বুধবার, ৭ ডিসেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনে তিন বাধা

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে তিনটি বাধা চিহ্নিত করেছে বিশ্বব্যাংক। এগুলো হলো- বাণিজ্য প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস, দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক খাত এবং ভারসাম্যহীন ও অপর্যাপ্ত নগরায়ণ। এই তিন বাধা দূর করতে পারলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও টেকসই হবে।

বিশ্বব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিতে এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘চেঞ্জ অব ফেব্রিক’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে সংস্কার না হলে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে যেতে পারে। বর্তমান প্রবৃদ্ধির কাঠামো টেকসই নয়। ২০৩৫ থেকে ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৪ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশ্বের শীর্ষ প্রবৃদ্ধির দেশগুলোর মতো বাংলাদেশকে প্রবৃদ্ধির কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক দশক ধরে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি সেরা প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশগুলোর একটি হলো বাংলাদেশ। কিন্তু এতে আত্মতুষ্টিতে ভোগার কারণ নেই। অর্থনীতির তেজিভাব কখনো স্থায়ী প্রবণতা নয়। দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি সব সময় উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। তবে কয়েকটি দেশ দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। শীর্ষ ১০-এ থাকা দেশগুলোর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ দেশ পরের দশকেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গত এক দশকে (২০১০-১৯) যেসব দেশ শীর্ষ ১০-এ ছিল, সেসব দেশ আগের দশকে শীর্ষ ১০-এ ছিল না।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে বিশ্বব্যাংক কিছু সুপারিশ করেছে। যেমন রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশের শুল্ক-করহার অন্য দেশের তুলনায় বেশি, যে কারণে বাণিজ্য সক্ষমতা কমে যাচ্ছে। ব্যাংক খাত সম্পর্কে বিশ্বব্যাংক বলেছে, ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাংক খাতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কিন্তু দেশের আর্থিক খাত অতটা গভীর নয়। গত চার দশকে আর্থিক খাতের উন্নতি হলেও এখনো তা পর্যাপ্ত নয়। অন্য দিকে আধুনিক নগরায়ণই বাংলাদেশের পরবর্তী ধাপের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই ভারসাম্যপূর্ণ আধুনিক নগরায়ণের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

এদিকে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট মার্টিন রেইজার বাংলাদেশ সফরে এসে বলেন, ‘বর্তমান প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অনিশ্চয়তার মধ্যে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা সম্প্রসারণ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংস্কারে অগ্রাধিকার দেয়া প্রয়োজন।’

মার্টিন রেইজার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হলো একটি উন্নয়ন সাফল্যের গল্প। ৫০ বছর ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সঙ্গী হতে পেরে বিশ্বব্যাংক গর্বিত। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা অর্জনে সহায়তা দিতে বিশ্বব্যাংক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, জলবায়ু পরিবর্তনে টেকসই হওয়া নিশ্চিতকরণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করার বিষয়ে সময়োপযোগী নীতি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য ২০২৩-২৭ মেয়াদের জন্য নতুন কান্ট্রি পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) তৈরি করছে বিশ্বব্যাংক। গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক বলেছে, গত কয়েক দশকের উন্নয়নে দেশের দারিদ্র্যবিমোচন হয়েছে। স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সূচকের উন্নতি হয়েছে। কোভিড মহামারির মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্য দেশের তুলনায় ভালো করেছে।

আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও নিষ্প্রাণ পুঁজিবাজার

ফাইল ফটো।
আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৬:২৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

করোনাকালের করুণ চিত্র ফিরে আসার পর পরিস্থিতি উত্তরণে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবি এগিয়ে আসার খবরেও প্রাণ ফিরল না পুঁজিবাজারে। আগের দিনের চেয়ে সূচক ও সামান্য কিছু লেনদেন বাড়লেও রইল তিন শ কোটি টাকার ঘরেই।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ নিয়ে ১৩ কর্মদিবসের মধ্যে ৭ দিনই লেনদেন হলো তিন শ কোটির ঘরে। চার দিন চার শ কোটি, একদিন পাঁচ শ কোটি ও একদিন দুই শ কোটির ঘরে লেনদেন হয়েছে।

বুধবার হাতবদল হয়েছে ৩১১ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা, যা আগের দিনের চেয়ে ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ ৯ হাজার টাকা বেশি।

আড়াই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয় গতকাল মঙ্গলবার, হাতবদল হয় ২৭১ কোটি ৯৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখি। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

লাখ লাখ শেয়ার বসিয়ে রেখেও ক্রেতা খুঁজে না পাওয়াই মূলত লেনদেনের এই খরার কারণ। বাজার এখন ৭০ থেকে ৮০টি কোম্পানির ওপর নির্ভর করছে। এগুলোর কোনো কোনোটিতে কয়েক মাস আগে দিনে এক শ বা দুই শ কোটি টাকা লেনদেন হতো। তবে বুধবার সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া কোম্পানিও কোনো রকমে ২০ কোটির ঘর ছাড়াতে পেরেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবন্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা।

এই তহবিল ছাড়াও জনতা ব্যাংক ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি।এমন খবরের পরেও বুধবার ৭৮টি কোম্পানির একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি। এর মধ্যে লভ্যাংশ সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের কারণে লেনদেন বন্ধ ছিল ৩টির।

যে ৩১২টির কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে আড়াই শর বেশি কোম্পানির ক্রেতা ছিল নগণ্য। অন্যদিকে ২৪১টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে অপরিবর্তিত দরে, যার প্রায় সবই ফ্লোর প্রাইসে পড়ে রয়েছে। এর বেশিরভাগেরই দিনভর ক্রেতার জায়গায় কোনো আদেশ ছিল না। ফ্লোর প্রাইসে মাঝেমধ্যে কেউ কিনে নিয়েছে শেয়ার।

এদিন ৩৯টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে এক থেকে হাজারের মধ্যে, যা ক্রেতা না থাকার সামিল।মোট ৪৩টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে এক কোটির ওপরে। এই লেনদেনের পরিমাণ ২৪০ কোটি ৯৮ লাখ ৯১ হাজার টাকার। বাকি ২৬৯টি শেয়ারের হাতবদল হয়েছে কেবল ৭০ কোটি ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা।

যদিও দরপতনের তুলনায় দরবৃদ্ধির সংখ্যা হলেও এসব কোম্পানি সূচকের খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। ২৮টি কোম্পানির দরপতনের বিপরীতে দরবৃদ্ধি হয়েছে ৪৩টির।

দিনের প্রথম দিকে বেলা ১১টা ১০ মিনিটে আগের দিনের চেয়ে ১৩ পয়েন্ট বেশি থাকার পরেও বেলা একটার পরে পতনের আশঙ্কা তৈরি হয়। তবে শেষ পর্যন্ত ৪ পয়েন্ট বেড়ে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স অবস্থান করে ৬ হাজার ২৩৩ পয়েন্টে।

লেনদেনের বিষয়ে ট্রেজার সিকিউরিটিজের শীর্ষ কর্মকর্তা মোস্তফা মাহবুব উল্লাহ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বাজারটা এই জায়গায় টিকে গেছে, এটা একটা পজিটিভ দিক। এখন প্রশ্ন হলো কেন ওপরে উঠছে না। সামগ্রিক অর্থনৈতিক চিত্র, তথ্য-উপাত্ত মিলিয়ে ওপরে যাওয়ার জন্য অনুকূল পরিবেশ এটা নয়। এর চেয়ে ডাউন হচ্ছে না, ৬ হাজার ৩০০ পয়েন্টকে কেন্দ্র করে সূচক ওঠানামা করছে, এটা ভালো দিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই সময়টাতে সাধারণত ব্যাংক সেক্টরে একটা ফ্লো আসে। অর্থবছর শেষ হতে যাচ্ছে, অক্টোবর-নভেম্বর থেকেই অনেকে পজিশন নিতে শুরু করেন। এই সময়ে বিভিন্ন ব্যাংকের বিষয়ে যেসব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে সবাই পুরো সেক্টরটা নিয়ে আতঙ্ক তৈরি করেছে। যে সেক্টরে ফ্লো আসার কথা, সেটাতেই যদি না আসে তাহলে পুঁজিবাজারে অবস্থার পরিবর্তন হুট করে আশা করা যায় না।’

সূচকে প্রভাব যাদের

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ০৬ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বেক্সিমকো ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ১ দশমিক ০২ শতাংশ। ওরিয়ন ইনফিউশনের দর ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট।
কেডিএস অ্যাক্সেসরিজ সূচকে যোগ করেছে ২ দশমিক ১৮ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, বিকন ফার্মা, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, বার্জার পেইন্টস, জেনেক্স ইনফোসিস ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৭ দশমিক ৮৪ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ৬ দশমিক ৭২ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে লাফার্জ হোলসিম বাংলাদেশ। কোম্পানির দর কমেছে ২ দশমিক ১১ শতাংশ। সি-পার্লের দর ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ২ দশমিক ১০ পয়েন্ট।
এডিএন টেলিকমের কারণে সূচক হারিয়েছে ১ দশমিক ৬০ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ।

এ ছাড়াও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, বিডি থাই ফুড, পূবালী ব্যাংক, অ্যাডভেন্ট ফার্মা ও ওয়ান ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৪ দশমিক ৩১ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ দর বেড়ে কেডিএস অ্যাক্সেসরিজের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৪ টাকা ৫০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ৭৭ টাকা ১০ পয়সা। এরপরেই ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬৫৫ টাকা ২০ পয়সা, যা আগের দিন একই সমান দর বেড়ে হয়েছিল ৬০৯ টাকা ৫০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল আমরা টেকনোলজিস। ৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৪০ টাকা ৮০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ৩৯ টাকা ৪০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল জুট স্পিনার্স, সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, সামিট পোর্ট অ্যালায়েন্স, ওরিয়ন ফার্মা, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন, চার্টার্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও বেক্সিমকো ফার্মা।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ দর কমেছে এডিএন টেলিকমের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১১ টাকা ১০ পয়সা, যা আগের দিন ছিল ১১৭ টাকা ১০ পয়সা।

