শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২

বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল মিলছে না

চিনি ও পাম তেল।
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বীর সাহাবী

সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল বিক্রি করছেন না ব্যবসায়ীরা। অনেক ব্যবসায়ী জানেনই না এ দুটি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়ার খবর।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দুটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। যা গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হলেও সে নির্দেশনা অনুযায়ী পাম সুপার খোলা তেল ও চিনি বিক্রি করছেন না দোকানিরা।

গতকাল রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মগবাজার, মহাখালীসহ বেশ কিছু বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেঁধে দেয়া এ দুটি পণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।

দেখা যায়, পাম সুপার তেল সেই আগের দাম ১৪৫ টাকা লিটারেই বিক্রি হচ্ছে। আর খোলা চিনি ৯০ টাকা ও প্যাকেটজাত চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কেন সরকারের বেঁধে দেয়া দামে চিনি ও পাম তেল বিক্রি করছেন না- এ প্রশ্নে কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা তো দাম নির্ধারণ করি না। দাম যারা নির্ধারণ করে তারাই এসব বিষয়ে বুঝবে। আমরা বেশি দাম দিয়ে কিনেছি, তাই সে দামেই বিক্রি করব। আমাদের কাছে এমন কোনো নির্দেশনা আসেনি।’

বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, দেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়লে সবাই তড়িঘড়ি করে দাম বাড়িয়ে দেন। কিন্তু যখন সে পণ্যের দাম কমার ঘোষণা আসে সরকারের পক্ষ থেকে, তখন আর কেউ সহজে দাম কমাতে চান না। বিগত দিনগুলোতে এমন কর্মকাণ্ডের জন্য বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানকে। তার পরও কোনো কাজ হচ্ছে না।

গত বৃহস্পতিবার অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন। তার পরও বাজারে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। বেশি মূল্যে পণ্য কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের; সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি হিসাব-নিকাশ করে চিনি ও পাম তেলের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়; কিন্তু সে মূল্যে কোনো ব্যবসায়ী এই দুটি পণ্য বিক্রি করছেন না।

দাম বাড়লে তা সরকারি নির্দেশনা দিলেই সঙ্গে সঙ্গে কমে যেতে হবে এমন কোনো আইন নেই বলে মনে করেন মহাখালীর এক খুচরা দোকানি। মফিজ উদ্দিন নামে এ বিক্রেতা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মূল্য সরকারিভাবে বাড়ানো হয়েছিল। আমরা সে অনুযায়ীই বিক্রি করছি। এখন আজ থেকে আবার কমার সিদ্ধান্ত দেয়া আছে শুনেছি। কমার সিদ্ধান্ত দিলেই কি সঙ্গে সঙ্গে কমিয়ে ফেলতে হবে? সিদ্ধান্ত নিছে কমার, তা আস্তে আস্তে কমবে।’

বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শাখা দুটি পণ্যের দাম নির্ধারণ করে এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে; যা গতকাল রোববার থেকে কার্যকর হয়। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, পাম সুপার তেল প্রতি লিটার খুচরায় সর্বোচ্চ ১৩৩ টাকা; যা এত দিন ১৪৫ টাকায় নির্ধারিত ছিল। মিল গেটে পাম তেল প্রতি লিটার ১২৮ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

একইভাবে পরিশোধিত খোলা চিনি প্রতিকেজি ৮৪ টাকা এবং প্যাকেট চিনি প্রতিকেজি সর্বোচ্চ ৮৯ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজারে খোলা চিনি ৯০ টাকা এবং প্যাকেট চিনি ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মিল গেটে খোলা চিনি প্রতিকেজি ৭৯ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে প্যাকেটজাত চিনি মিল গেটে ৮২ টাকা এবং পরিবেশক পর্যায়ে ৮৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকার ‘দ্য কন্ট্রোল অব অ্যাসেনসিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট-১৯৫৬’ এর ক্ষমতাবলে মিল গেট, পরিবেশক ও সর্বোচ্চ পর্যায়ে তেল, চিনির দাম নির্ধারণ করল।

এর আগে বিভিন্ন সময় তেল ও চিনির দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সবশেষ বাজার বিশ্লেষণ করে চিনি ও পাম তেলের দাম কমিয়ে ঠিক করে দেয়া হলো।

চাল, লবণসহ অত্যাবশ্যকীয় অন্তত ৯টি পণ্যের দাম বেঁধে দেয়া হবে বলে চলতি মাসের শুরুতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকশি দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, আমাদের নির্ধারিত মূল্যেই পাম তেল ও চিনি বিক্রি হচ্ছে। ভোক্তাদের সুবিধার্থে মন্ত্রণালয় মূল্য কমিয়ে নির্ধারণ করে দিয়েছে। যা গতকাল থেকে কার্যকর হয়েছে। বেঁধে দেয়া নতুন দর অনুযায়ী, খুচরায় চিনির মূল্য কেজিতে ৬ টাকা এবং পাম তেলের দাম লিটারে ১২ টাকার মতো কমেছে। তবে এ মূল্যের বাইরে যদি কোনো ভোক্তা কেনাকাটা করে তাহলে সে আইন অনুযায়ী ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ করবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোক্তা জরিমানার ২৫ শতাংশ ফেরত পাবে।’

ভোক্তার অভিযোগ অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান লতিফ বকশি।

এ প্রসঙ্গে ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘সরকার শুধু মূল্য বেঁধে দিলে হবে না, বাজার তদারক করতে হবে; মনিটর করতে হবে। যে মূল্য নির্ধারণ করে দেয়া হচ্ছে, সেই মূল্যে ব্যবসায়ীরা যাতে বাজারে পণ্য বিক্রি করে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভার, কাজী ফার্মস, সিটি গ্রুপসহ ১১ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করাকে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের ‘শুভ সূচনা’ বলে মন্তব্য করেছেন গোলাম রহমান।

তিনি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠার ১০ বছর পরে প্রথম কোনো দৃশ্যমান কাজ করল প্রতিযোগিতা কমিশন। কিছু করল বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা কমিশন। আর এই কাজকে শুভ সূচনা বলে আমি মনে করি।’

গোলাম রহমান বলেন, ‘ভোক্তাদের স্বার্থে প্রতিযোগিতা কমিশন তো এত দিন কিছুই করেনি। এই প্রথম বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করল। এখন দেখতে হবে, কত দ্রুততার সঙ্গে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। আইন অনুযায়ী কাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান অন্যায়ভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মানুষের পকেট থেকে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। সেই অপরাধে যদি সত্যিই এদের উপযুক্ত শাস্তি হয়, তাহলে বাজারে এর একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। অন্যরা ভয় পাবে, অযৌক্তিকভাবে ইচ্ছামতো আর পণ্যের দাম বাড়াবে না। দেশের মানুষ স্বস্তি পাবে।’

যুদ্ধ থেমে গেলে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে

মোহাম্মদ আলী খোকন
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৯:০৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিশ্ববাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশ দ্বিতীয় আর চীন প্রথম, গত দশক পর্যন্ত এমনই ছিল প্রচলিত তুলনা। তবে এ বছর অন্তত ইউরোপীয় ইউনিয়নে পোশাকের রপ্তানি বৃদ্ধিতে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। আর এতে পোশাক রপ্তানিকারকদের পাশাপাশি বস্ত্রশিল্প মালিকদেরও বড় অবদান রয়েছে বলে মনে করেন বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন। যুদ্ধ থেমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলাকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই আশার কথা শুনিয়েছেন মোহাম্মদ আলী খোকন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন দৈনিক বাংলার বিজনেস এডিটর আবদুর রহিম হারমাছি

বস্ত্রশিল্প খাতের অবস্থা এখন কেমন? দেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক রপ্তানিতে কতটা অবদান রাখছে এই খাত?
আমরা বস্ত্র খাতের ব্যাকওয়ার্ড শিল্পের (পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প) সবচেয়ে বড় সংগঠন। আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রপ্তানিতে আমাদের জোগান ছিল ৩৮ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের বস্ত্রের যে জোগান, সেটি আমরাই দিয়ে থাকি। আমরা বছরে দেশে সাত বিলিয়ন মিটার কাপড় জোগান দিই। যার অনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে আমাদের বছরের টার্নওভার প্রায় ৩৬ বিলিয়ন ডলার। আমাদের যে বিনিয়োগ ১ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা, এটি ক্যাপিটাল ইনভেস্টমেন্ট। এর সঙ্গে যদি আমরা ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল বিনিয়োগ যোগ করি, তাহলে মোট বিনিয়োগ হবে ২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে আমাদের এই খাতে ব্যাংকের বিনিয়োগ আছে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। তাই সামগ্রিক বিচারে আমাদের বস্ত্র খাতের অবদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই।

