চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি-মার্চ) খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১১ হাজার কোটি টাকা। এ নিয়ে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়াল ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা।
রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের এক হালনাগাদ তথ্যে এটি পাওয়া যায়।
২০২২ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিক শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা।
বর্তমানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ব্যাংক খাতের মোট ঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশ। খেলাপি ঋণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোতে রয়েছে ৫৭ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা বা ১৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এ ছাড়া বেসরকারি ব্যাংকগুলোর ৬৫ হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে।
অন্যদিকে বিদেশি ব্যাংকগুলোর তিন হাজার ৪২ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ ঋণ খেলাপি। আর সরকারি মালিকানাধীন বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের মোট ঋণের ১২ দশমিক ৮০ শতাংশ বা ৪ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা বর্তমানে খেলাপি।
গত বছরের মার্চে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা। সেই হিসাবে এক বছরে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৮ হাজার ১৮০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, ব্যাংকগুলো এখন নিজেরাই নিজেদের ঋণ পুনঃতফসিল করছে। ফলে ব্যাংক নিজেই খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে। তাই খেলাপি ঋণের এ তথ্য প্রকৃত চিত্র নয়। বাস্তবে খেলাপি ঋণ আরও বেশি হতে পারে। অনেক ব্যাংক ঋণ আদায় করতে না পেরে তারল্য–সংকটে ভুগছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, মার্চে খেলাপি ঋণ দেয়ায় অনেক ব্যাংক দেরি করেছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ কমানোর ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো কাজ করছে। ফলে বাস্তবে খেলাপি ঋণ এর চাইতেও বেশি।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে খেলাপি ঋণ ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে তা প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। কারণ, আইএমএফ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠন করা ঋণ, সন্দেহজনক ঋণ ও আদালতের আদেশে খেলাপি স্থগিতাদেশ থাকা ঋণকেও খেলাপি দেখানোর পক্ষে।
এছাড়া সরকার আইএমএফের কাছে বাজেট সহায়তা হিসেবে ৪৫০ কোটি ডলার ঋণ চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাটির ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আলোচনার জন্য বাংলাদেশ সফর করে। তার অংশ হিসেবে আইএমএফের মিশন প্রধান রাহুল আনন্দের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দল খেলাপি ঋণ কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নেয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চেয়েছিল।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে দেশের ব্যাংক খাত নিয়ে নানা পরামর্শ দেয় আইএমএফ। সে সময় খেলাপি ঋণকে ব্যাংক খাতের অন্যতম সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না সে বিষয়েও জানতে চায় বহুজাতিক ঋণদাতা সংস্থাটি। ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার তাদিগ দেয় আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।
ব্যাংকের মতো আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘বিতরণ করা এসব ঋণের বেশির ভাগই অসৎ উপায় অবলম্বন করে দেয়া হয়েছে। এমন লোকদের ঋণ দেয়া হয়েছে, যারা পরবর্তী সময়ে এসব টাকা আর পরিশোধ করছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ এসব ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে জড়িত থাকে। এসব ঋণ এখন আর ফেরত আসছে না। ফলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিন দিন খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। আর্থিক খাত দুর্বল হওয়ার কারণ খেলাপি ঋণ বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘গত কয়েক বছরে আর্থিক খাতে নানা রকমের কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব খেলাপি ঋণের বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। যেসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি, সেসব বিষয়ে তারা এড়িয়ে যায়।’
আহসান মনসুর বলেন, ‘যারা ভালো কাজ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের শাস্তি দেয়। আর যারা খারাপ কাজ করে তাদের বিষয়ে কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে না।’
ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর সৃষ্ট ইতিবাচক প্রবণতা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি দেশের শেয়ারবাজারে। একদিনের বড় উত্থানের পরপরই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে আবারও তীব্র দরপতন দেখা দিয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় বাজারে বড় উত্থান হলেও, পরদিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সেই ধারা উল্টে যায়। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় পতনের পাশাপাশি লেনদেনও কমে যায়।