এর পরেই ৩ দশমিক ৯২ শতাংশ দর কমে অ্যাডভেন্ট ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ টাকা ৯০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২৮ টাকা। ৩ দশমিক ২০ শতাংশ দর কমে বিডি থাই ফুডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৮ টাকা ৪০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৫০ টাকা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল ফাইন ফুডস, সি-পার্ল, অ্যাপেক্স ফুডস, লাফার্জ হোলসিম, ই-জেনারেশন, মুন্নু সিরামিকস ও এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১।


পুঁজিবাজারের খরায় এগিয়ে আসছে আইসিবি

প্রতীক ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পুঁজিবাজারে করোনাকালের করুণ চিত্র ফিরে আসার পর বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। তারা তহবিলের জন্য রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন দুটি ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করছে।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) চাইছে নতুন করে বিনিয়োগ হোক। এতে করে বাজারে লেনেদেনের খরা কাটবে। আর রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি এগিয়ে এলে সাহস পাবে অন্যরাও।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি নিয়ে যে উদ্বেগ, তার বাইরে নয় বাংলাদেশও। বিশ্ববাজার থেকে বেশি দামে পণ্য কিনতে গিয়ে রিজার্ভে যে টান পড়েছে, সেটি পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তুলেছে।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমেই নিম্নমুখী। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে।

শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেগুলোর শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

যে বাজারে কিছুদিন আগেও দুই হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, সেখানে এখন তা নেমেছে তিন শ কোটির নিচে। চাঙা পুঁজিবাজারে একটি কোম্পানিতেই প্রায় সমপরিমাণ লেনদেন দেখা গেছে গত সেপ্টেম্বরেই।

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের মতে, দেশের সামগ্রিক আর্থিক যে পরিস্থিতি, তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে। তিনি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর অভাবকেও দায়ী করেছেন। বলেন, এখানে বিনিয়োগকারীর মধ্যে ৯০ শতাংশ ব্যক্তি বিনিয়োগকারী।

নানা সময় দেখা গেছে, এসব ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা গুজব গুঞ্জনে শেয়ার কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যখন দাম বাড়তে থাকে, তখন আরও বাড়বে আশায় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ক্ষতির মুখে পড়ে। আবার যখন কমতে থাকে, তখন আরও কমে যাবে ভেবে শেয়ার বিক্রি করে পয়সা হারায়। এই পরিস্থিতিতে বিএসইসি চেয়ারম্যান প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

এর মধ্যে বিএসইসি যোগাযোগ করেছে আইসিবির সঙ্গে। পুঁজিবাজারের কোম্পানিগুলোর অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে যে তহবিল করা হয়েছে, সেখান থেকে অর্থ দেয়ার কথা রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ কোম্পানিকে জানিয়েছে তারা।

এই তহবিল ছাড়াও জনতা ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে তহবিলের জন্য আলোচনা চালাচ্ছে আইসিবি। তবে এখন পর্যন্ত দুই ব্যাংকের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করা হয়নি।

বিষয়টি জানিয়ে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবুল হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, জনতা ও রূপালী ব্যাংক থেকে কিছু টাকা পাওয়ার জন্য। দুই ব্যাংকের এমডির সঙ্গেই কথা হয়েছে। এখনো তারা নিশ্চিত করেনি। তবে আশা করছি, দ্রুতই টাকা আসবে। আর ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড থেকে কিছু টাকা পাওয়া যাবে। এটা নিশ্চিত করেছেন তারা।’

সিএমএসএফ কত টাকা দেবে এবং মোট কত টাকা বিনিয়োগ করা হবে তার পরিমাণ জানাননি আইসিবির এমডি।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন বলা যাচ্ছে না।’

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা তহবিল বা সিএমএসএফ যে টাকা দেবে, সেটি ঋণ হিসেবে দেয়া হবে বলেও জানান আইসিবি এমডি।

বিএসইসির একজন কমিশনার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আইসিবি বিনিয়োগ করবে। এজন্য সিএমএসএফ টাকা দেবে। জনতা ও রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে কথা হয়েছে আইসিবির। সেটা আমাদেরকে জানানো হয়েছে।’


এডিবির ঋণ নিয়েও আসছে সুখবর

আপডেটেড ৭ ডিসেম্বর, ২০২২ ১০:১৫
আবদুর রহিম হারমাছি

১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা বাংলাদেশে আসছেন। এক সপ্তাহের সফরে গতকাল মঙ্গলবার রাতে তিনি ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন। আজ বুধবার দুপুরে তিনি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারসহ বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশে না থাকায় অশোক লাভাসা অর্থসচিব ফাতিমা ইয়াসমিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর জানিয়েছেন। ঢাকায় অবস্থানকালে এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট এডিবির অর্থায়নে বাস্তবায়িত কয়েকটি প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি।

আড়াই বছরের করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। এই চাপ সামাল দিতে সরকার আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার, বিশ্বব্যাংকের কাছে ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার এবং এডিবির কাছে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছিল। এ ছাড়া জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা এবং এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক- এআইআইবির কাছে ঋণ-সহায়তা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

এর মধ্যে আইএমএফের বহুল প্রতীক্ষিত সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারির মধ্যেই এই ঋণের প্রথম কিস্তির অর্থ পাবে সরকার। বিশ্ব আর্থিক খাতের আরেক মোড়ল সংস্থা বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণের ব্যাপারে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। এবার ম্যানিলাভিত্তিক উন্নয়ন সংস্থা এডিবির ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে আলোচনার জন্য সংস্থটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক লাভাসা ঢাকায় এসেছেন।

এডিবি ঢাকা অফিসের বহিঃসম্পর্ক বিভাগের প্রধান গোবিন্দ বর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট ঢাকায় অবস্থানকালে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীসহ নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার এডিবির কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে যে ১ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছিল, সে বিষয়ে আলোচনা হবে। সফর শেষে ম্যানিলায় ফিরে গিয়ে এডিবি সদর দপ্তরে রিপোর্ট করবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। তারপর সংস্থার বোর্ডসভায় এই ঋণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এডিবি সব সময় পাশে ছিল। সরকার যে ১ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা চেয়েছে, তা চলমান প্রকল্প সহায়তার বাইরে অতিরিক্ত সহায়তা হিসেবে চেয়েছে। আশা করছি, এই ঋণের ব্যাপারেও সুসংবাদ পাওয়া যাবে। আর খুব শিগগিরই সেই সুসংবাদ পাওয়া যাবে।’

গোবিন্দ বর বলেন, ‘অশোক লাভাসা এডিবির প্রাইভেট সেক্টর অপারেশনস এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট। সে কারণে ঢাকা সফরকালে তিনি বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তা-প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ১২ ডিসেম্বর তিনি ঢাকা ছাড়বেন।’

আড়াই বছরের করোনাভাইরাস মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে গেছে বিশ্ব অর্থনীতি। ওলোটপালট হয়ে গেছে সব হিসাবনিকাশ। যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আমদানি বাড়ায় এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমায় রিজার্ভ কমছেই; বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে (ব্যালান্স অফ পেমেন্ট) ঘাটতি বাড়ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বেশ কমেছে। রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্সও ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। কিন্তু এর পরও ব্যালান্স অফ পেমেন্টে বড় ঘাটতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যে দেখা যায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৫০ কোটি (৪.৫ বিলিয়ন) ডলার।

এই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতেই সরকার দাতাসংস্থাগুলোর কাছে ঋণ চেয়েছিল।

সরকারের নীতিনির্ধারকদের একজন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর এখন অন্য সব দাতা সংস্থাও বাংলাদেশকে ঋণ দিতে চাইবে- এটিই স্বাভাবিক। কেননা, ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে যেকোনো উন্নয়ন সংস্থা বা দাতা দেশ আইএমএফের মূল্যায়নকে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। আইএমএফ যেহেতু আমাদের ঋণ দিচ্ছে, এখন বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকাসহ অন্য সব দাতা সংস্থা ও দেশ বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়াবে। আমরা এখন করোনার মতো যুদ্ধের ধাক্কাও দ্রুত সামলে উঠতে পারব।’

অর্থনীতির গবেষক পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আইএমএফ ঋণ দেয়ার ঘোষণার পর থেকেই সরকার স্বস্তির মধ্যে রয়েছে। সংকট মোকাবিলা করার সাহসও পাচ্ছে। এরই মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক সূচক আমদানি ব্যয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নভেম্বরে রপ্তানি আয়ে রেকর্ড হয়েছে; ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি এসেছে। রেমিট্যান্সও কিছুটা বেড়েছে। এ অবস্থায় আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তি ফেব্রুয়ারিতে চলে এলে, এরমধ্যে বিশ্বব্যাংক ও এডিবির ঋণও যদি পাওয়া যায়, সরকারের সংকট মোকাবিলা করা সহজ হবে। ২০২৩ সালকে নিয়ে যতটা ভয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছিল, তা আর মনে হয় থাকবে না।’


বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আড়ালে অর্থ পাচার

প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু কাওসার

বিলাসবহুল গাড়ি আমদানির আড়ালে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা পাচার হচ্ছে। কিছু অসাধু আমদানিকারক মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আন্ডার ইনভয়েসিং বা প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম মূল্য দেখিয়ে এ টাকা পাচার করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের প্রাথমিক তদন্তে পাচারের এ তথ্য উদ্‌ঘাটিত হয়েছে।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে চট্টগ্রাম ও মোংলা কাস্টম হাউস দিয়ে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে আনা সাত থেকে আটটি চালানের কাগজপত্র জব্দ করেছেন গোয়েন্দারা। এনবিআর সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও তদন্তের জন্য শুল্ক গোয়েন্দাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা গাড়িগুলোর বেশির ভাগই বিলাসবহুল, দামি এবং নতুন। এর মধ্যে মিৎসুবিশি, মার্সিডিজ বেঞ্জ, নিউ হোন্ডা সিভিক, এক্সপ্যান্ডা উল্লেখযোগ্য। এসব গাড়ি আমদানিতে গড়ে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কম মূল্য ঘোষণা করে টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে।

