সংকটের মধ্যে ও জাতীয় নির্বাচনের বছরে আরেকটি উচ্চাভিলাষী বাজেট নিয়ে আসছে সরকার। দুই বছরের করোনা মহামারির ধকল কাটতে না কাটতেই এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধাক্কায় তছনছ হয়ে হাওয়া বিশ্ব অর্থনীতির বেহালের মধ্যে আসছে এই বাজেট।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদে ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এবারের বাজেট হবে দেশের ৫২তম এবং আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৪তম বাজেট।
আকারের দিক থেকে এটিই হবে দেশের বৃহত্তম বাজেট। চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় এটি হবে ১২ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এই বাজেট নিয়ে অর্থমন্ত্রী সংসদে পঞ্চম বাজেট উপস্থাপন করবেন। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার।
প্রথা অনুযায়ী ৩০ জুন অথবা তার আগের দিন ২৯ জুন প্রস্তাবিত বাজেট পাস হয়। ১ জুলাই থেকে শুরু হয় নতুন বাজেটের বাস্তবায়ন। ২৮ জুন থেকে কোরবানির ঈদের ছুটি শুরু হবে। সে কারণে এবার বাজেট পাস হবে ২৬ জুন।
এবারের বাজেট বক্তৃতার শিরোনাম ‘উন্নয়নের দীর্ঘ অগ্রযাত্রা পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে’। এতে স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার এবং স্মার্ট সমাজ করার কথা তুলে ধরা হয়েছে। চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটের শিরোনাম ছিল ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।
শেষ তিনটি বাজেট করোনা মহামারি আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সংকটের মধ্যে দিতে হয়েছে সরকারকে। এবারও সেই সংকটের মধ্যেই আরেকটি বাজেট দিতে হচ্ছে তাকে। তার সঙ্গে যোগ হয়েছে ভোট আর আইএমএফের শর্তের চাপ।
বৈশ্বিক সংকট সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে। একদিকে স্বস্তি দিতে গিয়ে অন্যদিকে টান পড়ছে। প্রতি মুহূর্তে খেয়াল রাখতে হচ্ছে আইএমএফের শর্ত; যেন কোনো অবস্থাতেই ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের বাকি কিস্তিগুলো আটকে না যায়। অন্যদিকে বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ সূচক মূল্যস্ফীতির পারদ ফের চড়ছে। এপ্রিলে এই সূচক ছিল ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। বাজারে জিনিসপত্রের দাম আরেক দফা বেড়েছে। মে মাসের তথ্য পাওয়া গেলে সেটি দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) গিয়ে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। এরই মধ্যে এগিয়ে আসছে জাতীয় নির্বাচন। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে ইতিমধ্যেই জোর রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ।
অর্থনীতিতে টানাপোড়েন, আইএমএফের নানা শর্ত আর জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের জন্য প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকার বড় বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার।
সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষে অথবা ২০২৪ সালের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১ জুলাই থেকে শুরু হবে নতুন বাজেট। সে হিসাবে আগামী বাজেটের ছয় মাস (জুলাই-ডিসেম্বর) বাস্তবায়ন করবে বর্তমান সরকার। আর নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে বাকি ছয় মাস, জানুয়ারি থেকে জুন।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিও বেশ চাপের মধ্যে পড়েছে। বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ নেমে এসেছে ৩০ বিলিয়ন ডলারে। বাজারে ডলারের সংকট এখনো কাটেনি।
এমন সংকটকালেই টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট দিতে যাচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। মূলত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নতুন অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনা সাজিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দৈনিক বাংলাকে বলেছেন, মূল্যস্ফীতি ও বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা, অপ্রয়োজনীয় ভর্তুকি কমিয়ে আনা, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এসব শর্ত পূরণের বিষয় বিবেচনায় রাখা হবে নতুন বাজেটে। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণ অনুমোদনের সঙ্গে এসব শর্ত সম্পর্কিত। আইএমএফ প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছে। বাকি অর্থ সমান ছয় কিস্তিতে দেবে। বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে কম সুদের এই ঋণের বাকি কিস্তিগুলো নির্বিঘ্নে পাওয়ার জন্য নতুন বাজেটে আইএমএফের শর্তের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের অবসান কবে হবে তা কেউ বলতে পারছেন না। ফলে আগামী বছরও উচ্চমূল্যস্ফীতির প্রবণতা থাকবে। সে জন্য ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫০ শতাংশে আটকে রাখার লক্ষ্য ধরা হচ্ছে।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বাজেট প্রণয়নে দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, যেহেতু এটা এই সরকারের শেষ বাজেট, তাই আসন্ন বাজেটটি এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে নির্বাচনের প্রতিফলন থাকে। নতুন বাজেটে দেয়া পদক্ষেপগুলো যাতে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করে; খুশি হয়। কর্মকর্তারা সেই নির্দেশনা মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করেছেন বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরের মতো আগামী বছরও মূল্যস্ফীতি উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই হবে নতুন অর্থবছরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