এর আগে যুদ্ধবিরতির খবরে ডিএসইর প্রধান সূচক একদিনেই ১৬১ পয়েন্ট বেড়েছিল এবং লেনদেনও প্রায় হাজার কোটি টাকার ঘরে পৌঁছায়। তবে যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়, যা বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরু থেকেই অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমতে থাকে এবং পুরো সময়জুড়েই এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দিনের শেষে সবকটি সূচকই বড় পতনের মধ্য দিয়ে লেনদেন শেষ করে।
দিন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ে ৭০টি প্রতিষ্ঠানের, বিপরীতে কমে ৩০৬টির এবং অপরিবর্তিত থাকে ১৪টির শেয়ার ও ইউনিট। ভালো লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যেও পতনের চাপ বেশি ছিল। একই চিত্র দেখা যায় মাঝারি ও দুর্বল কোম্পানির ক্ষেত্রেও, যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর কমেছে।
মিউচুয়াল ফান্ড ও ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানিগুলোর মধ্যেও বড় অংশের দরপতন হয়েছে, যা সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক চাপ আরও বাড়িয়েছে।
অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দরপতনের প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৬০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৫৭ পয়েন্টে নেমে আসে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং শরিয়াহ সূচক ১২ পয়েন্ট হারিয়ে ১ হাজার ৬৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।
লেনদেনও কমে ৭৭৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকায় নেমে আসে, যা আগের দিনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
লেনদেনে এগিয়ে ছিল খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ, একমি পেস্টিসাইড এবং লাভেলো আইসক্রিম। এছাড়া ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সিটি ব্যাংক, কেডিএস এক্সসরিজ, মনোস্পুল বাংলাদেশ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট, ওরিয়ন ইনফিউশন ও বিডি অটোকার লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় ছিল।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই প্রবণতা দেখা যায়। সিএএসপিআই সূচক কমে ৪৪ পয়েন্টে নেমে আসে। সেখানে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দাম কমার সংখ্যা ছিল বেশি এবং লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১০ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।
দেশের চিনিকলগুলোকে সচল ও আধুনিক করতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ জোরদার করেছে সরকার। এ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘গতকালও একটা ইনভেস্টর আমরা চিনিকলের জন্য পেয়েছি। তারা ইউকেভিত্তিক। তারা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ইনভেস্ট করবে।’
বিনিয়োগকারীরা শুধু চিনি পরিশোধন নয়, আখের উপজাত ব্যবহারের দিকেও নজর দিচ্ছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘তারা সুগার রিফাইনসহ আমাদের আখের যে ছোবড়া (আখ) এটাকে কাজে লাগাতে চায়। আমরা তাদের বলেছি—এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একটা জায়গা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো, যাতে আমরা খুব দ্রুত এমওইউ দিতে পারি।’
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট: বাংলাদেশে এর প্রভাব এবং মোকাবিলায় কর্মপন্থা নির্ধারণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এতে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (বিদ্যুৎ) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ শাহিদ সারওয়ার এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. আব্দুর রহিম খানসহ অন্যরা।
শিল্প সচিব বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলছে, সেগুলোকে সচল রাখতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের খোঁজা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের যেসব প্রতিষ্ঠান আছে, আমাদের সেগুলো যাতে সক্রিয় হয়। আমাদের শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ১৪টা প্রতিষ্ঠান, তার অধীনে প্রায় দেড়শ’র মতো আমাদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আছে। কিন্তু বেশিরভাগই লোকসান হয়। এগুলো বাঁচানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ইনভেস্টর খুঁজছি। দেশি-বিদেশি ইনভেস্টর খুঁজছি।
সরকারি কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা বর্তমান সরকার এগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমাদের সরকারের যে সমস্ত কার্যক্রম আছে, আমাদের ৬ মাসের একটা টার্গেট দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় থেকে। আমরাও সেটা দিয়েছি যে কী কী করবো। এগুলো করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত এই যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করার চেষ্টা করছি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে ঘিরে বৈশ্বিক সরবরাহে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বাংলাদেশ এখন বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানিতে জোর দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়া থেকে পরিশোধিত অকটেন ও ফার্নেস অয়েল বহনকারী দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