এএসএম ট্রেডিং কোম্পানি নতুন মডেলের ১৩৩২ সিসির একটি নতুন মার্সিডিজ বেঞ্জ জিপ আমদানি করে যুক্তরাজ্য থেকে। আমদানিকারক এই গাড়ির মূল্য ঘোষণা করেছে ২৯ লাখ টাকা। বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাচাই করে কাস্টমস পরীক্ষা করে দেখেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়িটির দাম ৩৬ লাখ টাকার বেশি।

এই করপোরেশন একই ব্র্যান্ডের ২ হাজার সিসির গাড়ির মূল্য ঘোষণা করে ৪১ লাখ টাকা। গোয়েন্দারা পরীক্ষা করে দেখেছেন, গাড়িটির শুল্কায়নযোগ্য মূল্য ৪৭ লাখ টাকা।

শুল্ক গোয়েন্দার তদন্তে এ রকম ৩০ থেকে ৪০টি গাড়ি আমদানিতে টাকা পাচারের ঘটনা বেরিয়ে এসেছে। কয়েকটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ৮ থেকে ১০টি চালানে এসব গাড়ি এনেছে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, জার্মানি ও সিঙ্গাপুর থেকে। আমদানিকারকদের বেশির ভাগই রাজধানীর ঢাকার, কিছু চট্টগ্রামের।

গাড়ি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশে আমদানি করা গাড়ির ৮০ শতাংশই রিকন্ডিশন্ড, বাকিগুলো নতুন গাড়ি। গত বছর দেশে প্রায় ২৫ হাজার গাড়ি আমদানি হয়। রিকন্ডিশন্ড গাড়িগুলো আসে প্রধানত জাপান থেকে। আর নতুন গাড়ি আনা হয় জার্মানি, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশ থেকে। অল্প কিছু নতুন গাড়ি আসে জাপান থেকে।

এনবিআর সূত্র জানায়, নতুন ও রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্ক কাঠামো এবং এইচএস কোডও একই। রিকন্ডিশন্ড গাড়ি শুধু ‘অবচয়’ সুবিধা পায়। বর্তমানে এই হার ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ গাড়ির দাম ১০০ টাকা হলে শুল্কায়ন মূল্য ধরা হয় ৬৫ টাকা। অবচয় সুবিধা বাদ দেয়ার পর অবশিষ্ট মূল্যের ভিত্তিতে রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়ন করে কাস্টমস।

গাড়ি আমদানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, পুরোনো বা রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা দেয়ার সুযোগ নেই। কারণ রিকন্ডিশন্ড গাড়ির দাম লেখা থাকে ইয়েলো বুকে। জাপানের অটো অ্যাপরাইজাল ইনস্টিটিউট প্রতি মাসে এই দামের তথ্য প্রকাশ করে। ইয়েলো বুকে বছরভিত্তিক গাড়ির উৎপাদন সাল, গড় মূল্য উল্লেখ থাকে। ইয়োলো বুকের নির্ধারিত দামেই শুল্কায়ন করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

তাদের মতে, নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে মিথ্যা ঘোষণার সুযোগ রয়েছে। ফলে এ ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং বেশি হয়। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তারা বলেন, নতুন গাড়ির মূল্য নির্ধারণের কোনো ভিত্তি নেই। ফলে আমদানিকারক যে মূল্য ঘোষণা দেয়, তার ভিত্তিতে শুল্কায়ন করা হয়।

রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডার সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান খসরু দৈনিক বাংলাকে বলেন, যে কোম্পানি গাড়ি তৈরি করে সেই কোম্পানি অথবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং আমদানিকারকের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন গাড়ির মূল্য ঘোষণা করা হয়। ফলে এখানে মূল্য কম দেখানোর সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘রিকন্ডিশন্ড গাড়ির শুল্কায়নের ক্ষেত্রে কাস্টমস ইয়েলো বুক অনুসরণ করলেও নতুন গাড়ির মূল্য যাছাই করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রেকর্ড নেই। আমরা বিষয়টি এনবিআর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। কিন্তু তা আমলে নেয়া হয়নি।’

একই কথা বলেন বারভিবিডার আরেক নেতা পরিবহন বিশেষজ্ঞ আব্দুল হক। তিনি বলেন, সরাসরি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে না এনে তৃতীয় দেশ থেকে নতুন গাড়ি আনার সুযোগ দেয়া হয়েছে। দেখা গেছে, এলসি খোলা হয়েছে এক দেশে, গাড়ি আনা হচ্ছে আরেক দেশ থেকে। ফলে আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে আন্ডার ইনভয়েস করা হচ্ছে।

তবে এনবিআর এই যুক্তি মানতে রাজি নয়। সংস্থাটি বলেছে, নতুন গাড়ির মূল্য যাচাই-বাছাই করা হয়। প্রয়োজনে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় মূল্য সনদের জন্য।

এনবিআরের সদস্য (শুল্কনীতি) মাসুদ সাদিক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গাড়ি আমদানিতে কোনো অনিয়ম নিয়ে আমাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে গাড়ির শুল্কায়ন যাতে সতর্কভাবে করা হয়, সে জন্য এনবিআর থেকে সংশ্লিষ্ট কাস্টম হাউসকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’

এনবিআর সূত্র বলেছে, কাস্টমস আইনে আন্ডার ইনভয়েসিং এবং ওভার ইনভয়েসিং উভয়ই মানি লন্ডারিং বা মুদ্রা পাচারসংক্রান্ত অপরাধ। আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের মূল্য কমবেশি দেখিয়ে অর্থ পাচার করা হয়।

এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে মিথ্যা ঘোষণা দুভাবে হয়। একটি আন্ডার ইনভয়েসিং আরেকটি ওভার ইনভয়েসিং। উভয়ই করা হয় মানি লন্ডারিং বা মুদ্রা পাচারের জন্য।

গাড়ি আমদানির নামে দেশ থেকে যে টাকা পাচার হচ্ছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারও স্বীকার করেছেন। গত সপ্তাহে বিআইডিএসের সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করে সবাইকে চমকে দেন তিনি। তিনি বলেন, ১ লাখ ডলারের মার্সিডিজের দাম ঘোষণা করা হয় মাত্র ২০ হাজার ডলার। বাকি অর্থ হন্ডিতে পাঠানো হয়।

এনবিআর সূত্র বলছে, ভাড়া কম এবং জট না থাকায় বর্তমানে মোংলা কাস্টম হাউস দিয়ে বেশি গাড়ি আমদানি হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মোংলা কাস্টম হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘নতুন গাড়ির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং বেশি হচ্ছে। এ অভিযোগে আমরা প্যাসিফিক মোটরসসহ কিছু নামীদামি এজেন্টের গাড়ি আটক করেছি।’

শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের একটি সূত্র বলেছে, আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের অভিযোগে চট্টগ্রাম, কমলাপুর আইসিডি ও মোংলা কাস্টম হাউসের বেশ কিছু বিলাসবহুল গাড়ির চালান আটকে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

শুল্ক গোয়েন্দা অফিসের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, তেজগাঁও এলাকার ডিএইচএস মোটরস লিমিটেড চলতি বছরের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুর থেকে ২০২২ মডেলের ১৪৯৮ সিসির ১৫টি সম্পূর্ণ নতুন হোন্ডা সিভিক কার আমদানি করেছে। সিঙ্গাপুরের এসটিএস প্যাসিফিক পিটিই লিমিটেড থেকে গাড়িগুলো আমদানি করা হয়। হোন্ডা জাপানি কোম্পানি হলেও গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ দেখানো হয়েছে থাইল্যান্ড।

এই চালানে প্রতিষ্ঠানটি ১৫টি গাড়ির মূল্য ঘোষণা দিয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। সে অনুযায়ী, প্রতি গাড়ির ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় ৮ লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ টাকা। কিন্তু গাড়িগুলোর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। বাংলাদেশে এই গাড়ির বাজার যাচাইয়ে দেখা গেছে, প্রতিটি গাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৪১ থেকে ৪৫ লাখ টাকা।

একইভাবে আরেফিন ট্রেডিং, অভি ট্রেডিং, এসএইচকে ইন্টারন্যাশনালসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আন্ডার ইনভয়েসিং করে দামি গাড়ি আনার অভিযোগ পেয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দারা, যা তদন্তাধীন।

বিষয়:

সেরা এয়ারলাইনসের তালিকায় নেই বিমান

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আহমেদ দীপ্ত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২৫০টি উড়োজাহাজ ওঠা-নামা করে। এর মধ্যে বিশ্বসেরা তালিকায় থাকা কাতার এয়ারওয়েজ, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও এমিরেটসের উড়োজাহাজ থাকে ১২ থেকে ১৪টি। দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৪০টি উড়োজাহাজ প্রতিদিন ওঠা-নামা করে। অথচ বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ের তালিকাতেই নেই দেশের পতাকাবাহী সংস্থা বিমান। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা ১০ এয়ারলাইনসের তালিকাতেও বিমানের অবস্থান তলানিতে।

শাহজালালসহ দেশের সব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবাসহ গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও বিমানের। এ ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে অব্যবস্থাপনার অভিযোগ বেশ পুরোনো। লাগেজ কাটা, চুরি, লাগেজ ছুড়ে ফেলা, অবতরণের পর লাগেজ দেরিতে পাওয়া, চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, বোর্ডিং ব্রিজসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ভোগান্তি ও হয়রানির নানা অভিযোগ অহরহই থাকে যাত্রীদের মুখে। এসব অভিযোগ নিরসনে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগও নেয়। কিন্তু যাত্রীসেবায় দুর্বলতা থেকেই যায়।

তবে গত তিন মাসে শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কয়েকটি উদ্যোগে অভিযোগের সংখ্যাও কমে এসেছে। কিন্তু যাত্রীসেবার মান বিবেচনায় বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে বিমানের অবস্থান ভালো হয়নি।

এমন পরিস্থিতিতেই আজ বুধবার বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন দিবস। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৈশ্বিক এভিয়েশন উন্নয়নে দরকার অগ্রসরমান উদ্ভাবন’। তবে বাংলাদেশে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয় না। এ নিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও বিমানের কোনো কর্মসূচি নেই।