যোগাযোগ করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এবার যুদ্ধাবস্থার মধ্য দিয়ে নতুন বাজেট করতে হচ্ছে। যুদ্ধ সব দেশকেই কমবেশি প্রভাবিত করেছে। সব দেশেই মূল্যস্ফীতি এক নম্বর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। কাজেই আমি মনে করি আগামী অর্থবছরের বাজেটের মূল লক্ষ্যই হওয়া উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। জিডিপির প্রবৃদ্ধি যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। কারণ প্রবৃদ্ধি কমলে কর্মসংস্থানে বিরূপ প্রভাব পড়বে।’
যুক্তিসংগত ভারসাম্য রেখে নতুন বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আবার ব্যয়ও কমানো যাবে না। এসব বিবেচেনা করে কৌশলপূর্ণ একটি বাজেট দিচ্ছি আমরা।’
রাজেট প্রণয়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বহুমুখী চাপের মধ্যে তৈরি হচ্ছে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেট। লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, ডলারসংকট, রাজস্ব আয়ে বড় ধরনের ঘাটতি, আইএমএফের শর্তের খড়্গ, ভর্তুকির বোঝা, নির্বাচনী বছরে বাড়তি খরচের চাহিদা, অর্থায়ন সংকট- এসব মিলিয়ে ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন বাজেট তৈরিতে হিমশিম খেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
আয়ের পথ সীমিত, তার পরও নির্বাচনে জনতুষ্টির কথা মাথায় রেখে বড় বাজেট আসছে। যেখানে আইএমএফের একগাদা শর্ত মানতে গিয়ে অবাধে করছাড় তুলে দিয়ে বরং করের বোঝা বাড়ানোর মতো অপ্রিয় পথে হাঁটতে হতে পারে সরকারকে। যে কারণে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও বাড়ানো হচ্ছে।
নতুন বাজেটে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, সারেও ভর্তুকির চাপ থাকবে। চাপ থাকবে এক বছরের ব্যবধানে টাকার বিপরীতে ডলারের দামে যে ২৮ শতাংশ উল্লম্ফন হয়েছে, তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা। যদিও আইএমএফের শর্তের কারণে ভর্তুকি থেকে সরে আসার কথা বলা হয়েছে। তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষির প্রসার আর সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চিন্তা করে সরকার শিগগিরই হয়তো ভর্তুকি তুলে দেয়ার ক্ষেত্রে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না বলেই মনে হচ্ছে।
আইএমএফের ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণচুক্তি করার কারণে সরকারকে বেশ কিছু কঠিন শর্ত পালন করতে হবে। আর এসব শর্তের প্রতিফলন নতুন বাজেটে থাকবে। যেমন- রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে দুই অঙ্কের ঘরে (ডাবল ডিজিট) নিতে হবে। এটি করতে হলে গণহারে যে করছাড় দেয়া আছে, তা তুলে দিতে হবে। বিশেষ করে বিভিন্ন শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে দেয়া কর অবকাশ সুবিধা তুলে দিতে কঠোর হতে হবে। এটি করা হলে দেশীয় শিল্পগুলো কমবেশি চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়বে।
তা ছাড়া বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসা-বাণিজ্য যখন নানা ধরনের চাপের মধ্যে, তখন বাড়তি করের বোঝা চাপবে তাদের ওপর। এর সঙ্গে সব স্তরের করের বোঝা বাড়বে। কারণ আইএমএফের শর্ত মানতে গিয়ে আসছে অর্থবছরে অন্তত ৬৫ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করতে হবে। এটি করতে কমবেশি ব্যক্তিশ্রেণির কর যেমন বাড়বে, তেমনি সব স্তরেই করের চাপ পড়বে। এটি নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় হলেও শেষ পর্যন্ত না করে পারবে না সরকার। এমনিতেই রাজস্ব আয়ে নাজুক অবস্থা চলছে। চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ) ঘাটতি ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি।
একদিকে রাজস্ব আদায় বাড়ছে না, অন্যদিকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দিতে হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে অর্থনীতির গবেষক গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমি পরিষ্কারভাবে বলেছি যে, বর্তমান এই কঠিন সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দিকে না তাকিয়ে মূল্যস্ফীতি সহনীয় রাখার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের মানুষ সত্যিই কষ্টে আছে। তাদের আগে স্বস্তি দিতে হবে। তারপর জিডিপি প্রবৃদ্ধির দিকে তাকাতে হবে। সেই সঙ্গে রিজার্ভ যাতে আর না কমে সে জন্য রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও কম সুদের বিদেশি ঋণ বাড়াতে বাজেটে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে রাজস্ব আদায় বাড়ানোর দিকে।’
এবারও ৭.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির আশা
বিদায়ী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অর্জিত হবে বলে লক্ষ্য ধরেছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। বিবিএস ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) হিসাব কষে বলেছে- এবার ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবি বলছে ৫ শতাংশের কিছু বেশি হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখনো চলছে; কবে শেষ হবে- নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছেন না। যুদ্ধের প্রভাব প্রতিনিয়ত পড়ছে অর্থনীতিতে। ডলারের দর বেড়েই চলেছে; ৮৬ টাকার ডলার হাতে গুনে ১০৯ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এক বছরে বেড়েছে প্রায় ২৭ শতাংশ। ডলারের এই উল্লম্ফনের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতির সব খাতেই পড়ছে।