বুধবার রাতে ‘এমটি সেন্ট্রাল স্টার’ নামের একটি জাহাজ ২৬ হাজার টন অকটেন নিয়ে বন্দরের বহির্নোঙরের ব্রাভো অ্যাংকরেজে নোঙর করে। একই সময়ে ‘এমটি ইস্টার্ন কুইন্স’ ২৫ হাজার টন ফার্নেস অয়েল নিয়ে চার্লি অ্যাংকরেজে অবস্থান নেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহে বিঘ্নের সম্ভাবনা থাকায় এখন পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিপিসির তথ্য বলছে, দেশে বছরে প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। এর প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, আর অবশিষ্ট অংশ সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়।
চলতি এপ্রিল মাসে দেশের ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন ধরা হয়েছে। এই চাহিদা পূরণে আমদানি কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার করা হয়েছে এবং এ মাসে আরও সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিপিসি।
জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে সরবরাহ উৎস বহুমুখী করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
সিমেন্ট শিল্পে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) কাঠামো পুনর্বিবেচনার দাবি সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের, কারণ বর্তমান ব্যবস্থায় লোকসান গুনেও কর দিতে হচ্ছে অনেক উৎপাদনকারীকে। উদ্যোক্তাদের মতে, এআইটিকে ন্যূনতম কর হিসেবে ধরার কারণে অতীতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা শিল্পের জন্য চাপ বাড়িয়েছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, কিছুদিন আগেও এআইটিকে নূন্যতম কর হিসেবে গণ্য করায় লোকসান করার পরেও অনেক সিমেন্ট উৎপাদনকারীকে আয়কর দিতে হয়েছে। আইনে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়করকে পরবর্তী বছরের জন্য জের টানা বা ক্যারি ফরোয়ার্ডের সুযোগ দেয়া হয়। যদিও এতে সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য মালিকদের তেমন কোনো উপকার হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে কাঁচামাল আমদানিতে পণ্যভেদে ২ থেকে ৫ শতাংশ হারে এআইটি দিতে হয়, পাশাপাশি বিক্রির সময়ও ২ শতাংশ এআইটি পরিশোধ করতে হয়। এ হার কমিয়ে উভয় ক্ষেত্রেই দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ের রাজস্ব ভবনে গতকাল সিমেন্টসহ বিভিন্ন খাতের মোট ১২টি সংগঠনকে নিয়ে এক প্রাক-বাজেট আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান।
আলোচনায় বাংলাদেশ সিমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমএ) পক্ষ থেকে দেয়া প্রস্তাবে বলা হয়, কিছুদিন আগেও এআইটিকে নূন্যতম কর হিসেবে গণ্য করায় লোকসান করার পরেও অনেক সিমেন্ট উৎপাদনকারীকে আয়কর দিতে হয়েছে। আইনে অতিরিক্ত অগ্রিম আয়করকে পরবর্তী বছরের জন্য জের টানা বা ক্যারি ফরোয়ার্ডের সুযোগ দেয়া হয়। যদিও এতে সিমেন্ট শিল্পের উদ্যোক্তাদের জন্য মালিকদের তেমন কোনো উপকার হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। অগ্রিম আয়করের হার এতই বেশি যে প্রতি বছরই তা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে মুনাফার পরিমাণ অনেত কম হওয়ায় প্রকৃত আয়করও কম হয়। এজন্য আমদানি ও বিক্রয় পর্যায়ে অগ্রিম আয়কর সর্বোচ্চ দশমিক ৫ শতাংশ করা হোক।
এছাড়া উদ্যোক্তারা বলেন, প্রকৃত আয়করের তুলনায় এআইটি বেশি হলে তা প্রতিবছর ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা জরুরি।
সভায় আরও তুলে ধরা হয়, সিমেন্টের প্রধান পাঁচটি কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমদানি মূল্যের চেয়ে বেশি অ্যাসেসেবল ভ্যালু নির্ধারণ করে শুল্কায়ন করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইনভয়েস মূল্যের ভিত্তিতে শুল্ক নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে লাইমস্টোনের ওপর সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং ভ্যাট নির্ধারণে ট্যারিফ পদ্ধতি চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
দেশের সকল ব্যবসায়ীকে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রির অনুরোধ জানিয়েছেন এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক। একই সাথে বেশি দামে কেউ সিলিন্ডার বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ অনুরোধ জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ পত্রে জানা যায় যে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্রাহক পর্যায়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু এলপিজি বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান হতে সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকদের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এ মুহূর্তে জনদুর্ভোগ কমানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এমতাবস্থায়, এলপিজি ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি বিক্রির জন্য এলপিজি অপারেটর্স এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (LOAB) এর পক্ষ হতে সনির্বন্ধ অনুরোধ করা হলো বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের বাজাদে সর্বশেষ ভোক্তাপর্যায়ে এলপিজির দাম বাড়ে গত ২ এপ্রিল। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৩২ টাকা ৩০ পয়সা। এতে বাজারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৭২৮ টাকা।
বিইআরসি বলছে, বাজারে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যায়। এখন থেকে প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৪৪ টাকা ৪ পয়সা। এই হিসাবে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে।
দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহে শক্তিশালী ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম সাত দিনেই দেশে এসেছে ৮২৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৯.৫ শতাংশ বেশি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে একদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৩ মিলিয়ন ডলার। আর ১ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স দাঁড়িয়েছে ৮২৩ মিলিয়ন ডলার, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৬৩৬ মিলিয়ন ডলার।
এছাড়া চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের (জুলাই থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত) মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২৭,০৩২ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২২,৪২১ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ বছরওয়ারি হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০.৬ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে প্রণোদনা, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এই তিনটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহে এ ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গত মার্চে দেশে এসেছিল ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে যে কোনো এক মাসের সর্বোচ্চ।
রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) নতুন সংযোজিত দুটি জাহাজ পরিচালনার মাধ্যমে অল্প সময়েই প্রায় ৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। একই সঙ্গে বহর বাড়াতে আরও চারটি জাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামে সংস্থার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিএসসি’র সাতটি জাহাজ আন্তর্জাতিক রুটে চলাচল করছে এবং এগুলো বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন বন্দরে এসব জাহাজ চলাচল করেছে।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "জাহাজসমূহ লোকাল এরিয়ার পরিবর্তে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচালিত হয়ে সফলভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দরসমূহে যাত্রা সম্পন্ন করেছে।"
তিনি আরও বলেন, "এ জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানদণ্ডে উত্তীর্ণ, যা তাদের নিরাপদ ও দক্ষ অপারেশন নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার কারণে বিশ্ববিখ্যাত জাহাজ পরিচালনা প্রতিষ্ঠানসমূহ বিএসসি’র জাহাজ পরিচালনা ও ভাড়া নিতে আগ্রহী।"
বিএসসি সম্প্রতি ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ ও ‘এমটি বাংলার নবযাত্রা’ নামে দুটি জাহাজ সংগ্রহ করেছে, যেগুলো চীনের একটি শিপইয়ার্ড থেকে গত বছরের অক্টোবর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি জাহাজের মূল্য ৩৮ দশমিক ৩৪৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রাক্কলিত দামের তুলনায় কম।
জাহাজ দুটি আধুনিক ‘গ্রিন শিপ’ প্রযুক্তিতে নির্মিত, যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়, নির্গমন নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নত নকশার ব্যবহার রয়েছে। এসব প্রযুক্তির ফলে অপারেশনাল দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়।
বর্তমানে ‘বাংলার প্রগতি’ পোল্যান্ডের গদানস্ক বন্দরে এবং ‘বাংলার নবযাত্রা’ সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছে। প্রতিটি জাহাজ দৈনিক গড়ে প্রায় ২০ হাজার মার্কিন ডলার ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে।
সংস্থাটি জানায়, বহর সম্প্রসারণে জি-টু-জি ভিত্তিতে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার ও দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীনের সঙ্গে ঋণচুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়েছে। এছাড়া আরও দুটি প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার সংগ্রহের প্রকল্প মূল্যায়ন পর্যায়ে রয়েছে।
কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, "ধীরে ধীরে পুরনো ঐতিহ্যে ফিরে আসতে শুরু করেছে বিএসসি। পর্যায়ক্রমে জাহাজের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে লাভজনক এ প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করে দেশে উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় ভুমিকা রাখছে।"
সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা আয় করে ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা অর্জন করেছে বিএসসি, যা সংস্থার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
দেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নে সম্ভাব্য সহযোগিতা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বাংলাদেশ চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই)-এর প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে বিভিন্ন খাতে যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেকের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বিসিসিসিআই প্রতিনিধিরা কারিগরি শিক্ষার উন্নয়নে তাদের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহ মো. সুলতান উদ্দিন ইকবালের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল এতে অংশ নেয়। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক এবং নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের। এছাড়া চীনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বেইজিং আরক গ্যালাক্সি টেকনোলজি কোম্পানি লিমিটেডের সহায়তায় একটি সমন্বিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। এতে নতুন বিভাগ ও বিষয় চালু, বিদ্যমান কোর্স আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
