স্বল্পোন্নত দেশগুলোর (এলডিসি) মধ্যে বাংলাদেশের বাজেট বাস্তবায়ন সর্বনিম্নে। এর মূল কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, দুর্নীতি ও সীমিত সম্পদ। এই তিন সমস্যার সামাধান করতে পারলে দেশে বাজেট বাস্তবায়ন অনেকাংশেই বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে বুধবার আয়োজিত ‘বাজেট রিপোর্টিং’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তারা এসব কথা বলেন। ইআরএফ, রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) এবং দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন (টিএএফ) যৌথভাবে কর্মশালাটির আয়োজন করে।
ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় এতে মূল উপস্থাপনা করেন র্যাপিডের চেয়্যারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া স্বল্পোন্নত অন্য দেশগুলো তাদের জিডিপির ২০-২৫ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশ জিডিপির ১৪-১৫ শতাংশ বাজেট বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করে। সেখান থেকে রিভাইস বাজেটে তা ১৩-১৪ শতাংশে নেমে আসে। এ জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার ঘাটতি বড় একটি কারণ। যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে, তবে বাজেট বাস্তবায়ন বাড়নো সম্ভব। এ ছাড়া দুর্নীতি ও রেভিনিউ কালেকশন সক্ষমতার ঘাটতিও অন্যতম কারণ। যদি দুর্নীতি কমিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে রেভিনিউ কালেকশন বাড়ানো যায়, তবে বাজেট বাস্তবায়ন বর্তমানের তুলনায় অনেক বাড়ানো যাবে। এ জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কর নেট ও আহরণ আরও বাড়াতে হবে।
ইআরএফের সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েতুল্লাহ মৃধার সভাপতিত্বে কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ।
কাজী ফয়সাল বিন সিরাজ বলেন, ‘আমাদের দেশে বাজেটের গোপনীয়তা কম কিন্তু তার পরও বাজেট বাস্তবায়নের বিষয়ে জবাবদিহি খুব একটা নেই। তাই দুর্নীতিগুলো বেশি হয়। অথচ অনেক দেশে বাজেটের সিক্রেসির বিষয়গুলো কঠোরভাবে মানা হয়, কিন্তু তাদের জবাবদিহি বেশি, তাই তাদের দুর্নীতিও কম।’
বিভিন্ন সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধম্যের সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে আয়োজিত কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সেপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, র্যাপিডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. আবু ইউসুফসহ আরও অনেকে।
এ সময় বক্তারা গতানুগতিকতার বাইরে এসে নতুনভাবে বাজেট রিপোর্ট উপস্থাপনের পরামর্শ দেন। তারা বলেন, বাজেটে আকার বা সংখ্যার চেয়ে অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের আয়ের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া পূর্ববর্তী বাজেট কতটা বাস্তবায়ন হয়েছে আর নতুন বাজেটে একই বিষয়ে কী রয়েছে, সে বিষয়ে বিশ্লেষণ করে তা সাধারণ মানুষের জন্য সহজবোধ্য করে উপস্থাপন করতে হবে।
দেশের সকল ব্যবসায়ীকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অনুরোধ জানিয়েছেন এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক। একই সাথে বেশি দামে কেউ সিলিন্ডার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ অনুরোধ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ পত্রে জানা যায় যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এলপিজি বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান হতে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকদের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এ মুহূর্তে জনদুর্ভোগ কমানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এমতাবস্থায়, এলপিজি ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির জন্য এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB) এর পক্ষ হতে সনির্বন্ধ অনুরোধ করা হলো বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের বাজাদে সর্বশেষ ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম বাড়ে গত ২ এপ্রিল। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা।
বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।
দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সাত দিনেই দেশে এসেছে ৮২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯.৫ শতাংশ বেশি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৩ মিলিয়ন ডলার। আর ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৮২৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭,০৩২ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২,৪২১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০.৬ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) নতুন সংযোজিত দুটি জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে অল্প সময়েই প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সঙ্গে বহর বাড়াতে আরও চারটি জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সংস্থার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসসি’র সাতটি জাহাজ আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে এসব জাহাজ চলাচল করেছে।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "জাহাজসমূহ লোকাল এরিয়ার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচালিত হয়ে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দরসমূহে যাত্রা সম্পন্ন করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "এ জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানদণ্ডে উত্তীর্ণ, যা তাদের নিরাপদ ও দক্ষ অপারেশন নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার কারণে বিশ্ববিখ্যাত জাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিএসসি’র জাহাজ পরিচালনা ও ভাড়া নিতে আগ্রহী।"
বিএসসি সম্প্রতি ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ ও ‘এমটি বাংলার নবযাত্রা’ নামে দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেছে, যেগুলো চীনের একটি শিপইয়ার্ড থেকে গত বছরের অক্টোবর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি জাহাজের মূল্য ৩৮ দশমিক ৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাক্কলিত দামের তুলনায় কম।
জাহাজ দুটি আধুনিক ‘গ্রিন শিপ’ প্রযুক্তিতে নির্মিত, যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়, নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত নকশার ব্যবহার রয়েছে। এসব প্রযুক্তির ফলে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়।
