শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
১৩ চৈত্র ১৪৩২

বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি কমছেই

আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত
আবদুর রহিম হারমাছি
প্রকাশিত : ৭ এপ্রিল, ২০২৩ ০৮:০৮

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি কমছেই। টানা ছয় মাস ধরে কমছে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই সূচক। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল বাংলাদেশের অর্থনীতি। স্বপ্নের পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেল ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোকে ঘিরে দেশে বিনিয়োগের একটি আবহ তৈরি হয়েছিল। যার প্রভাব পড়েছিল বিনিয়োগ বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান নিয়ামক বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধিতে; বাড়তে বাড়তে গত বছরের আগস্টে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে এই প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে উঠেছিল। এর পর থেকে কমছেই। সর্বশেষ ফেব্রুয়ারি মাসে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

করোনার ধাক্কা কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও বেশ চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। আমদানি খরচ অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমতে কমতে ৪৮ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩১ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নানা পদক্ষেপে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরা গেছে ঠিকই। কিন্তু দেশে নতুন বিনিয়োগের অন্যতম নির্দেশক মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারি) আমদানি এক ধাক্কায় তলানিতে নেমে এসেছে। শিল্পের কাঁচামাল আমদানিও কমেছে। অন্যদিকে টাকার বিপরীতে ডলারের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় নতুন শিল্প স্থাপনের খরচ অনেক বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী-শিল্পদ্যোক্তারা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি (অপেক্ষা করো এবং দেখো)’ পলিসি নিয়েছেন। এসব কারণেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী নেতারা।

বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ধারাবাহিকভাবে কমতে কমতে ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এর অর্থ হলো- ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা ব্যাংক খাত থেকে ১২ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি ঋণ নিয়েছেন।

আগের মাস জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১২ দশমিক ৬২ শতাংশ। ডিসেম্বরে ছিল ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ। নভেম্বরে ছিল ১৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অক্টোবর, সেপ্টেম্বর ও আগস্টে ছিল যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৯১ শতাংশ, ১৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ ও ১৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘কয়েক মাস ধরেই বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে। অথচ করোনার মধ্যেও এই ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়ছিল। করোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকার যে প্রণোদণা ঘোষণা করেছিল, তাতে এর অবদান ছিল। এ ছাড়া করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় দেশে বিনিয়োগের একটি অনুকূল পরিবেশও দেখা দিয়েছিল। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু কর্ণফুলী টানেলসহ কয়েকটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে ঘিরে উদ্যোক্তারা নতুন পরিকল্পনা সাজিয়ে বিনিয়োগে নেমেছিলেন। ব্যাংকগুলোও তাতে বিনিয়োগ করছিল। সব মিলিয়ে বেসরকারি খাতের ঋণের একটি গতি এসেছিল। কিন্তু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। ডলারের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণে আমদানিকারকদের এলসি খুলতে বেশি টাকা লাগছে। তাতে ঋণের পরিমাণ বেড়ে গেছে।’

হিসাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেব্রুয়ারিতে প্রকৃত ঋণ প্রবৃদ্ধি আরও কিছুটা কম হবে। কারণ বিশ্ববাজারে সব ধরনের পণ্যের দাম এবং ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধিতে বেসরকারি খাতের ঋণের বড় অংশ চলে যাচ্ছে আমদানি খাতে। অর্থাৎ বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বৃদ্ধির মূল কারণ অর্থনীতির বহিঃস্থ খাতের অস্থিরতা। ফলে আগামী দিনে উৎপাদন এবং কর্মসংস্থানে বড় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’