পাশাপাশি শিক্ষাসামগ্রী ও আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ, দেশীয় ও চীনা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করার বিষয়ও প্রস্তাবে গুরুত্ব পায়।
চীনা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য অর্থায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
বৈঠকে সচিব আব্দুল খালেক কারিগরি শিক্ষার অগ্রগতিতে বিসিসিসিআই’র উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে স্মার্ট প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে চীনা বিনিয়োগকারীদের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে উদ্ভূত বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলায় দেশের জ্বালানি মজুদ শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই বিশেষ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে জরুরি ভিত্তিতে আরও ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল সংগ্রহের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে তেল আমদানির তিনটি আলাদা প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের ‘ইয়ার এনার্জি এজি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম মানের ডিজেল সংগ্রহের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রস্তাবে ‘কে অ্যান্ড আর ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং কোম্পানি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং তৃতীয় প্রস্তাবে ‘সিকদার ইন্টারন্যাশনাল’ থেকে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয়। তিনটি প্রস্তাবই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে উপস্থাপন করা হয় এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এগুলো নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।
বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি এড়াতে সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েক দফায় জ্বালানি আমদানির অনুমোদন দিচ্ছে। এর আগে গত শনিবার ছুটির দিনেও বিশেষ ব্যবস্থায় ১ লাখ টন ডিজেল ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে যেন দেশের বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্যই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা কমিটি।
বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট ও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। সংগঠনটি অভিযোগ করেছে, অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যাচ্ছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ক্যাব জানায়, সরকার নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৫ টাকা এবং বোতলজাত তেলের দাম ১৭০ টাকা হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে বোতলজাত তেল ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি লিটারে প্রায় ৩০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। একইভাবে খোলা পাম তেল ১৬২ টাকার পরিবর্তে ১৬৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব পরিস্থিতিকে তদারকির ঘাটতি ও সিন্ডিকেটের প্রভাবের ফল হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
সংগঠনটির মতে, এটি কেবল বাজার অস্থিরতার বিষয় নয়; বরং ভোক্তার ন্যায্য মূল্যে পণ্য পাওয়ার অধিকার ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরবরাহ কমানো এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি করাকে তারা সংগঠিত প্রতারণা হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বলেন, "প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কার্যকর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বাজারে কঠোর নজরদারির অভাব এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে এই সিন্ডিকেট আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।"
মানববন্ধনে সংগঠনটি সরকার নির্ধারিত দামে ভোজ্যতেল বিক্রি নিশ্চিত করা, সয়াবিন তেলের বাজারে সক্রিয় সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া, নিয়মিত বাজার তদারকি জোরদার করা, কৃত্রিম সংকট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং নন-ফুড গ্রেড ড্রামে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রি বন্ধ করার দাবি জানায়।
দেশে এভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হেলিকপ্টার আমদানিতে আরোপিত উচ্চ কর কমিয়ে আগের মতো ১০ শতাংশে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)। সংগঠনটির মতে, বর্তমান কর কাঠামো এই খাতের সম্প্রসারণে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনে অনুষ্ঠিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক-বাজেট আলোচনায় এ দাবি তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।
সভায় এওএবি’র মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, "আগে হেলিকপ্টার আমদানিতে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০ শতাংশ কর ছিল। কিন্তু গত অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৩৭.২৫ শতাংশ করা হয়েছে। আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।"
তিনি আরও বলেন, "আমাদের দেশে বছরে বড়জোর একটি বা দুটি হেলিকপ্টার আমদানি হয়। ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি হেলিকপ্টারের ওপর যখন এত বিশাল পরিমাণ ট্যাক্স আসে, তখন কেউই তা কিনতে আগ্রহী হয় না।" এবং করহার পুনরায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানান। তার মতে, হেলিকপ্টারের সংখ্যা বাড়লে সরকারের অন্যান্য খাত থেকেও রাজস্ব আয় বাড়তে পারে।