যেভাবে এল দিবস

১৯৪৪ সালে কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এই সনদের সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১৯৯৪ সাল থেকে দিনটি উদযাপন করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও)। এর দুই বছর পর ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনের ৭ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়া হয়।

প্রতি পাঁচ বছর অন্তর আইকাও সিভিল এভিয়েশন দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করে থাকে। এবারের মূল প্রতিপাদ্য ২০১৯ সালে নির্ধারিত হয়।

বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার মধ্যে আছে- বিমানবন্দরে প্রতিটি এয়ারলাইনের যাত্রীদের চেক-ইন কাউন্টার সামলানো, বোর্ডিং, উড়োজাহাজে মালামাল ওঠানো-নামানো, জ্বালানি ভরা, যাত্রীসেবা, প্রকৌশল সেবা এবং জিএসই (গ্রাউন্ড সার্ভিস ইকুইপমেন্ট) সেবা।

বাংলাদেশে চলাচলকারী ৩৫টি উড়োজাহাজ সংস্থার সংগঠন এয়ারলাইন অপারেটরস কমিটি (এওসি) সূত্র জানিয়েছে, বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবার জন্য দেশি-বিদেশি এয়ারলাইনগুলোকে ফ্লাইট প্রতি সেবাভেদে ২ হাজার ২০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ফি দিতে হয়। এই ফি পায় বিমান। অথচ বিমান সময়মতো প্রয়োজনীয় সেবা দিতে ব্যর্থ হয়।

বিমানের একটি সূত্র জানায়, বিমান বছরে ১৭ হাজার ফ্লাইটের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিতে পারে। এই সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। ডিসেম্বর মাস নাগাদ ২৫ হাজার ফ্লাইট সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান। এ জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, সরঞ্জামাদি ও জনবল নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

বিমান নিয়ে স্কাইট্র্যাক্সের মূল্যায়ন

লন্ডনভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান স্কাইট্র্যাক্স ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বের উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোকে পুরস্কার দিচ্ছে। যাত্রীসেবার সন্তুষ্টির ভিত্তিতে এ পুরস্কার দেয়া হয়। এবার বিশ্বের ১ কোটি ৪০ লাখ ভ্রমণকারীর ওপর করা জরিপের ভিত্তিতে সেরা ১০০ উড়োজাহাজের তালিকা করা হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত সে তালিকায় বিশ্বের সেরা উড়োজাহাজ হিসেবে প্রথম হয়েছে কাতার এয়ারওয়েজ। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে আছে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনস ও এমিরেটস। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ের এ তালিকায় বিমান নেই। নিরাপত্তা ও গুণগত মানের বিচারে স্কাইট্র্যাক্স ২০১৬ সালে বিশ্বের ২১টি এয়ারলাইনসকে সব থেকে ‘খারাপ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। বিমান ওই তালিকায় ছিল।

স্কাইট্র্যাক্সের এবারের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার ১০টি সেরা এয়ারলাইনসের নাম এসেছে। ১০টির মধ্যে প্রথম তিনটি- ভিস্তারা, স্পাইসজেট ও ইন্ডিগো এয়ারলাইনস পাশের দেশ ভারতের। তালিকায় দুটি এয়ারলাইনস পাকিস্তানের, একটি পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইনস, আরেকটি এয়ার ব্লু। এ তালিকায় সবার শেষে দশম অবস্থানে আছে বিমান।

এবারের ১০০ উড়োজাহাজের তালিকার প্রতিবেদনে বিমান সম্পর্কে স্কাইট্র্যাক্সের একটি মূল্যায়ন দিয়েছে। স্কাইট্র্যাক্স বলছে, তিন তারকার উড়োজাহাজ সংস্থা বিমান সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সেবা উন্নত করছে। কিন্তু, এই উড়োজাহাজ সংস্থায় নানা অসংগতি আছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কেবিন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিমানের আরও মনোযোগ প্রয়োজন। কেবিনকর্মীদের পরিষেবা কখনো খুব ভালো, কখনো বেশ খারাপ। ঢাকার বিমানবন্দরে বিমানের সেবার মান খারাপ। এটি আরও উন্নত করতে হবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল এম মফিদুর রহমান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রী সেবার মান আগের চেয়ে অনেকটাই ভালো হয়েছে। আগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। এখন ভোগান্তি অনেক কমেছে।’

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিমান আরেকটু আন্তরিক হলে বিমানবন্দরে এত সমস্যা হতো না। আরও ভালো করার সুযোগ রয়েছে। যাত্রীসেবার মান আরও ভালো করতে বিমানকে তাগাদা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাবেক পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) এম কে জাকির হাসান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থাপনার সমস্যাগুলো পুরোনো। এ ব্যবস্থাপনার পুরো দায় বিমানের। ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন করতে বিমানবন্দরের কার্যক্রম আরও ভালোভাবে তদারক করতে হবে। এর জন্য দায়িত্বপ্রাপ্তদের উদ্যোগ ও সদিচ্ছা প্রয়োজন।

ভোগান্তির কথা সরকারি প্রতিবেদনেও

লাগেজ ভোগান্তি কমাতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করেছে। চলতি বছরের ৩১ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর ওই কমিটি পরিদর্শন করে। গত ২৯ নভেম্বর কমিটি একটি প্রতিবেদন দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময়ে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ তিন ফ্লাইটে ৮৭৭ যাত্রীর লাগেজ ও ব্যাগ ছিল ২ হাজার ৬৭টি। লাগেজগুলো যাত্রীদের হাতে পৌঁছায় ৩৮ থেকে ৫৭ মিনিটে। এ সময় দুটি কার্টুন ছেড়া এবং দুটি ব্যাগ খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। লাগেজ ডেলিভারিতে দেরি হয়। দুটি ট্রলির চাকা এবং একটি ট্রলির হ্যান্ডস্ট্যান্ড ভাঙা পাওয়া যায়। লাগেজ স্টোর-১ অসংখ্য মালিকানাহীন ব্যাগ পড়ে ছিল এবং ব্যাগেজ স্টোর-২-এ অসংখ্য ব্যাগ এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া যায়।

টো ট্রাক্টরের সংখ্যা বাড়ানোসহ লাগেজ ভোগান্তি দূর করতে ছয়টি সুপারিশ করে কমিটি। বাকি সুপারিশগুলো হলো- মালিকানাহীন ব্যাগেজের রেকর্ড সংরক্ষণ ও অতিদ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নেয়া, আফলোড করা লাগেজ তাৎক্ষণিকভাবে বুঝিয়ে দেয়া, বিদেশে নিরাপত্তা চেকিংয়ের সময় খোলা লাগেজে আবশ্যিকভাবে সিল বা মেসেজ দেয়া, ট্রাফিক হেলপারদের নিয়মিত দেহ তল্লাশি করা ও ননস্ট্যান্ডার্ড লাগেজ বহনে নিরুৎসাহিত করা।

সার্বিক বিষয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিমানবন্দরে লাগেজ নিয়ে সমস্যা এখনো আছে। শাহজালালে বিমানবন্দরে বোর্ডিং ব্রিজ পাঁচটি। চার থেকে পাঁচটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কাছাকাছি সময়ে অবতরণ করলে বোর্ডিং ব্রিজ পাওয়া যায় না। কখনো ব্যাগেজ পেতে দেরি হয়, ব্যাগ খুঁজে পাওয়া যায় না।’

বিমান প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবার মান বাড়াতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনবল বাড়ানো হচ্ছে।

বিমানের সেবার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিমানের সেবা কীভাবে আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে মন্ত্রণালয় ও বেবিচক কাজ করছে। এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’


ডলার বিক্রির দর আরও ১ টাকা বাড়ল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির দর ১ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত সোমবার ৯৮ টাকা থেকে ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৯ টাকা করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং একাধিক ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে এই নতুন বিনিময় হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়নি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আন্তব্যাংক লেনদেন সর্বনিম্ন ছিল ১০২ টাকা ৬৯ পয়সা ও সর্বোচ্চ ১০৭ টাকা।

এর আগে গত নভেম্বরে ব্যাংকগুলোর চাহিদা মেটাতে রিজার্ভ থেকে ৯৭ টাকা থেকে ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৮ টাকায় প্রতি ডলার বিক্রি করা হচ্ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘মঙ্গলবার সরকারি কেনাকাটায় প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের কাছে ছয় কোটি ৭৯ লাখ ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার বিক্রি করা হয়েছিল ৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার। আর এ নিয়ে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের মঙ্গলবার পর্যন্ত (৫ মাস ৬ দিন) ৬৬০ কোটি (৬.৬ বিলিয়ন) ডলার বিক্রি করা হয়েছে।’

আন্তঃব্যাংক ও গ্রাহক পর্যায়ে সব ব্যাংকেই বর্তমানে ভাসমান বিনিময় দর অনুসরণ করছে। তবে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে নিজেদের নির্ধারিত আলাদা দর অনুসরণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যাকে বলা হচ্ছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সেলিং রেট’। এর আগে, বাংলাদেশ ব্যাংক যে দামে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতো সেটিকে 'ইন্টারব্যাংক এক্সচেঞ্জ রেট' বা আন্তঃব্যাংক লেনদেন হার- নামে অভিহিত করা হতো।

তবে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ছাড়া অন্য কোনো ব্যাংকের কাছে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলতি অর্থবছর জুলাই থেকে রিজার্ভ থেকে ১০ বার ডলার বিক্রির দাম বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ বিষয়ে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এটি বাজারের সঙ্গে এডজাস্টমেন্ট করা হচ্ছে। বর্তমানে আন্তব্যাংক লেনদেনের গড় দরের সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট সমানে নিয়ে আসবে। সেজন্য এই দর বাড়ছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট আন্তব্যাংকের সঙ্গে এক দরে নিয়ে আসলে সামস্টিক অর্থনীতির জন্য ভাল হবে।’

এর আগে সর্বশেষ নভেম্বর মাসে ১ টাকা বাড়িয়ে ৯৮ টাকা করা হয়েছিল। এই দামেই ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