সবচেয়ে বড় কথা যেটি, সেটি হচ্ছে আমাদের এই ব্যাকওয়ার্ড শিল্প না থাকলে আজকে পোশাকশিল্পের অবদান কোনোভাবেই সম্ভব হতো না। এই যে গত অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫২ বিলিয়ন ডলারের বিদেশি মুদ্রা দেশে এসেছে, তাতে কিন্তু আমাদেরও বড় অবদান আছে। আমরা তুলা আনি, সেখান থেকে সুতা বানাই, সুতা থেকে কাপড়, কাপড় থেকে ডাইং ফিনিশিং করছি। সেখানে প্রিন্টিং হচ্ছে, চেক হচ্ছে, ডেনিম হচ্ছে, টুইল হচ্ছে, গ্যাবার্ডিন হচ্ছে, নিট ফ্যাব্রিক হচ্ছে নিট খাতকে ৯০ শতাংশ জোগানদাতা আমরা। ওভেন খাতে আমাদের জোগান হচ্ছে রপ্তানির ৪০ শতাংশ। আর ডেনিমের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ জোগানদাতা আমরা। বাংলাদেশে জ্বালানির বড় গ্রাহক আমরা। ১ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমরা ব্যবহার করছি। করোনাভাইরাসের সময় আমরা বিপদে পড়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণ উদ্যোগে আমরা বেঁচে গিয়েছিলাম। সেই সময়ের উদ্যোগের কারণে পরবর্তী সময়ে আমরা ভালো করতে পেরেছি। আসলে এই শিল্পটি ভালোর দিকে ছিল। নতুন বিনিয়োগ আসছিল; কর্মসংস্থান বাড়ছিল।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। কিছুদিন সংবাদ সম্মেলন করে বস্ত্র খাতের সংকটের কথা বলেছিলেন। এখন কেমন চলছে?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ইউরোপে যখন যুদ্ধ লাগল। গত মার্চ থেকে আমাদের অবস্থা খারাপ হতে থাকল। নামতে নামতে গত অক্টোবর আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে গেল; এখন যে ভালো সেটি বলব না। গত নভেম্বরে পোশাক রপ্তানি থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি যে আয় হয়েছে, সেটি অবশ্যই ভালো অর্জন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এই যে অর্জন হয়েছে তা হচ্ছে আগে আমাদের অনেকগুলো অর্ডার ছিল, সেটির কারণে হয়েছে। সামনে আমাদের অর্ডারগুলো আছে, কিন্তু খুব স্লো (ধীর) ডেলিভারি। সেগুলোর মধ্যে ক্রেতাদের সে রকম চাপ নেই যে মালটি দিতে হবে। অন্য সময় আমাদের ওপর চাপ থাকত যে মাল দিতে হবে। এমন অবস্থা মাঝে মাঝে হতো যে প্রাইজ যেটিই হোক, আমাকে মাল দিতে হবে।

সারা বিশ্বে এখন মন্দার ভাব। সেটির প্রভাব কিন্তু আমাদের দিকে আসছে। কিন্তু একটি কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমরা ভালো আছি; অনেক বড় বড় দেশের চেয়ে ভালো আছি। এই তো আমি ইউরোপের কয়েকটি দেশ ঘুরে এলাম, নিজ চোখে দেখে এলাম, তাদের তুলনায় আমরা অনেক ভালো আছি। বাংলাদেশে আমরা যতটা খারাপ করি, তার তুলনায় প্রচার-প্রচারণা বেশি। যেটি ইউরোপে হয় না। ইউরোপে অনেকের ঘরে খাওয়া নেই, কিন্তু আপনি এটির খবর দেখবেন না। কিন্তু বাংলাদেশে যদি ৯০টি ভালো সেবা পাওয়া যায়, আর ১০টি খারাপ সেবা পাওয়া যায়। আমরা ১০টির খবর পাই। আর ৯০টির খবর পাওয়া যায় না। আমি ৫টি কিস্তি আগে দিয়েছি এই খবর হয় না। কিন্তু বিসমিল্লাহ গ্রুপ টাকা নিয়ে গিয়েছে সেই খবর হয়। আমি গণমাধ্যমের সবাইকে বিনীত অনুরোধ করব যে আপনারা দেশকে নিয়ে পজিটিভ নিউজ করেন। বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে; আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে। সমালোচনার পাশাপাশি দেশের ভালো খবরও প্রচার করুন দয়া করে।

একটি কথা আমি বারবার বলে থাকি, কোনো দলের রক্ষণভাগ যত শক্তিশালী, তাকে গোল দেয়া তত কঠিন। আমাদের পোশাকশিল্পের রক্ষণভাগ শক্তিশালী, অর্থাৎ আমরা বস্ত্র খাত হলাম পোশাকশিল্পের রক্ষণভাগ। আমরা শক্তিশালী বলেই পোশাক খাতের অনেক অর্জন হচ্ছে। গ্যাস ও বিদুৎ-সংকটের কারণে আমরা সরকারকে বলেছিলাম যে দরকার হলে আমরা একটু টাকা বাড়িয়ে দিই, আপনারা আমাদের বিদ্যুৎ দেন। আমরা বলেছিলাম আমরা যদি ১ লাখ ডলারের জ্বালানি পাই, তাহলে কিন্তু আমরা ২৪ লাখ ডলার আর্ন করতে পারি। এই পরিসংখ্যান যখন আমরা তুলে ধরেছিলাম; বলেছিলাম যে আমরা সরকারকে সহায়তা করতে চাই। আমরা যদি একসঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করি, তাহলে কিন্তু সংকট কাটিয় ওঠা যায়। আমরা যদি সংকটের সময় দোষারোপ করি, তাহলে কিন্তু জাতি সংকট থেকে উদ্ধার হতে পারব না।

এখন কি গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট কেটেছে? আগের চেয়ে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে কি?
উন্নতি হয়েছে ঠিক; কিন্তু সংকট কিন্তু পুরোপুরি কাটেনি। আমরা এটি বুঝি যে সরকার ইচ্ছে করে ব্যয় সংকোচন করেনি। এ ক্ষেত্রে সবাই মিলে সরকারকে সহায়তা করা উচিত বলে আমি মনে করি। বিশ্বের সব দেশ সংকটকে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার কারণে কিন্তু সংকট কাটিয়ে উঠেছে। জাতীয় সংকটে সব দল এক হয়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশের সংকটটিকে বিশ্বের দরবারে আরও বড় করে তুলে ধরা হচ্ছে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ফায়দার জন্য। দেশকে কিন্তু আমরা ছোট করছি। আমি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বলব, দেশকে ছোট করে কোনো লাভ নেই। সমস্যা থাকবে, তার সমাধান থাকবে। জ্বালানির সমস্যা সারা বিশ্বের সমস্যা। সুতরাং আমরা মনে করি, সবাই মিলে কাজ করলে এই সংকট আমরা কাটিয়ে উঠতে পারব। আগে আমাদের কোনো জিনিস আনতে যদি ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হতো, এখন ১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এই অবস্থা হয়েছে। আমাদের টাকা অতিরিক্ত খরচ হয়েছে। বাংলাদেশে যে উন্নয়নকাজ হয়েছে, গত ১০ বছরে এগুলোকে আপনি ফেলে দেবেন কীভাবে।

এখন একজন রিকশাওয়ালাও রিজার্ভ (বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা মজুত) নিয়ে কথা বলে। এটি আমার কাছে খুব খারাপ লাগে। আমরা জাতি হিসেবে লজ্জিত। রিজার্ভ নিয়ে চিন্তা করার জন্য রাষ্ট্রের অনেক লোকজন আছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে বলে আমি মনে করি। তখন বিশ্ব অর্থনীতির বাজার কিন্তু বিশেষভাবে ঘুরে দাঁড়াবে। এই বাজারটিকে ধরার প্রস্তুতি এখন আমরা নিচ্ছি। আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতি ঠান্ডা হয়ে এলে অর্থাৎ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে তখন দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে। এখন বিশ্ব অর্থনীতির যে খারাপ অবস্থা, সেটি একসময় সহনীয় হয়ে যাবে। আর সহনীয় হয়ে গেলে আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সবাই মিলে সেই প্রস্তুতিই নিতে হবে। যুদ্ধ থেমে গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এতে কি আপনারা উদ্বিগ্ন?
আমি যখন ব্যবসায় আসি ’৮৭ সালে, তখন উত্তাল আন্দোলন এরশাদবিরোধী। ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ বুকে-পিঠে লিখে শহীদ হলেন নূর হোসেন। ’৯০-এর গণ-অভ্যুত্থান, এর পরও দেশে আন্দোলন হয়েছে- এগুলো দেখতে দেখতে আমরা ব্যবসায়ীরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এই বাধাবিপত্তি-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়েই আমরা ব্যবসায়ীরা ব্যবস্যা করছি। উৎপাদন করছি, কর্মসংস্থান করছি। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

৩৫ বছরের ব্যবসায়ী হিসেবে আমি মনে করি, এ ধরনের সংকট মোকাবিলা করার মতো ক্ষমতা ব্যবসায়ীদের থাকা উচিত। প্রত্যেক জিনিসের সিজন থাকে। পিঠা উৎসব শীতকালে হয়। রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো একটি ফেস্টিভ ব্যাপার। এতদিন কিছু ছিল না, এখন দেখা যাচ্ছে সমানতালে দুটো দলই করছে। দুই দলেরই প্রচুর লোকজন হচ্ছে। বাংলাদেশের মানুষ এটিকে এনজয় করছে ফেস্টিভ হিসেবে। সুতরাং আমি আতঙ্কিত নই। বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট নতুন কিছু নয়। এর চেয়ে খারাপ সময় আমরা দেখেছি। সেই তুলনায় বাংলাদেশ এখন অনেক ভালো আছে। বাংলাদেশে অর্থনীতি বলেন, অর্থনীতির সাইজ বলেন। বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অবস্থান ৪১তম। আমরা যদি ধরে নিই আগামী পাঁচ বছরে আমাদের অর্থনীতির সাইজ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়াবে।