এদিকে অস্থির বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যে যোগ হয়েছে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতা। এসব সংকটের মধ্যেও আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটেও জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৫ অর্জন করতে চান অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। আর সেই লক্ষ্য অনুযায়ী এবার জিডিপির মোট আকার নির্ধারণ করা হচ্ছে ৫০ লাখ ৬ হাজার ৬৭২ কোটি টাকা।
নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করেছেন অর্থমন্ত্রী। সেটি কতটা সম্ভব হবে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে।
নতুন বাজেটে অর্থমন্ত্রী সরকারি আয়ের মোট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের প্রস্তাব করবেন ৫ লাখ কোটি টাকা। এ লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ১০ শতাংশের সমান। তবে চলতি অর্থবছরের মূল লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বাজেটে মোট ঘাটতি নির্ধারণ করেছেন ২ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৩৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
এই ঘাটতি পূরণে অর্থমন্ত্রী অর্থ সংগ্রহের দুটি উৎস চিহ্নিত করেছেন। একই সঙ্গে কোন উৎস থেকে কত টাকা তিনি ঋণ করবেন, সেটিও স্পষ্ট করেছেন। বাজেটের সারসংক্ষেপ থেকে জানা গেছে, ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে অর্থমন্ত্রী মোট ১ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছেন। এটি মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৫৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। এ পরিমাণ অভ্যন্তরীণ ঋণের মধ্যে ব্যাংকিংব্যবস্থা থেকে তিনি ঋণ নিতে চান ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি, আর সঞ্চয়পত্র থেকে নেবেন ১৮ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১ লাখ ১০ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা নেবেন বিদেশি ঋণ।
এদিকে প্রায় পৌনে ৮ লাখ কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট থেকে অর্থমন্ত্রী খরচের দুটি খাত নির্ধারণ করেছেন। এর একটি হলো সরকারের আবর্তক ব্যয় বা পরিচালন ব্যয়। এর আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৮৪ হাজার ২০৩ কোটি টাকা, যা মোট সরকারি ব্যয়ের ৬৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং জিডিপির ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অন্যটি হলো উন্নয়ন ব্যয়, যার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় মোট ২ লাখ ৭৭ হাজার ৫৮২ কোটি টাকা। অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছর উন্নয়ন ব্যয়ের মোট আকারকেও দুভাবে নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বাকি ব্যয়ের লক্ষ্য দেয়া হয়েছে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভ্যন্তরীণ এডিপির জন্য।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি খাতে সরকার ব্যয় করবে মোট ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। এই ভর্তুকির বড় অংশ ব্যয় করা হবে বিদ্যুতে, যার পরিমাণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এ ছাড়া কৃষিতে যাবে ১৭ হাজার কোটি, রপ্তানি ভর্তুকিতে যাবে ৭ হাজার ৮২৫ কোটি টাকা এবং প্রণোদনায় ব্যয় হবে ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য খাতের ভর্তুকিতে ব্যয় হবে আরও ২৫ হাজার কোটি টাকা।
অন্যান্য বছরের ধারাবাহিকতায় আগামী অর্থবছরও সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ যাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির খাতগুলোর ব্যয়ে। আগামী অর্থবছর সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে ১ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেট ব্যয়ের ১৬ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
চলতি মাসেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের প্রথম দুই সপ্তাহে (১৪ দিন) প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে) যার পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার একই সময়ের তুলনায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বা ৩ হাজার ৯৪১ কোটি টাকা বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় এসেছিল গত বছরের মার্চ মাসে। ওই সময় প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছিলেন ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স হিসেবে রেকর্ড। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে এসেছিল ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, যা ছিল দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
এছাড়া তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে, তখন দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার। চতুর্থ সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় আসে চলতি বছরের জানুয়ারিতে, ওই মাসে আসে ৩১৭ কোটি মার্কিন ডলার। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও অস্থিরতার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং স্থানীয় মুদ্রার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো ডলারের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তারা সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ সভায় বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ পোশাক শিল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সচিবালয়ে আজ বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক আলোচনা সভায় মিলিত হন বিজিএমইএ-র একটি প্রতিনিধি দল।