চলমান ডলার সংকটের কারণে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে ডলারের চাহিদা ও যোগানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডলারের দর নির্ধারিত না হওয়ায় ব্যাংকগুলো নিজেদের মধ্যে ডলার লেনদেন বন্ধ করে দেয়।

এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেশ কয়েক বার টাকার অবমূল্যায়ন করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের বাজার নিস্ক্রিয়ই থাকে।

চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে ডলারের আন্তঃব্যাংক বিনিময় হার ছিল ৮৫ টাকা ৮০ পয়সা।

দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় বাজারের স্থিতিশীলতা আনতে বিদেশি মুদ্রা লেনদেকারী ব্যাংকগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) এক সভায় রেমিট্যান্স আনতে ১০৭ টাকা এবং রপ্তানি বিল নগদায়ন করতে ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রপ্তানি বিল নগদায়ন ও রেমিট্যন্স দরের মধ্যে পার্থক্য কমিয়ে আনতে চাচ্ছে এবিবি ও বাফেদা।

১২ সেপ্টেম্বর ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারক ও রেমিট্যান্স প্রেরকদের জন্য ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা অভিন্ন হার নির্ধারণ করলে দীর্ঘ পাঁচ মাস নিস্ক্রিয় থাকার পর ফের সচল হয় আন্তঃব্যাংক ফরেক্স বাজার।

ওই একই দিনে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রির হারের পরিবর্তে আন্তঃব্যাংক ডলার রেট হিসাবে ভাসমান হার প্রকাশ করা শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এই দরের ব্যাখ্যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইট বলছে, এটি আন্তব্যাংক লেনদেন যা বাফেদা নির্ধারিত দর।

ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের বাজার দরের সঙ্গে মিলিয়ে ফ্লোটিং এক্সচেঞ্জ রেট চালুর কথা বললেও তারা নিজেরা ডলার বিক্রির ক্ষেত্রে আন্তব্যাংক দরটি অনুসরণ করছে না।

চাহিদা অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে ডলার কিনছে। তবে ডলার কত দরে বিক্রি করা হচ্ছে-সে বিষয়ে বিস্তারিত ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে না। ফলে, এই দর বাড়ায় টাকার অবমূল্যায়ন হলো কিনা-এ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছুই বলছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির এই দরকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার সেলিং রেট’। ফলে যে ১ টাকা বাড়ানো হয়েছে সেটিকে বলা হচ্ছে বাজারের সঙ্গে ‘এডজাস্টমেন্ট’। এর আগে অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেলিং রেট বাড়লে সেটিকে ‘টাকার অবমূল্যায়ন’ বলা হতো।


দেশে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে কাজ করছে বেসরকারি খাত: এফবিসিসিআই

লন্ডনের ম্যানশন হাউসে গত সোমবার অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই সভাপতি জসিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতির (এফবিসিসিআই) সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেছেন, পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের অংশীদাররা কাজ করছেন। পরিবেশবান্ধব মান বজায় রাখতে শিল্পকারখানাগুলো উদ্ভাবনমূলক কার্যক্রমও হাতে নিয়েছে।

লন্ডনের ম্যানশন হাউসে স্থানীয় সময় গত সোমবার ‘কমনওয়েলথ ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট সামিট ২০২২’ এর এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে জসিম উদ্দিন এসব কথা বলেন। বৈঠকে ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যান্ড প্রফেশনাল সার্ভিসেস- দ্য রোল অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড রেগুলেশনস অন দ্য রোড টু নেট জিরো’ বিষয়ে আলোচনা হয়।

এফবিসিসিআই সভাপতি বৈঠকে উল্লেখ করেন, বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস (জিএইচজি) নির্গমনে বাংলাদেশের বর্তমান অবদান মাত্র শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। কার্বন নির্গমনের অংশ শূন্য দমশিক ০৯ শতাংশ। এমন অবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে বাংলাদেশ একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। এর মধ্যে ৯০টি উচ্চ-অগ্রাধিকারসহ মোট ১১৩টি পদক্ষেপ রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নে ২০৫০ সাল নাগাদ ২৩০ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন।

বৈশ্বিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৮৯ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন টন কমাতে বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিষয়টি উল্লেখ করে জসিম উদ্দিন বলেন, সে লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ, পরিবহন, শিল্প, গৃহস্থালী, বাণিজ্যিক, কৃষি, ইটভাটা এবং ধাবমান নির্গমনের মতো জ্বালানি খাত থেকে ৯৬ দশমিক ১ শতাংশ নির্গমন কমাবে। অবশিষ্ট ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কৃষি ও পশুসম্পদ, বনায়ন ও নগরের কঠিন বর্জ্য থেকে কমানো হবে।

জসিম উদ্দিন বৈঠকে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিকে কার্বন নিঃসরণের ক্ষেত্রে নেট-জিরোতে রূপান্তর করতে এবং জলবায়ু বিপর্যয় এড়াতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ডলারের ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ প্রয়োজন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘের ২৭তম (কপ-২৭) সম্মেলনে জলবায়ু অর্থায়নের ওপরও বাংলাদেশ জোর দিয়েছে।

বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন ইস্ট অ্যান্ড কমিউনিটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ব্রোনেক মাসোজ্যাডার। উপস্থিত ছিলেন ইউকে অ্যাক্রিডিটেশন সার্ভিসের চেয়ারম্যান লর্ড লিন্ডসে, ব্রিটিশ স্ট্যান্ডার্ড ইনস্টিটিউশনের (বিএসআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজান টেইলর মার্টিন, এফবিসিসিআইয়ের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী, পরিচালক জামাল উদ্দিন প্রমুখ।


মহামারীকালের দশায় পুঁজিবাজার

শেয়ার বাজারের প্রতীকী ছবি।
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:১৩
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

প্রায় আড়াই বছর আগে করোনা মহামারির সময় সাধারণ ছুটি নামের বিধিনিষেধ শেষে পুঁজিবাজার চালু হলে লেনদেনে যে খরা দেখা গিয়েছিল, তা আবার ফিরে এসেছে। গত আট কর্মদিবসের মধ্যে পাঁচ কর্মদিবস ৩০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হওয়ার পর এবার তা নেমে এসেছে ২০০ কোটির ঘরে।

এমন চিত্র সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালের জুলাই মাসে। সে সময় ১৪ জুলাই থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত টানা আট কর্মদিবস ২০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়েছিল।

মঙ্গলবার সপ্তাহের তৃতীয় কর্মদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন হয়েছে ২৭১ কোটি ৯৭ লাখ ৬১ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল ৩৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। লকডাউনে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পর এটিই সর্বনিম্ন লেনদেন। সেদিন হাতবদল হয় ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

আগের দিনের চেয়ে লেনদেন কমলেও সূচক ১৬ পয়েন্ট বেড়েছে। ৫০টি কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ার বিপরীতে এদিন দর হারায় ২৫টি কোম্পানি। ফ্লোর প্রাইসে আগের দিনের দরে লেনদেন হয়েছে ২২৮টি কোম্পানি। ৮৭টি কোম্পানির একটি শেয়ারও হাতবদল হয়নি।

গত ৩১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ফ্লোর প্রাইস দেয়ার পর পুঁজিবাজার মাস দুয়েক চাঙা থাকলেও গত দুই মাস ধরে তা ক্রমশই নিম্নমুখী। ফ্লোর প্রাইস ছাড়িয়ে যেমন কোম্পানির শেয়ারের দর তরতর করে বাড়ছিল, এর মধ্যে সিংহভাগই ফ্লোর প্রাইস বা আশপাশের দরে নেমেছে। শক্তিশালী বহু কোম্পানি, যেগুলো বছরের পর বছর বিনিয়োগকারীদের দারুণ মুনাফা দিয়ে আসছে, সেসব শেয়ারেরও ক্রেতা নেই। এখন আলোচনা হচ্ছে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে এই অবস্থা তৈরি হয়েছে।

তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেছেন, তারা বাধ্য হয়েই ফ্লোর প্রাইস দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে এটি তুলে দেয়া হলে শেয়ারের দর পড়ে গিয়ে বিনিয়োগকারীরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন। তার মতে, দেশের সামগ্রিক আর্থিক যে পরিস্থিতি, তার মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।

পুঁজিবাজারের লেনদেন প্রসঙ্গে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডিবিএ) সভাপতি রিচার্ড ডি রোজারিও দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পুঁজিবাজারের ভলিউম কমার কারণই হলো ফ্লোর প্রাইস। আগেও বলেছি, এটা শাখের করাত। তুলে দিলেও সমস্যা, আবার থাকার কারণে বায়ার নাই।’

তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকটের কারণেও বিনিয়োগ কমেছে। আর্থিক খাতে বিভিন্ন অনিয়মের খবর পত্রপত্রিকায় আসছে। সেসব দেখে মানুষ বিনিয়োগে সাহস করবে কীভাবে?’