বর্তমানে মোট ৩৭.২৫ শতাংশ করের মধ্যে ৫ শতাংশ কাস্টমস ডিউটি, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম করসহ অন্যান্য চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এ প্রস্তাবের জবাবে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, "কাস্টমস ডিউটি ৫ শতাংশের নিচে নামানো মানেই তা শূন্য করে দেওয়া। এছাড়া ভ্যাট ও এআইটির ক্ষেত্রে আপনারা রিফান্ড বা ক্রেডিট সুবিধা পান। তবে, আমরা অগ্রিম আয়করের (এআইটি) বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে পারি। সার্বিক বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব।"
ইরানের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর দেশের শেয়ারবাজারে জোরালো ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যেখানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। এর ফলে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সূচকের বড় উত্থান ঘটে এবং লেনদেনের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে, দিনজুড়ে বাজার ইতিবাচক ধারায় এগিয়েছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেনের শুরু থেকেই বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বাড়তে থাকে, যা সূচককে দ্রুত উপরের দিকে নিয়ে যায়। এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় দিনের শেষে সব সূচকেই শক্তিশালী উত্থান দেখা যায় এবং বাড়তি দামের তালিকাও দীর্ঘ হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে ৩৬৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির।
দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৩১৭ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সময়ে ডিএসই-৩০ সূচক ৫৪ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে এবং শরিয়াহ সূচক ৩০ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে উঠেছে।
সূচকের পাশাপাশি লেনদেনেও গতি ফিরেছে। এদিন ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৯৯১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসের ৫৯৭ কোটি ১ লাখ টাকার তুলনায় ৩৯৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বেশি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধরনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৩২৮ পয়েন্ট বেড়েছে। মোট ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭৭টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ১৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬টির। এ বাজারে লেনদেন হয়েছে ৩১ কোটি ২৬ লাখ টাকা, যা আগের দিনের ২৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার চেয়ে বেশি।
দেশের সঞ্চয়পত্রের বাজারে আবারও বিনিয়োগ মন্দা দেখা দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের শুরুর কয়েক মাস বিক্রির পরিমাণ কিছুটা ইতিবাচক থাকলেও গত ফেব্রুয়ারি থেকে তা আবারও ঋণাত্মক ধারায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ বর্তমানে নতুন বিনিয়োগের তুলনায় সঞ্চয়পত্রের মেয়াদপূর্তির পর গ্রাহকদের মূল টাকা ও মুনাফা পরিশোধের পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি মাস শেষে সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রির পরিমাণ ৫৫৫ কোটি টাকা ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। একক মাস হিসেবে গত ফেব্রুয়ারিতে নিট বিক্রি কমেছে এক হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। এর আগের মাস জানুয়ারিতেও বিক্রির চেয়ে পরিশোধের পরিমাণ ১ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা বেশি ছিল। যদিও অর্থবছরের প্রথম সাত মাস অর্থাৎ জানুয়ারি পর্যন্ত নিট বিক্রি ৬১০ কোটি টাকা বেশি ছিল, যা ফেব্রুয়ারির ধাক্কায় এখন ঋণাত্মক অবস্থানে পৌঁছেছে।
বিনিয়োগকারীদের সঞ্চয়পত্র ছেড়ে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের দিকে ঝুঁকে পড়ার পেছনে বেশ কিছু জোরালো কারণ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বর্তমানে একজন বিনিয়োগকারী সঞ্চয়পত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারলেও ট্রেজারি বিল বা বন্ডে বিনিয়োগের কোনো উর্ধ্বসীমা নেই। এছাড়া সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় কর দিতে হলেও বিল ও বন্ডের ক্ষেত্রে সেই বাধ্যবাধকতা নেই। স্বল্পমেয়াদি ৯১ দিনের বিলে বিনিয়োগ করেও এখন প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়পত্রের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক। মূলত সরকারের ঋণের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বিল ও বন্ডে সুদের হার এখন বেশ চড়া।
বাজেট ঘাটতি সামাল দিতে চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছিল সরকার। তবে বর্তমান বাস্তবতায় সেই লক্ষ্য পূরণ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ না পেয়ে সরকার এখন ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। মার্চ মাস পর্যন্ত ব্যাংক থেকে সরকারের নেওয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৫১ কোটি টাকা, যা ইতিমধ্যে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্যাংক থেকে সরকারের এই বিপুল ঋণ গ্রহণের প্রভাবে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তথ্যমতে, ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬.০৩ শতাংশ।