সংগঠনটির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে এই বৈঠকে তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান নানামুখী সংকট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়। বিজিএমইএ সভাপতি উল্লেখ করেন যে, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়া চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় রাখতে একটি ব্যবসায়িক অনুকূল পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যপরিধি নিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি জানান যে ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্যই এই কাউন্সিল গঠিত। তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ‘আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এসব ক্ষেত্রে দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি শিল্পের ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।’ মালিকপক্ষের এই নেতার মতে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষের মতামত এবং দেশের বিদ্যমান আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
তৈরি পোশাক শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা বজায় রাখতে আমদানি ও বন্ড নীতিমালা সংস্কারসহ বিনাশুল্কে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজতর করার দাবি জানায় প্রতিনিধি দলটি। এছাড়া রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তার ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ আয়কর প্রত্যাহার এবং প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে স্থলপথে ব্যবসা সচল রাখার পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত নিরসনের আহ্বান জানানো হয়। বিজিএমইএ নেতারা আমদানি নীতি ২০২৪-২৭ এর সংশোধন এবং সিআইপি মর্যাদা প্রদানের পদ্ধতি স্বয়ংক্রিয় করার প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী বিজিএমইএ প্রতিনিধিদের প্রস্তাবনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাতের সক্ষমতা বজায় রাখতে সব ধরনের সরকারি নীতি সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)-এর একটি প্রতিনিধি দল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চীন সফরে যাচ্ছে। সংগঠনটির ২২ সদস্যের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল আগামীকাল বুধবার (১৫ এপ্রিল) গুয়াংজু শহরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।
এই সফরের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা, পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বিস্তৃত করা এবং দুই দেশের উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন ব্যবসায়িক সম্ভাবনা খুঁজে বের করা।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন ডিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজীব এইচ চৌধুরী। এ দলে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত শিল্প, সিরামিক, তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোটিভ, শিল্পকারখানার তেল ও গ্রিজ, শিপিং ও লজিস্টিকস সেবা, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
সফর চলাকালে প্রতিনিধি দলটি চীনের শীর্ষ বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা ও চেম্বারগুলোর সঙ্গে একাধিক বিজনেস ফোরাম এবং বি-টু-বি নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশ নেবে। এর মধ্যে রয়েছে সিসিপিআইটি গুয়াংজু, সিসিপিআইটি গুয়াংজু নানশা, গুয়াংজু নানশা সার্ভিসেস ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন, গুয়াংডং চেম্বার অব কমার্স অব ইমপোর্টারস অ্যান্ড এক্সপোর্টারস, চায়না চেম্বার অব কমার্স ফর ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট অব মেশিনারি অ্যান্ড ইলেকট্রনিক প্রোডাক্টস (সিসিসিএমই) এবং গুয়াংজু ওভারসিজ এন্টারপ্রাইজেস চেম্বার অব কমার্স।
এই সফরের অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দলটি ক্যান্টন ফেয়ার-এ অংশ নেবে, যেখানে কাঠামোবদ্ধ ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ এবং সরেজমিনে ব্যবসায়িক সম্ভাবনা যাচাই কার্যক্রমে যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি তারা গুয়াংজু সোর্সিং ফেয়ারেও অংশগ্রহণ করবে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ডিসিসিআই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বেসরকারি খাতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ৬৮ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী দুইটি বিশাল ট্যাংকার এসে পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি ইউনিপ্যাক ও ভিটল এশিয়ার সরবরাহকৃত এই জ্বালানির মধ্যে ‘এমটি টর্ম দামিনি’ জাহাজে ৩৩ হাজার টন এবং ‘এমটি লুসিয়া সলিস’ জাহাজে ৩৫ হাজার টন তেল রয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে বহির্নোঙরে কিছু তেল খালাস করার পর জাহাজ দুটি ডলফিন জেটিতে অবস্থান নিয়ে অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক ডিজেলের গড় চাহিদা ১১ হাজার টনেরও বেশি। উল্লেখ্য যে, গত ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে মজুতকৃত ১ লাখ ১৯ হাজার টন ডিজেল দিয়ে মাত্র ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। তবে নতুন এই বিশাল চালানের ফলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি তেলের মজুত আরও অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বৃদ্ধি পাবে।