এখন ৪৬৫ বিলিয়ন ডলার। আজ থেকে ২০ বছর আগে আমাদের অর্থনীতি কত ছিল। কয়েক মিলিয়ন ডলারের ছিল। অর্থনীতি আস্তে আস্তে ট্রিলিয়ন ডলারের দিতে এগোচ্ছে। প্রাইভেট ব্যাংকগুলো নিয়ে অনেক লেখা হচ্ছে। কিন্তু এই বেসরকারি ব্যাংকগুলোর যে অবদান আছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে, বাংলাদেশের শিল্পে, আমাদের বস্ত্র সেক্টরে যে বিনিয়োগ আছে তার বেশির ভাগ টাকা বেসরকারি ব্যাংক থেকে আসছে। সুতরাং দু-একটি ব্যাংকের খারাপ দিক নিয়ে আপনি সারা ব্যাংকিং খাতের ওপর ঢালাও কথা বলতে পারেন না। সংকট থাকবে; এর মোকাবিলা থাকবে। এই মুহূর্তে আমাদের সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বস্ত্র খাত কতটা অবদান রাখছে?
অর্থনীতিতে আমাদের অবদান যদি হিসাব করেন, এটাকে কোনোভাবে খাটো করে দেখা যায় না। বাংলাদেশের ৫২ বিলিয়ন ডলারের শিল্পে সরাসরি ১ কোটি ১০ লাখ লোক কাজ করে এখানে। ৫২ বিলিয়ন ডলার অর্থনীতি, এটা হলো রপ্তানি, এতে স্থানীয়ভাবে আমাদের সেক্টরের ৮ বিলিয়ন ডলার, অন্যান্য সেক্টর মিলিয়ে ডোমেস্টিক প্রোডাক্টকে ধরলে আরও ৫ থেকে ৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ১৩ বিলিয়ন ডলার হবে। সব মিলিয়ে ৬৫ থেকে ৭০ বিলিয়ন ডলার আমাদের ডোমেস্টিক প্রোডাক্ট। আমাদের টোটাল ইকোনমিতে আমাদের টোটাল ইন্ডাস্ট্রির অবদান হলো ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ। এটা ২০২২ সালের তথ্য হিসাব করে আমি বললাম। তাহলে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির মধ্যে যদি ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ অবদান হয়, তাহলে ভেবে দেখেন কত বড় অবদান আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রির।

আমাদের কৃষির অবদান ১১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। সার্ভিস সেক্টর থেকে ৫১ শতাংশ পাচ্ছি। শিল্প থেকে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ অবদান আসছে তার মধ্যে ৮৪ শতাংশ টেক্সটাইল থেকে আসছে। আমরা কাজ করছি, সরকারও সহায়তা করছে। আগামীতে প্রতিযোগিতামূলক বাজার হবে। করোনা শেষ হয়ে গেছে। এখন চিন্তা করার সময়ে হয়েছে যে, কোন বাজারটিকে আমরা আগে দখলে নেব।

বস্ত্র খাতে নতুন বিনিয়োগ কেমন আসছে? কর্মসংস্থান কেমন বাড়ছে?
আমাদের সেক্টরে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ এসেছে। এগুলোর কোনোটাই বন্ধ হয়নি। আরও হওয়ার কথা ছিল, যুদ্ধের কারণে স্থগিত আছে। আমি বলব, ব্যাকওয়ার্ড শিল্পে আমাদের যে অবস্থানটা আছে, বর্তমানে আমাদের যে টেকনোলজি, ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশনারি মেশিনারিজ আমাদের আছে। চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি, পৃথিবীর এমন কোনো টেকনোলজি নেই যে আমাদের নেই। আমরা প্রস্তুত। বলব যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ, কোনোটাতে ৭০ ও কোনোটাতে ৪৫ শতাংশ প্রস্তুত। আপনারা বলতে পারেন ৪৫ শতাংশ কেন ৭০ শতাংশ হলো না।

আমাদের জ্বালানি সেক্টরে যেটা হলো কি, আপনি জানেন যে ২০০৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কানেকশনটা খুবই মন্থর গতিতে যাচ্ছে, যেটা গ্যাসের যতটুকু চাহিদা সেই তুলনায় আমাদের কূপগুলো খনন হয়নি। আমাদের নিজস্ব যে গ্যাস বা সম্পদ সেটা ধীরে ধীরে কমে আসছে এবং যার কারণে আমাদের ওভেন শিল্পগুলোতে প্রচুর গ্যাসের দরকার হয়। এত দিন যদি আমাদের সেই পরিমাণ ইউটিলিটি থাকত, তাহলে হয়তো সেটা হয়ে যেত। যেহেতু এটা প্রাকৃতিক সম্পদ, এই সম্পদের একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে, মেয়াদ থাকে, তারপর আস্তে আস্তে নিম্নমুখী হতে থাকে। সুতরাং যেটা ২৭০০ এমএমসি গ্যাস উঠত চার-পাঁচ বছর আগে, সেটা ২৩০০ এমএমসিতে নেমে এসেছে। এটাকে পূরণ করার জন্য আমরা এলএনজি কিনছি। আমরা লং টার্মে ৫০০ এমএমসিএফটি কিনছি প্রতিদিন। আমাদের শর্ট টার্মে সেখান ২০০ আমরা কিনছি। কখনো আসছে, কখনো আসতে পারছে না। যুদ্ধের কারণে বিগত দুই-তিন মাসে আসতে পারছে না। প্রাইস অনেকটা হাই হয়ে গেছে। এসব কারণে আমাদের ওভেন শিল্পগুলো আমরা সেভাবে আগাতে পারিনি। কিন্তু আমাদের যে ইয়ার্ন বলি, ইয়ার্নে আমরা ৯০ শতাংশ সফল, ম্যান-মেড ফাইবারে আরও ৫ শতাংশ এগিয়ে যাব। ২০২৩ সালে সম্ভবত আমরা ৯৫ শতাংশ অর্জন করব।

ডেনিমে আমরা প্রায় পুরোটাই সফল হয়েছি। ওভেন-নিটে তো আমাদের পুরো সাপ্লাই ঠিক আছে। আমরা আগামীতে চেষ্টা করব, আমরা দেখছি সরকার অনেক চেষ্টা করছে যে, নতুন কোনো গ্যাসক্ষেত্র খুঁজে বের করা যায় কিনা। আসলে কি, আমদানিনির্ভর জ্বালানি নিয়ে ইন্ডাস্ট্রি সাসস্টেইনেবল (টেকসই) হওয়া সম্ভব নয়।

আমাদের নিজস্ব যে গ্যাসগুলো আছে, আগামী পাঁচ বছরে যদি আমাদের পাইপলাইনে যুক্ত হয়, আমি জানি সরকার কাজ করছে, বিভিন্ন জায়গায় কূপ খুঁজছে, সংস্কার করছে, ভোলায় দেখে আসলাম প্রতিদিন ১ থেকে ১০০ অতিরিক্ত গ্যাস থাকে সেটা জাতীয় গ্রিডে যোগ করার জন্য চেষ্টা করছে। সেটাকে লিক্যুইড ফর্মে আনার জন্য পাইপলাইনে। এভাবে দেখা গেছে, সিলেটের হরিপুর গ্যাসক্ষেত্রে নতুন আরেকটা কূপ পাওয়া গেছে। আমরা যদি নিজস্ব রিসোর্সগুলো ব্যবহার করতে পারি, আবার যদি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট চালু হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার প্ল্যান্ট যদি কমে আসে, সেই বিদ্যুৎটা যদি শিল্পে সাপ্লাই দেয়া যায়, তাহলে আমি মনে করি যে অর্থনীতিতে পোশাকশিল্পের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর বর্তমানে অর্থনীতিতে ৩১ দশমিক ৩২ শতাংশ যে শিল্পের অবদান তা ৪০ শতাংশে গিয়ে দাঁড়াবে। আমরা যদি গ্যাসকে রিঅ্যারেঞ্জমেন্ট করতে পারি, আমরা যদি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে কয়লাভিত্তিক ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু করতে পারি এবং এটা যদি শিল্পে ব্যবহার করতে পারি, অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

আমদানি কমছে। এটা একটা স্বস্তির খবর। তবে ক্যাপিটাল মেশিনারি আমদানি বেশ কমে গেছে। এতে কি দেশে বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না?

এখাতে একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, ক্যাপিটাল মেশিনারি কিন্তু গ্রোসারি জিনিস নয় যে প্রতিদিন আমদানি করা হয়। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে দেখা যায়, দুই বছরে একবার আনতে হয়। আপগ্রেশনের কারণে বা অন্য কারণে আমদানি করতে হয়। ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনি যন্ত্রপাতি) আমদানি কমে গেছে এটা আশঙ্কার কিছু নেই। শিল্পের কাঁচামাল (র-ম্যাটেরিয়াল) আমদানি কমে গেলে আশঙ্কার কারণ আছে। ক্যাপিটাল মেশিনারি না এলে উৎপাদন হবে না, র-ম্যাটেরিয়াল আসবে না, টাকাও দরকার নাই। কিন্তু আমার মেশিন আছে, কিন্তু র-ম্যাটারিয়ালের কারণে মেশিন বন্ধ আছে এটা আশঙ্কার বিষয়। কিন্তু মেশিনারি আমদানির হ্রাসে আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।

সহায়ক ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য আপনার প্রত্যাশা কী?
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমরা ব্যবসায়ীরা জড়াতে চাই না। বিরোধী দল হোক বা সরকারি দল হোক, দেশকে নিয়ে প্রপাগান্ডা (গুজব) ছড়ানো থেকে প্রথমে আমাদের বিরত থাকতে হবে। পৃথিবীর কোনো জাতি এটা করে না। দেশের অর্থনীতি যত শক্তিশালী হবে, এর সুফল কিন্তু আমরা নাগরিক হিসেবে সবাই পাব।

জাতি হিসেবে আমাদের দায়িত্ব যাদের জন্য আজকে মুক্ত স্বদেশ তাদের লাল সালাম। দেশটা স্বাধীন না হলে আমরা কয়টা বাঙালি শিল্পের মালিক হতাম। সুতরাং আমি বলব, জাতি হিসেবে ’৭১ সালে একত্রিতভাবে, সম্মিলিত শক্তি না হলে আমরা কিন্তু পাকিস্তানকে পরাজিত করতে পারতাম না। সুতরাং প্রত্যেকটা সংকটে আমাদের এক হতে হবে। শুধু ব্যক্তিস্বার্থে কাজ-ক্ষমতা দেখলে হবে না। ’৭১ সালে যেমন জাতীয় ঐক্য হয়েছিল। আমি মনে করি অর্থনীতি সংকটে ঐক্য হওয়া উচিত। প্রপাগান্ডা ছড়ানো ঠিক নয়।