করোনাকালে যেমন ছিল বাজার

বিশ্বে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পরপরই ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকেই আতঙ্কে পুঁজিবাজারের লেনদেন নেমে যায় তলানিতে। জানুয়ারিতে ২০০ কোটির ঘরে নেমে আসে। তবে পরে বাড়তে বাড়তে হাজার কোটির ঘরও ছাড়িয়ে যায়। সে সময় বিশ্বজুড়ে লকডাউনের কারণে মানুষ ছিল আতঙ্কে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ বাংলাদেশে ভাইরাসটির সংক্রমণ হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, তখন এই আতঙ্ক পুরোপুরি জেঁকে বসে। ১৯ মার্চ মাত্র ৪৯ কোটি ১২ লাখ ১৬ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটিতে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগের দিন হাতবদল হয় ৩৪৮ কোটি ১৩ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

দুই মাসেরও বেশি সময় লেনদেন স্থগিত থাকার পর ৩১ মে চালু হয় পুঁজিবাজার। তবে সে সময়ও বিনিয়োগকারীরা যায়নি ব্রোকারেজ হাউসে। লেনদেন হতে থাকে ১০০ কোটি টাকারও নিচে। জুলাইয়ের শুরু থেকে লেনদেন ফের কিছুটা বাড়তে থাকে।

তখন একটু একটু করে লেনদেন বাড়তে থাকার পর বিনিয়োগকারীরাও সক্রিয় হচ্ছিলেন। একপর্যায়ে বাজারে দেখা দেয় চাঙাভাব। লেনদেন প্রথমে হাজার কোটি, এরপর ২ হাজার কোটি, এবং একপর্যায়ে ছাড়িয়ে যায় ৩ হাজার কোটির ঘর।

শেয়ারদর বাড়তে থাকায় বাড়তে থাকে মূল্যসূচক। একপর্যায়ে ২০১০ সালের মহাধসের পর সর্বোচ্চ সূচকে পৌঁছার পর এক যুগের হতাশা কাটার আলোচনা বড় হয়ে ওঠে।

তবে এখন পুঁজিবাজারে ঠিক উল্টো চিত্র। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে উদ্বেগ, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উৎকণ্ঠা তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। পুঁজিবাজারে আতঙ্ক আরও বেশি। এই বাজার ব্যক্তি-শ্রেণির বিনিয়োগকারীনির্ভর, যারা নানা সময় নেতিবাচক খবরে আতঙ্কিত হয়ে কম দামে শেয়ার বেচে ক্ষতিগ্রস্ত হন, আবার ইতিবাচক হতে পারে, এমন খবরেও বেশি দামে শেয়ার কিনে পড়ে আরেক ক্ষতিতে।

সূচকে প্রভাব যাদের

মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি ৩ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে বিকন ফার্মা। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ। অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজের দর ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২২ পয়েন্ট। ওরিয়ন ইনফিউশন সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৮৫ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে বসুন্ধরা পেপার, সি-পার্ল, ইস্টার্ন হাউজিং, ওরিয়ন ফার্মা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস ও পূবালী ব্যাংক। সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ১৪ দশমিক ১২ পয়েন্ট। বিপরীতে সবচেয়ে বেশি শূন্য দশমিক ৭৫ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। কোম্পানির দর কমেছে ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। পদ্মা অয়েলের দর শূন্য দশমিক ৯০ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ৪০ পয়েন্ট। এ ছাড়া কোহিনূর কেমিক্যালস, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইউনিক হোটেল, আমরা টেকনোলজিস, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও ই-জেনারেশনের দরপতনে সূচক কমেছে।

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ দর বেড়ে মুন্নু অ্যাগ্রোর শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৭০৮ টাকা ১০ পয়সায়। ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৬০৯ টাকা ৫০ পয়সায়। তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল মুন্নু সিরামিকস। ৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ১১৪ টাকা ১০ পয়সায়। এ ছাড়া তালিকায় ছিল অ্যাম্বি ফার্মা, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, ইস্টার্ন হাউজিং, বসুন্ধরা পেপার, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, পেপার প্রসেসিং ও মনোস্পুল।

দরপতনের শীর্ষ ১০

সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ৮১ শতাংশ দর কমেছে কনফিডেন্স সিমেন্টের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮৯ টাকায়। এরপরই ২ শতাংশ দর কমে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১২ টাকা ৭০ পয়সায়। ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ দর কমে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৬ টাকা ৭০ পয়সায়। এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল আমরা টেকনোলোজিস, কোহিনূর কেমিক্যাল, পদ্মা অয়েল, অগ্নি সিস্টেমস, সোনালী পেপার, বিডি কম ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স।


ইসলামি ব্যাংকগুলোকে তারল্য সুবিধা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক।
আপডেটেড ৬ ডিসেম্বর, ২০২২ ০০:১৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

শরিয়াহভিত্তিক বা ইসলামি ব্যাংকগুলোত তারল্য সংকটের ঘাটতি না হয় সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেদের তহবিল থেকে বিশেষ সুবিধা দেয়ার কথা জানিয়েছে। নতুন এ ব্যবস্থার নাম ‘ইসলামিক ব্যাংকস লিকুইডিটি ফ্যাসিলিটি’। সুকুক বন্ডের বিপরীতে এ সুবিধার আওতায় প্রতিদিন চাহিদা অনুযায়ী এক কোটি থেকে আরও বেশি পরিমাণ টাকা ধার নিতে পারবে ব্যাংকগুলো।

তবে ১৪ দিন মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ ব্যাংকের কারেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে সেই অর্থ সমন্বয় বা কেটে রাখবে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেট ম্যানেজমেন্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে শরিয়াহভিত্তিক সব ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের জানানো হয়েছে।

সার্কুলারে বলা হয়, ইসলামিক আর্থিক ব্যবস্থাকে অধিকতর শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ তারল্য সুবিধা দেয়া হবে।
সোমবার থেকেই এটি কার্যকর করা হয়েছে। শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলো সপ্তাহের প্রতি কার্যদিবসে নিয়মিত এই সুবিধা গ্রহণের জন্য একটি ফর্মে আবেদন করতে পারবে। সার্কুলারের সঙ্গে এ ধরনের আবেদন ফরমও যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

এ নিয়ে একটি নীতিমালা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সে অনুযায়ী, তারল্য-সুবিধার মেয়াদ হবে ১৪ দিন। তিন মাস মেয়াদি আমানতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের যে মুনাফার হার, এ ক্ষেত্রেও একই মুনাফা দিতে হবে। কমপক্ষে এক কোটি টাকা তারল্যের জন্য আবেদন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অকশন কমিটি তারল্য-সুবিধা দেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে। আর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে মুনাফাসহ টাকা ফেরত নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের লিয়েনে রাখা বন্ড থেকে তা সমন্বয় করা হবে।

দেশের ৬১টি ব্যাংকের মধ্যে এখন ১০টি ইসলামি ধারার ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটির আমানত প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা।

অন্য ব্যাংকগুলো হলো- এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী, সোশ্যাল ইসলামী, আল-আরাফাহ্, স্ট্যান্ডার্ড, শাহজালাল ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক।


রাশিয়া-ইউক্রেনের মতো বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত: চীনা রাষ্ট্রদূত

পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ২৩:৩৭
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

চীন সবসময় এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা চায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। তিনি বলেছেন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্রসহ কারো সাথেই শত্রুতা চায় না চীন; বরং বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চায়। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে তারা বিপর্যয়ে পড়েছে। বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর বিষয়টি মাথায় রেখে বিপর্যয় এড়িয়ে চলা উচিত।’

সোমবার (৫ ডিসেম্বর) পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে ভালো সময় পার করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি বাংলাদেশের চীনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে ৩ বছর ৪ মাস দায়িত্ব পালন করলাম। এটি একটি অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত থাকার সময়টা আমি খুব উপভোগ করেছি। বাংলাদেশ একটি অসাধারণ দেশ। এ দেশের মানুষ খুবই বন্ধুবৎসল।

লি জিমিং বলেন, ‘বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। দেশটি অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছে। সামনের দিনে বাংলাদেশ আরও অনেক ভালো করবে বলে আমি আশাবাদী।’

রাজধানীর উত্তরায় নির্মাণাধীন বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের গার্ডার দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহতের ঘটনায় চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারের এখতিয়ার। দোষীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকার ব্যবস্থা নেবে।’

বিদায়ের সময় চীনের রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা উপহার দেন পরিকল্পনামন্ত্রী।


ধৈর্যের পরীক্ষা নিয়েই যাচ্ছে পুঁজিবাজার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের পরীক্ষা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। সূচক পতনের সঙ্গে আগের কর্মদিবসের মতো সোমবারও লেনদেন তিন শ কোটির ঘর অতিক্রম করতে পারলো না।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) এ নিয়ে গত ১১ কর্মদিবসের মধ্যে ৬ দিনই লেনদেন হলো তিন শ কোটির ঘরে। বাকি চার দিন চার শ কোটি ও এক কর্মদিবস লেনদেন হয়েছে পাঁচ শ কোটির বেশি।

লাখ লাখ শেয়ার বিক্রির জন্য বসিয়ে ক্রেতা পাচ্ছেন না বিনিয়োগকারীরা। এই অবস্থা থেকে কবে উত্তরণ হবে, তার কোনো আভাস না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। বহু বিনিয়োগকারী এখন ব্রোকারেজ হাউজে যাওয়াই ছেড়ে দিয়েছেন।

সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে হাতবদল হয়েছে ৩৪৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা, যা আগের কর্মদিবসের চেয়ে ৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি।

রোববার ২০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে। হাতবদল হয় ৩১৩ কোটি ৫৬ লাখ ২ হাজার টাকার শেয়ার। যা চলতি বছরের তো বটেই, ২০২১ সালের ৫ এপ্রিলের পরও ছিল সর্বনিম্ন লেনদেন।

সে সময় করোনার কারণে লকডাউনের আগে আগে পুঁজিবাজারের লেনদেন স্থগিত হয়ে যাবে, এমন আতঙ্কে লেনদেন নামে তলানিতে। দিনভর হাতবদল হয় কেবল ২৩৬ কোটি ৬০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। তবে পরদিন যখন পুঁজিবাজার চালু থাকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে, বাড়তে থাকে লেনদেন।

তবে চলতি বছরের নভেম্বরে শীত পড়ার আগে আগে শীতঘুমে যায় পুঁজিবাজার। ২৪ নভেম্বর ৩২৩ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার টাকা, ২৪ অক্টোবর ৩৩৪ কোটি ৭৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ২৭ নভেম্বর ৩৩৯ কোটি ৭৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং ২১ নভেম্বর ৩৫১ কোটি ৯০ লাখ ২৩ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছে।

গত রোববারের আগে চলতি বছর সর্বনিম্ন লেনদেন ছিল গত ১৯ জুলাই। সেদিন ৩১৯ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকা লেনদেনের প্রধান কারণ ছিল কারিগরি ত্রুটি। ওইদিন কয়েক ঘণ্টা লেনদেন বন্ধ ছিল।

করোনাকালের মতো না হলেও গত জুন থেকেই পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। জুলাইয়ে ডিএসসির সাধারণ সূচক ৬ হাজার পয়েন্টের নিজে নেমে এলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি বিনিয়োগকারীদের পাশে দাঁড়ায়। সব শেয়ারের সর্বনিম্ন মূল্য বা ফ্লোর প্রাইস বেঁধে দেয়।