দেশের জ্বালানি পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, ‘ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।’ সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মিত সরবরাহকারীদের বাইরেও বিকল্প আমদানির পথ সচল রাখায় বর্তমান মাসে জ্বালানি সংকটের কোনো ঝুঁকি নেই। আমদানিকৃত তেলের নতুন চালানের আগমন অব্যাহত থাকায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার বিপরীতে সরবরাহের স্বাভাবিক গতি বজায় থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাসের প্রবণতা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অব্যাহত রয়েছে। বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ‘৯৪ দশমিক ২৭ ডলারে’ নেমেছে এবং ডব্লিউটিআই ক্রুডের দর দাঁড়িয়েছে ‘৯০ দশমিক ২৪ ডলারে’। মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফেরায় এই দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, কূটনৈতিক এই তৎপরতা সফল হলে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলের সরবরাহ পুনরায় বাজারে ফিরবে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। গত সপ্তাহান্তে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় ওয়াশিংটন ইরানের বন্দরগুলোতে কড়া অবরোধ আরোপ করার পর নতুন এই সম্ভাবনায় বাজারে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক তেল পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে আছে। তথ্য অনুযায়ী, সংকটের আগে এই পথে যেখানে দৈনিক ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত, এখন তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
এর মধ্যেই সমুদ্রপথে ইরানি তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞার সাময়িক শিথিলতার মেয়াদ এই সপ্তাহে শেষ হতে চলেছে এবং মার্কিন প্রশাসন তা আর না বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে। একইভাবে রাশিয়ার তেলের ওপর দেওয়া সুবিধাও গত সপ্তাহে শেষ হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ সীমিত হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে। জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান শর্ক গ্রুপ জানিয়েছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যাতায়াত বিধিনিষেধের কারণে বর্তমান পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। তাদের মতে, বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরার চেয়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কাই প্রবল।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) খুব শীঘ্রই তেলের মজুত সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশ করবে। আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্যানুসারে, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত টানা তিন সপ্তাহ ধরে বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখ্য, গত সোমবার সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় ব্রেন্ট ক্রুড ব্যারেলপ্রতি ‘১০২ দশমিক ১৬ ডলারে’ এবং ডব্লিউটিআই ‘১০৪ দশমিক ৮২ ডলারে’ পৌঁছে গিয়েছিল বলে অপর একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাবে উভয় বাজারেই মূল্যসূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে।
এর আগে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসে বিমা খাতের কোম্পানিগুলোর দাপটে মূল্যসূচক ও লেনদেন বাড়লেও দ্বিতীয় কার্যদিবসে বাজারে পতন দেখা যায়। তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের ছুটির কারণে শেয়ারবাজারে কোনো লেনদেন হয়নি।
এই প্রেক্ষাপটে বুধবার লেনদেন শুরু থেকেই অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বাড়তে থাকে এবং সূচকে ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়। দিনের শেষ পর্যন্ত এ প্রবণতা অব্যাহত থাকায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বৃদ্ধি পায় এবং সবকটি মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়ে লেনদেন শেষ হয়। দিন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় স্থান পেয়েছে ২৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট, বিপরীতে কমেছে ৯০টির এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১২৩টির শেয়ার দর বেড়েছে, কমেছে ৫২টির এবং ৩০টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৫৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বৃদ্ধি পেয়েছে, বিপরীতে কমেছে ১৮টির এবং ৫টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। লভ্যাংশ না দেওয়া ‘জেড’ গ্রুপভুক্ত কোম্পানির মধ্যে ৫৮টির দর বেড়েছে, কমেছে ২০টির এবং ২৯টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ১৮টির দাম বেড়েছে, ২টির কমেছে এবং ১৪টির অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বৃদ্ধির প্রভাবে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২৪ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৫৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে।
এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৮৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে এবং ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। মূল্যসূচকের পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে এবং মোট লেনদেন হয়েছে ৮৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা।
আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৭৯৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা, অর্থাৎ লেনদেন বেড়েছে ৪৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। এই দিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি অবদান রেখেছে খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের শেয়ার, যার লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সিটি ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৫ কোটি ৪ লাখ টাকা এবং তৃতীয় স্থানে থাকা একমি পেস্টিসাইডের লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ২২ লাখ টাকা।
এছাড়া লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে লাভেলো আইসক্রিম, মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড, গোল্ডেন সন, শাহজিবাজার পাওয়ার, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, বিবিএস কেবলস এবং পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২৩ পয়েন্ট বেড়েছে। এ বাজারে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৪টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৪টির এবং ৩১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৪০ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
ব্যবসায়ীদের সুবিধা বিবেচনায় মার্চ মাসের অনলাইনে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা আগামী ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিট থেকে জারি করা এক বিশেষ নোটিশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে আগের মাসের ভ্যাট রিটার্ন ও অর্থ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এবার কারিগরি সমস্যা ও সরকারি ছুটির কারণে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
এর ফলে ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত সময় পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে পারবে বলে মনে করছে রাজস্ব বোর্ড।
এনবিআরের ই-ভ্যাট ইউনিটের নোটিশে বলা হয়েছে যে, পহেলা বৈশাখের সরকারি ছুটি এবং একই সময়ে ই-ভ্যাট সিস্টেমের উন্নয়নমূলক কাজের কারণে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিতে কিছু জটিলতা দেখা দেয়।
জনস্বার্থ বিবেচনায় এবং এসব কারিগরি সমস্যা দূর করার লক্ষ্যে মার্চ মাসের অনলাইন রিটার্ন জমার সময়সীমা ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৬৪-এর উপধারা ১ (ক)-তে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই বিশেষ সুবিধা দিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে যে জরিমানার বিধান রয়েছে, তা থেকে ব্যবসায়ীরা মুক্ত থাকবেন।
সাধারণ নিয়মে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে বিগত মাসের ভ্যাট রিটার্ন জমা দিতে হয় এবং সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও বকেয়া ভ্যাটের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়।
তবে সিস্টেমগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ব্যবসায়ী সময়মতো তথ্য আপলোড করতে পারছিলেন না বলে এনবিআরকে অবহিত করা হয়েছিল।
এনবিআর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সময়সীমা বাড়ানোর নির্দেশ জারি করে।
ব্যবসায়ীদের জন্য অনলাইনে সহজে রিটার্ন দাখিলের প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছন্দ করতে কারিগরি দল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলেও এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।
রাজস্ব বোর্ডের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, বৈশাখী ছুটি ও সিস্টেম আপগ্রেডের কারণে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, সময় বাড়ানোর ফলে তা কেটে গেছে। এনবিআর আশা করছে, বর্ধিত সময়ের মধ্যেই দেশের সব নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মার্চ মাসের ভ্যাট রিটার্ন সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।
এই পদক্ষেপে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের ওপর আর্থিক জরিমানার চাপ কমবে, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যও সময়মতো পূরণে সহায়ক হবে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে নতুন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে রিটার্ন দাখিল নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দাম পুনঃনির্ধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ১৫ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন সিদ্ধান্তে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম সর্বোচ্চ ২ হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এখন থেকে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ ক্রয় করতে ক্রেতাদের গুনতে হবে ‘দুই লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা’। অথচ আগের দিন অর্থাৎ ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার এই মানসম্পন্ন স্বর্ণের দাম ছিল ‘দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৭ টাকা’।
বাজুসের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, বুধবার সকাল ১০টা থেকেই এই বর্ধিত মূল্য কার্যকর হয়েছে। সংগঠনটির মতে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা খাঁটি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা এই মূল্য সমন্বয়ের পথে হেঁটেছে। নতুন নির্ধারিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এখন ‘দুই লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা’। একইভাবে ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দর দাঁড়িয়েছে ‘দুই লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা’ এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারিত হয়েছে ‘এক লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা’ হিসেবে।
স্বর্ণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ‘৬ হাজার ৬৫ টাকা’ দরে বিক্রি হবে। এছাড়া ২১ ক্যারেট রুপার ভরি ‘৫ হাজার ৭৭৪ টাকা’, ১৮ ক্যারেট ‘৪ হাজার ৯৫৭ টাকা’ এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ধরা হয়েছে ‘৩ হাজার ৭৩২ টাকা’। সংশ্লিষ্টদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৮২৩ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বর্ণের দর আউন্সপ্রতি ‘৫ হাজার ২০০ ডলার’ থেকে ‘৫ হাজার ৫৫০ ডলারে’ পৌঁছেছিল।