‘তবে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঠিক কাজটিই করছে’ মন্তব্য করে আহসান মনসুর বলেন, ‘আমদানি ব্যয়ের লাগাম টেনে ধরাটা খুবই দরকার ছিল। সেটা সফল হওয়া গেছে বলে আমি মনে করি। এই কৃচ্ছ্রসাধন আরও কিছুদিন চালাতে হবে। বর্তমান বিশ্ব পেক্ষাপটে জিডিপি (মোট দেশজ উৎপাদন) প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার দিকেই সবচেয়ে বেশি নজর দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে আগামী কয়েক মাস যদি বেসরকারি খাত ঋণ কমও পায়, তাতেও খুব একটা সমস্যা হবে না। এখন আমাদের সংকট বা চাপ থেকে বের হয়ে আসার সময়। এ অবস্থায় যদি জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশও হয়, তাও আমি যথেষ্ট বলে মনে করি। কিন্তু মূল্যস্ফীতি যাতে কোনো অবস্থাতেই দুই অঙ্কের ঘর (ডাবল ডিজিট) অতিক্রম না করে, সেটার দিকে সজাগ থাকতে হবে।’

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে মার্চ মাসে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে (মাসওয়ারি) দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ধরেছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ, ২০২১-২২ অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে যা ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ ছিল। তবে অর্জিত হয় ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২০-২১ অর্থবছর একই প্রাক্কলন থাকলেও ঋণ প্রবৃদ্ধি হয় ৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ। করোনা মহামারির কারণে চাহিদা হ্রাসের কারণে ঋণপ্রবাহে গতি কমে যায়।

২০২১ সালের আগস্ট থেকে দেশে আমদানি ব্যয় বাড়তে থাকে। বাজারে ডলারের চাহিদা বেড়ে যায়। টাকার বিপরীতে ডলারের দর অব্যাহতভাবে বাড়তে থাকে। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আমদানি ব্যয় কমিয়ে আনতে একটার পর একটা পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। যার সুফল জুন থেকে পড়া শুরু করে। এখনো পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) ৪৮ দশমিক ৭৯ বিলিয়ন ডলারের বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ কম। এর মধ্যে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে ৫৪ দশমিক ১১ শতাংশ। শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে ৩০ শতাংশ। মধ্যবর্তী পণ্য আমদানি কমেছে ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ বেড়েছে ২৪ দশমিক ৫১ শতাংশ।

অন্যদিকে গত এক বছরে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। গতকাল আন্তব্যাংক মুদ্রাবাজারে প্রতি ডলারের জন্য ১০৭ টাকা ৪০ পয়সা খরচ করতে হয়েছে। এক বছর আগে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল লেগেছিল ৮৬ টাকা ২০ পয়সা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, টানা আট মাস ধরে বাড়তে বাড়তে ২০২২ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে ১১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশে উঠে যায়। তবে ফেব্রুয়ারিতে এই প্রবৃদ্ধি কমে ১০ দশমিক ৭২ শতাংশে নেমে আসে। মার্চে তা দশমিক ৫৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ১১ দশমিক ২৯ শতাংশে ওঠে। এপ্রিল মাসে তা ১২ শতাংশ ছাড়িয়ে ১২ দশমিক ৪৮ শতাংশে ওঠে। মে মাসে তা আরও বেড়ে ১২ দশমিক ৯৪ শতাংশ ওঠে। জুন মাসে ১৩ শতাংশ ছাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬৬ শতাংশে ওঠে। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে তা আরও বেড়ে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশে উঠেছিল। পরের মাস আগস্টে ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।

বিষয়:

সংঘাতের প্রভাবে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এশিয়া-প্রশান্ত অঞ্চলে সহায়তা দেবে এডিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতজনিত অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সমন্বিত আর্থিক সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সংস্থার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, অঞ্চলজুড়ে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্ডা বলেন, ‘তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা জোরদারে এডিবি দ্রুত, নমনীয় ও সম্প্রসারণ যোগ্য সহায়তা দেবে। এর মধ্যে দ্রুত ছাড় যোগ্য বাজেট সহায়তা এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ চেইন অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে প্রয়োজনীয় পণ্য বিশেষত জ্বালানি তেল আমদানি অব্যাহত রাখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় এ অঞ্চলের দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান ও পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে এডিবির পর্যাপ্ত সম্পদ রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী জরুরি সহায়তা বাড়ানোর সক্ষমতাও সংস্থাটির আছে। এ ক্ষেত্রে কাউন্টার সাইক্লিক্যাল ঋণ সুবিধাসহ বিভিন্ন আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বিশ্ববাজারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে জ্বালানি মূল্যের ওঠানামা, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।

এডিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জাহাজ চলাচলের রুটে বিঘ্ন ঘটায় পরিবহন ব্যয় ও সময় দুটোই বেড়েছে। একই সঙ্গে পেট্রোকেমিক্যাল ও সারসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পর্যটন ও প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি অনিশ্চয়তা বাড়ায় আর্থিক পরিবেশ কঠোর হয়ে উঠছে, যার ফলে মুদ্রার ওপর চাপ ও পুঁজি প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সময়োপযোগী আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে এডিবি।

সহায়তা প্যাকেজের অংশ হিসেবে প্রথমে আর্থিক সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য দ্রুত ছাড়যোগ্য বাজেট সহায়তা দেওয়া হবে, যেখানে কাউন্টার সাইক্লিক্যাল সাপোর্ট ফ্যাসিলিটি ব্যবহার করা হবে।

এছাড়া ট্রেড অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ফাইন্যান্স প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে সহায়তা দিয়ে জ্বালানি ও খাদ্যসহ জরুরি পণ্য আমদানি সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সীমিত সময়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় তেল আমদানিতে সহায়তা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে সংস্থাটি, যা জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও সরবরাহ বিঘ্নের প্রভাব কমাতে সহায়ক হবে।

এডিবি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে এবং সরকার, উন্নয়ন অংশীদার ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বর্তমানে ৬৯টি সদস্য দেশ রয়েছে, যার মধ্যে ৫০টি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের। সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।


স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই এলএনজি কার্গো কেনার অনুমোদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতার মধ্যে সরকার স্পট মার্কেট থেকে আরও দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে এ ক্রয় সম্পন্ন হবে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ উপদেষ্টা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব পাস হয়, যেখানে দুই কার্গোর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।

অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এপ্রিল মাসে দুই দফায় এলএনজি দেশে পৌঁছাবে। ১০ম কার্গো ২৪–২৫ এপ্রিল এবং ১১তম কার্গো ২৭–২৮ এপ্রিলের মধ্যে সরবরাহ করা হবে।

প্রস্তাব অনুসারে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান টোটাল এনার্জিসের কাছ থেকে এ দুই কার্গো কেনা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৭৭ মার্কিন ডলার। প্রতিটি কার্গোর জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩৩ কোটি ৩৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব এলএনজি বাজারেও পড়েছে। ফলে আগের তুলনায় বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

গত ১১ মার্চ একই কমিটির বৈঠকে তিন কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তখন একটি কার্গোর দাম ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২১ দশমিক ৫৮ ডলার এবং বাকি দুই কার্গোর মূল্য ছিল ২০ দশমিক ৭৬ ডলার।

এরও আগে এক সপ্তাহ আগে দুই কার্গো কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়, যেখানে একটি ২৮ দশমিক ২৮ ডলার এবং অন্যটি ২৩ দশমিক ০৮ ডলার দরে কেনার সিদ্ধান্ত হয়।


ব্যাংক খাত সংস্কারে স্পষ্ট রোডম্যাপ চায় আইএমএফ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ঋণ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং নীতিগত সংস্কার জোরদারে একটি সুস্পষ্ট ও সময়সীমাবদ্ধ রোডম্যাপ চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এ পরিকল্পনা লিখিতভাবে জমা দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার (২৫ মার্চ) সফররত আইএমএফের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠকে দেশের আর্থিক খাতের চলমান সংস্কার, সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।

আলোচনায় আর্থিক খাত সংস্কারে বাংলাদেশের অগ্রগতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, পুরো প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আনার ওপর গুরুত্ব দেয় আইএমএফ। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের স্বচ্ছতা, ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রস্তুত করার কথা বলা হয় এবং তা লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

সংস্থার মতে, এ রোডম্যাপ বাস্তবায়িত হলে দেশের আর্থিক খাতে কার্যকর দিকনির্দেশনা তৈরি হবে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। একই সঙ্গে ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।

বৈঠকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং বিনিময় হারকে বাজারভিত্তিক করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতিকেও ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো কার্যকর বলেও উল্লেখ করা হয়।

বৈঠক প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র ও পরিচালক মোহাম্মদ শাহরিয়ার সিদ্দিকী বলেন, "পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত আইএমএফের স্প্রিং মিটিংয়ের পর নেওয়া হবে। বৈঠকের পর রিভিউ মিশন বাংলাদেশ সফর করে সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সংস্কার অগ্রগতি মূল্যায়ন করবে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ঋণ কর্মসূচির পরবর্তী কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।"

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠক আগামী মাসে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত হবে। ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত এ বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেবে। এতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং অর্থসচিব খায়েরুজ্জামান মজুমদারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

আইএমএফের সঙ্গে বাংলাদেশের ঋণ কর্মসূচি শুরু হয় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি, যার পরিমাণ ছিল ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলার। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছরের জুনে তা বেড়ে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হয়। এখন পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩৬৪ কোটি ডলার পেয়েছে, বাকি রয়েছে ১৮৬ কোটি ডলার। গত ডিসেম্বরে ষষ্ঠ কিস্তি পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যায়নি।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিয়ে আইএমএফের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সফরকে একদিকে সৌজন্য সাক্ষাৎ, অন্যদিকে কারিগরি আলোচনার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, আইএমএফের ইতিবাচক মূল্যায়ন দেশের অর্থনীতির জন্য আশাব্যঞ্জক হলেও, পরবর্তী কিস্তি পেতে হলে সংস্কারের গতি ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


শেয়ারবাজারে সূচক ঊর্ধ্বমুখী, ডিএসইতে লেনদেন ৬০৩ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বুধবার ইতিবাচক প্রবণতার মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।

এদিন মোট ৩৯০টি কোম্পানির ৩৫ কোটি ৯৯ লাখ ১২ হাজার ১৫৩টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ ৪৮ হাজার ১৯৮ টাকা।

বাজারের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩১ দশমিক ২৭ পয়েন্ট বেড়ে ৫৩১৬ দশমিক ২৫ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। পাশাপাশি ডিএসই-৩০ সূচক ৮ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১৯ দশমিক ৭১ পয়েন্টে এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ১ দশমিক ০৫ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১০৭৩ দশমিক ৬৬ পয়েন্ট।

লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪১টির শেয়ারদর বেড়েছে, ১০২টির কমেছে এবং ৪৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানি হলো—একমি পেস্টিসাইড, ওরিয়ন ইনফিউশন, ব্র্যাক ব্যাংক, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, তৌফিকা ফুড, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট, ইনটেক লিমিটেড, সিটি ব্যাংক, ডমিনেজ স্টিল এবং রানার অটোমোবাইলস।

দর বৃদ্ধির তালিকায় এগিয়ে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড, পিএইচপি মিউচুয়াল ফান্ড-১, পপুলার ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, বিডি থাই, ফার্স্ট জনতা মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সিম ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এফবিএফ ইনকাম ফান্ড, ট্রাস্ট ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, এবি ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড এবং আইএফআইসি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড।

অন্যদিকে দরপতনের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে—জেনেক্স ইনফোসিস, অ্যাপোলো ইস্পাত, সিএনএ টেক্সটাইলস, তুং হাই নিটিং, নিউলাইন ক্লথিংস, ফ্যামিলি টেক্সটাইলস, রিজেন্ট টেক্সটাইলস, এফএএস ফাইন্যান্স, ম্যাকসন স্পিনিং এবং পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস।


আকিজ ফুডের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশন সভায় আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

বুধবার বিএসইসি’র সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ১০০৪তম কমিশন সভায় চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

অনুমোদিত বন্ডটি ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি হবে এবং এটি জামানতবিহীন, অরূপান্তরযোগ্য ও পূর্ণ পরিশোধযোগ্য শূন্য-সুদ বন্ড হিসেবে বাজারে ছাড়া হবে।