এ দেশের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। যে দেশ নিজের টাকা দিয়ে পদ্মা সেতু বানাতে পারে, বিভিন্ন ধরনের টানেল করতে পারে- সেই জাতিকে কখনো আপনি খারাপ বলতে পারেন না। আমি বলছি, ১০টা ব্যাংকের ক্লায়েন্ট খারাপ করছে, সেটা যদি ৩০টা টিভি চ্যানেল সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রচার করে, তাহলে ৯০টা ক্লায়েন্ট যে ভালো করছে তাদের আমরা কেউ চিনি না। আমরা খারাপকে চিনি, ভালোকে চিনি না। আমি মনে করি, আমাদের ঐক্য থাকতে হবে। জাতীয় অর্থনীতি ও দেশকে বাঁচাতে হবে। দেশটা আমার, আপনার দেশ। দেশর সুনাম নষ্ট করা যাবে না। জাতি হিসেবে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।


সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ফিকি

ফিকির ৫৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় চেম্বার সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়সহ অন্যরা। ছবি: বিজ্ঞপ্তি
আপডেটেড ১০ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:৪৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চলমান আর্থিক সংকট কাটাতে সরকারের সহযোগী হয়ে কাজ করবে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ‘দ্য ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (ফিকি)।

রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ফিকির ৫৯তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) এ কথা বলেন চেম্বার সভাপতি নাসের এজাজ বিজয়। এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, গত ৫৯ বছরের গর্বিত যাত্রায় ফিকির সদস্য কোম্পানিগুলো সরকারের অভ্যন্তরীণ রাজস্বের ৩০ শতাংশের বেশি অবদান রেখে আসছে এবং বাংলাদেশে ৯০ শতাংশের বেশি অভ্যন্তরীণ ফরেন ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্টের (এফডিআই) প্রতিনিধিত্ব করছে। এসব অবদানের মাধ্যমে ফিকি দেশের অর্থনীতির পরিবর্তনকারী এবং উন্নয়ন সহযোগীতে পরিণত হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিচালনা পর্ষদ, কমিটির সদস্যসহ ২০০টিরও বেশি সদস্য কোম্পানি রয়েছে। যাদের মাধ্যমে আমরা এই প্রতিকূল অর্থনৈতিক পরিবেশের মধ্যেও সরকার, নীতিনির্ধারক, নিয়ন্ত্রক এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে ক্রমাগত অ্যাডভোকেসি করে আমাদের সদস্যদের ব্যবসায়িক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছি।’

ফিকি সভাপতি বলেন, ‘বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে লিকুইডিটি চ্যালেঞ্জ, বৈদেশিক মুদ্রাবিনিময় ঝুঁকি এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ স্বল্পমেয়াদে কিছু অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবে আমরা বিশ্বাস করি, বিশ্বব্যাপী চলমান এই সংকটের মধ্যেও আমাদের সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তা বাংলাদেশকে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাবে। আমরা আশাবাদী যে সাম্প্রতিক সময়ের এসব চ্যালেঞ্জ কখনোই বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনাকে সীমিত করবে না। ফিকি বরাবরের মতোই সংকট মোকাবিলায় সরকারকে শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে কাজ করবে।’

এজিএমে ফিকির সহসভাপতি স্বপ্না ভৌমিক, নির্বাহী পরিচালক টি আই এম নুরুল কবির, পরিচালনা পর্ষদ, ফিকির সদস্য ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


পুঁজিবাজারে বড় বিনিয়োগ টানতে চায় বিএসইসি

আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৮:১৫
বীর সাহাবী

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২১৫টি ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এই অর্থের পুরোটা না হলেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পুঁজিবাজারে নিয়ে আসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, লভ্যাংশের অর্থ সাধারণত বিনিয়োগকারীর ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) চায় লভ্যাংশের অর্থ গ্রাহকের বিও হিসাবে জমা হোক। এ লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কমিশন মিটিংয়ে আলোচনা করেছি। এটির সুবিধা-অসুবিধা দুটোই দেখব। তার পর এ বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

আইনি জটিলতা না থাকলে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, ব্যাংক হিসাবে টাকা জমা পড়লে অনেকেই তা আর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেন না। বিও হিসাবে নগদ অর্থ জমা পড়লে এর পুরোটা না হলেও বড় একটি অংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে। এতে বাজারের সংকট উত্তরণে সহায়ক হবে।

এ বিষয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও বলেন, ‘যদি আইনি জটিলতা না থাকে, তাহলে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ। এটি পুঁজিবাজারের জন্য ভালো হবে। এতে করে ডিভিডেন্ডের পুরো টাকা না এলেও একটি সিগনিফিক্যান্ট অ্যামাউন্ট পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হবে। কারণ, বিওতে টাকা থাকলে আজ হোক, কাল হোক কিছু লেনদেন হবেই।’

নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের পূর্বে এর সম্ভাব্যতা যাচাই করার ওপর জোর দেন তিনি। বলেন, ‘কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না, তা যাচাই করে নিতে হবে। এ ছাড়া আর কোনো দেশ করেছে কি না, করলে কী ধরনের অসুবিধায় পড়েছে বা রয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে অবগত ও সমাধান বের করে তবেই বাস্তবায়ন করতে হবে। তা ছাড়া হুট করে বাস্তবায়ন করা যাবে না।’

গত ১ জুলাই থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে জুন ক্লোজিং, কয়েকটি অন্তর্বর্তীকালীন ও দু-একটি ২১ সালের ডিসেম্বর ক্লোজিং বিমা কোম্পানি লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এ পর্যন্ত ২১৫টি কোম্পানির পর্ষদ ৮ হাজার ৫৬৪ কোটি ৭৪ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বর ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ সভা করা (জানুয়ারি-মে ২০২২) ৯০ কোম্পানির মধ্যে ৮২ কোম্পানির পর্ষদ অন্তর্বর্তীসহ ৯ হাজার ৩০১ কোটি ৭২ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

অপরদিকে আগের বছরে জুন ক্লোজিং কোম্পানিগুলোর মধ্যে (১ জুলাই-২৬ নভেম্বর ২০২১) পর্যন্ত সময়ে ২১৩টি কোম্পানির পর্ষদ ৮ হাজার ৫৯৫ কোটি ৮ লাখ টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক হিসাবে লভ্যাংশ দেয়ার ফলে তা বেশির ভাগই পুঁজিবাজারে ফিরে আসে না। ব্যাংকে হিসাবে লভ্যাংশ চলে গেলে সেটা আবার ব্রোকারেজ হাউসে জমা দিতে ঝামেলা মনে করেন অনেকেই। অলসতা করেও অনেক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বিওতে দিতে চান না।

এ ছাড়া দেশের পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী বেশি এবং তারা লভ্যাংশও পান ছোট আকারের। যে কারণে তারা ওই স্বল্প লভ্যাংশ তুলে বিওতে জমা দেয়াকে পরিশ্রমের তুলনায় ফলপ্রসূ মনে করে না। এ কারণে নগদ লভ্যাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ হয় না।

এই পরিস্থিতিতে নগদ লভ্যাংশকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আনার জন্য ব্যাংক হিসাবের পরিবর্তে বিও হিসাবে দিতে হবে। এতে করে হাজার হাজার কোটি টাকার তারল্য বাড়বে। যা বর্তমান সময়ে করতে পারলে পুঁজিবাজারের জন্য খুবই সহায়ক হবে।

ডিবিএর সাবেক সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘অনেকেই বিনিয়োগ করে ৫০০, ১০০০ হাজার, ২০০০ হাজার টাকার মতো ছোট অঙ্কের ডিভিডেন্ড পান। তিনি ওই টাকা ব্যাংক থেকে তুলে আবার বিও অ্যাকাউন্টে জমা করার ঝামেলা পোহাতে চান না। যদি বিওতে টাকা আসে, তাহলে হয়তো ওই টাকাগুলো পুনরায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ হবে।’

২০২১-২২ অর্থবছরে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পেছনে বর্তমান কমিশনের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। এ ছাড়া বাজেটে কমপক্ষে বোনাস শেয়ারের সমপরিমাণ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যথায় পুরো বোনাস শেয়ারের ওপরে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ হারে কর আরোপের শাস্তির বিধানের পাশাপাশি কমিশনের জেরার মুখে পড়তে হয়।

বর্তমান কমিশনের অধীনে ব্যবসা সম্প্রসারণ ছাড়া বোনাস শেয়ার দেয়া প্রায় অসম্ভব। এই বোনাস শেয়ার দিতে গেলে কমিশনের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়ে। এ ছাড়া নামমাত্র লভ্যাংশ দেয়া বা একেবারেই দেয় না এমন কোম্পানিগুলোকে ব্যাখ্যার জন্য কমিশনে তলব করা হয়। এসব কারণেই বোনাস শেয়ার দেয়ার প্রবণতা কমে এসেছে, বেড়েছে নগদ লভ্যাংশের পরিমাণ।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, ‘কমিশনের শক্ত অবস্থানের কারণে নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার পরিমাণ বেড়েছে। নগদ লভ্যাংশ বাজারের জন্য খুবই ইতিবাচক খবর। ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারলে, আগামীতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে। নগদ লভ্যাংশে বাজারে গতি সঞ্চার করে।’


বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বিনিয়োগের আহ্বান

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ২২:১৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

যুক্তরাজ্যের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশের রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিসহ পরিবেশ-বান্ধব খাতে আরও বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

বুধবার লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত ‘ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ আহবান জানান। লন্ডন ভিত্তিক বহুজাতিক এবং ব্রিটিশ কোম্পানির প্রতিনিধি বৈঠকে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সালমান এফ রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে বিনিয়োগের যে অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তার সুযোগ নিয়ে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়ী ও উদ্যোগক্তারা লাভবান হতে পারেন।’

রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রি, পুঁজিবাজার ও স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং-এ বিদেশি বিনিয়োগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে বিশেষ করে গার্মেন্টস সেক্টরে রিসাইক্লিংয়ের জন্য আমাদের বিপুল বিনিয়োগ দরকার। বাংলাদেশে পরিবেশ, সামাজিক ও শাসন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাজে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের বিশাল সুযোগ রয়েছে।’

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য মুনাফা প্রত্যাবাসন অনেক সহজ করেছে এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য মুনাফা প্রত্যাবাসনে এখন কোনো বাধা নেই।’

বৈঠকে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম বিভিন্ন সেক্টরে উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের সুযোগ-সুবিধাগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য, পরামর্শ ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন সব সময় প্রস্তুত রয়েছে।’

অনুষ্ঠানে ইউকে ফরেন, কমনওয়েলথ ও ডেভেলপমেন্ট (এফসিডিও) অফিসের ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রতিমন্ত্রী অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান এবং এফসিডিও’র ইন্ডিয়ান ওসেন ডাইরেক্টরেট প্রধান বেন মেলার বাংলাদেশ- যুক্তরাজ্যের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেন।

কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান লর্ড মারল্যান্ড, ব্রিটিশ-এশিয়ান ট্রাস্টের চেয়ারম্যান লর্ড গাডিয়া, সান মার্ক লিমিটেডের চেয়ারম্যান লর্ড রামি রেঞ্জার সিবিই, এলজাব্রার চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার নিজাম উদ্দিন ওবিই, লন্ডন টি এক্সচেঞ্জ-এর সিইও শেখ অলিউর রহমান, এশিয়ান টাইগার ক্যাপিটাল পার্টনারস-এর চেয়ারম্যান ইফতি ইসলাম এবং গোল্ডম্যান স্যাচ, এইচএসবিসি, ইউনিলিভার, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোসহ যুক্তরাজ্যের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।


পুঁজিবাজারের লেনদেন ফের ২০০ কোটির ঘরে

একটি ব্রোকার হাউজের বিনিয়োগকারীরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:৫২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও পুঁজিবাজারে চলমান খরা কাটার কোনো লক্ষণই দৃশ্যমান হচ্ছে না। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসে ফের একবার লেনদেন হলো ২০০ কোটির ঘরে।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বৃহস্পতিবার হাতবদল হয়েছে ২৯৫ কোটি ৭৪ লাখ ৪১ হাজার টাকার শেয়ার, বন্ড ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট। যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৯ হাজার টাকা কম। বুধবার হাতবদল হয় ৩১১ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

এ নিয়ে চলতি সপ্তাহেই দ্বিতীয়বারের মতো ২০০ কোটির ঘরে লেনদেন হলো। আর গত ১১ কর্মদিবসে লেনদেন ৫০০ কোটির ঘর ছুঁতে পারেনি একবারও। সর্বশেষ ওই অংক ছুঁয়ে লেনদেন হয়েছে ২৩ নভেম্বর, ৫৪০ কোটি ৬৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা।

সর্বশেষ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ২১ কর্মদিবস আগে ৯ নভেম্বর। ওই দিন লেনদেন হয় ১ হাজার ১৮ কোটি ৮৫ লাখ ৩২ হাজার। আজকের চেয়ে কম লেনদেন হয়েছে মঙ্গলবার ২৭১ কোটি ৯৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। যা বিগত আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখি। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

এরমধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা। এই তহবিল ছাড়াও জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি।

এ ছাড়াও পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তথ্য জানতে দেশের ২৬টি বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বৈঠকে ডেকেছিল বিএসইসি। বুধবার বিকেলে কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে এ বৈঠকটি হয়।

তবে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগ করে পুঁজি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, তাই স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের নিশ্চয়তা না পেলে বিনিয়োগে আগ্রহী নয় তারা। এসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অনাস্থার কারণ পুঁজিবাজারের লেনদেনেই দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার ১১টির লেনদেন বন্ধ ছিল লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে। এর বাইরে ৮৯টি কোম্পানির একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি। ১১৮টি কোম্পানিতে শেয়ার লেনদেন হয়েছে খুবই নগন্য। এসব কোম্পানিতে মোট ২২ হাজার ১৩৭টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার আর্থিক মূল্যমান ৩৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতনের সংখ্যা তিনগুণের বেশি। ১৭টি কোম্পানির দর বাড়ার বিপরীতে কমেছে ৫৫টির। আর অপরিবর্তিত দরে বা ফ্লোর প্রাইসে লেনদেন হয়েছে ২১৮টির। এর প্রভাবে আগের দিন যতটুকু বেড়েছিল তার বেশি সূচক কমেছে। ৫ পয়েন্ট কমে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করছে ৬ হাজার ২২৭ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকট ও ব্যাংকিং খাতের উদ্বেগজনক খবরেও আগে থেকেই পুঁজিবাজার মন্থর। তার ওপর গতকালের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিচেনায় নিয়ে মানুষ আরও সতর্ক অবস্থানে চলে গেছেন। বলা যেতে পারে স্বাভাবিক আচরণ থেকে একটু নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪০ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে সোনালী আঁশ। কোম্পানির দর কমেছে ৪৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ইউনিক হোটেলের দর ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৬৭ পয়েন্ট।
অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের কারণে সূচক হারিয়েছে শূন্য দশমিক ৫৯ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এ ছাড়াও ওরিয়ন ফার্মা, লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ, পূবালী ব্যাংক, বিকন ফার্মা, নাভানা ফার্মা, সোনালী পেপার ও বসুন্ধরা পেপারের দরপতনে সূচক কমেছে। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ৫ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ১ দশমিক ৪১ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

মুন্নু সিরামিকসের দর ৩ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৩ পয়েন্ট।
মুন্নু অ্যাগ্রো সূচকে যোগ করেছে শূন্য দশমিক ২১ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।
এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে যমুনা অয়েল, মেঘনা সিমেন্ট, অ্যাম্বি ফার্মা, বিডি থাই ফুড, এডিএন টেলিকম, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও অ্যাডভেন্ট ফার্মা। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ২ দশমিক ৪৫ পয়েন্ট।

দর বৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ দর বেড়ে মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭৬৭ টাকা ৩০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৭১৩ টাকা ৮০ পয়সা। একই সমান দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭০৪ টাকা ৩০ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ৬৫৫ টাকা ২০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল অ্যাম্বি ফার্মা। ৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৫৫৩ টাকা ৩০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৫২৮ টাকা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল জুট স্পিনার্স, মুন্নু সিরামিকস, মেঘনা সিমেন্ট, ফাইন ফুডস, বিডি থাই ফুড, কে অ্যান্ড কিউ ইন্ডাস্ট্রিজ ও অ্যাডভেন্ট ফার্মা।
দরপতনের শীর্ষ ১০

বোনাস লভ্যাংশ সমন্বয়ের কারণে সোনালী আঁশের দর ৪৫ দশমিক ৬২ শতাংশ কমলেও আসলে দরবৃদ্ধি হয়েছে ৩৪ টাকা ৯০ পয়সা। ১০০ শতাংশ বোনাস পুরোপুরি সমন্বয় হলে দর হতো ৩৯৯ টাকা ১০ পয়সা। কিন্তু ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৩৪ টাকা।

সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ২৮ শতাংশ দর কমেছে পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৭ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ৪৮ টাকা ৭০ পয়সা।

এর পরেই ৩ দশমিক ১৪ শতাংশ দর কমে ই-জেনারেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৫ টাকা ৫০ পয়সা। আগের দিনের দর ছিল ৫৭ টাকা ৩০ পয়সা। ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ দর কমে ইউনিক হোটেলের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৭ টাকা ৮০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৫৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল নাভানা ফার্মা, আইটি কনসালট্যান্টস, জেমিনি সি ফুড, অগ্নি সিস্টেমস, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ওরিয়ন ফার্মা ও পেপার প্রসেসিং।


ডলারসংকটেও ফল আমদানি বেড়েছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১২:০৪
আসাদুজ্জামান নূর

দেশে ডলারসংকটের মধ্যে মে মাসে ফল আমদানিতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে সরকার। জুলাইতে বন্ধ করে দেয়া হয় পণ্য আমদানিতে ব্যাংকের ঋণসুবিধা। মনে করা হচ্ছিল, এসবের প্রভাবে দাম বেড়ে যাওয়ায় ফলের আমদানি কমে আসবে। কিন্তু ঘটেছে তার উল্টোটা। কমেনি, বরং আরও বেড়েছে ফলের আমদানি।

সুস্বাদু ও পুষ্টিকর আপেল, আঙুর, কমলা, মাল্টাসহ কোনো ফলের আমদানি কমেনি। প্রতি মাসে আগের মাসের তুলনায় তা বেড়ে চলেছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের পঞ্চম মাস নভেম্বরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে বিভিন্ন ধরনের ফল আমদানি ৬১ হাজার ৫৪০ মেট্রিক টন বেশি হয়েছে। শতকরা হিসাবে যা ২২০ শতাংশ বেশি। জুলাইয়ে ফল আমদানি হয়েছিল ২৭ হাজার ৯৪৫ টন। ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত তা প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেড়ে ৮৯ হাজার ৪৮৪ টনে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ‘ফ্রেশ ফ্রুট’ ও ‘ড্রাই ফ্রুটস’- এই দুই ক্যাটাগরিতে দেশে সব ধরনের ফল আমদানি করা হয়। ড্রাই ফ্রুটস ক্যাটাগরিতে খেজুর, কিশমিশ ও বাদাম আমদানি করা হয়। ফ্রেশ ফ্রুটস ক্যাটাগরিতে রয়েছে আপেল, কমলা, নাশপাতি, আঙুর, মাল্টা, মান্দারিন, আনার, ড্রাই চেরি, ড্রাগন, স্ট্রবেরিসহ ৫২ রকমের ফল। এসব ফল আমদানি হয় দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, নিউজিল্যান্ড, মিসর, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, ভারত, থাইল্যান্ড, তিউনিসিয়া, পোল্যান্ড ও ব্রাজিল থেকে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ‘আমাদের চাহিদার ৪০ শতাংশের মতো ফল দেশেই উৎপাদন হয়, বাকিটা আমদানি করতে হয়।’তিনি বলেন, ‘আমদানি করা এসব ফলের উৎপাদন দেশে নেই বললেই চলে। এ কারণে এসব ফলের প্রায় সবটাই আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হয়। সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়ে থাকে আপেল, কমলা, আঙুর ও মাল্টা।’

চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর দেশে বিপুল পরিমাণ ফল আমদানি করতে হয়। এর জন্য ব্যয় হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। এই চাপ সামাল দিতে ব্যয় সংকোচনের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার। সেই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আমদানি ব্যয় কমাতে নেয়া হয় বিভিন্ন পদক্ষেপ। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ যাতে আরও কমে না যায়, সে জন্য নেয়া হয় এসব পদক্ষেপ।

গত ২৪ মে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসজাত পণ্যের পাশাপাশি সব ধরনের ফল আমদানি নিরুৎসাহিত করতে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) আরোপ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তার আগে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কহার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। এরপর সেটি দাঁড়ায় ২৩ শতাংশে। প্রজ্ঞাপন জারির দিন থেকেই তা কার্যকর করা হয়। ফল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি (সিডি) ২৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ এবং অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ৪ শতাংশ নির্ধারিত ছিল। ওই ঘোষণার পর থেকে এর সঙ্গে বাড়তি ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক পরিশোধ করতে হয় আমদানিকারকদের।

এত সব বিধিনিষেধের পরও ধারাবাহিকভাবে ফল আমদানি বেড়েছে। জুলাই মাসে ফল আমদানি হয় ২৭ হাজার ৯৪৫ মেট্রিক টন। আগস্টে ৭ হাজার ৫৩৯ মেট্রিক টন বেড়ে ফল আমদানি হয় ৩৫ হাজার ৪৮৫ মেট্রিক টন। আগস্টের তুলনায় ১০ হাজার ৩০৬ মেট্রিক টন আমদানি বৃদ্ধি পায় সেপ্টেম্বরে। আমদানি হয় ৪৫ হাজার ৭৯১ মেট্রিক টন ফল। অক্টোবরে আমদানি দাঁড়ায় ৫৩ হাজার ৬৮১ মেট্রিক টনে, যা আগের মাসের তুলনায় ৭ হাজার ৮৯১ মেট্রিক টন বেশি। নভেম্বরে আমদানি হয়েছে ৮৯ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন, যা আগের মাসের তুলনায় ৩৫ হাজার ৮০৩ মেট্রিক টন, যা প্রায় ৬৭ শতাংশ বেশি।

এই তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের চেয়ে সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে ২২০ শতাংশের বেশি ফল আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ জুলাই মাসের চেয়ে নভেম্বরে ফল আমদানি বেড়েছে ৬১ হাজার ৫৩৪ টন। তবে গত বছরের তুলনায় এ সময় ফল আমদানি কমেছে ১৭ শতাংশের বেশি। গত বছর জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ফল আমদানি হয় ৩ লাখ ৪ হাজার ৯১৭ দশমিক ২২ মেট্রিক টন।

বিপরীতে চলতি বছর আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৯১ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫২ হাজার ৫৩০ দশমিক ৩১ মেট্রিক টন বা ১৭ দশমিক ২২ শতাংশ কম।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক রাকিব হোসেন বলেন, ‘ডলারের দাম বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। আমদানি খরচ বেড়ে যাচ্ছে, ফলেও দাম বেশি পড়ছে।

বেশি দামে বিক্রি করতে গেলে মানুষ কিনছে না। তার ওপর ডলারসংকট থাকায় আমদানির এলসি খুলতেও সমস্যা হচ্ছে। তাহলে আমদানি কমবে না কেন? তাই ফল আমদানি কমেছে।’

আমদানির পরিসংখ্যান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সারা দেশে আমাদের সংগঠনের সদস্য রয়েছে। যে যার প্রয়োজন মতো আমদানি করে। কত আমদানি হচ্ছে সেটার হিসাব আমাদের কাছে নেই, রাখাও সম্ভব নয়। সদস্যরা বিভিন্নভাবে আমদানি ও বিক্রি করে থাকে।’

ফল আমদানিতে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা কড়াকড়ি ছিল না বলে জানান বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জিএম আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ‘ফলের ওপর বা কমার্শিয়াল এলসির ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল না বা নেই। এক্সটার্নাল সাইডে অসুবিধার কারণে ডলারের যে ডিমান্ড, সাপ্লাইয়ে সমস্যার কারণেই একটু সমস্যা হতে পারে। তবে কেউ যদি ওপেন করে দেখে বিধিনিষেধ নেই, কারণ এটা হলো খাদ্যদ্রব্য।’

তিনি বলেন, ‘আমদানি যে হচ্ছে, তা আশপাশের ছোটখাটো দোকানে ফলের সমারোহ দেখলেই বোঝা যায়। আজকেও কমলা কিনলাম ২০০ টাকা কেজি। ভালো এবং অনেক বড় বড় কমলা। তার মানে যতটা চিন্তা করা হচ্ছে, অবস্থা ততটা খারাপ নয়। আমদানিতে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি।’
অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও ফলের ক্রেতা কমেনি। মতিঝিলের খুচরা ফল বিক্রেতা সালমান ইসলাম বলেন, ‘ফলের সরবরাহও আছে, ক্রেতাও আছে। দাম বেশি। বিক্রি একটু কম। তাই বলে ক্রেতা নেই, এমন না।’

তিনি বলেন, ‘আগের বছর বাজারে যে পরিমাণ আমদানি হতো, তার চেয়ে কম হচ্ছে। এটা পাইকারি বাজারে গেলেই বোঝা যায়। আগে যেখানে ১০ ট্রাক মাল নামতে দেখা যেত, সেখানে ৭ ট্রাক দেখা যায়।’

আমদানিকারক সংগঠনের নেতা রাকিব হোসেন বলেন, ‘ফল খাওয়া বিলাসিতা নয়। এটা মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজন। এ জন্য মানুষ এটাকে আর বাড়তি খরচ মনে করে না। এ জন্য ফলের চাহিদা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুল্কারোপ ও ডলারের মূল্য বৃদ্ধিতে খরচ বেড়েছে ফল আমদানিতে, যার কারণে প্রতিটি ফলের দামই বেড়েছে। আগের বছরের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কম, আমদানিও কম। তবে ক্রেতা এখনো আছে।’

আমদানি খরচ বৃদ্ধির প্রভাবে ফলের দাম বেড়েছে। খুচরা বাজারে ফল কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত।

খুচরা বিক্রেতা ইলিয়াস হোসেন কিরণ বলেন, ‘ফুজি আপেল আগে বিক্রি করতাম ১৮০ টাকা কেজি, সেটা এখন ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা। মাল্টা ছিল ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সেটা এখন ২৫০০ টাকা। কমলার কেজি ছিল ১২০ টাকা, বর্তমানে সেটা ২০০ টাকা কেজি। এখন মৌসুম শুরু হয়েছে। ভারতীয় কমলা আসতে শুরু করেছে। দাম হয়তো একটু কমতে পারে।’

ক্রেতা জয়নাল আবেদিন বলেন, ‘ফলের দাম তো অনেক বেশি। আগের তুলনায় কম কিনি। পরিবারের সদস্যদের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য না কিনে উপায় নেই।’


আরও ১২৫০ কোটি টাকা নিল ২ ইসলামি ব্যাংক

আপডেটেড ৮ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৭:০২
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে দেশের দুটি ইসলামি ধারার ব্যাংক ১২৫০ কোটি টাকা ধার নিয়েছে। হঠাৎ তারল্য-সংকটে পড়ায় দেশের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, গতকাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুটি ইসলামি ধারার ব্যাংকে ১২৫০ কোটি টাকা ধার দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা ধার নিয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।

সুকুক হোল্ডিং যাদের বেশি, তাদেরই এই ধার বেশি দেয়া হয়েছে। ফলে ইসলামী ব্যাংকের সুকুক হোল্ডিং তুলনামূলক বড়, তাই তাদের বেশি পরিমাণে টাকা ধার দেয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক বলেন, ‘সুকুকের বিপরীতে বুধবারের ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোকে টাকা ধার দেয়া হয়েছে। সুকুকের বিপরীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রয়োজন মতো টাকা নিতে পারবে ইসলামি ব্যাংকগুলো।’

গত দুদিনে মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোকে পাঁচ হাজার দুই শ পঞ্চাশ কোটি টাকা ধার দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এক দিনে ৪ হাজার কোটি টাকা ধার দিয়েছিল। এ ব্যাংক পাঁচটি হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

গত সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দিতে পরিপত্র জারি করেছিল। সেদিন থেকেই তা কার্যকর হয়। এ সুবিধার আওতায় ইসলামি ব্যাংকগুলো সুকুক (শরিয়াহ্‌ভিত্তিক বিনিয়োগ বন্ড) জমা দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিতে শুরু করেছে।

বিষয়:

নিয়ম ভেঙে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে কয়েকটি ব্যাংক

ফাইল ছবি।
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:৪৬
এ এস এম সাদ, দৈনিক বাংলা

বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংক নির্ধারিত প্রতি ডলারে ১০৭ টাকার বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার একটি একচেঞ্জ হাউজের রেমিট্যান্স বিতরণের একটি নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা একজন গ্রাহকের রেমিট্যান্সের বিপরীতে দুইটি ব্যাংক ডলার প্রতি ১০৭ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে।

তবে অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) ও বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) বৈঠকে রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। ফলে দুইটি ব্যাংক বাফেদা ও এবিবির নির্ধারিত দরের চেয়ে ৫০ পয়সা বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। অথচ বাফেদা ও এবিবির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোন ব্যাংক ১০৭ টাকার বেশি দামে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পারবে না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকটি ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তারা দৈনিক বাংলাকে বলেন, অন্তত পাঁচটি ব্যাংক এবিবি ও বাফেদার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। গত কয়েক মাস ধরে উল্লেখযোগ্য হারে এসকল ব্যাংক রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করছে।