বর্তমানে ‘বাংলার প্রগতি’ পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে এবং ‘বাংলার নবযাত্রা’ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে। প্রতিটি জাহাজ দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, বহর সম্প্রসারণে জি-টু-জি ভিত্তিতে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এছাড়া আরও দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার সংগ্রহের প্রকল্প মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "ধীরে ধীরে পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে বিএসসি। পর্যায়ক্রমে জাহাজের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করে দেশে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভুমিকা রাখছে।"
সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিএসসি, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সম্ভাব্য সহযোগিতা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিসিসিসিআই প্রতিনিধিরা কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের। এছাড়া চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বেইজিং আরক গ্যালাক্সি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সহায়তায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এতে নতুন বিভাগ ও বিষয় চালু, বিদ্যমান কোর্স আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পাশাপাশি শিক্ষাসামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দেশীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার বিষয়ও প্রস্তাবে গুরুত্ব পায়।
চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে সচিব আব্দুল খালেক কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতিতে বিসিসিসিআই’র উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চীনা বিনিয়োগকারীদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আমদানির তিনটি আলাদা প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের ‘ইয়ার এনার্জি এজি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ‘কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ‘সিকদার ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।
বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েক দফায় জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। এর আগে গত শনিবার ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় ১ লাখ টন ডিজেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে যেন দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।
বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ক্যাব জানায়, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের দাম ১৭০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিকে তদারকির ঘাটতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির মতে, এটি কেবল বাজার অস্থিরতার বিষয় নয়; বরং ভোক্তার ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাওয়ার অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমানো এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করাকে তারা সংগঠিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, "প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।"
মানববন্ধনে সংগঠনটি সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা, কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানায়।
দেশে এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত উচ্চ কর কমিয়ে আগের মতো ১০ শতাংশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটির মতে, বর্তমান কর কাঠামো এই খাতের সম্প্রসারণে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
সভায় এওএবি’র মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, "আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০ শতাংশ কর ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।" এবং করহার পুনরায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানান। তার মতে, হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের অন্যান্য খাত থেকেও রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।
বর্তমানে মোট ৩৭.২৫ শতাংশ করের মধ্যে ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, "কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো মানেই তা শূন্য করে দেওয়া। এছাড়া ভ্যাট ও এআইটির ক্ষেত্রে আপনারা রিফান্ড বা ক্রেডিট সুবিধা পান। তবে, আমরা অগ্রিম আয়করের (এআইটি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারি। সার্বিক বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।"
ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর ফলে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থান ঘটে এবং লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দিনজুড়ে বাজার ইতিবাচক ধারায় এগিয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে, যা সূচককে দ্রুত উপরের দিকে নিয়ে যায়। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় দিনের শেষে সব সূচকেই শক্তিশালী উত্থান দেখা যায় এবং বাড়তি দামের তালিকাও দীর্ঘ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।
দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে উঠেছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার তুলনায় ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়েছে। মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার চেয়ে বেশি।
দেশের সঞ্চয়পত্রের বাজারে আবারও বিনিয়োগ মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুর কয়েক মাস বিক্রির পরিমাণ কিছুটা ইতিবাচক থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবারও ঋণাত্মক ধারায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ বর্তমানে নতুন বিনিয়োগের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির পর গ্রাহকদের মূল টাকা ও মুনাফা পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একক মাস হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে নিট বিক্রি কমেছে এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। এর আগের মাস জানুয়ারিতেও বিক্রির চেয়ে পরিশোধের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। যদিও অর্থবছরের প্রথম সাত মাস অর্থাৎ জানুয়ারি পর্যন্ত নিট বিক্রি ৬১০ কোটি টাকা বেশি ছিল, যা ফেব্রুয়ারির ধাক্কায় এখন ঋণাত্মক অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্র ছেড়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারলেও ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগের কোনো উর্ধ্বসীমা নেই। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দিতে হলেও বিল ও বন্ডের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। স্বল্পমেয়াদি ৯১ দিনের বিলে বিনিয়োগ করেও এখন প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। মূলত সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিল ও বন্ডে সুদের হার এখন বেশ চড়া।
বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল সরকার। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না পেয়ে সরকার এখন ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের এই বিপুল ঋণ গ্রহণের প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.০৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে উন্মুক্ত করার ঘোষণার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে ফিরেছে ইতিবাচক ধারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫ ডলারের বেশি কমে বর্তমানে ৯৩ দশমিক ৮২ ডলারে নেমে এসেছে। এশীয় লেনদেনে একপর্যায়ে এটি ৯১ দশমিক ৭ ডলারেও নেমে যায়। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর আগে দাম ছিল প্রায় ৭২ ডলার।
এই ঘোষণায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসায় বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান হয়েছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি ৭ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার বাজার ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হংকংয়ের হাং সেং সূচক ৩ শতাংশ এবং চীনের শেনচেন কম্পোজিট সূচক ৪ শতাংশ উত্থান দেখিয়েছে।
ইউরোপীয় বাজারেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বুধবার সকালে ব্রিটেনের এফটিএসই ১০০ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ, জার্মানির ড্যাক্স ৫ দশমিক ২ শতাংশ এবং ফ্রান্সের সিএসি ৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বেড়েছে।
হারগ্রেভস ল্যান্সডাউনের সিনিয়র ইক্যুইটি অ্যানালিস্ট ম্যাট ব্রিটজম্যান বলেন, "এই যুদ্ধবিরতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ দেখিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক উত্তেজনার ঝুঁকি কমিয়েছে।"
তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি বলে মনে করছে Maersk। রয়টার্সকে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের আগে তারা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং আপাতত সতর্ক অবস্থানে থাকবে।
স্যাক্সো ব্যাংকের চারু চানানা এবং ডয়চে ব্যাংকের জিম রিড মনে করছেন, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ইসলামাবাদে আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হয় এবং হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
দেশের বাজারে স্বর্নের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে, এক লাফে ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এতে ভালো মানের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্নের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। নতুন এ মূল্য সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ন বিক্রি হবে ২ লাখ ৫২ হাজার ৪০৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ন প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৯৫ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বর্নের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভরিতে ৩৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৮৯০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ৪ হাজার ৭৮২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা প্রতি ভরি ৩ হাজার ৬১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজ্যাকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এফএক্সটিএমএস)-এর আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে এ কার্যক্রমের পাইলটিং শুরু হয়। বিকেলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এর আগে ব্যাংক থেকে প্রত্যয়িত কমার্শিয়াল ইনভয়েস কাস্টমসে সরাসরি কাগজ আকারে জমা দিতে হতো। নতুন ব্যবস্থায় এখন এফএক্সটিএমএস থেকে রিয়েল-টাইমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমে ইনভয়েসের তথ্য যুক্ত হবে। ফলে কাস্টমস অফিসে গিয়ে আলাদা করে কাগজ জমা দেওয়ার প্রয়োজন থাকবে না।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কমার্শিয়াল ইনভয়েস যাচাই প্রক্রিয়া হবে সম্পূর্ণ অনলাইন ও রিয়েল-টাইম কাগজপত্রের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। এতে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে রাজস্ব ঝুঁকি হ্রাস পাবে। আমদানি-রপ্তানি পণ্যের খালাস হবে সহজ, দ্রুত ও ঝামেলামুক্ত হবে। পাশাপাশি ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিং কমবে।
এনবিআর জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য নির্ধারণে একটি নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ তৈরি হবে। পাইলট কার্যক্রম সফল হলে ধাপে ধাপে বিল অব এন্ট্রিতে বাধ্যতামূলকভাবে কমার্শিয়াল ইনভয়েস সংযোজন চালু করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সমন্বিত উদ্যোগ কাগজবিহীন কাস্টমস ব্যবস্থার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। এর ফলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য আরও সহজ হবে এবং কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত হবে।
দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে অকটেন ও ফার্নেস অয়েলের আরও দুটি চালান আমদানি করা হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মালয়েশিয়া থেকে মোট ৫১ হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের সহকারী ব্যবস্থাপক (গণসংযোগ) ফারজিন হাসান মৌমিতা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, প্রায় ২৬ হাজার টন পরিশোধিত অকটেন বহনকারী ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ জাহাজটি মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে আন্দামান সাগরে রয়েছে এবং বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
একই সময়ে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ নামের আরেকটি জাহাজও মালয়েশিয়া থেকে আসছে, যা একই দিনে বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, এলপিজি ও এলএনজি বহনকারী আরও দুটি জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। নাইজেরিয়া থেকে আসা ‘কুল ভয়েজার’ জাহাজে এলএনজি রয়েছে, যার স্থানীয় এজেন্ট ইন্টারপোর্ট। এছাড়া চীন থেকে এলপিজি নিয়ে এসেছে ‘গ্যাস জার্নি’, যার এজেন্ট ইউনাইটেড শিপিং। খালাস শেষে জাহাজ দুটি বুধবার বন্দর ত্যাগ করবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, বর্তমানে বন্দরের জলসীমায় এলপিজি ও এলএনজি বহনকারী দুটি জাহাজ অবস্থান করছে এবং মোট চারটি জাহাজ থেকে জ্বালানি খালাস চলছে। এর মধ্যে ৩১ মার্চ ভারত থেকে এলপিজি নিয়ে ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ এবং ৩ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে ‘শ্যান গ্যাং ফা শিয়ান’ বন্দরে পৌঁছায়। ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ থেকে ভাটিয়ারিতে এলপিজি খালাস করা হচ্ছে।
ফারজিন হাসান মৌমিতা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি তেল আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিপিসি নিয়মিতভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে।