচালক আজিজা খান, মাসকো গ্রুপের পরিচালক ফাহিমা আকতার, লংকান অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সিইও কান্তি কুমার সাহা এবং সিএফও বিশ্ব বিক্রমারাচ্চি। বিজ্ঞপ্তি