এদিকে ৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকার্স সভায় বেশি দরে ব্যাংকগুলো ডলার সংগ্রহ করার বিষয়টি উঠে আসে। সভা শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক বলেন, ‘বাফেদা-এবিবির নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দরে সংগ্রহ করছে কয়েকটি ব্যাংক। তবে ৯০ শতাংশ ব্যাংক বাফেদা– এবিবির নির্ধারিত দরে ডলার সংগ্রহ করছে। ব্যাংকগুলো যদি নিজেদের মধ্যে রেমিট্যান্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা না করে সেটিও নির্দেশ দিয়েছে। ফলে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা যেন ১০৭ টাকার ওপর রেমিট্যান্স সংগ্রহ না করে।’

চলতি মাসের ১ ডিসেম্বর এবিবির চেয়ারম্যান সেলিম আরএফ হোসেন এবং বাফেদার ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়, এবিবি-বাফেদা নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করা যাবে না।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআইবি) নির্বাহী পরিচালক ও ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কোন কোন ব্যাংক ১০৭ টাকার চেয়েও বেশি দরে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে। ব্যাংকগুলোর মধ্যে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করার প্রতিযোগিতা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত যে ব্যাংকগুলো নির্ধারিত দরের চেয়ে বেশি দামে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে তাদের জরিমানা করে সতর্ক করা।'


স্থিতিশীল পুঁজিবাজার চায় ২৬ বিমা কোম্পানি

বিএসইসি’র বৈঠকে ২৬ বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:২৬
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নতুন করে বিনিয়োগের জন্য স্থিতিশীল পুঁজিবাজারের নিশ্চয়তা চায় বিমা কোম্পানিগুলো। অস্থির পুঁজিবাজারে নতুন করে বিনিয়োগ করে ঝুঁকি নিতে আগ্রহী নয় তারা। বিনিয়োগকারীদের আমানত অস্থির পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী নয় প্রতিষ্ঠানগুলো।

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের তথ্য জানতে দেশের ২৬টি বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বৈঠকে ডেকেছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বুধবার বিকেলে কমিশনের মাল্টিপারপাস হলে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএসইসি কমিশনার শেখ শামসুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘যেসব প্রতিষ্ঠানকে এখানে ডাকা হয়েছে তাদের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করতে বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে। বেশ কিছু বিষয়ে তাদের ছাড় দেয়া হয়েছে। যাতে তারা পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘বিশ্বের সব দেশের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে থাকে। একই সঙ্গে তারা পুঁজিবাজারেও বড় ধরনের অবদান রেখে থাকে। আমরা এখানে যে ২৬টি কোম্পানিকে ডেকেছি তারাও যাতে পুঁজিবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে এ জন্য তাদের বেশ কিছু সুযোগ দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো অন্যতম। আমাদের দেশেও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে। ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলো যদি মূল ভিত্তি দেখে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে তবে অন্য যেকোনো বিনিয়োগের তুলনায় এখানে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব।’

ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তালুকদার জাকারিয়া হোসেন বলেন, ‘পুঁজিবাজারে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর ২০% বিনিয়োগের যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেখানে আমরা বিনিয়োগ করতে চাই। তবে বিনিয়োগের অর্থ যে ফেরত পাব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এজন্য আমরা স্থিতিশীল পুঁজিবাজার প্রত্যাশা করছি।’

পুঁজিবাজারে চলমান মন্দা পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে বিনিয়োগ বাড়াতে বিমা কোম্পানিগুলোকে নিয়ে একই ছাদের নিচে বৈঠকের উদ্যোগ নেয়া হয়। এ বৈঠকে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যানকে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তবে আইডিআর-এর পক্ষ থেকে একজন নির্বাহী পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

সম্প্রতি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাতটি এবং তালিকাভুক্ত নয় ১৯টি বিমা কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে বৈঠকের বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর বিএসইসির জারি করা নির্দেশনা অনুসারে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে বৈঠক আয়োজন করা হয়েছে।

বৈঠকে যেসব বিমা কোম্পানির প্রধান বা প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন সেগুলো হলো- হোমল্যান্ড লাইফ, গোল্ডেন লাইফ, সানফ্লাওয়ার লাইফ, বায়রা লাইফ, বেস্ট লাইফ, চার্টার্ড লাইফ, এনআরবি গ্লোবাল লাইফ, প্রোটেক্টিভ ইসলামী লাইফ, সোনালী লাইফ, জেনিথ ইসলামী লাইফ, আলফা ইসলামী লাইফ, ডায়মন্ড লাইফ, গার্ডিয়ান লাইফ, যমুনা লাইফ, মার্কেন্টাইল ইসলামী লাইফ, স্বদেশ লাইফ, ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ, এলআইসি (বাংলাদেশ), মেঘনা, ক্রিস্টাল, সাউথ এশিয়া, ইসলামী কমার্শিয়াল, ইউনিয়ন, দেশ জেনারেল, সেনা কল্যাণ ও সিকদার ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রয়েছে- ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স, দেশ জেনারেল, সেনা কল্যাণ, মেঘনা, চার্টার্ড লাইফ, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।

তথ্যমতে, পরিশোধিত মূলধন ৩০ কোটি টাকার কম থাকা এমন ২৬টি বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাদের ইকুইটির ২০ শতাংশ অর্থ বিনিয়োগ করার শর্তে ছাড় প্রদান করে বিএসইসি। কিন্তু কোম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতিতে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি ও ইকুইটির ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ- এ দুটির কোনোটিই এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি। এ অবস্থায় এসব বিমা কোম্পানিকে তালিকাভুক্তি ও ইকুইটির ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করতে বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছে বিএসইসি।

এর আগে ২৬টি বিমা কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য ছাড় দিয়ে ২০২০ সালের ৩০ নভেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল বিএসইসি। প্রজ্ঞাপনে, বিমা কোম্পানিগুলো ফিক্সড প্রাইস পদ্ধতির আইপিওর মাধ্যমে ন্যূনতম ১৫ কোটি টাকার তহবিল উত্তোলন করতে পারবে। এক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোকে তাদের ইকুইটির ন্যূনতম ২০ শতাংশ অর্থ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হবে।

পরবর্তীতে চলতি বছরের গত ২৯ মার্চ এক চিঠিতে আইডিআরএকে এ বিষয়ে অনুরোধ জানায় বিএসইসি। চিঠিতে পুঁজিবাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়ানোর জন্য এরই মধ্যে বিমা কোম্পানিগুলোকে যে ছাড় প্রদান করা হয়েছে সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে আইডিআরএকে অনুরোধ জানানো হয়।

বিএসইসির মতে, বিমা কোম্পানিগুলোকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) আসার আগে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে হবে, যা বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়াতে অবদান রাখবে। পাশাপাশি কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে শেয়ারের সরবরাহও বাড়বে।


চামড়াজাত পণ্যের মান বজায় রাখার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

লেদারটেক বাংলাদেশ ২০২২ অষ্টম আসর উদ্বোধনকালে অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ২১:০৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশের চামড়া খাতকে আর্থিকভাবে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। বুধবার রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেশন সিটি বসুন্ধরায় চামড়াশিল্পের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী ‘লেদারটেক বাংলাদেশ ২০২২’-এর অষ্টম আসর উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবারের আসরে ১০টি দেশের প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠানের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য এবং মেশিনারিজ, কম্পোন্যান্ট, কেমিক্যাল এবং অ্যাক্সেসরিজ প্রদর্শিত হচ্ছে। তিন দিনের এই প্রদর্শনীটি শেষ হবে আগামী ৯ ডিসেম্বর।

টিপু মুনশি বলেন, চামড়া খাতে আমাদের রপ্তানি আয় বৃদ্ধির বড় সুযোগ রয়েছে। আর্থিকভাবে এই সেক্টরকে এগিয়ে নেয়ার জন্য সরকার বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের মধ্যে মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে লেদার সেক্টর কার্যকরী ভূমিকা রাখছে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু চামড়াজাত পণ্য উৎপাদন করলেই হবে না। পণ্যের মান ও দামের দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে। শুধু বড় প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে গেলেই হবে না, ক্ষুদ্র ও মাঝারির প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে নেয়ার জন্য আমাদের ভাবতে হবে।

এলএফএমইএবি সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এই শোতে অংশগ্রহণকারী কম্পোন্যান্ট নির্মাতাদের বাংলাদেশে তাদের নিজস্ব কারখানা বা উৎপাদন সুবিধা নিশ্চিতে নজর দেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই ইভেন্টটি যন্ত্রপাতি, কেমিক্যালস ও আনুষঙ্গিক উপাদান সোর্সিংয়ের সমস্যাগুলোর সমাধানকারী হিসেবে সহায়তা করছে।

এ ট্রেড শোতে বাংলাদেশের চামড়া, চামড়াজাত পণ্য এবং ফুটওয়্যার শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় মেশিনারি, কম্পোন্যান্ট, কেমিক্যাল এবং অ্যাকসেসরিজ-সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ভারত থেকে কাউন্সিল ফর লেদার এক্সপোর্টার্স (সিএলই) এবং ইন্ডিয়ান ফুটওয়্যার কম্পোন্যান্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (ইফকোমা) প্যাভিলিয়নসহ ১০টি দেশের প্রায় ২০০ প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ১০ বছরের একটি পরিকল্পনা করেছে। যাতে ২০৩০ সালের মধ্যে চামড়া খাতের রপ্তানি আয় ১ বিলিয়ন থেকে ১০-১২ বিলিয়নে উন্নীত করার লক্ষ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার আগামী ৯ বছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে তার রপ্তানি আয়ের দশ গুণ বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে, ২০২০-২১ অর্থবছরে, রপ্তানি প্রায় ১৮% বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