প্রাইভেট প্লেসমেন্ট পদ্ধতিতে ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে বন্ডটি বরাদ্দ দেওয়া হবে।

প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এতে ট্রাস্টি হিসেবে সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি এবং তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে নর্থ স্টার ইনভেস্টমেন্টস (বিডি) লিমিটেড দায়িত্ব পালন করবে।

বিএসইসি’র পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


ঈদ ছুটিতেও সচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর, রেকর্ড পরিমাণ কনটেইনার হ্যান্ডেল

আপডেটেড ২৫ মার্চ, ২০২৬ ১৯:৫৭
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতেও চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম থেমে থাকেনি। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক রাখতে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের সাত দিনের ছুটিতে প্রায় ২৫ লাখ কার্গো এবং প্রায় ৫৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম গণমাধ্যমকে বলেন, "ঈদের ছুটির মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দর তার অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রেখেছে এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে পণ্য খালাস ও জাহাজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ঈদের আগে থেকে গৃহীত নানামুখী সিদ্ধান্ত সঠিকভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ সফলতা এসেছে।"

তিনি জানান, রমজান ও ঈদ উপলক্ষে জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্সের তত্ত্বাবধানে জেটি এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানি সংকটের সময় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জাহাজ বার্থিং ও নেভিগেশন সহায়তার মাধ্যমে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হয়েছে।

বন্দরের তথ্যে দেখা যায়, ওই সাত দিনে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি পণ্য ছিল ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন এবং রপ্তানি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন। ১৮ মার্চ একদিনেই সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করা হয়।

একই সময়ে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউ’স কনটেইনার পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউ’স এবং রপ্তানি ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউ’স। ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউ’স কনটেইনার প্রসেস করা হয়। এই সময়ে মোট ৬৪টি জাহাজ বার্থিং ও হ্যান্ডলিং হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ মার্চ সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ এবং ২৩ মার্চ ১২টি জাহাজ পরিচালনা করা হয়।

সাম্প্রতিক কর্মবিরতি ও জাহাজ আগমনের চাপের কারণে এক সময় বন্দরে জাহাজের অপেক্ষার সময় দুই থেকে তিন দিনে পৌঁছেছিল। তবে বর্তমানে সমন্বিত তদারকির ফলে আউটার অ্যাঙ্করেজে অপেক্ষার সময় কমে ‘জিরো’ দিনে নেমে এসেছে, যা বন্দরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব হবে।

২৪ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে মোট ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউ’স কনটেইনার মজুত ছিল। এর মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩ টিইইউ’স এফসিএল, ২ হাজার ৬৫৪ টিইইউ’স ডিপো এবং ১ হাজার ৬৫২ টিইইউ’স খালি কনটেইনার রয়েছে।


যুদ্ধের প্রভাবে ভিয়েতনামে জ্বালানির দাম দ্বিগুণের বেশি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ভিয়েতনামে জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যেখানে ডিজেলের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।

বুধবার দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী এ চিত্র উঠে এসেছে। হ্যানয় থেকে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি।

সরকারি তথ্য বলছে, ইরানে ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা শুরুর দুই দিন আগের তুলনায় ডিজেলের দাম প্রায় ১০৫ শতাংশ বেড়েছে। গত মাসে প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ছিল ১৯ হাজার ২৭০ ডং, যা বাড়িয়ে এখন করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৬৬০ ডং বা প্রতি লিটার ১ দশমিক ৫০ ডলার।

একই সময়ে ৯৫-অকটেন পেট্রলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি ২০ হাজার ১৫০ ডং থেকে বেড়ে ৩৩ হাজার ৮৪০ ডং হয়েছে, যা প্রায় ৬৮ শতাংশ বেশি।

সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব সরাসরি জ্বালানি ব্যয়ে পড়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

এ পরিস্থিতি সামাল দিতে ভিয়েতনাম সম্প্রতি কাতার, কুয়েত, আলজেরিয়া ও জাপানসহ কয়েকটি দেশের কাছে জ্বালানি সহায়তা চেয়েছে। পাশাপাশি সোমবার রাশিয়ার সঙ্গে তেল ও গ্যাস উৎপাদন নিয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে দেশটি।

মঙ্গলবার দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় পেট্রল ও ডিজেলের ওপর পরিবেশ সুরক্ষা কর অর্ধেকে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়েছে। হ্যানয়ের বাসিন্দা নুয়েন ভ্যান চি জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে তিনি তার ট্রাক চালাননি এবং যতটা সম্ভব সাইকেল ব্যবহার করছেন।

৫৪ বছর বয়সী এই ব্যবসায়ী এএফপিকে বলেন, ‘ডিজেলের এই অবিশ্বাস্য দামে আমি আমার ট্রাক বিক্রিও করতে পারছি না। কারণ, কেউ এটি ব্যবহার করতে চায় না।’


মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপের শিল্পে গভীর সংকট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ইউরোপের শিল্পাঞ্চলের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে, যা উৎপাদন ও বাণিজ্য ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার প্রভাবে ইউরোপীয় দেশগুলোর অর্থনৈতিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। করোনা মহামারীর ধকল এবং ইউক্রেন যুদ্ধের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই সংঘাত কাঁচামালের দাম ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।

জার্মানির পরিচিত রাসায়নিক প্রতিষ্ঠান ‘গেশেম’ এ পরিস্থিতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। গৃহস্থালি পরিষ্কারক ও গাড়ির ব্রেক ফ্লুইড উৎপাদনকারী এ কোম্পানির মুনাফা ধারাবাহিকভাবে কমছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মার্টিনা নিগসোয়াঙ্গার জানান, ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। গত দুই দশকে প্রথমবারের মতো তারা কর্মী ছাঁটাই এবং নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের পরিকল্পনা করছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের এ অস্থিরতার প্রভাব বিশ্বব্যাপী পড়লেও ইউরোপে এর অভিঘাত বেশি অনুভূত হচ্ছে। কারণ, এ অঞ্চলে আগেই জ্বালানির দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। ইরান ও কাতারের গ্যাস স্থাপনায় সাম্প্রতিক হামলার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৬ সালের শুরুর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম যদি ১০০ ডলারের ওপরে স্থায়ী থাকে, তবে আগামী দুই বছরে জার্মানির অর্থনীতি প্রায় ৪ হাজার কোটি ইউরো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। সস্তা জ্বালানির অভাব এবং বৈশ্বিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে ইউরোপের শিল্পখাত ক্রমেই চাপে পড়ছে। বর্তমানে জার্মানিতে বিদ্যুতের পাইকারি দাম যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের অনেক দেশের তুলনায় বেশি।

সংঘাতের কারণে শুধু জ্বালানি নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহও ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সার, অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিক তৈরির উপকরণের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উৎস থেকে কাঁচামাল জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে গত এক বছরে জার্মানিতে রেকর্ডসংখ্যক প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়েছে।

বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও এ চাপ থেকে মুক্ত নয়। ল্যানক্সেস ও বিএএসএফের মতো বহুজাতিক রাসায়নিক কোম্পানিগুলো ব্যয় কমাতে কর্মী ছাঁটাই এবং পণ্যের দাম বাড়ানোর পথে হাঁটছে।

ফ্রান্স ও ডেনমার্কের প্লাস্টিক ও খেলনা নির্মাতারা জানিয়েছেন, এশিয়ার সরবরাহকারীরা পণ্য পাঠাতে না পারায় তাদের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

বিশ্বখ্যাত খেলনা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান লেগো জানিয়েছে, তারা জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর উপায় খুঁজছে, তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তাদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও তীব্র হবে। ইউরোপীয় সরকারগুলোর জন্য বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে শিল্পখাতকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিত করা না গেলে ইউরোপের শিল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।