উল্লেখ্য, গত মাসের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার কারণে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছিল। গত ২৯ জানুয়ারি একলাফে ভরিপ্রতি ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস, যার ফলে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পৌঁছেছিল ‘২ লাখ ৮৬ হাজার টাকায়’। দেশের ইতিহাসে এক ধাপে স্বর্ণের দামের এতো বড় বৃদ্ধি এবং এই মূল্য ছিল এক অনন্য রেকর্ড। মূল্যের এই ধারাবাহিক ওঠানামা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
উড়োজাহাজের জন্য প্রয়োজনীয় জেট ফুয়েল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আসা একটি জাহাজ আজ সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেডের সরবরাহ করা ১২ হাজার টন জ্বালানি নিয়ে 'এমটি গ্রেট প্রিন্সেস' নামের এই জাহাজটি মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বন্দরের জেটিতে নোঙর করে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর তথ্য অনুযায়ী, ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে যে পরিমাণ জেট ফুয়েলের মজুত ছিল তা দিয়ে প্রায় ১৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব, তবে নতুন এই চালান যুক্ত হওয়ায় মজুতের সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পেল। চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭৫৮ টন করে মোট ২১ হাজার টন জেট ফুয়েল বিক্রি হয়েছে।
জেট ফুয়েলের পাশাপাশি ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আজ রাত ১১টার দিকে আরও দুটি বড় জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ইউনিপ্যাক সিঙ্গাপুরের সরবরাহ করা 'এমটি টর্ম দামিনি' ৩৩ হাজার টন এবং ভিটল এশিয়ার 'এমটি লুসিয়া সলিস' জাহাজটি ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসছে। দেশের পরিবহন, শিল্প ও কৃষি খাতে ডিজেলের ব্যাপক নির্ভরতা থাকায় এ মাসজুড়েই ধারাবাহিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
বিপিসির পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ১১ হাজার টনের বেশি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে এবং নতুন চালানগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে মজুতের স্থিতি আরও কয়েক দিনের জন্য বৃদ্ধি পাবে। সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “ইতিমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।”
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের তীব্র ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি লিমিটেড (ইআরএল) বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
টানা দুই মাস ধরে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ থাকায় রোববার (১২ এপ্রিল) বিকেলেই শোধন কার্যক্রম থেমে যায়।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে সর্বশেষ পরিশোধন কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে প্রতিষ্ঠানের দুই কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তবে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় এর কোনো প্রভাব পড়বে না।
ইআরএলের কর্মকর্তারা জানান, কক্সবাজারের মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং চারটি ট্যাংকের ডেড স্টক ব্যবহার করেও কিছুদিন কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হয়। তবে সংকটের কারণে গত মাস থেকেই উৎপাদন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল।
গত ৪ মার্চ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে আসে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
দেশের তৈরি পোশাক খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন বজায় রাখতে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত বৈঠকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সঙ্গে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রতিনিধিদলের আলোচনায় এ আশ্বাস দেওয়া হয়।
বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ফিরলেও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বৈশ্বিক বাজারে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। জ্বালানি নিরাপত্তায় প্রতিবেশী দেশগুলো এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত চাপে পড়েছে।
তিনি জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস ও বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানাগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। বিশেষ করে গাজীপুর ও আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং জেনারেটরের জন্য ডিজেলের ঘাটতিতে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
সংকট মোকাবিলায় বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে তৈরি পোশাক কারখানায় বিশেষ ব্যবস্থায় ফিলিং স্টেশন থেকে দ্রুত ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, ছোট ও মাঝারি শিল্পে জরুরি গ্যাস সংযোগ দেওয়া এবং ঢাকার আশপাশের সব শিল্পাঞ্চলে সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা।
এছাড়া দ্রুত অতিরিক্ত এফএসআরইউ স্থাপন, শিল্পখাতে ইভিসি মিটার স্থাপন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক ও ভ্যাট কমিয়ে উৎপাদন ব্যয় কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। পরিবেশবান্ধব শিল্পায়ন নিশ্চিত করতে পোশাক খাতে সোলার পিভি সিস্টেমের যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড়ের দাবি জানানো হয়।
বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ডিসি ক্যাবল ও ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (বিইএসএস)-এর ওপর বর্তমান ২৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ থেকে ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং দেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে নিকটবর্তী ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ’র প্রস্তাবিত ফরম্যাট অনুমোদন করা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেটের মূল্যস্তর বর্তমান চারটির পরিবর্তে তিনটিতে নামিয়ে আনা এবং প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সম্পূরক শুল্ক আরোপসহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এসব প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হলে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে। এতে বিদ্যমান তামাক করসহ মোট রাজস্ব আয় দাঁড়াতে পারে ৮৫ হাজার কোটি টাকায়।
‘তামাক কর ও মূল্য পদক্ষেপ: বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক কর্মশালায় রাজস্ব বৃদ্ধির এই সম্ভাবনা এবং কর কাঠামো সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবনে যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া এলায়েন্স (আত্মা)। এতে বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন।
কর্মশালায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করে বলা হয়, তামাকবিরোধী এসব প্রস্তাব গ্রহণ করা হলে তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে তামাক ব্যবহার কমবে, অকাল মৃত্যু হ্রাস পাবে এবং রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
আলোচনায় উঠে আসে, বর্তমানে সিগারেট ব্যবহারকারীদের বড় অংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের পণ্যের ভোক্তা, যাদের অধিকাংশই দরিদ্র ও শ্রমজীবী। এই দুই স্তর একীভূত করে দাম বাড়ানো হলে স্বল্প আয়ের মানুষের মধ্যে ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বাড়বে এবং নতুন করে ধূমপান শুরু করা নিরুৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কর পদ্ধতি চালু করলে কর ব্যবস্থার জটিলতা কমবে এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজ হবে।
প্রস্তাবে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম স্তর একত্র করে প্রতি ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করা যেতে পারে। উচ্চ স্তরে তা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ১৮৫ থেকে ২০০ বা তার বেশি নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি খুচরা মূল্যের ওপর ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
এছাড়া বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর নির্ধারিত হারে সুনির্দিষ্ট শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। সব তামাকপণ্যের খুচরা মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ বহাল রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এই সংস্কার কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে তামাক খাত থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব অর্জন সম্ভব হবে, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। একই সঙ্গে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং তিন লাখ বাহাত্তর হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করা থেকে বিরত থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে এক লাখ পঁচাশি হাজার তরুণসহ তিন লাখ সত্তর হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
ব্যাংক খাতে দুর্বল ও একীভূত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের পুনরায় মালিকানায় ফেরার সুযোগ রেখে প্রণীত ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন ২০২৬’ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, এ আইনের মাধ্যমে চিহ্নিত লুটেরাদের জবাবদিহিতার আওতায় না এনে বরং তাদের পুনর্বাসনের পথ তৈরি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন আইনে এমন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে, যা ব্যাংক বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দায়মুক্তির সুযোগ সৃষ্টি করছে। তাঁর মতে, এতে ব্যাংকিং খাত আবারও দুর্নীতি ও লুটপাটের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, এর আগে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ–২০২৫’-এ দায়ীদের অর্থ ফেরত দিলেও মালিকানায় ফেরার সুযোগ না থাকার বিধান ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সংশোধন এনে সেই সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে, যা সুশাসনের পরিপন্থী।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক এবং এটি ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি দূর করার পরিবর্তে পুরোনো সমস্যাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে। তাঁর ভাষায়, এতে কার্যত দায়ীদের শাস্তি না দিয়ে পুরস্কৃত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, মালিকানা পুনর্বহালের মতো পদক্ষেপ খাতটির সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারকে এ বিষয়ে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে টিআইবি বলেছে, ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার নামে এমন আইন প্রণয়ন শেষ পর্যন্ত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর স্বার্থই রক্ষা করতে পারে।