আয়োজক সংস্থা আস্ক ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন্স প্রাইভেট লিমিটেডের পরিচালক নন্দ গোপাল কে বলেন, ‘ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে চীন ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ক্রমাগত হ্রাস পেয়েছে। তবে প্রায় তিন বছরের ব্যবধান সত্ত্বেও এবারের আয়োজনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মেশিনারি সরবরাহকারীদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের ফুটওয়্যার এবং চামড়াজাত পণ্য খাতের সম্ভাবনাকেই তুলে ধরা হচ্ছে; সেই সঙ্গে বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম্পোন্যান্টস, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস এবং কেমিক্যালস-এর প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে লেদারটেক বাংলাদেশ ফুটওয়্যার এবং লেদার প্রোডাক্টস সেক্টর নিজেদের জন্য একটি ‘দ্য লেদার ইন্ডাস্ট্রি নেটওয়ার্কিং ফোরাম’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। নন্দ গোপাল কে আরও বলেন, এই প্রদর্শনীর প্রোফাইলটি ব্যাপক এবং তিন দিনের শোতে বিশ্ব নেতাদের উপস্থিতি থেকে স্থানীয় শিল্প উপকৃত হবে।’

লেদারটেক বাংলাদেশ-২০২২ আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষকতা করছে লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। এ ছাড়া, অন্য পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ টেনারস অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি।


আট বছরের আগে ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম‌ডির গাড়ি পরিবর্তন নয়

বাংলাদেশ ব্যাংক।
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:০৫
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীদের (ব্যবস্থাপনা প‌রিচালক) গাড়ি আট বছরের আগে পরিবর্তন করা যাবে না বলে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ‌তদিন ব্যাংকের পর্ষদের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর গাড়ি পাঁচ বছর হলেই পরিবর্তন করতে পার‌ত। মূলত ব্যাংকের ব্যয় কমাতেই এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় হ্রাস করতে বিলাসবহুল যানবাহন, আড়ম্বরপূর্ণ সাজসজ্জা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে উচ্চব্যয় পরিহারে নতুন নির্দেশনা কার্যকর হবে।

এর আগে সাধারণভাবে পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর জন্য সার্বক্ষণিক গাড়িসহ সব যানবাহন অন্তত পাঁচ বছর ব্যবহারের পর প্রতিস্থাপনযোগ্য হবে মর্মে নির্দেশনা দেয়া হয়। এখন থেকে গাড়ির আয়ুষ্কালসংক্রান্ত সরকারি আদেশের সঙ্গে সংগতি রেখে এ নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে যে তফসিলি ব্যাংকগুলোর পর্ষদ চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীর জন্য সার্বক্ষণিক গাড়িসহ ব্যাংকের অন্যান্য কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে ক্রয় করা গাড়ি ন্যূনতম আট বছর ব্যবহারের পর প্রতিস্থাপনযোগ্য হবে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হলো। এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।


আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও নিষ্প্রাণ পুঁজিবাজার

ফাইল ফটো।
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:২৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

করোনাকালের করুণ চিত্র ফিরে আসার পর পরিস্থিতি উত্তরণে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও প্রাণ ফিরল না পুঁজিবাজারে। আগের দিনের চেয়ে সূচক ও সামান্য কিছু লেনদেন বাড়লেও রইল তিন শ কোটি টাকার ঘরেই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ নিয়ে ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে ৭ দিনই লেনদেন হলো তিন শ কোটির ঘরে। চার দিন চার শ কোটি, একদিন পাঁচ শ কোটি ও একদিন দুই শ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে।

বুধবার হাতবদল হয়েছে ৩১১ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি।

আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয় গতকাল মঙ্গলবার, হাতবদল হয় ২৭১ কোটি ৯৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখি। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

লাখ লাখ শেয়ার বসিয়ে রেখেও ক্রেতা খুঁজে না পাওয়াই মূলত লেনদেনের এই খরার কারণ। বাজার এখন ৭০ থেকে ৮০টি কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে। এগুলোর কোনো কোনোটিতে কয়েক মাস আগে দিনে এক শ বা দুই শ কোটি টাকা লেনদেন হতো। তবে বুধবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিও কোনো রকমে ২০ কোটির ঘর ছাড়াতে পেরেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবন্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা।

এই তহবিল ছাড়াও জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি।এমন খবরের পরেও বুধবার ৭৮টি কোম্পানির একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি। এর মধ্যে লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে লেনদেন বন্ধ ছিল ৩টির।

যে ৩১২টির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে আড়াই শর বেশি কোম্পানির ক্রেতা ছিল নগণ্য। অন্যদিকে ২৪১টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার প্রায় সবই ফ্লোর প্রাইসে পড়ে রয়েছে। এর বেশিরভাগেরই দিনভর ক্রেতার জায়গায় কোনো আদেশ ছিল না। ফ্লোর প্রাইসে মাঝেমধ্যে কেউ কিনে নিয়েছে শেয়ার।

এদিন ৩৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে এক থেকে হাজারের মধ্যে, যা ক্রেতা না থাকার সামিল।মোট ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে এক কোটির ওপরে। এই লেনদেনের পরিমাণ ২৪০ কোটি ৯৮ লাখ ৯১ হাজার টাকার। বাকি ২৬৯টি শেয়ারের হাতবদল হয়েছে কেবল ৭০ কোটি ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

যদিও দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধির সংখ্যা হলেও এসব কোম্পানি সূচকের খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২৮টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে দরবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩টির।

দিনের প্রথম দিকে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট বেশি থাকার পরেও বেলা একটার পরে পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ৪ পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করে ৬ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাজারটা এই জায়গায় টিকে গেছে, এটা একটা পজিটিভ দিক। এখন প্রশ্ন হলো কেন ওপরে উঠছে না। সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র, তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে ওপরে যাওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ এটা নয়। এর চেয়ে ডাউন হচ্ছে না, ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্টকে কেন্দ্র করে সূচক ওঠানামা করছে, এটা ভালো দিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়টাতে সাধারণত ব্যাংক সেক্টরে একটা ফ্লো আসে। অর্থবছর শেষ হতে যাচ্ছে, অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই অনেকে পজিশন নিতে শুরু করেন। এই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের বিষয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে সবাই পুরো সেক্টরটা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যে সেক্টরে ফ্লো আসার কথা, সেটাতেই যদি না আসে তাহলে পুঁজিবাজারে অবস্থার পরিবর্তন হুট করে আশা করা যায় না।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ০৬ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ১ দশমিক ০২ শতাংশ। ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট।
কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বিকন ফার্মা, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, বার্জার পেইন্টস, জেনেক্স ইনফোসিস ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭২ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানির দর কমেছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ। সি-পার্লের দর ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ২ দশমিক ১০ পয়েন্ট।
এডিএন টেলিকমের কারণে সূচক হারিয়েছে ১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।

এ ছাড়াও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি থাই ফুড, পূবালী ব্যাংক, অ্যাডভেন্ট ফার্মা ও ওয়ান ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৪ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ দর বেড়ে কেডিএস অ্যাক্সেসরিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৭৭ টাকা ১০ পয়সা। এরপরেই ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫৫ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের দিন একই সমান দর বেড়ে হয়েছিল ৬০৯ টাকা ৫০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল আমরা টেকনোলজিস। ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৪০ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল জুট স্পিনার্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ দর কমেছে এডিএন টেলিকমের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১১ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ১১৭ টাকা ১০ পয়সা।

এর পরেই ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ দর কমে অ্যাডভেন্ট ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ টাকা ৯০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২৮ টাকা। ৩ দশমিক ২০ শতাংশ দর কমে বিডি থাই ফুডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৫০ টাকা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল ফাইন ফুডস, সি-পার্ল, অ্যাপেক্স ফুডস, লাফার্জ হোলসিম, ই-জেনারেশন, মুন্নু সিরামিকস ও এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১।


বঙ্গবন্ধু গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পেল প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকা

কমনওয়েলথ-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৯:০৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রথমবারের মতো কমনওয়েলথে ‘কমনওয়েলথ-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রিন ইনভেস্টমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ দেয়া হয়েছে। মালাউই-এর কৃষিতে সবুজ প্রযুক্তির প্রসারে বিশেষ অবদান রাখায় ‘প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকা’কে এই পুরস্কার দেয়া হয়।

লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত মঙ্গলবার লন্ডনে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট। এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান উপস্থিত ছিলেন। তিনি এ অনুষ্ঠানে প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকাকে এই পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সালমান এফ রহমান বলেন, জুরিবোর্ড কমনওয়েলথভুক্ত ৫৪ সদস্য দেশের পরিবেশ-বান্ধব ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্ভাবনী প্রযুক্তি-নির্ভর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করে। এরপর যাচাই-বাছাইয় শেষে অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা,ঘানা ও মালাউই-এর চার প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয়া হয়। জুরিবোর্ড এই চার প্রতিষ্ঠান থেকে প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকাকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সাইদা মুনা তাসনিম, যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ, জ্বালানি, জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়কমন্ত্রী লর্ড গোল্ডস্মিথ, কমনওয়েলথ এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিলের চেয়ারম্যান লর্ড মারল্যান্ড বক্তব্য দেন। এ সময় কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড ভিডিও বার্তায় বক্তব্য দেন।

প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকার প্রতিনিধি এমবুনডেরি কাম্পেসি বলেন, এই বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্ল্যানেট গ্রিন আফ্রিকাসহ কমনওয়েলথ পরিবারে পরিবেশ-বান্ধব প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও জলবায়ূ-বান্ধব ব্যবসা-বাণিজ্যের উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করবে।

অনুষ্ঠানে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজজের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট ব্রিটিশ ও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।


banner close