হরমুজ সংকটে বাণিজ্য সচল রাখতে নতুন শিপিং রুট চালু করলো সৌদি

ছবি- আরব নিউজ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার কারণে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় তা মোকাবেলায় পাঁচটি নতুন শিপিং সার্ভিস চালু করেছে সৌদি আরব।

দেশটির বন্দর কর্তৃপক্ষ বৈশ্বিক শিপিং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ে এ উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ তথ্য জানিয়েছে আরব নিউজ।

সৌদি বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘মাওয়ানি’ জানায়, নতুন সার্ভিসগুলো পরিচালিত হবে বিশ্বের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি মায়ের্স্ক, হ্যাপাগ-লয়েড, এমএসসি ও সিএমএ সিজিএমের সহযোগিতায়। পাঁচটি রুটে মোট ৬৩ হাজার ৫৯৪ টিইইউ পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা রাখা হয়েছে, যা সৌদি আরবের বিভিন্ন বন্দরকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করবে।

গালফ শাটল, রেডেক্স, জেড, এই-১৯ ও এসই-৪ নামে চালু হওয়া এ রুটগুলো বর্তমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার জেরে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথ হিসেবে এসব সার্ভিস চালু করা হয়েছে। এর ফলে সৌদি আরবকে বৈশ্বিক লজিস্টিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাবে।

লজিস্টিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বৈশ্বিক শিপিং খাতে বিদ্যমান অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হবে। দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়েফাইন্ডারের সহপ্রতিষ্ঠাতা নিক বার্টলেট বলেন, "হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি কেবল ভৌগোলিক সমস্যা নয়, এটি শিপিং কোম্পানিগুলোর জন্য একটি মানসিক চাপও তৈরি করেছে। সঠিক সময়ে জ্বালানি বা প্রয়োজনীয় রসদ পাওয়া যাবে কিনা, তা নিয়ে জাহাজ চালকদের মধ্যে উদ্বেগ কাজ করে। নতুন এ সার্ভিসগুলো সে ঝুঁকি কমিয়ে আনবে।"

নতুন রুটগুলো আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের জন্য আরও নমনীয় বিকল্প তৈরি করবে এবং আরব উপসাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগর করিডোরকেও শক্তিশালী করবে।

এর আগে গত ২১ মার্চ থেকে সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন সহায়ক পদক্ষেপ নেয় সৌদি আরব। এর মধ্যে জাহাজের ক্রু পরিবর্তন, জ্বালানি সরবরাহ এবং খাদ্য ও চিকিৎসাসেবার মতো জরুরি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এ উদ্যোগ সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর মাধ্যমে দেশটি শুধু তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলা করছে না, বরং একটি শক্তিশালী জাতীয় সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে দেশটিকে বৈশ্বিক সামুদ্রিক সেবার অন্যতম কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে।


স্বর্ণের দামে আবার বড় পতন, ভরিতে কমেছে ৫৪৮২ টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আরও এক দফা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা, যা আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, "স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।"

নতুন নির্ধারিত দামে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকায়। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকা।

এর আগে গত ১৯ মার্চ বিকেলে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। তখন ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা।

সেই সময় ২১ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম মোট ৪৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬ বার বেড়েছে এবং ২০ বার কমেছে। আর ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম পরিবর্তন করা হয়, যেখানে ৬৪ বার বৃদ্ধি এবং ২৯ বার হ্রাস পেয়েছিল।


মার্চের ২৩ দিনেই এলো প্রায় ২৮৩ কোটি ডলারের প্রবাসী আয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বাংলাদেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহে একটি আশাব্যঞ্জক চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। উৎসবের প্রাক্কালে প্রবাসীরা নিজ পরিবারের বাড়তি ব্যয় মেটাতে অধিক হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে প্রায় ২৮৩ কোটি ডলারের সমপরিমাণ প্রবাসী আয় এসেছে। এর মধ্যে ১৬ থেকে ২৩ মার্চ অর্থাৎ মাত্র আট দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার। ২০২৫ সালের মার্চ মাসের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্সের এই প্রবাহ প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত বছর ছিল ২৬৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে অর্থাৎ জুলাই মাস থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের সামগ্রিক প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫২৮ কোটি ১০ লাখ ডলারে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ১১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা একটি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ প্রেরণে সরকারের বিভিন্ন উৎসাহব্যঞ্জক পদক্ষেপ, বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রণোদনা প্রদান এবং হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কারণে প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যসহ ইউরোপ ও আমেরিকার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের আয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, রপ্তানি আয়ের পাশাপাশি রেমিট্যান্স হলো বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখার অন্যতম প্রধান শক্তি। তবে এই ইতিবাচক ধারাকে দীর্ঘমেয়াদী ও টেকসই করতে হলে বিদেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ বৃদ্ধি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করেন তারা।


বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে, বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নয়

কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বাংলাদেশের মধ্যে অর্থায়ন ও নীতিনির্ধারণী বিষয়ে যে সংলাপ শুরু হয়েছে তা এখনো অব্যাহত রয়েছে। সংস্থাটির এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে প্রতিটি রাষ্ট্রই এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক চাপের বাইরে নেই।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠক সম্পন্ন করেন কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন। আলোচনার বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে জানান যে, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার আলাপচারিতা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান। বর্তমান পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যে কোনো অর্থায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সব সময়ই নীতিগত আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব দেশই অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।”

নতুন করে ঋণের কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না দিয়েও তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, অর্থায়ন এবং নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো একটি অন্যটির পরিপূরক হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আইএমএফ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আইএমএফের এই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন যে, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তাদের সহযোগিতা এবং কৌশলগত সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


ঈদের পর শেয়ারবাজারে বড় পতন, সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাণিজ্য ডেস্ক

ঈদের আগে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও ছুটির পর প্রথম কার্যদিবসে দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। অধিকাংশ খাতের কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় প্রধান সূচকে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়, যদিও সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমতে থাকে, ফলে সূচক দ্রুত ঋণাত্মক হয়ে পড়ে। মাঝপথে মিউচুয়াল ফান্ডে কিছুটা ইতিবাচক ধারা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত তা সামগ্রিক পতন ঠেকাতে পারেনি।

এর আগে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার প্রভাবে টানা দরপতনের পর ঈদের আগের শেষ কার্যদিবসে বাজারে সামান্য ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা যায়। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হলেও ছুটির পর প্রথম দিনেই সেই প্রত্যাশা ভেঙে যায়।

দিনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ খাতের শেয়ারদর নিম্নমুখী থাকে এবং শেষদিকে পতনের গতি আরও বাড়ে। ফলে সব মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়লেও সার্বিকভাবে বাজার বড় পতনের মধ্যেই লেনদেন শেষ করে।

দিন শেষে ডিএসইতে দাম বেড়েছে ১২১টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমেছে ২৪৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৭টির। ভালো লভ্যাংশ প্রদানকারী কোম্পানির মধ্যে ৬৯টির দাম বাড়লেও ১২২টির কমেছে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়, যেখানে দাম বেড়েছে ২২টির এবং কমেছে ৫০টির।

লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ শ্রেণির কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির দাম বাড়লেও ৭১টির কমেছে। অন্যদিকে তালিকাভুক্ত ৩৪টি মিউচুয়াল ফান্ডের প্রতিটির দামই বেড়েছে।

বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৬৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে নেমে আসে। পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৯ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১ পয়েন্টে অবস্থান করে।

সূচক কমলেও লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৯২ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৪৬০ কোটি ৩০ লাখ টাকার তুলনায় ৩২ কোটি ১৭ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনে শীর্ষে ছিল একমি পেস্টিসাইড, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকার। এরপর রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক ১৭ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং রবি ১৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন নিয়ে।

এছাড়া লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় আরও ছিল সিটি ব্যাংক, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ইনটেক, শাইনপুকুর সিরামিক, খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ এবং ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সামগ্রিক সূচক সিএএসপিআই ৭৫ পয়েন্ট কমেছে। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৯টির দাম বেড়েছে, ৬৫টির কমেছে এবং ২৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।


banner close