৩১ জুলাই থেকে উত্থানে ফেরে পুঁজিবাজার। এর মধ্যে বিনিয়োগকারীদের এক যুগের চাহিদাও পূরণ হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, শেয়ারের বাজারমূল্য নয়, ক্রয়মূল্য ধরেই গণনা হবে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা বা এক্সপোজার লিমিট।

অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ফের চলে উত্থান। তবে অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে ধীরে ধীরে গতি হারাতে থাকে পুঁজিবাজার।

এর মধ্যে ব্যাংকে টাকা রাখা নিয়ে গুজব ছড়ানো হয়, সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা আরও বাড়ে। বেশ কিছু ব্যাংক থেকে বেআইনিভাবে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণের বিষয়টিও আসে সামনে। এতে বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস নামতে থাকে তলানিতে।

সোমবার ৯১টি কোম্পানির একটি শেয়ারও লেনদেন হয়নি। এর মধ্যে ৮টির লেনদেন বন্ধ ছিল রেকর্ড ডেটের কারণে।

যে ২৯৯টি কোম্পানির লেনদেন হয়েছে, তার মধ্যে ২৩টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দরপতন হয়েছে ৫৫টির। আর অপরিবর্তিত দরে লেনদেন হয়েছে ২২১টি কোম্পানির, যার প্রায় সবই রয়েছে ফ্লোর প্রাইসে।

দরপতনের প্রভাবে সূচক কমেছে ১২ পয়েন্ট। ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২১২ পয়েন্টে। সূচকের অবস্থান এর চেয়ে কম ছিল ৫ কর্মদিবস আগে। ২৮ নভেম্বর সূচক ছিল ৬ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে।

১ থেকে ১ হাজারের মধ্যে শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১২৫টিতে। এক কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে মাত্র ৫১টি কোম্পানিতে। ২৭৪ কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকা। বিপরীতে ২৪৮টি কোম্পানিতে লেনদেন হয়েছে কেবল ৭০ কোটি ১৪ লাখ ৮৭ হাজার টাকা।

‘সময় লাগবে ঘুরে দাঁড়াতে’
ক্যাল সিকিউরিটিজের শীর্ষ নির্বাহী (সিইও) রাজেশ সাহা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবে ডিসেম্বরে মার্কেট এমন থাকে। কিন্তু এবার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কারণ, আবার ১০ তারিখে বিএনপির কর্মসূচি, এসব বিষয় মাথায় রেখেই বিনিয়োগকারীরা সাইডলাইনে রয়েছেন। অন্যবার যেমন হয় কেউ লাভ করেন, কেউ লোকসানে থাকেন। কিন্তু এবার সবাই ধরা খেয়েছে।’

এখন বাজার যে অবস্থানে রয়েছে সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে সময় লাগবে বলে জানান রাজেশ সাহা। বলেন, ‘এটাও মার্কেটের একটা সুযোগ, এটাকে অ্যাকিউমুলেট করে মার্কেট দাঁড়াতে সময় লাগবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে অতীতে দেখা গেছে, যখন অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ থাকে তখন মার্কেট ভালো থাকে। কিন্তু এবার সেরকম নয়।’

ক্যাল সিকিউরটিজের এই শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের (ব্রোকার) ইনকাম কমিশন বেসড। এটা থেকে বের হতে হবে। আমাদেরকে ফান্ড ম্যানেজার হতে হবে। কেউ এক টাকা দিলো, সেটাই সবাই ভাগাভাগি করে নিলাম, সেটা না করে কে কয় টাকা আর্ন করে দিতে পারলাম সেটার ওপর নজর দেয়া দরকার।’

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশে ব্যাংকিং সেক্টরের বড় বিনিয়োগ রয়েছে পুঁজিবাজারে, কিন্তু আমাদের দেশের বাজারে তা ১ শতাংশের মতো। আমরা স্ট্রাকচারাল চিন্তা করি না। ডেট মার্কেট নিয়ে কাজ করে মার্কেট বড় করতে হবে। ইক্যুইটি মার্কেট নিয়ে করার কিছু নাই।’

‘বন্ডের ট্রেড শুরু হলো। কিন্তু অনেক ঝামেলা রয়ে গেছে। সেটেলমেন্টে টাইম লাগে। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকে গেলে তো সঙ্গে সঙ্গে হয়ে যায়। তাহলে কেন কেউ এখানে ট্রেড করবে। সে ব্যাংক থেকে কিনবে।’

তিনি যোগ করেন, ‘এসব প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করতে হবে। মার্কেট স্ট্রাকচারাল করে দিন। এরপর সেটা যেখানে ইচ্ছা, সেখানে যাক।’

সূচকে প্রভাব যাদের
সবচেয়ে বেশি ৫ দশমিক ২২ পয়েন্ট সূচক কমিয়েছে বিকন ফার্মা। কোম্পানির দর কমেছে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ।
ওরিয়ন ফার্মার দর ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ হ্রাসে সূচক কমেছে ২ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট।

বসুন্ধরা পেপারের কারণে সূচক হারিয়েছে ২ দশমিক ০৪ পয়েন্ট। এদিন কোম্পানির শেয়ারদর কমেছে ৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।

এ ছাড়াও নাভানা ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, সোনালী পেপার, রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্স, জেনেক্স ইনফোসিস ও পূবালী ব্যাংকের দরপতনে সূচক কমেছে।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক কমিয়েছে ১৭ দশমিক ১০ পয়েন্ট।

বিপরীতে সবচেয়ে বেশি ২ দশমিক ৩০ পয়েন্ট সূচক বাড়িয়েছে ওরিয়ন ইনফিউশন। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

বার্জার পেইন্টসের দর ১ শতাংশ বাড়ায় সূচক বেড়েছে ২ দশমিক ২৭ পয়েন্ট। এডিএন টেলিকম সূচকে যোগ করেছে ১ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট। কোম্পানির দর বেড়েছে ৬ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

এর বাইরে সূচকে পয়েন্ট যোগ করেছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বেক্সিমকো গ্রিন সুকুক, বিডি থাই ফুড, বাটা সুজ, প্রিমিয়ার ব্যাংক, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন ও মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক।

সব মিলিয়ে এই ১০টি কোম্পানি সূচক বাড়িয়েছে ৯ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।

দরবৃদ্ধির শীর্ষ ১০
সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ দর বেড়ে ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৫৬৭ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ৫২৭ টাকা ৫০ পয়সা।

এরপরই ৬ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে এডিএন টেলিকমের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১১৪ টাকা ২০ পয়সায়, যা আগের দিন ছিল ১০৬ টাকা ৮০ পয়সা।

তালিকার তৃতীয় স্থানে ছিল বিডি থাই ফুড। ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ দর বেড়ে শেয়ারটি হাতবদল হয়েছে ৫০ টাকায়। আগের দিনের দর ছিল ৪৮ টাকা ১০ পয়সা।

এ ছাড়া অগ্নি সিস্টেমসের দর ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ বেড়ে শেয়ার বেচাকেনা হয়েছে ২৪ টাকায়। রোববার ক্লোজিং প্রাইস ছিল ২৩ টাকা ১০ পয়সা।

সোনালী আঁশ ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের দর বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।

মুন্নু সিরামিকস, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, এনসিসিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ ও বিডি কমের দর বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি।

দরপতনের শীর্ষ ১০
সবচেয়ে বেশি ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ দর কমেছে জুট স্পিনার্সের। প্রতিটি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১৬ টাকায়, যা আগের দিন ছিল ২৩২ টাকা ৪০ পয়সা।

এর পরেই ৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ দর কমে পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২০৩ টাকা ৫০ পয়সায়। আগের দিনের দর ছিল ২১৫ টাকা ৩০ পয়সা।

৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ দর কমে নাভানা ফার্মার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮০ টাকা ১০ পয়সায়। যা আগের দিন ছিল ৮৪ টাকা ৭০ পয়সা।

এ ছাড়া তালিকায় পরের স্থানে ছিল বসুন্ধরা পেপার, জেমিনি সি-ফুড, কে অ্যান্ড কিউ, ওরিয়ন ফার্মা, মনোস্পুল, পদ্মা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ।


বিপাকে পড়ে ফ্লোর প্রাইস দিতে হয়েছে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সেমিনারে বক্তব্য দিচ্ছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৫ ডিসেম্বর, ২০২২ ১৮:৩০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম। তিনি বলেছেন ‘বিনিয়োগকারীরা সতর্ক হয়ে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন। এ কারণে লেনদেন কমে গেছে। ৯০ শতাংশ বিনিয়োগকারীর কথা ভেবেই শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস আরোপ করতে হয়েছে।’

সোমবার রাজধানীর পল্টন টাওয়ারে ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারের বিষয় ছিল ‘প্রসপেক্টাস অ্যান্ড চ্যালেঞ্জেস অফ বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট।’

এতে প্যানেল আলোচক হিসেবে অংশ নেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলোর মোর্চা বিএপিএলসির সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান।

ইআরএফ সভাপতি শারমিন রিনভীর সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সাংবাদিক মোফাজ্জল হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ‘উন্নত দেশগুলোর স্টক এক্সচেঞ্জে ৯০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, বাকি ১০ শতাংশ রিটেইল। কিন্তু আমাদের দেশে চিত্র ঠিক তার উল্টো। আমাদের বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক ইনভেস্টর থাকলে ফ্লোর প্রাইজ নিয়ে আমরা চিন্তাও করব না। আমি আইওএসকোর (বিশ্বের বিভিন্ন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মোর্চা) একজন কর্মকর্তা, বিপাকে পড়ে আমাকে ফ্লোর প্রাইজের কথা ভাবতে হয়েছে। শুধুমাত্র রিটেইল ইনভেস্টরদের কথা ভেবে কমিশনকে ফ্লোর প্রাইজের কথা চিন্তা করতে হয়েছে। অনেক মানুষের মার্জিন থাকে। ফোর্স সেল হয়ে মানুষের সর্বনাশ হয়ে যেত।’

তিনি আরও বলেন, আমরা যখন এসেছি তখন ছিল করোনা, একদম বন্ধ মার্কেট। আমরা এসেই কাজ করেছি কীভাবে পুঁজিবাজারকে চালু করা যায়। বন্ধ মার্কেটকে পুনরায় চালু করতে আমরা ঠিকই প্রতিদিন অফিস করেছি। কিন্তু আমরা ছাড়াও মার্কেটে যারা কাজ করে, যারা মধ্যস্ততাকারী আছেন তারা অফিস করছিলেন না। তারা ভয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না। তার পরেও আমরা মার্কেটকে সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টে নিয়ে এসেছি আমাদের সময়ে।'

ইটিএফ, বন্ড, কমোডিটি এক্সচেঞ্জের মতো প্রোডাক্ট পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, হয়তো এখন আমরা সমালোচিত হচ্ছি, কিন্তু আমরা যে কাজ করেছি তার সুফল ভবিষ্যতে পাবেন।'

অধ্যাপক শিবলী বলেন, ‘আমরা কান্ট্রি ব্র্যান্ডিং করেছি, অনেকেই বলবেন এটা আমাদের কাজ না। কিন্তু ব্র্যান্ডিং করলে ইনভেস্টমেন্ট আসে। ইকোনোমিক অ্যাক্টিভিটিজ বাড়ে। এতে কর্মসংস্থান হয়। মানুষের হাতে অর্থ আসে। এতে নতুন বিনিয়োগ আসে বা সুযোগ তৈরি হয়।’

অর্থনৈতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পুঁজিবাজারে পড়েছে বলে মনে করেন বিএসইসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘নেগেটিভ ইম্প্যাক্টের কারণে মানুষ সেফটি মেজারস নেয়, যার কারণে বিনিয়োগ কমে গেছে।’

তুলনামূলক বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভালো রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন চাপের কারণে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ভলাটিলিটির মধ্যে দিয়ে গেছে, কিন্তু ভলাটিলিটি ইনডেক্স দেখলে বুঝতে পারবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় আমরা অনেক ভালো ছিলাম।’

বিনিয়োগ শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগারী এবং বাজার উভয়ের জন্য। সেজন্য স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা কীভাবে যুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’

সেমিনারে বক্তব্য রাখেন ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান। ছবি: দৈনিক বাংলা

সেমিনারে ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, ‘করোনার মধ্যে যখন বিশ্বব্যাপী নেগেটিভ গ্রোথ ছিল। তখনও বাংলাদেশে ৫ শতাংশ গ্রোথ হয়েছে। এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের যে গ্রোথ তা অন্যদের চেয়ে ভালো।’

দেশের উন্নয়নের সুফল সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছেছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমাদের গ্রোথের বিউটি হচ্ছে, ইনক্লুসিভ গ্রোথ। অর্থাৎ দেশের সব শ্রেণির মানুষকে নিয়ে গ্রোথ। এই গ্রোথের ফল দেশের গরীব মানুষও পেয়েছেন। শুধু শহরের মানুষের নয়, গ্রামের মানুষেরও ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে। এটা ২০১৯ সাল ধরে বলছি। তারপর একটু অন্যরকম হয়েছে।’

সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার উন্নয়নে ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ডিএসই চেয়ারম্যান বলেন, ‘পুঁজিবাজারের উন্নয়নে সরকার প্রধান ৬টি নির্দেশনা দিয়েছিল। পৃথিবীর আর কোনো দেশের সরকার প্রধান পুঁজিবাজারের উন্নয়নে এত বেশি গুরুত্ব দেন কিনা আমার জানা নেই।’

পুঁজিবাজারের অধিকতর উন্নয়নের অন্তরায় কিছু নীতিগত সীমাবদ্ধতার বিষয় তুলে ধরেন ইউনুসুর রহমান। তিনি বলেন, পলিসি সাপোর্ট এখনও অপর্যাপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে আরও মনোযোগী হতে হবে। ভালো কোম্পানিগুলো ৯ শতাংশ বা এর কমে লোন পেয়ে যায় ব্যাংক থেকে। পুঁজিবাজারে আসলে তাকে বিভিন্ন ধরনের কমপ্লায়েন্স মানার পাশাপাশি ১০ শতাংশ ডিভিডেন্ড ও অন্যান্য খরচ মিলে ১২ শতাংশ হয়ে যায়, তাহলে ৮ শতাংশ সুদে ঋণ না নিয়ে ১২ শতাংশ নিয়ে পুঁজিবাজারে আসবেন?

সেমিনারে মতামত তুলে ধরেন সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম। ছবি: দৈনিক বাংলা

অনুষ্ঠানে সিএসই চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, ‘ভবিষ্যতে যে বিনিয়োগের প্রয়োজন, তার সিংহভাগই আসতে হবে পুঁজিবাজার থেকে। স্বাধীনতার পর প্রাইভেট সেক্টরে যে বিনিয়োগ হয়েছে, তার সবই ব্যাংক থেকে হয়েছে। অথচ এটা হওয়া উচিত ছিল পুঁজিবাজার থেকে।’

তিনি বলেন, ‘কোম্পানিগুলোকে ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ হারে সুদে ঋণ নিয়েও পরিশোধ করতে হয়েছে। অনেকেই হয়তো পারেনি। যার কারণে এনপিএলের (খেলাপি ঋণ) পরিমাণ বেড়েছে এত হারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘লং টার্মে আগে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশে ঋণ পাওয়া যেত, এখন সেটা দশের নিচে চলে এসেছে। অন্যান্য ফ্যাসিলিটিজের ওপর প্রেসার আছে। আমাদের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পুঁজিবাজারের মাধ্যমেই করতে হবে।’

এর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করার জন্য সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমিয়ে আনা হয়েছে। যাতে করে সেভিংসটা পুঁজিবাজারে আসে।’

১২টি কোম্পানি এসএমই বোর্ডে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান আসিফ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, ‘সরকারের পাশাপাশি আরও কিছু উদ্যোগ বিএসইসি নিয়েছে। এসএমই বোর্ড চালু করা হয়েছে। এর পপুলারিটি বাড়ছে। ১২টি কোম্পানি আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তারা পুঁজিবাজার থেকে ৭০০ কোটি টাকা তুলতে চায়।’

বিএপিএলসির সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী। ছবি: দৈনিক বাংলা

বিএপিএলসির সাবেক সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের শুরুতে যে ডকুমেন্টস করা হয়েছিল সেগুলোর সবগুলো কনভিন্যান্ট ছিল না। এগুলোর কিছু সংশোধন করা হয়েছে। আরও কিছুর সংশোধন করা প্রয়োজন। মার্কেটে কোনো গ্রুপের ৫টি কোম্পানি থাকলে রুলস অনুযায়ী ৫ জন এমডি থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিচালনা ব্যয় বেড়ে যায়। এটি একটি সমস্যা।’

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ করবে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা, কারা ফাইন্যান্স কোম্পানিগুলো। তারা বিনিয়োগ করবে কীভাবে? তাদের কাছে তো টাকা নাই। বিভিন্ন সময় বাংলাদেশ ব্যাংক সময় বেঁধে দেয়। যে মুনাফা হয় তা প্রফিশন বিল্ড আপ করতেই চলে যায়। তাহলে পুঁজিবাজারে ইনভেস্ট করবে কীভবে?

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের প্রায় সব মার্কেটই তিন বছর ধরে ওঠানামা করছে, আমাদের মার্কেটেও তাই হচ্ছে। ধারাবাহিক উত্থান বা পতন প্রত্যাশা করা যায় না।

বিএমবিএ সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান। ছবি: দৈনিক বাংলা

বিএমবিএ সহসভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিভিন্ন ক্রাইসিস মুহূর্তে মিডিয়াতে আসে বিভিন্ন ধরনের স্কীম তৈরি করা হয় যে, কারা কত শেয়ার কিনবে বা বিনিয়োগ করবে। এই ডিমান্ড ড্রিভেন পলিসি খুবই শর্ট লিড। এটা অন্যান্য জায়গায় কাজ করে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে মেরিট বেসড বা ভ্যালু বেসড ইনভেস্টমেন্ট হয় না। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের মানসিকতা থাকে না। স্পেকিউলেটিভ ইনভেস্টমেন্ট হয়। কারণ যখন কেউ দেখে রাতারাতি কোনো শেয়ারের ভ্যালু বেড়ে যাচ্ছে। তখন এই স্পেকিউলেশন প্রবৃদ্ধি জেগে ওঠে। সবাই প্রাইস গেই করতে চায়, লং টার্মে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না।’


বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে বিকেবির নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের (বিকেবি) নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আব্দুল জব্বার টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

গত রোববার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় তিনি যান বলে বিকেবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

এ সময় বিকেবির উপব‍্যবস্থাপনা পরিচালক-১ চানু গোপাল ঘোষ, ক্রেডিট বিভাগের উপ মহাব‍্যবস্থাপক মো. মঈনুল ইসলাম ও ঋণ আদায় বিভাগের উপ মহাব‍্যবস্থাপক মো. আজিজুল হক ফকির উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ফরিদপুর বিভাগীয় কার্যালয়ে এই অতিথি দলকে স্বাগত জানান মহাব্যবস্থাপক ও গোপালগঞ্জ মুখ‍্য অঞ্চলের মুখ‍্য আঞ্চলিক ব‍্যবস্থাপক আব্দুর রশিদ। পরে গোপালগঞ্জের শেখ রেহানা টেক্সটাইল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ অডিটোরিয়ামে ফরিদপুর বিভাগের শাখা ব‍্যবস্থাপক পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ব‍্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল জব্বার বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন।

সম্প্রতি বিকেবি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে যোগ দেন আব্দুল জব্বার। এর আগে তিনি জনতা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন।

ব্যাংকে কর্মকালে প্রধান কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্স, ক্রেডিট, এফটিডি, এসএমই, রিটেইল কাস্টমার ডিপার্টমেন্ট ও আইটি ডিপার্টমেন্টাল প্রধানসহ শাখা ও এরিয়া প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বেস্ট ম্যানেজার অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন তিনি।

১৯৮৮ সালে জনতা ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আব্দুল জব্বার। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে বিএসএস (সম্মান) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন।

আব্দুল জব্বার সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কামারালি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

বিষয়:

banner close